Skip to main content



Bapi Gain

ছাতিমসমগ্র – ১৫

নীল রংয়ের একটা গরম জামার ভেতর ঢুকে তুমি কি প্রতিপক্ষের বরফকে গলে যাবার একটা সুযোগ করে দিয়েছিলে মানুষ। তোমার মেজাজ হারিয়ে ফেলা চীৎকার পাতালঘরের কোন আভিজাত্য থেকে  বেড়িয়ে এসে তার উপলক্ষ্য খুঁজছে এসব তুমি কিছুই  অনুভব করছো না।  কাচের ওপাশে বৃষ্টির শহর, শহরে আটকে পড়া জোনাকির শ্বাসকষ্ট কিছুই? মাঝে মাঝে অনিচ্ছার বরফ সরিয়ে ষড়রিপুর ব্লু -প্রিন্ট  দেখো
আর মনে মনে ঝরে যাওয়া একটা পাতাকেও দোষারোপ করো না
আর ব্যস্ত ভাবে ঢেকে দাও
যেভাবে বেড়াল তার রীতিমূলক গন্ধ ঢেকে ফেলে।






প্রথম গর্ভের স্মৃতি হারিয়ে যাবার পর
ভায়োলিন আর একা একা কতদূর বাজে
যতক্ষণ না কেউ তাকে ঘষে ঘষে ব্যথা করে দেয়


শুধু কি বহুভাষী ফুল?
আর কোনো কাঁটা না?
ক্ষত না কোনো?
ক্ষতকে জাগিয়ে রাখা কিছু না?
হাওয়া এলে দুলে ওঠা শুধু? 
হাওয়াকে ষড়যন্ত্র তারপর?
 
সৌজন্য প্রতিবেশী কেবল?
 
ফুল ,ফুলের অতিরিক্ত কিছু না


পাহাড়কে তার দৈর্ঘ্য ও প্রস্হ দিয়েই মানুষ চেনে 
তাই অপেক্ষাকৃত ছোটো পাহাড়ের কাছে
 
কেউ ভুল করেও বাঁশি ভুলে আসতে যায় না।
বাঁশি মূলতঃ সেইসব উচ্চতায় ভালো বাজে
যেখানে অবাধ্যতা হাওয়ার কলার উঁচু করে হাঁটছে।



মারো,  আমাকে  যেমন ইচ্ছে 
অন্ধকারে খন্ড খন্ড করো।
করেছ শালীন?
দাও দেখি তার অশ্রুটুকু
কপালে
  ছোঁয়াই।
তাও কি দেবে না?
মুক্তি দেবে না,
  জন্মকালীন?




এখানে জল ছিলো। 
এখানে ছিলো জলের উপযুক্ত খননকার্য।
 
খনন কার্য হেতু এখানে ছিলো মানুষের খুলে রাখা জামা।
 
খুলে রাখার জামার বাইরে
  এখানে ছিলো এক অস্ফুট শরীর। 
এক অস্ফুট শরীর যা পচনশীল ও মৃত্তিকার ধ্রুব আলিঙ্গনবিদ্ধ।
 
এখানে উপেক্ষিত
  ছিলো 
এখানে আন্তরিক ভ্রুক্ষেপ
  সাজিয়ে রাখা ছিলো সব...




বাপি গাইন এর কিছু লাইন, যারা লেখা হয়ে ওঠে

একটা আইসক্রিমের পাহাড়। পাহাড়ের মাথায় চেরি ঘুমিয়ে আছে।
একটা উলের বল। বল না। কারণ নিজেই দৌড়াচ্ছে। ভেড়া।
পাহাড় গলছে, উত্তুরে হাওয়া সত্ত্বেও।
ভেড়া গোল গোল দৌড়াচ্ছে পাহাড়কে নিকটবর্তী রেখে।
যাতে চেরির রং ফেটে সত্যিটা ছড়িয়ে না যায়।

~~~


যতক্ষণ তার ভিতর মদ আছে
বমি করার মতো বিষয়ও আছে
আর অন্ধকারে সাঁতারুর মতো একজোড়া বুক
যাদের চুল ও গোড়ালি পর্যন্ত সব কিছুর গবেষণা হয়
আর মধ্যবর্তী একটা পাঁচিল ও তার হাজারটা ফুটো
যেভাবে তাকিয়ে থাকে চব্বিশ ঘন্টা
যেভাবে হাঁটাচলা করে কুয়াশায়
ছিঁড়ে খায় যেভাবে
ঘরের ভেতর শুয়ে শুয়ে এখন আমার খুব নেশা পেয়ে যায়
কোনো বিশেষ মনে পড়ে না
কেবল একটা মাঠের অংশ এসে আজও কতগুলো শূন্যস্হান তৈরী করে
আমি আজও মনোযোগী ছাত্রের মতো
ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাস গুছিয়ে নিই
আর শূন্যস্হান নিয়ে বসি
দেখি প্রায় দলাপাকানো একটা মানুষ সন্ধ্যা পর্যন্ত ঢুকে গেছে
আর বেরোতে পারছে না
শূন্যস্হানে লাগছে।

~~~

এইপথে, মহাশূণ্য ভরা এক পাগলের মৃতদেহ চড়ে
শোক আসে যুদ্ধভাঙা অবশিষ্ট দেহের ভেতরে
শিল্প হয় স্বাস্থ্য হয় জলসা হয় মেধার মলাট
ধানগাছে আমাদের মন নেই, মনে আছে শখের করাত
কষ্ট হয়, ডালভাঙা কষ্ট হয়, এইখানে সব কষ্ট ভুলে থাকি

মহাশূণ্য পাগলের, অভিমান, মৃতদেহ এখন জোনাকি।

দু এক পশলা চিন্তাসূত্র


কতরকম বিষই তো এই দেহ গ্রহন করেছে
এই একটুকরো মেঘ আর কতটাই বা মরুভূমি নেবে


অনিশ্চিত এই জীবনের একমাত্র নিশ্চয়তা মৃত্যু। এমন এক বিশ্বস্ত বুক, এমন এক আলিঙ্গন যা একমুহুর্তের জন্যও স্পর্শ ত্যাগ করবে না। এই চরিত্রকেই আমরা খুঁজি প্রেমিকার ভেতরে, প্রেমিকের ভেতরে অর্থাৎ আমরা তোমার ভেতরে মৃত্যুকে খুঁজি প্রতিমুহুর্তে, জীবন খুঁজি না কখনও।


অর্ধমৃত ফুল দিয়ে ঘর সাজাবার আগে, আমি চাই ফুলগুলো গাছেই শুকিয়ে যাক। অন্ধকার হয়ে আছে এমন অনেক গাছ দেখেছি দিনের বেলায়। যেন কেউ শুভেচ্ছা অনুবাদ করতে পারেনি আর শুধু শুধু সাদা পৃষ্ঠা নষ্ট করে গেছে।
তোমাকে ভালোবাসা বোঝাতে গিয়ে তাই গাছ ছাড়া আর কোনো প্রতিনিধি পাইনা। হাঁটাপথে সে বহুদিন থেকে তোমাকে মুগ্ধ করেছে। এতো এতো মুগ্ধতা সামলাতে না পেরে তুমি তার ছোটো একটা হাত ভেঙে টেবিলে রেখেছ। টেবিলের ওপর হাতভর্তি ফুল, মৃত্যুর দিকে দৌড়ে যাওয়া ফুল। ঘর আলো হয়ে আছে, পবিত্র এক গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে মৃত্যুর শরীর থেকে তোমার স্নায়ু পর্যন্ত। তুমি এককাপ চা নিয়ে এই সৌন্দর্য্য সহ্য করছো বিকেলের আলোয়। ওদিকে যার গেছে তার বেদনা ফোঁটা ফোঁটা ঝরে পড়ছে রাস্তার ধুলোয়। এইপথে কাল আবার তুমি টিউশনে যাবে আর দেখবে ভাঙা ডালের পাশে এখনও অনেক ডাল। এখনও যথেষ্ট ফুল। তোমার মুগ্ধতা আগের মতোই তোমাকে মৃত্যুর প্রতি অন্ধ করে রেখেছে।



কাগজের পাখি। পাখিকে ওড়াতে পারিনি। না-পারার ভেতর একটা অনেকদিনের হাওয়া। আশেপাশে কোথাও কারো আকাশ আছে হয়তো। আশেপাশে মস্করা ঘনিয়ে আছে এরকম সন্দেহ হয়। সন্দেহের নূন্যতম ছাদ নেই। যৎসামান্য ছায়া দেখলেই তার ঘুম পায়। ঘুমের ভেতর সে পাউরুটির স্বপ্ন দেখে। গরম, ভাজা ভাজা পাউরুটি। ঘুম থেকে উঠে জিভে মাখনের গন্ধ খোঁজে সে। গন্ধ নেই। টক একটা দৈনন্দিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। সন্দেহ বড়ো হয়। সন্দেহ লম্বা লম্বা পা ফেলে ক্রমশঃ দূরবর্তী হয় নির্জন দেওয়ালের সাপেক্ষে। আশেপাশে পাখির ছায়া ঘনিয়ে আসে আবার। ঘুম পায়, দু'পা ক্লান্তির আগেই ঘুম পায় খুব।


সময় যায় যেন একটা ছোটো কচ্ছপ পুকুরকে উপেক্ষা করে গোল গোল উড়ছে তার নেশার ভেতর। ঘৃণা কোনো উল্লেখযোগ্য বিষয় না, তুমি জানো - যখন মাঝরাতে বালির বুকে স্পর্শ অন্যদিনের থেকেও বেশি ঠান্ডা হয়ে আসে এবং একজন অপরিচিত ঘুম রামের গ্লাসটা এগিয়ে দেয় আগাম কোনোরকম সতর্কতা ছাড়াই; হ্যাঁ এরকম একটা দুর্ঘটনার ভেতর নিজেকে খুব সামান্য মনে হয়। কিন্তু এটাও তো ঠিক - সৌভাগ্যের এক গ্লাস কেবলমাত্র গতরাতের অংশ হতে পারে একটা জীবনে। যদিও নিজেকে অতিক্রম করে কাউকে ভালোবাসা এক মহান আত্মহত্যার সমান। খুব সম্ভবত এটা এমন একটা অসাধারণ পোষাকের স্মৃতি যা একদিনের পার্টিতেই মানিয়ে যেত বেশ। এই উৎসর্গের কল্পনা যেকোনো মুহূর্তেই ছুঁড়ে ফেলে দেওয়া সম্ভব, কেননা একটা নির্দিষ্ট সময় পার করে শরীর, এই ক্রমপরিবর্তনশীল শরীর আর পোষাকের সংরক্ষণ চায় না। এটা নিজে থেকেই ফেটে পরে একটা স্বর্গীয় নরকের মতো। মৃত্যুর কোনদিকে এসে বসতে চাও তুমি এখন? ঘুমের তৃপ্তি নিয়ে কখনও কি তুমি জেগে উঠেছ নাকডাকা কোনো পরীর গল্পগুচ্ছের ভেতর?
-      এখন আমার দিকে ওভাবে তাকিয়ে থেকোনা যেন তুমি আয়নাকেই অস্বীকার করছ।


বসে থাকো লম্বা একটা চামড়ার গদির ভেতর এবং অপেক্ষা করো যতক্ষণ না ক্লান্তি তোমার শূন্যতাকে সারিয়ে তোলে এবং চোখ বন্ধ করেই দেখার আসল মজাটা নাও। একজন অজানাকে হেঁটে পার করতে কেমন অন্তঃরঙ্গ কাঁপুনি হয়, একবার গিলে দেখো।


বাপি গাইন
Bapi Gain




Like us on Facebook
Follow us on Twitter
Recommend us on Google Plus
Subscribe me on RSS