Skip to main content



Atanu Singha


প্রাকৃত আ-গলে লেখা কবিতারা: পর্ব ১ (উৎসর্গঃ নাদিয়া ইসলাম)

মা তারা আসলে পাখীর নাম

এবং ডেসিবেলে
কেঁপেছে চারটে দেওয়াল
ঘুলঘুলি থেকে মারহাবা
আকাশও কী দারুণ খসে গেছে,
বাতানুকূল তছনছ করে
এসেছেন তারাভোররাতে,
লাল আকাশের পাশে মুখ রেখে...
জিভ তার রক্তিম,
পায়ের নীচেতে বাঁধা সুরক্ষা-খনির নুপুর,
চুলের অরণ্যে আজও
চাঁদের অন্ধকারমৃদুমন্দে পাখির আরাম,
তিনি তারাআমি তার কোহলসন্ধান
#
আমি তার ত্রিকাল স্বপ্ন থেকে
বুনে ফেলছি রাততন্ত্রবিদ্যেরও আগে
সহজ-ফসলের কথা লিখছি স্নানের ঘোরে
তারা পাখীপাখীমা তারাটির ডানা থেকে
শিখছি ভূতল-বিদ্যে আর
চরাচরে ট্রানজিস্টার
সুদূর ব-দ্বীপ থেকে অগ্ন্যুতপাতের সংবাদ...
তারা মা মুণ্ডমালা খুলে রেখে
আমাকে শোনাচ্ছেননৌকা ভ্রমণের শেষে
মালভূমে মেয়েরা রোজ বাজায় পিয়ানো
গাছের কোটরে কেমনে রান্নাবাটিআর কীভাবে
বালিতে সূর্য এঁকে সময়ের ওঠানামা,
বোনা হয় শীতের পোশাক,
কেমনে বাঁধতে হয় ত্রিনয়নী-বেরা
কীভাবে হামাগুড়িকীভাবে হেঁই-হো
ঝাঁপিয়ে পড়ার আগে আয়না আয়না
কাজল-স্বপ্নে লাগে হকের আজান
#
আমার পাঁজর জুড়ে সারারাত
পলাশিয়া মেয়ে ও তাহার সে
পরমাপরমসেই লাল,
আমি তার ডানায় কন্ঠ পেতেছিআর
গাইছি, 'সময় তো থাকবে না গো মা
কেবলমাত্র কথা রবে...'
কথায় কথা কেঁপে যাচ্ছে,
চৈতন্য চক্কর দিচ্ছে গ্যালাক্সির তারানায়
#
আর ভোরবেলায় তারা মাতারাপাখী
আমার সঙ্গে ছাদে যাচ্ছেন চরাচর দেখবেন বলে


দেয়ালা

তারপর বর্ষাতি ফেলে আসার কথা মনে পড়বে আমাদের
আর সাদা বিকেলের মাঝখান দিয়ে
চ্যাপ্টা নাকের ছেলে তোমায় দেখে
শিষ দিতে দিতে সাইকেল গড়িয়ে দেবে,
ঢাল বেয়ে পতঙ্গের রঙেরঙের ভেতরে
বর্ষার স্প্রেবোতলের ওপর তোমার
সবুজ নখমৌসম-জ্যাজ...
দূর প্যাগোডার ভেতর থেকে ভেসে আসবে স্তব,
বাবলের ওড়াউড়ি ঘেঁষে কয়েকটি
থতমত ফ্রেমমনোমুগ্ধ অ্যাপার্চার,
এমন ছবিতে কিশোরী মানায় ভালোআর তোমার
চুলের ভিতর দিয়ে ফোকটেল ড্রিংড্রং...
সিগারেটেগাঁজায় আমাদের গাপাহাড়ের
পাড়া-গাঁ চুরমারগানের আরাম চারিদিকে...
প্রাকৃত খননে সেদিন ভোর এসে যাবে...
তারপর জঙ্গল সাফারি আর পাহাড়ি কেশর
গীটার বাজছে দ্যাখোগাছ থেকে ঝুলে আছে কর্ড
#
এইসব ভাবি আর ঘড়ি দেখিআর রাস্তাঘাট দেখি
আর ট্রাফিকের আলো দেখিফাঁকা পার্ক দেখিরাতের শহর দেখি
শেষ মেট্রো দেখিএকা একা ঘরে ফিরে আসা দেখি
নার্সিসাস বাথরুমে ঘনঘোর দেখি আর গাঁট গুণি
কবে ভিসা পাবে তুমি আর কবে কবিতাগুলো জ্যান্ত হবে
ভাবতে ভাবতে রাত থেকে ভোর হয়ে যায়জন্ম পেরিয়ে যায়
জন্মান্তর পেরিয়ে পেরিয়ে আবার পাহাড় আবার জঙ্গল আবার হালুম
কবে আসছো জানিও। জানিও। তারপর...


চোদ্দটি ছিদ্রের মিথিক্যাল রাত

তেরো কিংবা চোদ্দ
সংখ্যা দুলে ওঠে তাহার ছিদ্র জুড়ে
#
রাতের আগায় টলমল করে ওঠে
তাহার ছিদ্রগুলিতাহার প্রকৃতি-বোতাম,
বোতাম কিংবা নোলক কিংবা তালাচাবি
ছিদ্রের মুখে আটকে রাখে সেকেননা
চাবি খুলে ফেলার আগে
তাহার চাই আস্ত কবিতা
তাহার শরীরে সাজানো ছিদ্রের ভেতরে
জাগতিক যত পথ,
#
কবিতার
ফুঁ এসেকবিতার শরীর এসেকবিতার
রস এসে খুলে দেয়
সিংহ-দরজাছিদ্রগুলি
জগতের মহা যা কিছুযা কিছু
রসের নিমিত্তসবপেয়ে যায়
এবং তাহার শরীরের তেরো কিংবা চোদ্দ সংখ্যার
ছিদ্রগুলি খুলে যায় একে একে
#
হাওয়া ঢোকেকিলবিল তারাগুলি খসে পড়ে
ছিদ্রে তাহারনক্ষত্রের জ্বর আসে ছিদ্রের আদিম আদিমে
এবং প্লাবনের ইশারাতাহিতির ক্যাম্ফায়ার
দাবানলে ছুটে যাওয়া নীল ঘোড়া
আফিম খেতের পাশে রাখালের বাঁশি...
#
দৃশ্যের পরিপূর্ণ যা কিছু সতেজ সব
তাহার ছিদ্রের কাছেতেরোটি তালা খুলে
তেরোটি কবিতার ঠোঁটেনখেমাংসের
গভীর তন্ময়তায় তাহার ছিদ্রে
আরব্যগহীন রাতঅথবা
কামখ্যা পাহাড়বশীকরণের গান...
তাহার ছিদ্র দিয়ে জাহান্নাম থেকে
দ্রুতগামী ট্রেন ছুটে গেছে বেহেস্তর দিকে
প্রথম আগুন কুড়িয়ে নিতে
#
আর
সে আগুন কুড়িয়ে কুড়িয়ে আমি লিখে ফেলছি
চোদ্দতম অন্তিম ছিদ্রের কথাএকদিন
ওখানেই জন্মান্তরএকদিন
ওখানেই শরীর পেয়ে গেছে নিরাকার
ব্রহ্মওখানেই একদিন শরীর
খুঁজে পাবো আমি আর হল্লাজের কানে কানে
বলে দেবোআমিও সত্য
কেননা তাহার ছিদ্র সত্য
কেননা তাহার ছিদ্র নম্বর চোদ্দের কাছে
আমার মরমীয়াআমার মারফতি ভোর
আমার আয়নানগর আমার ছিদ্রপুরাণ
তাহার বোতামের ভিতর আয়োজন
প্রকৃতি পরম
ছিদ্রের মহামায়ামহা-মায়া রাত
(১৯ এপ্রিল২০১৬ভোর ৩টে ৩৫ মিনিট।)

বঙ্গবালা

আজ এই চিঠি সমাপন
আজ ঝিরি ব্যালকনি,
অরণ্যমুখে তুমি দুলে দুলে
চাদর বুনেছো
লক্ষ্মীর বাচ্চারা শুতে পাবে বলে,
আর অন্নভোগের শেষে
আমাদের বাচ্চারা যাতে
চাঁদ নিয়ে খেলাধুলা পারে!
আমরা তো এতদিন ঘেমেনেয়ে
শুনেছি অনেক
গোলাকার রুটি আর চাঁদের গোল্লা,
তুমি শুধু চাদর বুনেছো,
পাঠিয়েছো উনুনমঙ্গল,
ওই তো আতপের সুখে
দ্যাখো মানুষের হাঁড়ি ভরে গেছে
অন্নপূর্ণা জেগেছেন পদ্মায়,
বুড়িগঙ্গা নদীর কিনারে...
আমার স্বপ্নগুলি
আমার সকল উচ্চারণ

তোমারে লক্ষ্য ক'রে...





কালো টাকার পাওয়ার হাউজকে আড়াল করতে এবং মানুষের অর্থনৈতিক স্বাধীনতা খর্ব করতেই ৫০০ ও হাজার টাকার নোট নিষিদ্ধ করেছে মোদীয় ভারত রাষ্ট্রযা একটি ফ্যাসিবাদী পদক্ষেপ


মোদীভাই যা করেনসেই ক্রিয়ায় দেশভক্তির দৈবভাবের গঙ্গাজল ছিটিয়ে দ্যান। আর জয় জগন্নাথ হ্যাঁ হ্যাঁ করা পাব্লিক গঙ্গা ফড়িং-এর মত মোদীয় কর্মসূচীর পিছন পিছন উড়তে থাকে। গণমানসে দেশভক্তি বা রাষ্ট্রীয় ইমোশনের আফিম মোদীর এক সাংস্কৃতিক অস্ত্র। এবং এই অস্ত্রকেই ভারতীয় অর্থনীতিতে ফ্যাসিবাদ কায়েম করার ক্ষেত্রে প্রয়োগ করেছে মোদী।
এই অস্ত্র কী রকম?

১। কালো টাকার লেনদেন থামিয়ে দেশের অর্থনীতিকে শুদ্ধ ধারায় নিয়ে যাওয়া এবং দেশের আর্থিক শ্রী বৃদ্ধি ফিরিয়ে আনা

২। টেরর ফিন্যান্স বা সন্ত্রাস লগ্নিতে আক্রমণ শানিয়ে সন্ত্রাসবাদীদের আর্থিক মেরুদণ্ডে আঘাত।

লক্ষ্যনীয়এই দুটি ক্ষেত্রেই 'দেশভক্তিবা রাষ্ট্রবাদের লজিকেই আবর্তিত হয়েছে মোদী ও তার সাঙ্গপাঙ্গরা। আর তাতেই একাংশের আফিম খেকো অন্ধজন 'জ্বি হুজুররবে মোদীয় ফতোয়াকে স্বাগত জানাচ্ছে। ৫০০ ও হাজার টাকার নোট মাত্র ২-৩ ঘন্টার মধ্যে নিষিদ্ধ করার সরকারি তথা রাষ্ট্রীয় ফতোয়াকে স্বাগত জানানো হচ্ছে।

ফ্যাসিবাদ কায়েম হয় এভাবেই। ফ্যাসিবাদের সাংস্কৃতিক অস্ত্র এক ও একমাত্র রাষ্ট্রবাদ। রাষ্ট্রবাদের মধ্যেই শ্রেণী ও বর্ণের বিষয়গুলি অন্তর্ভুক্ত থাকে। হিটলারমুসোলিনি-সহ দুনিয়ার সমস্ত ফ্যাসিস্টদের এই একটিই ছক। আর সেই ছকেই মোদী প্রথমে সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে তারপর অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে ফ্যাসিবাদ কায়েম করতে চাইছেন। এরপর তাঁর লক্ষ্য হবে রাজনৈতিক ক্ষেত্রে ফ্যাসিবাদকে স্থাপিত করে ফ্যাসিবাদের ভারতীয় বৃত্তকে সম্পূর্ণ করা। যা ইতিমধ্যেই পররাষ্ট্রীয় ক্ষেত্রে বা প্রতিবেশি দেশগুলির উপর আগ্রাসনের নীরিখে শুরু করে দিয়েছেন। সে ভিন্ন প্রসঙ্গ।

এবার এই নোট নিষিদ্ধ করার সঙ্গে ফ্যাসিবাদের সম্পর্কটা একটু খোলসা করে বলা যাক।

প্রথম কারণ বলা হচ্ছে কালো টাকার গতি ও সম্প্রসারণকে রুখে দেওয়া এই সিদ্ধান্ত গ্রহণের অন্যতম কারণ। ভালো কথা। আচ্ছা খুব সাধারণ একটা প্রশ্নকালো টাকা কি কেউ গদির তলায়জাঙ্গিয়ার পকেটে বা ব্রেসিয়ারের ভাঁজে রেখে দ্যায়??? নাকি হুন্ডিহাওলা হ্যানাত্যানায় সেই টাকা লগ্নিকৃত হয়ে যায় ঘরবাড়িগাড়ি থেকে শুরু করে মাঠঘাটখনিদ্বীপ ইত্যাদি খরিদ করে বেনামে তা রেখে দেওয়া হয়! ক্ষমতায় আসার আগে মোদী বিদেশ থেকে কালো টাকা ফেরত আনার কথা বলেছিলেন।বিদেশে কালো টাকা যারা রাখে তারা হয় সুইস ব্যাঙ্কে রাখে অথবা এভাবে বেনামে সম্পত্তির মধ্যে কালো টাকার রূপান্তর ঘটায় আর দেশে টাকা রাখলেও তা টাকা বা মুদ্রা আকারে থাকে না থাকে অন্য কোনো রুপান্তরিত ফর্মে। এদিকেআরেক দল আছে যারা অনবরত ভারতীয় ব্যাঙ্কগুলির থেকে টাকা ধার নেয়পরে সরকার তাদের কাছ থেকে প্রাপ্য পাওনা সুদ-আসল-সহ বিশাল বিশাল অঙ্কের টাকাকে ছাড় দিয়ে দ্যায়। আম্বানিআদানি-সহ বহু বহু শিল্পপতিদের ক্ষেত্রে মোদী যা ইতিমধ্যেই করেছে।আচ্ছা 'কালো টাকাটাকা তো বলা হয় সেই টাকাকেযে টাকার কোনো হিসেব রাষ্ট্রের কাছে থাকে না এবং যে টাকার কর রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা পরে না। তাহলে সাধারণ মানুষের জমা দেওয়া কঅরের টাকাকে যেভাবে শিল্পপতিদের হাতেবিত্তবানের হাতে হাতে মোদীভাই তুলে দিচ্ছেনতাকে কি বলা যায়স্বচ্ছ ধননাকি তা বিত্তবানের কাছে শাসকের ঋনের পরিশোধের অঙ্ককেননামোদী ক্ষমতায় আসার সময় এই সব বিগ ইকোনমিক্যালপাওয়ার হাউসগুলির কাছ থেকে প্রচারের জন্যগণমাধ্যমগুলিকে কিনে নেওয়ার জন্যপাব্লিকের মাথা খাওয়ার জন্য বিশাল অঙ্কের টাকা পকেটস্থ করেছিলেন। সেই টাকা ফেরত দিতে পাব্লিকের পকেটের করের টাকাকে তুলে দেওয়া হচ্ছে শিল্পপতিদের হাতে। তাহলে মোদীযে রাষ্ট্রীয় কোষাগারের স্বচ্ছ ধন লুঠ করছেনএর বেলায় কি বলা হবে?

এবার আসি তাদের কথায় যারা বালিশের তলায়আলমারিতেজাঙ্গিয়ায় বা ব্রেসিয়ারের ভাঁজে টাকা রেখে দ্যায় তাঁদের কথায়। দেশের মধ্যবিত্তনিম্নমধ্যবিত্ত এবং অবশ্যই দরিদ্র জনতার অধিকাংশ মানুষ সংগঠিত কোনো অর্থনৈতিক ধারার মধ্যে নিজের জীবিকানিবার্হের সুযোগ পান না। ফলে অসংগঠিত অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় তাদের মাথা গুঁজে দিনগুজরান করতে হয়। এই কারণে বহুলাংশের মানুষ আয়কর ব্যবস্থার মধে আসার সুযোগটুকুই পায়নি। তাদের নগদ টাকা ব্যাঙ্কের বাইরেও ঘরের আলমারিতেমানিব্যাগেপান্টের পকেটেজাঙ্গিয়ায়পেটিকোটেব্রেসিয়ারের ভাঁজে জমানো থাকে। যেমন ধরেন আমিসরকারি হিসেব অনুযায়ী আমি বেকার। অথচ আমি হোয়াইট কালার একটি চাকরি করি। সাংবাদিকতা। আমায় ব্যাঙ্কের মাধ্যমে মাস মাহিনা দেওয়া হয়। অথচ তার কোনো পে-স্লিপপি-এফগ্র্যাচুয়িটি ইত্যাদি দেওয়া হয়না। মোটামুটি ভ্রদ্রস্থ একটি অংকের টাকা কেবল আমায় প্রদান করা হয় আমার হাউস থেকে। যদি পে-স্লিপ না থাকে তাহলে আয়কর কীভাবে জমা পড়বেআমার আয়ের সূত্রই তো অসংগঠিত। তাহলে আমার আয় কালা আয়অথচ আমি সাংবাদিকতা করিআমার পেশা একটি স্বচ্ছ পেশা। এছাড়াও আমি দেশ-বিদেশে লিখে অতিরিক্ত সামান্য কিছু আয় করি। তারও তো কোনো রাষ্ট্রীয় হিসেব নির্মাণের সুযোগ রাষ্ট্রের ছত্রছায়ায় থাকা প্রতিষ্ঠানগুলিই তৈরি করে দেয়নি। এবার আমার কথা বাদ দ্যান। আমি কালচারালি মধ্যবিত্ত না হলেও আর্থিক ক্ষেত্রে মধ্য বা নিম্নমধ্যবিত্ত। যারা নিম্নবিত্তযারা দোকানে কাজ করেনবাড়িতে বাড়িতে গৃহশ্রম করেনরাজমিস্ত্রীর কাজ করেনদিনমজদুরিকৃষিমজুরি করেনতাদের আয়ের অঙ্ক আয়করমুখী না হলেও তাদের কাছে জমা থাকা অর্থের কোনো রাষ্ট্রীয় হিসাব নেই। তাহলে কি এই শ্রমজীবীকর্মজীবী মানুষের কাছে থাকা অর্থ কালা ধন?

আসলে বিদেশে যারা কালা টাকা পাচার করেছে তাদের প্রধান পৃষ্ঠপোষক মোদী একদিকে তাদের ওপর থেকে এবং নিজের দিক থেকে ফোকাস ঘোরাতে মানুষের পেটে লাথ মারার চতুর কৌশল অবলম্বন করেছেন এই নোট নিষিদ্ধ করে। দ্বিতীয়তসাধারণ মানূষের পকেটে আর্থিক ফ্লোকে রুখতে এবং বিগ পাওয়ার হাউজগুলির কালা ধনকে অক্ষত রাখতে চাওয়া হচ্ছে। যাতে আর্থিক বৈষম্য আরো বাড়ে। এবং আর্থিক বৈষম্য প্লাস দেশ ভক্তির আফিমে গণহিস্টিরিয়া তৈরি করে ফ্যাসিবাদ কায়েম করা হচ্ছে।

এবার আসি টেরর ফিন্যান্স প্রসঙ্গে। প্রকৃত অর্থে বৈদেশিক সন্ত্রাসবাদী শক্তির নেটওয়ার্ক মোদী বা ভারতীয় অর্থনীতির ওপর খুব কম অংশেই নির্ভরশীল। তাদের আর্থিক নেটওয়ার্ক বর্হিবিশ্বের সঙ্গে সংযুক্ত। যেমন ধরেন আইসিস। মিস্টার বাগদাদীর কি খেয়েদেয়ে কাম নাই যে ইউপিবিহারবঙ্গতামিল প্রদেশের অলিগঅলি থেকে তারা অর্থ সংগ্রহ করবে?? তাদের নিজস্ব পরিকাঠামো আছে। আছে বলেই তাদের রক্তচক্ষুতে মোদী থেকে ট্রাম্প অবধি বিচলিত। যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে যে তারা হিলারী ক্লিনটনকে অর্থ সাহায্য করছেতারা কি আর্থিক ভাবে এতটাই দৈন ভারতের গান্ধিবাবা নোট তারা সংগ্রহ করছে ভারতের অলিগলি থেকেআসলে এটা খুবই দূর্বল জাতীয়তাবাদী ঢপ। বরং এদেশের অসংখ্য ছোট-মাঝারি রাজনৈতিক শক্তি আছেযারা জনগনের টাকায় চলেজনগনের মধ্যে থেকেই কাজ করেতাদের আর্থিক পরিকাঠামোকে ভেঙে দেওয়ার জন্যে টেরর ফিন্যান্সের তত্ত্বকে বাজারে ছাড়া হচ্ছে। এ আসলে অর্থনৈতিক ফ্যাসিবাদ থেকে রাজনৈতিক ফ্যাসিবাদে উত্তরণের এক প্রয়োজনীয় ধাপ।


সুতরাং সজাগ থাকুন। বোকা হয়ে যাবেন না। আপনার প্রতিটি মৌলিক অধিকারস্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করতে শুরু করেছে ফ্যাসিস্টরা। সংগঠিত হন।



কলিকাতার প্রমিতসার্কেল হইতে আমি অতনু কইতাছি

সুশীলপর্ব, ১
মাঝে মধ্যে আমিও সুশীল হইতে চাই! আর তাই কিছু হিসেব পাশ কাটাইয়া যাওনের লগে আরাম পাই, ভাবিতে থাকি এই বুঝি ছুছিল হইলাম গো... চ লিখি না ছ লিখি... চ'-এ চো*:P ছ-এ ছমাছম ছম্মা ছমাছম ছম্মা, চু অথবা ছু, চিল অথবা ছিল, চু-চিল, ছু-ছিল! দীর্ঘ কোনো ই-কারের প্রয়োজন নাই, চুচিল বা ছুছিলেই হইবেক ম্যান।তারপর চুচিলের পত্রপত্রিকা ছুছিলের 'আজ রাতে তমুক চ্যানলে মাড়াইবো লাইভ' ইত্যাদি, তারপর অমুক আকাদেমির তমুক তামাক... বাবুরাম সাপুড়ে চুচিল তুই কোথা যাস বাপুরে, আয় বাওয়া দেখে যা, দুইখান তাস রেখে যা... ট্রাম্পকেও চোখে ধাঁধা লাগায়ে চুচিলগণ ওভার ট্রামের কার্ড খেলেন গো... তো আমিও মাঝে মধ্যে সুশীল হইতে চাহি...

পূর্ণসাধু প্রমিতের সুশীল হইতে চাই... কিন্তু আমার তো ব্যকরণবিধি ঠিক নাই, না-প্রমিত না-আঞ্চলিক, না-ঘটি না-বাঙাল, না-মোহনা না-পার্বত্য, না-জংলা না-মালভূম – কিছুই ঠিক নাই... গুরুচণ্ডালীর বাপেরে মা ইত্যাদি কেস হয়... তারপর ম্যানুফ্যাকচারড কনসেন্ট চুদায়ে মানে নিউজটিউজ লিখে কখনো রামপ্রসাদ কখনো দুদ্দু শাহ গাহিতে গাহিতে বাসের জানালার ধারে সুশীল নগর দেখতে দেইখতে বাস থিকান নামি, তারপর টোটো ধরি, বাসায় ফিরি... মুখে চাট্টকিছু দিয়া ফেইসবুকে বসি, দেখি  সুশীল মামা দ্যায় হামা... এরপর সুশীল নয় বরং খ্যাপাচোদা, এমন পদকর্তা, পদাবলীকার, কথকঠাকুর, ফিলোজফার, কবি – এমন সকল পাখীমানুষদের মাথাখারাপ লেখা নিয়ে বসে থাকি, মাঝে মধ্যে প্রেমিকা বা প্রেয়সী-সুন্দরীদের লগে কথা হয়, প্রেমিকাও মাঝে মধ্যে কোথায় যে যায়েন, তা ভাইবা ডুব ডুব সাগরে আমার মন, প্রেমেরমানুষ কোথায় হারায় নাকি রয়েই যায়... বাসাতেও আমারে পুঁছে না কেউ...

তাই বাস থিকা নেমে একখান টিকিট কেটে লই এক্সপ্রেসের জেনারেল কামরায়, মুখ কালো ক'রে রবিন্দরের আশ্রমে যাই... রবিন্দর কইতাছি, কেননা সেদিন দেখি হিন্দিভাষীদের আর হিন্দুত্বের ধ্বজা উড়িতেছে আশ্রম থিকা অনতি দূরে...তারও আগে দিদির তোরণ, দিদির তোরণের পর ত্রিকোণ লাল পতাকা, যাহার বর্ডার সোনালী জরিতে, মাঝে হনুমান জ্বিউ…


আমি আশ্রম মাড়াইতে নিকেতন যাই না, কোপাইয়ের দিকে যাই, রতনপল্লীতে এক মায়াবন্ধুনী তাঁর বাসায় ঠাঁই দেন, যত্ন করেন, গান শুনান,  জ্বরের জলপটি দেন, প্রেমিকার গল্প শোনেন, তাঁর প্রেমিকের তরে তিনি কাঁদেন, ব্যস... তারপর বাসুদেবদার বাসায় যা,  কখনো, কখনো বা সুপ্রভার সাথে  ভুলে এক-আধবার ছাতিমতলায়, কখনো বা বন্ধুনীর সাথেই প্রান্তিকের ছায়সুনিবিড় স্টেশনের পাশে জলাধারে, কখনো বা খোয়াইয়ে... এই আমার মন খারাপের ঠাঁই, যদিও এছাড়াও হিল্লিদিল্লি করি কিন্তু সেসব মন ভালো থাকিলে...

:/ আচ্ছা আমি এতক্ষণ কী লিখছি আর ক্যান লিখতাছি, কিছুই জানি না... আমি কিছু পাশ কাটিয়ে যাই কী না ভাবি... না আমি আমার বিড়বিড় লিখতাছি, আমার আর সুশীল হওয়া হইলো না... ওই যে দ্যাখেন সুশীল হইতে গেলে দিনক্ষণ ধইরা পোতিবাদ করতে হয়, যেন বা খনার বচন, কোন কোন বারে কী কী করণীয়, যেন-বা পোতিবাদের পুরুত কয়েছেন ওগো আজ অমুক দিবস আজ একখান পতিবাদি ছাহিত্য, ছিনিমা, চুদুরবুদুর কিছু হই যাক্‌... :O

যেমন ভাষা দিবসের দিন শনিমন্দিরে মোমবাতি ধূপ আর মসজিদে আতর লইয়া যাওনের মতন ভাষাবিপ্লবী হইতে হয়, কালো ব্যাজ পরতে হয়, চোখ ছলছল করে ফুস করে হ্যাপি ইন্টারন্যাশাল মাদার ল্যাংগুয়েজ ডে লিখতে হয়, আর মোদের গরব মোদের আশা আমরি বাঙলা ভাষা গানের সঙ্গে আলুচিপস খাইতে খাইতে বৌদির পিঠের ভিতর লাল ব্রা'র স্ট্র্যাপ দেখিতে দেখিতে ওগো ওগো ১৯৫২'র ভাষা শহীদ কয়ে গলা কাঁপাইতে হয়, তারপর বাবুল সুপ্রীয়র গান চালায়ে বাথরুমে নাড়াতে যাইতে হয়... এবং তারপর কবিতা লিখার তাড়া আসে, ভাইটি তুমি স্বদেশ পত্রিকায় আর বাল্মিকী পোত্রিকায় দুইখান মাত্রবৃত্তের ঝিকিরমিকির কোবতে দাও তো... তারপর  আমিরুল ইসলামকে মুসলমান আর প্রত্যয় পত্রনবীশকে বাঙালী কইতে হয়...

– আরে  মুসলমানও তো বাঙালী...
– ও হ্যঁ ঠিক কয়েছেন, আসলে মনে থাকে না বুজচেন তো আসলে ওরা বাঙালী মুসল্মান আর আমরা তো বাঙালী,
– হ্যা হ্যা তা যা বলেচেন... 

এইসময় বাক্যের অন্তরাল হইতে চিহ্নতত্ত্বের ভিতরের পাখী হয় তো গর্জায়ে ওঠেন! 

– তোর দাদুর বাউন বাপ এসে ভাষা আন্দোলন চুদায়েছে না কিরে পোঁদভাতারের পোলা? বাঙ্গলা ভাষার ইতিহাসরে তোর বর্ণবাদীগুষ্টি আগল দিয়া রাখছেন নাকি রে কুত্তার ছা?
 ইত্যাদি.. L

– কিন্তু সুশীল বলে কতা, তাও আবার কোলকাতার ক্যালকেশিয়ান, বাওয়া একটা কতা মানতে অবে, এই আনন্দবাজার... বড় স্প্যানে বোলতে হবে বেঙ্গলে কোলকাতাই রেঁনেসা... বঙ্কিম থেকেই দ্যাকো, কলকাতা কেন্দিক, ছত্যজিত কোলকাতা... হ্যা হ্যা হ্যা হ্যা হ্যা হ্যা হ্যা হ্যা... পোতিস্টান বা পোতিস্টান বিরোধি সব কলকাতা...

বাক্যের ভিতর থেকে পাখীর আর্গুমেন্ট:

ওয়ালিউল্লাহকে তোরা পয়দা করছো নাকি চুতিয়া? আখতারুজ্জামান? আল মাহমুদ? ছফা?  জীবনানন্দ? কিংবা বড় স্প্যানে পদাবলী, মঙ্গলকাব্য সকল??  এমনকি বিনয় বা ঋত্বিক কতটুকুন কইলকাত্তার? মানিক? বিভূতিভূষন কতটুকু কলিকাতার? দৌলত কাজী? লালন? রামপ্রসাদ?

তো এই প্রমিতনগর আবার রাজনীতিসচেতনও বটে! তাই প্রমিতনগরের গ্রেইট কিলিং পিরিয়ডে বর্ণবাদী হিন্দু আর কউমবাদী মুসলমানের দাঙ্গার ফলঃশ্রুতিতে বাংলা ভাগ হয়। এবং ভাগের আগে থেকেই ক্ষমতার কেন্দ্রে বর্ণহিন্দুত্বকে কায়েম রাখার অমোঘ চেষ্টা সুচারু হইয়া ওঠে! তাই দেখাই যায় যে বাংলাভাগের পর বাংলার প্রথম প্রধানমন্ত্রী এ কে ফজলুল হকের পর পশ্চিমবাংলার মুখ্যমন্ত্রীপদে কোনো মুসলমান, দলিত, নিম্নবর্ণ, পিছড়েবর্গের কথা কেউ ভাবার সাহসটুকুও পায় নাই! এই কলকাতাই ত্বরাইয়ের নকশালবাড়ির আন্দোলনুরেও পিছনে ছোরা বসায়... প্রেসিডেন্সির এলিট ছাত্রনেতা, আমাগো কাকু, কাকামণি... জঙ্গলে ঐক্যের লাল নিশান দুলে উঠলে প্রেসিডেন্সি-যাদপুরের চুচিল ছানাপোনাদের ফ্র্যাকশন ঐক্যের মধ্যে বিভাজনরে তীব্রতর করে... প্রমিত নগর রাজনীতি সচেতন তাই দলে দলে আলিমুদ্দিন আর কালীঘাটের মধ্যে সমন্বয়-বিন্যাসে, থাক... ব্রিগেডের মাঠে জ্যোতিবাবু বাজপেয়ীর হাতেহাতে কমরেড... রাজনীতি সচেতন তাই বাংলা শব্দের ভিতর আইটি চেতনা চোঁ কইরা ঢুইকা যায়... আর চান্স পেলেই ক্যালকাটার ক্যালকেশিয়ানরা ইন্ডিয়ান প্রমাণে বাংলার বাপান্ত করেন...

আর তাই হিন্দুত্বের মনুবাদী পুরুষবাদরে আক্রমণের লগে ত্রিশূলে কন্ডোম চাপায়ে দ্যায় পোলিটিক্যাল পোয়েট! আহা গো আহা আহা পোতিবাদ গো! আর চুচিল সকল ভাবে হিন্দুত্বের ফ্যাসিজম মুড়ি খাবে, কইবে গণতান্ত্রিক পোতিবাদ করো হে... ফ্যাজিজম ফ্যাসিবাদ চাপাইবে, তাই থানাপুলিশ হবে, নো আশ্চর্য, কিন্তু কোবতে দিবসের দিন তিথিনক্ষত্র ফলো কইরা আমাগো ছিজাত দাদা পোতিবাদ করছিলেন মনুবাদী ধর্ষণতন্ত্রের, তার লগে এফ আই আর, রাম রাম... চলো মিছিল করি

... বাক্যের অন্তরালে পাখীর ঝাপট:

পোলাপাইন এহেন অরাজনৈতিক কবে থিকা? এইটা বোঝে না যে ধর্ষণের প্রতিবাদে ত্রিশূলে কন্ডোম পরাইয়া কন্ডোমের উপর ধর্ষণ নিরোধক লেবেল সাঁটাছেন কবিদাদা! আর তাহাতে পুরুষতন্ত্রের লজিক অটুত রইছে! পুরুষবাদরে অটুট রাইখা কী পদ্ধিতিতে ধর্ষণের বা ফ্যাসিবাদের বিরোধিতা হবে কমরেড?

কিন্তু পোতিবাদ ওনাদের করতেই হবে, ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে, এফ আই আরের বিরুদ্ধে, কেননা বাজার এই পোতিবাদিরে দাঁড় করাইছেন। বাজারের চামচিকা সকল বানিয়া কবি-লেখক-চুচিল চামচাবাজরা, যারা আজ নকশাল কাল তিনো, আজ তিনো কাল হনুমান, হনুমান ও ঝান্ডুবামের এলায়েন্স... এবং যাহারা বর্ণবাদী প্রমিতনগরের বুদ্ধিসার্কেল, ওম শান্তি!

কিন্তু ওদিকে, ওই শান্তিনিকেতনে, বীরভূমে, বোলপুরে হনুমানের তোরণের পাশেই হকিস্টিক নিয়া কারা যেন স্টুডেন্টদের গণতান্ত্রিক বাক্যলাপে হা রে রে হইছেন, ছাত্রছাত্রীরা হাসপাতালে... সুশীলদের চোখে পড়ে নাই, কেননা ছাত্রদের হাতে হকের লাল পতাকা ছিল, লাল দেখলে ডরান সুশীল যতেক ষাঁড়!

এবং আমিও নাকি সুশীল হইতে চাই, আর তাই –

আমি তখন রতনপল্লীতে, পূব দেশে থেকে আগত বন্ধুর সাথে তখন ছায়াসুনিবিড় সময় যাপন করিতেছি... আমার আত্মজরা রক্তাক্ত হচ্ছেন, আর আমি মুড়ি খাইতাছি, কারণ আমি কইকাত্তার পাশের জেলার পোলা, যারা মার খাচ্ছেন তারাও, আমাদের লগে অনেক ফ্র্যাকশন ভায়া... আর আমিও তো চুচিল হইতে চাই!



যেভাবে চুচিলরা নির্দিষ্ট ব্যক্তিবিশেষে প্রতিবাদ করেন...  J

অতনু সিংহ
Atanu Singha

Comments

Like us on Facebook
Follow us on Twitter
Recommend us on Google Plus
Subscribe me on RSS