Skip to main content



Subhankar Das

শ্মশান-বন্ধু

কতদিন ধরে বন্ধু হতে চেয়েছি তোমার
কত সব চিঠি – যা রোজ লিখি,
যা পাঠানো হয়নি,
হৃদয়ের টালমাটাল প্রেম অপ্রেম
তুমি নজর দিলে না।

তোমার পাশে বসে আমি তো টের পাই
আমাদের সেই সব ধুধু দূরত্ব
সেইসব পথ যা বলে না
- ঘেমে গেছ দেখছি। একটু বসবে কি?
জল খাবে?

আজ ভাবছি তোমার সাথে সাথে যাব
চুপি চুপি তাকিয়ে দেখব চারিদিকের
হট্টগোল কান্না আশা হতাশা
এক সাথে ঝাঁক বেঁধে বসে থাকা
এই সামান্য মানুষের,
আরেকবার তারা এসেছে অগ্নিশুদ্ধ হতে।

তুমি হু হু আগুনের ভেতর চলে গেলে
পালিয়ে এসে বাইরের রাস্তায় সিগ্রেট নিয়ে
খেলব খানিক।
পাছে শ্মশান-বন্ধু হিশেবে ডাক পড়ে
ডেকে ফেলে কেউ।  





আজ ছুটি

আরেকটা সকাল মানে নিজেকে বোঝানো
সিগারেট খাওয়া ঠিক নয়।
চোখ খুলে ফের বুজে ফের খুলে
ঠিক করতে পারছি না বিছানা থেকে
উঠবো কিনাকফিটা কি এখন খাব?

কফির আগে ওষুধ খাব না পরে?
ভুলে যাব না তো?

যেভাবে ভুলে যাই গাদা গাদা কবিতার লাইন।
তখন ভেবেছি মনে থাকবে ঠিক,
কিন্তু সকালে চোখ খুলে কিছুই মনে পড়ে না
একটা শব্দও না। স্রেফ একটা সাদা পাতা
মাথার ভেতরে বলে –‘এত কুঁড়ে হলে এই হয়
কে আর তোকে পাশ ফিরিয়ে দেবে বল?’

আরেকটা সকাল মানে নিজেকে বোঝানো
আজ ছুটি।
আজ কোনো ফোন ধরবো না,
আজ কারো সাথে দেখা করবো না।
খবরের কাগজের ক্রাইম থ্রিলারচোখের জল
না পড়ে বিছানার পাশের জানালা দিয়ে
নিচের ডাস্টবিনের দিকে ছুঁড়ে মারব।
আহহহ কী হালকা লাগছে।

বাজে বক বক না শুনে
বরং চেষ্টা করি এই মুহূর্তকে
ঢুকিয়ে দিতে শব্দের ভেতর।

অজান্তে যে সিগারেটটা ধরিয়ে ফেলেছি
শেষ টান মেরে ওটা এবার ফেলে দিতে হবে।







রথের মেলায়

রথের মেলায় যাব যাব করে
উল্টোরথও চলে গেল।

রঙিন মাছের দোকানে দাঁড়িয়ে থাকব চুপচাপ
দেখব আমার ছোটবেলাও জুলু জুলু তাকিয়ে রয়েছে
এঞ্জেলের কেরামতির দিকে
আর হাত দিয়ে পকেট টিপে দেখছে কত আছে।

একটা ঘাড় নড়া বুড়ো এবার কিনব ভেবেছিলাম।
এখনও কি এইসব বুড়োবুড়ি পাওয়া যায়
?
জলে চক্রাকারে ঘোরা টিনের ভুটভুটি খেলনা লঞ্চ
?
কালি ভর্তি কাচের সারস পাখিদের নাচ
?

এখন অবশ্য পাঁপড় আর জিলিপির দোকান
দূর থেকে তাকিয়ে দেখার।
খেলে একপাতা জেলুসিলও কিনে নিতে হবে
লোভের কথা বলা তো যায় না।

যদিও আমি বেঁচে থাকি লোভে
লোভ করি বলে।





কয়েকটা নতুন মেঘ

তোর তো কোথাও যাওয়ার জায়গা নেই
তাই ফিরে এলি আমার বাসায়।
পৃথিবীটা দেখতে গিয়ে দেখলি
সবাই কেমন হাত ছেড়ে দিলো।

ভাগ্যিস আমি কখনো আটকাতে চাইনি
তাই আমার কাছেই ফিরে আসা যায়
,
ফিরে আসা সোজা একেবারে কইফিয়তহীন।

একদিন বেল বাজতে দরজা খুলে দেখি
এক বন্ধু দাঁড়িয়ে।
পিঠে দড়াদড়ি দিয়ে বাঁধা বেড-রোল।

কীরেকী ব্যাপার?
আমি পৃথিবীর পথে বেরিয়ে পড়েছি।

ভাবলাম কোনো সুদূর পথ বুঝি
কোন অন্ধকার গুহায়
ধুনি জ্বেলে সাধুসঙ্গর আশা।

কোথায় যাবি?
আপাতত রবীন্দ্রসদন। 

শুনে হাসি চেপে ভাবি
এটাওতো পৃথিবীর ভেতরেই পড়ে।

যাক কটা দিন পরে ছাদে উঠে
তামাকু সেবনের অপকারিতা নিয়ে
খানিকটা ঝগড়া ঝাটি করা যেতে পারে।
অথবা ওর সাথে মিলে
আরো কয়েকটা নতুন মেঘ
ছেড়ে দেওয়া যেতে পারে
মাথার উপর প্রাচীন আকাশে।


দীপঙ্কর ভাই আমার

আমি সেলুনে একা একা গোঁফ রং করছি
আর তুই চলে গেলি।
ভাবছি কী করব ওই চুলের সফেদ
উঁকিগুলো নিয়ে?
বোকামিগুলো ঢেকে ফেলে
আরেকবার বইমেলায় বসে থাকব কি?

আর শালা তুই চলে গেলি একা একা?
মানে এবার আর দেখা হবেনা বলছিস?
চুপি চুপি ভদকা মেশানো মিনারেল ওয়াটারের বোতল
আর বেরোবেনা ব্যাগ থেকে?
লিটল ম্যাগাজিনের টেবিলে বসে
গলায় ঢালা যাবেনা খানিকটা আগুন?
আর আমি এখানে লড়ে যাচ্ছি এই বিচ্ছিরি রোগটার সাথে
একা একা রোজ রোজ।

তাই বুঝি খুব ভোরে আজ বার বার
জপের মালা স্লিপ করছিল হাতে,
কান্না পাচ্ছিল হুহু এমনি এমনি।
খুব অস্বস্তিতে কাটছিল সকালটা।
তারপর সেলুনে বসে যখন ভুলে গেছি সব
তখনি ফোনটা এল,
যেভাবে এরকম ফোনগুলো আসে
আপাত নিরীহ বেচারা টাইপের।
আর আমি সেলুনের লোকটাকে
মাঝ পথে থামিয়ে ফুটপাতে নেমে এলাম।

বাইরে চা দোকানে রোজকার মতো আড্ডা মারছে লোকজন


আর একটা পাগল ফাঁকা বোতল কুড়োচ্ছে রাস্তায়।

পোঁদ
পোঁদ শব্দটিকে নিতম্ব বলে
খাটো না করাই ভালো।
শুনেই দেখছি ভুরু কুঁচকে গেল আপনার।
আপনারা তো আবার উচ্চ ঘর
কংস রাজার বংশধর।
আপনাদের বংশে কেউ কোনদিন
পোঁদকে পোঁদ বলেনি।
বলেছে পেছন, পাছা, নিতম্ব, বাম
আরো অনেক কিছুই।

অথচ অজন্তা ইলোরার যাবতীয়
নয়নাভিরাম নারী মূর্তির ভারী পোঁদ দেখে
আপনারা আপনাদের ইস্থেটিক্স বাড়িয়েছেন।

আজও ক্যাট ওয়াকে ভারী পোঁদ দুলিয়ে না হাঁটলে
পয়সা পাবে না ওই বেচারা মেয়েগুলো।

আমায় যে ছেলেটা মাসাজ করতো
সে বলেছিলো শরীরের যাবতীয় নার্ভ সেন্টার পোঁদে।
অতএব পোঁদের মাসাজ জরুরি খুব।
এ কথার সঠিক বেঠিক আমার জানা নেই।
জানা নেই ছেলেটা আসলে
হোমোসেক্সুয়াল ছিল কিনা।

শুধু জানি মেদিনীপুরে
কিছু মানুষের জাত
চন্দ্রবিন্দু হারানো সেই পোঁদ।
এবং তারা অনেকেই সুশিক্ষিত
প্রফেসর, কবি ইত্যাদি।

তাদের নিশ্চয়ই আপনি
নিতম্ব জাত বলে
অপমান করবেন না।





প্রজাপতি হে
কথা দিয়ে যারা কথা রাখে না
তাদের আমার প্রজাপতির মতো
মনে হয়।
তোমার মুখের চারদিকে নেচে বেড়াচ্ছে
সব রঙ
যা এমন আলগা যে হাত দিলেই
হাতে উঠে আসে।
না বলবে না একটুও।
অথচ তারপর কোথায় হারিয়ে যাবে
সেইসব রঙ ফেলে রেখে
যেমন এসেছিল না জানিয়ে
এমনি এমনি।

এখন যেমন একজন ঘুরে বেড়াচ্ছে
এই ডাউন টাউন ঘরে।
ভাবছি অতিথি কে কী দেব?
মনে পড়ল আমার এক বন্ধু বলেছিল
দিলে ওরা চিনি গোলা জলও খায়।

ছুটে রান্না ঘরে গিয়ে দেখি
চিনি বাড়ন্ত।
আহা নেই এ কথা বলতে নেই
এ শিক্ষা তো কবেই দিয়েছিল মা আমায়।

জীবনে তো সবই বাড়ন্ত তাহলে
বেড়েই চলেছে ক্রমাগত।

ফিরে এসে দেখি চলে গেছে
রঙের উৎসব
আরো একটা নতুন নেই


যোগ করে দিয়ে।








  শুভঙ্কর দাশ
Subhankar Das
Like us on Facebook
Follow us on Twitter
Recommend us on Google Plus
Subscribe me on RSS