Jyotirmoy Shishu

Jyotirmoy Shishu
Showing posts with label কবিতা. Show all posts
Showing posts with label কবিতা. Show all posts

Tuesday, May 23, 2017

তিনটি কবিতা : শানু চৌধুরী

ভাগাড়
হেঁটে যাই পথের বুকে
ভাগাড় দেখে ফেলি চোখের পর্দায়

ময়লা স্তুপে ধ্যানস্থ শিশু
সদ্যোজাত খেলনার ভাঙা টুকরো

অস্বাস্থ্য ব্যাঞ্জো বাজবার পথে
রোজ অজানা উচ্ছিষ্টের  লড়াই

সব্জি কাটা হয় ন্যুব্জ হওয়া ঘরে
উনুনের পাশে জ্বলন্ত পেট

শকুন নেই এই শহরে
ছিনিয়ে নেওয়ার প্রতিদ্বন্দ্বী নালার ভ্রুনে

বুলডোজার লক্ষ ইতিহাস ফেলে
ইতরের দিকে ঝড়ের ইঙ্গিত রেখে যায়



ঘষা কাঁচ
এই ঘষা কাঁচের বর্ডারে
আমাদের বাষ্পের ক্লাস

ধ্রুপদী শব্দের ভিতর হারিয়ে যাই
যখন ছোটদের সিনেমা ভিজে যায়

রাস্তা, স্যাঁতসেঁতে রংরুট
সমস্ত স্বপ্নবাড়ির চুপিসার

আদর করছে শরীর বৃষ্টিকে?

কফিকাপ কতটা দূরে পড়ে আছে
কান্না ভাগাভাগির পর

জানালার  পর্দা ওড়ার নেশায়
যেটুকু নশিন



প্ল্যাজিয়ারিজম
সমস্ত প্ল্যাজিয়ারিজমের ত্বকে
উটের শীর্ণতা...

কলমের চারার হতাশায়
ওই দিনমান

খুঁড়ে যায় এক বিভা
প্লেটনিক উক্তির প্রতিরেখ

ললিত এই দোষের হানাহানি
কতটুকু বোঝে দেশলাই?

মিথ্যের রোশনাই যতটুকু
বাতায়ণের অভিষেকে














শানু চৌধুরী
Shanu Chowdhury

Sunday, May 21, 2017

তিনটে লেখা : দীপঙ্কর লাল ঝা

ধানচাল
ধান দেবেন, চাল দেবেন
পাখি দেবেন দু একটা
নাম দেবেন শীঘ্র
থালায় মেলে দেবেন কিচিরমিচির
আমার ঘরে বারান্দা নেই, তাই বলে গরম দেবেন না
নখের আওয়াজে বিভোর হই
এমন একটা অসুস্থতা আমারও আছে
কানের ভেতর আমরা ধীরে ধীরে ডিমে তাপ দেবো
মাথা ফুরিয়ে যাবে
আর সেদিকে অল্প অল্প করে মশার উত্তাপ নিতে নিতে
আমাদের হাড় জল হয়ে গেছে
এমন একটা মশলা কেউ এই মুহূর্তে আবিষ্কার করেনা
যাতে একটা সুস্বাদু সুপ হতে পারি,
এই নিয়ে
বালে ছাল, ছালে বাল
কসাই বলেছে, না করতে নেই
ধুকপুক ধুকপুক একটা সূর্য চাই
এসো আচার হয়ে শুয়ে পরি
টকটক নৌকায়।



দুপুর
মাছি মিষ্টির সর খেলে তার ঢেকুর থেকে উঠে আসে দুপুর
রোদে খা খা হয় দুপুর

তারপর নাকে আচারের গন্ধ নিয়ে
দুপুর হেটে চলে যাচ্ছে আলপথে

                     গ্রামের দিকে
                    মৌমাছির পিঠে চড়ে
                    কাঁধে ঝোলানো ডাকনাম।



পাখি আছে, নেই
বুকের ভেতর থেকে একটা আকাশ দেখি
পাখি নেই
পাখি দেখে ছুটে যাওয়া শিশু নেই
যারা মনে রেখেছে একটা জ্বর
ভুলে গেছে কয়েকটা ট্যাবলেট
একটা চা এর কাপের ধোঁয়ায় তারা সূর্য মুছে দেয়
ঠিক যেমন পুরো দেয়ালে একটা ইট না থাকলে
কারো চোখের কথা মনে পড়ে না
আমার কেউ কেউ রাস্তার এপারে দাঁড়িয়ে ছিলাম
তোমরা ওপার থেকে এপারে আসবে বলে
একটা ট্রাম আসতেই আমাদের ও তোমাদের মধ্যে একজন উঠে পড়েছে
একটা প্রশ্ন করছি কিভাবে
সারা বিশ্বের খবর  একটা উস্কোখুস্কো অর্ধনগ্ন
ছোকরা রাস্তায় বিক্রি করে দিতে পারে!












দীপঙ্কর লাল ঝা
Dipankar Lal Jha

Tuesday, May 16, 2017

দু'টো ও দুমুঠো - একটি সিরিজ : সুমন সাধু

দু'টো ও দুমুঠো (১)
বিপরীত আদেখলা সব জমি ছেড়ে দিচ্ছে
অবাক দূরন্ত রাস্তায় দাগ কাটছে আদর আদর মাস
আমাদের সবটুকু নিয়ে এই সা রে গা মা,
দিন শেষের ব্যথার কিনার,
যথোপযুক্ত আছে সবই।
সবই নতুন চাদরের আবেশ,
ঠাসা ঠাসা বই সব, উপসর্গহীন সাদা।
সেইখানে শব্দের মলিন জমা হয়;
আমরা বুঝি দু'টো ও দুমুঠো

আমরা এখন অবোধ শিশু
যাপন করি ধুলো।



দু'টো ও দুমুঠো (২)
এই মন্থর গতি আমাদের চিনতে শিখিয়েছে-
টানা টানা লিখে চলা সুদীর্ঘ গদ্য কলম।
সেভাবে রেখো না হাত
এভাবে মেখো না রোদ
 কবিতার হেমন্তগুচ্ছ নিয়ে এসো আমাদের ঘরে
খাদ্য শষ্য বীজ নিয়ে এসো

ঘরোয়া জ্বর বুঝে নিক কোন এক আট বছর।
অথবা আট বছর আগের একদিন
দিনান্তে বাড়ি ফিরব সবাই
অঘ্রাণের ধান ফুটবে আসমানি কোটরে

চলতি পথ ফিরতি ধুলোয়
একে অপরের পরিপূরক হচ্ছে এ যাত্রা।


Saturday, May 13, 2017

তিনটি লেখায় : সুপ্রিয় চন্দ

অবস্থান
ত্রয়োদশীতে কথা খুব অল্প।
খুব আস্তে আস্তে নিঝুম হতে হয় এসময়,
বাইরের লম্বা রাস্তায়
ধীরে ধীরে সেরে উঠছে সমস্ত চাঁদের আলো
         উলটো দিক থেকে ওষুধবদ্যিকে মনে রেখে
কয়েকটা গাছ নিজেদেরকেই বড়ো করে সাজিয়ে তুলছে

ঘটনাগুলো পড়ে থাকছে এই রাস্তাটাতেই
যেটা আমরা দেখলাম এযাবৎ
                     পাশ দিয়েই চলে গেছে সব ধোঁয়া
যে পথে রওনা হয়েছ তুমি



যেটুকু বলা যায়
অস্ত নেমে আসছে    দূরের সব বিচারে
সংশোধনী প্রস্তাবে
সায় দিচ্ছে না কেউ কেউ
ঢলে পড়ছে সূর্য ক্রমশঃ
কোনরকম পাহাড় এখনো পর্যন্ত      অনুপস্থিত
ওপর ওপর হাঁটি
ভেতরে আসি না  আমি বহুদিন
ভেতরটা ভর্তি ছিল এতকাল


Monday, May 8, 2017

চারটি কবিতা : অরিন্দম ভাদুড়ি

হিংসে
শিরশিরানি হাওয়ায় সোয়েটার খোলা শীত-
হগ মার্কেটের সামনে হরেক সামগ্রীর সওদা!
খেলনা, আমি, আবেগ...
খরিদ্দার তুই আর বসন্ত।

চেনা মোমোর দোকান শেষে গুঁড়ো দুধের কফি,
ভিখারীর আশীর্বাদে হাসিমুখ, সেলফি!

চারিদিকে ছড়িয়ে থাকা জোড়ায় জোড়ায় অভিশাপ-
‘বাজ পড়ুক এই বসন্তে’


Saturday, May 6, 2017

সত্যম ভট্টাচার্য-এর কয়েকটি কবিতা

কয়েকটি কবিতা

এক।
লোকটার কোন স্বপ্ন ছিল না। শুধু বালির পর বালি আর চড়ার পর চড়া। সবাই বলে নদী কোথায় নদী? পদচিহ্ন চলে গেছে নিরুদ্দেশের দিকে। ভাঙ্গা নাও তার...


দুই।
কিছু অচেনা পাখি এসে বসেছে জলার ধারে। কোন দেশ থেকে উড়ে তারা এসেছে জানেনা কেউ। সমস্ত সম্পর্কেরই হয়তো একটি নির্দিষ্ট গতিপথ থাকে। কে তাকে আটকাবে বলো? পুরোনো প্রেমিকার কথা ভাসছে নদীর জলে...


Thursday, April 27, 2017

পুরো – পুরী (৬-৯) : শুভ আঢ্য

পুরো – পুরী

চুরি হওয়া পার্সে লোকটাই, একটা ছুটির স্টল

সেই দিনেকানা লোকটার
সমুদ্র মানে সন্ধের ভাজামাছ আর দারু

চানে উঠে আসছে একটা জেডব্ল্যাক থ্রি কোয়ার্টার
আর হলদে টপ, মেয়েটা সাসপেন্স লেখার সময়
চুলে বালি নিয়ে পুরে দিচ্ছে পরকীয়া,
ফরেন লিকারে

তার পর যা হয়!

বন্ধের পর কথা, দাওয়ার পর খাওয়া

একটা বিবাহিত মহিলা হিতাহিত জ্ঞানশূন্য হয়ে
প্রেমের কথা ভাবছে আরেকটা
অন্তর্কলহের পর ঠাণ্ডা হওয়া চিকেনের
লেগপিস দেখতে দেখতে, চোখ হচ্ছে লোকটার
গ্রেনেড আসার সময় বিচ জুড়ে অ্যাচিভমেন্ট

ব্যর্থকাম কাঁকড়া আরেকটা
ফাইটের জন্য তৈরী হবার আগেই
বুকে লাগা যুদ্ধফুল, শান্তি পাচ্ছে



আমি দেখতে পাচ্ছি মিউট হয়ে যাওয়া
একতা পরিবার পালন করছে ছুটি
সেখানে বারমুডাগুলো ঘোরাঘুরি করছে পাড় বরাবর

একটা ঘরের বউ সবেমাত্র প্যালাজো পরে
রাস্তায় নামল হাত থেকে শাঁখা মুছে
পরস্ত্রী দেখে চোখ জন্মাচ্ছে গৃহস্থের আর
আমিষফুলে জেগে উঠছে হোটেল বিছানা

আমি দেখতে পাচ্ছি সেই বউ চান করার সময়
ভুলে যাচ্ছে মাসিকের কথা, রান্নাচড়ানো ওপেন কিচেন

আর সমুদ্র মনে করিয়ে দিচ্ছে তার বাবাও
তার মাকে নিয়ে সাতাত্তরের মার্চে
করেছিল এমনটাই


Wednesday, April 26, 2017

সেলুন এবং স্বাধীনতা দিবস - রঙ্গন রায়

সেলুন এবং স্বাধীনতা দিবস

প্রথম দৃশ্য
চোচা চলে এসে দাঁড় করালাম সাইকেল। ফাঁকা বসে আছে রামদা। রামদা কোনদিন হাতে 'রামদা' তুলে এগিয়ে এলেও ওকে মানাবে না। সবাইকে সবকিছু মানায়না। এবার প্রস্তুতিপর্ব শেষ। চেয়ারের হাতলে গদির চামড়ার ফাটল বরাবর বেরিয়ে এসেছে হলুদ রঙের স্পঞ্জ, চশমাটা খুলে বসতে গিয়েই চোখে পড়লো সেই স্পঞ্জের গায়ে লেগে আছে কিছু গুড়িগুড়ি চুল। চশমা খুললে অনেক কিছু দেখা যায় এমন একটা কথা মাথায় চিন্তা করতে করতে 'ঝুপ' করে ভুলে গেলাম আমার সাইকেল চলাকালীন মানসিক প্র্যাকটিসের কথা। কি কাটিংয়ে চুলটা কাটতে দেব। কি কাটিংয়ে চুলটা কাটতে দেব?

দ্বিতীয় দৃশ্য
অগত্যা রামদা ছিটিয়ে দিল জলের স্প্রে। তারপর চিরুনি - কাঁচি। আমার ঝরে পড়া চুলগুলোর আনুমানিক বয়স ১৩ বছর্। ১৩ তো আনলাকি বরাবর? জলের চাপে জমাট বাঁধা টুকরো টুকরো চুলের গোছা পড়ে আমার সাময়িকভাবে পাওয়া সাদা রঙের অ্যাপ্রনটা কালচে হয়ে যাচ্ছে। অনেকক্ষণ ধরে নিজেকে পর্যবেক্ষণ করার মোক্ষম সময় এই চুল কাটার দিনগুলি। চোখের তলে কালি পড়েছে, গালে একটা ব্রণ, থুতনির কাছে একটা ছোট্ট তিল, চোখের কোনে এখনো কাতর রয়ে গেছে... শেভিঙ ক্রিমের দাপটে আমার মুখটা এবার ভরে উঠলো। অত্যন্ত নিখুঁত শিল্পীর মত ব্রণ বাঁচিয়ে ক্ষুর চালাচ্ছে রামদা। হাত একটু কাঁপছে কি? ক্ষুর গলায় নেমে এলো। ফেনা গুলো হাতের চেটোয় জমিয়ে রাখছে রামদা। আবার হাত চালাচ্ছে, এত কাঁপছে যে আমার সমস্ত কিছু কেঁপে উঠছে। আর এই কাঁপুনিতে আমার করোটির সমস্ত ঘিলু কুলকুল করে মনে করিয়ে দিলো আমার ভেবে আসা চুলের কাটিং টা, কিন্তু ততক্ষণে আমার চুলের জন্মান্তর শুরু হয়ে গিয়েছে। হাতের চেটোয় জমিয়ে রাখা ফেনায় দাড়ির অংশবিশেষ লক্ষ্য করতে করতে রামদা সেটা চেঁছে রেখে দিচ্ছে একটা ক্রিমের কৌটোর মুটকিতে। ফিটকিরিতে যে কয়েকটা ছোটছোট দাড়ির কুচি তা আমার গালের স্পর্শে চিড়বিড় করে উঠলো, ঠিক তখনই সকালের স্বচ্ছ সেলুনে দ্বিতীয় কাস্টোমারের প্রবেশ।

Saturday, April 22, 2017

তুসা কথক-এর কিছু ভাবনা

তুসা কথক-এর কিছু ভাবনা

তোমার ভেতর থেকে চুরি যাচ্ছে আলোকপ্রাপ্তির রোদ,
বিকেল ভ্রমণে তোমার সম্ভ্রান্ত মগজ বেচে দিচ্ছে ধূর্ত বনিকেরা।

হে মানুষ,
হে পুরাকীর্তির চুরি যাওয়া ইট,
স্বপ্নের অপভ্রংশ, মায়াময় ভ্রান্তি,
কিশোরের মৈথুন শেষের অনুশোচনা,
হে পাপ, হে শাপ,
হে আদমের নিরাশ উপাসনা,
তোমারে অভিশাপ —
তুমি বুড়িগঙ্গার মতো কিংবদন্তী হও,
তোমার জীর্ণ শরীরে ছড়িয়ে পড়ুক অসুখের আরাধনা।

আমি তোমাকে ঘৃণা করি,
শিষ দেই, হেসে ফেলি,
হে শুয়োরের অপ্রকাশিত ক্রোধ,
কিংবদন্তীর ভারবাহী গাধা,
তুমি মরে যাও —
পৃথিবীর হৃদপিণ্ডে ক্রুশবিদ্ধ হয়ে থাকো তুমি অনন্ত বছর।

তোমার হৃদয় পৃথিবীর মাণচিত্রের মতো টুকরো টুকরো হয়ে গেছে,
পাকস্থলী হজম করে নিয়েছে তোমার অনাগত সন্তান,
তুমি বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছো —
মানুষের থেকে তুমি বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছো,
তোমার জন্য প্রেম নয়,
তোমার জন্য মাতৃস্নেহ নয়,
অভিশাপ —
তুমি প্রেমিকার ঋতুস্রাবের মতো আটকে পড়ো সময়ের সুড়ঙ্গে,
তুমি ব্যর্থবীর্যের মতো শুকিয়ে যাও মহাশূন্যের মলাট থেকে মলাটে।

হে মানুষ,
হে বিপর্যয়ের কক্ষপথে আটকে পড়া প্রেতাত্মা,
বহিষ্কৃতের বিলাপ, অপলাপ, সন্তাপ
গোলকধাঁধার নির্জনতম সত্তা।

হে স্বর্গ থেকে নির্বাসিত যুদ্ধবন্দী
হে ক্ষুধার্ত, হে পাকস্থলী,
কোন সভ্যতাই নির্মান করনি তুমি,
গল্পের বুণন ছাড়া —
নারীর স্বপ্নকে গর্ভবতী করা ছাড়া,
ধ্বংস ছাড়া — মৃত্যু ছাড়া,
আর কোন পরিণতি নেই তোমার,
এবার তুমি হারিয়ে যাও
নীল নদের গর্ভের ভেতর লীন হয়ে যাও,
মহাপ্লাবনে তোমার জাহাজ গিলে নিক রূপকথার মাছেরা।

হে মানুষ, হে তুসা,
তোমার ভেতর থেকে চুরি যাচ্ছে আলোকপ্রাপ্তির রোদ,
বিকেল ভ্রমণে তোমার সম্ভ্রান্ত মগজ বেচে দিচ্ছে ধূর্ত বনিকেরা।

পহেলা বৈশাখ/ ১৪২৪
















তুসা কথক
Tusa

Wednesday, April 19, 2017

দুটি লেখা নিয়ে এসেছেন : নীলাব্জ চক্রবর্তী

স্বীকৃতি
সংবেদনশীলতা নামের একটা বাক্সের ভেতর বসে আমরা লক্ষ করছি দিন কীভাবে ছোট হয়ে আসছে। হাতে ধরে রাখা চ্যাপ্টা, চৌকো, ধাতব খণ্ডটা, যার নাম সময়, গলে পড়ছে বাঁকানো লরেল পাতার ফাঁকে ফাঁকে। স্বীকৃতি শব্দটার গায়ে কিছু শীত জমে থাকছে এভাবে। নীল ভাঙতে ভাঙতে দীর্ঘ বাক্য হয়ে যাচ্ছে কেউ। এরকম দিনে নিষ্ঠুরতা পেয়ে বসে। চেইন রিঅ্যাকশন। জটিলতার মধ্যে ওইটুকুই সিমেট্রি রেখে দেওয়া হয়েছে। ফলে, মরশুম জুড়ে দ্রুত হয় এক-একটা অক্ষর। বালিশে চাপা পড়ে থাকলো যে দুপুর, তার স্পর্ধা, একটা রঙ হয়ে। জল সরে যাওয়া লবণপ্রণালীর কথা ভাবো। মনে তার যেটুকু রেখেছো মাংসক্ষেতের ভেতর কুচো কুচো কবিতাভাবনা রেখেছো...



আপনার কবিতাকে জীবাণুমুক্ত রাখুন
এখন দ্বিধা বলতে টানেলের ভেতর যেটুকু রোদ। অন্য কারো ডুয়াল সিমে আপনার বেলা পড়ে আসছে কোথাও। পছন্দ করছে বুনো পাথরের গায়ে পার্পল ছোপ ধরতে থাকা কম্যুনিকেশন। পছন্দ করছে আলগা যৌনতা। ভাষার সবটায় তখন কাঁচ ছড়ানো। স্থিতির ভেতর খুব ছুটতে ছুটতে ভাবছি প্রাপ্তি শব্দটার মানেটা ঠিক কী। লক্ষ করুন, কেমন ফুলে উঠছে রাস্তাটার গ্রীষ্মকালীন নাম। আপনার কবিতাকে জীবাণুমুক্ত রাখুন। ভাবুন, উদ্ভিন্ন একটি বিশেষ অঞ্চলের নাম। তার ছোটবড়ো ছায়ারা শব্দ করে ‘তদনুরূপ, তদনুরূপ’। এভাবে স্তনকে দুপুর লিখি আর খুলে রাখি স্নায়ুদের জলপথ। সিনট্যাক্স ছিঁড়ে ফ্যালাও আরেকটা সিনট্যাক্স…













নীলাব্জ চক্রবর্তী

Nilabja Chakrabarti

Monday, April 17, 2017

বাপি গাইন-এর : দু এক পশলা চিন্তাসূত্র

দু এক পশলা চিন্তাসূত্র


কতরকম বিষই তো এই দেহ গ্রহন করেছে
এই একটুকরো মেঘ আর কতটাই বা মরুভূমি নেবে


অনিশ্চিত এই জীবনের একমাত্র নিশ্চয়তা মৃত্যু। এমন এক বিশ্বস্ত বুক, এমন এক আলিঙ্গন যা একমুহুর্তের জন্যও স্পর্শ ত্যাগ করবে না। এই চরিত্রকেই আমরা খুঁজি প্রেমিকার ভেতরে, প্রেমিকের ভেতরে অর্থাৎ আমরা তোমার ভেতরে মৃত্যুকে খুঁজি প্রতিমুহুর্তে, জীবন খুঁজি না কখনও।


অর্ধমৃত ফুল দিয়ে ঘর সাজাবার আগে, আমি চাই ফুলগুলো গাছেই শুকিয়ে যাক। অন্ধকার হয়ে আছে এমন অনেক গাছ দেখেছি দিনের বেলায়। যেন কেউ শুভেচ্ছা অনুবাদ করতে পারেনি আর শুধু শুধু সাদা পৃষ্ঠা নষ্ট করে গেছে।
তোমাকে ভালোবাসা বোঝাতে গিয়ে তাই গাছ ছাড়া আর কোনো প্রতিনিধি পাইনা। হাঁটাপথে সে বহুদিন থেকে তোমাকে মুগ্ধ করেছে। এতো এতো মুগ্ধতা সামলাতে না পেরে তুমি তার ছোটো একটা হাত ভেঙে টেবিলে রেখেছ। টেবিলের ওপর হাতভর্তি ফুল, মৃত্যুর দিকে দৌড়ে যাওয়া ফুল। ঘর আলো হয়ে আছে, পবিত্র এক গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে মৃত্যুর শরীর থেকে তোমার স্নায়ু পর্যন্ত। তুমি এককাপ চা নিয়ে এই সৌন্দর্য্য সহ্য করছো বিকেলের আলোয়। ওদিকে যার গেছে তার বেদনা ফোঁটা ফোঁটা ঝরে পড়ছে রাস্তার ধুলোয়। এইপথে কাল আবার তুমি টিউশনে যাবে আর দেখবে ভাঙা ডালের পাশে এখনও অনেক ডাল। এখনও যথেষ্ট ফুল। তোমার মুগ্ধতা আগের মতোই তোমাকে মৃত্যুর প্রতি অন্ধ করে রেখেছে।

Wednesday, April 12, 2017

দুটি কবিতায় : রিংকু কর্মকার চৌধুরী

বিচ্ছেদ

বিচ্ছেদ চেয়েছিলাম শুধুই
পিছুটানহীন দিনে।

এগিয়ে গিয়েছি সামনে।

অনুপস্থিতির খাতায় নতুন করে
নাম তুলে দিয়ে

তারপর,

আমরা যে যার মত ফিরে গেছি
অন্ধকারাচ্ছন্ন।




Monday, April 10, 2017

আবার দুই মেঘপারা মেয়ে : মনোজ দে

মেঘপারা মেয়ে ৯

যে সমস্ত শব্দ
উচ্চারিত হল না তোমার পাশে

ইমেজের ভেতর অথচ       সাবলীল
ঘর হয়। মেঘ হয়। ঋতু হয়

ও মেঘপারা মেয়ে
টেলিফোন বলতে বলতে
যারা জন্ম ন্যায়
সমস্তটাই ব্রথেল?



Thursday, April 6, 2017

কাঞ্চনজঙ্ঘার ছায়া : শোভন ভট্টাচার্য

কাঞ্চনজঙ্ঘার ছায়া

তুষার বাহিত হাওয়া
এখন শাসন করছে রাত্তিরের ম্যাল।
সমস্ত টুরিস্ট প্রায় ফিরে গেছে হোটেলের ঘরে।
লামা সাধুদের মতো জেগে আছে সারিবদ্ধ পাইন।
কাছে দূরে উঁচুনিচু সমস্ত পাহাড়
প্রাণের প্রদীপ যত জ্বেলেছিল মোহিনী সন্ধ্যায়
একে একে নিভে আসছে সব।
দার্জিলিং ম্যালও তার বাণিজ্যিক বাহু
গুটিয়ে নির্বাণ মন্ত্রে ধ্যানস্থ এখন।

#
ব্রিটিশের ভূত আছে এই দার্জিলিং-এ;
‘কাঞ্চনজঙ্ঘা’-র ছবি বিশ্বাসসুলভ বাঙালিরা
এখনও সপরিবার ছেলেমেয়েজামাইশ্যালক
সমেত প্রতিবছর এখানে আসেন।
থাকেন ব্রিটিশ-ধাঁচে বানানো বাংলোয়।
খাদের রেলিং-ঘেরা সবুজ লবিতে টি-টেবিল
তাদের মহৎ-জন্ম-যাপনের সেরা অবকাশ।

#
আর আসেন নিতান্তই মধ্যবিত্ত শ্রেণি।
সারাদিন এই ম্যাল তাদের কেনাকাটায়, ক্যাচোরম্যাচোরে
চেনা যায়না পাহাড়ের কোনও শীর্ষ ব’লে।

#
আমি নিজে এর আগে দু’বার
দার্জিলিং জেলার সবচেয়ে
উঁচু যে পাহাড়ে থাকে মানুষ, সেখানে
পাঁচদিনের পায়ে হাঁটা পথ ঘুরে ফেরার সময়
শহরে নেমেছিলাম।
কেভেন্টার্সে কফি, গ্লেনারিজে ব্রেকফাস্ট
খেয়েও আমার মন ভরেনি ততটা।
মায়ের চাদর আর বাবার জাম্পার
কিনে ফিরে গেছি অসহায়।
কিন্তু আমি সতত নিশ্চিত
এবারে যে সৌভাগ্যের অধিকার নিয়ে আমি এখানে এসেছি
কাঞ্চনজঙ্ঘার মুখ না দেখতে পাওয়ার গ্লানি তুচ্ছ তার চেয়ে।
কেননা এবার বউ-মেয়ে
ছাড়াও সফর-সঙ্গী বাবা-মা আমার;
যে বাবা-মা ইতিপূর্বে হিমালয় পাহাড় দেখেনি কোনও দিন;
আজ আমি তাদের এক কৃতার্থ সন্তান।
কাজেই এ শুধু একটা ভ্রমণকাহিনিমাত্র নয়;
এ এক প্রেমিক, পিতা, পুত্রজন্ম সিদ্ধির বিষয়।

Thursday, March 30, 2017

ফাগুন হে : বেবী সাউ

ফাগুন হে

.
আমার শূন্য অন্ধকারে তোমার বারবার প্রলম্বিত পায়ের শব্দ বেজে ওঠে। নদীর দিকে হাত বাড়াই; বিস্তারিত রোদে ভরে আছে জল, কুসুমিত বন। বনের অসংখ্য গন্ধে গতরাতের মৃতদেহ। আত্মশুদ্ধি কী একেই বলে তথাগত? একে বলে বিরহের কারুকাজ? ছেড়ে আসা পলাশের ফুল সকাল সকাল নাইতে যাচ্ছে রোদের জলে। আলনার পুরোনো আসবাব ভাবছে এই তোয়ালে ঘিরে তৈরী হোক জন্ম মরণ। এইসব কাঠ জন্ম, পার্কের চেয়ার, ডিমনার লেক ছাড়িয়ে একমাত্র সত্য হচ্ছে গোচারণের মাঠ। নক্ষত্র ফুল হে! একটি নামে ঢাকা থাক অজস্র স্মৃতি, মনের দু'চারটে বিভ্রম।


.
সমস্ত দোষারোপ ঘিরে এ বসন্তোৎসব। এতো এতো পালকের ভ্রম, ঝরে যাওয়া পাপড়ির বিশ্বাস – হিসেবের খাতাতে শূন্য পড়ে অধিক। জমে ওঠে গতকালের শীত। স্থির তামসিকতায় তোমার সাধনা গৃহ পরিপূর্ণ হয়ে ওঠে। পাঁচ আঙুলে ঘোরে গ্রহের ভাগ্য – ঘুরতেই থাকে। ছায়াগাছ ঘিরে তোমার প্রদক্ষিণ – দেখো, মৃত সাপেরা বমি করছে চন্দনের গন্ধে অকালে।

Sunday, March 26, 2017

দুটি লেখা নিয়ে এসেছেন : সুমন সাধু

 কাল, কালের গর্ভ

তাকে খুঁজেছি আরামকেদারার ছাদে। খুঁজেছি আরামে বেশ। দশকনামার ফাল্গুনে আঁজলা ভরে স্নান দিয়েছি কয়েক। আমি কি ভুলেছি হিংস্র স্তাবকতা! ভুলেছি কি শিশুমঙ্গল ঘ্রাণ! জীবদ্দশায় আমরা পেলাম শক্তি, ঊর্দ্ধে গাইলেন রামপ্রসাদ।

বিশ্বাসের আঁকাপথে তর্ক করছি রোজ। সংক্ষেপে কথোপকথন সারি। শাড়ি গায়ে রোজ আলতার আলতো ছাপ দেখে ভেবে নিই জোয়ার এল বুঝি। হারতে থাকা তর্কের নিম্নে এসে মধ্যভাগ খুঁজি। একপাশে থেকে যান আবিষ্কর্তা, সন্তান স্নেহে ঘুমোন ভারতচন্দ্র।

নদীর মতোন একটা নদী উপহার দেব বলে কেন্দ্রের ওংকার জুড়ে ঘেমে উঠি। ত্রিলোককর্তা ছদ্দবেশে বেশ আসা যাওয়া করেন। ঘামজলে দুটো নৌকো ছাড়ি। একান্তে উঠে আসে কঠোপণিষদ স্তোত্র। স্তোত্রের আবহ জুড়ে শাঁখ বাজিয়ে প্রমাণ করি নদীর মতো তীব্র হওয়া একটা বিশ্বাস। বিশ্বাসের সীমান্তে এসে নারদ রূপে মজা পাই, আড়ালে নীলকণ্ঠ মুচকি হাসেন।


Friday, March 24, 2017

চারটি লেখা নিয়ে এলেন : সীমিতা মুখোপাধ্যায়

আমার প্রথম কবিতার বই

আমার প্রথম কবিতার বইটি হয়ত এখনও
তোমার ঘরে

চুপচাপ লক্ষ্য রাখছে তোমার পালতোলা যাপনচিত্রে,
মিলিয়ে নিচ্ছে সরলের বেজন্মা নিয়ম-কানুন,
তোমার সময়নদী বয়ে যাচ্ছে অন্যখাতে...

তুমি খেয়াল করছো না

আমার বইটি, একদিন দেখো, ধুলো ঝেড়ে উঠে পড়বে ঠিক;
ভোরবেলা তোমায় ঘুম থেকে তুলে বলবে - চলি!

আমি ওর কাছ থেকে শুনে নেবো তোমার 
গুহাজীবনের আদিম রহস্য,
তারপর ইতিহাসের পাতা থেকে ছিঁড়ে নেবো
পৌরাণিক কিছু প্রতিশোধ -

কিছু খুদকুঁড়ো ভালোবাসার লোভ,
আদরের মতো মিষ্টি কিছু শব্দবন্ধ...

বন্ধু, ভালো থেকো!



একটি অস্থির বিড়াল

ওইযে বেড়াল,
সারাদিন এবাড়ি, ওবাড়ি, সেবাড়ি;
তোমরা দেখছো -
মাছের কাঁটা, খাম - খেয়াল, নি:শব্দ চলাফেরা...

আসলে বিড়ালটির তিনদিকে তিনটি ভূখন্ড
আরসে থাকে মধ্যবর্তী কোনও এক না-মানুষের রাজ্যে,
যে কোনও সীমান্তে তার প্রবেশ অবাধ!

অথচ, একটা রিফিউজি বেড়াল ষোলো আনা জানে,
'
বিতাড়িত' শব্দের আসল মানে...



Tuesday, March 21, 2017

সিরিজ কবিতা: পুরাধুনিক ডট কম এবং... : অভিজিৎ পাল

সিরিজ কবিতা: পুরাধুনিক ডট কম এবং...

১.
অনেক দিনের পর ফিরে আসি। জটিল আবর্তগুলো আবার মুখ টিপে হাসে। আজানুলম্বিত উদাত্ত প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ভেঙে দেওয়ার আনন্দময় বিষাদে সেজে ওঠে ক্যানভাস। রঙ মাখি। রঙ মাখাই। ভালোবাসার লাল রঙ। ধূমল বাতাসে ভেসে আসে স্মৃতি অনেক। আমার ব্যর্থতা হতাশা নৈরাশ্য আসছে এবার। অধ্যাপনার কাজের মধ্যে ডুবে মরতে মরতে জীবনবাদী একটা গল্প লিখতে ইচ্ছে করছে। নিজের গল্প। একান্ত। আত্মসম্পর্কের আত্মজীবনী নয়। আকাশ ছুঁয়ে বাঁচতে চাইছি এবার। নিজের মতো করে। স্বপ্নভঙ্গ হলে জানাবো সবই একদিন অমোঘ ভবিতব্য বলে পুরাধুনিক পাঠের সিলেবাসে লেখা ছিল। সমস্ত জৈবলিপির পাঠোদ্ধার আমার পক্ষে এখনও সম্ভব হয়ে ওঠেনি...



২.
ভুল শব্দের মতো কথা বলছেন মহামান্য। ক্ষমতাহীনের মতো চুপ করে মেনে নিচ্ছি দ্বিচারীব্রত। আমার মানসপটে জেগে উঠছে ব্রহ্মবাদ। আমি পাঠ নিচ্ছি। একে একে জেগে উঠছে সম্পর্কের মুখগুলো। আমি বিষাদ আঁকছি। আমার জন্য অপেক্ষা করছে একটা সুবৃহৎ আমি। দৈব ভাষ্যমতে জটিল অদ্বৈতপাঠে ঋদ্ধ হতে হতে সেজে উঠছে দাগ। অম্লমধুর প্রেমের রতিবিলাস শুধু তোমাকেই দেখিয়ে বলে দিচ্ছে। সার্বিক কামানুভব চুষে খাওয়া যেতে পারে মেকানিক্যাল আঙ্গিকে। আমার মানসলোকে হেঁটে আসছেন তিনি। জানু পেতে বসছি। শুনেছি এভাবেই তাঁর কাছে বসতে হয়। ভ্রান্তিপথ হারিয়ে যাচ্ছে ক্রমশ। কাঙ্খিত শুচিতা পবিত্রতা অর্জন করতে শিখছি মাতৃত্বে। মানের মিথ্যে ভোরাই অন্ধকার কেটে আসছে বারবার...