Jyotirmoy Shishu

Jyotirmoy Shishu

Palash Dey


খিদে

নেশা থেকেও তুমি আসছো না
পর্দা পর্দা মরুভূমি জল ছিটোচ্ছে

আর ঠোঁট ফেটে যে গাছ
আর কাঁটা বেছে এগিয়ে যাওয়া ছেলেটা

বালি আর বরফ গুলিয়ে যাচ্ছে ততক্ষণে

ঢোঁক গেলার শব্দ হয়,

তোর উট আমার সাইকেলের দিকে

ক্রিং ক্রিং ধ্বনি আলতামিরায়

পলাশ পুড়িয়ে খিদে মেটানো

তোর জন্মগত অধিকার



রান্না
রাস্তা কি বিবাহিত
এতদিন চাকার সঙ্গে কতদিন ড্রাইভার
ঘষো রক্তলালা হেঁইয়ো মাখো জয়নিতাই

পাঁজরে জিভ ঢুকিয়ে দেখি
আর কেউ একা আছে কিনা
চিচিং এবং ফাঁকের মধ্যে গুঁজে দিবোবা

ওহ্ হো না না না

আরে হ্যাঁকবুল করেই ফ্যালো

দেহ নেভাতে ভুলে গেছি...গ্যাসচেম্বার
বাজনাদার পলাশ দে এখুনি চুপ করা দরকার যত হাতঘড়ি
দেরি হওয়ার জন্য আর সরি নয়

জলদি পৌঁছেও তুই নখ খুঁটিস না আকাশেএমন হয়। এসব তো হতেই পারে

রাস্তা ফেলে ফেলে বিড়ি খায় পিয়ন
সারাক্ষণ দাঁত চেপে থাকে অমলতাসগাছ

তবু তবু তবু কিছু একটা বেজেই ওঠে
উঠেএই চুপ ওই বাজছে এই চুপ ওই...



মা এবং একটা গাছ
একটা গাছ। একসময় জামরুল হতো। হওয়ার আগে ফুলঝুরোহাতে ছোঁয়া যায় এমন তারার আসমান। গোড়ায় উইঢিবি। এখন। পিঁপড়ের লাল লাল আসা যাওয়া। একটু ওপরে শুঁয়োপোকার ঘর। ডিম খোসার ওপরের দিকে সামান্য ফাঁকা। ব্যসওই ঘর তাহলে একলা। পাখি আসে বটে। শালিক কাক দোয়েল টুনটুনি ঘুঘু...। সাদা বক গোড়ায় ঠোক্কর দিতে আসে মাঝেমধ্যে। ওই গাছের শিকড় কিছু দূরের নিমগাছের কাছাকাছি। আগে দ্যাখা যেত না। যায় এখন। শিরা ফুলে ওঠা। চামড়া খসা। অপুষ্টি।

ওহ্ গাছ। তোমার নাম আর জামরুল নেই। পুরনো কেউ কেউ ডাকে। তবে নতুনরা "কী গাছ এটা কী গাছ"। মাটিতে ছড়ানো ফুলের রোঁয়া একটুসখানি কুঁড়িবুক। সাদা হলুদের মেলা একেবারে। আর টিনএজ পেরিয়ে ডাগর থোক থোক হাওয়ায় ঝুলতে থাকা...। ইট নাকি লগানীচে পড়তেই ক্যাচ ফসকালেই কিন্তু অভিমানে ফাটবে নিশ্চিত। বেশ কিছু বছর জামরুল হয়নি হয়না গাছে। তাহলে এখন এই মুহূর্তে এটা কি গাছ?

অনেকটা জায়গা নাকি দখল করে আছে গাছটা। ডালপাতার জন্য রোদ্দুর আসে না ঠিকমতো। বেকার এটা থেকে কী হবে! বাড়ির বোঝা।

মালোক ডেকে বিক্রি করে দিল... একসময়ের জামরুল গাছটা। কিছু টাকা তো আসবে কাঠ বেঁচে। জামরুল গাছটা স্রেফ ফল দিতে পারছে না বলে মায়ের কাছে কাঠ হয়ে গেলো...


সন্তান
হাঁ ছোট করো তাকাতে পারছি না
ঋতু গায়ে ছুটে যাওয়া ক্যালেন্ডার
লাল কালি ভাঙেগড়ায়রেগে উঠছে

এই খিদে দন্ডপ্রাপ্ত
তীর বুঝবে কীকরে কীই বা আন্দাজ
ধনুক সমেত রান্না...

সারাক্ষণ ভেজাভাব
উঁচু নীচু দাগ
মরিয়া এক সন্তানের দিকে

জন্মাও গো আত্মহত্যা



আবিস্কার
আয়না খেয়ে উগড়ে দিলাম হরপ্পা
জমাট বাঁধে ঘাম। পথ হয়। সওয়ারী

ছায়া ফেলতে ফেলতে এই যে দিলদরিয়া
সেই যে চুল আঁচড়াতে গিয়ে একার আতঙ্ক

তুমি শরনার্থী হবে বলে কেন্দুপাতা
রোজ রোজ পাথরে পাঁজর ঘষছিলো
সাঁতার কাটছিলো ব্লাডব্যাংক

কবুতর কবুতর উড়িবে নাকি
দাঁতে ফুটিয়ে তুলবে স্বাদ

রোগাক্ষয়াটেশীতফাটা ঠোঁটে
একেকটা নীল কণ্ঠ অথবা নদ হয়ে যায়



মগজধোলাই
ভ্রমণ বলছি তোদৌড়োচ্ছো কেন
হারিয়ে যায় এমন ডাক তোলোধরো
তবেই কলজে...

সেই মুহূর্তে ঘোড়া বসে পড়ছে হাসতে হাসতে
দাগের অজুহাতে ফিরবে মাটি

ও দেশওয়ালি একা আমার
চল্টা ওঠা ওই মেঘ থেকেই রক্তগ্রুপ সব

তোমাকে খুঁজছেসাবধান
মারছে আর বাঁচিয়ে তুলছেখামোশ


আদর করছি তোতুমি গোঙাচ্ছো কেন

পলাশ দে
Palash Dey