Arunima Chowdhury

অ্যাসাইলাম

তোমাকে কক্ষনো বলিনি
সাতটা বছরে বহু টর্চ ছাতা জুতো ও
বাসনের সাথে, নিজেকে টুকরো টুকরো করে
আবার জুড়েছি।
কতো বার কতো লোকে মন্ত্রণা দিলো,
"ডাক্তার দেখিও ওকে"...

টেবিলের ওপ্রান্তে বসা,
মৃত্যুর মতো শীতল মহিলাটিকেউকেটা নয়...
তবু বড় বড় কথা বলেশেষতক
কয়েকটা স্লিপিং পিল ছাড়া তেমন বিশেষ কিছু করতে পারেনি জানেন!

আসলে জলের ভিতর বসেকুমীরের সাথে দোস্তি রাখাই শ্রেয়, আসলে মৃত্যুকে ভালবেসে আর যাই হোক, রাই! সংসারে শান্তি আসেনা,

অথবাউন্মাদনাপ্রবল প্রেমিকের মতো নিবিড় চুম্বনে জাগিয়ে রাখতে চায়...
তাই নির্জন কালোর ভিতর মৃত্যুকে ছুঁয়ে
সাতটা বছর অন্ধ  ছিলাম।



প্রেম

খুব ইচ্ছে করে তোমার কথাগুলো কুড়োই
কথায় কথায় ফেলাছড়া কবিতাগুলো যত্ন করে গুছিয়ে তুলি
ইচ্ছে করে ডেকে বলি তোমার শব্দগুলো আমাকে দাও
আমার বেডসাইড টেবলঘড়ির পাশে সাজিয়ে রাখবো
ঘুমভাঙা মাঝরাতে ওরা আমাকে দেখবে
দেখবে ফোলাফোলা গাল,লাল চোখে কেমন জেগে আছি

অযত্নে কপালে এসে পড়া চুল আরো একটু ঘেঁটে
ইচ্ছে করে একফুঁয়ে নিভিয়ে দিই জ্বলন্ত সিগারেট
ও কেন এতোবার তোমার ঠোঁট ছোঁবে

তোমার পেন ফোল্ডারকম্পিউটার...
কতো কাছে থাকে..কতো সহজে ছুঁয়ে দেয় আঙুল
খুব হিংসে হয়

আজকাল খুব ইচ্ছে করে ডেকে বলি
শুনছো!  নিষিদ্ধ ইচ্ছেগুলো এভাবেই খুব জ্বালায় আমায়
২০১৫





অকেজো

প্লাস্টিক পেনিস যতই ডাঁটো  হোক
কিলোদরে কাবাড়িওয়ালাই কেনে

নিয়নবাতি পিছলে আঁশটে শরীরে আলোর ঢল নামলে
জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি মুখ লুকোয় বাজারী বিজ্ঞাপনে

এক্সট্রা লুব্রিক্যান্ট কন্ডোম ফেটে
কিলবিলে কেঁচো ডাস্টবিনে ছুঁড়ে ফেলে
নাগরিক সভ্যতার অজাত ভ্রূণ

নীলস্ক্রিনের মিউট আশ্লেষে ছিটকে ওঠা ফেনা শেষমুহূর্তে রক্তমাংসই হাতড়ায়

আসলে ওই যে প্লাস্টিক যাকিছু
আল্টিমেটলি কোন কাজেই লাগেনা
২০১৫




মেটামরফোসিস

সৃষ্টির আগে ছিল এক সর্বব্যাপী অন্ধকার
একদিন ঈশ্বর বললেন,
"let there be light and there was light"..
আমি তখন ডুবে যাচ্ছি  চরম অবসাদে
আমি তখন ধ্বংস করছি মায়াবী বিভ্রম

হেঁটমুণ্ড উর্দ্ধপদ আমি তখন
জলীয় আঁধারের বায়বীয় বুদ্বুদ
উল্টো করে বললাম

সকল অনাসৃষ্টির তীব্র আলো তোমাকে দিলাম
হে ঈশ্বর
মৃত আত্মার পরিশুদ্ধি প্রয়োজন
আমার সবকটি সত্তার যে পবিত্র ও আবশ্যিক   আড়াল তুমি সেই ছায়ার সৃষ্টি করো

বিচ্যুত যে দিন বিক্ষত যে রাত
 সকল দ্বন্দ্বে মিশে থাকে
ঢাকো
ঢেকে রাখো
তার আলোকময়তা

চোখ নাক চুঁয়ে তরলিত আবেশের
 গতিরোধ করো

আজ সকল বিভ্রান্তির ক্ষমা হোক
১৭/১১/২০১৬




ধর্ষিতা

খাঁচার ভেতর পুঞ্জিতদলা দলা মাংসে
কামুক মাছির  উল্লাস

কৃমিকীট গর্ত খুঁজে ঢুকে যায় পৃথিবীর
গভীরতম খাঁজে

উন্মত্ত পশু যাবতীয় নরম চেটে নিলে
ক্রমশ: ক্লেদাক্ত পিচ্ছিল মুছে দেয়
                অর্ধবৃত্ত আয়ুরেখা

দোলে জীবন্ত লাশ
দোল খায় দমদেওয়া  হৃদপিণ্ড
ব্যারাকপুর। ২৬/১০/২০১৫




দীপাবলি

সমস্ত  আলোকমালা  নিয়ে উড়ে গেলো 
নামানুষী ফানুস...
আঁচলে দুয়েকটি নক্ষত্রের অবশেষ  জ্বেলে
দিগন্ত ছুঁয়ে… সেইতো
একঘেয়ে দাঁড়িয়েই থাকা...

যে যাওয়ার ফেরা নেইসেপথে
এক পা এক পা করে এগিয়ে চলেছি...
ধোঁওয়ার কুণ্ডলী বেয়ে উঠে আসে যজ্ঞপুরুষ

ওহে অলৌকিক হাত! ছুঁয়ে দিও চতুর্দশ আলোকবর্ষ দূরে 
অবিনশ্বর তারারূপী আত্মা..


যাঁকে আর ছুঁতে পারছিনা।











   অরুণিমা চৌধুরী

Arunima Chowdhury