Sairul Mishkin

কন্ডোম…চু, সানি লিওনি…কিতকিত

কল্যানী স্টেশন। তিন নম্বর প্লার্টফর্ম। এই সন্ধ্যেবেলা এক নম্বরের চেয়ে দুই এবং তিন নম্বর প্লার্টফর্মটা ফাঁকাই থাকে। বসার জায়গাগুলো ছাড়া। ফুটব্রিজ থেকে নেমে তাই বেশ খানিকটা এগোতে হলো। বিলাসী ভঙ্গীতে একটা বেঞ্চ একা একাই বসে আছে। চমক হ্যাপেন্স। তাই এগিয়ে যাওয়া গেলো।
শিট হ্যাপেন্স। ব্যবহৃত একটি কন্ডোম সমস্ত ক্লান্তি নিয়ে নির্বিকার ল্যাম্পপোস্ট বদনে বসে আছে। সিম্পলি বেঞ্চটার উল্টোদিকটাতে বসা যেতো এক নম্বরের দিকে মুখ করে। যেভাবে ক্রমশ ফাঁকা হতে থাকা মাথার একপাশের চুলকে বেশি লম্বা রেখে সেটাকে দিয়ে বাকি টাকটা ম্যানেজ করা হয়। তবুও এই মুহুর্তে  দৃষ্টি নিংড়ে নিল বিভিন্ন ফ্লেভারের ভেতর থেকে বেছে নেওয়া সেই ফ্লেভারটি যে বেঞ্চের রোজনামচায় ডেইলি সোপের সি বিচে সানি লিওনির ভঙ্গীতে সামাজিক অস্বস্তিকর ফ্লেভার ছড়াচ্ছে।
কলেজ ফেরত একটা ভিড় যেমন হল্লা করতে করতে আসছিল, মুহুর্তখানিক থমকে, দিগুণ হল্লায় সামনের দিকে এগিয়ে গেলো। হল্লার ভেতর থেকে সচেতন সাজেশন, ছবি তুলে ফেবুতে দিলে কেমন হয়? কিন্তু যথাসম্ভব কারোর ওয়ালেই উপযুক্ত ডাস্টবিন নেই। তাই প্রস্তাবিত বিষয়টি কন্ডোমটির গতরাতে উৎসাহী হলো। সমবয়সী একজন অফিস ফেরতা বোধহয় সাহসী অথবা অভ্যস্ত। মৃদু হেসে পাশেই ব্যাগটি রেখে দাঁড়িয়ে পড়ল। মধ্য তিরিশের শাঁখাসিঁদুরের কাছে বেলেল্লাপনাটা যত না বেশি বিরক্তির তার চেয়ে বেশি গুরুত্বসহ এড়িয়ে যাওয়ার। লিস্টটা এভাবে বাড়তেই থাকবে শিশুর যে জিজ্ঞাসাগুলোকে তারাদের আকাশ দিয়ে ম্যানেজ করা হয় সেই পর্যন্ত।
লালগোলা প্যাসেঞ্জারটা ঢুকে পড়েছে। এভাবে এক একটা আপট্রেন ডাউনট্রেন শেষে ফাঁকা হয়ে আসবে স্টেশন চত্বর। ঝাড়ু নামবে। ঝাড়ুদের নাক থাকতে নেই। থাকলেও ন্যাকামো নেই। চায়ের কাপ, ঘটি গরমের ঠোঙা, চিপকে দেওয়া চিউইংগাম, পলিথিন প্যাকের মতোই কন্ডোমও তার কাছে থিন ইস্যু। লক খুলে চৌকাঠবোধ পেরোনোর পর সারাদিন ধরে যে সভ্যসভ্য খেলা তার নাকের ডগায় জিজ্ঞাসা চিহ্নের মতো একটা উলঙ্গ কন্ডোম সারাদিন পেন্ডুলামের দুলতেই থাকে যতক্ষণ না সবার অলক্ষ্যে নেশারু ঝাড়ু বলে ওঠে, "ধ্যুত, শুয়োরের বাচ্ছা।"










   সাইরুল মিশকিন
Sairul Mishkin