Showing posts with label Alternative. Show all posts
Showing posts with label Alternative. Show all posts

Saturday, August 5, 2017

কাগজের নৌকা : The Story behind an Independent Film (Part 2)

~কাগজের নৌকা~
The Story behind an Independent Film.

…তারপর কেটে গেছে বছর দেড়েক। এর মধ্যে কাজের সূত্রে প্রায় রোজ দিনই কাটত নতুন মানুষ এবং জায়গার অন্বেষণে। ওই এক এক করে অডিশন নিয়ে বা ছবি দেখে যে নন্দিনী পাওয়া যাবে না তত দিনে বুঝে গেছি। “মে ফারস পে সাজদা কারাতা…” – ওরকম এমনি এমনি হয় না। নতুন একটাও ফিল্ম শুট করিনি, তবে পুরনো ভাবনা চিন্তাগুলো মাথাচারা দিয়ে উঠছিল মাঝে মধ্যেই। এর মধ্যেই একাদশ শ্রেণী তে আলাপ এক বান্ধবীর সঙ্গে দেখা- রাজশ্রী। প্রথম দিন দেখেই, হুট করে একটা উরদু শব্দ মাথায় এসেছিল- আকিদাত। ওই নিয়ে একটা সিনেমা করার কথা ছিল, তাই ব্যাপারটা থেকে যায় আমার মধ্যে। প্রেমে পড়লাম কি? না সে প্রসঙ্গ এখানে থাক, তা অন্য যায়গায় লেখা হছে, আগামী কোন ছবি তে নিশ্চয়ই দেখা যাবে, এই লেখাটায় ওটা ঢুকিয়ে, কেন নির্দেশক পেস্ট্রির প্যাকেট হাতে , অভিনেত্রীর অফিসের সামনে দাড়িয়ে থাকে, সে কথা থাক। তবে ওই আকিদাতের রেফেরেন্সটা প্রয়োজনীয়। বার বার আলাপের ফলে, ওকে দেখে, ওই ভাবটা যে যেকোনো প্রেমিকের মধ্যে আসবে, সে বিষয় সন্দেহ কাটছিল। শুধু আমি ভাবলেই তো হল না, সবার মানশপটে তা না এলে, সিনেমার প্রয়োজনীয়তা থাকে না। ওর সব ছবি দেখে খানিকটা সংশয় হল, একটা ছবিতেও ওরকম লাগছে না, অথচ আমি যখনি ওর সাইড ফেসটা ৭০ ডিগ্রিতে দেখি, ওকে নন্দিনীই লাগে। সুতরাং আনুরোধ, এবং মুখের ওপর না। দু বছরের অপেক্ষার বাদে পেয়েছি, রণে ভঙ্গ দেওয়ার প্রশ্নই আসে না। আমার করুণ মুখ এবং পাগলামির ব্যাপ্তি দেখেই বোধহয় অবশেষে রাজি হলেন। অগত্যা শুট সুরু, কিন্তু বেশ ধীর গতিতে।
আগের লেখাতেই লিখেছিলাম, সেই আগেকার মত নিঃস্বার্থ বন্ধুর আশা এখন আর করি না শুটের সময়। তবে পৃথিবী বড়ই অদ্ভুত, মাত্র দু তিন ঘন্টার আলাপে, রাজশ্রীর দুই বন্ধু মুমুল এবং সঞ্জয় দা, তাদের বাড়িতে নন্দিনীর অন্তঃদৃশ্য শুট করার অনুমতি দিল। এই অন্তপুরটা না পেলে নন্দিনীর চিত্রগ্রহণের ছন্দই বাঁধা পড়ত না। ক্যামারার মোশনের সঙ্গে রাজশ্রী থেকে বিছুরিত নন্দিনীর আলো আঁধারের মোশনের ছন্দ না মিললে, সম্বভই নয়। বহু নিঃস্বার্থ নাম এই সিনেমাটার সঙ্গে আস্তে আস্তে জুড়ে গেছে- অর্ণব, সায়ন, রোহিত, মুমুল, সঞ্জয় দা এবং স্নেহা। তথাকথিত প্রফিট বা লাভ্যংস ছাড়া যে মানুষ এখন পাগলামো সহ্য করে, আর সেই সহনশীলতার ফলে তৈরি হয় অজস্র কাগজের নৌকো- সত্যি মানুষে বিশ্বাস হারানো পাপ।


বেনারস পর্ব
নন্দিনীকে আমি প্রথম থেকেই তথাগতর থেকে দূরে ঠেলেতে চাইছিলাম, যাতে সংশয়টা দৃঢ় হয়, বেনারস নামটা তাই মাথার মধ্যে মাঝে মধ্যেই ঘুরত। হুট করে, এক ভোরবেলায় রাজশ্রী নিজেই যখন শহরটার নাম নিল, ঠিক দু সেকন্ড-এ ঠিক করি বেনারসে শুট করব। নো বাজেট ইন্ডি ফিল্ম, কম মাইনের চাকরি নিয়ে দুটো শহরে শুট করা দুঃসাহসই বটে, কিন্তু রাজশ্রী পাশে থাকায় সে দুঃসাহস নিতে দু’বার ভাবতে হয়নি। তোর জোর করে বেনারসের টিকিট কাটা, থাকার যায়গা বন্দবস্ত ইত্যাদি করে, স্লিপার কোচে চলল আমাদের শুটিং টিম- আমি, রাজশ্রী আর স্নেহা।
অমন মৃত্যু উপতক্যায় পৌঁছেই আমি খানিকটা থমকে গেছিলাম। শুট তো হবে, কিন্তু বেনারসের নিজের যা গুণ, সেসব সব গুণ আমার সিনেমার মধ্যে এসে পড়লেই বিপদ। ওত ক্ষমতা নেই যে ওই আদি অকৃত্তিম শহরের আত্মা কে ফিল্ম বন্দি করে নিয়ে ফিরব। তাও, নদীর এপার, অপার, নৌকোয় সব নিয়ে শুরু হল শুটিং। এমনিতে আমি পাব্লিক স্পেসে শুট করে অভ্যস্ত, তাই অই ভিড়ে এমনিতেই সাবলীল। অবাক করার মত সাবলীলতা আমার সঙ্গী দুজনের। এক জন নির্দ্বিধায়ে একটার পর একটা শট দিয়ে চলেছে, আরেক জন, বৃষ্টি পড়লে ক্যামেরায় ওপর ছাতা ধরা থেকে শুরু করে কাগজের নৌকো পর্যন্ত বানানো -সবেতেই আছেন। নতুন লোকেশানে, এত কম সময় এতটা শুট করে ফেলা সম্ভব হয়েছিল , ওদের জন্যেই। আমাকে ক্যামেরা ছাড়া অন্য কোনোদিকে মন দিতে হয়নি। দ্রুত গতিতে মাত্র চারটে শিডিউলে শেষ চিত্রগ্রহণ পর্ব।
পুরো দু বছর শুটিং জুড়ে অজস্র মুহূর্ত এসেছে যা নিয়ে লিখলে, অবশ্যই “ শুটিঙের গল্প” তৈরি হয়ে যাবে। কিন্তু সে সব লিখলাম না, কারণ এই ফিল্ম করে ঐগুলোই প্রাপ্তি। প্রিয় বন্ধুর সঙ্গে শুরু করে, শেষ করতে করতে আরেকজন প্রিয় বন্ধু খুঁজে পাওয়ার অদ্ভুত এই সমাপতন টাই বিশেষ হয় থাকবে। তবে শেষ করার আগে, কিছু জরুরী কথা বলে রাখা দরকার। ইন্ডিপেন্ডেন্ট ফিল্ম বানাতে যেরকম প্রচুর উৎসাহ, আত্মবিশ্বাস এবং স্বপ্নের প্রয়োজন, তেমনি প্রয়োজন যুক্তিবাদী রাজনীতি, প্রাকটিস এবং স্কিলের। এই স্কিল প্রপনেন্টটা যত দিন না শান দেওয়া হচ্ছে, সে যতই পাসের মুমূর্ষু মানুষকে বাঁচিয়ে রাখার ইচ্ছা বা স্বপ্নে থাক, শল্য চিকিৎসা না জানলে, মৃত্যু অবধারিত। আর এই পতন ব্যাক্তিগত নয়, তা প্রভাব পারিপার্শ্বিক-এ পড়তে বাধ্য। মিডিয়ামটার রাজনীতি এবং প্রযুক্তি যদি পরিস্কার না হয়, তাহলে যাদের জন্যে করা, অর্থাৎ মানুষ, তারাও এটাকে হাস্যস্পদ ভাববে। মানুষ সাড়া না দিলে, বুঝতে হবে, গন্ডগলটা আমাদেরই। আর এই স্বেচ্ছা মৃত্যুর ফাঁদে, আমারই আস্তে আস্তে মিলিয়ে যাব।
বেঁচে থাকার কথাতেই লেখা শেষ করি, তথাগত আর নন্দিনীর কাগজের নৌকোর চিঠি একে ওপরের কাছে পৌঁছেছে কি না, তা নিয়ে সত্যি সংশয় হতে পারে, তবে আমার বিশ্বাস, সব চিঠিই এক দিন না একদিন ঠিক পৌঁছোয়, শেষ অবধি, তাই তার প্রত্যুত্তরের আশায় মানুষ বাঁচে, ভালোবাসা বাঁচে। আরও একটা ছবি তৈরি হয়...

(ক্রমশ)















অনির্বান সরকার

Anirban Sarkar

Sunday, July 30, 2017

কাগজের নৌকা : The Story behind an Independent Film.

~কাগজের নৌকা~
The Story behind an Independent Film.

কাগজের নৌকো-র ভাবনা আসে একদিন রকের আড্ডা থেকে, আমি তখন সদ্য দিল্লীর চাকরি ছেড়ে কলকাতায়, আর শুভ্র এমবিএ পাশ করে, ব্যাঙ্গালোর থেকে ফিরে জয়েনিং ডেটের অপেক্ষায়। দুজনেরি হাত খালি, তাই পুরোনো রকের আড্ডা বেশ জমে উঠেছিল।
আমি যে সিনেমা করব, বা এটাই করতে চাই, তারও পাঁচবছর আগে, সেটা আমার আর ওর প্রায় একি সঙ্গে মাথায় ঢোকে।কয়েকটা বিদেশি ভালো শর্ট ফিল্ম দেখে, এবং দেশিয় কিছু জঘন্য কাজ দেখে। প্রথম ছবির গল্প অপেক্ষা নিয়ে, শুভ্রর ভাবনা, গল্পটা আমাকে, বলার প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই স্ক্রিপ্টটা লিখে ফেলি। কয়েকদিন ধরে, কিভাবে কি দেখানো হবে, এই নিয়ে আলোচনা চলতে থাকে, আমার আর শুভায়নের মধ্যে, প্রায় গনতান্ত্রিক পদ্ধতিতে আমাকে নির্দেশক মনোনীত করা হয়। এদিক ওদিক ফিল্মের বই জোগার করে পড়া, টেকনিক গুলো শেখা, দু রাতে এডিটিং সফটওয়্যার শিখে নেওয়া ওই সময়টাতেই। নায়িকা যোগার করে, দু মাসে পড়াশোনা ইত্যাদি ভুলে শুটিং হল প্রথম ছবির, “তুমি আসবে বলে”। তা সে ছবি আর এল না, ভিডিও কাটের সময় খুব ভরসা ছিল পরে ডাব করে নেওয়া যাবে, কিন্তু সেইটা আর হয়ে উঠল না। পাতি এক্সপিরিয়ন্স এবং স্কিলের অভাবে ছবিটা শেষ হল না। তার পরে ও উৎসাহের কমতি নেই, পরের স্ক্রিপ্ট রেডি করল শুভ্র। এবার যদিও প্রথম ভাবনাটা আমার মাথায় আসে, এক সুন্দরী মহিলার সঙ্গে তার কিছু দিন আগেই, শুভ্র সাকুল্যে কুড়ি ফিট মতন হেঁটেছিল, আর বাকি পুরোটাই খাপছাড়া আলাপ চারিতা। সেই ভাবনা নিয়েই “টোয়েন্টি ফিট অফ টুগেদার নেস”, ও গল্প লিখল, স্ক্রিন প্লে তৈরি হল। আগেরবার আমি বিস্তর ছড়িয়েছি, এবার ওই নির্দেশক।


এর মধ্যে বলে রাখা ভালো, প্রথম বার আমি সিনেমাটোগ্রাফি করিনি, ভয়, পারবনা বলে। কিন্তু সিনেমাটোগ্রাফার নায়িকার মাথা কেটে দেওয়ার কারণে (অদ্ভুত ভাবে সেই ব্যাক্তি রাজশ্রীর একটি ছবি সেই সময় তুলেছিল, সেই ছবিটাতেও মাথাকাটা), শেষ কয়েকটা দৃশ্য আমি আর দিপু ডুয়াল ক্যামেরায় তুলেছিলাম। এবার তাই আমিই করব সিনেমাটোগ্রাফি। বিনা পয়সায় সিনেমা বানানো, কিন্তু আয়োজনের কমতি নেই। বৃষ্টির দরকারে রেনমেসিন বানানো হয়েছে, অরিজিৎ, অর্ঘ্য, শুভায়ন, শোভন, ত্রিজিত এবং দীপু প্রায় সবকিছু জোগাড় করে দিত। বাল্ব দিয়ে থ্রিপয়েন্ট লাইট সেট-আপ, ঘর পরিস্কার, সেট সাজানো, থারমোকল ধরা, লাইট ধরা, সব! আজ এদের কারুর সঙ্গেই সিনেমার সম্পর্ক নেই, তবে আজ কাল যাদের কাজ করতে দেখি, এই উৎসাহ এবং ডেডিকেসন কোনটাই বিশেষ দেখিনা। আমি বা শুভ্র বারবার ধ্যারাবার সত্বেও, প্রত্যেকবার একি উৎসাহে কাজ করে গেছে। দিপুর সঙ্গে প্রচুর সময় কেটেছে ফ্রেম শেখায় একসঙ্গে, রেফেরেন্স ফ্রেম দেখা, ভোরে উঠে নিখাদ ঘন্টার পর ঘন্টা ক্যামেরা নিয়ে প্রাকটিস। মনে পরে অরিজিত একবার বিনাপয়সায় গাড়ি পর্যন্ত জোগাড় করে দিয়েছিল।

এরপরে এই সিনেমা তৈরি মুলপদ্ধতি এবং ভাবনা নিয়েই, আমার আর শুভ্রর প্রায় অনেকদিন বাক্যালাপ এবং মুখ দেখাদেখি দুই বন্ধ ছিল। এর মধ্যে দুজনেই আলাদা আলাদা কাজ রিলিজ করেছি, তা সে ঝামেলা মেটার কিছুদিনের মধ্যেই ও ব্যাঙ্গালোর আর আমি দিল্লি। তাই দুবছর আগের ওই রকের আড্ডার সময়টাতেই দাবী উঠে আসা বাধ্য যে একসঙ্গে অন্তত একটা কাজ শেষ করতেই হবে। এতদিনে আমি বেশ কিছু ডকুমেন্টারি আর অ্যাড ফিল্মএর কাজ করে ফেলেছি, আর শুভ্র সিনেমা বানানো থেকে স্বেচ্ছা নির্বাসন নিয়েছে। হুট করে একদিন প্রশ্ন করল কম্যুনিকেসন কি কি ভাবে হতে পারে, বিস্তারিত আলোচনার পর বাড়ি ফিরতেই, আমার মাথায় কাগজের নৌকোর ভাবনাটা এল। খুব তাড়াতাড়ি তথাগতর চিঠিগুলো লিখে ফেলা হয়, এবং তারপরেই নন্দিনীর। তথাগতর শুট খুব তাড়াতাড়ি চারদিনের কাজেই শেষ, রোজদিনই বৃষ্টি, কোমর জলে নদীতে নেমে শুট। তারপর কিছুদিন চলল নন্দিনীর খোঁজ। কাউকেই আমার পছন্দ হয়না, আসলে সে এমন হবে, যাকে দেখে আমি প্রথমেই থমকে যাব, আর যারা ছবিতে দেখবে, অন্তত একটু প্রেম থাকলে মনে ভাববে “মে ফারস পে সাজদা কারতা হু কুছ হোশমে কুছ বেহোশি মে”। এমন দাবি দিলে, কঠিন হয়ে, অতএব পাওয়া গেলনা নন্দিনী।
আমি শুধু ঠিক করলাম, এটা না শেষ করে, আর নিজের অন্য ফিল্মের একসেকন্ডও শুট করবনা।

(ক্রমশ)















অনির্বান সরকার

Anirban Sarkar

Friday, July 14, 2017

তামুজ এবং আমি ~ একটি দীর্ঘ কবিতা : বেবী সাউ

তামুজ এবং আমি

অতঃপর শূন্যতা নেমে আসে
হাঁটু পেতে বসে ঈশ্বর
বকরূপী ধর্ম
নীতিবাক্য যত নিশ্চল
কোথাও প্রলয়ের ধ্বনি বেজে ওঠে
কোথাও বা পায়ের শব্দ
ভুল করে পুষে রাখি ভ্রম
ভ্রমণে উঠে আসে নিকেলের স্বর
দমবন্ধ অবস্থান

তামুজ হে! অবসর এই
শুরু করো দীর্ঘতম চিঠি
পাঠ করো,
শ্রবনের মাঝে এইটুকু সমর্পণ
দেখো, ধৈর্যহীন হয়নি মৃত বাজের আত্মা
পঙ্গুত্ব নিয়ে বসে আছে শেষ উপাখ্যান
রক্তহীন এই মাটি জুড়ে
বায়ু জুড়ে
এখনও অপেক্ষা করে দীর্ঘদিন
সমস্ত ধর্মপুরুষদের ছেড়ে জেগে উঠবে
প্রেম, কাল হীন,কামহীন, অনন্ত

এখনও লালপায়া অষ্টাদশী সবটুকু ভেঙে যাওয়া স্বপ্নে পুষে রাখে জোড়া দেওয়া কাঁচ
এখনও প্রসাধনে সেজে আছে সন্ধ্যে তারা
শৃঙ্গারে সুখী বেনারসী
শাঁখ বাজে
পাঠ করো পাঠ করো
 প্রিয় তামুজ, আমার প্রথম কৌমার্য

 দেখো ওই শহরের খাঁজ
সেখানেই যৌনপিশাচের দল
রাতভর হত্যা করেছে প্রেম
প্রেমিকার মন
ব্লাউজের হুকে ঠোঁট কেটে গেছে
সেপটিপিনে লেগে মাংসের গন্ধ
তবুও রাতভর থামে নি'কো
রাতভর উল্লাস করেছে নৃত্য
লিঙ্গ উপাসক তারা
দুধ ঘৃত জলে অবগাহন নয় শুধু
নিপুন কৌশলে শিখেছে হন্তারক পন্থা

তারপর! তারপর

Saturday, July 8, 2017

দুটি লেখা : জয়রাজ ভট্টাচার্য

দুটি লেখা
এক
আমরা সবাই একটা ঠিকঠাক চুমু খুঁজে পাবো একটা সফল মৃত্যুর সাথে। সমুদ্রের নিচে যৌনতার মত ছড়িয়ে আছে সাড়ে সাতশো চোখ, তারা জড়িয়ে ধরছে পা, ডাকছে, আমি সেদিকেই যাবো বলে আঙুল থেকে ঝেড়ে ফেললাম অন্য সব প্রলোভন। ক্রমশ ঠান্ডা বোধ হয় তোমার ভাষার সমীপে, সমস্ত উচ্ছাস মুছে ফেলে আমি তোমার নিকটজন হতে চাইছি শুধু শেষতক।



দুই
জ্যোৎস্নার মত শুভ্র আলো তার
কপাল আর চিবুক ঘিরে রেখেছে
সে স্থিতধী, গম্ভীর মন্দ্র স্বভাব,
গ্রীষ্মের সন্ধ্যায় উড়নি গায়ে চাপিয়ে
আর্তজনকে জানাচ্ছে শস্যের পূর্বাভাষ
দিগন্তে ঘনিয়েছে মেঘ, চঞ্চল পায়ে
বালিকারা একবার মাত্র আকাশের
দিকে চেয়ে গোয়ালঘরে ছুটে গেল।
গাও তমোঘ্ন মল্লার রাগে এখনই
নৃত্য হোক একমাত্র জনশ্রুতি
ঈশ্বর আমাদের মধ্যে আরো কিছুক্ষণ
বেঁচে থাক। একেবারে চলে যাওয়ার আগে।



জয়রাজ ভট্টাচার্য

Joyraj Bhattacharjee

Monday, July 3, 2017

পোঁদ ও প্রজাপতি হে : দুটি লেখা - শুভঙ্কর দাশ

পোঁদ
পোঁদ শব্দটিকে নিতম্ব বলে
খাটো না করাই ভালো।
শুনেই দেখছি ভুরু কুঁচকে গেল আপনার।
আপনারা তো আবার উচ্চ ঘর
কংস রাজার বংশধর।
আপনাদের বংশে কেউ কোনদিন
পোঁদকে পোঁদ বলেনি।
বলেছে পেছন, পাছা, নিতম্ব, বাম
আরো অনেক কিছুই।

অথচ অজন্তা ইলোরার যাবতীয়
নয়নাভিরাম নারী মূর্তির ভারী পোঁদ দেখে
আপনারা আপনাদের ইস্থেটিক্স বাড়িয়েছেন।

আজও ক্যাট ওয়াকে ভারী পোঁদ দুলিয়ে না হাঁটলে
পয়সা পাবে না ওই বেচারা মেয়েগুলো।

আমায় যে ছেলেটা মাসাজ করতো
সে বলেছিলো শরীরের যাবতীয় নার্ভ সেন্টার পোঁদে।
অতএব পোঁদের মাসাজ জরুরি খুব।
এ কথার সঠিক বেঠিক আমার জানা নেই।
জানা নেই ছেলেটা আসলে
হোমোসেক্সুয়াল ছিল কিনা।

শুধু জানি মেদিনীপুরে
কিছু মানুষের জাত
চন্দ্রবিন্দু হারানো সেই পোঁদ।
এবং তারা অনেকেই সুশিক্ষিত
প্রফেসর, কবি ইত্যাদি।

তাদের নিশ্চয়ই আপনি
নিতম্ব জাত বলে
অপমান করবেন না।



Saturday, July 1, 2017

এক অন্ধকার বিষণ্ণতার বোধ: একটি দেশদ্রোহী গদ্য - অর্জুন বন্দ্যোপাধ্যায়

এক অন্ধকার বিষণ্ণতার বোধ: একটি দেশদ্রোহী গদ্য

এইসব উপজাতি [?] শুধু যে অটল সংকল্প নিয়ে নিজেদের রক্ষা করে তাই নয়, তারা শত্রুদেরও অত্যন্ত বেপরোয়া সাহসিকতা নিয়ে আক্রমণ করে। তাদের মনের এমন একটা শক্তি আছে যা বিপদের আশঙ্কা কিংবা মৃত্যুভয়ের থেকে জোরালো।
নাগা জাতি সম্বন্ধে একজন ব্রিটিশ কর্মকর্তার মন্তব্য, আনুমানিক ১৮৪০ খ্রীষ্টাব্দ 

রিশাং জেগে আছে—শীত, ১৯৫২ 
রিশাং সাখরি’র বয়স হইয়াছে। নয়-নয় করিয়াও নব্বুই তো হইবে। রিশাং যদিও বলিতে পারে না তাঁহার বয়স কত। কানে শোনে না। চোখে দেখে না। জলের নীচে তাকাইয়া দেখা জগতের মতো ঝাপসা আর ঘোলাটে তাহার জগৎ। কখনও পেচ্ছাপ-পায়খানা বিছানাতেই করিয়া ফ্যালে। শরীর ও জীবনের অসহায়ত্বের নিকট সম্পূর্ণ আত্মসমর্পণ করিয়া মল ও মূত্রের কর্দমাক্ত মাখামাখির ভিতর চুপচাপ শুইয়া থাকে। ভাষাহীন চোখে ফ্যালফ্যাল করিয়া চায়। নষ্ট মার্বেলের মতো রিশাং-এর চোখের মণি তখন যেন এই জগতের নয়, অন্য কোনও জগৎ হইতে তাহা আসিয়াছে। তবু নাতনির বকবক শুনিবার ভয়ে কখনও দেয়াল ধরিয়া ধরিয়াও যায়। একাই যায়। কাহাকেও ডাকে না। কিন্তু শৌচাগার অবধি পৌঁছাইবার পূর্বেই যাহা হইবার হইয়া যায়। তখন আর পথ চিনিয়া বিছানায় ফিরিতেও পারে না। অকুস্থলেই বসিয়া পড়ে। ঘরের ঢালু দিক দিয়া হলুদাভ প্রস্রাব বহিয়া যায়। ভয়ে ডাকিতেও পারে না। কথা বলিলে কাঁপা-কাঁপা লম্বা একটা চিকন সুর বাহির হয় গলা দিয়া। বসিলে একটা পুঁটুলির মতো গোল দলা হইয়া থাকে। মনে হয়, এখুনি গড়াইয়া পড়িয়া যাইবে। শুধু কানে যখন রেডিও গুঁজিয়া শুইয়া থাকে, অসম্ভব জ্বলজ্বল করে বৃদ্ধের চোখ। দাঁতহীন মুখের দুই মাড়ি পরস্পর চাপিয়া ধরে। ব্রিটিশের বেয়নেটে চোয়াল দুইটা ভাঙিয়া ভিতরের দিকে ঢুকিয়া গিয়াছে। গালের দুই পাশে গ্রীষ্মকালীন খরাসর্বস্ব দুইটা পুকুর যেন। তাহাদের তলদেশ বুঝি মুখের ভিতর একে-অপরের প্রান্তভূমি চুম্বন করিয়াছে। কানে কিছুই শোনে না। তবু রেডিওটা তাঁহার চাই। ফিজোর নামটা যদি একবার শুনা যায়। ১৮৭৯ খ্রীষ্টাব্দে এই রিশাং-এর প্রতিরোধ বাহিনীর কাছেই অস্ত্র নামাইয়া আত্মসমর্পণ করিয়াছিল এক রেজিমেন্ট ব্রিটিশ বাহিনী।  

ইতিহাস—বর্তমান—ভবিষ্যৎ
অদ্য যাহা ইতিহাস, একদিন তাহাই ভবিষ্যৎ ছিল। কেম্ব্রিজের ইতিহাসের এক অধ্যাপক এমনটাই বলিয়া থাকেন তাঁহার ছাত্রদের। আমরা যাহারা ‘ষত্ব ণত্ব বিধিতে সিদ্ধ’ শিক্ষিত শহুরে মানুষ তাহারা ইতিহাস ও ভবিষ্যতকে প্রস্রাবরত পুরুষের ডান ও বাম পদ সদৃশ দুই পার্শ্বে ছড়াইয়া মধ্যিখানে যথায় মূত্রত্যাগ করিতেছি, তাহার নাম দেওয়া হইয়াছে বর্তমান।

তবে একটা ইন্টারভিউ হয়ে যাক—ফেব্রুয়ারি, ১৯৫২
’৫২ সালের ১২ই ফেব্রুয়ারি, দিল্লিতে প্রচণ্ড শীতে সাংবাদিক বৈঠক করিতেছেন ঊনচল্লিশ বৎসরের ছোটোখাটো চেহারার, ফর্সা, রোগাপাতলা এক কবি ও আগুনখেকো নেতা আংগামি জাপু ফিজো। যাঁহার মুখের ডানপার্শ্ব পক্ষাঘাতজনিত কারণে বেশ খানিকটা বাঁকা। তামাম ভারতের সাংবাদিক হতবাক হইয়া শুনিতেছে তাঁহার কথা। ফিজো বলিতেছেন,
আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রাম আমরা চালিয়ে যাব। এবং একটি স্বতন্ত্র নেশনের প্রতিনিধিরূপে নেহরুর সঙ্গে আবার একদিন দেখা হবে বন্ধুত্বপূর্ণ বন্দোবস্তের জন্য।
ঝাড়খণ্ড নেতা জয়পাল সিংহ ফিজোর সম্মানে এক দ্বিপ্রাহরিক ভোজের আয়োজন করিয়াছেন। রাষ্ট্রীয় ভবনের ডাইনিং প্লেসে বিরাট ও সুদৃশ্য খাবার টেবিলে কাচের বাটি হইতে চিকেন রেজালা তুলিয়া দাঁতে কাটিতে-কাটিতে জয়পাল ফিজোকে বলিলেন,
দেখুন, ভারতকে আরও টুকরো টুকরো ক’রে নতুন পাকিস্তান বানানোয় আমাদের সম্মতি নেই। আপনি বরং স্বতন্ত্র রাষ্ট্রের দাবি না ক’রে উত্তর-পূর্বে একটা উপজাতীয় রাজ্য গঠনের জন্য সংগ্রাম করুন। যেমন আমি করছি ঝাড়খণ্ড নিয়ে।
উত্তরে কবি তাঁহাকে জানাইলেন, 
আপনারা ইতিহাস আর ভূগোলে বড্ড কাঁচা। আপনাদের অবস্থান থেকে আমরা আপনাদের নর্থ-ইস্ট। আমি এখানে একটু সংশোধন ক’রে দিচ্ছি, আমরা আপনাদের ভারত রাষ্ট্রের নর্থ-ইস্টে অবস্থিত ভারতের প্রতিবেশী রাষ্ট্র। দুই, আমরা কোনও উপজাতি নই। একটা স্বতন্ত্র জাতি। আমাদের ভাষা কোনও উপভাষা নয়। আমাদের সংস্কৃতি কোনও উপ-সংস্কৃতি নয়। আপনি বোধহয় জানেন না যে, আমরাই, নাগারাই সবচেয়ে বেশি স্বশাসিত। আপনার এইসব না-জানাগুলো দোষের নয়। আপনারা নিজেদের দেশে জাতীয় আন্দোলন করেছেন। ইংরেজদের সাথে চিঠিপত্র লেখায় আপনারা অনেকদিন ছিলেন ব্যস্ত। জানার সময় পাননি। আমাদের দেশে সত্যাগ্রহ করতে তো যাননি আপনারা। কোনও আইন অমান্য করতেও যাননি। কোনও গান্ধী টুপি পরা কংগ্রেস নেতা কখনও এইসব পাহাড়ে আসেননি। আজকে আপনারা নিজেদের দেশে ক্ষমতায় এসেছেন এবং আমাদেরকে ভারতের সাথে জুড়ে দিতে চাইছেন। বেশ তো, তবে একটা ইন্টারভিউ হয়ে যাক। আপনাকে একটা প্রশ্ন করি, বলুন তো, এই যে আমাদের এখানে আমরা নাগা, মিজো, খাসি, জয়ন্তীয়ারা একসাথে থাকি, আমাদের নামে এই নাগা-মিজো-খাসি-জয়ন্তী পাহাড়গুলোর নাম হয়েছে নাকি এই পাহাড়গুলোর নামেই আমাদের নাম? আপনি ইন্টারভিউ বোর্ডের সামনে দাঁড়িয়েছেন মিস্টার ইন্ডিয়া। বলুন? কী যোগ্যতা আছে আপনার যে আমরা আমাদের নেশন আপনাদের হাতে তুলে দেব? আমাদের মধ্যে জাতিভেদ নেই, আপনাদের আছে। আমাদের মধ্যে লিঙ্গবৈষম্য খুবই কম, আপনারা প্রগতিশীলেরা এখনও এর থেকে বেরুতে পারেননি। ভারতের মানচিত্রের সাথে আমাদের কোনও টান নেই। আপনাদের টানটা কী বলুন তো? ভারতের অন্যান্য জায়গার লোকেদের থেকে অনেক বেশি গণতান্ত্রিক আমরা। আপনাদের সভ্য মানুষদের মতো শেয়ার মার্কেটে ব’সে চেঁচামেচি করি না। 
ভোজসভা শেষে ফিজো যখন বাহির হইয়া আসিতেছেন তখন দোর্দণ্ড্যপ্রতাপ পরাক্রমশীল রাজার কোনও দূত যেরূপে তুচ্ছ বিদ্রোহীর সম্মুখীন হয় সেইরূপে জয়পাল ফিজোর সম্মুখে আসিয়া দাঁড়াইলেন। এই শীতেও জয়পালের কপালে বিন্দু বিন্দু ঘাম। ফিজো জয়পালের সেই ঘামগুলির দিকে তাকাইয়া বলিলেন,
আপনি হয়ত জানেন সাতচল্লিশ সালে আমি এসেছিলাম এখানে গান্ধীর সাথে দেখা করতে। উনি ঠিক কী বলেছিলেন আমায়, আপনার জানা উচিত। উনি বলেছিলেন, আমরা চাইলেই স্বাধীনতা ঘোষণা করতে পারি। কেউ আমাদের ভারতে যোগ দিতে বাধ্য করতে পারে না। দিল্লি যদি সৈন্য পাঠায় তাহলে তিনি নিজে নাগা পাহাড়ে এসে আমাদের সঙ্গে লড়বেন। গান্ধী এও বলেছিলেন, উনি দিল্লিকে বলবেন, একজন নাগাকেও গুলি করবার আগে তারা যেন গান্ধীকে গুলি করে।      
গাড়িতে উঠিয়া আবার নামিয়া আসিলেন ফিজো। পাদানিতে ডান পা রাখিয়া জয়পালকে হাতের ইশারায় ডাকিলেন। জয়পাল নিকটে আসিলে ফিজো বলিলেন,
আমি ফিরে গিয়ে আপনাকে ইন্টারভিউয়ের রেজাল্ট পাঠিয়ে দেব।

শুধু হাড় আর হাড়—অক্টোবর, ’৫২
ফিজো অরণ্যাবৃত পর্বতে ফিরিয়া গেলেন। নাগা ন্যাশনাল কাউন্সিল খোনোমা গ্রামের আংগামি নাগাদের লইয়া গ্রামে গ্রামে গড়িয়া তুলিল গৃহরক্ষী দল। ঊনিশ শতকের শেষার্ধে এই গ্রামের লোকেরাই রহস্যময় কুয়াশার ভিতর জাগিয়া উঠা পাহাড়ের চুড়ায় শ্বেত সমুদ্রের দ্বীপে আর অরণ্যাবৃত পর্বতমালায় আংগামি রিশাং সাখরির নেতৃত্বে রুখিয়াছিল হানাদার ব্রিটিশ সৈন্যকে। এইবারে আরও একটা যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত হইল এই গ্রাম। ঊনিশ শতকের সেই বিপ্লবীদের সন্তান-সন্ততিরাই রাত্রি জাগিয়া পোস্টার লিখিল। ‘স্বাধীনতা চাই এখন, স্বাধীনতা চাই অনন্তকাল’। ‘এটাই আমাদের প্রাণের কথা, এটাই হবে আমাদের মরণকালেরও কথা’। অসমের রাজ্যপাল আকবর হায়দারির সচিব নাগা নেশন পত্রিকায় আন্দোলনকে ব্যঙ্গ করিয়া লিখিলেন এক কুকুরের গল্প। যাহার মুখে ছিল এক টুকরা হাড়। ফিজো বলিলেন, শুধু হাড় আর হাড়। ওর কি ধারণা আমরা কুকুর? অক্টোবরে দিল্লিকে ফিজো পাঠাইলেন তাঁহার চরমপত্র। তাহাতে লিখিলেন,
এমন একটা জিনিসও নেই যাতে ভারতীয় আর নাগাদের মধ্যে মিল আছে। ভারতীয়দের দেখা মাত্র আমাদের মনে এক অন্ধকার বিষণ্ণতার বোধ জেগে ওঠে।  

Wednesday, June 28, 2017

শরণাগত : শুভ আঢ্য

শরণাগত
বাণ ই তোমার, আমি শান্তি পাই নি
অথচ তোমার থেকে দূরে আমি মদের কাছে
বসি, সুজাতা, তোমার স্তনদু'টো পাক্কা হেডলাইট
আমি অন্ধকারে যখন, রাস্তা দেখাচ্ছে
তোমার সা, লোয়ারে জমে উঠছে লেয়ার
হ্যাঁ, ওই কোমল সা'য়ের কথাই বলছি
এখন আমার বুকপকেটে খেলছে সাপ আর
সিঁড়ি ভেঙে কবে উঠবে বুকে সু................

তোমার বাণ'ই শান্তি পাই নি আমি...
অথচ তুমি কি করে কেকের ওপর আইসিং করো!
এই অন্ধকার জ্বলে ওঠে এবং আমি প্রতিটা সত্যের কাছে
হাত ও পোঁদ পাতি... তোমার স্তনদু'টো পুরো কামরাঙা
রঙ হয়ে আসে, আর তুমি কোথায় চলে যাও সু........



Sunday, June 25, 2017

দাঁড়ি, কমা, সেমিকোলন এবং “ভালো থেকো” [শেষ পর্ব] - বহ্নিশিখা সরকার

দাঁড়ি, কমা, সেমিকোলন এবং “ভালো থেকো”
সাগর আর ঝিনুকের মধ্যে ভালোবাসা নেই। মন্দবাসাও নেই। সাগরের ঝিনুককে ভুলে যাবার দায় নেই, আর ঝিনুকের সাগরকে মনে রাখবার অধিকার নেই। ওরা কেবল জড়িয়ে আছে। বন্ধন নেই আবার মুক্তিও নেই। সাগর ছেলেটি বড্ড কেজো, আমি জানি না যদিও কিন্তু সে এমনটা দাবি করে। ঝিনুক মেয়েটা পাগল, আমি জানি না, সে এমনটা দাবি করে। সাগর কোনও এক কর্পোরেট জঙ্গলে বন্দী আর ঝিনুকের ঠিকানা নেই কোনও।


সাগর আর ঝিনুকের কবে দেখা হয়েছিল জানি না, এই টেকনোলজির যুগেও হুজুগে ওরা চিঠি লেখে। চিঠিতে কেবল কবিতা লেখে, যেগুলো  আমার হাতে পরেছে এসে কোনও ভাবে। তাই দিয়ে দিলাম...

ঘাট ছুঁয়ে জলের গান
সাগর,
খেয়া বেয়ে যায় মেঘ-মল্লার
সারা দেয় কেউ,
কেউ দেয় না

এঁটো হাত ধুয়ে মুছতে পারা যায়
যার শাড়িতে,
তাকে ভালবেসো

অনভ্যাসে বিদ্যা হ্রাস,
শেয়ার বাজারে প্রেমের দাম কমলে
গড়িয়ে নিয়ো প্রেম,
শরীরে মেঘ ঘনিয়ে এলে
উত্তাল যৌনতায় মেতো খানিক-
ঝড়িয়ে নিয়ো বৃষ্টি
ভালোবাসা বাতিল কিউরও

আমি একে শীতকাতুরে তাতে আহাম্মক,
তাই চিঠি লিখি,
যেদিন অমল বাইরে বেরোনোর ছাড়পত্র পাবে
ঠিক সেদিন থেকে আর লিখব না।

ইতি, ঝিনুক
২৪ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৫, কলকাতা


Thursday, June 8, 2017

পানশালার মনোলগ : অর্ক চট্টোপাধ্যায়

পানশালার মনোলগ

দুপুরের পানশালা। চড়া রোদ বাইরে। মদের থেকেও বেশি রোদের জন্য ভেতরে ঢুকলো হিমাংশু। উইকএন্ডের দুপুর।পানশালায় ভাঁটা। ফাউন্টেন থেকে একটা বিয়ার নিয়ে কোণের ফাঁকা সিঙ্গল টেবিলে গিয়ে বসলো। নীথর শহরতলীর দুপুরে ভেতর-বাইরে এক হয়ে রয়েছে। একদিকের দেওয়াল-টিভিতে ক্রিকেট—অ্যাশেজ সিরিজ, আর অন্যদিকে হর্স রেস ঘিরে কয়েকজন বৃদ্ধের জটলা। অদূরের টেবিলে দুটি মেয়ে কথা বলতে বলতে বিয়ারে চুমুক দিচ্ছে। হিমাংশুর দিকে পিঠ করে যে মেয়েটি বসে আছে তার মুখ দেখতে না পেলেও বাঁ পায়ের হাঁটু অব্দি উঠে আসা কালো চকচকে লং-বুট হাতের সাথে তাল ঠুকে ওঠানামা করছে, কখনো হাঁটুর ঠিক নিচে, কখনো আবার গোড়ালির কাছাকাছি ভাঁজ হয়ে যাচ্ছে। হিমাংশু স্পষ্ট শুনতে পাচ্ছে, কিম্বা দেখতে। মেয়েটির সব কথা তার লং-বুটের সরব ভাঁজগুলোর ভেতর থেকে বেরিয়ে আসছে। কথাগুলো বুজে আসছে ভাঁজ-শব্দে। হিমাংশু বিয়ারে চুমুক দিতে দিতে টেবিলে রাখা সিডনী মর্নিং হেরাল্ডে চোখ দিলো। সংবাদ-শব্দ সরব হয়ে উঠতে লাগলো। মগজে তার দৃশ্যের মৌচাক।
গোটা কাগজ জুড়ে ইউরোপের রিফিউজি ক্রাইসিস নিয়ে রিপোর্ট। সিরিয়া এবং মধ্য প্রাচ্যের নানা দেশ থেকে কাতারে কাতারে লোক জার্মানীতে ঢুকছে। তাদের হাসি-কান্নায় ভাঙা মুখ, কোলে বাচ্চা, খুলে রাখা জুমড চটি জোড়ার ছবি। টার্কির ৩ বছরের আয়্লানের বালিতে গুঁজে থাকা নীথর মুখ। এই ছবিটা শেষ দু-তিনদিন ধরে অনবরত সোশাল মিডিয়ায় ট্রল করছে, দেখেছে হিমাংশু। না, সে শেয়ার করেনি, কোথাও বেঁধেছে, কোথায়, কি, তা ঠিক করে বলা মুশকিল। ফেসবুক টুইটারের এই অবাধ মৃত্যু-মৃত্যু খেলায় এবং জ্ঞান আর নৈতিকতার লড়াইয়ে সচরাচর ঢুকতে ইচ্ছে করে না ওর। পছন্দগুলো ‘লাইক’ হয়ে গেছে, সারাদিন আকাশ থেকে খসে খসে পড়ছে। টার্কির ৩ বছরের শিশু মৃত্যুর বোট থেকে ফটোগ্রাফের আগ্রাসী দৃষ্টির বোটে উঠে সোশাল মিডিয়ার দেওয়ালে দেওয়ালে অনুকম্পা আর বাণীবাণ হয়ে উঠেছে। আয়্লান কি ভাবছে এই সব ট্রলিং নিয়ে? সমুদ্রে কি ট্রলার চলছে এখনো? তার বাবা কি এখনো মরে যাবার কথা বলছেন ইন্টারভিউয়ে? হিমাংশু পাতা উল্টে এগিয়ে চলে। শেষ ক'দিন ধরে অস্ট্রেলিয়ান মিডিয়া তোলপাড় রিফিউজি ইনটেক নিয়ে। 
বর্তমান সরকার লিবারালদের। বছরখানেক ধরেই টনি অ্যাবটের তথাকথিত 'বোট পলিসি' নিয়ে বিতর্ক তুঙ্গে।

Tuesday, May 16, 2017

দু'টো ও দুমুঠো - একটি সিরিজ : সুমন সাধু

দু'টো ও দুমুঠো (১)
বিপরীত আদেখলা সব জমি ছেড়ে দিচ্ছে
অবাক দূরন্ত রাস্তায় দাগ কাটছে আদর আদর মাস
আমাদের সবটুকু নিয়ে এই সা রে গা মা,
দিন শেষের ব্যথার কিনার,
যথোপযুক্ত আছে সবই।
সবই নতুন চাদরের আবেশ,
ঠাসা ঠাসা বই সব, উপসর্গহীন সাদা।
সেইখানে শব্দের মলিন জমা হয়;
আমরা বুঝি দু'টো ও দুমুঠো

আমরা এখন অবোধ শিশু
যাপন করি ধুলো।



দু'টো ও দুমুঠো (২)
এই মন্থর গতি আমাদের চিনতে শিখিয়েছে-
টানা টানা লিখে চলা সুদীর্ঘ গদ্য কলম।
সেভাবে রেখো না হাত
এভাবে মেখো না রোদ
 কবিতার হেমন্তগুচ্ছ নিয়ে এসো আমাদের ঘরে
খাদ্য শষ্য বীজ নিয়ে এসো

ঘরোয়া জ্বর বুঝে নিক কোন এক আট বছর।
অথবা আট বছর আগের একদিন
দিনান্তে বাড়ি ফিরব সবাই
অঘ্রাণের ধান ফুটবে আসমানি কোটরে

চলতি পথ ফিরতি ধুলোয়
একে অপরের পরিপূরক হচ্ছে এ যাত্রা।


Saturday, May 6, 2017

সত্যম ভট্টাচার্য-এর কয়েকটি কবিতা

কয়েকটি কবিতা

এক।
লোকটার কোন স্বপ্ন ছিল না। শুধু বালির পর বালি আর চড়ার পর চড়া। সবাই বলে নদী কোথায় নদী? পদচিহ্ন চলে গেছে নিরুদ্দেশের দিকে। ভাঙ্গা নাও তার...


দুই।
কিছু অচেনা পাখি এসে বসেছে জলার ধারে। কোন দেশ থেকে উড়ে তারা এসেছে জানেনা কেউ। সমস্ত সম্পর্কেরই হয়তো একটি নির্দিষ্ট গতিপথ থাকে। কে তাকে আটকাবে বলো? পুরোনো প্রেমিকার কথা ভাসছে নদীর জলে...


Saturday, April 22, 2017

তুসা কথক-এর কিছু ভাবনা

তুসা কথক-এর কিছু ভাবনা

তোমার ভেতর থেকে চুরি যাচ্ছে আলোকপ্রাপ্তির রোদ,
বিকেল ভ্রমণে তোমার সম্ভ্রান্ত মগজ বেচে দিচ্ছে ধূর্ত বনিকেরা।

হে মানুষ,
হে পুরাকীর্তির চুরি যাওয়া ইট,
স্বপ্নের অপভ্রংশ, মায়াময় ভ্রান্তি,
কিশোরের মৈথুন শেষের অনুশোচনা,
হে পাপ, হে শাপ,
হে আদমের নিরাশ উপাসনা,
তোমারে অভিশাপ —
তুমি বুড়িগঙ্গার মতো কিংবদন্তী হও,
তোমার জীর্ণ শরীরে ছড়িয়ে পড়ুক অসুখের আরাধনা।

আমি তোমাকে ঘৃণা করি,
শিষ দেই, হেসে ফেলি,
হে শুয়োরের অপ্রকাশিত ক্রোধ,
কিংবদন্তীর ভারবাহী গাধা,
তুমি মরে যাও —
পৃথিবীর হৃদপিণ্ডে ক্রুশবিদ্ধ হয়ে থাকো তুমি অনন্ত বছর।

তোমার হৃদয় পৃথিবীর মাণচিত্রের মতো টুকরো টুকরো হয়ে গেছে,
পাকস্থলী হজম করে নিয়েছে তোমার অনাগত সন্তান,
তুমি বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছো —
মানুষের থেকে তুমি বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছো,
তোমার জন্য প্রেম নয়,
তোমার জন্য মাতৃস্নেহ নয়,
অভিশাপ —
তুমি প্রেমিকার ঋতুস্রাবের মতো আটকে পড়ো সময়ের সুড়ঙ্গে,
তুমি ব্যর্থবীর্যের মতো শুকিয়ে যাও মহাশূন্যের মলাট থেকে মলাটে।

হে মানুষ,
হে বিপর্যয়ের কক্ষপথে আটকে পড়া প্রেতাত্মা,
বহিষ্কৃতের বিলাপ, অপলাপ, সন্তাপ
গোলকধাঁধার নির্জনতম সত্তা।

হে স্বর্গ থেকে নির্বাসিত যুদ্ধবন্দী
হে ক্ষুধার্ত, হে পাকস্থলী,
কোন সভ্যতাই নির্মান করনি তুমি,
গল্পের বুণন ছাড়া —
নারীর স্বপ্নকে গর্ভবতী করা ছাড়া,
ধ্বংস ছাড়া — মৃত্যু ছাড়া,
আর কোন পরিণতি নেই তোমার,
এবার তুমি হারিয়ে যাও
নীল নদের গর্ভের ভেতর লীন হয়ে যাও,
মহাপ্লাবনে তোমার জাহাজ গিলে নিক রূপকথার মাছেরা।

হে মানুষ, হে তুসা,
তোমার ভেতর থেকে চুরি যাচ্ছে আলোকপ্রাপ্তির রোদ,
বিকেল ভ্রমণে তোমার সম্ভ্রান্ত মগজ বেচে দিচ্ছে ধূর্ত বনিকেরা।

পহেলা বৈশাখ/ ১৪২৪
















তুসা কথক
Tusa

Wednesday, April 19, 2017

দুটি লেখা নিয়ে এসেছেন : নীলাব্জ চক্রবর্তী

স্বীকৃতি
সংবেদনশীলতা নামের একটা বাক্সের ভেতর বসে আমরা লক্ষ করছি দিন কীভাবে ছোট হয়ে আসছে। হাতে ধরে রাখা চ্যাপ্টা, চৌকো, ধাতব খণ্ডটা, যার নাম সময়, গলে পড়ছে বাঁকানো লরেল পাতার ফাঁকে ফাঁকে। স্বীকৃতি শব্দটার গায়ে কিছু শীত জমে থাকছে এভাবে। নীল ভাঙতে ভাঙতে দীর্ঘ বাক্য হয়ে যাচ্ছে কেউ। এরকম দিনে নিষ্ঠুরতা পেয়ে বসে। চেইন রিঅ্যাকশন। জটিলতার মধ্যে ওইটুকুই সিমেট্রি রেখে দেওয়া হয়েছে। ফলে, মরশুম জুড়ে দ্রুত হয় এক-একটা অক্ষর। বালিশে চাপা পড়ে থাকলো যে দুপুর, তার স্পর্ধা, একটা রঙ হয়ে। জল সরে যাওয়া লবণপ্রণালীর কথা ভাবো। মনে তার যেটুকু রেখেছো মাংসক্ষেতের ভেতর কুচো কুচো কবিতাভাবনা রেখেছো...



আপনার কবিতাকে জীবাণুমুক্ত রাখুন
এখন দ্বিধা বলতে টানেলের ভেতর যেটুকু রোদ। অন্য কারো ডুয়াল সিমে আপনার বেলা পড়ে আসছে কোথাও। পছন্দ করছে বুনো পাথরের গায়ে পার্পল ছোপ ধরতে থাকা কম্যুনিকেশন। পছন্দ করছে আলগা যৌনতা। ভাষার সবটায় তখন কাঁচ ছড়ানো। স্থিতির ভেতর খুব ছুটতে ছুটতে ভাবছি প্রাপ্তি শব্দটার মানেটা ঠিক কী। লক্ষ করুন, কেমন ফুলে উঠছে রাস্তাটার গ্রীষ্মকালীন নাম। আপনার কবিতাকে জীবাণুমুক্ত রাখুন। ভাবুন, উদ্ভিন্ন একটি বিশেষ অঞ্চলের নাম। তার ছোটবড়ো ছায়ারা শব্দ করে ‘তদনুরূপ, তদনুরূপ’। এভাবে স্তনকে দুপুর লিখি আর খুলে রাখি স্নায়ুদের জলপথ। সিনট্যাক্স ছিঁড়ে ফ্যালাও আরেকটা সিনট্যাক্স…













নীলাব্জ চক্রবর্তী

Nilabja Chakrabarti

Monday, April 17, 2017

বাপি গাইন-এর : দু এক পশলা চিন্তাসূত্র

দু এক পশলা চিন্তাসূত্র


কতরকম বিষই তো এই দেহ গ্রহন করেছে
এই একটুকরো মেঘ আর কতটাই বা মরুভূমি নেবে


অনিশ্চিত এই জীবনের একমাত্র নিশ্চয়তা মৃত্যু। এমন এক বিশ্বস্ত বুক, এমন এক আলিঙ্গন যা একমুহুর্তের জন্যও স্পর্শ ত্যাগ করবে না। এই চরিত্রকেই আমরা খুঁজি প্রেমিকার ভেতরে, প্রেমিকের ভেতরে অর্থাৎ আমরা তোমার ভেতরে মৃত্যুকে খুঁজি প্রতিমুহুর্তে, জীবন খুঁজি না কখনও।


অর্ধমৃত ফুল দিয়ে ঘর সাজাবার আগে, আমি চাই ফুলগুলো গাছেই শুকিয়ে যাক। অন্ধকার হয়ে আছে এমন অনেক গাছ দেখেছি দিনের বেলায়। যেন কেউ শুভেচ্ছা অনুবাদ করতে পারেনি আর শুধু শুধু সাদা পৃষ্ঠা নষ্ট করে গেছে।
তোমাকে ভালোবাসা বোঝাতে গিয়ে তাই গাছ ছাড়া আর কোনো প্রতিনিধি পাইনা। হাঁটাপথে সে বহুদিন থেকে তোমাকে মুগ্ধ করেছে। এতো এতো মুগ্ধতা সামলাতে না পেরে তুমি তার ছোটো একটা হাত ভেঙে টেবিলে রেখেছ। টেবিলের ওপর হাতভর্তি ফুল, মৃত্যুর দিকে দৌড়ে যাওয়া ফুল। ঘর আলো হয়ে আছে, পবিত্র এক গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে মৃত্যুর শরীর থেকে তোমার স্নায়ু পর্যন্ত। তুমি এককাপ চা নিয়ে এই সৌন্দর্য্য সহ্য করছো বিকেলের আলোয়। ওদিকে যার গেছে তার বেদনা ফোঁটা ফোঁটা ঝরে পড়ছে রাস্তার ধুলোয়। এইপথে কাল আবার তুমি টিউশনে যাবে আর দেখবে ভাঙা ডালের পাশে এখনও অনেক ডাল। এখনও যথেষ্ট ফুল। তোমার মুগ্ধতা আগের মতোই তোমাকে মৃত্যুর প্রতি অন্ধ করে রেখেছে।

Saturday, April 15, 2017

দ্রিম দ্রিম ৪ | ম্যাগনোলিয়া, রেড ওয়াইন অ্যান্ড চীজ : দোয়েলপাখি দাশগুপ্ত

দ্রিম দ্রিম ৪ ম্যাগনোলিয়া, রেড ওয়াইন অ্যান্ড চীজ
আস্তাবলের দিকটা না। ম্যাগনোলিয়া ছিল এদিকটায়। গ্লেনারিজ, কেভেন্টারস ছাড়িয়ে আরও একটু এগিয়ে বাঁ দিকে। জামাকাপড়... ডেনিম জ্যাকেট, জেগিংস-এর দোকান... সেগুলো পেরিয়ে কুংগা যাওয়ার রাস্তাটায়। সাদা সবুজ লাল মেশানো কাঠের বাড়ি। ছবির বইয়ের মতো জানালা। আইভিলতাও ঝোলে বোধ হয়। আমি আইভি দেখিনি যদিও কখনও। নীচে ডানদিকে বাজারে নেমে যাওয়ার সিঁড়ি। হিল কার্ট রোডের দিকে। আমি ঠেলেঠুলে একটা সরু গলির মধ্যে দিয়ে উঠতে থাকি। ম্যাগনোলিয়া একবার দেখে আসা দরকার। সরু গলি। কিন্তু অন্ধকার নয়। ওপর দিকের বাড়িগুলোর টিনের চাল আর কার্নিসের ফাঁকফোকর দিয়ে আলো আসছে অনেক। দুপাশে লোক দাঁড়িয়ে। কেউ বিরক্ত করছে না। যে যার মতো ব্যস্ত। সিগারেট খাচ্ছে। গল্প করছে। ওয়াই ওয়াই খাচ্ছে। পাশ দিয়ে সরিয়ে সরিয়ে এগোতে হচ্ছে। ম্যাগনোলিয়ার সামনে এসে পড়লাম।
এটা তো বেশ বড় একটা হামাম! হোটেল ভেবে এদিকে বুক করে ফেলল মৈত্রেয়। ওই তো... জাপানি বাড়ির মতো, চাল দিয়ে ধোঁয়া বেরোচ্ছে অল্প। ‘স্পিরিটেড অ্যাওয়ে’-র বাড়িটার মতো। আমি ভেতরে ঢুকি। ঘন বোতল সবুজ অন্ধকার। তার মাঝখান থেকে চাপা রক্তের মতো লাল রঙের দেওয়াল দেখা যাচ্ছে। বাষ্পে আধো-অদেখা হয়ে আছে গোটাটা। কাচের দরজা খুলে ঢুকতে ঢুকতে টের পাই আমার হাইট কমে গেছে।আমি একটা উঁচু-হিল জুতো পরে। আমার গায়ে একটাসাদা শার্ট আর গ্রে রঙের পেন্সিল স্কার্ট

Monday, April 10, 2017

আবার দুই মেঘপারা মেয়ে : মনোজ দে

মেঘপারা মেয়ে ৯

যে সমস্ত শব্দ
উচ্চারিত হল না তোমার পাশে

ইমেজের ভেতর অথচ       সাবলীল
ঘর হয়। মেঘ হয়। ঋতু হয়

ও মেঘপারা মেয়ে
টেলিফোন বলতে বলতে
যারা জন্ম ন্যায়
সমস্তটাই ব্রথেল?



Saturday, April 8, 2017

জোকারের বালের যুগ্যি নয় ওরা : পুরন্দর ভাট

জোকারের বালের যুগ্যি নয় ওরা

বাঁকুড়া মিমস পেজটা বোধয় ফেসবুক বন্ধ করে দেবে। এই পেজটি বহুবার বিতর্কে জড়িয়েছে। পিডোফিলিয়া নিয়ে একবার বিতর্কে পড়েছিল, বর্ণবিদ্বেষী, নারীবিদ্বেষী পোস্ট করে বিতর্কে জড়িয়েছে, এবার ক্যান্সার পেশেন্টদের কেমোথেরাপির ফলে টাক পড়ে যাওয়া নিয়ে রসিকতা করে বিতর্কে জড়িয়েছে। বহু লোকে রিপোর্ট করেছেন পেজ। সিগনেচার ক্যাম্পেন হয়েছে পেজটাকে সরাবার জন্যে। অনেকেই এমন বলছেন যে যাঁরা ওই পেজটাকে লাইক করেছে তারা যদি আনলাইক না করে তাহলে আনফ্রেন্ড করে দেবে। অর্থাৎ এই রামনবমী আর ভোঁতা তলোয়ার নিয়ে লম্ফ ঝম্পর বাজারেও খানিকটা ফুটেজ খেয়েছে পেজটা। এবার আসা যাক বিতর্কর প্রসঙ্গে।

প্রথমেই যেটা পরিষ্কার করে দেওয়া দরকার যে "ইয়ার্কি মারবার একটা লিমিট আছে, ক্যান্সার পেশেন্ট নিয়ে ইয়ার্কি বা মেয়েদের মাসিক হওয়া নিয়ে ইয়ার্কি মারা প্রচন্ড ইনসেন্সিটিভ" - এই যুক্তির একটা অংশ সঠিক কিন্তু অন্য অংশটা গরুর গোবর। সঠিক হলো "ইনসেন্সিটিভি" আর গোবর হলো "লিমিট আছে।" লিমিট যদি টানেন সেটা কোথায় টানবেন? কেউ ক্যান্সার পেশেন্ট নিয়ে ইয়ার্কি মারাকে লিমিট অতিক্রম করা বলবেন আর কেউ বলবেন গরুকে নিয়ে ইয়ার্কি মারা হলো লিমিট। একটা লিমিট টানাকে সমর্থন করলেই অন্য লিমিটের বিরোধিতা করবেন কী ভাবে? তাই এই লিমিট টানার ব্যাপারটা হলো গোবরের মতো। বিশ্বের সব কিছু নিয়ে ইয়ার্কি মারতেই পারে কেউ, আমি তার প্রতিবাদ করবো, কিন্তু তার জন্য তাকে জেলে পুরে দেবো বা তার বলার বা লেখার অধিকার কেড়ে নেবো না। লিমিট টানতে থাকলে পেহেলাজ নিহালনিকে বরং একবার রোজ সকালে প্রণাম করে নেওয়া দরকার। একটা লিমিট ভালো আর অন্যটা ভালো নয় এটা আপনি কোনো ভাবেই স্বাধীনতার যুক্তি মেনে প্রমাণ করতে পারবেন না। আমি বলছি না যে সব লিমিট সমান, আমি বলছি না যে গায়ের রঙের জন্য কাউকে নিয়ে ইয়ার্কি মারা আর ডোনাল্ড ট্রাম্পকে নিয়ে ইয়ার্কি মারা এক, আমি বলছি না যে একটায় লিমিট টানলে আরেকটাতেও টানতে হবে। কিন্তু একটা করা যাবে আর অন্যটা করা যাবে না এই তর্ক করতে গেলে আপনাকে বাইরে থেকে কিছু যুক্তি আমদানি করতে হবে, স্বাধীনতার পক্ষে উদারবাদ যে যুক্তিগুলো দেয় সেগুলো দিয়ে প্রমাণ করতে পারবেন না। বাইরে থেকে মানে শুধু বাকস্বাধীনতার উদারবাদী ব্যাখ্যায়  আটকে না থেকে, ইতিহাস, অর্থনীতি ইত্যাদির প্রেক্ষাপট টেনে এনে তবে যুক্তি সাজাতে হবে। গডেলস ইনকমপ্লিটনেস থিওরেমের মতো বিষয়টা।  সেই কাজটা কিন্তু বেশ কঠিন, এবং সেটা করতে গেলেই অনেক "ক্যান্সার নিয়ে ইয়ার্কি মারা উচিত না" অবস্থানের সমর্থককে কিন্তু হারাতে হতে পারে কারণ নতুন যুক্তিমালার অনেক কিছু তাদের আবার পছন্দ হবে না। কিন্তু তার আগে একটা মৌলিক বিষয় নিয়ে ভাবা দরকার। সেটা হলো ইয়ার্কি বা মজা বা জোক ব্যাপারটা কি?