Like us on Facebook
Follow us on Twitter
Recommend us on Google Plus
Subscribe me on RSS

Deedar Maleki

লটকন যেভাবে ফল হয়ে ওঠে

নিউ মার্কেটের সামনাসামনি
দাঁড়িয়ে আছি আপনাআপনি
দেখি ফল হয়ে উঠছে লটকন

ছাতা মাথায় মেয়েটিও একলা
ফোনে বলছে 'তো কী দ্যাখলা'
হাতে ধরা ফোতা হওয়া পপকর্ন

অন্যজনের বেশর ঝুলছে নাকে
ভ্রুর ভঙ্গিতে কারে যেন ডাকে
আমায় ডাকছে থোকা লটকন

মানুষ ফল হয়ে ওঠে বাজারে
চিনতে পারে কে আর কারে?
কোথায় ফলেছিলে হে লটকন?




বিলোলিত টবিতা

বলনে-চলনে-ধরনে যথার্থ নায়িকা তুমি
তোমার টসটসে ঠোঁট চুমি
তোমার খসখসে হস্ত চুমি
নীড়ে-মীড়ে-ভিড়ে তোমাকে খুঁজিতে
রয়ে-সয়ে-ধীরে তোমাকে বুঝিতে
গৃহপাঠের সব ল্যাটা চুকেছে মম
কি জানি কে তোমার অন্তরতম
তবুও তোমাকে একাগ্র বুকে নিলে
আঘাত হানো শুধু আচারিত শীলে
গড়নে-শরণে-হরনে আসলেই নায়িকা তুমি
তোমাকে কভু আদ্যোপান্ত মেপে
(অ)সামাজিক যোগে বসিনি চেপে
বিরলা অংকের অচর্চিত দৃশ্যপটে
কিংবা হাটবাজারে যেসব গল্প রটে
তাতেও সামান্য নড়ে না তোমার মনোভূমি
লোকে তো জানে না আর কার নায়িকা তুমি!



একটি প্রেমের টবিতা

গালিবের গজলের মতো বিষন্ন সুন্দর তুমি
অমর্ত্যস্নেহে বেড়ে ওঠা প্রায় ভ্রান্ত পাখাল!

তাহলে আমি কে গো ডার্লিং?
তোমার দুগ্ধপোষ্যমুগ্ধবৈশ্য?

তোমাকে সাবাড় করিনি খাটে
যদিও আস্ত তুমি আমার মুখে
গোটাটাই কি করে মুখে আঁটে!

তাহলে আমি কে গো ডার্লিং?
তোমার চরমের কালে নমস্য?

তোমার ভাবান্তর হয় না তবু
নিছক নুনসাদা ছড়াচ্ছো মুখে
তোমাকে ছিঁড়ে খাইনি কভূ!



রাই ডাকছে যখন

ওপরের দিকে কোনও গিরি নেই
নিচের দিকেও কোনও গুহা নেই

তার ওপরে কোনও লেখা নেই
তার নিচেও কোনও লেখা নেই

আমার টবিতা চিনেছে তাকে
লুপ্ত ছিলো কিনা শব্দের ফাঁকে

তার ওপরে কোনও লেখা নেই
তার নিচেও কোনও লেখা নেই

ওপরের দিকে কোনও গিরি নেই
নিচের দিকেও কোনও গুহা নেই

তাই জলের দিকে ডাকলে রাই
সহসা তলের দিকে নেমে যাই



কদবেলের ভূমিকা

বাড়ির পলেস্তারা সারতে গিয়েই মূলত
কদবেলের বমিনিরোধ ভূমিকার কথা
মনে পড়লো দীর্ঘমুখর প্রায়ান্ধ সন্ধ্যায়

এরপর চুল ছেড়ে নদীর দৈর্ঘে নায়িকা
এরপরও হা করে আছে পার্লারের কাঁচি
ওদিকে ঝরে পড়ছে বুনো জলপাই একা

বাড়ির সামনে দাঁড়াইনি সে কতোকাল
তবু যে পা কেন এতো ঝিম ধরে আসে
মাঝের আঙুল মম ভয়ানক একরোখা



তিনফোড়ন

০১
পাখির দোকানে এসে বলি
পেখম নেই বলে দুঃখ করো না
ময়ূরী
আগামী বর্ষায়
তোমাকে নিয়ে আমি নাচবো!

০২
রেড়ির তেলের ব্যবহার শিখছি
কাঠমিস্ত্রির কাছে বসে
হে কেরোসিন কাঠ
পালঙ্কে তুমি কিভাবে দৃঢ় থাকবে?

০৩
সেই যে পালিশ করছে মুচি
জুতোর ওপরের দিকে জোরে
গা শিরশির করছে মেয়েটির!
নইলে বলবে কেন তারস্বরে
আরও আস্তেছাল ওঠে যাবে!



গর্দভ-রাগিনী

সঙ্গীতের সাত স্বরতিন গ্রাম
একুশ মূর্ছনাঊনপঞ্চাশ তাল
তিন মাত্রা আর তিন লয়

বিরামস্থান তিনটিছয়টি মূল
রস নয়টিভাব চল্লিশ
একশপঁচাশিটি অঙ্গ তার
রাগ নাকি আটষট্টি হাজার!
ছিলোএখন গুনেটুনে ছত্রিশ!

তবে বলি মন দিয়ে শোনো
ওপরের ব্যখ্যা এড়িয়ে শোনো
ভূ-মন্ডলজুড়ে একটি মাত্র গীত
বর্তমানে বেজে যাচ্ছে অবিরাম
সে গীতে মত্ত লোক ও চরাচর
গাইছে যে যার যার মতো করে
জেনো সেটি হলো গর্দভ-রাগিনী!







দিদার মালেকী। কবি হিসেবেই পরিচিত। তবে উচ্চকণ্ঠে সেটা অস্বীকার করেন। যদিও রয়েছে বহুল আলোচিত তিনটি কাব্যগ্রন্থ। মূলত নীরিক্ষাধর্মী। জীবনঘনিষ্টকিন্তু প্রথাগত যাপন থেকে বিচ্ছিন্ন। সুর-সুরা আর সংগীত নিয়ে সময় কাটাতে স্বাচ্ছন্দবোধ করেন। মর্জিমাফিক ঘুরে বেড়ানো লগ্ন হয়ে আছে তার যাপনে। এবং অতি-অবশ্যই তিনি পেশায় সাংবাদিক। সম্প্রতি লেখা শুরু করেছেন 'টবিতা'। একথা বলাই যায় যেএই ধারা বাংলা সাহিত্যের নবতম সংযোজনও বটে।

Popular Posts