Dipangshu Acharya


পঞ্চায়েতপ্রধানকে আমি মেরেছি
(এটি একটি গদ্যের বই, যার স্বত্ব হারিয়ে গ্যাছে শল্যচিকিৎসকের ঝাঁটে)
যেন রবীন্দ্রনাথ হাত থেকে ফেলে উনুন ভাঙলেন ইচ্ছে ক’রে...
             

উৎসর্গ
নাক


লেখক পরিচিতিঃ
তোমায় হৃদমাঝারে ক্লিশে ক’রে রাখি
তুমি যাকে ইতরের ছবি দাও ফি বছর
আমি সেই পল্টন পাগোল
আমি গীটারের কাঠ বাজাই।
আর চোখ বন্ধ ক’রে গান গাইতে দেখলে
সবাইকে সুরেলা মনে হয় আমার।
তুমি টিপ পরবে যেদিন আবার, আমি
দক্ষিনী বেড়াল সেজে যাবো
পা টিপে টিপে

ভূমিকা (এক)
আমি চাই বিরক্ত করতে। ডান চোখের মণিতে জ্বলন্ত দেশলাই কাঠি ঠেকালাম

ভুমিকা (দুই)
জন্মদিনে একুশটা ঘড়ি পেলাম। সবকটা একরকম দেখতে। প্রত্যেকটাকে আলাদা ক’রে চেনার জন্য একুশ রকম সময় ক’রে রাখলাম

প্রথম দৃশ্য (সন্ধ্যে / গলি)
-এখানে একা একা ব’সে কি করছ ?
-আপনি?
-আমাকে চিনবে না। আমি ভুবন বৈরাগী। আমি তোমায় খুন করতে এসেছি...

আগে যা ঘটেছে
আমি কুসুমের লোভে যেতাম ওদের বাড়ি। শুকনো সুস্বাদু আঁশের মতো খসখসে করে দ্যায় জিভ টাগরা ইত্যাদি। জল খাই না। অনেকক্ষণ লেগে থাকবে ব’লে। জল ছাড়া মানুষতো মরে যায়, তাই তুমি ভালো মেয়ে, আমার জন্যে জলের কুসুম আনতে চ’লে গেলে কোথায় একটা।


একটা ক’রে বিচ্ছেদ একটু ক’রে সৎ করে দ্যায়


“রহস্য ত্রিপুরায় থাকে। রহস্য বিশ্বাসঘাতক”
(উৎসর্গঃ ঋপণ ফিও)
পুনর্জন্মের সন্ধ্যায় আমি নিজেকে আবিষ্কার করি সংকেতের স্তূপে। রহস্য, তোমার চশমায় আমার সরল ঝুলন্ত দাঁত দেখে একটু একটু আশ্বস্ত হই। তুমি রুকস্যাক খুলে গড়িয়ে দাও জীবন্ত বাঁশি, চরস ও ভ্রমণকাহিনী।
তোমার বিশুদ্ধ প্ররোচনায় হয়ে উঠেছিলাম অব্যর্থ ফাঁদ। দুপাশে দুহাত মেলে দাঁড়িয়ে থেকেছি নগরকেন্দ্রিক। গহিন সংশ্লেষ আর জাদুময়তা ক্রমশ চুম্বকধর্ম ছড়িয়ে দ্যায় আমার মধ্যে। মননে, মজ্জায় এসে আটকে যায় ধাতব সুখবর, কবিতার অনু, বিষণ্ণ দৈববাণী, পৌরাণিক লোম। উজ্জ্বল রেলিং-এ ব’সে হাততালি দিতে থাকো খ্যাপা অভিভাবকের মতো, রহস্য, তুমি।
আমাদের অলৌকিক দায়িত্ব, সেইসব, আজ অকেজো নাবিক। তার শেষ সম্বল বলতে শেকড় ও শ্রম। স্মৃতিময় বিচ্ছেদ ও দিগন্তের স্কুল। কান্না ও কূটনীতি। মনীষার মরামুখ; শ্বাসকষ্ট।
আমি রহস্যের কথা লিখছি। রহস্য আমার কথা। মাথায় ধুকপুক করছে সঙ্গদোষের বায়বীয় স্মারক। দুটি পৃথক ধূসর আলোয় আমরা হেঁটে যাচ্ছি অফুরন্ত খননের দিকে।

আগে যা ঘটেছে
উকুন সংক্রান্ত গুজব রটাচ্ছে বন্ধুরা। আমি পরিশ্রান্ত হয়ে আগুন ধরিয়ে দিলাম নিজের মাথায়। এতক্ষণে নিশ্চয়ই ঘুম ভাঙল আমার, নাহলে এই লেখাটি জন্মানোর অনিবার্যতা-ই বিলুপ্ত হতো। অপর একটি সম্ভাবনা এই যে, আমি ভবিষ্যৎদ্রষ্টা এবং আগে থেকেই জানতাম আগুন ধরানোর ঘটনাটি ঘটবে, তাই লিখে রেখেছি। অথবা এখনই লিখছি লেখাটি এবং ঘটনাটি এখনও ঘটেনি।

বাঘছাল পচে যায় শীতে
পান্না সবুজ। কারো চেতনার রঙেটঙে নয়। নিরীহ, তুমি জলের পাশে দাঁড়াও। স্কুলে সঠিক পোশাক না পরার জন্য তোমার শাস্তি হয়েছিলো গতজন্মে। ফিরে এসে কেটে দাও আগেকার লেখা। বনভোজন ভেস্তে দাও। হিজড়ের পাড়ায় গিয়ে ভিক্ষে করো সানাই বাজিয়ে।

গান
কেউ কিশোর বললে ফেলতে পারিনা। কেউ পাতার মতো পড়ে আছে কাটজুনগরে। সেখানে দুজনে ব’সে অভাবের গান লিখবো। শীতপ্রধান বাসে রোদ ঢুকে পড়ার দৃশ্যকল্প থাকবে তাতে।

দূরবীন
অসতর্ক। এরকম ভিতু বেশিদিন বাঁচে না। আদিম পুকুরে সাঁতার কাটছে খানকি। ঘাটে তার ইতিহাসবই। এক জনপ্রিয় উন্মাদ ঝোলায় হাত ঢোকাচ্ছে। আর জলে ছুঁড়ে দিচ্ছে একটার পর একটা প্লাস্টিকের সাপ।

এই যে হাজার হাজার কবিতা
কেজানে কিভাবে এলো!
ভাবনাই কি লেখা? নাকি ভাবনা থেকে লেখায় উত্তরণ বা অবতরণের পথে নির্মম অথচ অকৃত্রিম টানাহ্যাচড়া! চন্দ্রগ্রহণে ঢুকে পড়া। ডানচোখ হারিয়ে বেরিয়ে আসা। একটি সমাধির ওপর ব’সে পড়া। উঠে দাঁড়িয়ে আকাশে তাকানো। সি-ন-ধু ব’লে ডাকা। জিভ কেটে নালায় গড়িয়ে যাওয়া

আগে যা ঘটেছে
সে এখন ধাতুবিদ্যা না কি একটা নিয়ে পড়ছে। উল্লাস ঢালতে আমি আজও তেমনকরেই ভালোবাসি। তুমি একটা বড়ো দেখে অ্যাকোয়ারিয়াম এনো ঘরে। আমি আঁশের লিঙ্গ পাঠাবো হাফডজন। গ্রীষ্মের ছুটিতে একটা কিশলয় বই কিনে রেখো।


ঝাঁট থেকে বেছে আনি কয়েন। সবাই তন্ময় আর গ্র্যাজুয়েট। ভেঙে দিচ্ছি পাঠকের আন্দাজ। নেপথ্য গোঙায়। কচ্ছপ থেঁতো ক’রে চ’লে যায় ট্রেন



ন্যারেটিভ

(এক)
অ্যাতো সান্টাক্লজ চাই না। বাদুড়ের উত্তরপুরুষ। খিটখিটে আত্মীয় ভালোবাসে। বোবাদের ঐশ্বর্য সম্মোহিত করে দ্যায়। প্রত্যেকটি মেস পুরনো গুপ্তচর বন্ধু আমার।

(দুই)
কমিকযন্ত্রের অহেতুক গাম্ভীর্য। অস্পষ্ট ধুলো এসে লাগে। কোনও গোলকই শেষমেশ গোলক থাকে না। সামান্য কুঁজো হয় শীতকালে জন্মানো শিশুরা। তাদের সঙ্গদোষে অন্যমনস্ক হয়ে যাই।

(তিন)
এখনও সবাই যুবরাজ বলতে অজ্ঞান। আমি সুড়ঙ্গে ব’সে বিড়ি খাই। হাঁটাচলার নিচে। রহস্যের কথা বললে জিভ টেনে ছিঁড়ে নিচ্ছে ওরা।  

(চার)
নিতা দেখছি। ওর পাঞ্জাবিছেঁড়া বাংলাদেশ। আমি সহজ চিকিৎসায় বিশ্বাস করি। পৃথিবীকে মনে হয় গোলাকার দুর্গন্ধ। স্থাপন বন্ধ ক’রে দিলে বন্ধুদের আয়ু বেড়ে যাবে। জেব্রার শহরে ঝরবে বেমানান টুপি।

আগে যা ঘটেছে
আবার পেলে প্রিজমবন্দী ক’রে রাখবো তোমায়...
তুমি নীলিমা দত্ত লেনে যেতে পারবে না।
নাগরদোলা না কিচ্ছু না!
আমি বাইরে দাঁড়িয়ে হাততালি দেবো
পাগলাচোদার মতো...
তারপর খুব শ্বাসকষ্ট হবে যখন তোমার
প্রিজমটা হাত থেকে ফেলে ভেঙে দেবো।
আর দেখলাম, সমস্ত প্রিজম ভেঙে গ্যালো।

ইস্তেহার
বাল্যবন্ধুরা এসো। দুদিনের ছুটি নিয়ে সংবিধানে হস্তক্ষেপ করি। আমি যেকটা আত্মহত্যার গল্প জানি, তোমাদের বলবো। তোমরা উচ্চারণ শুধরে দেবে। খ্যাপা তলোয়ারের দিকে মিসগাইড এগিয়ে দিয়ে স্যার ডাল রান্না করছে। গুপ্তবিদ্যা একজন জানতো এদের মধ্যে। খুব ক্রিসমাস পড়েছে। জানলার নাম জানলাই রয়ে গ্যাছে। উইল ছিলো না। ক্যারামবোর্ড ছিলো। ‘বস্তুত”-শব্দের এগারোরকম লালা স্টেশনসংলগ্ন হয়ে যাচ্ছে। কম্পাস আমার প্রথম ভায়োলেন্স।

দূরের গাছ
অথবা
একটি অতি-রাজনৈতিক প্রস্তাবনা ও ক্যানো পার্ক স্ট্রীট নিয়ে আমার কোনও হ্যাল নেই

কৈশোরে আমি চেয়েছিলাম কবিতা লিখতে গান লিখতে সিনেমা বানাতে ম্যাজিক দ্যাখাতে ছবি আঁকতে আর প্রচুর প্রচুর জনপ্রিয় হতে। কৈশোর চলে গ্যাছে আমায় ফেলে রেখে ফাঁকা বয়স্ক বিছানায়। লিখব না লিখব না ক’রে আমি লিখতে ব’সে গেছি আবার। কবে মা এসে আমায় ঝাঁকিয়ে বলবে- এটা কর সেটা কর! অনেকদিন শুনিনি অরূপদার লেখা। ভাস্করের শয়নযান প’ড়ে ইচ্ছে করল বেঁচে যেতে আরও তিন চারটে দিন। আমি সিনেমা বানালে তা ক্যামন হবে, ভেবে ভেবে বানানো আর হবে না বোধহয়। প্রচন্ড দরকার ছিল ঋপণের সাহায্য, মানসিক আর শারীরিক। শুধু মায়ের জন্য বেঁচে আছি অথচ কিছুই ভাবি না তার জন্য আলাদা ক’রে। যদি মিথ্যে আর বানানোই হবে সবটা, কান্না ক্যানো পায়? ঠিক হচ্ছে না কোনগুলো, আমি বুঝতে পারি মাঝেমাঝেই। অন্যদের জন্য, স্রেফ অন্যদের জন্যই পাল্টে পাল্টে গ্যাছে আমার যাপনের ভাবনা – জীবিকার কাঠামো – দর্শন ও তার প্রকাশ। এই ছটফটানি কীভাবে ঢেলে দেবো ভঙ্গিমায়, যা মহাজাগতিক – ছাপিয়ে যাবে সময়ের গতর। মুতে ফেলবে পৃথিবী। বাবা মরে গিয়ে কিছু কি বোঝালো? ক্যানো অ্যাতো অস্পষ্ট তা? একটি মেয়ে কী সহজে ভালোবাসিয়ে কেড়ে নেয় অধিকার, একদিন মধ্যরাতের মাতলামোয় ঘাবড়ে গিয়ে। অস্বীকার করে অতীতের ছোটোবড়ো মিশে যাওয়া আমাদের, অচেনা বিস্কুটরং যৌনতার ভাষায়। তার বিস্মৃতি আর সীমাবদ্ধতা আমি ক্ষমা করি সারল্য ভেবে। তাকে মনে মনে গভীরতর গোঙানির মতো উচ্চারণ করি, সুযোগ পেলেই, আর বাঁচিয়ে রাখি এভাবে তলানির শেষটুকু স্পন্দিত সম্ভাবনাদের। অন্তত একবার আমি, দ্যাখাতে নয়, ঘটাতে চাই ম্যাজিক। স্বাস্থ্য ভালো হ’লে আমি নির্ঘাত জিগালো হ’তে চাইতাম এক্ষুনি। হাস্যকর শোনালেও এর চেয়ে সৎ রোজগার আমার আর জানা নেই। ভাবতে ইচ্ছে করে কখনও কখনও, কোনও পরিবার নেই আমার। আর ভাবতেই দ্যায় না মা আমায়। দুর্বলতা কি এটা আমার? মায়া? অভ্যেস কিম্বা কুসংস্কার? আমার সংকট নেহাতই রাজনৈতিক। আর না চাইলেও আমি তাকে পাশ কাটিয়ে যাচ্ছি প্রতিদিন। আত্মহত্যা আমি করলাম না শেষমেশ। বেছে নিলাম অসহ্য রহস্যের জীবন আর কোটি কোটি তামার হেঁয়ালি। আমাকে একঘেয়ে ভাবার সঙ্গত কারণ রয়েছে। ঘাড়ে নিতে আমি রাজি নই কারুর বিনোদনের দায়। আমি তো চেয়েছিলাম আবিষ্কার করতে। নতুন একটা ভূখণ্ড, রাজনীতি, সূত্র অথবা আত্মা। অর্ধেক জীবনের ভারেই যদি হাঁপিয়ে উঠি অ্যামন, ভবিতব্য কতটা ক্লান্তিকর – কর্কশ, ভাবি। ভালোবাসা আমায় পথ দ্যাখাবে। আমার মনের মতো ভালোবাসা। আর এবার আমি তাকে হারাতে দেবো না কিছুতেই। শিখে নেবো ভাষা, রক্ষাকবচের। অস্থির নাগরদোলায় ব’সে ছুঁচে সুতো পরানোর মতো উজবুকের হীনমন্য জীবন আমি চাই না। আমার হিংসে হয় তথাগতকে দেখে। আমি হাতিয়ে নেবো তার মগ্নতা। হে আমার যৌন অপর, পৌঁছে দাও আমায় ধ্যানের কাছে...







   দীপাংশু আচার্য
Dipangshu Acharya