Showing posts with label গদ্য. Show all posts
Showing posts with label গদ্য. Show all posts

Monday, June 19, 2017

অনন্ত এবং আমি, আমি এবং অনন্ত : রঙ্গন রায়

অনন্ত এবং আমি, আমি এবং অনন্ত

একটা নাটকে আমায় 'অনন্ত' নামে একটি চরিত্র দেওয়া হয়েছিল। আমি কিছুতেই চরিত্রে ঢুকতে পারছিলামনা। রিহার্সালে কথা শুনতে হত - 'তোমার দ্বারা কিস্যু হবেনা।' তারপর যেদিন আমি অনন্তের ভিতর ঢুকলাম অনন্ত আমার ভিতর ঢুকে বসলো। আর সে নড়তে চায়না। আমি এবার বের হতে চাইলাম। পারলাম না। পাগলের মত আয়নার সামনে দাপাদাপি করে অনন্তকে টেনে হিঁচড়ে বের করতে করতে রেডিয়ামের মুখোশ পড়ে বেরিয়ে আসলো অনন্ত – ওর চোখ আমার মত, নাক আমার মত, কান আমার মত, সবই আমার মত। আমি আয়নায় তাকালাম – আমার মুখটা ধীরে ধীরে মুখোশ হয়ে যাচ্ছে। অনন্ত বেরিয়ে এলো, আমার মুখটাকে নিয়ে অনন্ত চলে গেলো। তখন থেকেই আমি আমার আসল মুখটা খুঁজে চলেছি… সদর গার্লসের নীলসাদা পোশাকের বালিকাদের দেখি – ওরা আমায় দেখে সভয়ে নাক সিঁটকে সরে যায়। আমি করলার উপত্যকায় দোলনা ব্রীজের নিচে শুয়ে থাকি, সূর্যের দিকে আমার শরীর উন্মুক্ত থাকে…

আমার বড় বড় চুল দাড়িতে আটকে থাকে নাটকের প্রপস্… মুখোশটা খুলতে পারছিনা বলেই আমায় কেউ কোন নাটকের দলে নিচ্ছে না। আমি গ্রীনরুমে ফিরে যেতে চাই, আয়নার পাশে বাল্ব-মেকআপ কিঞ্চিৎ বুক দুরুদুরু… নাহ্, মাথার ভেতর সব গন্ডগোল হয়ে যাচ্ছে। আমার সমস্ত শরীর মানুষের মাংস দিয়ে তৈরী, নীল রঙের লুঙ্গিটা খসে পড়লেই আদিম পোশাক পড়ে দাঁড়িয়ে থাকবো ট্রাফিক সিগন্যালে… আমার ঠোঁট অনেকদিন সিগারেটের ছোঁয়া পায়নি, কিন্তু মুখোশ সিগারেট খাচ্ছে দেখলে অনেকে লজ্জা পেতে পারে - অনেকে ভয় পেতে পারে - অনেকে অস্বস্তি বোধ করতে পারে... সবার চিন্তা আমার মাথায় এসে জট পাকাচ্ছে কেন?

সাবধান!  দেশপ্রিয় পার্ক আসছে। ট্রামলাইন থেকে ছড়িয়ে পড়তে পারে স্বাধীনতা।

স্বাধীনতার ওপারে দাঁড়িয়ে তাকিয়ে রয়েছে অনন্ত। আমাদের আশেপাশে ঘুরে বেরাচ্ছে ওয়ার্ম হোল। অনন্ত ঢুকে পড়ছে আর বেরিয়ে আসছে। মুখোশ মুখ নিয়ে চলে এলাম অডিটোরিয়াম। সমস্ত উইংস জুড়ে অজস্র মানুষ এসে মিলিত হচ্ছে ফোকাসে, শাওয়ার হলো বেবি ফলো এবং স্পটলাইট জুড়ে নাটক এগিয়ে চলেছে। অনন্ত ফিরে আসছে, কন্ট্যাক্টলেন্স থেকে ঠিকরে বের হচ্ছে কাল্পনিক অশ্রু... দর্শকাসন ছুড়ে দিচ্ছে করতালি। পর্দা সরানোর খেলা খেলতে খেলতে সার্কাসের বাঘ ঝাপিয়ে নামলো আর নাটক দেখার অপরাধে আমার হাত পৌঁছে গেল আইনের সাথে করমর্দনে। বলুন ধর্মাবতার, আমি গরু খাইনি শুয়োর খাইনি  নাটক দেখেই বিচার পেয়ে গেলাম! তারপর দেখা গেল অনন্তের মাথার মধ্যে এসে পড়েছে সকালের আকাশে টাঙানো রোদ - মাথার ছায়ায় ঢেকে যাচ্ছে আমার ধড়।

আমি ক্রমশ ঢাকা পড়ে যাচ্ছি। আমি ক্রমশ একা হয়ে যাচ্ছি। আমি ক্রমশ দূরে চলে যাচ্ছি।

ফাঁকা মঞ্চ। অন্ধকার্। দৃশ্যপট নেই। উইংসের আড়ালে প্রম্পটার নেই। গ্রিনরুমে আর্টিষ্ট নেই। অডিটোরিয়ামে দর্শক নেই। একটা সরু আলোর রেখা নেমে আসছে ধীরে ধীরে, সেই আলো জুড়ে ওড়াউড়ি করছে হাজার প্রজাপতি। আমি সমস্ত আলোটা নিতে চেষ্টা করছি। মাথাটা ভারী হয়ে আসছে, যেন এই মাত্র মস্তিষ্ক ফেটে বেরিয়ে আসবে অভিনয়, আর অভিনয় মানেই অনন্ত… সমগ্র থিয়েটারে অনন্ত ছড়িয়ে পড়েছে... সেধিয়ে যাচ্ছে অনন্তে…













রঙ্গন রায়

Rangan Roy

Tuesday, June 13, 2017

বিদিশা কোত্থাও নেই : সুপ্রিয় সাহা

বিদিশা কোত্থাও নেই
প্রত্যেকটা ধারনাকে ভেঙে দিতে প্রমান লাগে, প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ। কিছুদিন যাবত পর্ণ সাইট গুলো ঘাঁটতে ঘাঁটতে আমার জন্মগত ধারনা ভেঙে যাচ্ছে যে, ওরাল সেক্স শুধুমাত্র বহিরবিশ্বেই বহুল প্রচলিত, সেখানকার ছেলেমায়েরাই তাতে স্বাভাবিক!! বেশ কিছু এমএমএস বা লিকড ভিডিও ডাউনলোড করে দিনের পর দিন লক্ষ্য করলাম কত অবলীলায় আমাদের দেশীয় মেয়েরা আঁখের খেতের ঘেরাটোপে, পার্কের নির্জনে কিমবা স্কুল বাথরুমে কখনও স্কুল শাড়ী খুলে কিমবা বোরখার ঘোমটা হটিয়ে মুখে চালান করছে পুরুষঠ পুরুষাঙ্গ। এইসব ঘটনা আমার পূর্ব ধারনাকে ভেঙে দিতে সাহায্য করেছে শুধু, কিন্তু ওরাল সেক্স নিয়ে আমায় কোন নির্দিষ্ট সিদ্ধান্তে পৌঁছে দিতে পারেনি। বরং এগুলো আমায় বিচলিত করেছে, বার বার করে মনে পড়িয়ে দিয়েছে বিদিশাকে।
বিদিশাকে নিজের মতো করে পাওয়ার কোন বন্দবস্ত আমি করে রাখতে পারিনি কিমবা সেও করে দিতে চায়নি। তার কোন ফোন নাম্বার নেই আমার কাছে। নেই কোন স্থায়ী ঠিকানা। সে কোন ঈশ্বরও নয় যে আমি তাকে ডাকলেই ঘোমটা হটিয়ে নজরানা দেবে আমায়, বরং এটা স্বীকার করতে কোন অসুবিধে নেই যে তার কোন ছবিও নেই আমার হাতে। কেন নেই কেন নেই এসব ভেবে আপনারা যারা মাতাল হচ্ছেন তাদের এই লেখা পড়ার বয়স হয়নি এখনও-এছাড়া আমার কীই বা বলার থাকতে পারে!
কোন এক শনিবারের বিকেল শেষে শহুরে ধুলো থিতিয়ে চাকার দাগ মিটে যাচ্ছে এমন অন্ধকার। আমি আছি কিমবা নেই হয়তো পৌঁছে যাব এইমাত্র কিমবা যাবনা জানি না। শীত পড়ছে। যেসব শীতে কোলকাতার মানুষ গায়ে রঙ্গিন স্বপ্ন জড়ায় এমন শীতে সেখানে এখন শুধুই দীর্ঘশ্বাস। বাড়ি ফেরার পালা, লাঠির মাথায় উঁচু করে আটকে থাকা সদ্য টিয়ার বাচ্চা, পায়ের আঠা ডানায় জড়াজড়ি, অপেক্ষা আর অপেক্ষার শুরু কবে তার মনিব ভুলে যাবে খাঁচার ছিটকিনি। দূরে ভেঙে যাওয়া অজয়ের পাড়। একটু পরেই একতারা কাঁদবে। লক্ষ্মীসায়রে এখন একাকীত্ব ঘনাবে। ক্রমশ একা হতে হতে তার জল এখন শুধুই স্থির।
এমনই এক সন্ধ্যায় আমি বিদিশাকে কাছে টেনে নিই, হাতে ধরিয়ে দিই ফেলে যাওয়া অক্ষত মাটির ভাঁড়। সোনাঝুরির মেলা ভেঙ্গেছে প্রায় সময় পেরিয়ে গেছে গোটা দুটো দিন। এমন দিনে, এমন মাতাল সন্ধ্যেয় কেউ কোত্থাও নেই, অথচ কী ভীষণ ভাবে আছি আমরা। জ্যান্ত দুটো মানুষ। বিদিশার সাথে আমার দেখা হওয়ার কোন কথা ছিল না আসলে কখনই তো থাকেনা কথা। কিন্তু কিছু কথা না থাকলেও তো মানুষ কথা রেখে দেয় ঠিকই। এখন বন্ধ চায়ের দোকান। নিকানো , আলপনা দেওয়া তার মাটির উনুন। বিদিশা সেই আলপনায় সাঁওতালদের রেখাচিত্র খুঁজতে ব্যস্ত। আমি বলি, এই যে আলপনা, সে তো এই মাটির উনুনের আঁচে পুড়েই মরবে, তবুও কেন দেয় বলতো?
বিদিশা হাসে। তার হাসি এখানকার শীতের মতই বড্ড তীক্ষ্ণ। নিভে যাওয়া উনুনের উপর থেকে স্বপ্নিল কেটলি এনে গরম চা ঢেলে দিই তার হাতে ধরা মাটির কাপে। তারপর বসি তার পায়ের নীচে। একটা তালগাছের গুঁড়ি, বিদিশার কাপড়ের স্পর্শে উষ্ণ থেকে উষ্ণতর হচ্ছে ক্রমাগত। আমার হিংসে বাড়িয়ে দিচ্ছে। বাড়িয়ে দিচ্ছে  ছুঁতে চাওয়ার স্বাদ।
এখন নিভন্ত সোনাঝুরির দল, কেউ কুড়িয়ে নিয়ে গেছে তাদের ঝেড়ে ফেলা মায়া। দীর্ঘ পথ বেয়ে এখনি ফিরল যে সাঁওতালি পুরুষ তার ঘরে উঁকি দেওয়ার ইচ্ছে জাগে বিদিশার। তাকে নিরস্ত্র করে আমার অভিমানে বুক বুজে আসে, আমিও তো রোজ রোজ পার করি তীব্র এক রাস্তা! সন্ধ্যের আলো আরও কমে এলে ওর ঠাণ্ডা লাগে। আমি আমার শাল খুলে বিদিশাকে জড়াই না, বরং সেই আরও একটু ঘন হয়ে আসে আমার কাছে। এও কি একপ্রকার বিশ্বাসঘাতকতা! কে জানে! আমরা এগিয়ে যেতে চাই। আমারদের সুনীল কে মনে পড়ে। কোন এক গভীর রাত্রে তিনি নাকি এখানেই গান ধরেছিলেন, আজ জ্যোৎস্না রাতে... কিন্তু এখনও আকাশে চাঁদ ওঠেনি, হতে পারে আজ জ্যোৎস্না নয়। আসলে বিদিশা আমাকে ভুলিয়ে দেয় সব সময়জ্ঞান।
হতে পারে এখন গভীর রাত কিমবা নয়। লক্ষ্মীসায়রের বুকে এখন আমরা দুজন ছাড়া কিছু সোনাঝুরি। এই শীতেও আমরা পাশাপাশি শুয়ে। শরীরের নীচে নরম পাতা দেবে যায় কিছুটা। ভালো লাগে। বিদিশাকে গল্প বলি -
এই যে দেখছ সায়রের ওই দূরের কর্নার, ওখানে একটা পাথরকে এখানে সকলেই খুব জাগ্রত মনে করে। বিদিশার চোখ দুটো ড্যাবডেবে হয়ে ওঠে। শরীরটা আরও একটু টেনে নেয় আমার দিকে। আমি গোটা চাদরটা দিয়ে ঢেকে নিই নিজেদের।
     যারা এখানে নতুন সংসার করে, মানে ধরো নতুন বিয়ে হল, বা বিয়ে না করেও যারা নতুন সংসার পাতছে বা চাইছে, তারা সংসারের যাবতীয় টুকিটাকি যা লাগবে, সেসব যদি এই দেবীর কাছে মানত করে, তবে কিছুদিনের মধ্যেই নাকি সব ব্যবস্থা করে দেয় এই জাগ্রত দেবী।
বিদিশা আমার কথা শোনে। আমি তার মুখ থেকে কিছু শোনার জন্য উদ্গ্রীব হয়ে থাকি। কিন্তু আমাকে নিরাস করে সে তার মুখটা শুধু বাড়িয়ে দেয় আমার আরও কাছে। আমি ডুবে যাই এই দেবীর আহ্বানে।
কখন যে চাদর সড়ে যায় খেয়াল থাকেনা। খুব দ্রুততায় নেমে আসি নীচে। সমস্ত লক্ষ্মীসায়র যেখানে তার গভীরতা নিয়ে অপেক্ষা করছে আমার জন্য, শুধু আমারই জন্য। লালায় ভরে ওঠে মুখ, তবুও তৃষ্ণা মেটে কই! হটাৎ আমি উঠে পড়ি ওর পেটের উপর। ওর নরম বুক জোড়া থেকে আশ্চর্য এক তরল গড়িয়ে নামছে নাভির দিকে। আমার জাং ভিজে জ্যাবজেবে। আমি মুখ থেকে একে একে চুল গুলো বার করে সমস্ত লেপটে দিই সেই নরম আঠায়। ক্রমশ লোমশ হয়ে ওঠে ওর হৃদপিণ্ড। বলি- তোমার বয়স বাড়ছে বিদিশা। বড্ড চুল উঠে যাচ্ছে।
সে শুধুই হাসে। আমার শীত শীত ভাব আসে। ব্যাখ্যা না থাকার মতো এক অজানা ভয় ঘিরে ধরার আগেই কামড়ে ধরি তার কামার্ত ঠোঁট। আমাদের মুখ ভিজে যাচ্ছে, ভরে উঠছে চুলের মতো সরু লিকলিকে কিছু পোকায়। তবুও আমরা কেউই পরাস্ত হতে চাই না। বরং এই ভালোলাগাটাকে আয়েশ করি নিজেদের মতো।
এখানে কোন পাহাড় নেই। তবুও এক পাহাড়ি অলসতা ঘিরে ধরে? সায়রের জল আমায় ভীষণ ভাবে টানে কি টানে না জানি না, তবুও অতলে নেমে যাবার ইচ্ছে হয়। বাতি নিভে যাচ্ছে পাশের পাড়ায়। সোহাগে সোহাগে ভরে উঠছে মেঠো সব শরীর, এমন চিন্তা শুধুই ক্লান্তি বয়ে নিয়ে আসে। এসব সময়ে আমার গ্রাম্য কুকুর হতে হচ্ছে করে, খড় বিচুলি থেকে শুষে নিচ্ছি শেষ ওম। বিদিশা ঈশারা করে গভীর রাত, ঘরে ফেরার সময় বাড়ন্ত।
এই উলঙ্গ রাত। বিদিশাকে কোলে তোলার ইচ্ছে আমায় জাগায় না। আমরা পাশাপাশি হাঁটি, একে অন্যেতে মিশে গিয়ে হাঁটি। শুধু হাঁটতেই থাকি। দূরে আমাদের হোটেল দেখা যায়। তার মিটমিটে জ্বলতে থাকা আলোর রেখা দেখা যায়। দেখা যায় গেটে হয়তো আমারই জন্য অপেক্ষারত দারোয়ানের আবয়ব। তখনও বিদিশার দীর্ঘশ্বাস আমার কানের লতিতে।















সুপ্রিয় সাহা

Supriya Saha

Sunday, June 11, 2017

ভালু : ডাকনামে সমুদ্র

 ভালু

আমরা সবাই জড়ো হয়েছিলাম একটা সর্ষেক্ষেতে। আসলে আগের বছর এখানে সর্ষেচাষ হয়েছিলো। তারপর একবছর আর কিছুই হয়নি। তাও নামটা থেকেই গেছে। আম্মু আর দিভাইকে পাচ্ছিলাম না। ওদের নাকি জঙ্গলের দিকে নিয়ে গেছে। রশিদ এর প্যান্টের দড়িটে খুলে যাচ্ছে। ওর আম্মুকেও নিয়ে গেছে। রশিদ কাঁদছিলো বোকার মত। আব্বু তো বল্লো, একটু বাদেই আম্মু আর দিভাই চলে আসবে। রশিদের আম্মুও। আজ সাত নম্বর রোজা। আব্বুর রোজা ভেঙে গেছে। একবার খারাপ কথা বলেছে আব্বু। বাড়িতে খারাপ কথা বলে না আব্বু। রশিদের এর বাবার মত মাকে মারেও না। রশিদ একবার রাতে ওর আব্বু আম্মু কে কিসব করতে দেখেছিলো। আমার আব্বু আম্মু কেন ওসব করে না? আমি কেন দেখতে পাই না? আম্মুরা এখনো ফিরছে না জঙ্গল থেকে। ওদিক থেকে পচা পচা গন্ধ আসছে। কুকুর পচলে যেমন গন্ধ আসে। আম্মুরা জঙ্গলে কি করছে? ইসস। ওদের সাথে গেলে ভালো হতো। রশিদ আর আমি একবার লুকিয়ে জঙ্গলে গেছিলাম। তারপর আর যাওয়া হয়নি। ওই জঙ্গলে এখন কিরকম সব লোক থাকে। আব্বু বলে, ওরা জওয়ান। ওদের বন্দুক থাকে। রশিদ একবার ওদের কাছে বন্দুক চেয়েছিলো। একটা লোক বলেছিলো, আগে তোর আম্মি কে নিয়ে আয়। রশিদের আম্মি সেদিন রশিদকে খুব মেরেছিলো। কি হতো একবার গিয়ে বললে? বেশ মজা হতো।

আম্মুরা ফিরে এসেছে। সবাই খুব কাঁদছে। ইসস আম্মির গলায় কেমন কালশিটে। আম্মু কাঁদছে। রশিদের মা পেট চেপে মাটিতে শুয়ে। সবাই এসেছে, দিভাই খালি আসে নি। আব্বু ওই লোকগুলোর কাছে গিয়ে কিসব বলছে। ওরা হাসছে। দিভাই কি জঙ্গলে হারিয়ে গেছে? ভালু আছে নাকি ওই জঙ্গলে। দিভাই কে কি ভালু...

দিভাই এর সাথে সাহিন ভাইয়ের শাদি হওয়ার কথা ছিল। দিভাই ছাড়া গ্রামের সবাই ফিরে এসেছে। জঙ্গলের দিক থেকে খুব পচা পচা গন্ধ আসছে। অনেকগুলো কুকুর একসাথে মরে গেলে যেমন গন্ধ আসে আর কি... দিভাই এর একটা ভালু আছে। সাহিন ভাই দিয়েছিলো। লাল রঙের। সেটা জড়িয়ে আজ ঘুমালে নিশ্চয় দিভাই মারবে না।
















ডাকনামে সমুদ্র
Ocean in the name

Thursday, June 8, 2017

পানশালার মনোলগ : অর্ক চট্টোপাধ্যায়

পানশালার মনোলগ

দুপুরের পানশালা। চড়া রোদ বাইরে। মদের থেকেও বেশি রোদের জন্য ভেতরে ঢুকলো হিমাংশু। উইকএন্ডের দুপুর।পানশালায় ভাঁটা। ফাউন্টেন থেকে একটা বিয়ার নিয়ে কোণের ফাঁকা সিঙ্গল টেবিলে গিয়ে বসলো। নীথর শহরতলীর দুপুরে ভেতর-বাইরে এক হয়ে রয়েছে। একদিকের দেওয়াল-টিভিতে ক্রিকেট—অ্যাশেজ সিরিজ, আর অন্যদিকে হর্স রেস ঘিরে কয়েকজন বৃদ্ধের জটলা। অদূরের টেবিলে দুটি মেয়ে কথা বলতে বলতে বিয়ারে চুমুক দিচ্ছে। হিমাংশুর দিকে পিঠ করে যে মেয়েটি বসে আছে তার মুখ দেখতে না পেলেও বাঁ পায়ের হাঁটু অব্দি উঠে আসা কালো চকচকে লং-বুট হাতের সাথে তাল ঠুকে ওঠানামা করছে, কখনো হাঁটুর ঠিক নিচে, কখনো আবার গোড়ালির কাছাকাছি ভাঁজ হয়ে যাচ্ছে। হিমাংশু স্পষ্ট শুনতে পাচ্ছে, কিম্বা দেখতে। মেয়েটির সব কথা তার লং-বুটের সরব ভাঁজগুলোর ভেতর থেকে বেরিয়ে আসছে। কথাগুলো বুজে আসছে ভাঁজ-শব্দে। হিমাংশু বিয়ারে চুমুক দিতে দিতে টেবিলে রাখা সিডনী মর্নিং হেরাল্ডে চোখ দিলো। সংবাদ-শব্দ সরব হয়ে উঠতে লাগলো। মগজে তার দৃশ্যের মৌচাক।
গোটা কাগজ জুড়ে ইউরোপের রিফিউজি ক্রাইসিস নিয়ে রিপোর্ট। সিরিয়া এবং মধ্য প্রাচ্যের নানা দেশ থেকে কাতারে কাতারে লোক জার্মানীতে ঢুকছে। তাদের হাসি-কান্নায় ভাঙা মুখ, কোলে বাচ্চা, খুলে রাখা জুমড চটি জোড়ার ছবি। টার্কির ৩ বছরের আয়্লানের বালিতে গুঁজে থাকা নীথর মুখ। এই ছবিটা শেষ দু-তিনদিন ধরে অনবরত সোশাল মিডিয়ায় ট্রল করছে, দেখেছে হিমাংশু। না, সে শেয়ার করেনি, কোথাও বেঁধেছে, কোথায়, কি, তা ঠিক করে বলা মুশকিল। ফেসবুক টুইটারের এই অবাধ মৃত্যু-মৃত্যু খেলায় এবং জ্ঞান আর নৈতিকতার লড়াইয়ে সচরাচর ঢুকতে ইচ্ছে করে না ওর। পছন্দগুলো ‘লাইক’ হয়ে গেছে, সারাদিন আকাশ থেকে খসে খসে পড়ছে। টার্কির ৩ বছরের শিশু মৃত্যুর বোট থেকে ফটোগ্রাফের আগ্রাসী দৃষ্টির বোটে উঠে সোশাল মিডিয়ার দেওয়ালে দেওয়ালে অনুকম্পা আর বাণীবাণ হয়ে উঠেছে। আয়্লান কি ভাবছে এই সব ট্রলিং নিয়ে? সমুদ্রে কি ট্রলার চলছে এখনো? তার বাবা কি এখনো মরে যাবার কথা বলছেন ইন্টারভিউয়ে? হিমাংশু পাতা উল্টে এগিয়ে চলে। শেষ ক'দিন ধরে অস্ট্রেলিয়ান মিডিয়া তোলপাড় রিফিউজি ইনটেক নিয়ে। 
বর্তমান সরকার লিবারালদের। বছরখানেক ধরেই টনি অ্যাবটের তথাকথিত 'বোট পলিসি' নিয়ে বিতর্ক তুঙ্গে।

Saturday, June 3, 2017

মিলিয়ন ডলার নাইটমেয়ার : অদ্বয় চৌধুরী

মিলিয়ন ডলার নাইটমেয়ার

—     চোখ মেলতেই ঝলসানো আলো। চোখ ধাঁধানো। সামনে একটা ভেজানো দরজা। সামান্য এক চিলতে ফাঁক আছে। সেই ফাঁক গলে বেরিয়ে আসছে ওই ঝলসানো আলো। উজ্জ্বল হলুদ। মাঝেমাঝে গেরুয়া ছোপ। দরজার ওপারে একটা বড় ঘর। তার চারিদিকে গনগনে আগুন। তবে তা স্পর্শ করে না আমায়। কিন্তু গরম আঁচ ছুঁয়ে যায়। ঘাম ঝরে। জ্বালা করে— শরীর, চোখ। চোখ দিয়ে জল ঝরে। উপরে, ঘরের ছাদ থেকে, ঝুলছে অসংখ্য মৃতদেহ। মানুষের। মাথা নীচের দিকে, পা উপরে। গোটা শরীরটাই দলা পাকিয়ে ছোট হয়ে গেছে আগুনে পুড়ে। বডিগুলো সবকটাই আগুনে ঝলসানো। বিভৎস চেহারা। কালচে লাল রং। সাদা রঙের এক ডাইনিং টেবিল, নীচে, ঘরের ঠিক মাঝখানে। ঘরের সেই আগুনে-আলো উধাও হয়ে যায়, হঠাৎ। বদলে, সাদা ঝকঝকে আলো ভরিয়ে দেয় ঘর। ভাসিয়ে দেয়। ঘরের উত্তাপও উধাও। বরফ-ঠাণ্ডা স্রোত নেমে যায় শিরদাঁড়া বেয়ে। আমি বসে আছি সেই টেবিলটার এক মাথায়। আমার সামনে একপ্লেট ঝলসানো মাংস। তন্দুরি। আমি ওই কালচে লাল মাংসপিণ্ড খেতে লাগি, ধিরে ধিরে। সেই লম্বা টেবিলের উলটো প্রান্তে একটি অবয়ব ফুটে ওঠে হঠাৎ। আবছা। তারপর ক্রমশ স্পষ্ট হয়ে ওঠে। এক যুবক। স্যুট-টাই পড়া। চোখে চশমা। নিখুঁতভাবে দাড়ি কামানো। স্মার্ট চেহারা। ছেলেটি মাথা নাড়ে আস্তে আস্তে। মনে হয় আমার এই তন্দুরি খাওয়া, তার স্বাদ উপভোগ করা— সবই ও দেখেছে। ঠিক বোঝা যায় না। তখনই সে কথা বলে ওঠে।
—     সো, মিস্টার সিংহানিয়া, এই পার্টিকুলার নাইটমেয়ারটি রেকার করে আপনার ঘুমের মধ্যে? বারবার? প্রতি উইকে তিনবার থেকে ছ’ বার?

সিংহানিয়া বয়স্ক মানুষ। ষাট পেরিয়েছে। ভারী চেহারা। হাত-পা ছেড়ে, চেয়ারে গা এলিয়ে বসে আছে। বরফখণ্ডের মতো ফ্যাকাসে, শুষ্ক, কঠিন মুখচোখ। খানিক ক্লান্তির ছাপ আছে তাতে। টেবিলে রাখা ড্রিঙ্কস-এর গ্লাসের গায়ে ঘরের চিলড্ টেম্পারেচারের ছোঁয়া লেগে রয়েছে। সাদা ভাপ ধরেছে। সামনে বসে থাকা ধোপদুরস্ত ছেলেটা তার থেকে অনেক ছোটো। সিংহানিয়া ভালো করে মাপতে থাকে ছেলেটাকে। তার ছোটো ছোটো কুতকুতে চোখে। এবং তার কথার উত্তর দিতে থাকে। বরফের মতোই ঠাণ্ডা গলায়।
—     ইয়েস, দিস ইজ ইট।
ছেলেটি তার দু হাতের থাবার মধ্যে একটা মোটা ফোল্ডার ধরে রেখেছে। টেবিলের উপরে। সেই ফোল্ডারটা খোলে। ভালো করে দেখে খানিকক্ষণ; উলটে পালটে। ফোল্ডারটা খোলাই থাকে।
—     ডক্টর মুখার্জী রিপোর্ট পাঠিয়েছেন আমাদের অফিসে। আপনি লাস্ট থার্টি থ্রি ইয়ার মোর অর লেস এই স্বপ্নটি— আই মিন, এই দুঃস্বপ্নটি দেখছেন। ফার্স্ট টাইম দেখেন ইন দ্য ইয়ার এইটি ফোর। তারপর আবার বছর দুয়েক বাদে। নাইনটি এইট থেকে আরও একটু ফ্রিক্যোয়েন্ট। বছরে একবার-দুবার। লাস্ট সেভেন অ্যান্ড হাফ ইয়ার রেকারিং পিরিয়ডটা অ্যালার্মিংলি রাইজ করেছে।
চোখদুটো আরও কুঁচকে ছোটো হয়ে যায় সিংহানিয়ার। একটু নড়ে বসে সে। সবকিছু মনে করার চেষ্টা করে বোধহয়। খানিক পরে ঘাড় নেড়ে সায় দেয়।
—     ইয়েস, টু থাউজ্যান্ড নাইন থেকে আই অ্যাম আন্ডার মেডিকেশন। আন্ডার ডক্টর মুখার্জী। তাতে কিছুটা ফল পেয়েছি। সাময়িক। কিন্তু, কিয়োরড হইনি। আসলে, আমার বিজনেস আর এই নাইটমেয়ারটি এক সঙ্গেই বেড়ে উঠেছে।

Wednesday, May 31, 2017

Kashmir: Rebel with a Cause - Arjun Bandyopadhyay

Kashmir: Rebel with a Cause
Why and how are people making the choice to join the movement? 

The self-representations of Kashmiri people who are creating their destinies; they freely (?) make the choice to militarize their bodies and transform their identities. Kashmiri fighters are the most visible agents of social change in redefining the self-identity. Given the everyday violence of war in Kashmir, Kashmiri people are making radical choices in the struggle for survival. People living in these extreme conditions realize that survival in war is not fully congruent with the notions of survival in peace. In the context of peace, it is difficult to understand that to survive and live with dignity amidst the crisis of war may require one’s participation in the very same violence that destroyed one’s sense of dignity and integrity. Violence is a means of survival as well as a means of communicating resistance and the integrity of a struggle for self determination to the Indian army. The cultural and physical landscape of war provides amongst the most felicitous spaces for the rise of resistance and struggle. The Kashmiri struggle is embedded in such a landscape of war. It is important to acknowledge people’s participation in Kashmir, rather than dismissing the people as shaped by false consciousness while they attempt to forward a movement within a nationalist struggle. In examining the expressions of violence in the contests between the military powers of the state and resistant Kashmiri nationalist movement, Kashmir is urging us to look into the processes — ‘a distinctive set of beliefs and structures’. When the own political expressions of the people have been suppressed, all the peaceful means of protest have been attacked. What other way is there to change things? The only way left is to pick up the stones and fight for a better life.  People are making the choice to transform their identities, militarize their bodies, and participate in the front lines of battle. Their choices are not easy. When they join the movement, they must discipline their minds and their bodies in preparation for war. They are resolved to the understanding that their intimate relationships with their families are forever transformed; that they will not have access to them, that the likelihood of death is more real than that of survival in war, and that their experiences are forever radically transformed in their own eyes and in the eyes of their community. To this extent, there is little evidence of a duped mind or a false consciousness in the choices that they make to join the struggle. This kind of death, this kind of violence is not in vain because new generations are emerging to continue the struggle. It is not a senseless death, but rather one endowed with purpose, with vision, with integrity, and with the determination that freedom in the territories of the Kashmir will be realized. My intent here is not to romanticize the violence or valorise people’s sacrifice. Rather, I am suggesting that we need to understand the self-representations of people in the Kashmir, how they choose to become active in the violence of war, and how they choose to participate in a movement that is committed to the violence of armed struggle. The material reality of everyday violence is one that hundreds of Kashmiri face each day in Kashmir. The Indian army’s searches and ‘clearing’ operations to weed out the insurgent presence of the Kashmiri struggler continue to result in the disappearances and deaths of Kashmiri women and men. In this context, people are making the choice to transform themselves and their identities from the norms of traditional civil society to the norms of violence and war. Popular assumptions about the brainwashing and conscription of people to act as fodder for the movement, not only reveal a bias that is partially shaped by stereotypes, but also reveal a gap in understanding the choices that Kashmiri people are making.

















Arjun Bandyopadhyay 

নারী বিদ্বেষ আর তার ভাষা : পুরন্দর ভাট

নারী বিদ্বেষ আর তার ভাষা

সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় নারী বিদ্বেষ নিয়ে একটি ফেসবুক বিতর্কে অংশ নিই এবং সেই বিতর্কে যা যা কথা আর বলা হয়ে ওঠেনি সেগুলো এক জায়গায় করে বলে রাখতে পারলে ভালো হয় - এই মনে করে এই লেখার অবতারণা।
প্রথমেই বলি যে আমি নারীবাদী নই কারণ নারীবাদের পক্ষে বা বিপক্ষে মতামত রাখার মতো যথেষ্ট লেখাপড়া আমার নেই। অনেকেরই ভুলভাল ধারণা আছে যে মহিলা এবং পুরুষকে সমান অধিকারের দাবিদার মনে করা মানেই তা নারীবাদ। এটা একেবারেই নয়, সেরকম হলে তাকে মানবতাবাদ বললেই হয় কারণ মানবতাবাদ সকল মানুষকে সমান অধিকার দেওয়ার কথা বলে, লিঙ্গ নির্বিশেষে। নারীবাদ সমাজে মহিলাদের সমান অধিকার দেওয়ার কথাই বলে তবে তাদের মতবাদ অনুযায়ী সমস্ত অধিকারের লড়াইয়ের কেন্দ্রবিন্দুতে নারী অধিকারের প্রশ্ন থাকা উচিত কারণ নারীর বঞ্চনা মানবসভ্যতার সবচেয়ে আদিম বঞ্চনা। হরেক রকমের নারীবাদ আছে, এমন কি রক্ষণশীল নারীবাদ, ক্রিশ্চান নারীবাদ, ইসলামী নারীবাদ প্রভৃতিও আছে। এসবের কোনটা ঢপ আর কোনটা ঠিকঠাক তাই নিয়ে যথেষ্ট পড়াশুনো না থাকার দরুন কোনো কথা বলা সমীচীন হবে না। তবে সুবিধের বিষয় হলো যে নারী বিদ্বেষ নিয়ে মতামত রাখতে গেলে নারীবাদী হওয়া বা নারীবাদ নিয়ে পড়াশুনো থাকার খুব একটা প্রয়োজন নেই, তা ছাড়াই বক্তব্য রাখা যায়।

Sunday, May 14, 2017

কাশ্মীর হামারে হ্যায় : অদ্বয় চৌধুরী

কাশ্মীর হামারে হ্যায়

কাঠের এই বাড়িটা আমাদের খুব পছন্দ। তার অনেক কারণ আছে। আমাদের দু’জনের পক্ষে বেশ বড় আকারের হওয়ার পাশাপাশি বাড়িটা বহু পুরনো হওয়ায় বাপঠাকুরদাদের স্মৃতি বহন করে। আমাদের ছেলেবেলার সমস্ত স্মৃতিও জড়িয়ে আছে এর সঙ্গে। বোন আর আমি এই বাড়িটায় একা একাই থাকি। বাবা, মা, কাকা, ঠাকুরদা, ঠাকুরমা আর নেই। ওরা এসে নিয়ে গেছে ওদের। আমাদের নেয়নি ওরা, কারণ আমরা তখন ছোটো ছিলাম। সেই সমস্ত স্মৃতি এই বাড়িটা ঘিরেই রয়েছে। ওদের আসা, বাবা-মা-কাকাদের চলে যাওয়া, আমাদের থেকে যাওয়া— সব।
আমরা বেশ সকাল সকাল উঠে পড়ি ঘুম থেকে। তারপর ন’টার মধ্যে অল্প খেয়ে আমি বাজারে যাই বোনের বোনা শীতের পোষাক পুঁটলি বেঁধে। সারাদিন সেখানে রাস্তার ধারে পসরা সাজিয়ে সেগুলো বিক্রি করি। দুটো ম্যানিক্যিনকে— একটা ছেলে আর একটা মেয়ে— বিভিন্ন সোয়েটার বা জ্যাকেট পরিয়ে সাজিয়ে রাখি রাস্তার ধারে। লোকের চোখ পড়ে বেশি। যদিও বিক্রি খুব কমই হয় তারপরেও। আমার মতো হাজার হাজার বিক্রেতা রয়েছে ওখানে। তারপর অন্ধকার ও শীত জাঁকিয়ে পড়লে পোষাকের পুঁটলি আর দুটো ম্যানিক্যিনকে ভ্যানে চাপিয়ে বাড়ি ফিরে আসি। বাড়িটা ঝারপোঁছ করে পরিষ্কার রাখা আমার পক্ষে সম্ভব হয় না। বোন সারাদিন বাড়ি থাকে, কিন্তু ওর পক্ষেও সম্ভব না।
বোন কখনো কাউকে বিরক্ত করে না। ও ওর মতো থাকে, কাজ করে। সকালের কাজকর্ম শেষ হয়ে গেলে ও বাকি দিনটা নিজের শোয়ার ঘরে বা নীচের বসার ঘরে উল বুনে কাটিয়ে দেয়। বোন সেই ছোটোবেলাতেই, যখন মা-ঠাকুরমা ছিল, উল বোনা শিখেছিল। তারপর থেকে ও সব সময় দরকারি জিনিসপত্রই বোনে— শীতের সোয়েটার, মোজা, টুপি, মাফলার, শাল, জ্যাকেট এইসব। ও একটু খামখেয়ালি গোছের মেয়ে। কখনো হয়তো ও একটা জ্যাকেট বুনলো, কিন্তু পরের মুহূর্তেই সেটা খুলে ফেলে কারণ সেটার কিছু একটা ওকে খুশি করতে পারেনি। এইসব দেখতে বেশ মজাই লাগে আমার। একগাদা উলের গোছ ওর সেলাইয়ের বাক্সে একটা হেরে যাওয়া যুদ্ধ লড়ে চলেছে স্রেফ কয়েক ঘণ্টার জন্য নিজেদের অস্তিত্ব বজায় রাখার প্রবল ইচ্ছায়।

Saturday, April 15, 2017

দ্রিম দ্রিম ৪ | ম্যাগনোলিয়া, রেড ওয়াইন অ্যান্ড চীজ : দোয়েলপাখি দাশগুপ্ত

দ্রিম দ্রিম ৪ ম্যাগনোলিয়া, রেড ওয়াইন অ্যান্ড চীজ
আস্তাবলের দিকটা না। ম্যাগনোলিয়া ছিল এদিকটায়। গ্লেনারিজ, কেভেন্টারস ছাড়িয়ে আরও একটু এগিয়ে বাঁ দিকে। জামাকাপড়... ডেনিম জ্যাকেট, জেগিংস-এর দোকান... সেগুলো পেরিয়ে কুংগা যাওয়ার রাস্তাটায়। সাদা সবুজ লাল মেশানো কাঠের বাড়ি। ছবির বইয়ের মতো জানালা। আইভিলতাও ঝোলে বোধ হয়। আমি আইভি দেখিনি যদিও কখনও। নীচে ডানদিকে বাজারে নেমে যাওয়ার সিঁড়ি। হিল কার্ট রোডের দিকে। আমি ঠেলেঠুলে একটা সরু গলির মধ্যে দিয়ে উঠতে থাকি। ম্যাগনোলিয়া একবার দেখে আসা দরকার। সরু গলি। কিন্তু অন্ধকার নয়। ওপর দিকের বাড়িগুলোর টিনের চাল আর কার্নিসের ফাঁকফোকর দিয়ে আলো আসছে অনেক। দুপাশে লোক দাঁড়িয়ে। কেউ বিরক্ত করছে না। যে যার মতো ব্যস্ত। সিগারেট খাচ্ছে। গল্প করছে। ওয়াই ওয়াই খাচ্ছে। পাশ দিয়ে সরিয়ে সরিয়ে এগোতে হচ্ছে। ম্যাগনোলিয়ার সামনে এসে পড়লাম।
এটা তো বেশ বড় একটা হামাম! হোটেল ভেবে এদিকে বুক করে ফেলল মৈত্রেয়। ওই তো... জাপানি বাড়ির মতো, চাল দিয়ে ধোঁয়া বেরোচ্ছে অল্প। ‘স্পিরিটেড অ্যাওয়ে’-র বাড়িটার মতো। আমি ভেতরে ঢুকি। ঘন বোতল সবুজ অন্ধকার। তার মাঝখান থেকে চাপা রক্তের মতো লাল রঙের দেওয়াল দেখা যাচ্ছে। বাষ্পে আধো-অদেখা হয়ে আছে গোটাটা। কাচের দরজা খুলে ঢুকতে ঢুকতে টের পাই আমার হাইট কমে গেছে।আমি একটা উঁচু-হিল জুতো পরে। আমার গায়ে একটাসাদা শার্ট আর গ্রে রঙের পেন্সিল স্কার্ট

Saturday, April 8, 2017

জোকারের বালের যুগ্যি নয় ওরা : পুরন্দর ভাট

জোকারের বালের যুগ্যি নয় ওরা

বাঁকুড়া মিমস পেজটা বোধয় ফেসবুক বন্ধ করে দেবে। এই পেজটি বহুবার বিতর্কে জড়িয়েছে। পিডোফিলিয়া নিয়ে একবার বিতর্কে পড়েছিল, বর্ণবিদ্বেষী, নারীবিদ্বেষী পোস্ট করে বিতর্কে জড়িয়েছে, এবার ক্যান্সার পেশেন্টদের কেমোথেরাপির ফলে টাক পড়ে যাওয়া নিয়ে রসিকতা করে বিতর্কে জড়িয়েছে। বহু লোকে রিপোর্ট করেছেন পেজ। সিগনেচার ক্যাম্পেন হয়েছে পেজটাকে সরাবার জন্যে। অনেকেই এমন বলছেন যে যাঁরা ওই পেজটাকে লাইক করেছে তারা যদি আনলাইক না করে তাহলে আনফ্রেন্ড করে দেবে। অর্থাৎ এই রামনবমী আর ভোঁতা তলোয়ার নিয়ে লম্ফ ঝম্পর বাজারেও খানিকটা ফুটেজ খেয়েছে পেজটা। এবার আসা যাক বিতর্কর প্রসঙ্গে।

প্রথমেই যেটা পরিষ্কার করে দেওয়া দরকার যে "ইয়ার্কি মারবার একটা লিমিট আছে, ক্যান্সার পেশেন্ট নিয়ে ইয়ার্কি বা মেয়েদের মাসিক হওয়া নিয়ে ইয়ার্কি মারা প্রচন্ড ইনসেন্সিটিভ" - এই যুক্তির একটা অংশ সঠিক কিন্তু অন্য অংশটা গরুর গোবর। সঠিক হলো "ইনসেন্সিটিভি" আর গোবর হলো "লিমিট আছে।" লিমিট যদি টানেন সেটা কোথায় টানবেন? কেউ ক্যান্সার পেশেন্ট নিয়ে ইয়ার্কি মারাকে লিমিট অতিক্রম করা বলবেন আর কেউ বলবেন গরুকে নিয়ে ইয়ার্কি মারা হলো লিমিট। একটা লিমিট টানাকে সমর্থন করলেই অন্য লিমিটের বিরোধিতা করবেন কী ভাবে? তাই এই লিমিট টানার ব্যাপারটা হলো গোবরের মতো। বিশ্বের সব কিছু নিয়ে ইয়ার্কি মারতেই পারে কেউ, আমি তার প্রতিবাদ করবো, কিন্তু তার জন্য তাকে জেলে পুরে দেবো বা তার বলার বা লেখার অধিকার কেড়ে নেবো না। লিমিট টানতে থাকলে পেহেলাজ নিহালনিকে বরং একবার রোজ সকালে প্রণাম করে নেওয়া দরকার। একটা লিমিট ভালো আর অন্যটা ভালো নয় এটা আপনি কোনো ভাবেই স্বাধীনতার যুক্তি মেনে প্রমাণ করতে পারবেন না। আমি বলছি না যে সব লিমিট সমান, আমি বলছি না যে গায়ের রঙের জন্য কাউকে নিয়ে ইয়ার্কি মারা আর ডোনাল্ড ট্রাম্পকে নিয়ে ইয়ার্কি মারা এক, আমি বলছি না যে একটায় লিমিট টানলে আরেকটাতেও টানতে হবে। কিন্তু একটা করা যাবে আর অন্যটা করা যাবে না এই তর্ক করতে গেলে আপনাকে বাইরে থেকে কিছু যুক্তি আমদানি করতে হবে, স্বাধীনতার পক্ষে উদারবাদ যে যুক্তিগুলো দেয় সেগুলো দিয়ে প্রমাণ করতে পারবেন না। বাইরে থেকে মানে শুধু বাকস্বাধীনতার উদারবাদী ব্যাখ্যায়  আটকে না থেকে, ইতিহাস, অর্থনীতি ইত্যাদির প্রেক্ষাপট টেনে এনে তবে যুক্তি সাজাতে হবে। গডেলস ইনকমপ্লিটনেস থিওরেমের মতো বিষয়টা।  সেই কাজটা কিন্তু বেশ কঠিন, এবং সেটা করতে গেলেই অনেক "ক্যান্সার নিয়ে ইয়ার্কি মারা উচিত না" অবস্থানের সমর্থককে কিন্তু হারাতে হতে পারে কারণ নতুন যুক্তিমালার অনেক কিছু তাদের আবার পছন্দ হবে না। কিন্তু তার আগে একটা মৌলিক বিষয় নিয়ে ভাবা দরকার। সেটা হলো ইয়ার্কি বা মজা বা জোক ব্যাপারটা কি?

Tuesday, April 4, 2017

সোনালি আপেল ও প্রিয়তম : কৃতি ঘোষ

সোনালি আপেল ও প্রিয়তম

মানুষ চিরকাল অন্ধকূপের মধ্যে কাটাতে ভালোবাসে। এদিকে যাব না, ওদিকে যাব না - আমি বসে থাকবো শুধু। এমনটা বললে কোও ছায়াছবির মত পথ আগলে রাখা যায় ঠিকই, কিন্তু প্রকৃত প্রকৃতিতে বাঁচা যায় না। বাঁচার কোনও অর্থ নেই মানে অর্থের বেঁচে থাকার প্রয়োজন ফুরিয়েছে। না, আমি গুলিয়ে দিচ্ছি না, প্রস্তর ভেঙে কারুর মূর্তিও তৈরি করছিনা আপাতত। এই যে সাময়িক প্রয়াস – তার অর্থ আমার প্রত্যয় ঘটেছেআমি উচ্চস্থানে বাস করছি আপাততএখানে কবিতার প্রয়োজন নেই, মৃত্যুর প্রয়োজন নেই। এখানে সমুদ্রের ফেনা আরেকটা অ্যাফ্রোদিতির জন্ম দিতে পারবেনা। সূর্যের দেবতা এখন অকর্মণ্য হয়ে শিস দিচ্ছে খানিক।

নদীতটে বসে কার কথা মনে পড়ে? কার ভ্রু উঁচিয়ে তাকানোয় বাষ্পীভূত হয়ে যাওয়ার ভয় থাকে বেশি? কে সেই দীন-দরিদ্র ও কবির মাধ্যমে অমর হওয়া প্রেমিক? এসো প্রেমিক, জল ভেঙে জরায়ুতে এসো। তোমাকে জন্ম দিই একবার। এখানে তরল অনুভূতিরা গাছে গাছে হেলান দিয়ে বসে থাকে। সোনালি আপেলের মত লোভ আছে বিস্তর। তবে দেখানোর শখ নেই। বালি বালি রোদ আছে। বিনে পয়সার চাবুক আছে। চাবুক কথা বললেই ছোটে। পিঠ বেয়ে সাপের মত হিসহিস করে চাবুক। দেখোনি?

Thursday, March 30, 2017

Menstruation Cycle - কলিকাতার প্রমিতসার্কেল হইতে আমি অতনু কইতাছি




কলিকাতার প্রমিতসার্কেল হইতে আমি অতনু কইতাছি

সুশীলপর্ব, ১
মাঝে মধ্যে আমিও সুশীল হইতে চাই! আর তাই কিছু হিসেব পাশ কাটাইয়া যাওনের লগে আরাম পাই, ভাবিতে থাকি এই বুঝি ছুছিল হইলাম গো... চ লিখি না ছ লিখি... চ'-এ চো*:P ছ-এ ছমাছম ছম্মা ছমাছম ছম্মা, চু অথবা ছু, চিল অথবা ছিল, চু-চিল, ছু-ছিল! দীর্ঘ কোনো ই-কারের প্রয়োজন নাই, চুচিল বা ছুছিলেই হইবেক ম্যান।তারপর চুচিলের পত্রপত্রিকা ছুছিলের 'আজ রাতে তমুক চ্যানলে মাড়াইবো লাইভ' ইত্যাদি, তারপর অমুক আকাদেমির তমুক তামাক... বাবুরাম সাপুড়ে চুচিল তুই কোথা যাস বাপুরে, আয় বাওয়া দেখে যা, দুইখান তাস রেখে যা... ট্রাম্পকেও চোখে ধাঁধা লাগায়ে চুচিলগণ ওভার ট্রামের কার্ড খেলেন গো... তো আমিও মাঝে মধ্যে সুশীল হইতে চাহি...

পূর্ণসাধু প্রমিতের সুশীল হইতে চাই... কিন্তু আমার তো ব্যকরণবিধি ঠিক নাই, না-প্রমিত না-আঞ্চলিক, না-ঘটি না-বাঙাল, না-মোহনা না-পার্বত্য, না-জংলা না-মালভূম – কিছুই ঠিক নাই... গুরুচণ্ডালীর বাপেরে মা ইত্যাদি কেস হয়... তারপর ম্যানুফ্যাকচারড কনসেন্ট চুদায়ে মানে নিউজটিউজ লিখে কখনো রামপ্রসাদ কখনো দুদ্দু শাহ গাহিতে গাহিতে বাসের জানালার ধারে সুশীল নগর দেখতে দেইখতে বাস থিকান নামি, তারপর টোটো ধরি, বাসায় ফিরি... মুখে চাট্টকিছু দিয়া ফেইসবুকে বসি, দেখি  সুশীল মামা দ্যায় হামা... এরপর সুশীল নয় বরং খ্যাপাচোদা, এমন পদকর্তা, পদাবলীকার, কথকঠাকুর, ফিলোজফার, কবিএমন সকল পাখীমানুষদের মাথাখারাপ লেখা নিয়ে বসে থাকি, মাঝে মধ্যে প্রেমিকা বা প্রেয়সী-সুন্দরীদের লগে কথা হয়, প্রেমিকাও মাঝে মধ্যে কোথায় যে যায়েন, তা ভাইবা ডুব ডুব সাগরে আমার মন, প্রেমেরমানুষ কোথায় হারায় নাকি রয়েই যায়... বাসাতেও আমারে পুঁছে না কেউ...

তাই বাস থিকা নেমে একখান টিকিট কেটে লই এক্সপ্রেসের জেনারেল কামরায়, মুখ কালো ক'রে রবিন্দরের আশ্রমে যাই... রবিন্দর কইতাছি, কেননা সেদিন দেখি হিন্দিভাষীদের আর হিন্দুত্বের ধ্বজা উড়িতেছে আশ্রম থিকা অনতি দূরে...তারও আগে দিদির তোরণ, দিদির তোরণের পর ত্রিকোণ লাল পতাকা, যাহার বর্ডার সোনালী জরিতে, মাঝে হনুমান জ্বিউ…

Tuesday, March 28, 2017

পৃথা রায় চৌধুরী-র : শরীরী-অ

শরীরী-অ

সকাল হতে না হতেই গায়ে পড়া শুরু। সারাদিন বিরমহীন ফস্টিনস্টি চলবে। চলবেই, সূর্যের তেজের সাথে ছায়া ছায়া গাছেদের ঢলানিগিরি শুরু। বাছবিচার নেই, রাস্তা, ছেঁড়াফাটা বুড়ি, কালুয়া কুত্তা, অলকাদির পুকুরঘাটে খোলা পায়ের গোছ। এসব সবাই দেখে না।

দত্তবাড়ির খড়খড়ির ফাঁক কাকের চোখে মিশে থাকে। সামনের নতুন ফ্ল্যাটে নতুন চারা। সন্ধানী চোখ ধারে খুঁজে নেয় ধারবাকি খাতার মাসকাবারি। মাসেরা হাত ধরাধরি করে খাতায় বসে পেট চালাবার ইজারা দেয়।

সরকারী ইস্কুলে মেয়েরা শাড়ী, মেয়েরা ক্লাস এইট, মেয়েরা শাড়ির সাথে জুতো মোজা হনহন। মেয়েগুলো রোগারোগা পালক। পালক কুড়োবার নেশায় চিত্তরঞ্জন বয়েজের সেকেলে গেঁয়ো গেঁয়ো নামের মিছিল।

কলার তোলা, শার্টের গোঁজ খোলা সাইকেলদের কাছে চাইনিজ ঝলকানি রিংটোন। রবার্ট ব্রুসেরা গলি গলি, তস্য গলি।

সেতুর নাম বিকেল চারটে। টিউশান পড়ার নাম, আমি রানি তুই রাজা, আব তো আজা। ফুচকা নয় চুড়মুড়। এবার চারটে নম্বরের জন্য ফেল করেছি... তাতে কি, সময়ের নাম পরের বার।

সন্ধে নামতে ছায়াগাছেদের ঢলাঢলি শেষ। শহুরে ফ্ল্যাটে শাঁখ বাজে না। পাড়ায় পাড়ায় বাবা লক্ষ্মীদের ফেরা।

বিলিতির দোকান আশকারায় ভরা। আগামীকাল কি ড্রাই ডে? তেড়ে বৃষ্টি এলো, আর সিনেমা সিনেমা খুপরিগুলোয় পাঁকাল মাছেদের ভিড় জমে গেল। এখানের রাস্তায় হাম্বারা হাঁটে না। পয়সা খোলাম হয়ে উড়ে আসছে। পাঁকের গন্ধে মাতোয়ারা নিশিগন্ধা।

Tuesday, March 14, 2017

একটি শিকারকাহিনি-র শেষ পর্ব : সর্বজিৎ ঘোষ

একটি শিকারকাহিনি-শেষ পর্ব

কল্কিকথা
প্রথম প্রথম সারাদিন একটা ঘরে নিজেকে আটকে রেখেছে অনিমেষ। আশ্চর্য হয়ে সে অনুভব করেছে, ক্রমশ খিদের ভাব চলে যাচ্ছে তার, চলে যাচ্ছে ঘুম। এমনকি আগুনে তার হাত পুড়ছে না, খোলা তারে হাত দিলে ঝটকা খাচ্ছে না। তার কুঁচকিতে যে প্রচুর চুলকানির দাগড়া দাগড়া ছোপ ছিল, রক্ত গড়াতো আর ইস্কুলে সাদা প্যান্টে সেই দাগ দেখে হেসেছিল আর চাঁটি মেরেছিল ক্লাস ফাইভের কিছু নিষ্পাপ শিশু, সেসব চুলকে আর তার আরাম হয় না। ঘড়ি ধরে একবার দম আটকে রেখেছিল, তিনশো ছাপান্ন ঘন্টা বাহান্ন মিনিট উনতিরিশ সেকেন্ড পর একঘেয়ে লাগায় বিরক্ত হয়ে দম নিতে শুরু করে আবার। এসবের মধ্যে কাজের কথা একটাই, ঘুম না হলেও ঘুম তার পাচ্ছিলই, পেয়েই চলেছিল। যাবতীয় সময় তার কেবল ঘুম পেতে থেকেছে, কিংবা এই গোটাটা, এই যাবতীয় ঘর-ঘুম-আগুন-নিঃশ্বাস সবই এক ঘুমের মধ্যে ভাবতে থাকা যে এবারেরটা অন্তত স্বপ্ন নয়, এইতো যা হচ্ছে সত্যিই হচ্ছে, এরকমই তো হয়...
কেবল এই ঘুম পাওয়ার বিরক্তিতেই বাইরে এসেছিল অনিমেষ। সময়ের হিসেব ছেড়ে দেওয়ার পর থেকে, তার কেবল মনে পড়ে নিজেকে সে শুয়ে থাকতে দেখেছে, প্রবল ঘুমে চোখ বুজে আসতে দেখেছে, অথচ ঘুমোতে দেখেনি। এখানেই মনে পড়ে, সে যেন কীভাবে নিজেকে দেখে চলেছে, যেন একটু দূরে দাঁড়িয়ে, ছোলাভাজা চিবোতে চিবোতে তার মনে হচ্ছে নিজেকে দেখে গাড়ল ও প্রতিভাবান, নিজেকে শুয়োরের বাচ্চা বলে সে গাল দিচ্ছে এবং ভাবছে এই শটটা খানিক অল্প চিপ করে মারতে হতো, কিংবা গাল দেওয়াও আসলে তার ভান, তার আদতে কিছুই যায় আসে না। সুতরাং প্রবল ঘুমের তাড়নায় অনিমেষ মনে করতে পারেনি, সে কীভাবে ভাসতে শিখেছিল বাতাসে, মনে করবার কথাই মনে পড়েনি তার। কেবল বাইরে এসে অনিমেষের মনে হয়েছিল, খানিক সর্ষের তেল পেলে চোখে ডলে দেখতে পারে সে, যদি ঘুম পাওয়া থেমে যায়।
সুতরাং সেসময়ে সারা পৃথিবীর কাজ চলেছিল একেবারেই নিজের নিজের তালে, যা যা চলা থামিয়েছিল সেও কেবল তখন তাদের থামার কথা ছিল বলেই। এককথায়, সবই পূর্বনির্ধারিত বলে অনিমেষ ভেবেছিল, এবং তার ভাবনা দিয়েই এরপর থেকে সব প্যাঁচ খেলা হবে। অনিমেষ ঘুমচোখে চলে গিয়েছিল বাসস্ট্যান্ডে, আর বাসে উঠে খেয়াল করেছিল এখানে সর্ষের তেল পাওয়া যায় না এবং এখানে বড় ভিড়। 'ঘুম পাচ্ছে', একঘেয়ে গলায় সে বলেছিল। কেউ তার কথা শোনেনি, বরং পাশের মেয়েটি তার দিকে কড়া চোখে তাকিয়েছিল, ঢুলন্ত অনিমেষ তার গায়ে ঢলে পড়েছিল বলে। ঠিক সেইমুহূর্তে অনিমেষ প্রথম রাগতে দ্যাখে নিজেকে। এমনিতেই তার মনে হতো এতদিন ধরে, রাস্তায় যে কোনো পাঁচজন মানুষকে চড় মারলে ষষ্ঠজন তোমায় যেচে এসে পাঁচটাকা দিয়ে যাবে, এভাবে কত রাত সে কেবল ব্যথার হাতে বোরোলিন লাগিয়ে কাটিয়েছে, আর সেসব রাগ তার মাথায় চড়ে গেল মেয়েটিকে কড়া চোখে তাকাতে দেখে। অনিমেষ ভীষণ জোরে চকাস শব্দে মেয়েটির ঠোঁটে চুমু খায়, দুহাতে মেয়েটির মাথা চেপে ধরে, এবং আরেকটি চুমু খাওয়ার আগে যখন মেয়েটি মোচড়ামুচড়ি করছে আর বাসের লোকেরা চকিত হয়ে মজা দেখছে, অনিমেষ বলে, এক্ষুণি চাইলে দুচোখে আঙুল ঢুকিয়ে দিতাম, কিংবা ন্যাংটো করলে তো দেখব সেই এক বিচ্ছিরি দলা দলা মাংস, অতএব জামা পরিয়েই যে চুমু খাচ্ছি এতে খুশি হও মেয়ে। এখন, এতসব কথা অনিমেষ মুখে উচ্চারণ করেনি, বাসের মানুষ তাকে প্রচণ্ড হইহট্টগোলে ঢেকে ফেলছিল বলে তার বিরক্ত লাগতে শুরু করে, সে লহমায় দেখতে পায় ইঞ্জিনের উপর মলয় নামের সাদা বেড়ালটি, এবং অনিমেষ উচ্চারণ করে

Thursday, March 9, 2017

ঈশ্বরের জননতন্ত্রী, বিদেশি শব্দ এবং একটা রক্তখেকো ন্যাপলা : ডাকনামে সমুদ্র

ঈশ্বরের জননতন্ত্রী, বিদেশি শব্দ এবং একটা রক্তখেকো ন্যাপলা

১।
এই বিশ্বাস হয় -
ঈশ্বর আছেন কণায় কণায়
আমাদের ক্লাস সিক্সের ব্যাকরণ বই
সমস্ত সিগারেট কাউন্টার
ভুখা পেট
অফ্রিকা
জলবায়ু
নিভন্ত উনুন
তীব্র বর্ণবিদ্বেষ
অমৃতা গগণের টোলে
ভেনিসের জল। ইরাকের যুদ্ধ। সংবিধান। ছাপাখানা। জিরো জিরো সেভেন। ভ্লাদিমি পুতিন। হীনস্কন্ধ সময়।
এমনকি টুম্পা চাকির প্রথম খাওয়া ধর্ষণেও



২।
“shouting ‘oh god!' at bed isn't equivalent to a prayer"

ক. হরেকৃষ্ণ বলতো একটি উত্তর কোলকাতার টিঁয়া

খ. তিনি ছেলের নাম রেখেছিলেন শ্যাম। শ্যাম চোদ্দবছর বয়সে বাথরুমের ফুটো দিয়ে ভিজে মাকে দেখে হাত মেরেছিলো।

গ. প্রত্যুষা ঋতুমতী হয়েও ঠাকুর ছুঁয়ে ফেলেছে

ঈশ্বর আমার বিশ্বাস পুড়ছে
ওদিকে দৃশ্য তখনও কালো। পর্দা ওঠে নি। আমরা হাত চালান করে দিয়েছি পবিত্র বুকে বুকে। ঘেঁটেছি।


Saturday, March 4, 2017

মনোলগ : ০৬/০১/২০১৭ - রঙ্গন রায়

মনোলগ : ০৬/০১/২০১৭

"এবং আরো কিছু ভুল করবার জন্য আমাকে আরো কিছুকাল থেকে যেতে হবে!"
-      রতন দাশ

আমি নিজের মত এঁকে নিতে পারবো। ভুল হলে হবে। তবুও তো নিজের মতো। অদ্রিজার আঁকা পোর্ট্রটে আমি শুধু পার্টিকুলার কোন এক জনের মুখের সমস্ত রেখা লক্ষ্য করতে পারবো, কিন্তু নিজের মত নয়। যেভাবে অদ্রিজা দেখাবে ওভাবেই দেখতে বাধ্য। আমি নিজের মত দেখতে চাইছি, হয়তো আমার ইচ্ছা হলো পুজার দীর্ঘ চুল বাঁধার ছবিটাতে চুলগুলো এলোমেলো হোক - ঘাড় ও গলার পাশ দিয়ে নেমে আসুক বা ভেজা চুল পাতলা পিঠে ভারী ভাবে লেপ্টে আছে - চোখের পাতায় তিরতির করছে বৃষ্টির জলনাহ্! এসব আমাকেই আঁকতে হবে। কেউ আমায় সন্তুষ্ট করতে পারলোনা, সম্ভব নয়। ইজেল, ক্যানভাস ভেঙেচুরে এইসব আঁকিবুকি অনিবার্য ভাবে আমারই জন্য

এই সেদিনও আমি 'কালাশনিকভ'এর মানে জানতামনা। যখন জানলাম তখন থেকেই মাথার ভিতর শুধু একটাই ধুন "কালাশনিকভ - কালাশনিকভ"... কি যে এক অদ্ভুত ধূন জানিনা। এরকম হয়। অনেকেরই হয়তো হয়। আমারও আগে হয়েছে। অথচ দ্যাখো AK 47 আমি বাঁটুল দি গ্রেট থেকেই শুনে আসছি। কালাশনিকভ কে আমি আমার মত করে কিছু একটা ভেবে নিয়েছিলাম। সেটাও এখন মনে পড়ছেনা।

Thursday, March 2, 2017

Hello Darkness, My Old Friend : বহ্নিশিখা সরকার

Hello Darkness, My Old Friend

খুব গুরুত্বপূর্ণ কথা নয় যদিও, অথচ মাঝে মাঝে অকেজো কথাগুলি মাথার ভিতরে ঘুরে বেড়ায় নোঙর করবে বলে। আমি জায়গা দিলাম তাদের। রাস্তা এগিয়ে যায় সামনে আর আমি ভিড় বাসে জানলার ধারে বসার সিট পেয়ে ভাবি জীবনে বুঝি হামেশাই এমন মিরাকেল হয়। মানব সভ্যতার অপ্রাসঙ্গিক কথোপকথনের হাত থেকে বাঁচবো বলে কানে তুলে নেই গান। গান বাজে, চুলে আসে দমকা হাওয়া। গড়িয়া থেকে গড়িয়াহাট যাওয়ার মাঝখানেই কোথাও আছে পৌনে দশ নাম্বার প্ল্যাটফর্ম। যে জগতে এইবার আমি পৌঁছাই সেখানে বয়স বাড়েনা, সময় নড়ে না। একটা পাগল খরগোশ দেখতে পাই। চোখ জুড়িয়ে ঘুম আসে। স্বপ্নে আবার স্বপ্ন আসে তবু চোখ থাকে খোলা। এমন মাহেন্দ্রক্ষণে গানের কথার অর্থ বুঝে যাই, আগে সুরের কারচুপি আমায় সিন্দুকে রাখা কথাগুলোকে বুঝতে দেয় নি।
রাস্তায় দেখি আমার কানে শোনা গান ইজেলে আঁকা হচ্ছে। গান বেজে চলে, সায়মন অ্যান্ড গারফাঙ্কেল—

Hello darkness, my old friend,
I've come to talk with you again,
Because a vision softly creeping,
Left its seeds while I was sleeping,
And the vision that was planted in my brain
Still remains
Within the sound of silence

Tuesday, February 28, 2017

“Everything I told you before is a lie” - একটি দেবীপক্ষের Travelogue : রাজর্ষি মজুমদার

“Everything I told you before is a lie” - একটি দেবীপক্ষের Travelogue


যে মেয়েটি কাফকা অন দ্য শোর পড়ছিল সে ধানবাদে নেমে গেছে আমাদের কামরার প্রত্যেকের ব্যক্তিগত চাউনিগুলো আমি ঢুকিয়ে রাখছি একটা বাক্সে চিন্তা হচ্ছে জামাকাপড়ের জন্যআশ্বিন শেষের ভরা একটা রোদ এখন রেলের জানালায়। এই আলো, এই জানালা, নীল রঙ মাখানো হাত সব রেলের। একটা একটা করে দৃশ্যকল্প, একটা একটা করে কথা সরে যাচ্ছে , সরে যাচ্ছে আমার Dissertation শুখা মাঠ, ছিরিছাঁদহীন বাড়ি ঘর দোর পেরোতে পেরোতে প্রশ্ন জাগছেএরা কি সমকামকে স্বীকৃতি দেবে?

একটু পরে সূর্যাস্ত দেখব – কোডারমার ধাপে ধাপে নেমে আসা জঙ্গল, ধূসর পাথুরে খাদের ওপর জেগে থাকা বৌদ্ধ বিহারের ছবি তুলে রাখতেই হবে আমায়। এসব ছবি কাজে লাগবে লেখার সময়, দিন এগারো পরে এ বিকেল পড়ে আসার ঘটনা নিয়ে লিখতে বসে।
মাঝে মাঝে স্বপ্ন আর সিনেমা ছাড়া লেখাতেও আমরা সময়কে সম্প্রসারিত করতে পারি বোধ হয়? এই পারাটা আসলে পাঠকনির্ভর। স্বপ্ন আমরাই তৈরী করি , আমরা সিনেমাও তৈরী করতে পারি। কিন্তু পাঠক ছাড়া বোধহয় লেখা তৈরী হয়না।  
এই যেমন এ লেখা লিখতে লিখে আমার কাছে সময় অনেকগুলি অস্তিত্ব হয়ে ঘোরাফেরা করছে। হয়ত পাঠক বেছে নেবেন তার মধ্যে একটা – লেখাটার একটা নতুন সময় তৈরী করবেন তিনি। এসব ভাবতে লিখতে একটা ফ্লেক ধরাচ্ছি আমি, ধোঁওয়াটুকু ছাড়ছি দশদিন আগের সময়ে  – যেখানে আমি আদিত্য আর শ্রীরাগ টিনের টেবিলটার ওপর পা তুলে দিয়ে সিগারেট টানছি চেয়ারগুলো পেছনের দিকে ঝুঁকে গেছে, বাইরে একটা পাতাও নড়ছেনা এমন গরম। আদিত্য ওর Dissertation এর কাজটা নিয়ে বলছিল – cinema তে  time and space এর ব্যবহার স্বভাবতই আমার কথায় তারকোভস্কি চলে এলেন ... তার ওই হালকা নীল টোনের আকাশে মিশে যাওয়া জনারের ক্ষেত , বেড়ার ওপর সিগারেট ফুঁকতে থাকা মারিয়াকে নিয়েজঙ্গলের সেই গাছগুলোর জ্যামিতি বা বরফের ওপর ডাঁই করে রাখা কাঠের ভিস্যুয়াল থেকে একটা পাপিয়ার ডাক ছুটে চলে এল নদীতীরে। সেখানে নগ্ন প্যাগান মেয়েটি চোখ দিয়ে প্রশ্ন ছুড়ে দিচ্ছে – “ What sin? Tonight is for lovemaking; is love a sin? ”  
তাকে নিয়ে আমার আজ নদীতে যাবার কথা  

সিগারেটটা ঘুরছিল টেবিলের চারদিকে – হাতে হাতে। ঠিক এইসময়ই আমার মুখের কথা কেড়ে নিয়ে শ্রীরাগ বলে ওঠে – “ He was a magician. By his works he just said all the Soviet montage movement filmmakers that – “You guys just … just fuck of! Film is not all about theories, technicality, cutting. It’s about playing with time and space.”

Thursday, February 16, 2017

ঋপন ফিও একটা গল্প ভেবেছে

ঋপন ফিও একটা গল্প ভেবেছে

তো এক দেশের মানুষ ভাত খেতে ভালবাসত আকাল পড়ার আগে। আকাল পড়ায় অগত্যা বাধ্য হয়ে মকাই। প্রথম প্রথম গলা দিয়ে নামতে না চাইলেও আস্তে আস্তে সয়ে গেল। তারপর এল সেই মোক্ষম দিন। খেতে বসা সন্তানের করুণ মুখের দিকে চেয়ে থাকা এক জর্জরে মা আনমনে বলে উঠল~ বালের ভাত, মকাই ঢের ভাল... আর কি, একজন একজন করে এবার সবাই গুণ গাইতে শুরু করল মকাই এর। ধীরে ধীরে দেশের মানুষ ভুলেই গেল ভাতের স্বাদ। শুধু একজন পারল না কিছুতেই। ডাইনী সন্দেহে তাকে পিটিয়ে মারার আগে অব্দি পাতে মকাই নিয়ে বসে সে শুধু ভাতের কথা ভাবত।
















ঋপন ফিও
Reepan Fio

Tuesday, February 14, 2017

কয়েকটি কুকুরের চিৎকার : সুমন মজুমদার

কয়েকটি কুকুরের চিৎকার

তীর্থ ট্রেনে বাড়ি ফিরছিল। সকালে বেরিয়েছে দুই-তিনটে জায়গা ঘুরে, বেশ অনেকগুলো তামাক খেয়ে বেশ হাবুডুবু হয়েই ট্রেনে উঠেছিল শিয়ালদা থেকে। দশটা তিরিশের বনগাঁ লোকাল, এই নামে একটা সিনেমাও হয়ে গেছে বোধহয়। এসময় ভীড় থাকার কথা নয়, বসার সিট অন্তত পাওয়া যায়, যুদ্ধ না করেই। তীর্থ সিনেমা দেখতে ভালোবাসে, তবে আজকাল বিশেষত ডিসকভারি এবং ট্রেভেল চ্যানেল-ই সে দেখে। কি সুন্দর দেখায় চায়না অথবা ইস্টার্ন এশিয়া। সবুজ ল্যান্ডস্কেপের মধ্যে সুন্দর হাসিমুখের মানুষ তাদের রঙ বেরং এর খাবার, জামাকাপড়। তীর্থ ঠিক করে রেখেছে যে সে এশিয়ার এই দেশগুলোয় একবার অন্তত যাবেই। আজকাল এমনকিছু কঠিন খরচপাতি-ও পড়েনা। দুবার কাসৌল যাবার পয়সা জমাতে পারলেই যাওয়া যায়।

তীর্থর তামাক খেয়ে নেশা হয়ে গেলে চশমাটা ভারি লাগতে থাকে, এসময় তার সন্দেহ হয় চোখের পাওয়ার কমে গেছে কিনা, অথবা তীর্থ মনে মনে ঠিক করে আগামী চশমাটা ফাইবার-এর বানাবে। কাঁচের ওজন ভারি। তীর্থর মনে হয় যেন চশমা পরে থাকার ফলে সে আশেপাশে কিচ্ছু দেখতে পাচ্ছেনা, এ সময় মাথা ভারি লাগে, চোখ অন্ধকার হয়ে আসে। তীর্থ নিজেকে সামলে ফেলে এই সময়গুলোতে। চশমা খুলে ফেলে, গভীর শ্বাস নেয়। বেশি বাড়াবাড়ি হলে চোখে জল ছেটায়। অনেকদিন আগে ডাক্তার লো-প্রেশারের কথা বলেছিল, সেটাও একবার মনে পড়ে যায়।