Skip to main content



Hiya Mukherjee

জর্জ রোমেরো'র জন্য লেখা একটি বিষাদঘন কবিতা


এক মিছিল পুরোনো প্রেমিকের পিছনে হেঁটে হেঁটে যাচ্ছেন ইলিনা মিত্র
পুরোনো প্রেমিকদের কারো মুখে কোন শব্দ নেই
ইলিনা মিত্র প্রশ্ন করছেন, ‘বলো তোমরা কদ্দুর যাবে?’
পুরোনো প্রেমিকরা দুর্বোধ্য ভাষায় বিড়বিড় করছে শুধু
আর থপথপিয়ে হেঁটে যাচ্ছে যেন বা সমুদ্র অবধিই যাবে
ইলিনা মিত্র হাল ছাড়ছেন না
শুধুই দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হচ্ছে রাস্তা
হাঁটতে হাঁটতে ওরা বেদিয়াপাড়া পেরিয়ে গেল
ছোট কালীবাড়ীর মুখে আজ হাটবার
দোকানপাট ফেলে লোকজন
চই চই করতে করতে যে যার দাওয়ায় গিয়ে উঠল
দূর থেকে মজা দেখবে বলে
দত্তগিন্নী সুযোগ বুঝে পরিমাণমত কানাকানি করে নিলেন
ইলিনা মিত্রের তাতে ভ্রুক্ষেপ নেই
তিনি শুধু প্রশ্ন করে চলেন
‘বল, পুরোনো প্রত্যাখ্যান কতদিন দগদগে থাকে বল?’
পুরোনো প্রেমিকরা গলা দিয়ে ঘর ঘর আওয়াজ করছে শুধু
আর দপদপে রোদে টপ টপ করে তাদের গা হাত পা খসে খসে পড়ছে বড়রাস্তার ওপর
এভাবে চলতে চলতে শেষে বেলা যখন প্রায় পড়তির দিকে
টিউশনফেরত বালিকারা সবাই অবাক হয়ে দেখলো
আর কোত্থাও কেউ নেই
শুধু
এক মিছিল পুরোনো রাঁজহাসের পিছনে একা একা হেঁটে যাচ্ছেন ইলিনা মিত্র







'মিফি মোয়েগো দেস্তভা'

দারুণ রংচং এই সকালে
সার্কাস দ্যাখানোর অছিলায়
আমি তাঁবু ফেলেছি তোমাদের গ্রামে
অথচ তুমি ভাবছো ১৯৯০
তুমি ভাবছো সমুদ্রতীর জুড়ে ব্রতচারী নাচের কথা
আমি বাঘ দেখাচ্ছিসিংহ দেখাচ্ছি
তুমি নিষ্পাপ ভাবে হাততালি দিচ্ছো
আর একমনে ভাবছো মহাকাশ যাত্রা
আমি তোমার কানে কানে অঞ্চল প্রধানের গল্প শোনাচ্ছি
অঞ্চল প্রধানের বাক্স ভর্তি মণি মানিক্যের গল্প শোনাচ্ছি
বলছি রিং মাস্টারি তো স্রেফ লোক দ্যাখানো
আমি আসলে তো এসেছি চুরির ধান্দায়
অথচ কি আশ্চর্য
তুমি ভাবছো
আমি নৌকাডুবির কথা বলতে চাইছি
তুমি ভাবছো

আমি ভালোবাসাবাসির কথা বলতে চাইছি




'আমরা একটা সিনেমা বানাবো'

১।
চারজন নদীতে নামলে
সাধারণত তিনজন নদী থেকে
উঠে আসতে পারে
আর গোটা সময়টা জুড়ে
পারে পঞ্চম একজন
পাকদন্ডী বেয়ে
বাড়ি ফিরে যাওয়ার কথা ভাবে
সেনাছাউনির গায়ে ঘুমের চটচটে আঠা
চেটে চেটে খায়
একটা লোমশ কুকুর
এদিকে বাঘের উপদ্রবে
গ্রামের পর গ্রাম
শুনশান হয়ে এল
পাহাড়ের টঙে বসে একজন
শিস্‌ দিতে দিতে
ভীষণ যত্ন নিয়ে
রাইফেলগুলোকে
শান্ত
আরো শান্ত করে আনছে




২।
খুব ভোর ভোর
সন্দেহজনক কিছু লোককে
পেটের মধ্যে পুরে
একটা ট্রেন সটান চলে যাচ্ছে
দেওঘর বা লক্ষ্মীকান্তপুর
ঝিরঝিরে বৃষ্টির মধ্যে দুজন মানুষ
অশ্লীল গল্প করতে করতে
রাস্তা পার হোলো
দুপাশে দু দুটো ছেলে
পাহাড় না সমুদ্র-এই তর্ক করতে করতে
মাঝে বসে থাকা একটা মেয়েকে
জঙ্গলের দিকে ঠেলে দিচ্ছে ক্রমশঃ
এইভাবে
ভীষণ উজ্জ্বল
একটা অপমানের মধ্যে বসে
আমি আরো উজ্জ্বল ভাবে
মরে যাওয়ার কথা ভাবছি



ঝিমোনো ভয়ের গল্প।
হিলস্টেশনের ক্রেশ।
কামিন বস্তির বাচ্চারা
তাদের ঘুমের মধ্যে
টুপটাপ
খসে খসে পড়ছে
ম্যাগনোলিয়ার মত।
শোনা যায়
এইসব রাতে
চৌখুপি ছাদ থেকে
গন্ধে গন্ধে
খুব সহজেই
ভূত নেমে আসে।
মোমবাতির শিখা কি
দু একবার
কেঁপে উঠলো হাওয়ায়?
রিসর্টের ঘরে
মুখোমুখি দুইজন শুধু
কোনো কথা না বলে
পুরোনো অস্বস্তি থেকে
নতুন অস্বস্তির দিকে
হেঁটে গ্যালো।




টাউন হল জুড়ে
ছড়িয়ে যাচ্ছে
আশ্চর্য
গা ছমছমে ভাব।
এক খামার থেকে
আর এক খামারে
ছড়িয়ে যাচ্ছে
ভেড়াদের
অজানা অসুখ।
এই দমবন্ধের মধ্যে
আমায় ফেলে
একা একা
কোন সামিটে
তুমি চলে যাচ্ছো
সাইমন!
হঠাৎই
দাউ দাউ
জ্বলে উঠছে
একটা পপলার
আর
তিরিশ বছরের
খিদে চেপে
অঞ্চল প্রধানের স্ত্রী
সবার অলক্ষ্যে
আরো আরো
সুন্দরী হয়ে উঠছেন।

৫।
জংগলের মধ্যে কাঠের কেবিন।
তিনজন মানুষ
খুব নিপুণভাবে
তাদের ছায়া পাল্টাপাল্টি
করে নিচ্ছে।
তিনজন মানুষ
খুব নিঁখুতভাবে
তাদের ডানা পাল্টাপাল্টি
করে নিচ্ছে।
এসবের অনেকটা দূরে
ঘুমের মধ্যে
মেরিঅ্যান
একটা হাইওয়ে দেখতে পাচ্ছে
দেখতে পাচ্ছে হাইওয়ে জুড়ে
উঁচু হয়ে থাকা
বিষন্ন মাছের স্তূপ।
আর আসন্ন বিস্ফোরণ
মাথায় রেখে
দরজার পাল্লায়
ওর মায়ের শীর্ণ আঙুল
নীলভাবে
ক্রমাগত
জ্বলে যাচ্ছে।




৬।
সাবানের বিজ্ঞাপন
তার হা হা চুল খুলে
নায়িকাকে
গিলে ফেললো ক্রমশঃ
আর
জলপাই বনের ভিতর
পতপত করতে থাকলো
নিঃঙ্গ
একটা পতাকা।
গ্যালোবার
আমরা গল্পে
তুমুল নিয়নে
ভালোবাসাবাসির কথা
বলেছিলাম।
অথচ
এবারের শীতে
নতুন করে
বলার মত
আর কিছুই নেই
বুঝে
একটা বিশাল উঁচু
সাদা দেওয়ালের
মুখোমুখি দাঁড়িয়ে
আমরা
প্রকৃত দুঃখবোধে

দপদপ করে উঠলাম।
হিয়া মুখার্জি
Hiya Mukherjee

Comments

Like us on Facebook
Follow us on Twitter
Recommend us on Google Plus
Subscribe me on RSS