Showing posts with label Alternative. Show all posts
Showing posts with label Alternative. Show all posts

Tuesday, March 28, 2017

পৃথা রায় চৌধুরী-র : শরীরী-অ

শরীরী-অ

সকাল হতে না হতেই গায়ে পড়া শুরু। সারাদিন বিরমহীন ফস্টিনস্টি চলবে। চলবেই, সূর্যের তেজের সাথে ছায়া ছায়া গাছেদের ঢলানিগিরি শুরু। বাছবিচার নেই, রাস্তা, ছেঁড়াফাটা বুড়ি, কালুয়া কুত্তা, অলকাদির পুকুরঘাটে খোলা পায়ের গোছ। এসব সবাই দেখে না।

দত্তবাড়ির খড়খড়ির ফাঁক কাকের চোখে মিশে থাকে। সামনের নতুন ফ্ল্যাটে নতুন চারা। সন্ধানী চোখ ধারে খুঁজে নেয় ধারবাকি খাতার মাসকাবারি। মাসেরা হাত ধরাধরি করে খাতায় বসে পেট চালাবার ইজারা দেয়।

সরকারী ইস্কুলে মেয়েরা শাড়ী, মেয়েরা ক্লাস এইট, মেয়েরা শাড়ির সাথে জুতো মোজা হনহন। মেয়েগুলো রোগারোগা পালক। পালক কুড়োবার নেশায় চিত্তরঞ্জন বয়েজের সেকেলে গেঁয়ো গেঁয়ো নামের মিছিল।

কলার তোলা, শার্টের গোঁজ খোলা সাইকেলদের কাছে চাইনিজ ঝলকানি রিংটোন। রবার্ট ব্রুসেরা গলি গলি, তস্য গলি।

সেতুর নাম বিকেল চারটে। টিউশান পড়ার নাম, আমি রানি তুই রাজা, আব তো আজা। ফুচকা নয় চুড়মুড়। এবার চারটে নম্বরের জন্য ফেল করেছি... তাতে কি, সময়ের নাম পরের বার।

সন্ধে নামতে ছায়াগাছেদের ঢলাঢলি শেষ। শহুরে ফ্ল্যাটে শাঁখ বাজে না। পাড়ায় পাড়ায় বাবা লক্ষ্মীদের ফেরা।

বিলিতির দোকান আশকারায় ভরা। আগামীকাল কি ড্রাই ডে? তেড়ে বৃষ্টি এলো, আর সিনেমা সিনেমা খুপরিগুলোয় পাঁকাল মাছেদের ভিড় জমে গেল। এখানের রাস্তায় হাম্বারা হাঁটে না। পয়সা খোলাম হয়ে উড়ে আসছে। পাঁকের গন্ধে মাতোয়ারা নিশিগন্ধা।

রিক্সাদেরও ছেলেমেয়েরা রাস্তায় বসে নামতা মুখস্থ করে। ওপরে আরামকেদারায় বসে জার্মান কফিতে হাল্কা হাল্কা চুমুক মেরে খিদের আর্দ্রতা লিখি, হাঘরের রাস্তাঘুম লিখি, দুএকটা সস্তা খিস্তি... দয়ার সাগর হই। কাঠি তৈরি, চলে এসো বৈরি। ডিনারে টিবেটান ডিলাইট।

জ্যোৎস্না দেখা আজকাল লুকিয়ে। ওসব ন্যাকামি কেউ দেখে ফেললেই মানইজ্জত হাওয়াই শার্টের পেঁজা কলার।

বাবার ঘেমো ছেড়ে ফেলা জামা চড়িয়ে বাবার কায়দায় মেয়ে বাবারই স্কুটারে দাঁড়িয়ে মুখে স্কুটার চালিয়ে সটান জীবনের পথে। মা হাসে, দেখো দেখো মেয়ের কাণ্ড। মেয়ে মেয়ে মেয়ে, পালা। তুই যা করবি, তাই কাণ্ড।

গাছেদের কাণ্ডে কতো প্রেম খোদাই হয়ে থাকে। প্রেমিক প্রেমিকারা একে অপরের চুপিচুপি প্রেমেদের সাথে সংসার পাতে।

পাতে পাতে পড়তে থাকে কমবেশি সুস্বাদু বকেয়াদের ফিরিস্তি। আর ইস্তিরি করা জামাকাপড়েরা সকাল সকাল ফস্টিনস্টিদের দেখেও না দেখে ছুটতে থাকে বিরতিহীন অন্ধগলি ধরে। রাস্তার আশেপাশে চোখের কোনায় হঠাৎ হঠাৎ ছিটকে এসে লাগে ছিন্নভিন্ন অনেক কিছু। বারুদ বা রক্তের আঁশটে এলাকাতেও নির্বিকার থাকার নাম হয়ে যায় ছায়া... ছায়া...।

ছায়া তোর বাড়ি কোথায়? ছায়া তুই সাবান মাখিস? ছায়া তোর কবিতা লেখার খাতায় হিসেব লিখিস? ছায়া তুই হিসেবের সাথে নিকেশও লিখিস? সব শেষে যোগফলে পাকাস গণ্ডগোল। আর তার প্রহর গুনেগুনে রাত চলাচল করে র‍্যাম্পে, বিল্লিচলন! তাতে কি একটুও ভয় পায় ওই পুঁচকে টুইটটুইট সবুজ গ্রিলে? তার বেখাপ্পা তরোয়াল লেজ নাচিয়ে এপাশ ওপাশ। দেওয়ালে শুরু হয় সূর্যের মাতব্বরি। মাতব্বরি বৈকি, ওপারের সুপুরি গাছের পাতাগুলো এপারের দেওয়ালে এসে ম্যালেরিয়ায় ভোগে, পুকুরের ছায়ায় ডুব দিয়ে স্নান সেরে নিতে বলে একা চড়ুই।

চড়ুইগুলো ইদানিং মোমবাতি মিছিলে যাবার হুমকি দিতে শিখেছে। বলেছে মোবাইল থেকে শেকড়ে ফিরতে। নাহলে, নাহক পালকের ছড়াছড়ি দেখে হেসে কুপোকাত হয় ব্যালকনির কালচে মর্চে গ্রিলেরা। আর ওখান থেকে কার অঙ্কের মাস্টারমশাই চিল্লিয়ে ওঠে, “মাথা ভর্তি গোবর, তোর...এই গালিচা, ওই গালিচা ঘুরতে ঘুরতে মোবাইলের টাওয়ারগুলো একসাথে গলাগলি কাঠগড়ায়। চল চল আদালত, চল চল শামলা... আচ্ছা, ঘাম হচ্ছে কি প্রচণ্ড? ওদের বাড়ির ছাদে তোয়ালে শুকোচ্ছে মেয়েলি। পুরুষেরা ভেসে তার কামড়ে বাতাস আটকে বলে দিচ্ছে, এখানেই মৌরসিপাট্টা। ওই বাগানে নাকি গঙ্গাফড়িঙের চাষ হয় আজকাল?

পরিচয়পত্রের ভাগ বাঁটোয়ারা নিয়ে তুলসিপাতাদের সাথে ষড়যন্ত্রে নিম ফুলেদের দৌরাত্ম্য। ইন্দ্রের সভায় কে নেচেছিলো, তা নিয়ে জোরদার শোরগোল। তাতে কিরে সখি? তুই তো ছিলি না। অমন প্যাঁচামার্কা মুখে ওখানে ঢুকতে দেবে কে রে? তবে তোর ওড়নার কোনো একদিন নিরুদ্দেশ হওয়া সাজে। খোঁজ খোঁজ খোঁজ... গ্রাম ওলটপালট। হেই দেখ, হেই দেখ, নিলাজ মেয়েছেলে, স্বভাবচরিত্তির ভালো ছিলো নাকো। ঠিক হইচে, বেশ হইচে। পড়ার ভুত ঘুচে গেচে। হুই দেখ, হুই দেখ, বাপ মা কাঁদে। বিহানবেলায় মোমের বড়ো তেজ। ছুঁচ সুতো ছাড়া সেলাই শিকেচিলি না? কাল করবি, কাল...।

রঙিন জলে সাদাকালো ভিড়। সেপিয়া গুলো আজকাল চলে না। অকারণ কোনো থুৎনির ভাঁজে কাঁপও ভাসে না। দুয়োরে দুয়োরে অপেক্ষারত ভাতের থালা হাতে মায়েরা। ইজরায়েল লিখি, গাজা লিখি, কিন্তু বিশ্বকাপটা জার্মানি নিয়ে গেলো, হায় হায় উথলাই। পোষাচ্ছে কি পোষাচ্ছে না, জানা নেই, তবু বিভিন্ন হ্যাঙ্গারে ভালো থাকা আর তস্য ভালো থাকারা ঝোলে। বাঁচতে বাঁচতে বাছতে থাকে অষ্টম আশ্চর্য। শেকড়ের টানে যত রস উঠে এসেছিলো উঠোন জুড়ে, সবাই এখন পরদেশি। তাদেরও নানান তাঁবেদার। তাঁবেদারি হাতে হেমলক। আআআআহ! বাচ্চাদের সামনে থালায় পরিবেশন করে না, চোরপকেটে রাখা থাক ঘাম জবজব।

ঘেমে নেয়ে একসা। কালোয়াতির টিকিট চাই। বিদ্গধ প্রমাণ, কি গাইছে ছাই বুঝি না। নাকে নাকে মুখের চরম বিকৃতির সাথে সাথে মাথা দোলানো চলছে বকনা বাছুরের মতো। কিকালচার, আহা! সামনের দোকানটায় স্টিমড মোমো দারুণ, কালোয়াতির সাথে পেটের কালোয়াতি চলেছে, শেষ হলে বাঁচি। বউটা বড়ো বেশি বোঝে, মালদার শ্বশুর দেখতে গিয়ে এখন গিটকিরিবাণ গিলে গিলে হজমিগুলির প্রয়োজন দিন দিন বেড়ে চলেছে। ঝিমঝিম লাগার মাঝে মনে হয়, দশ মাসের লাফালাফি সব বৃথা।












পৃথা রায় চৌধুরী

Preetha RoyChowdhury

Sunday, March 26, 2017

দুটি লেখা নিয়ে এসেছেন : সুমন সাধু

 কাল, কালের গর্ভ

তাকে খুঁজেছি আরামকেদারার ছাদে। খুঁজেছি আরামে বেশ। দশকনামার ফাল্গুনে আঁজলা ভরে স্নান দিয়েছি কয়েক। আমি কি ভুলেছি হিংস্র স্তাবকতা! ভুলেছি কি শিশুমঙ্গল ঘ্রাণ! জীবদ্দশায় আমরা পেলাম শক্তি, ঊর্দ্ধে গাইলেন রামপ্রসাদ।

বিশ্বাসের আঁকাপথে তর্ক করছি রোজ। সংক্ষেপে কথোপকথন সারি। শাড়ি গায়ে রোজ আলতার আলতো ছাপ দেখে ভেবে নিই জোয়ার এল বুঝি। হারতে থাকা তর্কের নিম্নে এসে মধ্যভাগ খুঁজি। একপাশে থেকে যান আবিষ্কর্তা, সন্তান স্নেহে ঘুমোন ভারতচন্দ্র।

নদীর মতোন একটা নদী উপহার দেব বলে কেন্দ্রের ওংকার জুড়ে ঘেমে উঠি। ত্রিলোককর্তা ছদ্দবেশে বেশ আসা যাওয়া করেন। ঘামজলে দুটো নৌকো ছাড়ি। একান্তে উঠে আসে কঠোপণিষদ স্তোত্র। স্তোত্রের আবহ জুড়ে শাঁখ বাজিয়ে প্রমাণ করি নদীর মতো তীব্র হওয়া একটা বিশ্বাস। বিশ্বাসের সীমান্তে এসে নারদ রূপে মজা পাই, আড়ালে নীলকণ্ঠ মুচকি হাসেন।



শোনো...
ধূসর যদি চাও সহজেই হাত রাখতে পারো। এ জ্বালা মেটাবো সহজেই। দু'দিনের এই অপরাহ্নে এসে ভাতঘুম পাড়ে বিছিয়েছিলে বান্ধবনগর। তবু তো চলে যাও এলোমেলো একাটি ফেলে।

ক্রমশ ফুরিয়ে আসছি। কাণ্ড থেকে শেকড় অবদি বৃত্তের জালে ঘুরপাক খাচ্ছি কতটা বছর। আছো কেমন? খেয়েছ? এসব কুড়োনো ক্ষয় অনন্ত বৃক্ষজালে পুড়ে যাচ্ছে রোজ। নিজের ঘরেই আছি। একাটি পুড়ছ সাজানো শ্মশানে।

সেই তো বিকেল, শুধু স্টেশনের ধার। অনন্ত চুল্লির গায়ে জড়িয়ে যাচ্ছো পারস্পরিক ব্যথার মতোন। পুরোনো গাছের গায়ে আমি এঁকেছি করুণ। সব সাজানো কি ঘনত্ব পায়! ভিতরর স্বভাব জুড়ে শৈশব কাঁদে।

আজ শুধু দিঘিজল। নোয়ানো ডালপালা শিয়রে তোমার। শিয়রে কদম্ব গাছ, ছায়া চায়… ছায়া। প্রাণনাথ, দূরদেশের ক্ষতটি নিয়ে ফিরলে, অথচ দেখা করলে না। চলো সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠি, হাতছানি দিয়ে বলি দু'জনের কথা।











সুমন সাধু
Suman Sadhu

Tuesday, March 14, 2017

একটি শিকারকাহিনি-র শেষ পর্ব : সর্বজিৎ ঘোষ

একটি শিকারকাহিনি-শেষ পর্ব

কল্কিকথা
প্রথম প্রথম সারাদিন একটা ঘরে নিজেকে আটকে রেখেছে অনিমেষ। আশ্চর্য হয়ে সে অনুভব করেছে, ক্রমশ খিদের ভাব চলে যাচ্ছে তার, চলে যাচ্ছে ঘুম। এমনকি আগুনে তার হাত পুড়ছে না, খোলা তারে হাত দিলে ঝটকা খাচ্ছে না। তার কুঁচকিতে যে প্রচুর চুলকানির দাগড়া দাগড়া ছোপ ছিল, রক্ত গড়াতো আর ইস্কুলে সাদা প্যান্টে সেই দাগ দেখে হেসেছিল আর চাঁটি মেরেছিল ক্লাস ফাইভের কিছু নিষ্পাপ শিশু, সেসব চুলকে আর তার আরাম হয় না। ঘড়ি ধরে একবার দম আটকে রেখেছিল, তিনশো ছাপান্ন ঘন্টা বাহান্ন মিনিট উনতিরিশ সেকেন্ড পর একঘেয়ে লাগায় বিরক্ত হয়ে দম নিতে শুরু করে আবার। এসবের মধ্যে কাজের কথা একটাই, ঘুম না হলেও ঘুম তার পাচ্ছিলই, পেয়েই চলেছিল। যাবতীয় সময় তার কেবল ঘুম পেতে থেকেছে, কিংবা এই গোটাটা, এই যাবতীয় ঘর-ঘুম-আগুন-নিঃশ্বাস সবই এক ঘুমের মধ্যে ভাবতে থাকা যে এবারেরটা অন্তত স্বপ্ন নয়, এইতো যা হচ্ছে সত্যিই হচ্ছে, এরকমই তো হয়...
কেবল এই ঘুম পাওয়ার বিরক্তিতেই বাইরে এসেছিল অনিমেষ। সময়ের হিসেব ছেড়ে দেওয়ার পর থেকে, তার কেবল মনে পড়ে নিজেকে সে শুয়ে থাকতে দেখেছে, প্রবল ঘুমে চোখ বুজে আসতে দেখেছে, অথচ ঘুমোতে দেখেনি। এখানেই মনে পড়ে, সে যেন কীভাবে নিজেকে দেখে চলেছে, যেন একটু দূরে দাঁড়িয়ে, ছোলাভাজা চিবোতে চিবোতে তার মনে হচ্ছে নিজেকে দেখে গাড়ল ও প্রতিভাবান, নিজেকে শুয়োরের বাচ্চা বলে সে গাল দিচ্ছে এবং ভাবছে এই শটটা খানিক অল্প চিপ করে মারতে হতো, কিংবা গাল দেওয়াও আসলে তার ভান, তার আদতে কিছুই যায় আসে না। সুতরাং প্রবল ঘুমের তাড়নায় অনিমেষ মনে করতে পারেনি, সে কীভাবে ভাসতে শিখেছিল বাতাসে, মনে করবার কথাই মনে পড়েনি তার। কেবল বাইরে এসে অনিমেষের মনে হয়েছিল, খানিক সর্ষের তেল পেলে চোখে ডলে দেখতে পারে সে, যদি ঘুম পাওয়া থেমে যায়।
সুতরাং সেসময়ে সারা পৃথিবীর কাজ চলেছিল একেবারেই নিজের নিজের তালে, যা যা চলা থামিয়েছিল সেও কেবল তখন তাদের থামার কথা ছিল বলেই। এককথায়, সবই পূর্বনির্ধারিত বলে অনিমেষ ভেবেছিল, এবং তার ভাবনা দিয়েই এরপর থেকে সব প্যাঁচ খেলা হবে। অনিমেষ ঘুমচোখে চলে গিয়েছিল বাসস্ট্যান্ডে, আর বাসে উঠে খেয়াল করেছিল এখানে সর্ষের তেল পাওয়া যায় না এবং এখানে বড় ভিড়। 'ঘুম পাচ্ছে', একঘেয়ে গলায় সে বলেছিল। কেউ তার কথা শোনেনি, বরং পাশের মেয়েটি তার দিকে কড়া চোখে তাকিয়েছিল, ঢুলন্ত অনিমেষ তার গায়ে ঢলে পড়েছিল বলে। ঠিক সেইমুহূর্তে অনিমেষ প্রথম রাগতে দ্যাখে নিজেকে। এমনিতেই তার মনে হতো এতদিন ধরে, রাস্তায় যে কোনো পাঁচজন মানুষকে চড় মারলে ষষ্ঠজন তোমায় যেচে এসে পাঁচটাকা দিয়ে যাবে, এভাবে কত রাত সে কেবল ব্যথার হাতে বোরোলিন লাগিয়ে কাটিয়েছে, আর সেসব রাগ তার মাথায় চড়ে গেল মেয়েটিকে কড়া চোখে তাকাতে দেখে। অনিমেষ ভীষণ জোরে চকাস শব্দে মেয়েটির ঠোঁটে চুমু খায়, দুহাতে মেয়েটির মাথা চেপে ধরে, এবং আরেকটি চুমু খাওয়ার আগে যখন মেয়েটি মোচড়ামুচড়ি করছে আর বাসের লোকেরা চকিত হয়ে মজা দেখছে, অনিমেষ বলে, এক্ষুণি চাইলে দুচোখে আঙুল ঢুকিয়ে দিতাম, কিংবা ন্যাংটো করলে তো দেখব সেই এক বিচ্ছিরি দলা দলা মাংস, অতএব জামা পরিয়েই যে চুমু খাচ্ছি এতে খুশি হও মেয়ে। এখন, এতসব কথা অনিমেষ মুখে উচ্চারণ করেনি, বাসের মানুষ তাকে প্রচণ্ড হইহট্টগোলে ঢেকে ফেলছিল বলে তার বিরক্ত লাগতে শুরু করে, সে লহমায় দেখতে পায় ইঞ্জিনের উপর মলয় নামের সাদা বেড়ালটি, এবং অনিমেষ উচ্চারণ করে

Saturday, March 11, 2017

সায়ন ঘোষ-এর কিছু লেখা

সেখানে সকলেরই একটা কম্বলের প্রয়োজন ছিল। নিদ্রাজরিত দূষিত চোখে তারা পরস্পরের দিকে তাকিয়ে হাসছিল। একজনের একটি রূপোলি দাঁত রয়েছে লক্ষ্য করা যায়। এবং কিছু শিশির কারপেন্টারের ছায়ায় জলের দ্রাঘিমায় হুবহু দ্রিদিম একঘেয়ে করে তুলেছিল বাড়িটাকে। সেখানকার ঘর, আসবাব, প্রাণ কৌটোবন্দী অবস্থায় শব্দের কড়া নাড়া; কারা য্যানো গুঁড়িয়ে ফেলেছিল তাদের শৈশব। নিজস্ব খনিজ মুঠোয় করে নিয়ে গঙ্গায় অস্হি বিসর্জন এবং সূর্যদেবতার কাছে প্রার্থনা। সকলেরই প্রয়োজন ছিল এখান থেকে বেড়িয়ে আসার। মুক্ত উপত্যকায় চড়ে ব্যাড়ানোর অধিকার সকলেরই ছিল। কেউ কেউ চেয়েছিল, কেউ চায়নি। জীবনকে বিভিন্ন রূপে আবিষ্কার করতে করতে কেউ কেউ পাগল হয়ে গিয়েছিল। কেউ এখনও আবিষ্কারের পদ্ধতি নিয়ে গবেষণারত। সন্ধ্যের শাঁখ এবং ঘন্টাধ্বনি বাতাসে মিশে যেতে যেতে অলস দ্রাঘিমায় আমরা এখন একটু ঘুমিয়ে নিচ্ছি ধোঁয়ার বিছানায়।

-      ৬নভেম্বর,২০১৬



ফোলিয়েশন

ঝড়ো অভদ্রতা শরীরের মধ্যে ছুড়ি কাটার কারবার রেশম সমন্বয়ে তৈরী বস্তুর ছেদ, রূপক, গতি, তড়িত্ বিচ্যুতির লোমশ স্ক্যান্ডাল পরিপূর্ণতার ঐশানী সন্ধ্যেতে পাক খাওয়া বিকট পাগনেশাস্ তার ঝিল্লীর অন্তস্হলে চুক্তি ও করমর্দন প্রতিলিপির বৃহত্ পাঠাগারে পাঠরত তরুণীর ঘাগড়ার তলায় আমার শ্রেষ্ঠ পান্ডুলিপি জমা পড়ে গ্যাছে হৃদয়ের তার যন্ত্রবাদক ঐশ্বর্যায় নিপুণ কাঠামো নির্ভর ইন্দ্রিয়প্রসর উচ্চ দ্রাঘিমায় ক্ষমাপ্রার্থী ঈশ্বরীর কণ্ঠে হিন্দিতে কিশোর কুমার
অতএব এগুলি সম্ভাবনার পাকদন্ডী এবং রাশিফল বিষয়ক দাঁড় যা এককভাবে দন্ডায়মান প্রণালীতন্ময় ও কিছু গঠনমূলক ধৈর্যবিচ্যুতি।



Thursday, March 9, 2017

ঈশ্বরের জননতন্ত্রী, বিদেশি শব্দ এবং একটা রক্তখেকো ন্যাপলা : ডাকনামে সমুদ্র

ঈশ্বরের জননতন্ত্রী, বিদেশি শব্দ এবং একটা রক্তখেকো ন্যাপলা

১।
এই বিশ্বাস হয় -
ঈশ্বর আছেন কণায় কণায়
আমাদের ক্লাস সিক্সের ব্যাকরণ বই
সমস্ত সিগারেট কাউন্টার
ভুখা পেট
অফ্রিকা
জলবায়ু
নিভন্ত উনুন
তীব্র বর্ণবিদ্বেষ
অমৃতা গগণের টোলে
ভেনিসের জল। ইরাকের যুদ্ধ। সংবিধান। ছাপাখানা। জিরো জিরো সেভেন। ভ্লাদিমি পুতিন। হীনস্কন্ধ সময়।
এমনকি টুম্পা চাকির প্রথম খাওয়া ধর্ষণেও



২।
“shouting ‘oh god!' at bed isn't equivalent to a prayer"

ক. হরেকৃষ্ণ বলতো একটি উত্তর কোলকাতার টিঁয়া

খ. তিনি ছেলের নাম রেখেছিলেন শ্যাম। শ্যাম চোদ্দবছর বয়সে বাথরুমের ফুটো দিয়ে ভিজে মাকে দেখে হাত মেরেছিলো।

গ. প্রত্যুষা ঋতুমতী হয়েও ঠাকুর ছুঁয়ে ফেলেছে

ঈশ্বর আমার বিশ্বাস পুড়ছে
ওদিকে দৃশ্য তখনও কালো। পর্দা ওঠে নি। আমরা হাত চালান করে দিয়েছি পবিত্র বুকে বুকে। ঘেঁটেছি।


Tuesday, February 28, 2017

“Everything I told you before is a lie” - একটি দেবীপক্ষের Travelogue : রাজর্ষি মজুমদার

“Everything I told you before is a lie” - একটি দেবীপক্ষের Travelogue


যে মেয়েটি কাফকা অন দ্য শোর পড়ছিল সে ধানবাদে নেমে গেছে আমাদের কামরার প্রত্যেকের ব্যক্তিগত চাউনিগুলো আমি ঢুকিয়ে রাখছি একটা বাক্সে চিন্তা হচ্ছে জামাকাপড়ের জন্যআশ্বিন শেষের ভরা একটা রোদ এখন রেলের জানালায়। এই আলো, এই জানালা, নীল রঙ মাখানো হাত সব রেলের। একটা একটা করে দৃশ্যকল্প, একটা একটা করে কথা সরে যাচ্ছে , সরে যাচ্ছে আমার Dissertation শুখা মাঠ, ছিরিছাঁদহীন বাড়ি ঘর দোর পেরোতে পেরোতে প্রশ্ন জাগছেএরা কি সমকামকে স্বীকৃতি দেবে?

একটু পরে সূর্যাস্ত দেখব – কোডারমার ধাপে ধাপে নেমে আসা জঙ্গল, ধূসর পাথুরে খাদের ওপর জেগে থাকা বৌদ্ধ বিহারের ছবি তুলে রাখতেই হবে আমায়। এসব ছবি কাজে লাগবে লেখার সময়, দিন এগারো পরে এ বিকেল পড়ে আসার ঘটনা নিয়ে লিখতে বসে।
মাঝে মাঝে স্বপ্ন আর সিনেমা ছাড়া লেখাতেও আমরা সময়কে সম্প্রসারিত করতে পারি বোধ হয়? এই পারাটা আসলে পাঠকনির্ভর। স্বপ্ন আমরাই তৈরী করি , আমরা সিনেমাও তৈরী করতে পারি। কিন্তু পাঠক ছাড়া বোধহয় লেখা তৈরী হয়না।  
এই যেমন এ লেখা লিখতে লিখে আমার কাছে সময় অনেকগুলি অস্তিত্ব হয়ে ঘোরাফেরা করছে। হয়ত পাঠক বেছে নেবেন তার মধ্যে একটা – লেখাটার একটা নতুন সময় তৈরী করবেন তিনি। এসব ভাবতে লিখতে একটা ফ্লেক ধরাচ্ছি আমি, ধোঁওয়াটুকু ছাড়ছি দশদিন আগের সময়ে  – যেখানে আমি আদিত্য আর শ্রীরাগ টিনের টেবিলটার ওপর পা তুলে দিয়ে সিগারেট টানছি চেয়ারগুলো পেছনের দিকে ঝুঁকে গেছে, বাইরে একটা পাতাও নড়ছেনা এমন গরম। আদিত্য ওর Dissertation এর কাজটা নিয়ে বলছিল – cinema তে  time and space এর ব্যবহার স্বভাবতই আমার কথায় তারকোভস্কি চলে এলেন ... তার ওই হালকা নীল টোনের আকাশে মিশে যাওয়া জনারের ক্ষেত , বেড়ার ওপর সিগারেট ফুঁকতে থাকা মারিয়াকে নিয়েজঙ্গলের সেই গাছগুলোর জ্যামিতি বা বরফের ওপর ডাঁই করে রাখা কাঠের ভিস্যুয়াল থেকে একটা পাপিয়ার ডাক ছুটে চলে এল নদীতীরে। সেখানে নগ্ন প্যাগান মেয়েটি চোখ দিয়ে প্রশ্ন ছুড়ে দিচ্ছে – “ What sin? Tonight is for lovemaking; is love a sin? ”  
তাকে নিয়ে আমার আজ নদীতে যাবার কথা  

সিগারেটটা ঘুরছিল টেবিলের চারদিকে – হাতে হাতে। ঠিক এইসময়ই আমার মুখের কথা কেড়ে নিয়ে শ্রীরাগ বলে ওঠে – “ He was a magician. By his works he just said all the Soviet montage movement filmmakers that – “You guys just … just fuck of! Film is not all about theories, technicality, cutting. It’s about playing with time and space.”

Saturday, February 18, 2017

জন্মান্তর ও দুপাশের জঙ্গল থেকে : তৃষা চক্রবর্তী

জন্মান্তর
পিসেমশায় পাগল ছিল। মরে গেলে, ওরা বলেছিল - আজ থেকে আর তো কেউ পাগল বলতে পারবে না। মরে গেল একজন পাগল। আমার পিসেমশাই, একজন পরিচয়। বাড়ির সামনে বাতাবী লেবুর গাছে ফুল এলে, পিসির কাছে টাকা ধার করে বিড়ি কিনতে যেত পিশেমশাই। বুকে গলায় কাশির দমক তুলে তুলে কেবলই বিড়ি খেত। আর মন দিয়ে শুনত, পিসি বলছে 'মর মিনসে, মরণ হয় না তোর'! সেই পিসে মরে যেতে খুব করে কেঁদেছিল পিসি। কেবলই বলেছিল, আমায় ছেড়ে কোথায় গেলে গো?

বুঝিনি, কোন সে শব্দ যাতে কান্নার শ্বাসাঘাত পড়ছে প্রলম্বিত হয়ে? কখনো মনে হয়েছে "আমায়", কখনো "কোথায়"।


Thursday, February 16, 2017

বুকঝিম এক ভালবাসা | ১৯শে ফেব্রুয়ারি | তপন থিয়েটার | সন্ধ্যে সাড়ে ছটা

বুকঝিম এক ভালবাসা
১৯শে ফেব্রুয়ারি | তপন থিয়েটার | সন্ধ্যে সাড়ে ছটা

আমাদের যত যুদ্ধপরিস্থিতি, আমাদের যত হিংসা আর অন্ধত্ব, আমাদের যত হত্যা, সবকিছুই আমাদের বিশ্বাসে ঘা দেয়। আমাদের মনে হতে থাকে বিশ্বাস এক দুর্মূল্য শব্দ এই সময়ে, মনে হয় আমাদের যাবতীয় ভালবাসা বিলাসিতা। কাজেই, কবিকে বারবার বলতে হয়, মুখ ফিরিও না। ব্যারিকেডে বারবার চুম্বনের উচ্চারণ শোনা যায়।
'বুকঝিম এক ভালবাসা' আমাদের নিয়ে যেতে চায় পাঁচশো বছর আগে, অথচ একইসাথে নিয়ে যায় সেই আগুনের মধ্যেও, যেখানে ধর্ম দেখে শীলমোহর পড়ে ভালবাসায়। মনসুর-চাঁদের সঙ্গে আমাদের সামনে আসে নূরজাহান, আসে সেইসব প্রজারা --- যারা "বুক টান করে সামনে এসে দাঁড়ায়। বলে, 'কিসের খাজনা! কিসের বাজনা! শ্মশানযাত্রার বাজনা বাজায়ে দিবাম আবার যদি এইখানে আইসেন।" যে মনসুর বয়াতি "গরীব কৃষকের এতিম সন্তান, নাই তার জমি, আছে কর্জ পাহাড়প্রমাণ", তার সাহস দেখে চমকে উঠতে হয় মহব্বত জঙ্গকে, চিরকাল চমকে উঠতে হবে শাসককে এভাবেই; যখনই আমাদের ভালবাসায়, আমাদের বাঁচবার প্রাথমিক স্ফূরণেও বাধা আসবে, আমাদের হাতে কীই বা থাকবে আগামীকে দেওয়ার মতো, আমরা যদি ভালবাসাতেও অন্তত পাশাপাশি না দাঁড়াতে শিখি!




‘বুকঝিম এক ভালবাসা’
সৈয়দ শামসুল হকের উপন্যাস

নির্দেশনা ও অভিনয় : শ্রমণ চট্টোপাধ্যায়
সঙ্গীত : শুভদীপ গুহ

সঙ্গতে : সুশ্রুত গোস্বামী, চক্রপাণি দেব, জয়ন্ত সাহা, সুহানিশি চক্রবর্তী, সর্বজিৎ ঘোষ


একুশ শতক                            ছবি : কৌস্তভ চক্রবর্তী 

ঋপন ফিও একটা গল্প ভেবেছে

ঋপন ফিও একটা গল্প ভেবেছে

তো এক দেশের মানুষ ভাত খেতে ভালবাসত আকাল পড়ার আগে। আকাল পড়ায় অগত্যা বাধ্য হয়ে মকাই। প্রথম প্রথম গলা দিয়ে নামতে না চাইলেও আস্তে আস্তে সয়ে গেল। তারপর এল সেই মোক্ষম দিন। খেতে বসা সন্তানের করুণ মুখের দিকে চেয়ে থাকা এক জর্জরে মা আনমনে বলে উঠল~ বালের ভাত, মকাই ঢের ভাল... আর কি, একজন একজন করে এবার সবাই গুণ গাইতে শুরু করল মকাই এর। ধীরে ধীরে দেশের মানুষ ভুলেই গেল ভাতের স্বাদ। শুধু একজন পারল না কিছুতেই। ডাইনী সন্দেহে তাকে পিটিয়ে মারার আগে অব্দি পাতে মকাই নিয়ে বসে সে শুধু ভাতের কথা ভাবত।
















ঋপন ফিও
Reepan Fio

Sunday, February 12, 2017

মাড়ি ও দাঁতের সমাবেশ : প্রত্যুষ বন্দ্যোপাধ্যায়

মাড়ি ও দাঁতের সমাবেশ

(১)

এতো পালক এতো ছায়াগাছ কুসুমবিকার এতো সব। এর মধ্যেই ঠাঁই করে নিয়েছে আমার মৃত দাদামশায়ের জ্যান্ত খড়ম। যে সারা বাড়ি উঠোন তুলসী মঞ্চের খড়ির গন্ডি না টপকেই একা একা ঘোরে। আবার দাদামশায় পরে নিলেই চুপ। তখন বুড়ো যেদিকে যায় অতি স্থির তামসিকতায় তাঁকে ফলো করে। দাদামশায়ের মাড়ি থেকে ঝরে পড়ে গল্পমুখর লালা। উৎসমুখ খুলে যায়, আমি ও আমরা কে নিয়ে যে সুবৃহৎ  আমাদের – গোল হয়ে বসি। গল্পের ঢিমে আঁচে, গল্পেরই মৃত মাংস সেঁকা হতে থাকে। আমরা ছিটিয়ে দিই নুন উপাদান , সেইসব কলহ তীব্র লঙ্কার ঝাঁঝ। আর আয়েশে আমাদের মৃত চোখ খুলে যায় জ্যান্ত চোখ বুজে আসে।

পৃথিবীর দাদামশায়েরা আমাদের সাত ও সতেরো জলসংঘর্ষে  উদ্ভূত ফেনাময় বাথটবের কাছে নিয়ে যান। যেখানে উরু ক্যালানো মেয়েরা নাগকেশরের ব্রাশ দিয়ে যোনীগুল্ম পরিষ্কার করে। মৃত শুক্র চাকগুলি কন্ডোম কাছিম ছাল বেয়ে  বেয়ে  অনিবার্য এগিয়ে যায় নির্বাসিত ঝাঁঝরির দিকে। এইভাবে বহুবার আমাদের সুবৃহৎ জন্ম প্রতিক্রিয়া ব্যাহত  হয়েছে। নির্ধারিত প্রহরের আগেই বিসর্জনের ফেউ ডাক ককিয়ে ওঠে – মৃত জন্ম দেয় বিকলাঙ্গ ফোঁপরা করোটি।


Monday, February 6, 2017

একটি শিকারকাহিনি : সর্বজিৎ ঘোষ

একটি শিকারকাহিনি

মলয় নামের সাদা বেড়ালটিকে যখন বসে থাকতে প্রথম দ্যাখে অনিমেষতখন সে ছিল একটা অটোতে।

এখানে এসে প্রথমবারের মতো গল্পটা একটা লাল ঘরে ঢুকে যায়। লাল ঘরের আলো ছিল নরম লালআসলে লাল ঘরটা ছিল গোলাপের দুই পাঁপড়ির ভিতর গভীরে কোন এক বিন্দুতে আলম্বিত। সেই লাল ঘরের মেঝেও হওয়া উচিৎ লালকিন্তু অনিমেষ লাল মেঝের ঘর শেষ দেখেছিল তার মামাবাড়িতেদোতলার পুব দিকের ঘরটায়। সেই লাল ঘরেই মামা মামির ফুলশয্যে হয়অনিমেষ তখন বছর বারোর। মামির ছেলে মেয়ে হয়নিমামি ছিল ভীষণ মোটামামি দুপুরবেলা একা একা ভুল বকতে বকতে কখনো পড়ে যেত সেই লাল ঘরের মেঝে ফুঁড়েগোলাপের দুই পাঁপড়ির মাঝের ঘরটায় এসে পড়তোতার পর আরো আরো গভীরেঠান্ডা বেরঙ অন্ধকারে ভেসে পড়তোযেন নীচ থেকে লক্ষ লক্ষ হাত মামিকে ম্যাজিক করে হাওয়ায় ভাসিয়ে রাখছেম্যাজিশিয়ানদের হাত অল্প অল্প নড়ছেভীষণ লাল একটা কিছু ঢেউয়ের মতো লকলক করছে চারদিকে ঘিরে। মামা রাতে অফিস থেকে ফিরে মামিকে খুঁজে পেত নাচিলছাদে গিয়ে খিদে পেটে ঘুমিয়ে পড়তো। মামির পোষা দুটো বেড়াল ছিলযাদের একটা ছিল সাদার মধ্যে বাদামী ছোপছোপ। সেটা ছিল খুব রোগামানুষ হলে নিমাই বলে আওয়াজ খেতো এমন রোগাসেটা একগাদা বাচ্চা দিয়েছিল একবার। সেসব বেড়ালদের মধ্যে কারো নাম মলয় ছিল না বলেই অনিমেষের ধারণা।

Saturday, February 4, 2017

চারটি লেখা নিয়ে এসেছেন : সীমিতা মুখোপাধ্যায়

আভেমারিয়া

তোমার মা এলে
সব দুঃখ কেচে দেবে,
শুকিয়ে রাখবে তোমার ক্ষত,
আয়রন করে দেবে
তোমার এলোমেলো মুহূর্ত।

কাকিমা চলে গেলে
আমিতো মার হাতে-পায়ে
পেরেক ঠুকে দেবো আবার,

আর বলবো -
আয় রে, সখা,
দুজনে মিলে এবার
পিয়েটা মূর্তি ধরি!




আমি কিম্বা অপেক্ষা

তোমাকে দুধ ভাত;
আজকাল আমি আর অপেক্ষা
এক সাথে শপিং-এ, বিকেল হাঁটতে।

অপেক্ষার মধ্যে পটাশিয়াম সায়ানাইড
মিশিয়ে দেখেছি,
একটা নতুন ধরণের ধোঁয়া-
কেমন মহুয়া মহুয়া…

দুজনে দুটো ধারালো ছুরি হাতে,
আমি আর অপেক্ষা
পাশাপাশি শুয়ে খুনসুটি করি!

একদিন গাছের নিচে দাঁড়িয়ে প্রশ্ন করেছিলাম,
আমি মরে গেলেও কি
অপেক্ষা বেঁচে থাকবে?

এসব জিজ্ঞাসায় কিছুটা বোরাক্স মিশিয়ে
তাপ দিলে

দেখবে কেমন খই ফুটছে সোহাগে!



Tuesday, January 31, 2017

দ্রিম দ্রিম-৩ | মোমরঙ : দোয়েলপাখি দাশগুপ্ত

দ্রিম দ্রিম-৩ | মোমরঙ

একটা নিরিবিলি ঘরে দাঁড়িয়ে আছি আমি। পাশের হলঘর থেকে কোলাহল আসছে। লোকজনে গমগম করছে ঘরটা। হাসির হররা... ওয়াইন গ্লাসের টুংটাং... মোমের আলো। খাবারদাবার, সুগন্ধি... দামী পোশাকের, ভেলভেটের, সুয়েডের খসখস... আমি ঘরটার দিকে মুখ করে অন্ধকারে দাঁড়িয়ে আছি। খুব কম সময়ের জন্য পাচ্ছি বাবাকে। এর মধ্যে যতটা দ্রুত গুছিয়ে নিয়ে দেখাতে হবে আমার কাজ। আমার কাছে ছাপানো কিছু কি আছে? আমি কোনও পোর্টফোলিও করেছি? আমার ক্যামেরা ভর্তি ছবি। প্রচুর ছবি। ডেভেলপ করিনি। ডার্ক রুমে ঢোকা হয়নি বহুদিন। কিন্তু আমি করছি বাবা। অনেক কাজ করছি। তুমি ব্যস্ত তাই... বাবা একবার এঘরে এলেন। উনি আমার সঙ্গে বেশি কথা বলেন না। কারওর সঙ্গেই না। বাবাকে ঘিরে আছেন প্রচুর মানুষ। আর্ট গ্যালারি, ক্রিটিক, ছাত্র অনেকে। এঁদের মাঝে আমার যাওয়ার কথা নয়।

Saturday, January 28, 2017

অমাত্রিক অমাতৃক : জয়দীপ মৈত্র

অমাত্রিক অমাতৃক

১/
এই আলো দিয়ে দেহ ঢুকেছে শরীরে। বহু আগের মৃতদেহ কখনও বাতাস হতে চেয়েছিলো। আনমনে শুনতে চেয়েছিলো ভাটিয়ালী। মাঝির পোশাকে ব্যাধি। যেভাবে অন্ধকারে হারিয়ে যায় বহুবার পরা ঈশ্বরের জামা। আমাদের বুকে ফুটো নাকি নৌকোহীন জলের চিহ্ন? হে অসুখ, হে চিরকালীন ভাঙা ঘড়ি, এই রক্তমাংস দিয়ে তুমি আমাকে খোঁজো। দশচক্রের অসীম সীমায় খুঁজতে খুঁজতে আবার ছায়া হয়ে যাও। হারিয়ে যাও আলোর আগের দেহে। ভেবো অন্ধকার নয় এই দূরত্ব আসলে মৃত নক্ষত্রের আলো।


Tuesday, January 17, 2017

কবিতা সিরিজ বা একটি কবিতা : দীপ শেখর চক্রবর্তী


এই বোকা শহর আমাকে নরম ভেজা ঠোঁটে নিরাপদ চুমু খায়, রোজ
আমি পুরনো বন্ধুদের মাতাল বেশি রাত ডাকে হয়েছি নিরাপদ
পুরনো কম্বলের ভেতর আদরে ভুলিয়েছি গলিদের প্রাক্তন প্রেমিক
আমি পুরনো ভোরেদের ঊরুতে শুয়ে নিজেকে চমৎকার প্রেমিক ভেবেছি
হটা
একটা আচমকা মোলায়েম মুখের অপেক্ষায় জটিল অসুখ বাধিয়েছি রাস্তার পাশে খোলা জানলায়, বুক চিতিয়ে -



কতটা নিরাপদ হলে মানুষ সংসার গড়ে এ প্রশ্ন আমি খোদ সংসারকেই করেছি
আগুন তো আসলে ছাই এর খুড়তুতো ভাই, আমি সূর্যের সৎ ছেলে?
তুমি মাথায় আঙুল দিয়ে খোঁজো নিরাপত্তা। এটুকুই তো চাই। তা ছাড়া বাকি সব তো পাবেই কবিতায়।
অনেক বয়স হলে বুঝবে তুমি,
এসব পালানো নয়, বরং সত্যির কাছে যাওয়া
সত্যির কাছে গ্যালে নিজেকে অন্ধ বাঁশিওয়ালার সুরে পুড়িয়ে নিতে হয়
জীবনে হয়েছ তুমি তা কেবল এক খানা নিরাপদ মোলায়েম ছাদের পাহারাদার
 
চেনা গন্ধ ছাড়া বাকি সব সয়ে নিতে হয়।


Sunday, January 15, 2017

একটি জ্বরের সিরিজ : অনন্যা বন্দ্যোপাধ্যায়

জ্বর ১

ভীষণ জ্বরের ভেতর তোমার কথা ভাবতে ভালো লাগে
গায়ে চাকা চাকা দাগ পড়ে আছে
পড়ে আছে উত্তপ্ত নাভি
কমলা ফুলের মত তুমি শুয়ে আছো পাঁজরের তীরে
আমার সমস্ত দেহে জেগে ওঠে এক অলীক আওয়াজ
প্রতিটা পরমাণু প্রাচীন থেকে প্রাচীনতায় মেলে
তারপর যা কিছু স্নেহ, হিসেবের ব্যবধান, তুমি ধার করে নিলে
দিগন্তে পৌঁছে যায় অলীক পাখা
যে ক্ষণিকের পর অবশ হয়ে যায় দেহ
রাত পার করে নাবিকেরা
আমাকে তাদের কথা বলো
এই ফাঁকে আমি আরো তোমায় ভেবেনিই
ভেবেনিই আমাদের আবছায়া কথোপকথন



Friday, January 13, 2017

আমরা একটা সিনেমা বানাবো (ভাগ দুই) : হিয়া মুখার্জী

আমরা একটা সিনেমা বানাবো
ঝিমোনো ভয়ের গল্প।
হিলস্টেশনের ক্রেশ।
কামিন বস্তির বাচ্চারা
তাদের ঘুমের মধ্যে
টুপটাপ
খসে খসে পড়ছে
ম্যাগনোলিয়ার মত।
শোনা যায়
এইসব রাতে
চৌখুপি ছাদ থেকে
গন্ধে গন্ধে
খুব সহজেই
ভূত নেমে আসে।
মোমবাতির শিখা কি
দু একবার
কেঁপে উঠলো হাওয়ায়?
রিসর্টের ঘরে
মুখোমুখি দুইজন শুধু
কোনো কথা না বলে
পুরোনো অস্বস্তি থেকে
নতুন অস্বস্তির দিকে
হেঁটে গ্যালো।



Wednesday, January 11, 2017

দীপঙ্কর ভাই আমার - শুভঙ্কর দাশ

দীপঙ্কর ভাই আমার

আমি সেলুনে একা একা গোঁফ রং করছি
আর তুই চলে গেলি।
ভাবছি কী করব ওই চুলের সফেদ
উঁকিগুলো নিয়ে?
বোকামিগুলো ঢেকে ফেলে
আরেকবার বইমেলায় বসে থাকব কি?

আর শালা তুই চলে গেলি একা একা?
মানে এবার আর দেখা হবেনা বলছিস?
চুপি চুপি ভদকা মেশানো মিনারেল ওয়াটারের বোতল
আর বেরোবেনা ব্যাগ থেকে?
লিটল ম্যাগাজিনের টেবিলে বসে
গলায় ঢালা যাবেনা খানিকটা আগুন?
আর আমি এখানে লড়ে যাচ্ছি এই বিচ্ছিরি রোগটার সাথে
একা একা রোজ রোজ।

তাই বুঝি খুব ভোরে আজ বার বার
জপের মালা স্লিপ করছিল হাতে,
কান্না পাচ্ছিল হুহু এমনি এমনি।
খুব অস্বস্তিতে কাটছিল সকালটা।
তারপর সেলুনে বসে যখন ভুলে গেছি সব
তখনি ফোনটা এল,
যেভাবে এরকম ফোনগুলো আসে
আপাত নিরীহ বেচারা টাইপের।
আর আমি সেলুনের লোকটাকে
মাঝ পথে থামিয়ে ফুটপাতে নেমে এলাম।

বাইরে চা দোকানে রোজকার মতো আড্ডা মারছে লোকজন
আর একটা পাগল ফাঁকা বোতল কুড়োচ্ছে রাস্তায়।















শুভঙ্কর দাশ

Subhankar Das

Wednesday, January 4, 2017

বাতিল চিঠিঃ ৭ জানুয়ারি, প্রসেনিয়াম আর্ট সেন্টার, সন্ধ্যে ৭টা

বাতিল চিঠিঃ কিছু না-পাঠানো সংবাদ


চিঠি লিখি না বহুদিন। কেন? লেখার ফুরসৎ নেই তাই। ছোট্ট ফোনের পিং বা লাইভ ভিডিও চ্যাটের সময়ে, মরচে পড়া পোস্ট-অফিসটাই তো বাতিলের খাতায়। সেখানে চিঠি পৌছবেই বা কি উপায়ে? অথচ প্রিয় মানুষের হাতের গন্ধ মাখা চিঠি, শীতের রোদ্দুর পিঠে মেখে, কথায়-ভালবাসায় ভেসে যাওয়ার মেদুরতা কি আর কিছুর সঙ্গে মেলে? তবু দ্রুত গতির পাল্লাছুট সময়ে চিঠি, হলুদ খাম আর ইনল্যান্ড লেটার হয়ে গেছে ব্রাত্য, বাতিল।




এমন কিছু না পাঠানো চিঠি, কিছু কথা আর স্মৃতি গা-মেখে নেওয়ার ভাবনা থেকে গড়ে উঠল আমাদের কাজ ‘বাতিল চিঠি’। একটি মেয়ের তার প্রেমিককে না-পাঠানো কিছু ইমেল হাতে এল। কাজ শুরু হল। অতীত আর বাস্তবকে বাধল সংবাদ। ছবির ফ্রেমে সুরের সংগত। বাকি কথা অনুষ্ঠানের জন্য তোলা থাক।




আগামি ৭ জানুয়ারি প্রসেনিয়াম আর্ট সেন্টারে ‘বাতিল চিঠি’- এর প্রথম শো। অন্তরঙ্গ থিয়েটার ফর্মের এই কাজ মিশ্র-মাধ্যমে প্রাণ পেতে চলেছে। অভিনয়ে অংকিতা মিত্র, গুলশনারা। সঙ্গীত পরিকল্পনা ও পরিবেশনা নীল সরকার। দৃশ্যসজ্জা পার্থ দাস, সাদিক হোসেন ও শমীক দাস। ফ্রেম বন্দীর ভার স্বাতী রায়ের। সামগ্রিক সহায়তায় সুজয়প্রসাদ চ্যাটার্জি। একটি ৪৫ মিনিটের প্রযোজনা। শুরু সন্ধ্যে ৭টা থেকে।


গুচ্ছ - কবিতা : তৃষা চক্রবর্তী

গুচ্ছ - কবিতা


বহুদিন পরে চায়ের গেলাস পাশাপাশি নামিয়ে রাখা হল
রাখা হল বুকের ভিতর জিভ পুড়ে যাবার মত স্বাদ
রাস্তার যেকোনো চায়ের দোকানই, ঐশ্বরিক ঐন্দ্রজালবিস্তার
বলো বিচ্ছেদ, কতদূরে তুমি, আর কতদূরে সমাধি তোমার?



তোমার অপেক্ষায় আছি বহুক্ষণ
কেউ জানে না, ওদের মিথ্যে বলেছি
যেকোনো তোমাকেই দেখলে ভাবছি পরিচিত পথ
পরিচিত জন দেখলে খুঁজছি আড়াল
ওরা কীকরে জানত, প্রতীক্ষাই সত্য মাত্র
এর বেশি আর কিছু নয়, কিছুই-

ওদের মিথ্যে বলেছি তাই।