Showing posts with label কবিতা. Show all posts
Showing posts with label কবিতা. Show all posts

Sunday, March 26, 2017

দুটি লেখা নিয়ে এসেছেন : সুমন সাধু

 কাল, কালের গর্ভ

তাকে খুঁজেছি আরামকেদারার ছাদে। খুঁজেছি আরামে বেশ। দশকনামার ফাল্গুনে আঁজলা ভরে স্নান দিয়েছি কয়েক। আমি কি ভুলেছি হিংস্র স্তাবকতা! ভুলেছি কি শিশুমঙ্গল ঘ্রাণ! জীবদ্দশায় আমরা পেলাম শক্তি, ঊর্দ্ধে গাইলেন রামপ্রসাদ।

বিশ্বাসের আঁকাপথে তর্ক করছি রোজ। সংক্ষেপে কথোপকথন সারি। শাড়ি গায়ে রোজ আলতার আলতো ছাপ দেখে ভেবে নিই জোয়ার এল বুঝি। হারতে থাকা তর্কের নিম্নে এসে মধ্যভাগ খুঁজি। একপাশে থেকে যান আবিষ্কর্তা, সন্তান স্নেহে ঘুমোন ভারতচন্দ্র।

নদীর মতোন একটা নদী উপহার দেব বলে কেন্দ্রের ওংকার জুড়ে ঘেমে উঠি। ত্রিলোককর্তা ছদ্দবেশে বেশ আসা যাওয়া করেন। ঘামজলে দুটো নৌকো ছাড়ি। একান্তে উঠে আসে কঠোপণিষদ স্তোত্র। স্তোত্রের আবহ জুড়ে শাঁখ বাজিয়ে প্রমাণ করি নদীর মতো তীব্র হওয়া একটা বিশ্বাস। বিশ্বাসের সীমান্তে এসে নারদ রূপে মজা পাই, আড়ালে নীলকণ্ঠ মুচকি হাসেন।



শোনো...
ধূসর যদি চাও সহজেই হাত রাখতে পারো। এ জ্বালা মেটাবো সহজেই। দু'দিনের এই অপরাহ্নে এসে ভাতঘুম পাড়ে বিছিয়েছিলে বান্ধবনগর। তবু তো চলে যাও এলোমেলো একাটি ফেলে।

ক্রমশ ফুরিয়ে আসছি। কাণ্ড থেকে শেকড় অবদি বৃত্তের জালে ঘুরপাক খাচ্ছি কতটা বছর। আছো কেমন? খেয়েছ? এসব কুড়োনো ক্ষয় অনন্ত বৃক্ষজালে পুড়ে যাচ্ছে রোজ। নিজের ঘরেই আছি। একাটি পুড়ছ সাজানো শ্মশানে।

সেই তো বিকেল, শুধু স্টেশনের ধার। অনন্ত চুল্লির গায়ে জড়িয়ে যাচ্ছো পারস্পরিক ব্যথার মতোন। পুরোনো গাছের গায়ে আমি এঁকেছি করুণ। সব সাজানো কি ঘনত্ব পায়! ভিতরর স্বভাব জুড়ে শৈশব কাঁদে।

আজ শুধু দিঘিজল। নোয়ানো ডালপালা শিয়রে তোমার। শিয়রে কদম্ব গাছ, ছায়া চায়… ছায়া। প্রাণনাথ, দূরদেশের ক্ষতটি নিয়ে ফিরলে, অথচ দেখা করলে না। চলো সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠি, হাতছানি দিয়ে বলি দু'জনের কথা।











সুমন সাধু
Suman Sadhu

Friday, March 24, 2017

চারটি লেখা নিয়ে এলেন : সীমিতা মুখোপাধ্যায়

আমার প্রথম কবিতার বই

আমার প্রথম কবিতার বইটি হয়ত এখনও
তোমার ঘরে

চুপচাপ লক্ষ্য রাখছে তোমার পালতোলা যাপনচিত্রে,
মিলিয়ে নিচ্ছে সরলের বেজন্মা নিয়ম-কানুন,
তোমার সময়নদী বয়ে যাচ্ছে অন্যখাতে...

তুমি খেয়াল করছো না

আমার বইটি, একদিন দেখো, ধুলো ঝেড়ে উঠে পড়বে ঠিক;
ভোরবেলা তোমায় ঘুম থেকে তুলে বলবে - চলি!

আমি ওর কাছ থেকে শুনে নেবো তোমার 
গুহাজীবনের আদিম রহস্য,
তারপর ইতিহাসের পাতা থেকে ছিঁড়ে নেবো
পৌরাণিক কিছু প্রতিশোধ -

কিছু খুদকুঁড়ো ভালোবাসার লোভ,
আদরের মতো মিষ্টি কিছু শব্দবন্ধ...

বন্ধু, ভালো থেকো!



একটি অস্থির বিড়াল

ওইযে বেড়াল,
সারাদিন এবাড়ি, ওবাড়ি, সেবাড়ি;
তোমরা দেখছো -
মাছের কাঁটা, খাম - খেয়াল, নি:শব্দ চলাফেরা...

আসলে বিড়ালটির তিনদিকে তিনটি ভূখন্ড
আরসে থাকে মধ্যবর্তী কোনও এক না-মানুষের রাজ্যে,
যে কোনও সীমান্তে তার প্রবেশ অবাধ!

অথচ, একটা রিফিউজি বেড়াল ষোলো আনা জানে,
'
বিতাড়িত' শব্দের আসল মানে...



Tuesday, March 21, 2017

সিরিজ কবিতা: পুরাধুনিক ডট কম এবং... : অভিজিৎ পাল

সিরিজ কবিতা: পুরাধুনিক ডট কম এবং...

১.
অনেক দিনের পর ফিরে আসি। জটিল আবর্তগুলো আবার মুখ টিপে হাসে। আজানুলম্বিত উদাত্ত প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ভেঙে দেওয়ার আনন্দময় বিষাদে সেজে ওঠে ক্যানভাস। রঙ মাখি। রঙ মাখাই। ভালোবাসার লাল রঙ। ধূমল বাতাসে ভেসে আসে স্মৃতি অনেক। আমার ব্যর্থতা হতাশা নৈরাশ্য আসছে এবার। অধ্যাপনার কাজের মধ্যে ডুবে মরতে মরতে জীবনবাদী একটা গল্প লিখতে ইচ্ছে করছে। নিজের গল্প। একান্ত। আত্মসম্পর্কের আত্মজীবনী নয়। আকাশ ছুঁয়ে বাঁচতে চাইছি এবার। নিজের মতো করে। স্বপ্নভঙ্গ হলে জানাবো সবই একদিন অমোঘ ভবিতব্য বলে পুরাধুনিক পাঠের সিলেবাসে লেখা ছিল। সমস্ত জৈবলিপির পাঠোদ্ধার আমার পক্ষে এখনও সম্ভব হয়ে ওঠেনি...



২.
ভুল শব্দের মতো কথা বলছেন মহামান্য। ক্ষমতাহীনের মতো চুপ করে মেনে নিচ্ছি দ্বিচারীব্রত। আমার মানসপটে জেগে উঠছে ব্রহ্মবাদ। আমি পাঠ নিচ্ছি। একে একে জেগে উঠছে সম্পর্কের মুখগুলো। আমি বিষাদ আঁকছি। আমার জন্য অপেক্ষা করছে একটা সুবৃহৎ আমি। দৈব ভাষ্যমতে জটিল অদ্বৈতপাঠে ঋদ্ধ হতে হতে সেজে উঠছে দাগ। অম্লমধুর প্রেমের রতিবিলাস শুধু তোমাকেই দেখিয়ে বলে দিচ্ছে। সার্বিক কামানুভব চুষে খাওয়া যেতে পারে মেকানিক্যাল আঙ্গিকে। আমার মানসলোকে হেঁটে আসছেন তিনি। জানু পেতে বসছি। শুনেছি এভাবেই তাঁর কাছে বসতে হয়। ভ্রান্তিপথ হারিয়ে যাচ্ছে ক্রমশ। কাঙ্খিত শুচিতা পবিত্রতা অর্জন করতে শিখছি মাতৃত্বে। মানের মিথ্যে ভোরাই অন্ধকার কেটে আসছে বারবার...


Thursday, March 16, 2017

ভালোবাসা (দশ দু গুনে কুড়ি) : দীপ শেখর

ভালোবাসা (দশ দু গুনে কুড়ি)

রবিবার ইস্কুল গাছের তলায় বসে থাকে একা যে
জানোনি দেখে তাকে কতদিন তুমি ভালো থেকেছিলে

আমার ভেতর বালক কে না ভালবাসলে কেবল পুরুষ নিয়ে কি করবে?বালিকা তোমাকে ভালোবাসি

আমার ইশকুল জামা আজও যায় তোমার কাছে। আমি তাকে আটকাতে পারি নি...

Saturday, March 11, 2017

সায়ন ঘোষ-এর কিছু লেখা

সেখানে সকলেরই একটা কম্বলের প্রয়োজন ছিল। নিদ্রাজরিত দূষিত চোখে তারা পরস্পরের দিকে তাকিয়ে হাসছিল। একজনের একটি রূপোলি দাঁত রয়েছে লক্ষ্য করা যায়। এবং কিছু শিশির কারপেন্টারের ছায়ায় জলের দ্রাঘিমায় হুবহু দ্রিদিম একঘেয়ে করে তুলেছিল বাড়িটাকে। সেখানকার ঘর, আসবাব, প্রাণ কৌটোবন্দী অবস্থায় শব্দের কড়া নাড়া; কারা য্যানো গুঁড়িয়ে ফেলেছিল তাদের শৈশব। নিজস্ব খনিজ মুঠোয় করে নিয়ে গঙ্গায় অস্হি বিসর্জন এবং সূর্যদেবতার কাছে প্রার্থনা। সকলেরই প্রয়োজন ছিল এখান থেকে বেড়িয়ে আসার। মুক্ত উপত্যকায় চড়ে ব্যাড়ানোর অধিকার সকলেরই ছিল। কেউ কেউ চেয়েছিল, কেউ চায়নি। জীবনকে বিভিন্ন রূপে আবিষ্কার করতে করতে কেউ কেউ পাগল হয়ে গিয়েছিল। কেউ এখনও আবিষ্কারের পদ্ধতি নিয়ে গবেষণারত। সন্ধ্যের শাঁখ এবং ঘন্টাধ্বনি বাতাসে মিশে যেতে যেতে অলস দ্রাঘিমায় আমরা এখন একটু ঘুমিয়ে নিচ্ছি ধোঁয়ার বিছানায়।

-      ৬নভেম্বর,২০১৬



ফোলিয়েশন

ঝড়ো অভদ্রতা শরীরের মধ্যে ছুড়ি কাটার কারবার রেশম সমন্বয়ে তৈরী বস্তুর ছেদ, রূপক, গতি, তড়িত্ বিচ্যুতির লোমশ স্ক্যান্ডাল পরিপূর্ণতার ঐশানী সন্ধ্যেতে পাক খাওয়া বিকট পাগনেশাস্ তার ঝিল্লীর অন্তস্হলে চুক্তি ও করমর্দন প্রতিলিপির বৃহত্ পাঠাগারে পাঠরত তরুণীর ঘাগড়ার তলায় আমার শ্রেষ্ঠ পান্ডুলিপি জমা পড়ে গ্যাছে হৃদয়ের তার যন্ত্রবাদক ঐশ্বর্যায় নিপুণ কাঠামো নির্ভর ইন্দ্রিয়প্রসর উচ্চ দ্রাঘিমায় ক্ষমাপ্রার্থী ঈশ্বরীর কণ্ঠে হিন্দিতে কিশোর কুমার
অতএব এগুলি সম্ভাবনার পাকদন্ডী এবং রাশিফল বিষয়ক দাঁড় যা এককভাবে দন্ডায়মান প্রণালীতন্ময় ও কিছু গঠনমূলক ধৈর্যবিচ্যুতি।



Thursday, March 9, 2017

ঈশ্বরের জননতন্ত্রী, বিদেশি শব্দ এবং একটা রক্তখেকো ন্যাপলা : ডাকনামে সমুদ্র

ঈশ্বরের জননতন্ত্রী, বিদেশি শব্দ এবং একটা রক্তখেকো ন্যাপলা

১।
এই বিশ্বাস হয় -
ঈশ্বর আছেন কণায় কণায়
আমাদের ক্লাস সিক্সের ব্যাকরণ বই
সমস্ত সিগারেট কাউন্টার
ভুখা পেট
অফ্রিকা
জলবায়ু
নিভন্ত উনুন
তীব্র বর্ণবিদ্বেষ
অমৃতা গগণের টোলে
ভেনিসের জল। ইরাকের যুদ্ধ। সংবিধান। ছাপাখানা। জিরো জিরো সেভেন। ভ্লাদিমি পুতিন। হীনস্কন্ধ সময়।
এমনকি টুম্পা চাকির প্রথম খাওয়া ধর্ষণেও



২।
“shouting ‘oh god!' at bed isn't equivalent to a prayer"

ক. হরেকৃষ্ণ বলতো একটি উত্তর কোলকাতার টিঁয়া

খ. তিনি ছেলের নাম রেখেছিলেন শ্যাম। শ্যাম চোদ্দবছর বয়সে বাথরুমের ফুটো দিয়ে ভিজে মাকে দেখে হাত মেরেছিলো।

গ. প্রত্যুষা ঋতুমতী হয়েও ঠাকুর ছুঁয়ে ফেলেছে

ঈশ্বর আমার বিশ্বাস পুড়ছে
ওদিকে দৃশ্য তখনও কালো। পর্দা ওঠে নি। আমরা হাত চালান করে দিয়েছি পবিত্র বুকে বুকে। ঘেঁটেছি।


Tuesday, March 7, 2017

পলাতক : সায়ক দত্ত

পলাতক

১.
আকস্মিক চাঁদ ধোয়া জলে কবিতা লিখতে বসে
মালকানগিরিতে আম্বানিরা ফুলদানি সাজালো।
এপাশে, ওপাশে-
পাপোষে, ধপাসে-
আমরা বরং শব্দ সাজাই।

টিলার ওপর মৃতদেহগুলো আসিমোভের নিয়ম মানে না-
মরা ম্যাপলগাছের নস্টালজিয়ায় যেমন গোপালঠাকুর নেই।
ডানে, বামে-
পাঁচমাথায়, আওয়ামে-
চার ওয়াক্ত ফ্যানের গন্ধ বরং ছড়াক।



Monday, February 20, 2017

অক্ষর পদাবলী : সুমন সাধু

অক্ষর পদাবলী

১)
"
বিজয় নাম বেলাতে ভাদর মাসে।
নিশি আন্ধকার ঘন বারি বরিষে।।"

আমরা দু'জন এক এবং অন্ধ-কার। যেভাবে লিপিকরের মুঠোয় গোটা জানালা অবশিষ্ট পড়ে আছে। তবে জানালা নিয়ে বিশেষ চিন্তিত নই আমরা, আমরা জানি একেকটা ইচ্ছের গায়ে ধুলো লেগে আছে। বেশ আনন্দ করেই উপভোগ করি সেই ধুলো, কিছুটা যৌনসুখ পাই। এ ভরা ভাদ্রে তুমি কাশমেঘ হয়ে ঝরে পড়ছ। পড়শিরা বৃষ্টি ভেবে প্রতিদিন ভুল ভাবছে যাকে। কিছুটা সংশোধন আর বিশ্বাসের জন্ম পার করে এই তো আমাদের ডুবসাঁতার।


২)
"
নীল কুটিল ঘন মৃদু দীর্ঘ কেশ।
তাত ময়ূরের পুছ দিল সুবেশ।।"

মফস্বলে সন্ধে নামতে দেখি রোজ। সন্ধের গা ঘেঁষে বান্ধবীমহল রোজ আমায় পুড়তে দ্যাখে। আমরা সেই পোড়া গন্ধ মেখে নিছক আতর বেশে ফ্ল্যাটের দরজায় হানা দিই। আমি তখন মহান হই, আমরা তখন চুল বাঁধার স্বপ্ন দেখি। খোঁপায় খোঁপায় একটা যুগ শেষ হয়ে আসে।

Saturday, February 18, 2017

জন্মান্তর ও দুপাশের জঙ্গল থেকে : তৃষা চক্রবর্তী

জন্মান্তর
পিসেমশায় পাগল ছিল। মরে গেলে, ওরা বলেছিল - আজ থেকে আর তো কেউ পাগল বলতে পারবে না। মরে গেল একজন পাগল। আমার পিসেমশাই, একজন পরিচয়। বাড়ির সামনে বাতাবী লেবুর গাছে ফুল এলে, পিসির কাছে টাকা ধার করে বিড়ি কিনতে যেত পিশেমশাই। বুকে গলায় কাশির দমক তুলে তুলে কেবলই বিড়ি খেত। আর মন দিয়ে শুনত, পিসি বলছে 'মর মিনসে, মরণ হয় না তোর'! সেই পিসে মরে যেতে খুব করে কেঁদেছিল পিসি। কেবলই বলেছিল, আমায় ছেড়ে কোথায় গেলে গো?

বুঝিনি, কোন সে শব্দ যাতে কান্নার শ্বাসাঘাত পড়ছে প্রলম্বিত হয়ে? কখনো মনে হয়েছে "আমায়", কখনো "কোথায়"।


Sunday, February 12, 2017

মাড়ি ও দাঁতের সমাবেশ : প্রত্যুষ বন্দ্যোপাধ্যায়

মাড়ি ও দাঁতের সমাবেশ

(১)

এতো পালক এতো ছায়াগাছ কুসুমবিকার এতো সব। এর মধ্যেই ঠাঁই করে নিয়েছে আমার মৃত দাদামশায়ের জ্যান্ত খড়ম। যে সারা বাড়ি উঠোন তুলসী মঞ্চের খড়ির গন্ডি না টপকেই একা একা ঘোরে। আবার দাদামশায় পরে নিলেই চুপ। তখন বুড়ো যেদিকে যায় অতি স্থির তামসিকতায় তাঁকে ফলো করে। দাদামশায়ের মাড়ি থেকে ঝরে পড়ে গল্পমুখর লালা। উৎসমুখ খুলে যায়, আমি ও আমরা কে নিয়ে যে সুবৃহৎ  আমাদের – গোল হয়ে বসি। গল্পের ঢিমে আঁচে, গল্পেরই মৃত মাংস সেঁকা হতে থাকে। আমরা ছিটিয়ে দিই নুন উপাদান , সেইসব কলহ তীব্র লঙ্কার ঝাঁঝ। আর আয়েশে আমাদের মৃত চোখ খুলে যায় জ্যান্ত চোখ বুজে আসে।

পৃথিবীর দাদামশায়েরা আমাদের সাত ও সতেরো জলসংঘর্ষে  উদ্ভূত ফেনাময় বাথটবের কাছে নিয়ে যান। যেখানে উরু ক্যালানো মেয়েরা নাগকেশরের ব্রাশ দিয়ে যোনীগুল্ম পরিষ্কার করে। মৃত শুক্র চাকগুলি কন্ডোম কাছিম ছাল বেয়ে  বেয়ে  অনিবার্য এগিয়ে যায় নির্বাসিত ঝাঁঝরির দিকে। এইভাবে বহুবার আমাদের সুবৃহৎ জন্ম প্রতিক্রিয়া ব্যাহত  হয়েছে। নির্ধারিত প্রহরের আগেই বিসর্জনের ফেউ ডাক ককিয়ে ওঠে – মৃত জন্ম দেয় বিকলাঙ্গ ফোঁপরা করোটি।


Saturday, February 4, 2017

চারটি লেখা নিয়ে এসেছেন : সীমিতা মুখোপাধ্যায়

আভেমারিয়া

তোমার মা এলে
সব দুঃখ কেচে দেবে,
শুকিয়ে রাখবে তোমার ক্ষত,
আয়রন করে দেবে
তোমার এলোমেলো মুহূর্ত।

কাকিমা চলে গেলে
আমিতো মার হাতে-পায়ে
পেরেক ঠুকে দেবো আবার,

আর বলবো -
আয় রে, সখা,
দুজনে মিলে এবার
পিয়েটা মূর্তি ধরি!




আমি কিম্বা অপেক্ষা

তোমাকে দুধ ভাত;
আজকাল আমি আর অপেক্ষা
এক সাথে শপিং-এ, বিকেল হাঁটতে।

অপেক্ষার মধ্যে পটাশিয়াম সায়ানাইড
মিশিয়ে দেখেছি,
একটা নতুন ধরণের ধোঁয়া-
কেমন মহুয়া মহুয়া…

দুজনে দুটো ধারালো ছুরি হাতে,
আমি আর অপেক্ষা
পাশাপাশি শুয়ে খুনসুটি করি!

একদিন গাছের নিচে দাঁড়িয়ে প্রশ্ন করেছিলাম,
আমি মরে গেলেও কি
অপেক্ষা বেঁচে থাকবে?

এসব জিজ্ঞাসায় কিছুটা বোরাক্স মিশিয়ে
তাপ দিলে

দেখবে কেমন খই ফুটছে সোহাগে!



Thursday, February 2, 2017

ফটোগ্রাফি : শাশ্বত মুখোপাধ্যায়

ফটোগ্রাফি

ছবি তোলার জন্য ঘরের জানলাটাকে ব্যবহার করার কথা মাথায় খেলছে সকাল থেকেই। মারিন আসবে সকাল ৯ টা ৩০-এ। হ্যাঁ, মারিন এর ছবি তুলব আজ। ক্যামেরাটা নিয়ে সমুদ্রের দিকে ফোকাস করে আছি, অনেকক্ষণ। সি-বিচের চারদিকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে অনেক কিছুই কিন্তু এই নির্দিষ্ট দূরত্ব থেকেও  কিছুই তেমন চোখ টানছে না আমার। চোখ টানলেই আমার শাটার ঝটপট লাফিয়ে যায় অবজেক্টের ওপর আর অবজেক্ট কে ওনলি সাবজেক্ট হওয়া থেকে আটকে দিতে চাই প্রথমেই। সমস্ত ছবিতেই অবজেক্ট ছাড়া বাকি কিছু ব্লার করতে ভালোবাসতাম আগে, এখন এইসব থেকে বেরিয়ে আসছি। আমি কোন ছবিতেই থাকতে চাই না আর, নিজেকে আটকাতে চাওয়াও ভালো ক্যামেরায় ধরা থেকে যায়। ডোর বেল বেজে উঠেছে, মারিন একটা ডিপ ব্লু ড্রেস পড়ে এসেছে আজ। ঘরে ঢুকেই ও আমার উডেন ফিনিশের চেয়ারে গা এলিয়ে বসেছে। সমুদ্রের নীলের থেকেও বেশী নীল মারিন। ক্যামেরা নিয়ে অনেকক্ষণ নাড়াচাড়া করছি, এত কাছ থেকে, এই ঘরে, সমুদ্রের মত লাগছে মারিনকে। মারিন আমার দিকে তাকাতেই চুপ করতে বললাম। এই সময় কথাকেই আটকানো দরকার ছিল। মারিনের অন্ধকার দিকটা আমাকে অস্বস্তিতে রেখেছিল আর বেশ টানটান, রিফ্লেক্টর দিয়ে আলোকে ব্যবহার করতে শুরু করি কিন্তু কোনভাবেই মারিনকে ধরতে পারছিলাম না। এমন কোনো আলো তৈরী হচ্ছিল না যা মারিনের সাথে যায়। বিকেল অব্দি এইসব নিয়ে কেটে যায়, মারিন বিরক্ত হচ্ছিল আমার ওপর। অতিরিক্ত টাকা চাইছিল, যদিও তখনও আমি ওকে একবারও তুলে আনতে পারিনি।  

[ পুনঃশ্চ - এরপর সন্ধ্যে নাগাদ, ওর মত আলো খুঁজতে, আমি সি-বিচে যাই কিন্তু ও আমাকে আর বিশ্বাস করেনি। আলোটা ছিল খুবই নরম এটুকুই বলতে পারি। ]







শাশ্বত মুখোপাধ্যায়

Saswata Mukhopadhyay

Saturday, January 28, 2017

অমাত্রিক অমাতৃক : জয়দীপ মৈত্র

অমাত্রিক অমাতৃক

১/
এই আলো দিয়ে দেহ ঢুকেছে শরীরে। বহু আগের মৃতদেহ কখনও বাতাস হতে চেয়েছিলো। আনমনে শুনতে চেয়েছিলো ভাটিয়ালী। মাঝির পোশাকে ব্যাধি। যেভাবে অন্ধকারে হারিয়ে যায় বহুবার পরা ঈশ্বরের জামা। আমাদের বুকে ফুটো নাকি নৌকোহীন জলের চিহ্ন? হে অসুখ, হে চিরকালীন ভাঙা ঘড়ি, এই রক্তমাংস দিয়ে তুমি আমাকে খোঁজো। দশচক্রের অসীম সীমায় খুঁজতে খুঁজতে আবার ছায়া হয়ে যাও। হারিয়ে যাও আলোর আগের দেহে। ভেবো অন্ধকার নয় এই দূরত্ব আসলে মৃত নক্ষত্রের আলো।


Friday, January 27, 2017

তিনটি লেখা নিয়ে এলেন : অমিত দে

শুক্লপক্ষ
বয়েস ভাসছে ক্যানেলের জলে
আকাশ আজ অমর হলেও
তোমার উরুতে গ্রহন লেগেছে
পায়ে পায়ে কাটা ফোটেনি
কুলগাছ পাহারাদার আর ধানশিষ
বারবার কেন মাধবীলতা—
সুতোয় সুতোয় ঘুড়ি হওনি
পাশ কাটিয়ে ভেসে থাকা
ফেটে যাওয়া বেলুন
দিগন্ত খুলে দিয়েছি
অস্ত দেখতে পাচ্ছি না কেউ
জোয়ার ভাটায় মুছে যায়
         আমাদের দিনরাত



Wednesday, January 25, 2017

জ্যোতির লেখা : জ্যোতির্ময় বিশ্বাস

জ্যোতির লেখা

১|
এই জীবনে এযাবৎ একুশটি বছর তো গেলো
অক্ষরগুলি চিনেছি সেই কবে
শব্দগুলির সাথে প্রায় রোজ দেখাশোনা
শুধু বাক্যগুলি চিনে রাখতে ভুল হয়ে যায়, পারিনা


২|
একই সম্পর্কের ভিতর আমরা যাতায়াত করেছি বহুবার
ফলত পায়ের চিহ্নাদি কোনটা যে আসার কোনটা চলে যাবার
আর কোনটা ফেরার, তার কিছু ঠিক নেই

মানুষের বাড়িতে অনেক বিভেদ থাকে
ঈশ্বরের সমুদ্রতীর তাই আমাদের অনেকের বাড়ি
থেকে অনেকটা দূরে।


৩|
গাছেদের সাথে সাথে
গাছের তলারও বয়স বাড়ে
অতল বদলে ফেলে নদী

দু’জনই এ’কথাটি ঠিক বুঝে যাবো
বহুদিন পর একদিন দেখা হয় যদি।

Tuesday, January 17, 2017

কবিতা সিরিজ বা একটি কবিতা : দীপ শেখর চক্রবর্তী


এই বোকা শহর আমাকে নরম ভেজা ঠোঁটে নিরাপদ চুমু খায়, রোজ
আমি পুরনো বন্ধুদের মাতাল বেশি রাত ডাকে হয়েছি নিরাপদ
পুরনো কম্বলের ভেতর আদরে ভুলিয়েছি গলিদের প্রাক্তন প্রেমিক
আমি পুরনো ভোরেদের ঊরুতে শুয়ে নিজেকে চমৎকার প্রেমিক ভেবেছি
হটা
একটা আচমকা মোলায়েম মুখের অপেক্ষায় জটিল অসুখ বাধিয়েছি রাস্তার পাশে খোলা জানলায়, বুক চিতিয়ে -



কতটা নিরাপদ হলে মানুষ সংসার গড়ে এ প্রশ্ন আমি খোদ সংসারকেই করেছি
আগুন তো আসলে ছাই এর খুড়তুতো ভাই, আমি সূর্যের সৎ ছেলে?
তুমি মাথায় আঙুল দিয়ে খোঁজো নিরাপত্তা। এটুকুই তো চাই। তা ছাড়া বাকি সব তো পাবেই কবিতায়।
অনেক বয়স হলে বুঝবে তুমি,
এসব পালানো নয়, বরং সত্যির কাছে যাওয়া
সত্যির কাছে গ্যালে নিজেকে অন্ধ বাঁশিওয়ালার সুরে পুড়িয়ে নিতে হয়
জীবনে হয়েছ তুমি তা কেবল এক খানা নিরাপদ মোলায়েম ছাদের পাহারাদার
 
চেনা গন্ধ ছাড়া বাকি সব সয়ে নিতে হয়।


Sunday, January 15, 2017

একটি জ্বরের সিরিজ : অনন্যা বন্দ্যোপাধ্যায়

জ্বর ১

ভীষণ জ্বরের ভেতর তোমার কথা ভাবতে ভালো লাগে
গায়ে চাকা চাকা দাগ পড়ে আছে
পড়ে আছে উত্তপ্ত নাভি
কমলা ফুলের মত তুমি শুয়ে আছো পাঁজরের তীরে
আমার সমস্ত দেহে জেগে ওঠে এক অলীক আওয়াজ
প্রতিটা পরমাণু প্রাচীন থেকে প্রাচীনতায় মেলে
তারপর যা কিছু স্নেহ, হিসেবের ব্যবধান, তুমি ধার করে নিলে
দিগন্তে পৌঁছে যায় অলীক পাখা
যে ক্ষণিকের পর অবশ হয়ে যায় দেহ
রাত পার করে নাবিকেরা
আমাকে তাদের কথা বলো
এই ফাঁকে আমি আরো তোমায় ভেবেনিই
ভেবেনিই আমাদের আবছায়া কথোপকথন



Friday, January 13, 2017

আমরা একটা সিনেমা বানাবো (ভাগ দুই) : হিয়া মুখার্জী

আমরা একটা সিনেমা বানাবো
ঝিমোনো ভয়ের গল্প।
হিলস্টেশনের ক্রেশ।
কামিন বস্তির বাচ্চারা
তাদের ঘুমের মধ্যে
টুপটাপ
খসে খসে পড়ছে
ম্যাগনোলিয়ার মত।
শোনা যায়
এইসব রাতে
চৌখুপি ছাদ থেকে
গন্ধে গন্ধে
খুব সহজেই
ভূত নেমে আসে।
মোমবাতির শিখা কি
দু একবার
কেঁপে উঠলো হাওয়ায়?
রিসর্টের ঘরে
মুখোমুখি দুইজন শুধু
কোনো কথা না বলে
পুরোনো অস্বস্তি থেকে
নতুন অস্বস্তির দিকে
হেঁটে গ্যালো।



Wednesday, January 11, 2017

দীপঙ্কর ভাই আমার - শুভঙ্কর দাশ

দীপঙ্কর ভাই আমার

আমি সেলুনে একা একা গোঁফ রং করছি
আর তুই চলে গেলি।
ভাবছি কী করব ওই চুলের সফেদ
উঁকিগুলো নিয়ে?
বোকামিগুলো ঢেকে ফেলে
আরেকবার বইমেলায় বসে থাকব কি?

আর শালা তুই চলে গেলি একা একা?
মানে এবার আর দেখা হবেনা বলছিস?
চুপি চুপি ভদকা মেশানো মিনারেল ওয়াটারের বোতল
আর বেরোবেনা ব্যাগ থেকে?
লিটল ম্যাগাজিনের টেবিলে বসে
গলায় ঢালা যাবেনা খানিকটা আগুন?
আর আমি এখানে লড়ে যাচ্ছি এই বিচ্ছিরি রোগটার সাথে
একা একা রোজ রোজ।

তাই বুঝি খুব ভোরে আজ বার বার
জপের মালা স্লিপ করছিল হাতে,
কান্না পাচ্ছিল হুহু এমনি এমনি।
খুব অস্বস্তিতে কাটছিল সকালটা।
তারপর সেলুনে বসে যখন ভুলে গেছি সব
তখনি ফোনটা এল,
যেভাবে এরকম ফোনগুলো আসে
আপাত নিরীহ বেচারা টাইপের।
আর আমি সেলুনের লোকটাকে
মাঝ পথে থামিয়ে ফুটপাতে নেমে এলাম।

বাইরে চা দোকানে রোজকার মতো আড্ডা মারছে লোকজন
আর একটা পাগল ফাঁকা বোতল কুড়োচ্ছে রাস্তায়।















শুভঙ্কর দাশ

Subhankar Das

Monday, January 9, 2017

তিনটি লেখা নিয়ে এলেন সুপ্রিয় চন্দ

অ্যাকোরিয়াম
নৌকোর কখনো নোঙর হয় না
জল বা এই রকম জীবন নিয়ে গভীরে ভাবাটা
নিঃসন্দেহে ডুবসাঁতারুর কাজ
'ইউরেকা' 'ইউরেকা' বলে চেঁচামেচি
এই প্রেক্ষিতে নিস্প্রয়োজন এবং খামোকা বোকামি
জল নিয়ে ভাবতে হলে পাড় নিয়ে ভাবো
স্রোত নিয়ে ভাবো
বাতাস নিয়ে ভাবতে ভাবতে, একআধঘুম শব্দ
আলটপকা ছুঁড়ে ফেলো স্থির জলে
তরঙ্গ ছড়িয়ে পড়বে চারদিকে
সময়টা সন্ধে হলে কোন কথাই নেই
অনায়াসে বজরা নিয়ে নেমে যেতে পারো

দাঁড় আর পাল আমার বহুদিনের চেনা বন্ধু
তাই আমাকেও সঙ্গে নিও প্লিজ জলসওয়ারিতে
শুরুটা তোমাকেই করতে হবে
শেষের চালটা আমার হাতে এখনো
তুমিই তো জল নিয়ে ভাববে বলেছিলে             প্রথমে
রাজ্যজয়, কূটনীতি, কলম্বাস আর তোমার অ্যাকোরিয়াম ছেড়ে
তাই আমি কোনদিন ভেসে উঠিনি
পাড়ভাঙা জলে