Debarghya Goswami

শিকড়গাছা

। ০ 
পেছনে চোখ ফেরালে ঘটনাগুলো সব সেঁধিয়ে যায় গল্পের কোটরে। অথবা গল্পগুলো আসলে উপচে পড়া ঘটনা। পেছনে চোখ ফেরালে – নিজেকে দেখি দস্তাবেজ – শূন্য – ভেসে আছি রূপকথার ধূসর খসড়ায়। যে ঘটনাগুলো ফুরিয়ে গেছে, তারা মরে যাবার আগেই শিখে নিয়েছিল নিঃশ্বাস প্রকরণ। যে ঘটনাগুলো ফুরিয়ে গেছে, তাদের আর জীবাশ্ম – হওয়া - হয়ে ওঠেনি। তাদের গায়ে গজিয়ে ওঠে গল্পগাছা। হেঁটে - ফিরে বেড়াই সেই গল্পের পাড় ধরে, খুঁজে বেড়াই কিছু হাতছুট বিস্ময়, কিছু হারিয়ে যাওয়া গন্ধ। চোখ বুজে মনে করতে চাই – ‘ঠিক কেমন দেখতে ছিল তারা?’

। -১ 
দু পা জুড়ে ঘাস গজিয়েছে। তাতে পড়ে আছে পাখির ভাঙা ডিম। অনেক দিন ঘুমিয়েছিল এ ঘর। বহুদিন ঘুমিয়েছিলাম আমি। মানুষ ঘুমোলে – গাছেরা জেগে ওঠে। মানুষ ঘুমোলে – গৃহপালিত গাছের শিরা বেয়েও ছোটে বুনো রক্ত। এই আদিম উচ্ছ্বাসে – খুঁটে খুঁটে খুঁজছোটা কি? আসলে এও তো ছিল সেই অনাদি হার-জিতের গল্প। যদিও কবে ফুরিয়েছে জয়ের নিষ্ঠুর উত্তাপ – যদিও তার গর্বের পাঁচিল – ক্ষয়ে ক্ষয়ে আজ পথের সামিল। যদিও চেতন অবচেতন জুড়ে কোথাও নেই একফোঁটাও তার কোন যুদ্ধস্মৃতি – কিন্তু হারের গ্লানি? তা তো থেকে যায় মলাট বেঁধে। আজও তো তার প্রতিটা সন্ধি ও শান্তির সাথে নিত্য সহবাস।
       তাই ঘুম ভেঙ্গে যদি ঘরে ফেরো এতদিনে, তাহলে আর খুঁজো না বুদ্বুদ জীবনাচার। আর খুঁজো না পান-সুপুরি-দোয়াত-খাতা-শেষ টুথপেস্ট, শুকনো ঘসির  চিহ্ন – আর খুঁজো না।
       আজও তবে এ ঘরে পেতে পারো নিবিড় আশ্রয় – পেতে পারো বুনো অভ্যর্থনা। আজ যদি ফিরে আসতেই হয় – তবে আয় প্রাকৃতিক হয়ে – আয় দুপায়ে ঘাস জড়িয়ে।

। ০ ।
বাবুইয়ের জড়ো করা জোনাকির মত, খাদে জমা অন্ধকার তিলতিল তুলে এনে সে ভরায় নিজের কুঠুরি। ওলটানো মাটির হাঁড়িতে জল মাখিয়ে, তিন আঙ্গুলে – সে তুলে নেয় পেঁজা অন্ধকার। আর তারপর – বাঁশের মতন দুলে দুলে, নিজের দুহাতের ওম জাগিয়ে, গুন গুনে – সে কেবল সলতে পাকায়।
সে অন্ধকারের সলতে পাকায় – কারণ সে কখনও আলো জড়ো করেনি।
       সে অন্ধকারের সলতে পাকায় – কেননা সে বরাবর আলো ভালবেসেছে।

। ১ ।
ঝমঝমিয়ে শুকিয়ে যাওয়া ভ্রান্ত আঙ্গুল বেয়ে, একদিন নেমে যাবে গল্প–গাছা। ঘুম নদী ভাঙ্গা কাদা পা ডুবে যাবে চুপ সড়কে। অলৌকিক ভুলে বোনা অতল ছায়া, হাতড়ে হাতড়ে জেনে নেবে – নেই বৃক্ষ।
-- আজ বক-সংযম।




দেবার্ঘ্য গোস্বামী

Debarghya Goswami