Skip to main content



Sayan Ghosh

সমাধিক্ষেত্রে গুন গুন প্যারেড

১.
গ্রীষ্মের উপাদানগুলি পায়ে করে নিয়ে যাচ্ছে
কয়েকটি পায়রার দল
দু-একটি চিঠি মৃত ছেলের প্রতি
পূর্ণত অন্তিম যাত্রা
মর্গের বাতাস এতটাও আপেক্ষিক নয়
ভীতচকিত হাওয়া ঝড়ের বেসিনে তোলপাড় বিস্কুট
বমি হয়ে যাওয়া গতকালের রাতের খাবার
তাতে মাথা নাড়াচ্ছে
একটি আরশোলা

২.
অদৃষ্ট !
আমার চোখ বন্ধ করে দিচ্ছেন ক্যানো ?
সমস্ত দেখে ফেলছি বলে ?

৩.
রাষ্ট্র আমার মাথার দাম ঘোষণা করবে
নিলাম চড়বে এসকেলটরে
যাবতীয় বক্তব্য
মূল্যবৃদ্ধির আশঙ্কা এখন না করাই ভালো

৪.
সুতোয় ঝোলানো মাদুলি'টা ফেলে দিলেই পারতে
অজস্র পাপবোধ একেবারে চলে যেত






এক্স রে প্লেট ৪

এভাবেই শেষ হয় কিছু কিছু নেশাড়ু রাত যেখানে হাত বাড়িয়ে কিছু খোঁজার অব্যর্থ চেষ্টায় কলঙ্কিত জামার ডিজাইন পকেটে সীমাবদ্ধ যত বাঁধানো বিড়ি আগুনের স্ফুলিঙ্গে ত্বকরন্ধ্র জাগরণ শরীরি ছন্দে শহীদবেদী মনে হয় নিজেকে নিদেনপক্ষে ত্বক থেকে চামড়া থেকে লোম থেকে পুরুষ ও নারী উভয়পক্ষ বায়ুমন্ডলের লাফালাফি ভেদ করে মাংসল ভূগর্ভে হঠাৎ পেচ্ছাপ লজ্জায় আংশিক নিমজ্জিত কোনো লম্বা পুংলিঙ্গে টানটান উত্তেজনা নিয়ে তিন হাত উঁচু পাঁচিল টোপকে খোলা ময়দানে চিৎ হয়ে শুয়ে গড়াগড়ি খাওয়া যেতে পারে কিন্তু কতগুলি কবিতা লিখেছি মনে করতে পারছি না বরং নীচু হয়ে খুঁজছি প্লাস্টিক প্রেমিকা'কে; জাহ্নবী'কে এখনও খুঁজছি বিছানায় পেতে চাইছি সীমাহীন যৌনতা সমেত একগোছা লাল গোলাপ হৃৎপিন্ড ঠাণ্ডা যত রক্ত ধমনীর হিমেল রেফ্রিজারেটার মধ্যে থেকে বেড়িয়ে আসে কবির ন্যারেটিভ কঙ্কাল আর আমার হিমোগ্লোবিনের স্বাভাবিক রং বেগুনি।




চামড়ার কাছাকাছি

কলমের বলিরেখা থেকে কার্তুজ এক কদর্য বাসভূমি পেটে নিয়ে আস্ত একটা চাঁদ প্রসব করতে কোনো সমীকরণ কার্যকর হয়নি এখনও আমার হাতঘড়ি চুরি হয়ে গ্যাছে যেদিন ডাইনিঙে আমি বিছানা পেতে প্রকাণ্ড মাস্তান এক জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে উদ্দাম ডানা ম্যালা এক সফেদ অপ্সরার পাছা দেখে ফেলে খিল্ খিল্ শব্দবৃন্দ আমার চেক্ গামছায় বীর্যের ফোঁটায় এখন আমার একটা মেয়েছেলে চাই সঙ্গমকালীন কবিতা পাঠ জয়েন্টের বাড়তি সলতে টুক্ করে দাঁতে কেটে ফ্যালার পরের প্রস্তুতি আপেক্ষিক কিনা বলতে পারবো না আমার পার্ট থ্রি পরীক্ষার এক্সামিনারের বুক কতটা উঁচু হবে আমি আন্দাজ করতে পারছি না ঠিক অবশ্য জাপানের কাছে ক্ষমা চাননি ওবামা আসলে আমি ছাত্র পড়াতে গিয়ে নিজেই পড়ে ফেলি কারণ নক্ষত্রেরা আমায় একটাকাও ধার দ্যাননি সুতরাং আমাকে একটু বাংলা দিন। তেত্রিশ টাকা নিব্।


##
সেখানে সকলেরই একটা কম্বলের প্রয়োজন ছিল। নিদ্রাজরিত দূষিত চোখে তারা পরস্পরের দিকে তাকিয়ে হাসছিল। একজনের একটি রূপোলি দাঁত রয়েছে লক্ষ্য করা যায়। এবং কিছু শিশির কারপেন্টারের ছায়ায় জলের দ্রাঘিমায় হুবহু দ্রিদিম একঘেয়ে করে তুলেছিল বাড়িটাকে। সেখানকার ঘর, আসবাব, প্রাণ কৌটোবন্দী অবস্থায় শব্দের কড়া নাড়া; কারা য্যানো গুঁড়িয়ে ফেলেছিল তাদের শৈশব। নিজস্ব খনিজ মুঠোয় করে নিয়ে গঙ্গায় অস্হি বিসর্জন এবং সূর্যদেবতার কাছে প্রার্থনা। সকলেরই প্রয়োজন ছিল এখান থেকে বেড়িয়ে আসার। মুক্ত উপত্যকায় চড়ে ব্যাড়ানোর অধিকার সকলেরই ছিল। কেউ কেউ চেয়েছিল, কেউ চায়নি। জীবনকে বিভিন্ন রূপে আবিষ্কার করতে করতে কেউ কেউ পাগল হয়ে গিয়েছিল। কেউ এখনও আবিষ্কারের পদ্ধতি নিয়ে গবেষণারত। সন্ধ্যের শাঁখ এবং ঘন্টাধ্বনি বাতাসে মিশে যেতে যেতে অলস দ্রাঘিমায় আমরা এখন একটু ঘুমিয়ে নিচ্ছি ধোঁয়ার বিছানায়।

-      ৬নভেম্বর,২০১৬



ফোলিয়েশন

ঝড়ো অভদ্রতা শরীরের মধ্যে ছুড়ি কাটার কারবার রেশম সমন্বয়ে তৈরী বস্তুর ছেদ, রূপক, গতি, তড়িত্ বিচ্যুতির লোমশ স্ক্যান্ডাল পরিপূর্ণতার ঐশানী সন্ধ্যেতে পাক খাওয়া বিকট পাগনেশাস্ তার ঝিল্লীর অন্তস্হলে চুক্তি ও করমর্দন প্রতিলিপির বৃহত্ পাঠাগারে পাঠরত তরুণীর ঘাগড়ার তলায় আমার শ্রেষ্ঠ পান্ডুলিপি জমা পড়ে গ্যাছে হৃদয়ের তার যন্ত্রবাদক ঐশ্বর্যায় নিপুণ কাঠামো নির্ভর ইন্দ্রিয়প্রসর উচ্চ দ্রাঘিমায় ক্ষমাপ্রার্থী ঈশ্বরীর কণ্ঠে হিন্দিতে কিশোর কুমার
অতএব এগুলি সম্ভাবনার পাকদন্ডী এবং রাশিফল বিষয়ক দাঁড় যা এককভাবে দন্ডায়মান প্রণালীতন্ময় ও কিছু গঠনমূলক ধৈর্যবিচ্যুতি।




অর্ধউচ্চারিত আর্তপ্রতিলিপি

তোমার মধ্যে আবিষ্কার করলাম একটি বিরাট গন্তব্য
তাদের রাস্তায় পৌষ, দেওয়ালে নাটকের পোস্টারের ভগ্নাংশ
তোমার সম্মোহন আপেক্ষিক
তোমার সম্মোহন নীরব

আমার ভালো লাগে মেয়েদের পায়ের দিকে তাকিয়ে থাকতে
য্যানো সবচেয়ে উন্মাদ অলঙ্কার
আর উরু, ভয়াবহ মাংস উদ্রেককারী ভাষার উপযোগী
প্রকৃত নিমিত্তস্হল

অর্ধউচ্চারিত আর্তপ্রতিলিপি
তোমার পায়ের কাছে পৃষ্ঠা নিবেদন
অন্য কোনো সালতামামী নয়
ভোররাতে কাপালিকের মন্ত্রোচ্চারণ পর্ব
তোমাকে মনে করিয়ে দেবে জলস্ফীতির কথা
যেখানে তুমি আমার গ্রন্থ লুকিয়ে রেখেছ
হাওয়ায় ভাসছে আমাদের গল্পসংকলন

এসো ঝেঁপে দিই বর্ষার উর্বর লাইব্রেরী
আমার আবেদন আর্তনাদ
আমার আবেদন নির্লজ্জ
আমার আবেদন দানবীয়
অতএব আমাকে তুলে নিয়ে ইচ্ছে মত রং করো
নিরাপদ প্রত্যঙ্গে
গাঢ় রং আমার পছন্দ
আর নৈঃশব্দের জ্যামিতি

যা বাক্যের আন্দোলণ ও ভাষার প্রতিক্রিয়ার হরফ


চাষাড়ে অস্হিকল্প / হিমশীতল মাংসমজ্জা
যে ছাদে আমি রোজ উঠি তার স্হাপত্য ভেঙে গড়িয়ে যাচ্ছে সূর্যের ন্যাড়া মাথা আমার পায়ের কাছে একটি কালো পিঁপড়ে ধূসর ছাইয়ের মধ্যে পথ হারিয়ে ফেলছে ধরে তার অনৈতিক পথ অবরোধে আমার মুখের ভেতর থেকে থুতুর দলাটা ঝুলছিল ক্যামন সেই সেতুর চারমিনারে আটকে পড়ে আছে চতুর শব্দের লকআউট কারখানায় শব্দপিষ্ট শ্রমিকের হাতের চেটোকে আমি বড় ভালোবাসি বাদামী পিয়াসী ত্বক খেজুর আলোয় উপবাসী মৃগরাজ তার শীলাভূত অস্তিত্বের নরকঙ্কাল কবিতার জঠরে শুকনো নৈশাহার আর আলোর অভ্যন্তরে নির্বাসিত বাতিল ছায়াগুলোই আমার পছন্দ। আমার ঘণ্টা বেজে গ্যাছে কোনো সন্দেহ নেই আজ দ্বিপ্রহর এখন চিত্রকর আমার ছাদের দেওয়ালে কতগুলি ছবি এঁকে চলে গ্যাছে ধাতুপাতে মুদ্রায় নিহিত ঋজু ও শিলমোহরে, ছায়াতাপ নক্ষত্রে, শাশ্বত ও আত্মস্থ ব্রহ্মজ্ঞানে - কোনো অসুস্থ নারীকে আমি আমার কোলের কেন্দ্রে রেখে শুশ্রুষায় সারিয়ে তুলবো তার বিকেন্দ্রীত শরীর আলোর ঝালিমায় উদ্বেলিত তরঙ্গ নেপথ্যে ফেলে রেখেছে মানুষের পূণর্বিকাশ ও ইন্দ্রিয়ের যথার্থ ব্যবহার আর প্রজ্ঞানযান প্রজননমালা থেকেই আমি হেঁটে চলে যাই ওয়েলিংটনে বন্ধুরা দাঁড়িয়ে আছে অনেকক্ষণ খিস্তি করছে আমাকে; নিস্ক্রিয়তার দারুণ আঙুল হাড়পাঁজর পরিদর্শিত জলবায়ু আমার শরীরের আয়ূ নেই আত্মার আছে একটি বৃহৎ রেফ্রিজারেটরের ভেতর তার শীতল অনুভূতিগুলো এবার দ্যাখার সময় হয়েছে তাই হাট করে তার সফেদ দরজা খুলে দিয়েছি নিস্ক্রমণের ঘাঘু পাখি আকাশের পথ বেঁকে গ্যাছে মৈথুনে তীক্ষ্ণ দাঁতালো ঈশ্বরকামী স্হিতির গ্যারাজে আমি ফোকোটে ভাড়া থাকি বেশ তো এই সাপের খোলস; উন্মোচনে সাড়া দিয়ে দিব্যি বিভিন্ন কোণ থেকে বারবার নিজেকে দেখি স্হূল ইতিহাসে আপাত বিচ্ছুরিত আমার অঞ্চলের আলোর শরীর ডানপিটে খুব মাংসাশী জিভে তার জন্মের বিদীর্ণ মহাকাল ও উৎসের সিনেমাটিক চিত্রল গ্রন্থি।


গর্ত

বৈরাগ্যে ধরেছিল যেদিন অধুনান্ত কি বিকট হাসি আমার দাঁতে মানে ঈশ্বর ও মনীষী অকস্মাৎ হুল্লোড়ে পাচারকারী লুল্লু দেবদূতের টাটকা শব বস্তুত বিশ্বাস ও মানুষ, মানুষ ও কুকুর, চামচিকে ও দেশলাই, ভাড়াবাড়ি ও পিস্তলের বাঁটে জ্যান্ত রূপরেখায় শরীরের যে নৈসর্গিক উপস্থিতি দ্রুত দ্যাখা যাচ্ছে সামনের হোর্ডিং-এ; মেঘের র‍্যাপাড়ে মোড়া ঘোলাটে চাঁদের ঠোঙার কাছে পুরোনো শব্দ কিছু শুনি আর পিছমোড়া করে মারছো না ক্যানো আমাকে কিছু রেখে দিয়েছি ভাতে ও আগুনে; সংসার ও সন্ন্যাসে আত্মভূত এক যুবক সিঁড়ি দিয়ে উঠে গ্যালো মেয়েছেলে নিয়ে আর কিই বা করবে যখন উপাসনা অর্ঘ্যের সমার্থক শব্দ কিনা বিকল পারিপার্শ্বিক চতুর্লেনে একাই দাঁড়িয়ে থাকি বিমানের আসা যাওয়া দেখি ন'জোড়া জুতো আমার বাবার।


















সায়ন ঘোষ
Sayan Ghosh

Comments

Like us on Facebook
Follow us on Twitter
Recommend us on Google Plus
Subscribe me on RSS