Piyush Kanti Banyoapadhyay

শুধু গোটা ত্রিশ…

শুধু গোটা ত্রিশ সিট ছিল (ইসস!) আর সবই গেল জোটে
কহিলেন খুকু "কৌপীনটুকু কেড়ে নেবো নেক্সট ভোটে।"
করি জোড় পাণি কহিলাম "রাণী দুশোর অধিক সিট
পেয়েছ এবারে তবে বারেবারে কেন করো খিটখিট?"
শুনি কহে রাণী "খুব দিসো বাণী জলে জঙ্গলে স্টেজে
আজ হাঁদারাম চড়াম চড়াম কেমন উঠছে বেজে
ঢাকের বাদ্যি?" "থাকলে সাধ্যি খেতাম কি হিমসিম?
যে বঙ্গে বসে বাপদাদা কষে সাম্যবাদের ডিম
ফোলাতো 'তা' দিয়ে সেইটা বাঁধিয়ে এতদিন গেছি টিকে
বুঝিনি আসলে কবে তলেতলে লাল হয়ে গেছে ফিকে।"
পিসি কন "ট্রেন ধরো কমপ্লেন শুনবো না ছাড়ো দেশ
তুমি শালা ইয়ে ভোটে হেরে গিয়ে কী করে দেখাও ফেস?"

হইলো শপথ আমি ধরি পথ জানি না কোথায় যাবো
কেন এই ভুল হলো (ধুর চুল!) ভেবেভেবে পস্তাবো
এতদিন যারে ভোটের বাজারে দিইনি একটু ছোঁয়া
সেই কং আজ (মহা ধড়িবাজ) খেলো সব মালপোয়া
মনে ভাবি শালা! আছে তো কেরালা আমি কি লোকাল নাকি
সেখানে পালটা ফুটেছে লালটা। কং'কে দিয়েছি ফাঁকি।
নেবো ধরাচূড়া ঘুরিবো ত্রিপুরা শ্রেণী-চরিত্র বুঝে
সেখানেও যদি ওল্টায় গদি নেবো পার্টনার খুঁজে
মিটিংয়ে মিছিলে শুখা খালবিলে আধপেটা আধশোয়া
যত লোক দেখি মনে হতো এ কী সব শালা বুর্জোয়া!!
এইমতো হলো চোদ্দ বা ষোলো (দেখিনি ক্যালেন্ডার)
মনে হলো ধুর! ফিরি নিজ-পুর  ভাল্লাগছে না আর।

আহা আহা আহা সবই আছে বাহা দেখে গেছিলাম যা যা
সেই লাঠালাঠি মানুষ মা মাটি ত্রিভঙ্গ তেলেভাজা
মদের দোকান ঠাকুরের গান জ্যাম গুণ্ডার হানা
মলিন বদন রয়েছে মদন আছে সেই জেলখানা
র'ফলা ঋ'কার ছাড়া চারিধার বাংলাভাষার চিতা
সোশ্যাল সাইটে বসে খিটখিটে এলিটিস্ট বক্তৃতা
লালপেড়ে শাড়ি পরিয়া আনাড়ি মামনি হাঁটছে পথ
কমরেড বলে টেনে নেবো কোলে মনে এই মনোরথ
পাঁচদিন হেঁটে পৌঁছানু গেটে ছেঁড়া কাল মার্কস্ থামে
মিচকি হাসছে। কেউ কি আসছে সবজে আবীর খামে?
দেখি চারধার যদি কেউ আবার আমাকে দেখিয়ে নাচে!
তারপর শেষে বসলাম এসে পার্টি অফিসের কাছে।

ছিছি এ কী হাল! এমন কপাল কী যে হলো কালে কালে
রাস্তা ও গলি সবুজ সকলই যা যা ঢেকে ছিল লালে
দেখে বোঝা দায় কিছু আগে হায় সফদার হাশমি'কে
নিয়ে শত গান অযুত শ্লোগান কবিরা গিয়েছে লিখে
আজ সেই দেশে বামে কংগ্রেসে পরকীয়া অভিসার
পুরাতন ক্ষত কাঁদে অবিরত হিসেব কে রাখে তার!
এখন সে ভবে মাটি উৎসবে শিলা পোঁতাপুঁতি খেলা'য়
কত ধ্যান দানে শত হাসি গানে কেটে যায় সারা বেলা।
যেখানে সকালে প্রতি বোলচালে ভাঙা যেতো 'কালো হাত'
আজকে সেখানে বিপ্লব মানে ফেসবুকো প্রতিবাদ
যেখানে মানুষ ভুলে মান হুঁশ দিয়েছে অঢেল চাঁদা
আজকে ভিডিও পুলিশ বিডিও সব সেথা নীল সাদা।

খানিক থামিয়া উঠিয়া নামিয়া অবাক হইয়া দেখি
শ্মশানের কাছে আজও বেঁচে আছে আলিমুদ্দিন এ কী!
বসি তার সিঁড়ি জ্বালাইনু বিড়ি, খুলে গেল স্মৃতি-খাতা
একেএকে হায় মনে পড়ে যায় চৌঁতিরিশের গাথা
শাসন জবাই বিধানসভায় বিরোধী শূন্য ঘর
শাসক যা বলে তাই যাবে ফলে নেই কোনো নড়চড়
ধনী বন্দনে চেনা নন্দনে কবি শিল্পীর ভীড়
সেই ফাঁকতালে কত আলবালে খেয়ে গেছে দুধ ক্ষীর
হঠাৎ বাতাসে উড়ে উড়ে আসে তাল-মিছরির গুঁড়ো
দেখে নিজ ঘরে এতক্ষণ পরে আমাকে চিনেছে খুড়ো
আবার লড়বো। মিটিং করবো। ফের সব দেবো ফুঁকে।
সেই বিশ্বাসে দেখিয়া আকাশে স্যালুট দিলাম ঠুকে।

হেনকালে হায় সেই বেপাড়ায় সিন্ডকেটের চেলা
এসে ধমকায় বলে "কী বেয়াই ফের সেই ছেলেখেলা?"
আমি হেসে বলি এ তো ঘোর কলি! আমরা তো কমে গেছি
মিছরির গুঁড়ো খাইয়াছি খুড়ো তাই এত চেঁচামেচি!"
সে ব্যাটা যা ইয়ে গেল ধরে নিয়ে রেগেমেগে লালপিলা
পিসিমা সেদিন নিয়ে দূরবীন খুঁজিতেছিলেন শিলা
তিনি চটেমটে বল্লেন ভোটে হেরেও কাটে নি কান?"
পিসি যাযা বলে ভাইপো সকলে করে আরো অপমান।
আমি বল্লাম "খেয়েছি ম্যাডাম  শুধু মিছরির দানা …"
তিনি কন হেসে "গবেটের বেশে  মাল খুব চেনা-জানা!
খুকখুক কাশি ফিক করে হাসি হায় ক্ষমতার চাঁছি!
তুমি মহারাণী আজ ময়রাণী আমি কাঁঠালিয়া মাছি!"

(রবীন্দ্রনাথের কাছে ক্ষমা-প্রার্থনা-সহ)

পীযূষ কান্তি বন্দ্যোপাধ্যায়
Piyush Kanti Banyoapadhyay