Atanu Singha


প্রাকৃত আ-গলে লেখা কবিতারা: পর্ব ১ (উৎসর্গঃ নাদিয়া ইসলাম)

মা তারা আসলে পাখীর নাম

এবং ডেসিবেলে
কেঁপেছে চারটে দেওয়াল
ঘুলঘুলি থেকে মারহাবা
আকাশও কী দারুণ খসে গেছে,
বাতানুকূল তছনছ করে
এসেছেন তারাভোররাতে,
লাল আকাশের পাশে মুখ রেখে...
জিভ তার রক্তিম,
পায়ের নীচেতে বাঁধা সুরক্ষা-খনির নুপুর,
চুলের অরণ্যে আজও
চাঁদের অন্ধকারমৃদুমন্দে পাখির আরাম,
তিনি তারাআমি তার কোহলসন্ধান
#
আমি তার ত্রিকাল স্বপ্ন থেকে
বুনে ফেলছি রাততন্ত্রবিদ্যেরও আগে
সহজ-ফসলের কথা লিখছি স্নানের ঘোরে
তারা পাখীপাখীমা তারাটির ডানা থেকে
শিখছি ভূতল-বিদ্যে আর
চরাচরে ট্রানজিস্টার
সুদূর ব-দ্বীপ থেকে অগ্ন্যুতপাতের সংবাদ...
তারা মা মুণ্ডমালা খুলে রেখে
আমাকে শোনাচ্ছেননৌকা ভ্রমণের শেষে
মালভূমে মেয়েরা রোজ বাজায় পিয়ানো
গাছের কোটরে কেমনে রান্নাবাটিআর কীভাবে
বালিতে সূর্য এঁকে সময়ের ওঠানামা,
বোনা হয় শীতের পোশাক,
কেমনে বাঁধতে হয় ত্রিনয়নী-বেরা
কীভাবে হামাগুড়িকীভাবে হেঁই-হো
ঝাঁপিয়ে পড়ার আগে আয়না আয়না
কাজল-স্বপ্নে লাগে হকের আজান
#
আমার পাঁজর জুড়ে সারারাত
পলাশিয়া মেয়ে ও তাহার সে
পরমাপরমসেই লাল,
আমি তার ডানায় কন্ঠ পেতেছিআর
গাইছি, 'সময় তো থাকবে না গো মা
কেবলমাত্র কথা রবে...'
কথায় কথা কেঁপে যাচ্ছে,
চৈতন্য চক্কর দিচ্ছে গ্যালাক্সির তারানায়
#
আর ভোরবেলায় তারা মাতারাপাখী
আমার সঙ্গে ছাদে যাচ্ছেন চরাচর দেখবেন বলে


দেয়ালা

তারপর বর্ষাতি ফেলে আসার কথা মনে পড়বে আমাদের
আর সাদা বিকেলের মাঝখান দিয়ে
চ্যাপ্টা নাকের ছেলে তোমায় দেখে
শিষ দিতে দিতে সাইকেল গড়িয়ে দেবে,
ঢাল বেয়ে পতঙ্গের রঙেরঙের ভেতরে
বর্ষার স্প্রেবোতলের ওপর তোমার
সবুজ নখমৌসম-জ্যাজ...
দূর প্যাগোডার ভেতর থেকে ভেসে আসবে স্তব,
বাবলের ওড়াউড়ি ঘেঁষে কয়েকটি
থতমত ফ্রেমমনোমুগ্ধ অ্যাপার্চার,
এমন ছবিতে কিশোরী মানায় ভালোআর তোমার
চুলের ভিতর দিয়ে ফোকটেল ড্রিংড্রং...
সিগারেটেগাঁজায় আমাদের গাপাহাড়ের
পাড়া-গাঁ চুরমারগানের আরাম চারিদিকে...
প্রাকৃত খননে সেদিন ভোর এসে যাবে...
তারপর জঙ্গল সাফারি আর পাহাড়ি কেশর
গীটার বাজছে দ্যাখোগাছ থেকে ঝুলে আছে কর্ড
#
এইসব ভাবি আর ঘড়ি দেখিআর রাস্তাঘাট দেখি
আর ট্রাফিকের আলো দেখিফাঁকা পার্ক দেখিরাতের শহর দেখি
শেষ মেট্রো দেখিএকা একা ঘরে ফিরে আসা দেখি
নার্সিসাস বাথরুমে ঘনঘোর দেখি আর গাঁট গুণি
কবে ভিসা পাবে তুমি আর কবে কবিতাগুলো জ্যান্ত হবে
ভাবতে ভাবতে রাত থেকে ভোর হয়ে যায়জন্ম পেরিয়ে যায়
জন্মান্তর পেরিয়ে পেরিয়ে আবার পাহাড় আবার জঙ্গল আবার হালুম
কবে আসছো জানিও। জানিও। তারপর...


চোদ্দটি ছিদ্রের মিথিক্যাল রাত

তেরো কিংবা চোদ্দ
সংখ্যা দুলে ওঠে তাহার ছিদ্র জুড়ে
#
রাতের আগায় টলমল করে ওঠে
তাহার ছিদ্রগুলিতাহার প্রকৃতি-বোতাম,
বোতাম কিংবা নোলক কিংবা তালাচাবি
ছিদ্রের মুখে আটকে রাখে সেকেননা
চাবি খুলে ফেলার আগে
তাহার চাই আস্ত কবিতা
তাহার শরীরে সাজানো ছিদ্রের ভেতরে
জাগতিক যত পথ,
#
কবিতার
ফুঁ এসেকবিতার শরীর এসেকবিতার
রস এসে খুলে দেয়
সিংহ-দরজাছিদ্রগুলি
জগতের মহা যা কিছুযা কিছু
রসের নিমিত্তসবপেয়ে যায়
এবং তাহার শরীরের তেরো কিংবা চোদ্দ সংখ্যার
ছিদ্রগুলি খুলে যায় একে একে
#
হাওয়া ঢোকেকিলবিল তারাগুলি খসে পড়ে
ছিদ্রে তাহারনক্ষত্রের জ্বর আসে ছিদ্রের আদিম আদিমে
এবং প্লাবনের ইশারাতাহিতির ক্যাম্ফায়ার
দাবানলে ছুটে যাওয়া নীল ঘোড়া
আফিম খেতের পাশে রাখালের বাঁশি...
#
দৃশ্যের পরিপূর্ণ যা কিছু সতেজ সব
তাহার ছিদ্রের কাছেতেরোটি তালা খুলে
তেরোটি কবিতার ঠোঁটেনখেমাংসের
গভীর তন্ময়তায় তাহার ছিদ্রে
আরব্যগহীন রাতঅথবা
কামখ্যা পাহাড়বশীকরণের গান...
তাহার ছিদ্র দিয়ে জাহান্নাম থেকে
দ্রুতগামী ট্রেন ছুটে গেছে বেহেস্তর দিকে
প্রথম আগুন কুড়িয়ে নিতে
#
আর
সে আগুন কুড়িয়ে কুড়িয়ে আমি লিখে ফেলছি
চোদ্দতম অন্তিম ছিদ্রের কথাএকদিন
ওখানেই জন্মান্তরএকদিন
ওখানেই শরীর পেয়ে গেছে নিরাকার
ব্রহ্মওখানেই একদিন শরীর
খুঁজে পাবো আমি আর হল্লাজের কানে কানে
বলে দেবোআমিও সত্য
কেননা তাহার ছিদ্র সত্য
কেননা তাহার ছিদ্র নম্বর চোদ্দের কাছে
আমার মরমীয়াআমার মারফতি ভোর
আমার আয়নানগর আমার ছিদ্রপুরাণ
তাহার বোতামের ভিতর আয়োজন
প্রকৃতি পরম
ছিদ্রের মহামায়ামহা-মায়া রাত
(১৯ এপ্রিল২০১৬ভোর ৩টে ৩৫ মিনিট।)

বঙ্গবালা

আজ এই চিঠি সমাপন
আজ ঝিরি ব্যালকনি,
অরণ্যমুখে তুমি দুলে দুলে
চাদর বুনেছো
লক্ষ্মীর বাচ্চারা শুতে পাবে বলে,
আর অন্নভোগের শেষে
আমাদের বাচ্চারা যাতে
চাঁদ নিয়ে খেলাধুলা পারে!
আমরা তো এতদিন ঘেমেনেয়ে
শুনেছি অনেক
গোলাকার রুটি আর চাঁদের গোল্লা,
তুমি শুধু চাদর বুনেছো,
পাঠিয়েছো উনুনমঙ্গল,
ওই তো আতপের সুখে
দ্যাখো মানুষের হাঁড়ি ভরে গেছে
অন্নপূর্ণা জেগেছেন পদ্মায়,
বুড়িগঙ্গা নদীর কিনারে...
আমার স্বপ্নগুলি
আমার সকল উচ্চারণ

তোমারে লক্ষ্য ক'রে...




কালো টাকার পাওয়ার হাউজকে আড়াল করতে এবং মানুষের অর্থনৈতিক স্বাধীনতা খর্ব করতেই ৫০০ ও হাজার টাকার নোট নিষিদ্ধ করেছে মোদীয় ভারত রাষ্ট্রযা একটি ফ্যাসিবাদী পদক্ষেপ


মোদীভাই যা করেনসেই ক্রিয়ায় দেশভক্তির দৈবভাবের গঙ্গাজল ছিটিয়ে দ্যান। আর জয় জগন্নাথ হ্যাঁ হ্যাঁ করা পাব্লিক গঙ্গা ফড়িং-এর মত মোদীয় কর্মসূচীর পিছন পিছন উড়তে থাকে। গণমানসে দেশভক্তি বা রাষ্ট্রীয় ইমোশনের আফিম মোদীর এক সাংস্কৃতিক অস্ত্র। এবং এই অস্ত্রকেই ভারতীয় অর্থনীতিতে ফ্যাসিবাদ কায়েম করার ক্ষেত্রে প্রয়োগ করেছে মোদী।
এই অস্ত্র কী রকম?

১। কালো টাকার লেনদেন থামিয়ে দেশের অর্থনীতিকে শুদ্ধ ধারায় নিয়ে যাওয়া এবং দেশের আর্থিক শ্রী বৃদ্ধি ফিরিয়ে আনা

২। টেরর ফিন্যান্স বা সন্ত্রাস লগ্নিতে আক্রমণ শানিয়ে সন্ত্রাসবাদীদের আর্থিক মেরুদণ্ডে আঘাত।

লক্ষ্যনীয়এই দুটি ক্ষেত্রেই 'দেশভক্তিবা রাষ্ট্রবাদের লজিকেই আবর্তিত হয়েছে মোদী ও তার সাঙ্গপাঙ্গরা। আর তাতেই একাংশের আফিম খেকো অন্ধজন 'জ্বি হুজুররবে মোদীয় ফতোয়াকে স্বাগত জানাচ্ছে। ৫০০ ও হাজার টাকার নোট মাত্র ২-৩ ঘন্টার মধ্যে নিষিদ্ধ করার সরকারি তথা রাষ্ট্রীয় ফতোয়াকে স্বাগত জানানো হচ্ছে।

ফ্যাসিবাদ কায়েম হয় এভাবেই। ফ্যাসিবাদের সাংস্কৃতিক অস্ত্র এক ও একমাত্র রাষ্ট্রবাদ। রাষ্ট্রবাদের মধ্যেই শ্রেণী ও বর্ণের বিষয়গুলি অন্তর্ভুক্ত থাকে। হিটলারমুসোলিনি-সহ দুনিয়ার সমস্ত ফ্যাসিস্টদের এই একটিই ছক। আর সেই ছকেই মোদী প্রথমে সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে তারপর অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে ফ্যাসিবাদ কায়েম করতে চাইছেন। এরপর তাঁর লক্ষ্য হবে রাজনৈতিক ক্ষেত্রে ফ্যাসিবাদকে স্থাপিত করে ফ্যাসিবাদের ভারতীয় বৃত্তকে সম্পূর্ণ করা। যা ইতিমধ্যেই পররাষ্ট্রীয় ক্ষেত্রে বা প্রতিবেশি দেশগুলির উপর আগ্রাসনের নীরিখে শুরু করে দিয়েছেন। সে ভিন্ন প্রসঙ্গ।

এবার এই নোট নিষিদ্ধ করার সঙ্গে ফ্যাসিবাদের সম্পর্কটা একটু খোলসা করে বলা যাক।

প্রথম কারণ বলা হচ্ছে কালো টাকার গতি ও সম্প্রসারণকে রুখে দেওয়া এই সিদ্ধান্ত গ্রহণের অন্যতম কারণ। ভালো কথা। আচ্ছা খুব সাধারণ একটা প্রশ্নকালো টাকা কি কেউ গদির তলায়জাঙ্গিয়ার পকেটে বা ব্রেসিয়ারের ভাঁজে রেখে দ্যায়??? নাকি হুন্ডিহাওলা হ্যানাত্যানায় সেই টাকা লগ্নিকৃত হয়ে যায় ঘরবাড়িগাড়ি থেকে শুরু করে মাঠঘাটখনিদ্বীপ ইত্যাদি খরিদ করে বেনামে তা রেখে দেওয়া হয়! ক্ষমতায় আসার আগে মোদী বিদেশ থেকে কালো টাকা ফেরত আনার কথা বলেছিলেন।বিদেশে কালো টাকা যারা রাখে তারা হয় সুইস ব্যাঙ্কে রাখে অথবা এভাবে বেনামে সম্পত্তির মধ্যে কালো টাকার রূপান্তর ঘটায় আর দেশে টাকা রাখলেও তা টাকা বা মুদ্রা আকারে থাকে না থাকে অন্য কোনো রুপান্তরিত ফর্মে। এদিকেআরেক দল আছে যারা অনবরত ভারতীয় ব্যাঙ্কগুলির থেকে টাকা ধার নেয়পরে সরকার তাদের কাছ থেকে প্রাপ্য পাওনা সুদ-আসল-সহ বিশাল বিশাল অঙ্কের টাকাকে ছাড় দিয়ে দ্যায়। আম্বানিআদানি-সহ বহু বহু শিল্পপতিদের ক্ষেত্রে মোদী যা ইতিমধ্যেই করেছে।আচ্ছা 'কালো টাকাটাকা তো বলা হয় সেই টাকাকেযে টাকার কোনো হিসেব রাষ্ট্রের কাছে থাকে না এবং যে টাকার কর রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা পরে না। তাহলে সাধারণ মানুষের জমা দেওয়া কঅরের টাকাকে যেভাবে শিল্পপতিদের হাতেবিত্তবানের হাতে হাতে মোদীভাই তুলে দিচ্ছেনতাকে কি বলা যায়স্বচ্ছ ধননাকি তা বিত্তবানের কাছে শাসকের ঋনের পরিশোধের অঙ্ককেননামোদী ক্ষমতায় আসার সময় এই সব বিগ ইকোনমিক্যালপাওয়ার হাউসগুলির কাছ থেকে প্রচারের জন্যগণমাধ্যমগুলিকে কিনে নেওয়ার জন্যপাব্লিকের মাথা খাওয়ার জন্য বিশাল অঙ্কের টাকা পকেটস্থ করেছিলেন। সেই টাকা ফেরত দিতে পাব্লিকের পকেটের করের টাকাকে তুলে দেওয়া হচ্ছে শিল্পপতিদের হাতে। তাহলে মোদীযে রাষ্ট্রীয় কোষাগারের স্বচ্ছ ধন লুঠ করছেনএর বেলায় কি বলা হবে?

এবার আসি তাদের কথায় যারা বালিশের তলায়আলমারিতেজাঙ্গিয়ায় বা ব্রেসিয়ারের ভাঁজে টাকা রেখে দ্যায় তাঁদের কথায়। দেশের মধ্যবিত্তনিম্নমধ্যবিত্ত এবং অবশ্যই দরিদ্র জনতার অধিকাংশ মানুষ সংগঠিত কোনো অর্থনৈতিক ধারার মধ্যে নিজের জীবিকানিবার্হের সুযোগ পান না। ফলে অসংগঠিত অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় তাদের মাথা গুঁজে দিনগুজরান করতে হয়। এই কারণে বহুলাংশের মানুষ আয়কর ব্যবস্থার মধে আসার সুযোগটুকুই পায়নি। তাদের নগদ টাকা ব্যাঙ্কের বাইরেও ঘরের আলমারিতেমানিব্যাগেপান্টের পকেটেজাঙ্গিয়ায়পেটিকোটেব্রেসিয়ারের ভাঁজে জমানো থাকে। যেমন ধরেন আমিসরকারি হিসেব অনুযায়ী আমি বেকার। অথচ আমি হোয়াইট কালার একটি চাকরি করি। সাংবাদিকতা। আমায় ব্যাঙ্কের মাধ্যমে মাস মাহিনা দেওয়া হয়। অথচ তার কোনো পে-স্লিপপি-এফগ্র্যাচুয়িটি ইত্যাদি দেওয়া হয়না। মোটামুটি ভ্রদ্রস্থ একটি অংকের টাকা কেবল আমায় প্রদান করা হয় আমার হাউস থেকে। যদি পে-স্লিপ না থাকে তাহলে আয়কর কীভাবে জমা পড়বেআমার আয়ের সূত্রই তো অসংগঠিত। তাহলে আমার আয় কালা আয়অথচ আমি সাংবাদিকতা করিআমার পেশা একটি স্বচ্ছ পেশা। এছাড়াও আমি দেশ-বিদেশে লিখে অতিরিক্ত সামান্য কিছু আয় করি। তারও তো কোনো রাষ্ট্রীয় হিসেব নির্মাণের সুযোগ রাষ্ট্রের ছত্রছায়ায় থাকা প্রতিষ্ঠানগুলিই তৈরি করে দেয়নি। এবার আমার কথা বাদ দ্যান। আমি কালচারালি মধ্যবিত্ত না হলেও আর্থিক ক্ষেত্রে মধ্য বা নিম্নমধ্যবিত্ত। যারা নিম্নবিত্তযারা দোকানে কাজ করেনবাড়িতে বাড়িতে গৃহশ্রম করেনরাজমিস্ত্রীর কাজ করেনদিনমজদুরিকৃষিমজুরি করেনতাদের আয়ের অঙ্ক আয়করমুখী না হলেও তাদের কাছে জমা থাকা অর্থের কোনো রাষ্ট্রীয় হিসাব নেই। তাহলে কি এই শ্রমজীবীকর্মজীবী মানুষের কাছে থাকা অর্থ কালা ধন?

আসলে বিদেশে যারা কালা টাকা পাচার করেছে তাদের প্রধান পৃষ্ঠপোষক মোদী একদিকে তাদের ওপর থেকে এবং নিজের দিক থেকে ফোকাস ঘোরাতে মানুষের পেটে লাথ মারার চতুর কৌশল অবলম্বন করেছেন এই নোট নিষিদ্ধ করে। দ্বিতীয়তসাধারণ মানূষের পকেটে আর্থিক ফ্লোকে রুখতে এবং বিগ পাওয়ার হাউজগুলির কালা ধনকে অক্ষত রাখতে চাওয়া হচ্ছে। যাতে আর্থিক বৈষম্য আরো বাড়ে। এবং আর্থিক বৈষম্য প্লাস দেশ ভক্তির আফিমে গণহিস্টিরিয়া তৈরি করে ফ্যাসিবাদ কায়েম করা হচ্ছে।

এবার আসি টেরর ফিন্যান্স প্রসঙ্গে। প্রকৃত অর্থে বৈদেশিক সন্ত্রাসবাদী শক্তির নেটওয়ার্ক মোদী বা ভারতীয় অর্থনীতির ওপর খুব কম অংশেই নির্ভরশীল। তাদের আর্থিক নেটওয়ার্ক বর্হিবিশ্বের সঙ্গে সংযুক্ত। যেমন ধরেন আইসিস। মিস্টার বাগদাদীর কি খেয়েদেয়ে কাম নাই যে ইউপিবিহারবঙ্গতামিল প্রদেশের অলিগঅলি থেকে তারা অর্থ সংগ্রহ করবে?? তাদের নিজস্ব পরিকাঠামো আছে। আছে বলেই তাদের রক্তচক্ষুতে মোদী থেকে ট্রাম্প অবধি বিচলিত। যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে যে তারা হিলারী ক্লিনটনকে অর্থ সাহায্য করছেতারা কি আর্থিক ভাবে এতটাই দৈন ভারতের গান্ধিবাবা নোট তারা সংগ্রহ করছে ভারতের অলিগলি থেকেআসলে এটা খুবই দূর্বল জাতীয়তাবাদী ঢপ। বরং এদেশের অসংখ্য ছোট-মাঝারি রাজনৈতিক শক্তি আছেযারা জনগনের টাকায় চলেজনগনের মধ্যে থেকেই কাজ করেতাদের আর্থিক পরিকাঠামোকে ভেঙে দেওয়ার জন্যে টেরর ফিন্যান্সের তত্ত্বকে বাজারে ছাড়া হচ্ছে। এ আসলে অর্থনৈতিক ফ্যাসিবাদ থেকে রাজনৈতিক ফ্যাসিবাদে উত্তরণের এক প্রয়োজনীয় ধাপ।


সুতরাং সজাগ থাকুন। বোকা হয়ে যাবেন না। আপনার প্রতিটি মৌলিক অধিকারস্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করতে শুরু করেছে ফ্যাসিস্টরা। সংগঠিত হন।


অতনু সিংহAtanu Singha