Skip to main content



Supriya Saha

বিদিশা কোত্থাও নেই
প্রত্যেকটা ধারনাকে ভেঙে দিতে প্রমান লাগেপ্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ। কিছুদিন যাবত পর্ণ সাইট গুলো ঘাঁটতে ঘাঁটতে আমার জন্মগত ধারনা ভেঙে যাচ্ছে যেওরাল সেক্স শুধুমাত্র বহিরবিশ্বেই বহুল প্রচলিতসেখানকার ছেলেমায়েরাই তাতে স্বাভাবিক!! বেশ কিছু এমএমএস বা লিকড ভিডিও ডাউনলোড করে দিনের পর দিন লক্ষ্য করলাম কত অবলীলায় আমাদের দেশীয় মেয়েরা আঁখের খেতের ঘেরাটোপেপার্কের নির্জনে কিমবা স্কুল বাথরুমে কখনও স্কুল শাড়ী খুলে কিমবা বোরখার ঘোমটা হটিয়ে মুখে চালান করছে পুরুষঠ পুরুষাঙ্গ। এইসব ঘটনা আমার পূর্ব ধারনাকে ভেঙে দিতে সাহায্য করেছে শুধুকিন্তু ওরাল সেক্স নিয়ে আমায় কোন নির্দিষ্ট সিদ্ধান্তে পৌঁছে দিতে পারেনি। বরং এগুলো আমায় বিচলিত করেছেবার বার করে মনে পড়িয়ে দিয়েছে বিদিশাকে।
বিদিশাকে নিজের মতো করে পাওয়ার কোন বন্দবস্ত আমি করে রাখতে পারিনি কিমবা সেও করে দিতে চায়নি। তার কোন ফোন নাম্বার নেই আমার কাছে। নেই কোন স্থায়ী ঠিকানা। সে কোন ঈশ্বরও নয় যে আমি তাকে ডাকলেই ঘোমটা হটিয়ে নজরানা দেবে আমায়বরং এটা স্বীকার করতে কোন অসুবিধে নেই যে তার কোন ছবিও নেই আমার হাতে। কেন নেই কেন নেই এসব ভেবে আপনারা যারা মাতাল হচ্ছেন তাদের এই লেখা পড়ার বয়স হয়নি এখনও-এছাড়া আমার কীই বা বলার থাকতে পারে!
কোন এক শনিবারের বিকেল শেষে শহুরে ধুলো থিতিয়ে চাকার দাগ মিটে যাচ্ছে এমন অন্ধকার। আমি আছি কিমবা নেই হয়তো পৌঁছে যাব এইমাত্র কিমবা যাবনা জানি না। শীত পড়ছে। যেসব শীতে কোলকাতার মানুষ গায়ে রঙ্গিন স্বপ্ন জড়ায় এমন শীতে সেখানে এখন শুধুই দীর্ঘশ্বাস। বাড়ি ফেরার পালালাঠির মাথায় উঁচু করে আটকে থাকা সদ্য টিয়ার বাচ্চাপায়ের আঠা ডানায় জড়াজড়িঅপেক্ষা আর অপেক্ষার শুরু কবে তার মনিব ভুলে যাবে খাঁচার ছিটকিনি। দূরে ভেঙে যাওয়া অজয়ের পাড়। একটু পরেই একতারা কাঁদবে। লক্ষ্মীসায়রে এখন একাকীত্ব ঘনাবে। ক্রমশ একা হতে হতে তার জল এখন শুধুই স্থির।

এমনই এক সন্ধ্যায় আমি বিদিশাকে কাছে টেনে নিইহাতে ধরিয়ে দিই ফেলে যাওয়া অক্ষত মাটির ভাঁড়। সোনাঝুরির মেলা ভেঙ্গেছে প্রায় সময় পেরিয়ে গেছে গোটা দুটো দিন। এমন দিনেএমন মাতাল সন্ধ্যেয় কেউ কোত্থাও নেইঅথচ কী ভীষণ ভাবে আছি আমরা। জ্যান্ত দুটো মানুষ। বিদিশার সাথে আমার দেখা হওয়ার কোন কথা ছিল না আসলে কখনই তো থাকেনা কথা। কিন্তু কিছু কথা না থাকলেও তো মানুষ কথা রেখে দেয় ঠিকই। এখন বন্ধ চায়ের দোকান। নিকানো আলপনা দেওয়া তার মাটির উনুন। বিদিশা সেই আলপনায় সাঁওতালদের রেখাচিত্র খুঁজতে ব্যস্ত। আমি বলিএই যে আলপনাসে তো এই মাটির উনুনের আঁচে পুড়েই মরবেতবুও কেন দেয় বলতো?
বিদিশা হাসে। তার হাসি এখানকার শীতের মতই বড্ড তীক্ষ্ণ। নিভে যাওয়া উনুনের উপর থেকে স্বপ্নিল কেটলি এনে গরম চা ঢেলে দিই তার হাতে ধরা মাটির কাপে। তারপর বসি তার পায়ের নীচে। একটা তালগাছের গুঁড়িবিদিশার কাপড়ের স্পর্শে উষ্ণ থেকে উষ্ণতর হচ্ছে ক্রমাগত। আমার হিংসে বাড়িয়ে দিচ্ছে। বাড়িয়ে দিচ্ছে  ছুঁতে চাওয়ার স্বাদ।
এখন নিভন্ত সোনাঝুরির দলকেউ কুড়িয়ে নিয়ে গেছে তাদের ঝেড়ে ফেলা মায়া। দীর্ঘ পথ বেয়ে এখনি ফিরল যে সাঁওতালি পুরুষ তার ঘরে উঁকি দেওয়ার ইচ্ছে জাগে বিদিশার। তাকে নিরস্ত্র করে আমার অভিমানে বুক বুজে আসেআমিও তো রোজ রোজ পার করি তীব্র এক রাস্তা! সন্ধ্যের আলো আরও কমে এলে ওর ঠাণ্ডা লাগে। আমি আমার শাল খুলে বিদিশাকে জড়াই নাবরং সেই আরও একটু ঘন হয়ে আসে আমার কাছে। এও কি একপ্রকার বিশ্বাসঘাতকতা! কে জানে! আমরা এগিয়ে যেতে চাই। আমারদের সুনীল কে মনে পড়ে। কোন এক গভীর রাত্রে তিনি নাকি এখানেই গান ধরেছিলেনআজ জ্যোৎস্না রাতে... কিন্তু এখনও আকাশে চাঁদ ওঠেনিহতে পারে আজ জ্যোৎস্না নয়। আসলে বিদিশা আমাকে ভুলিয়ে দেয় সব সময়জ্ঞান।
হতে পারে এখন গভীর রাত কিমবা নয়। লক্ষ্মীসায়রের বুকে এখন আমরা দুজন ছাড়া কিছু সোনাঝুরি। এই শীতেও আমরা পাশাপাশি শুয়ে। শরীরের নীচে নরম পাতা দেবে যায় কিছুটা। ভালো লাগে। বিদিশাকে গল্প বলি -
এই যে দেখছ সায়রের ওই দূরের কর্নারওখানে একটা পাথরকে এখানে সকলেই খুব জাগ্রত মনে করে। বিদিশার চোখ দুটো ড্যাবডেবে হয়ে ওঠে। শরীরটা আরও একটু টেনে নেয় আমার দিকে। আমি গোটা চাদরটা দিয়ে ঢেকে নিই নিজেদের।
     যারা এখানে নতুন সংসার করেমানে ধরো নতুন বিয়ে হলবা বিয়ে না করেও যারা নতুন সংসার পাতছে বা চাইছেতারা সংসারের যাবতীয় টুকিটাকি যা লাগবেসেসব যদি এই দেবীর কাছে মানত করেতবে কিছুদিনের মধ্যেই নাকি সব ব্যবস্থা করে দেয় এই জাগ্রত দেবী।
বিদিশা আমার কথা শোনে। আমি তার মুখ থেকে কিছু শোনার জন্য উদ্গ্রীব হয়ে থাকি। কিন্তু আমাকে নিরাস করে সে তার মুখটা শুধু বাড়িয়ে দেয় আমার আরও কাছে। আমি ডুবে যাই এই দেবীর আহ্বানে।
কখন যে চাদর সড়ে যায় খেয়াল থাকেনা। খুব দ্রুততায় নেমে আসি নীচে। সমস্ত লক্ষ্মীসায়র যেখানে তার গভীরতা নিয়ে অপেক্ষা করছে আমার জন্যশুধু আমারই জন্য। লালায় ভরে ওঠে মুখতবুও তৃষ্ণা মেটে কই! হটাৎ আমি উঠে পড়ি ওর পেটের উপর। ওর নরম বুক জোড়া থেকে আশ্চর্য এক তরল গড়িয়ে নামছে নাভির দিকে। আমার জাং ভিজে জ্যাবজেবে। আমি মুখ থেকে একে একে চুল গুলো বার করে সমস্ত লেপটে দিই সেই নরম আঠায়। ক্রমশ লোমশ হয়ে ওঠে ওর হৃদপিণ্ড। বলি- তোমার বয়স বাড়ছে বিদিশা। বড্ড চুল উঠে যাচ্ছে।
সে শুধুই হাসে। আমার শীত শীত ভাব আসে। ব্যাখ্যা না থাকার মতো এক অজানা ভয় ঘিরে ধরার আগেই কামড়ে ধরি তার কামার্ত ঠোঁট। আমাদের মুখ ভিজে যাচ্ছেভরে উঠছে চুলের মতো সরু লিকলিকে কিছু পোকায়। তবুও আমরা কেউই পরাস্ত হতে চাই না। বরং এই ভালোলাগাটাকে আয়েশ করি নিজেদের মতো।
এখানে কোন পাহাড় নেই। তবুও এক পাহাড়ি অলসতা ঘিরে ধরেসায়রের জল আমায় ভীষণ ভাবে টানে কি টানে না জানি নাতবুও অতলে নেমে যাবার ইচ্ছে হয়। বাতি নিভে যাচ্ছে পাশের পাড়ায়। সোহাগে সোহাগে ভরে উঠছে মেঠো সব শরীরএমন চিন্তা শুধুই ক্লান্তি বয়ে নিয়ে আসে। এসব সময়ে আমার গ্রাম্য কুকুর হতে হচ্ছে করেখড় বিচুলি থেকে শুষে নিচ্ছি শেষ ওম। বিদিশা ঈশারা করে গভীর রাতঘরে ফেরার সময় বাড়ন্ত।
এই উলঙ্গ রাত। বিদিশাকে কোলে তোলার ইচ্ছে আমায় জাগায় না। আমরা পাশাপাশি হাঁটিএকে অন্যেতে মিশে গিয়ে হাঁটি। শুধু হাঁটতেই থাকি। দূরে আমাদের হোটেল দেখা যায়। তার মিটমিটে জ্বলতে থাকা আলোর রেখা দেখা যায়। দেখা যায় গেটে হয়তো আমারই জন্য অপেক্ষারত দারোয়ানের আবয়ব। তখনও বিদিশার দীর্ঘশ্বাস আমার কানের লতিতে।














সুপ্রিয় সাহা
Supriya Saha

Comments

Like us on Facebook
Follow us on Twitter
Recommend us on Google Plus
Subscribe me on RSS