Skip to main content



Subha Adhya

চিন্তার সূত্র

সপ্তাহের দ্বিতীয় মঙ্গলবার ঈশ্বর বারে আসেন
এক্স অ্যাক্সিস থেকে চলতে শুরু করলেরাস্তা, ঝাউবন আমাদের
পিছু বলে নিয়েছে যা, তা’ই ছায়া। ছায়া পড়ে না ঈশ্বরের,
তিনি শ্যাডো করে যান ম্যাচের অব্যবহিত আগেও;
তাঁর গোপন ডেরায় নিভু নিভু বাল্বের মধ্যে খেলে যায় ক্রোমোজোম
হিসেবমত পিপেগুলো থেকে অংক কষতে বসে বারটেণ্ডার আর বাউন্সার।
তাদের জামার তলায় ঐশ্বরিক ছাউনি দেওয়া
স্বাভাবিক অণ্ডকোষ, ক্রুঢ় হাসি ফোটায় ঈশ্বরের চাহনিতে

তীব্র নাস্তিকতা নিয়ে যে বাদানুবাদ শেষ অব্দি ওয়াই অ্যাক্সিস বরাবর
পরিবর্তন করে তার স্থানাঙ্ক, ঈশ্বর খুশী হন তা’তে

সেখানে দু’পা চলতে পারার পরে আসে দ্বিতীয় বুধবার
বি-গ্রেডের বিশ্রাম শেষে ঈশ্বর তাঁর তাঁবুর তলায় একটা
সূর্যমুখী আঁকায় মন দেন


ভাবনার প্র্যাকটিস

পুঁথিঘর থেকে ঈশ্বর জানতে পারেন, বাঁদরের পরবর্তী
তাঁর স্টেনসিল ছাপে উঠে আসা প্রজাতির নাম হোমো সেপিয়েন্স

এক্ষেত্রে জিগোলো বা এসকর্ট বা কলগার্ল এসব কে
নিয়ম বহির্ভূত বলে বাদ রাখেন তিনি, এদের বুকের মাপ নিয়ে এখনও
সন্দিহান, তাদের অন্তর্বাসের চিন্তায় ত্বকের
নীচের রোমকূপগুলো যারপরনাই বাড়িয়ে দেয় কাজ।

ঈশ্বর দেখছেন, এই সব অ্যালিয়েনরা তাদের মুখে নানা
বিকৃত রঙ মেখে এখনও নর্দমার পাশ বরাবর আছে দাঁড়িয়ে,
যদিও সেই রঙগুলোর বিকৃতি ও মুখের গঠন নিয়ে
কিছুটা কলোনিয়াল হ্যাংওভার রয়েছে তাঁর নিজেরই, জানেন তিনি

বেরিয়ে আসার চেষ্টা করছেন তা থেকে তিনি সেই জিগোলো, এসকর্ট ও
কলগার্লের মাথার ভেতরে ডি-এন-এ’র নক্সা নিয়ে তথৈবচ চিন্তা করছেন
চিতার সমান আয়ুক্ষয় ঘটছে তাঁর, চিতারই দ্রুততায়


আপনার ব্যবহার আপনার পরিচয়

নজরে পড়ার সময় থেকেই যখন আদার ব্যাপারী তার
দৈনন্দিন সমস্যার কথা উপুড় করে, ঈশ্বর দেখেন তার
বাড়িতে রুটি সেঁকার জায়গায় লোহার চাদর এখন পাতলা হয়ে উঠেছে

সেই চাদরে রোদ্দুর ভেদ করে যায় এখন
ঈশ্বর তার অশান্তির কথা শুনে, তাকে উপহার দেন এক জিরাফ

সেই জিরাফের গানের কথা তিনি বলেন আদার ব্যাপারীকে
সেই নিস্তরঙ্গ ভোকাল কর্ডের সামনে তিনি বসতে বলেন তাকে

তার ট্যাঁকঘড়ি যা তার বাবার একমাত্র স্মৃতি, নিয়ে নেন

তার চাকা চাকা নেই দাগের কথা বোঝান, তার নিজস্ব গান
আর শব্দের কথা বোঝান, ব্রহ্মের কথা যে ঐ জিরাফটা জানতে পারবে না
কোনোদিন, সেকথা বোঝান ও আদা দেওয়া চা পানের পর

তাকে ঠেলে দেনইনফাইনাইট সংখ্যার দিকে






পুরো –পুরী

চান করার সময় যেটুকু ভিজে ওঠে শাড়ি
সেটুকুই পরীভ্রমণ আমার

কলকাতা থেকে তুমি একটা শাড়ির বিনিময়ে
শরীর দিতে এলে সমুদ্রকে

যেখানে ঝিনুকমালা, ছড়ালে হাসির জাহাজ

জেলে, মাঝি, নুলিয়া, ট্রলারযাত্রা,
নিখোঁজ - এসব শব্দরহিত হয়ে
কি করে কাটাও এ জগন্নাথধাম!

কি করে পারো কথা শুনতে শুনতে
বশংবদ হয়ে একটানা তাকিয়ে থাকতে

একটা চানের দিনে আমি জলকে ভয় পাই
একটা শাড়ির দিনে তোমাকে ধরে
সমুদ্রে নামি

খালি ওগরানো ক্ষোভ থেকে
আমি চান করি

আর এই অনন্ত ভ্রমণকাল শেষ হয়ে যায়




অন্ধ হবার সময় গর্জন পেড়ে নিচ্ছেসমুদ্রবিলাসিতা
পোড়ার দিন এল যা কিছু বিলাসের...

ছাইয়ের সাথে খুব দোস্তি
নিয়ে গেল স্বর্গদ্বারে, পাপীকে

তুমি আত্মিকবাদী সমুদ্র দেখেছ
জানো এই গর্জনের পর সেখানেজানলা দরজা নেই

ছেঁড়া জামা নিয়ে পরজন্মের আগে
ছবি তুলে রাখছে বিচ ফোটোগ্রাফার আর
হাসিখুশী মুখ সেখানে জমে যাচ্ছে
চিরকালীন ফ্রেমে

পোড়ার পর মাছের মত আমরাও তো
সঙ্গী কোনো না কোনো ট্রাভেলারের মদের

একটা উপচে পড়া ঢেউ তুমি
গ্লাসে ঘায়েল হতে দেখছ

খুনীকে নিয়ে তুমি চাইছ তোমার স্বর্গরাজ



পুরো – পুরী

চুরি হওয়া পার্সে লোকটাই, একটা ছুটির স্টল

সেই দিনেকানা লোকটার
সমুদ্র মানে সন্ধের ভাজামাছ আর দারু

চানে উঠে আসছে একটা জেডব্ল্যাক থ্রি কোয়ার্টার
আর হলদে টপ, মেয়েটা সাসপেন্স লেখার সময়
চুলে বালি নিয়ে পুরে দিচ্ছে পরকীয়া,
ফরেন লিকারে

তার পর যা হয়!

বন্ধের পর কথা, দাওয়ার পর খাওয়া

একটা বিবাহিত মহিলা হিতাহিত জ্ঞানশূন্য হয়ে
প্রেমের কথা ভাবছে আরেকটা
অন্তর্কলহের পর ঠাণ্ডা হওয়া চিকেনের
লেগপিস দেখতে দেখতে, চোখ হচ্ছে লোকটার
গ্রেনেড আসার সময় বিচ জুড়ে অ্যাচিভমেন্ট

ব্যর্থকাম কাঁকড়া আরেকটা
ফাইটের জন্য তৈরী হবার আগেই
বুকে লাগা যুদ্ধফুল, শান্তি পাচ্ছে



আমি দেখতে পাচ্ছি মিউট হয়ে যাওয়া
একতা পরিবার পালন করছে ছুটি
সেখানে বারমুডাগুলো ঘোরাঘুরি করছে পাড় বরাবর

একটা ঘরের বউ সবেমাত্র প্যালাজো পরে
রাস্তায় নামল হাত থেকে শাঁখা মুছে
পরস্ত্রী দেখে চোখ জন্মাচ্ছে গৃহস্থের আর
আমিষফুলে জেগে উঠছে হোটেল বিছানা

আমি দেখতে পাচ্ছি সেই বউ চান করার সময়
ভুলে যাচ্ছে মাসিকের কথা, রান্নাচড়ানো ওপেন কিচেন

আর সমুদ্র মনে করিয়ে দিচ্ছে তার বাবাও
তার মাকে নিয়ে সাতাত্তরের মার্চে
করেছিল এমনটাই




যখন আকুতি আসে
ফিরে যাওয়া একটা রাতের ট্রেনলাইন
নিয়ে যায় অসহনীয় খিদেয়

একটা মুখ আটকানো বোতামঘর থেকে
ঝরে পড়ছে দরদিয়া দিল

বখশিসের সময় পরিষ্কার হওয়া মন
তুমি কি করে টাঙাবে জলের দাগ দেওয়ালে
ও পুরী! তুমি সিঁড়িভেঙে কেমন ওঠো হোটেলের ঘরে
কি করে কুমারী রাখো এ সমুদ্র!

চটি ভেসে যাওয়ার পর সমুদ্রে জোয়ার আসে
জোয়ারের পর সমুদ্রে চটি ভেসে যায়, হলুদ ভেসে যায়
পনিটেলও

এমন করেই খিদের পর তাকানো তেষ্টার কারুবাসনা
শেখায় পিপাসার পর একটা অগস্ত্য মুনিও
জ্বরে পড়ে খুব



ঘোড়ায় টানা একটা জলযান
ঠুলিতে জমানো
সমুদ্র থেকে এগিয়ে আসছে জল
আর আইসক্রিমওলা।

পুরীর চুমু থেকে বেইজ্জত নিষ্ক্রমণ
একটা ঘোড়াকে তার মালিকের ঘর ভুলিয়ে ছাড়ল
তোমার রাইডিঙের পর উতলা হল ঘোড়াটা।

মুখ থেকে লাল বেরিয়ে আসছে
লাল থেকে বেরিয়ে আসছে মুখ

নাল ক্ষইয়ে ছুটে যাও, ঘর বাঁধো


নয়তো মাঝসমুদ্রে নিয়ে যাও ঘোড়াটাকে


শরণাগত
বাণ ই তোমার, আমি শান্তি পাই নি
অথচ তোমার থেকে দূরে আমি মদের কাছে
বসি, সুজাতা, তোমার স্তনদু'টো পাক্কা হেডলাইট
আমি অন্ধকারে যখন, রাস্তা দেখাচ্ছে
তোমার সা, লোয়ারে জমে উঠছে লেয়ার
হ্যাঁ, ওই কোমল সা'য়ের কথাই বলছি
এখন আমার বুকপকেটে খেলছে সাপ আর
সিঁড়ি ভেঙে কবে উঠবে বুকে সু................

তোমার বাণ'ই শান্তি পাই নি আমি...
অথচ তুমি কি করে কেকের ওপর আইসিং করো!
এই অন্ধকার জ্বলে ওঠে এবং আমি প্রতিটা সত্যের কাছে
হাত ও পোঁদ পাতি... তোমার স্তনদু'টো পুরো কামরাঙা
রঙ হয়ে আসে, আর তুমি কোথায় চলে যাও সু........





ওই জামবাটি তোমার হাত পিছলে যাচ্ছে
তোমার ঘুমের গোড়ায় ফিঙে
কটির তলায় ঝোপ ফি হপ্তা
আর কত সহজপাঠ্য হবো বলো!

পুরানা কিতাব, ছলকে ওঠে জাম
ইয়ে শাম রঙিলা... তোমার গোড়ালি নগ্ন হও
হাত আর বাহুমূলের ওপরে দানা দানা ঘাম। ওহ,
এই মার্কেটিং, এই গ্যালারি শো আর টি আর পি
নেমে গড়িয়ে পড়ছে জামবাটি

ফিঙের ওপর তোমার ডানা, টাআআআআআনা...
সুজাতা তোমার পায়ু বিশ ক্রোশ পথ আর পথ্য
ওখানেই তো, পিছলে যাচ্ছে ইয়ে রঙিলা শাম, ইয়ে নশা




তোমার পায়ের নীচে একটার পর অপর একটা
নতুন ধানের ক্ষেত উপচে উঠছে হাসি, লেকের ওপরে,
তুমি লজ্জা আটকে লিখছ কাহিনী মৃত্যুর

সা'য়ের ওপর বশ্যতা শিকার করছি, শান্তি নেই
তোমার ভ্রু'র ওপর ছিনে জোঁক, মাস্কারা আজ নেই
কাল উঠবেই বারকোড মেনে দাম তোমার ওপর

সেদিকে নজরানা হয়রান হচ্ছে উও মেহফিল
পায়ের ডিমে তোমার, তা দিচ্ছে বুদ্ধু, শান্তি দিচ্ছে
ডুবছ, ভাসছো, শ্যালো ওয়াটার এবং নরম শ্যালিকা
প্রতিটি সুখময় ছবির ওপরে পড়ছে একটা রক্তের ফোঁটা

তোমার পা বরাবর... রেডিওতে গানের অনুষ্ঠানে বাজছে


শুভ আঢ্য
Subha Adhya

Comments

Like us on Facebook
Follow us on Twitter
Recommend us on Google Plus
Subscribe me on RSS