Showing posts with label Bengali. Show all posts
Showing posts with label Bengali. Show all posts

Sunday, June 25, 2017

দাঁড়ি, কমা, সেমিকোলন এবং “ভালো থেকো” [শেষ পর্ব] - বহ্নিশিখা সরকার

দাঁড়ি, কমা, সেমিকোলন এবং “ভালো থেকো”
সাগর আর ঝিনুকের মধ্যে ভালোবাসা নেই। মন্দবাসাও নেই। সাগরের ঝিনুককে ভুলে যাবার দায় নেই, আর ঝিনুকের সাগরকে মনে রাখবার অধিকার নেই। ওরা কেবল জড়িয়ে আছে। বন্ধন নেই আবার মুক্তিও নেই। সাগর ছেলেটি বড্ড কেজো, আমি জানি না যদিও কিন্তু সে এমনটা দাবি করে। ঝিনুক মেয়েটা পাগল, আমি জানি না, সে এমনটা দাবি করে। সাগর কোনও এক কর্পোরেট জঙ্গলে বন্দী আর ঝিনুকের ঠিকানা নেই কোনও।


সাগর আর ঝিনুকের কবে দেখা হয়েছিল জানি না, এই টেকনোলজির যুগেও হুজুগে ওরা চিঠি লেখে। চিঠিতে কেবল কবিতা লেখে, যেগুলো  আমার হাতে পরেছে এসে কোনও ভাবে। তাই দিয়ে দিলাম...

ঘাট ছুঁয়ে জলের গান
সাগর,
খেয়া বেয়ে যায় মেঘ-মল্লার
সারা দেয় কেউ,
কেউ দেয় না

এঁটো হাত ধুয়ে মুছতে পারা যায়
যার শাড়িতে,
তাকে ভালবেসো

অনভ্যাসে বিদ্যা হ্রাস,
শেয়ার বাজারে প্রেমের দাম কমলে
গড়িয়ে নিয়ো প্রেম,
শরীরে মেঘ ঘনিয়ে এলে
উত্তাল যৌনতায় মেতো খানিক-
ঝড়িয়ে নিয়ো বৃষ্টি
ভালোবাসা বাতিল কিউরও

আমি একে শীতকাতুরে তাতে আহাম্মক,
তাই চিঠি লিখি,
যেদিন অমল বাইরে বেরোনোর ছাড়পত্র পাবে
ঠিক সেদিন থেকে আর লিখব না।

ইতি, ঝিনুক
২৪ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৫, কলকাতা




কাঁদতে পারিনা নেহাত
সাগর,
সুযোগ দেইনি কাউকে
আমাকে কাঁদানো সহজ না।
ভান করতে করতে এমন আস্তরনে ঢেকেছি নিজেকে
এখন আরশি নগরের পড়শিকে আর
খুঁজে পাওয়া যাবে না।

কিন্তু, এবার জানি দরজা খুলে দেবার সময় হল-
জোয়ারের জলকে ঘরে ঢুকতে দেবার সময় হল।
আমার ঘরে বন্যা হলে
        পূর্ণিমার চাঁদ পরিষ্কার হয় আকাশে,
চাঁদের টানে জল বাড়ে, ঢেউ বাড়ে

নিজে ভেঙে যাবনা বলে অন্য কাউকে ভাঙলাম,
ছড়ালাম, কতকটা উড়িয়ে দিলাম।
সেই বীজ থেকে মহীরুহ,
সেখান থেকে আবার মেঘ-রোদ-জল-বৃষ্টি
একঘেয়ে সালোকসংশ্লেষ।

ইতি, ঝিনুক
২৮শে অক্টোবর, ২০১৫, কলকাতা




আরাধ্যা
ঝিনুক,
নিজেকে ভেঙেছি, গড়েছি, অনেক পালিয়েছি
তবু লতানে গাছের মতন উপচে পরেছি
নারীর বুকে এসে।
নারী বিশল্যকরণী হয়ে উপশম করে
আমার পরিবর্তনীয় রোগ

নারী শরীর তার সমস্তটুকু নিয়ে
মোমের আলোর মত আমার অপরিষ্কারটুকু
মার্জনা করে নেয়,

সে কোনও এক 'কার' দয়ায় এখনও পাগল হয়ে যাইনি,
সেই কোনও এক 'কেউ' মোজেসের মত মাঝ বরাবর
কেটেছে আমার আত্মহত্যার ইচ্ছে।

তোর কবিতায় নারী শরীরের গন্ধ আছে।

ইতি, সাগর
১লা নভেম্বর, ২০১৫, মুম্বাই




কিছু কথা না হয়
ঝিনুক,
আমি জানি কবিতাগুলো বিশেষ যত্ন করে
আমাকে কেবল ‘ঐটুকু’ কথা জানাবার জন্যে লিখিস।
কিন্তু সম্পর্কের গণ্ডীটুকু ভোলবার নয়-
এভাবে চলবার নয়, চলতে পারে না।

বড্ড ন্যাকা ন্যাকা কবিতা লিখিস-
ইচ্ছে করে তোর দুটো হাত বেঁধে দেই,
ইচ্ছে করে তোকে খুব করে অপমান করি।
তোর সামর্থ্য নেই আমাকে ভালবাসবার
আমি দাম্ভিক ভাবে তোর মুখে ছুঁড়ে মারতে পারি
সুইসাইড নোট।

এই ইট-কাঠে থাকা অভ্যাস হয়ে গেছে আমার,
রোবট হয়ে থাকতে দে।
প্রেমিকার সাথে উদ্দাম যৌনতায়
ভুলে যাচ্ছি অতীত-বর্তমান
ভুলতে দে!
তোর কবিতা থেকে ধান খেতের গন্ধ আসে,
পাখির ডানা ঝাপটানোর গন্ধ আসে,
নদীর ঢেউয়ের গন্ধ আসে...

চাই না এসব, দূরে থাক।

ইতি, সাগর
৫ই জানুয়ারি, ২০১৬, ব্যাঙ্গালোর




অবেলায় যদি
সাগর,
আমার কাছ থেকে ভালোবাসা আর কান্না ধার নিয়েছে কতজন
তোমায় দিলাম ভালো থাকার গল্প,
ভাবলে সুখে আছি?
ভাবলে হিংসে করছি?
ভাবলে পাণিপ্রার্থী?

ফ্রিজে রাখা ভালোবাসা টুকরো টুকরো করে
তুলে এনে অ্যালকোহলের সঙ্গত করি,
সুন্দর গুছিয়ে রাখা পেলব মুখশ্রীর মতন প্রেম নয়,
প্রেম এবড়ো খেবড়ো মেঠো পথ-
চলতে কষ্ট এবং শেষও নেই।

তোমাকে চাই না,
আর চিঠিও লিখবো না,
লিখতে ইচ্ছে করলে ছাতাহীন হয়ে বৃষ্টিতে ভিজব-
আর তোমার কথা মনে পড়লে
সিগারেট খেয়ে নেব।

ইতি, ঝিনুক
১২ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৬, নয়া দিল্লী















বহ্নিশিখা সরকার
Banhisekha Sarkar

Thursday, June 22, 2017

তিনটি কবিতা : সুপর্ণা মন্ডল

পান্ডুলিপি
ভুল করে ঠিক লেখা হয়ে যায়
আবার ঠিক করতে গিয়ে ভুল।
ঠিকটাকে ভুল আর
ভুলটাকে ঠিক করতে গিয়ে দেখি
পান্ডুলিপি ইতিমধ‍্যে জমা পড়ে গেছে।



উৎসর্গপত্র
যদি কখনও কবিতার বই লিখি
তার নাম দেবো “এসব অনেক আগের লেখা”।
উৎসর্গপত্রে তোর নাম থাকবে না ঠিকই
থাকবে একটা শূন্যর ধুধু পাতা
যে শূন‍্যতা আমাকে দেওয়া তোর একমাত্র উপহার।



প্রাপ্তি
তোমার অপ্রকাশিত কবিতার স্তূপে
প্রেমপত্র খুঁজতে গিয়ে আমি
সুইসাইড নোট পেয়ে গেছি।















সুপর্ণা মন্ডল

Suparna Mondal

Monday, June 19, 2017

অনন্ত এবং আমি, আমি এবং অনন্ত : রঙ্গন রায়

অনন্ত এবং আমি, আমি এবং অনন্ত

একটা নাটকে আমায় 'অনন্ত' নামে একটি চরিত্র দেওয়া হয়েছিল। আমি কিছুতেই চরিত্রে ঢুকতে পারছিলামনা। রিহার্সালে কথা শুনতে হত - 'তোমার দ্বারা কিস্যু হবেনা।' তারপর যেদিন আমি অনন্তের ভিতর ঢুকলাম অনন্ত আমার ভিতর ঢুকে বসলো। আর সে নড়তে চায়না। আমি এবার বের হতে চাইলাম। পারলাম না। পাগলের মত আয়নার সামনে দাপাদাপি করে অনন্তকে টেনে হিঁচড়ে বের করতে করতে রেডিয়ামের মুখোশ পড়ে বেরিয়ে আসলো অনন্ত – ওর চোখ আমার মত, নাক আমার মত, কান আমার মত, সবই আমার মত। আমি আয়নায় তাকালাম – আমার মুখটা ধীরে ধীরে মুখোশ হয়ে যাচ্ছে। অনন্ত বেরিয়ে এলো, আমার মুখটাকে নিয়ে অনন্ত চলে গেলো। তখন থেকেই আমি আমার আসল মুখটা খুঁজে চলেছি… সদর গার্লসের নীলসাদা পোশাকের বালিকাদের দেখি – ওরা আমায় দেখে সভয়ে নাক সিঁটকে সরে যায়। আমি করলার উপত্যকায় দোলনা ব্রীজের নিচে শুয়ে থাকি, সূর্যের দিকে আমার শরীর উন্মুক্ত থাকে…

আমার বড় বড় চুল দাড়িতে আটকে থাকে নাটকের প্রপস্… মুখোশটা খুলতে পারছিনা বলেই আমায় কেউ কোন নাটকের দলে নিচ্ছে না। আমি গ্রীনরুমে ফিরে যেতে চাই, আয়নার পাশে বাল্ব-মেকআপ কিঞ্চিৎ বুক দুরুদুরু… নাহ্, মাথার ভেতর সব গন্ডগোল হয়ে যাচ্ছে। আমার সমস্ত শরীর মানুষের মাংস দিয়ে তৈরী, নীল রঙের লুঙ্গিটা খসে পড়লেই আদিম পোশাক পড়ে দাঁড়িয়ে থাকবো ট্রাফিক সিগন্যালে… আমার ঠোঁট অনেকদিন সিগারেটের ছোঁয়া পায়নি, কিন্তু মুখোশ সিগারেট খাচ্ছে দেখলে অনেকে লজ্জা পেতে পারে - অনেকে ভয় পেতে পারে - অনেকে অস্বস্তি বোধ করতে পারে... সবার চিন্তা আমার মাথায় এসে জট পাকাচ্ছে কেন?

সাবধান!  দেশপ্রিয় পার্ক আসছে। ট্রামলাইন থেকে ছড়িয়ে পড়তে পারে স্বাধীনতা।

স্বাধীনতার ওপারে দাঁড়িয়ে তাকিয়ে রয়েছে অনন্ত। আমাদের আশেপাশে ঘুরে বেরাচ্ছে ওয়ার্ম হোল। অনন্ত ঢুকে পড়ছে আর বেরিয়ে আসছে। মুখোশ মুখ নিয়ে চলে এলাম অডিটোরিয়াম। সমস্ত উইংস জুড়ে অজস্র মানুষ এসে মিলিত হচ্ছে ফোকাসে, শাওয়ার হলো বেবি ফলো এবং স্পটলাইট জুড়ে নাটক এগিয়ে চলেছে। অনন্ত ফিরে আসছে, কন্ট্যাক্টলেন্স থেকে ঠিকরে বের হচ্ছে কাল্পনিক অশ্রু... দর্শকাসন ছুড়ে দিচ্ছে করতালি। পর্দা সরানোর খেলা খেলতে খেলতে সার্কাসের বাঘ ঝাপিয়ে নামলো আর নাটক দেখার অপরাধে আমার হাত পৌঁছে গেল আইনের সাথে করমর্দনে। বলুন ধর্মাবতার, আমি গরু খাইনি শুয়োর খাইনি  নাটক দেখেই বিচার পেয়ে গেলাম! তারপর দেখা গেল অনন্তের মাথার মধ্যে এসে পড়েছে সকালের আকাশে টাঙানো রোদ - মাথার ছায়ায় ঢেকে যাচ্ছে আমার ধড়।

আমি ক্রমশ ঢাকা পড়ে যাচ্ছি। আমি ক্রমশ একা হয়ে যাচ্ছি। আমি ক্রমশ দূরে চলে যাচ্ছি।

ফাঁকা মঞ্চ। অন্ধকার্। দৃশ্যপট নেই। উইংসের আড়ালে প্রম্পটার নেই। গ্রিনরুমে আর্টিষ্ট নেই। অডিটোরিয়ামে দর্শক নেই। একটা সরু আলোর রেখা নেমে আসছে ধীরে ধীরে, সেই আলো জুড়ে ওড়াউড়ি করছে হাজার প্রজাপতি। আমি সমস্ত আলোটা নিতে চেষ্টা করছি। মাথাটা ভারী হয়ে আসছে, যেন এই মাত্র মস্তিষ্ক ফেটে বেরিয়ে আসবে অভিনয়, আর অভিনয় মানেই অনন্ত… সমগ্র থিয়েটারে অনন্ত ছড়িয়ে পড়েছে... সেধিয়ে যাচ্ছে অনন্তে…













রঙ্গন রায়

Rangan Roy

Friday, June 16, 2017

দাঁড়ি, কমা, সেমিকোলন এবং “ভালো থেকো” [প্রথম পর্ব] - বহ্নিশিখা সরকার

দাঁড়ি, কমা, সেমিকোলন এবং “ভালো থেকো”

সাগর আর ঝিনুকের মধ্যে ভালোবাসা নেই। মন্দবাসাও নেই। সাগরের ঝিনুককে ভুলে যাবার দায় নেই, আর ঝিনুকের সাগরকে মনে রাখবার অধিকার নেই। ওরা কেবল জড়িয়ে আছে। বন্ধন নেই আবার মুক্তিও নেই। সাগর ছেলেটি বড্ড কেজো, আমি জানি না যদিও কিন্তু সে এমনটা দাবি করে। ঝিনুক মেয়েটা পাগল, আমি জানি না, সে এমনটা দাবি করে। সাগর কোনও এক কর্পোরেট জঙ্গলে বন্দী আর ঝিনুকের ঠিকানা নেই কোনও।

সাগর আর ঝিনুকের কবে দেখা হয়েছিল জানি না, এই টেকনোলজির যুগেও হুজুগে ওরা চিঠি লেখে। চিঠিতে কেবল কবিতা লেখে, যেগুলো  আমার হাতে পরেছে এসে কোনও ভাবে। তাই দিয়ে দিলাম...

পুরনো কথা
ঝিনুক,
শেষ শ্রাবণ দিন, বেলা ছিল গোধূলি।
    কণে দেখা আলোর রেশমি হিজাব ছিল, ভাগ্যিস!
     নয়ত ধরা পরে যেতো ভাষায় মোড়া রহস্য।

পাখির ডানার ভাঁজে ভাঁজে যে কথা-গান-গল্প
      আজীবন আবডালে থেকে যায়, তেমন গোপন-
ঝড়ের আগের নিস্তব্ধতায় হারিয়ে যায় যেসব কথা
      তেমনটাই আধপাগলা,

অন্ধকারের ঠোঙ্গায় মুড়ে খুব চুপি চুপি
    শেষ শ্রাবণের তেলেভাজা গন্ধ পাঠাব তোমায়
চোখ জড়ানো ঢুলুঢুলু সব পুরনো কথা

ধরা দেবেনা কেউ, কিচ্ছুটি টের পাবেনা কখন্‌
         পুরনো কথার দল তোমার স্বপ্নের
             মেঘবালিকা হয়ে উঠেছে।

ইতি, সাগর
১২ই জুলাই, ২০১৫, মুম্বাই




বারণ
 ডাকনাম ধরে ডেকো না সাগর,
          উত্তাল হয় মাটি।
কাঠ পেন্সিল ইজেল আঁচরে
          ছায়ার শিকড় কাটি।

দিগন্ত জুড়ে ‘আমি’ আমি শুধু
       যতটা ফিরিয়ে দিলে-
তার চেয়ে বেশি ছড়িয়ে দিলাম
       তোমার বুকের নীলে।
ইতি, ঝিনুক
১৪ই জুলাই, ২০১৫, কলকাতা





কেমন যেন
ঝিনুক,
তুই অযুত অক্ষ দ্রাঘিমা দূরে
তবু জানি আজ বর্ষার দিন।
তোর শরীর জড়িয়ে উঠেছে আমার দেওয়া নীল শাড়িটা
সরীসৃপের মত

বাড়িতে বুঝি খিচুরি আর ডিম ভাজা?
আচ্ছা অগোছালো দুয়েক গোছা চুল
তোর কালো টিপটার গা বেয়ে গড়িয়ে গেছে আজ?

খোলা পিঠ তোর অপেক্ষা করে আছে কি
আমার হাতের ছোঁয়া পাবার জন্য?
মিষ্টি স্বাদের লিপ বামে ভেজা ঠোঁট কি
অপেক্ষা করে আমার বেইমান ঠোঁট দুটোর?

আমার এখানে অনেক ঝড়, অনেক বৃষ্টি
রোজ ঝড়, রোজ বৃষ্টি।

ইতি, সাগর
১৫ই আগস্ট, ২০১৫, মুম্বাই




রাগ করেছি বলে
একঘেয়ে কাজে আর অকাজে ব্যস্ত থাকার
ভান করে অনেক লোক ঠকিয়ে ফিরবে
যখন বাড়ি,
মন যখন ভীষণ রকম কফির জন্য
আকুল করবে,
বেইমানের মত তখন প্রশ্ন করবে
- "ধরে রাখবি?"
মুখ ঘুরিয়ে অন্ধকারে বলব,
- "যেতে দেবো"

ইতি, ঝিনুক
১৮ই আগস্ট, ২০১৫, কলকাতা




প্রেমিকার ফোন পেলাম
ঝিনুক,
কাল প্রেমিকার সাথে কথা হল অনেকক্ষণ।
যৌন আলাপ, নগ্ন ছবি আদান প্রদান,
আরও কিছু লং ডিস্টেন্স আদিখ্যেতা।
সে ফোনই করে আর-
চিঠি কেবল তুই লিখিস।

জানি, মুখ বুজে থাকবি কিন্তু
আমি হাল ছেড়ে দিচ্ছি ধীরে ধীরে,
যেমন করে লোকে দীর্ঘশ্বাস ছাড়ে।
প্রেমিকা আমায় অনেক কিছু হতে বলে
কিন্তু আমি আর 'আমি' ছাড়া আর কিছুই
হয়ে উঠতে পারি না।

হোঁচট খাব, পরেও যাবো তবু চলা থামাবো না
ওকে যে বড্ড ভালোবাসি।
ও যে রোজ মাঝ রাতে মাথায় সিঁদুর নিয়ে
আমার স্বপ্নে আসে।
কাল রাতে রবীন্দ্রনাথের 'বাঁশীওয়ালা' পড়ছিলাম।
  
সদ্য হামাগুড়ি দিয়ে ভালবাসতে শিখছি,
আমার প্রেমিকা বহুকালের পরিব্রাজিকা।
এক ছুটে চলে যেতে ইচ্ছে করে কিন্তু
আমার যে বড্ড ঘুম পায়,
স্বপ্নে কেবল প্রেমিকাকে দেখতে ইচ্ছে করে-
আবার নতুন কোনও রকম ভাবে।

ইতি, সাগর
২০শে সেপ্টেম্বর, ২০১৫, মুম্বাই

(ক্রমশঃ)













বহ্নিশিখা সরকার
Banhisekha Sarkar

Sunday, June 11, 2017

ভালু : ডাকনামে সমুদ্র

 ভালু

আমরা সবাই জড়ো হয়েছিলাম একটা সর্ষেক্ষেতে। আসলে আগের বছর এখানে সর্ষেচাষ হয়েছিলো। তারপর একবছর আর কিছুই হয়নি। তাও নামটা থেকেই গেছে। আম্মু আর দিভাইকে পাচ্ছিলাম না। ওদের নাকি জঙ্গলের দিকে নিয়ে গেছে। রশিদ এর প্যান্টের দড়িটে খুলে যাচ্ছে। ওর আম্মুকেও নিয়ে গেছে। রশিদ কাঁদছিলো বোকার মত। আব্বু তো বল্লো, একটু বাদেই আম্মু আর দিভাই চলে আসবে। রশিদের আম্মুও। আজ সাত নম্বর রোজা। আব্বুর রোজা ভেঙে গেছে। একবার খারাপ কথা বলেছে আব্বু। বাড়িতে খারাপ কথা বলে না আব্বু। রশিদের এর বাবার মত মাকে মারেও না। রশিদ একবার রাতে ওর আব্বু আম্মু কে কিসব করতে দেখেছিলো। আমার আব্বু আম্মু কেন ওসব করে না? আমি কেন দেখতে পাই না? আম্মুরা এখনো ফিরছে না জঙ্গল থেকে। ওদিক থেকে পচা পচা গন্ধ আসছে। কুকুর পচলে যেমন গন্ধ আসে। আম্মুরা জঙ্গলে কি করছে? ইসস। ওদের সাথে গেলে ভালো হতো। রশিদ আর আমি একবার লুকিয়ে জঙ্গলে গেছিলাম। তারপর আর যাওয়া হয়নি। ওই জঙ্গলে এখন কিরকম সব লোক থাকে। আব্বু বলে, ওরা জওয়ান। ওদের বন্দুক থাকে। রশিদ একবার ওদের কাছে বন্দুক চেয়েছিলো। একটা লোক বলেছিলো, আগে তোর আম্মি কে নিয়ে আয়। রশিদের আম্মি সেদিন রশিদকে খুব মেরেছিলো। কি হতো একবার গিয়ে বললে? বেশ মজা হতো।

আম্মুরা ফিরে এসেছে। সবাই খুব কাঁদছে। ইসস আম্মির গলায় কেমন কালশিটে। আম্মু কাঁদছে। রশিদের মা পেট চেপে মাটিতে শুয়ে। সবাই এসেছে, দিভাই খালি আসে নি। আব্বু ওই লোকগুলোর কাছে গিয়ে কিসব বলছে। ওরা হাসছে। দিভাই কি জঙ্গলে হারিয়ে গেছে? ভালু আছে নাকি ওই জঙ্গলে। দিভাই কে কি ভালু...

দিভাই এর সাথে সাহিন ভাইয়ের শাদি হওয়ার কথা ছিল। দিভাই ছাড়া গ্রামের সবাই ফিরে এসেছে। জঙ্গলের দিক থেকে খুব পচা পচা গন্ধ আসছে। অনেকগুলো কুকুর একসাথে মরে গেলে যেমন গন্ধ আসে আর কি... দিভাই এর একটা ভালু আছে। সাহিন ভাই দিয়েছিলো। লাল রঙের। সেটা জড়িয়ে আজ ঘুমালে নিশ্চয় দিভাই মারবে না।
















ডাকনামে সমুদ্র
Ocean in the name

Thursday, June 8, 2017

পানশালার মনোলগ : অর্ক চট্টোপাধ্যায়

পানশালার মনোলগ

দুপুরের পানশালা। চড়া রোদ বাইরে। মদের থেকেও বেশি রোদের জন্য ভেতরে ঢুকলো হিমাংশু। উইকএন্ডের দুপুর।পানশালায় ভাঁটা। ফাউন্টেন থেকে একটা বিয়ার নিয়ে কোণের ফাঁকা সিঙ্গল টেবিলে গিয়ে বসলো। নীথর শহরতলীর দুপুরে ভেতর-বাইরে এক হয়ে রয়েছে। একদিকের দেওয়াল-টিভিতে ক্রিকেট—অ্যাশেজ সিরিজ, আর অন্যদিকে হর্স রেস ঘিরে কয়েকজন বৃদ্ধের জটলা। অদূরের টেবিলে দুটি মেয়ে কথা বলতে বলতে বিয়ারে চুমুক দিচ্ছে। হিমাংশুর দিকে পিঠ করে যে মেয়েটি বসে আছে তার মুখ দেখতে না পেলেও বাঁ পায়ের হাঁটু অব্দি উঠে আসা কালো চকচকে লং-বুট হাতের সাথে তাল ঠুকে ওঠানামা করছে, কখনো হাঁটুর ঠিক নিচে, কখনো আবার গোড়ালির কাছাকাছি ভাঁজ হয়ে যাচ্ছে। হিমাংশু স্পষ্ট শুনতে পাচ্ছে, কিম্বা দেখতে। মেয়েটির সব কথা তার লং-বুটের সরব ভাঁজগুলোর ভেতর থেকে বেরিয়ে আসছে। কথাগুলো বুজে আসছে ভাঁজ-শব্দে। হিমাংশু বিয়ারে চুমুক দিতে দিতে টেবিলে রাখা সিডনী মর্নিং হেরাল্ডে চোখ দিলো। সংবাদ-শব্দ সরব হয়ে উঠতে লাগলো। মগজে তার দৃশ্যের মৌচাক।
গোটা কাগজ জুড়ে ইউরোপের রিফিউজি ক্রাইসিস নিয়ে রিপোর্ট। সিরিয়া এবং মধ্য প্রাচ্যের নানা দেশ থেকে কাতারে কাতারে লোক জার্মানীতে ঢুকছে। তাদের হাসি-কান্নায় ভাঙা মুখ, কোলে বাচ্চা, খুলে রাখা জুমড চটি জোড়ার ছবি। টার্কির ৩ বছরের আয়্লানের বালিতে গুঁজে থাকা নীথর মুখ। এই ছবিটা শেষ দু-তিনদিন ধরে অনবরত সোশাল মিডিয়ায় ট্রল করছে, দেখেছে হিমাংশু। না, সে শেয়ার করেনি, কোথাও বেঁধেছে, কোথায়, কি, তা ঠিক করে বলা মুশকিল। ফেসবুক টুইটারের এই অবাধ মৃত্যু-মৃত্যু খেলায় এবং জ্ঞান আর নৈতিকতার লড়াইয়ে সচরাচর ঢুকতে ইচ্ছে করে না ওর। পছন্দগুলো ‘লাইক’ হয়ে গেছে, সারাদিন আকাশ থেকে খসে খসে পড়ছে। টার্কির ৩ বছরের শিশু মৃত্যুর বোট থেকে ফটোগ্রাফের আগ্রাসী দৃষ্টির বোটে উঠে সোশাল মিডিয়ার দেওয়ালে দেওয়ালে অনুকম্পা আর বাণীবাণ হয়ে উঠেছে। আয়্লান কি ভাবছে এই সব ট্রলিং নিয়ে? সমুদ্রে কি ট্রলার চলছে এখনো? তার বাবা কি এখনো মরে যাবার কথা বলছেন ইন্টারভিউয়ে? হিমাংশু পাতা উল্টে এগিয়ে চলে। শেষ ক'দিন ধরে অস্ট্রেলিয়ান মিডিয়া তোলপাড় রিফিউজি ইনটেক নিয়ে। 
বর্তমান সরকার লিবারালদের। বছরখানেক ধরেই টনি অ্যাবটের তথাকথিত 'বোট পলিসি' নিয়ে বিতর্ক তুঙ্গে।

Tuesday, June 6, 2017

রোহিণীর সাথে, এই ত্রিশ বত্রিশ বছরে... : দীপ শেখর

রোহিণীর সাথে, এই ত্রিশ বত্রিশ বছরে... 





কাল রাতে লম্পট বৃষ্টিটা পড়লে বুঝলাম
প্রেমের দালালটা আবার ধরবে ধরবে করছে, টাকা চাইবে
চাঁদের জ্বর প্রায় একশো এক, জ্যোৎস্নার ঘরে বাবু নেই
আমি কাল রাতের ঐ নীল শাড়ি পড়া মেয়েটির কাছে আশ্রয় চাইবো, ডাকবো রোহিণী, বেঁচে যাবো।


ভালোবাসা নয়, ভালোবাসার আত্মারাই সবথেকে সহজে ভালোবাসে
এসব বুঝে আমি প্রেমিকের আত্মাটা নিয়ে খানিক নাড়াচাড়া করেছি কাল দুপুরে
আমার পুরনো জীবনকে এখন ট্রাঙ্ক থেকে বার করে নিয়ে আসতে হবে
হৃদয়কে বৃষ্টি ভেজানোর কোনও উপায় জানা আছে কি এ দেশের আইন-ব্যবস্থার?

Saturday, June 3, 2017

মিলিয়ন ডলার নাইটমেয়ার : অদ্বয় চৌধুরী

মিলিয়ন ডলার নাইটমেয়ার

—     চোখ মেলতেই ঝলসানো আলো। চোখ ধাঁধানো। সামনে একটা ভেজানো দরজা। সামান্য এক চিলতে ফাঁক আছে। সেই ফাঁক গলে বেরিয়ে আসছে ওই ঝলসানো আলো। উজ্জ্বল হলুদ। মাঝেমাঝে গেরুয়া ছোপ। দরজার ওপারে একটা বড় ঘর। তার চারিদিকে গনগনে আগুন। তবে তা স্পর্শ করে না আমায়। কিন্তু গরম আঁচ ছুঁয়ে যায়। ঘাম ঝরে। জ্বালা করে— শরীর, চোখ। চোখ দিয়ে জল ঝরে। উপরে, ঘরের ছাদ থেকে, ঝুলছে অসংখ্য মৃতদেহ। মানুষের। মাথা নীচের দিকে, পা উপরে। গোটা শরীরটাই দলা পাকিয়ে ছোট হয়ে গেছে আগুনে পুড়ে। বডিগুলো সবকটাই আগুনে ঝলসানো। বিভৎস চেহারা। কালচে লাল রং। সাদা রঙের এক ডাইনিং টেবিল, নীচে, ঘরের ঠিক মাঝখানে। ঘরের সেই আগুনে-আলো উধাও হয়ে যায়, হঠাৎ। বদলে, সাদা ঝকঝকে আলো ভরিয়ে দেয় ঘর। ভাসিয়ে দেয়। ঘরের উত্তাপও উধাও। বরফ-ঠাণ্ডা স্রোত নেমে যায় শিরদাঁড়া বেয়ে। আমি বসে আছি সেই টেবিলটার এক মাথায়। আমার সামনে একপ্লেট ঝলসানো মাংস। তন্দুরি। আমি ওই কালচে লাল মাংসপিণ্ড খেতে লাগি, ধিরে ধিরে। সেই লম্বা টেবিলের উলটো প্রান্তে একটি অবয়ব ফুটে ওঠে হঠাৎ। আবছা। তারপর ক্রমশ স্পষ্ট হয়ে ওঠে। এক যুবক। স্যুট-টাই পড়া। চোখে চশমা। নিখুঁতভাবে দাড়ি কামানো। স্মার্ট চেহারা। ছেলেটি মাথা নাড়ে আস্তে আস্তে। মনে হয় আমার এই তন্দুরি খাওয়া, তার স্বাদ উপভোগ করা— সবই ও দেখেছে। ঠিক বোঝা যায় না। তখনই সে কথা বলে ওঠে।
—     সো, মিস্টার সিংহানিয়া, এই পার্টিকুলার নাইটমেয়ারটি রেকার করে আপনার ঘুমের মধ্যে? বারবার? প্রতি উইকে তিনবার থেকে ছ’ বার?

সিংহানিয়া বয়স্ক মানুষ। ষাট পেরিয়েছে। ভারী চেহারা। হাত-পা ছেড়ে, চেয়ারে গা এলিয়ে বসে আছে। বরফখণ্ডের মতো ফ্যাকাসে, শুষ্ক, কঠিন মুখচোখ। খানিক ক্লান্তির ছাপ আছে তাতে। টেবিলে রাখা ড্রিঙ্কস-এর গ্লাসের গায়ে ঘরের চিলড্ টেম্পারেচারের ছোঁয়া লেগে রয়েছে। সাদা ভাপ ধরেছে। সামনে বসে থাকা ধোপদুরস্ত ছেলেটা তার থেকে অনেক ছোটো। সিংহানিয়া ভালো করে মাপতে থাকে ছেলেটাকে। তার ছোটো ছোটো কুতকুতে চোখে। এবং তার কথার উত্তর দিতে থাকে। বরফের মতোই ঠাণ্ডা গলায়।
—     ইয়েস, দিস ইজ ইট।
ছেলেটি তার দু হাতের থাবার মধ্যে একটা মোটা ফোল্ডার ধরে রেখেছে। টেবিলের উপরে। সেই ফোল্ডারটা খোলে। ভালো করে দেখে খানিকক্ষণ; উলটে পালটে। ফোল্ডারটা খোলাই থাকে।
—     ডক্টর মুখার্জী রিপোর্ট পাঠিয়েছেন আমাদের অফিসে। আপনি লাস্ট থার্টি থ্রি ইয়ার মোর অর লেস এই স্বপ্নটি— আই মিন, এই দুঃস্বপ্নটি দেখছেন। ফার্স্ট টাইম দেখেন ইন দ্য ইয়ার এইটি ফোর। তারপর আবার বছর দুয়েক বাদে। নাইনটি এইট থেকে আরও একটু ফ্রিক্যোয়েন্ট। বছরে একবার-দুবার। লাস্ট সেভেন অ্যান্ড হাফ ইয়ার রেকারিং পিরিয়ডটা অ্যালার্মিংলি রাইজ করেছে।
চোখদুটো আরও কুঁচকে ছোটো হয়ে যায় সিংহানিয়ার। একটু নড়ে বসে সে। সবকিছু মনে করার চেষ্টা করে বোধহয়। খানিক পরে ঘাড় নেড়ে সায় দেয়।
—     ইয়েস, টু থাউজ্যান্ড নাইন থেকে আই অ্যাম আন্ডার মেডিকেশন। আন্ডার ডক্টর মুখার্জী। তাতে কিছুটা ফল পেয়েছি। সাময়িক। কিন্তু, কিয়োরড হইনি। আসলে, আমার বিজনেস আর এই নাইটমেয়ারটি এক সঙ্গেই বেড়ে উঠেছে।

Wednesday, May 31, 2017

নারী বিদ্বেষ আর তার ভাষা : পুরন্দর ভাট

নারী বিদ্বেষ আর তার ভাষা

সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় নারী বিদ্বেষ নিয়ে একটি ফেসবুক বিতর্কে অংশ নিই এবং সেই বিতর্কে যা যা কথা আর বলা হয়ে ওঠেনি সেগুলো এক জায়গায় করে বলে রাখতে পারলে ভালো হয় - এই মনে করে এই লেখার অবতারণা।
প্রথমেই বলি যে আমি নারীবাদী নই কারণ নারীবাদের পক্ষে বা বিপক্ষে মতামত রাখার মতো যথেষ্ট লেখাপড়া আমার নেই। অনেকেরই ভুলভাল ধারণা আছে যে মহিলা এবং পুরুষকে সমান অধিকারের দাবিদার মনে করা মানেই তা নারীবাদ। এটা একেবারেই নয়, সেরকম হলে তাকে মানবতাবাদ বললেই হয় কারণ মানবতাবাদ সকল মানুষকে সমান অধিকার দেওয়ার কথা বলে, লিঙ্গ নির্বিশেষে। নারীবাদ সমাজে মহিলাদের সমান অধিকার দেওয়ার কথাই বলে তবে তাদের মতবাদ অনুযায়ী সমস্ত অধিকারের লড়াইয়ের কেন্দ্রবিন্দুতে নারী অধিকারের প্রশ্ন থাকা উচিত কারণ নারীর বঞ্চনা মানবসভ্যতার সবচেয়ে আদিম বঞ্চনা। হরেক রকমের নারীবাদ আছে, এমন কি রক্ষণশীল নারীবাদ, ক্রিশ্চান নারীবাদ, ইসলামী নারীবাদ প্রভৃতিও আছে। এসবের কোনটা ঢপ আর কোনটা ঠিকঠাক তাই নিয়ে যথেষ্ট পড়াশুনো না থাকার দরুন কোনো কথা বলা সমীচীন হবে না। তবে সুবিধের বিষয় হলো যে নারী বিদ্বেষ নিয়ে মতামত রাখতে গেলে নারীবাদী হওয়া বা নারীবাদ নিয়ে পড়াশুনো থাকার খুব একটা প্রয়োজন নেই, তা ছাড়াই বক্তব্য রাখা যায়।

Sunday, May 28, 2017

ফাঁকা বরাবর : জ্যোতির্ময় বিশ্বাস

ফাঁকা বরাবর


ক.

আমার আজকাল কিছুই অভ্যাস হচ্ছে না
শেষ হয়েছিলে তুমি

তুমি, শেষ হয়েছিলে।




খ.

যে ফাঁকায় গড়ে উঠলো ঘরবাড়ি
দেহ, পিরীতি, তুমি, তোমরা ইত্যাদি
আমি
সে তীর্থ কি ফেরৎ পাবো!

পাবোনা তো। জানি।



Tuesday, May 23, 2017

তিনটি কবিতা : শানু চৌধুরী

ভাগাড়
হেঁটে যাই পথের বুকে
ভাগাড় দেখে ফেলি চোখের পর্দায়

ময়লা স্তুপে ধ্যানস্থ শিশু
সদ্যোজাত খেলনার ভাঙা টুকরো

অস্বাস্থ্য ব্যাঞ্জো বাজবার পথে
রোজ অজানা উচ্ছিষ্টের  লড়াই

সব্জি কাটা হয় ন্যুব্জ হওয়া ঘরে
উনুনের পাশে জ্বলন্ত পেট

শকুন নেই এই শহরে
ছিনিয়ে নেওয়ার প্রতিদ্বন্দ্বী নালার ভ্রুনে

বুলডোজার লক্ষ ইতিহাস ফেলে
ইতরের দিকে ঝড়ের ইঙ্গিত রেখে যায়



ঘষা কাঁচ
এই ঘষা কাঁচের বর্ডারে
আমাদের বাষ্পের ক্লাস

ধ্রুপদী শব্দের ভিতর হারিয়ে যাই
যখন ছোটদের সিনেমা ভিজে যায়

রাস্তা, স্যাঁতসেঁতে রংরুট
সমস্ত স্বপ্নবাড়ির চুপিসার

আদর করছে শরীর বৃষ্টিকে?

কফিকাপ কতটা দূরে পড়ে আছে
কান্না ভাগাভাগির পর

জানালার  পর্দা ওড়ার নেশায়
যেটুকু নশিন


Sunday, May 21, 2017

তিনটে লেখা : দীপঙ্কর লাল ঝা

ধানচাল
ধান দেবেন, চাল দেবেন
পাখি দেবেন দু একটা
নাম দেবেন শীঘ্র
থালায় মেলে দেবেন কিচিরমিচির
আমার ঘরে বারান্দা নেই, তাই বলে গরম দেবেন না
নখের আওয়াজে বিভোর হই
এমন একটা অসুস্থতা আমারও আছে
কানের ভেতর আমরা ধীরে ধীরে ডিমে তাপ দেবো
মাথা ফুরিয়ে যাবে
আর সেদিকে অল্প অল্প করে মশার উত্তাপ নিতে নিতে
আমাদের হাড় জল হয়ে গেছে
এমন একটা মশলা কেউ এই মুহূর্তে আবিষ্কার করেনা
যাতে একটা সুস্বাদু সুপ হতে পারি,
এই নিয়ে
বালে ছাল, ছালে বাল
কসাই বলেছে, না করতে নেই
ধুকপুক ধুকপুক একটা সূর্য চাই
এসো আচার হয়ে শুয়ে পরি
টকটক নৌকায়।


Tuesday, May 16, 2017

দু'টো ও দুমুঠো - একটি সিরিজ : সুমন সাধু

দু'টো ও দুমুঠো (১)
বিপরীত আদেখলা সব জমি ছেড়ে দিচ্ছে
অবাক দূরন্ত রাস্তায় দাগ কাটছে আদর আদর মাস
আমাদের সবটুকু নিয়ে এই সা রে গা মা,
দিন শেষের ব্যথার কিনার,
যথোপযুক্ত আছে সবই।
সবই নতুন চাদরের আবেশ,
ঠাসা ঠাসা বই সব, উপসর্গহীন সাদা।
সেইখানে শব্দের মলিন জমা হয়;
আমরা বুঝি দু'টো ও দুমুঠো

আমরা এখন অবোধ শিশু
যাপন করি ধুলো।



দু'টো ও দুমুঠো (২)
এই মন্থর গতি আমাদের চিনতে শিখিয়েছে-
টানা টানা লিখে চলা সুদীর্ঘ গদ্য কলম।
সেভাবে রেখো না হাত
এভাবে মেখো না রোদ
 কবিতার হেমন্তগুচ্ছ নিয়ে এসো আমাদের ঘরে
খাদ্য শষ্য বীজ নিয়ে এসো

ঘরোয়া জ্বর বুঝে নিক কোন এক আট বছর।
অথবা আট বছর আগের একদিন
দিনান্তে বাড়ি ফিরব সবাই
অঘ্রাণের ধান ফুটবে আসমানি কোটরে

চলতি পথ ফিরতি ধুলোয়
একে অপরের পরিপূরক হচ্ছে এ যাত্রা।


Sunday, May 14, 2017

কাশ্মীর হামারে হ্যায় : অদ্বয় চৌধুরী

কাশ্মীর হামারে হ্যায়

কাঠের এই বাড়িটা আমাদের খুব পছন্দ। তার অনেক কারণ আছে। আমাদের দু’জনের পক্ষে বেশ বড় আকারের হওয়ার পাশাপাশি বাড়িটা বহু পুরনো হওয়ায় বাপঠাকুরদাদের স্মৃতি বহন করে। আমাদের ছেলেবেলার সমস্ত স্মৃতিও জড়িয়ে আছে এর সঙ্গে। বোন আর আমি এই বাড়িটায় একা একাই থাকি। বাবা, মা, কাকা, ঠাকুরদা, ঠাকুরমা আর নেই। ওরা এসে নিয়ে গেছে ওদের। আমাদের নেয়নি ওরা, কারণ আমরা তখন ছোটো ছিলাম। সেই সমস্ত স্মৃতি এই বাড়িটা ঘিরেই রয়েছে। ওদের আসা, বাবা-মা-কাকাদের চলে যাওয়া, আমাদের থেকে যাওয়া— সব।
আমরা বেশ সকাল সকাল উঠে পড়ি ঘুম থেকে। তারপর ন’টার মধ্যে অল্প খেয়ে আমি বাজারে যাই বোনের বোনা শীতের পোষাক পুঁটলি বেঁধে। সারাদিন সেখানে রাস্তার ধারে পসরা সাজিয়ে সেগুলো বিক্রি করি। দুটো ম্যানিক্যিনকে— একটা ছেলে আর একটা মেয়ে— বিভিন্ন সোয়েটার বা জ্যাকেট পরিয়ে সাজিয়ে রাখি রাস্তার ধারে। লোকের চোখ পড়ে বেশি। যদিও বিক্রি খুব কমই হয় তারপরেও। আমার মতো হাজার হাজার বিক্রেতা রয়েছে ওখানে। তারপর অন্ধকার ও শীত জাঁকিয়ে পড়লে পোষাকের পুঁটলি আর দুটো ম্যানিক্যিনকে ভ্যানে চাপিয়ে বাড়ি ফিরে আসি। বাড়িটা ঝারপোঁছ করে পরিষ্কার রাখা আমার পক্ষে সম্ভব হয় না। বোন সারাদিন বাড়ি থাকে, কিন্তু ওর পক্ষেও সম্ভব না।
বোন কখনো কাউকে বিরক্ত করে না। ও ওর মতো থাকে, কাজ করে। সকালের কাজকর্ম শেষ হয়ে গেলে ও বাকি দিনটা নিজের শোয়ার ঘরে বা নীচের বসার ঘরে উল বুনে কাটিয়ে দেয়। বোন সেই ছোটোবেলাতেই, যখন মা-ঠাকুরমা ছিল, উল বোনা শিখেছিল। তারপর থেকে ও সব সময় দরকারি জিনিসপত্রই বোনে— শীতের সোয়েটার, মোজা, টুপি, মাফলার, শাল, জ্যাকেট এইসব। ও একটু খামখেয়ালি গোছের মেয়ে। কখনো হয়তো ও একটা জ্যাকেট বুনলো, কিন্তু পরের মুহূর্তেই সেটা খুলে ফেলে কারণ সেটার কিছু একটা ওকে খুশি করতে পারেনি। এইসব দেখতে বেশ মজাই লাগে আমার। একগাদা উলের গোছ ওর সেলাইয়ের বাক্সে একটা হেরে যাওয়া যুদ্ধ লড়ে চলেছে স্রেফ কয়েক ঘণ্টার জন্য নিজেদের অস্তিত্ব বজায় রাখার প্রবল ইচ্ছায়।

Saturday, May 13, 2017

তিনটি লেখায় : সুপ্রিয় চন্দ

অবস্থান
ত্রয়োদশীতে কথা খুব অল্প।
খুব আস্তে আস্তে নিঝুম হতে হয় এসময়,
বাইরের লম্বা রাস্তায়
ধীরে ধীরে সেরে উঠছে সমস্ত চাঁদের আলো
         উলটো দিক থেকে ওষুধবদ্যিকে মনে রেখে
কয়েকটা গাছ নিজেদেরকেই বড়ো করে সাজিয়ে তুলছে

ঘটনাগুলো পড়ে থাকছে এই রাস্তাটাতেই
যেটা আমরা দেখলাম এযাবৎ
                     পাশ দিয়েই চলে গেছে সব ধোঁয়া
যে পথে রওনা হয়েছ তুমি



যেটুকু বলা যায়
অস্ত নেমে আসছে    দূরের সব বিচারে
সংশোধনী প্রস্তাবে
সায় দিচ্ছে না কেউ কেউ
ঢলে পড়ছে সূর্য ক্রমশঃ
কোনরকম পাহাড় এখনো পর্যন্ত      অনুপস্থিত
ওপর ওপর হাঁটি
ভেতরে আসি না  আমি বহুদিন
ভেতরটা ভর্তি ছিল এতকাল