Skip to main content

Posts

Showing posts with the label কবিতা



তিনটি কবিতা : সায়ন্তন গোস্বামী

মানুষের কথা
মানুষের কথা বুঝতে পারছিনা।
আমার কাছে এসে বসা তোমার উচিত হবেনা।
ঘরের ভেতর হাঁটাহাঁটিগুলো পর্যন্ত জটিল হয়ে যাচ্ছে।
কী যে এক ব্যান্ডপার্টি চিন্তা টাকাপয়সার, তুমি
শুনলে জানলার বাইরে তাকিয়ে রুমাল দিয়ে
মুখ মুছে নেবে।
নভেম্বর জুড়ে ওষুধের ফর্দের ওড়াওড়ি শীত ঢেকে দিল।
সারারাত পাতা ঝরেছে। রাস্তার ছবি তুলে
কয়েক ঘন্টার সুখ, এইসব ভাবি।


শত্রুমাছ

তোমার দু'চোখে দুটি শত্রু মাছ
বহুদিন ধরে সাঁতরে বেড়াচ্ছে
নিজেকে অন্ধ করে বের করো
ওদের, রুলটানা দিস্তা কাগজে
খেলাও বহুক্ষণ, ছড়িয়ে যাক
আঁশের রুপো, ফাতনাকারুকাজ
আর লক্ষ্মী, লক্ষ্মীমন্ত মেয়ে
বলে তোমাকে সবাই আরো
একটু মেরে ফেলুক, ওই গহ্বর
চোখযুগল থেকে স্থলপদ্ম<

কাকাতুয়া-বন ও অন্যান্য ৪ : দীপঙ্কর লাল ঝা

কাকাতুয়া-বন ও অন্যান্য ৪

এই কিছুক্ষন হলো আমি ডালভাত থেকে আলুভাত ছেড়ে উঠে বসেছি। বুক শুনে মনে হচ্ছে কোনো এক সুদূর প্রান্তে এক সিমেন্ট ফ্যাক্টরিতে রমেশ আর যোগেশ এর জিভ থেতলে গারনীশ করা হচ্ছে বাড়ি। আর ওদের বউ চুল থেকে চিমনি তুলে নিচ্ছে। টাং করে লাথি মেরে লাল্টু মাঠে দৌড়ে চলে যায়। আজকাল কে বমি লেখে? লেখে কেউ? লেখে কোন চুল্লুখোর? নিজের পেট কেউ নিজে করে মালিশ? এসব প্রশ্ন আমি তো গুপ অন্ধকারে যেতে যেতে ঈশ্বরকে করতে দেখি। বৃষ্টির কিনারা পালিশ করতে করতে যারা ভুলে গেছে জুতোর খিদে, হা করে থাকে জানালা। আপনি কেনো ওকে নিয়ে যান সবখানে, কি দোষ করেছে ও? ওরও তো ইচ্ছে করে কাজের মাসির হাত ধরে দাঁড়াতে। বলি, এইসব ছিঁড়ে যাওয়া, পিছলে যাওয়া দেখে বন্যাও তো একটু সাবধান হতে পারতো চলাফেরায়। কেউ কিছু বলছে না জন্য গাছের মাথায় চেপে বসেছেন। জানলার ধীরিমে সুকল্যাণ ঘরে বসে আঁতকে ওঠে, জিজ্ঞেস করে 'কে রে?'
উৎপল বলে "হাওয়া"। এতো সহজে কেউ কিভাবে বলতে পারে কিছু? একজন চরম যুদ্ধের রাতেও এভাবে বলেনা। সেনার  চোখ ফুটো করে আমরা গুলির নির্যাস রাখি কোটরে। আমাদের কাঠ-ঠোকরা বলবে? এই হওয়া একজন বিরাট দম্ভ রাজার মতো ঘর…

তন্নো রতি প্রচোদয়াৎ ও শাহাজাদীর মণিপদ্মে : অভিষেক রায়

তন্নো রতি প্রচোদয়াৎ
ঘাসিয়ারা কেটে নিয়ে যায় নিত্যপ্রয়োজনীয় ঘাস
পারমাণবিক বৃষ্টি পড়ছে চন্ডীদাসের স্ত্রীর ব্রা ভেদ করে
কাটাকুটি হতে হতে হতে হতে
সার পড়ে থাকছে যা মহাজীবনের
ভাললাগে সন্ধিপদ
ত্রিনয়না দেবীকে স্মাজ করা অহরহ
ও অন্য কিছুই ভাললাগে না জলপাইগুড়িতে
ব্রাহ্মমুহূর্তে নগ্ন হয়ে বসে থাকা তাবুলার ওপর
নক্ষত্রখচিত দিবায় দিবাকরের-ই পায়ের ওপর পা তুলে
পোকামাকড় উড়িয়ে দিতে দিতে
এইসব ফেস্টিভ্যালের ভেতর
আমার ভাললাগে না মধুমিতা শুকনো পাতার পাশ দিয়ে বয়ে চলেছে সবুজ
আমার দেখা হয়নি কত জন্মান্তর ধরে



শাহাজাদীর মণিপদ্মে
স্রেফ দুটি মেয়ে রেলাদ্র, তাদের সঙ্গেই কথা বলব, বেরোচ্ছে ইস্কুল থেকে
জং ধরার বড় গল্পে
প্রকৃত তাড়া খেয়ে হৃদয় বেয়ে উঠে যাচ্ছে
যে গাছে অজস্র উডপেকাই
অভিজ্ঞা ব্যাঙ্গমী শোল মাছের ঝোল রাঁধছেন
মশলায় ও দূরবীনে

রাতসুখ ও যা কখনো ভাবিনি : পৌলমী গুহ

রাতসুখ
এক. পায়ের ওপর পা অথবা টায়ের ওপর টা কিংবা কোনোটিই নয়! এখন ঘিলুতে সেঁধোলাম। রাত বাড়লে জানান দেবো, যেমন করে গেঁটে বাত মনে করায় পুরনো পাপ? কবে দেখেছিলাম এক তিলফুল কার বুকের খাঁজ বেয়ে ঘামেভেজা চকচকে জোড়া পাপ। হিসেব লিখব বিছানা-বালিশে সকালে সব ভুলে যাবো!
দুই. গতরাতে আমার ঘরে আষাঢ় ছিলো। আরও পূর্বে... পূর্বে... পূর্বরাতে সেবন করলাম ফোঁটা ফোঁটা। কল্যবর্তে গোটা মেঘখানা গিলে নিলাম। আজ রাতে ঊরু বেয়ে টপটপিয়ে আষাঢ় নামবে…
তিন. মেলোডি মাহ্ সুইট! এট্টু আস্তে অল্প করে, একবারে অতটা নয়। গিলো না। গিলো না। সোনা আমার! নোওও! দাঁত নয়! ছিঁড়েকুটে যাবে। বোঝো এ প্রেম, নট্ যুদ্ধ। শোষণ নয় প্রেম, এ স্রেফ বিগলিত চোষণ!!


যা কখনো ভাবিনি আমাকে দু'এক পিস গান দিও। তাতে সুর বসিয়ে আমি নিজের বলে চালাবো। এঅব্দি যা যা বলেছ তাই করিনি অথচ করতেও পারতাম! এটা বিশ্বাস করেই মেঘ মেঘ ক্ষত ঢেকেছ। গান থেকে সুর সুর থেকে শব্দ তার পর কবিতা, সেখানে জ্বর দুধের বোতল, কলপাড়ের ঘটাং ঘটাং, সিম্ফোনি হয়ে ক্যাকোফোনি। তুমি কি ভেবেছিলে স্টেশনবাজারের সব্জিওলা আদতে এক কবি?














পৌলমী গুহ Poulami Guha

একটি ভ্রমণকাহিনী : সুপর্ণা মন্ডল

একটি ভ্রমণকাহিনী
১. ১ নম্বর ভ্রমণের শুরুতে একটি অদ্ভুত নাম চোখে পড়ে। উকিলনাড়া। অটোঅলা ঠিক ৮ মিনিট পর অটো ছাড়বে আর তুমি ছাড়বে এই সরাইখানা। দুটো ছাড়ার মানে এক হতেও পারে হয়তো বা!
২. কি যেন একটা কাজে মশগুল মেয়ে থোড়াই কেয়ার রাস্তা পেরোবে। অটোঅলা কর্কশ হর্ন, তুমি সম্বিৎ ফিরে পেলে থমকে দাঁড়াবে না। বরং নাচতে নাচতে চলে যাবে ওই পারে। তোমার প্রজাপতি নাচ দেখতে পাবে না আমার সহযাত্রীরা। ওরা কায়েতপাড়া মোড়ে নেমে গেছে। আচমকা শব্দটা ওদের জন‍্য নয়।
৩. ধুলোয় পড়ে থাকা বেওয়ারিশ রুমাল শুধু নীল রঙের বলে কি কুড়িয়ে আনা যায়? আজ অব্দি তুমি ঠিক যতগুলো রুমাল হারিয়েছো তা কোন না কোন পথের ধুলো খেয়েছে তো? আমিও ধুলো খাবার ইচ্ছায় তোমার হাত থেকে ফসকে যাই এক রকম। আর নীল রং হালকা হতে হতে আকাশি হয়ে যায়।
৪. আকাশি মিলিয়ে যেতে যেতে সাদা। ধবধবে সাদা চুল সাদা থানের উপর পড়ে আছে। কতদি-ন ধরে ওভাবে পড়েই আছে! অথচ বয়স বাড়ছে। সাদার চেয়েও বিবর্ণতর উজ্জ্বল রং আজ পৃথিবীতে।
৫. অকালপক্ব স্কুলবালিকার রিক্সাওয়ালা কেন খুনখুনে বুড়োই হয়? এ কথা জয় গোস্বামীকে শুধানোর আগেই স্টেশনে রাণাঘাট লোকাল ঢুকে পড়ে। দেখতে পাই সেই পাকা মেয়েটা মেঘবালিকার স্বরে ঝাল লজেন্স…

চাষাড়ে অস্হিকল্প / হিমশীতল মাংসমজ্জা ও গর্ত : সায়ন ঘোষ

চাষাড়ে অস্হিকল্প / হিমশীতল মাংসমজ্জা যে ছাদে আমি রোজ উঠি তার স্হাপত্য ভেঙে গড়িয়ে যাচ্ছে সূর্যের ন্যাড়া মাথা আমার পায়ের কাছে একটি কালো পিঁপড়ে ধূসর ছাইয়ের মধ্যে পথ হারিয়ে ফেলছে ধরে তার অনৈতিক পথ অবরোধে আমার মুখের ভেতর থেকে থুতুর দলাটা ঝুলছিল ক্যামন সেই সেতুর চারমিনারে আটকে পড়ে আছে চতুর শব্দের লকআউট কারখানায় শব্দপিষ্ট শ্রমিকের হাতের চেটোকে আমি বড় ভালোবাসি বাদামী পিয়াসী ত্বক খেজুর আলোয় উপবাসী মৃগরাজ তার শীলাভূত অস্তিত্বের নরকঙ্কাল কবিতার জঠরে শুকনো নৈশাহার আর আলোর অভ্যন্তরে নির্বাসিত বাতিল ছায়াগুলোই আমার পছন্দ। আমার ঘণ্টা বেজে গ্যাছে কোনো সন্দেহ নেই আজ দ্বিপ্রহর এখন চিত্রকর আমার ছাদের দেওয়ালে কতগুলি ছবি এঁকে চলে গ্যাছে ধাতুপাতে মুদ্রায় নিহিত ঋজু ও শিলমোহরে, ছায়াতাপ নক্ষত্রে, শাশ্বত ও আত্মস্থব্রহ্মজ্ঞানে - কোনো অসুস্থ নারীকে আমি আমার কোলের কেন্দ্রে রেখে শুশ্রুষায় সারিয়ে তুলবো তার বিকেন্দ্রীত শরীর আলোর ঝালিমায় উদ্বেলিত তরঙ্গ নেপথ্যে ফেলে রেখেছে মানুষের পূণর্বিকাশ ও ইন্দ্রিয়ের যথার্থ ব্যবহার আর প্রজ্ঞানযান প্রজননমালা থেকেই আমি হেঁটে চলে যাই ওয়েলিংটনে বন্ধুরা দাঁড়িয়ে আছ…

মেঘপারা মেয়ে ১১, ১২ ও ১৩ : মনোজ দে

মেঘপারা মেয়ে ১১
স্পর্শ রাখো। তবু ছোঁয়াচে হ'লে না
যে ফুল বিকেলে ফোটে উড়তে শিখেনি যে চিঠি এত অক্টোপাস। আয়োজন
কিশোর দৃষ্টির পাশে কারা যেন                 তোমার অক্ষর রেখে যায়




মেঘপারা মেয়ে ১২
অনুপস্থিত।  উদগ্রীব হয়েছ তাই
ভুলে যাওয়া নয় মুছে যাওয়া নয়
ও মেঘপারা মেয়ে অহেতুক, কতবার আর ডাকা যায়




মেঘপারা মেয়ে ১৩
কেউ আর কথা বলি না, এখন
রিসাইকেল পেপারব্যাক কভার ভেতরে সভ্যতা। পাতার রোদন ছিঁড়ে                                            আঙুলে বসাই
ও মেঘপারা মেয়ে আমরা এভাবেই পরস্পরের কবিতা লিখি


(মেঘপারা মেয়ে ১-৩) | (মেঘপারা মেয়ে ৫-৬) | (মেঘপারা মেয়ে ৭-৮) | (মেঘপারা মেয়ে ৯-১০)











তিনকাল : সুপ্রিয় মিত্র

তিনকাল ১. মাঝেমাঝে চিঠি আসে... কী বলো? কেমন আছো? চেনা বন্ধুর সাথে কথা হয়? নানাবিধ প্রশ্নের পরে শব্দের স্ফীতগাঁট শিথিল হয়ে আসে, আমাদের উত্তর ক্রমশ এ পাড়া থেকে জেলা হয়ে জেলা থেকে অন্য এক জেলার নদীর এপাড়ে এসে ওপারে আলাদা হয়ে যায়...
সাপের জিভের মতো যে রাস্তা সোজা হয়ে দুই পাশে চিরে আরও সোজা হয়ে দূরে চলে গেছে যতটুকু চোখ যায়, সেখানেও নদীভাব... ফুটপাত পৃথক হয়ে নুড়ি ধুলো চালাচালি করে, দ্বিমাত্রিক ব্রীজ হয়ে জেব্রা ক্রসিং আসে পারাপারে কথাটুকু বলে....
এসবও তো ভাগাভাগি... শব্দ, পায়ের ধুলো, কামাশ্রু, বেদনা বিপাক
ওদের কপালজুড়ে ব্যথার সড়ক খোলা থাক!

২. পাগল ছেলেটি এর কিছুই বোঝেনা প্রভু চিঠির কাগজ মুখে ঘষে নিয়ে নাক মোছে পারাপারও ভুলেছে স্বভাবে 'স্বজন' শব্দ শুনে আকাশের দিকে পাতে কান দু চোখ চেঁচিয়ে দ্যাখে পা... আমরা তো - যা গেছে তা যাক
সমস্ত ধারা ভেঙে, পাগল লোকটি এক নিরাকার পাগলিনী পাক....

৩. পত্রপাঠের শেষে তোমায় সম্বোধনে নিজেকেও ডেকে ফেলি প্রিয়... সে ভুলের ক্ষমা হউক, চিঠি পেলে উত্তর দিও, প্রভু চিঠি পেলে উত্তর দিও....










সুপ্রিয় মিত্র

সুমন সাধু'র কবিতা

সুমন সাধু'র কবিতা
১ আলুসেদ্ধ, পোস্ত বাটা আর ভাত করে রেখেছে মা
আরামে খাই, স্নান সারি।
তারপর স্কুল, অফিস আর রান্নাঘর- এই আমাদের অসম্ভব থাকা।
কিছুবা ছাপোষা কিছু মধ্যবিত্ত
রাতে সবার দেখা হলে বাড়ি ভর্তি উঠোনে আমাদের পায়ের ছাপ পড়ে থাকে।
আমরা জানি, আমাদের কোন ছাতা নেই, একটা বিশাল আকাশ আছে।
২ আমরা যদি দিয়ে শুরু করলে আহাম্মকের দল রেললাইন দেখতে ছুটে যায়। তার পাশেই তৈরি হচ্ছে প্রতিমা। প্রতিমায় চোখ বসাই, সাজ দিই। মা আজ পুরনো হিসেব নিকেশ নিয়ে বসবে, আমায় থাকতে বলেছে। পুজো মিটলেই এ বাড়িতে বিয়ে। বাবা দাগিয়ে রাখছে ক্যালেন্ডার আর আমার চোখ যাচ্ছে দূরের কোন এক ভাদ্রে। জেনে গিয়েছি মলমাসে নাকি বিয়ে হয়না।
৩ ছাদ আসলে কেমন জেনেছিলাম ইমরানদের বাড়ি গিয়ে। ওদের ছাদ বহু বহু পুরনো ধুলো জমিয়ে রাখে, ইমরান সেসব দেখে প্রতিদিন। দূরে একটা মালগাড়ি হুশ করে চলে গেলে ধুলো উড়ে যায়। আমাদের বর্ষাতিগাছ ক্রমশ মরে যাচ্ছে ; আবহাওয়া দপ্তর বলেছে বৃষ্টির সম্ভাবনা কম। এই বাড়িতে প্রতিমা গড়ার মধ্যে আধখানা চাঁদ ঢুকে পড়ে। আবহাওয়া বলতে ইমরান বোঝে শুধু ঈদ, আমি তার অংশ হয়ে সিমুই খাই। ইমরান বলতে আমি শুধু বুঝি আস্ত একটা ছাদ; যে ছাদে আশ্বিন মাসে …
Like us on Facebook
Follow us on Twitter
Recommend us on Google Plus
Subscribe me on RSS