Jyotirmoy Shishu

Jyotirmoy Shishu
Showing posts with label Bengali. Show all posts
Showing posts with label Bengali. Show all posts

Sunday, May 21, 2017

তিনটে লেখা : দীপঙ্কর লাল ঝা

ধানচাল
ধান দেবেন, চাল দেবেন
পাখি দেবেন দু একটা
নাম দেবেন শীঘ্র
থালায় মেলে দেবেন কিচিরমিচির
আমার ঘরে বারান্দা নেই, তাই বলে গরম দেবেন না
নখের আওয়াজে বিভোর হই
এমন একটা অসুস্থতা আমারও আছে
কানের ভেতর আমরা ধীরে ধীরে ডিমে তাপ দেবো
মাথা ফুরিয়ে যাবে
আর সেদিকে অল্প অল্প করে মশার উত্তাপ নিতে নিতে
আমাদের হাড় জল হয়ে গেছে
এমন একটা মশলা কেউ এই মুহূর্তে আবিষ্কার করেনা
যাতে একটা সুস্বাদু সুপ হতে পারি,
এই নিয়ে
বালে ছাল, ছালে বাল
কসাই বলেছে, না করতে নেই
ধুকপুক ধুকপুক একটা সূর্য চাই
এসো আচার হয়ে শুয়ে পরি
টকটক নৌকায়।



দুপুর
মাছি মিষ্টির সর খেলে তার ঢেকুর থেকে উঠে আসে দুপুর
রোদে খা খা হয় দুপুর

তারপর নাকে আচারের গন্ধ নিয়ে
দুপুর হেটে চলে যাচ্ছে আলপথে

                     গ্রামের দিকে
                    মৌমাছির পিঠে চড়ে
                    কাঁধে ঝোলানো ডাকনাম।



পাখি আছে, নেই
বুকের ভেতর থেকে একটা আকাশ দেখি
পাখি নেই
পাখি দেখে ছুটে যাওয়া শিশু নেই
যারা মনে রেখেছে একটা জ্বর
ভুলে গেছে কয়েকটা ট্যাবলেট
একটা চা এর কাপের ধোঁয়ায় তারা সূর্য মুছে দেয়
ঠিক যেমন পুরো দেয়ালে একটা ইট না থাকলে
কারো চোখের কথা মনে পড়ে না
আমার কেউ কেউ রাস্তার এপারে দাঁড়িয়ে ছিলাম
তোমরা ওপার থেকে এপারে আসবে বলে
একটা ট্রাম আসতেই আমাদের ও তোমাদের মধ্যে একজন উঠে পড়েছে
একটা প্রশ্ন করছি কিভাবে
সারা বিশ্বের খবর  একটা উস্কোখুস্কো অর্ধনগ্ন
ছোকরা রাস্তায় বিক্রি করে দিতে পারে!












দীপঙ্কর লাল ঝা
Dipankar Lal Jha

Tuesday, May 16, 2017

দু'টো ও দুমুঠো - একটি সিরিজ : সুমন সাধু

দু'টো ও দুমুঠো (১)
বিপরীত আদেখলা সব জমি ছেড়ে দিচ্ছে
অবাক দূরন্ত রাস্তায় দাগ কাটছে আদর আদর মাস
আমাদের সবটুকু নিয়ে এই সা রে গা মা,
দিন শেষের ব্যথার কিনার,
যথোপযুক্ত আছে সবই।
সবই নতুন চাদরের আবেশ,
ঠাসা ঠাসা বই সব, উপসর্গহীন সাদা।
সেইখানে শব্দের মলিন জমা হয়;
আমরা বুঝি দু'টো ও দুমুঠো

আমরা এখন অবোধ শিশু
যাপন করি ধুলো।



দু'টো ও দুমুঠো (২)
এই মন্থর গতি আমাদের চিনতে শিখিয়েছে-
টানা টানা লিখে চলা সুদীর্ঘ গদ্য কলম।
সেভাবে রেখো না হাত
এভাবে মেখো না রোদ
 কবিতার হেমন্তগুচ্ছ নিয়ে এসো আমাদের ঘরে
খাদ্য শষ্য বীজ নিয়ে এসো

ঘরোয়া জ্বর বুঝে নিক কোন এক আট বছর।
অথবা আট বছর আগের একদিন
দিনান্তে বাড়ি ফিরব সবাই
অঘ্রাণের ধান ফুটবে আসমানি কোটরে

চলতি পথ ফিরতি ধুলোয়
একে অপরের পরিপূরক হচ্ছে এ যাত্রা।



দু'টো ও দুমুঠো (৩)
ভুল ব্যস্ততা সম্পর্কিত উদাস ইশারা নিদেনপক্ষে তোমার ঘর, গওহরজান;
ত্রুটি মকুব করে পালানো এক একটা হেরে যাওয়া অথবা ভবঘুরে।

মরুভূমির শুন্যের ভিতর নিয়ম করে পাহাড় বসাই, পাহাড়ে শুষ্ক দেখা
এ দেখার চোখ মেহেরবান না-কে ঘিরে

ঘেরার যে টোপ তাকে উপলক্ষ করে হেঁজিয়ে যাওয়া সানাই ও শঙখে ফুঁ দিয়ে ভাবি,
গত ও আগামীর মরসুমে আমরা এক হয়ে দেখিয়েছি

আজ শুধু দিক্বিদিকের ব্যস্ততা উপুর হয়ে রয়েছে
মুহূর্ত ভেবে ভুল ভাবছি যাকে



দু'টো ও দুমুঠো (৪)
এ জল কখনও কিনারা ছোঁবে। দূরন্ত শ্বাসগন্ধ তরঙ্গে কেঁপে উঠলে কক্ষপথে হেঁটে চলে বেড়ানো সম্ভব। এমতাবস্থায় বন্ধু আড়াল খোঁজে। কেজো আর অকেজোর ফারাক আমাদের এক করে দেয়। ওপারের বন্দিশকে ক্রমশ দেখি শাহাজাদা হয়ে উঠতে। এপারে হয়ে ওঠার নিথর স্বভাব দুজনকেই আক্রান্ত করছে। অফুরান সানাই নিয়ে আমরা কি ভেসে যাচ্ছি? অনেকদিনের জমানো নমুনায়? সকালের দরদিয়া আজও আমাদের ডেকে দেয়।

দু'টো ও দুমুঠো (শেষ)
দিন আনতে পান্তা ফুরোবার আগেই তোমার অমোঘ চাওনি ও ঢিলাজামা কীভাবে আমার হয়ে গেল। অমোঘ ও তার এই একলা বাঁশি তোমায় কখনও ছেড়ে যাবেনা।

তুমি পাখি ওড়া খেলছ। তোমার ধুমজ্বর পান্তাভাত ছুঁয়ে উড়ে যাচ্ছে। আমাদের দু'টো ও দুমুঠো... দুমুঠো ও দু'টো... অথবা ঊর্ধ্বগামী কোন রঙের খোলস














সুমন সাধু

Suman Sadhu

Sunday, May 14, 2017

কাশ্মীর হামারে হ্যায় : অদ্বয় চৌধুরী

কাশ্মীর হামারে হ্যায়

কাঠের এই বাড়িটা আমাদের খুব পছন্দ। তার অনেক কারণ আছে। আমাদের দু’জনের পক্ষে বেশ বড় আকারের হওয়ার পাশাপাশি বাড়িটা বহু পুরনো হওয়ায় বাপঠাকুরদাদের স্মৃতি বহন করে। আমাদের ছেলেবেলার সমস্ত স্মৃতিও জড়িয়ে আছে এর সঙ্গে। বোন আর আমি এই বাড়িটায় একা একাই থাকি। বাবা, মা, কাকা, ঠাকুরদা, ঠাকুরমা আর নেই। ওরা এসে নিয়ে গেছে ওদের। আমাদের নেয়নি ওরা, কারণ আমরা তখন ছোটো ছিলাম। সেই সমস্ত স্মৃতি এই বাড়িটা ঘিরেই রয়েছে। ওদের আসা, বাবা-মা-কাকাদের চলে যাওয়া, আমাদের থেকে যাওয়া— সব।
আমরা বেশ সকাল সকাল উঠে পড়ি ঘুম থেকে। তারপর ন’টার মধ্যে অল্প খেয়ে আমি বাজারে যাই বোনের বোনা শীতের পোষাক পুঁটলি বেঁধে। সারাদিন সেখানে রাস্তার ধারে পসরা সাজিয়ে সেগুলো বিক্রি করি। দুটো ম্যানিক্যিনকে— একটা ছেলে আর একটা মেয়ে— বিভিন্ন সোয়েটার বা জ্যাকেট পরিয়ে সাজিয়ে রাখি রাস্তার ধারে। লোকের চোখ পড়ে বেশি। যদিও বিক্রি খুব কমই হয় তারপরেও। আমার মতো হাজার হাজার বিক্রেতা রয়েছে ওখানে। তারপর অন্ধকার ও শীত জাঁকিয়ে পড়লে পোষাকের পুঁটলি আর দুটো ম্যানিক্যিনকে ভ্যানে চাপিয়ে বাড়ি ফিরে আসি। বাড়িটা ঝারপোঁছ করে পরিষ্কার রাখা আমার পক্ষে সম্ভব হয় না। বোন সারাদিন বাড়ি থাকে, কিন্তু ওর পক্ষেও সম্ভব না।
বোন কখনো কাউকে বিরক্ত করে না। ও ওর মতো থাকে, কাজ করে। সকালের কাজকর্ম শেষ হয়ে গেলে ও বাকি দিনটা নিজের শোয়ার ঘরে বা নীচের বসার ঘরে উল বুনে কাটিয়ে দেয়। বোন সেই ছোটোবেলাতেই, যখন মা-ঠাকুরমা ছিল, উল বোনা শিখেছিল। তারপর থেকে ও সব সময় দরকারি জিনিসপত্রই বোনে— শীতের সোয়েটার, মোজা, টুপি, মাফলার, শাল, জ্যাকেট এইসব। ও একটু খামখেয়ালি গোছের মেয়ে। কখনো হয়তো ও একটা জ্যাকেট বুনলো, কিন্তু পরের মুহূর্তেই সেটা খুলে ফেলে কারণ সেটার কিছু একটা ওকে খুশি করতে পারেনি। এইসব দেখতে বেশ মজাই লাগে আমার। একগাদা উলের গোছ ওর সেলাইয়ের বাক্সে একটা হেরে যাওয়া যুদ্ধ লড়ে চলেছে স্রেফ কয়েক ঘণ্টার জন্য নিজেদের অস্তিত্ব বজায় রাখার প্রবল ইচ্ছায়।
শনিবারে আমি শহরে যাই উল কিনতে। আমার পছন্দের প্রতি বোনের ভরসা প্রচুর। আমার পছন্দের রং নিয়ে সে খুশিই হয় এবং কোনো গোছই কোনোদিন ফেরত দিতে হয়নি। এই শহরে যাওয়ার সুযোগে নিয়ে আমি এলাকার খবর জোগাড় করে আনি। আমাদের বাড়িতে টিভি নেই, ট্রানজিস্টার থাকলেও শোনা হয় না। ইন্টারনেটের তো কোনো প্রশ্নই ওঠে না। এখানে এমনিই প্রচুর বিধিনিষেধ। অনেক কিছুই নিষিদ্ধ। তাই শহর থেকেই খবর সংগ্রহ করতে হয়। আবার কোনো নতুন গণ্ডগোল হচ্ছে কি না আমাদের এখানে, আবার নতুন করে কেউ খুন গুম হল কি না, কেউ খুন হল কি না— এই সব খবর সংগ্রহ করি। খবরে অবশ্য কোনো পরিবর্তন ঘটে না। গণ্ডগোল লেগেই থাকে এখানে।
তবে আমি গণ্ডগোল নিয়ে কথা বলতে চাই না। আমার ভয় করে। আমি শুধু বাড়িটা সম্বন্ধে কথা বলতে চাই— বাড়ি আর বোন সম্বন্ধে। আমি ভাবি একদিন বোনের বিয়ে দিতে হবে। ওর তো একটা ভবিষ্যৎ আছে। উল বোনা ছাড়া বোন আর কিছু করে কি? একদিন হঠাৎ আবিষ্কার করলাম ঘরের আলমারিটা বিভিন্ন রঙের উলের পোষাকে ঠাসা রয়েছে। প্রচণ্ড সোঁদা গন্ধের মধ্যে স্তুপ করা রয়েছে ওগুলো, স্যাঁতসেঁতে অবস্থায়। এতো পোষাক বুনেছে এর মধ্যে বোন? এটা ঠিক যে আমাদের জীবনধারণের জন্য উপার্জন করতে হয়, এবং উপার্জনের জন্যে উল বুনতে হয় বোনকে। কিন্তু এতো পরিশ্রম করলে ওর চেহারায় তার ছাপ পড়বে, ওর বিয়ে দেওয়া মুশকিল হয়ে উঠবে। আমার ঘণ্টার পর ঘণ্টা কেটে যায় বোনকে নিয়ে ভাবতে ভাবতে আর ওকে দেখতে দেখতে। ওর হাতদুটো রুপালী মৎস্যকন্যার মতো, উলের কাঁটাগুলো ঝকঝক করে, আর একটা কি দুটো সেলাইঝুড়ি মেঝেতে রাখা থাকে, সুতোর গুলিগুলো লাফিয়ে বেড়ায় এদিক ওদিক। দারুণ দেখতে লাগে।
আমাদের বাড়িটা— যদিও পুরনো, ক্ষতবিক্ষত— কিন্তু পপলার গাছের জঙ্গলের মধ্যে হওয়ায় দূর থেকে দেখতে বেশ ভালই লাগে। সবুজ জঙ্গলের মধ্যে সাদা রঙের কাঠের বাড়ি, মাথার বর্ডারটা লাল রং। যদিও রং উঠে গেছে, সাদা রঙে কালো কালো ছোপ ধরেছে, তবে সৌন্দর্যের ছাপ এখনো স্পষ্ট ধরা পড়ে চেহারায়। আমাদের বাড়িটা দো’তলা। একতলায় সামনের দিকে ছোট্টো বসার ঘর, যার জানলাগুলো অবশ্য ভেঙে ভেঙে গেছে। বিভিন্ন আসবাব চাপা দিয়ে রাখা হয়েছে জানলাগুলোকে। তবে দরজাটা আস্ত আছে, এবং শক্তও আছে। দেওয়ালে অনেক গর্ত। বুলেট লেগে ফুটো হয়ে গেলে যেমন হয় সেরকম। বসার ঘরের পিছন দিকে রান্নাঘর আর কলঘর। কলঘরের পিছন দিকে একটা দরজা আছে বাইরে যাওয়ার— বাড়ির বাইরে যাওয়ার। এই দরজাটা পুরোপুরি ভেঙে গেছে। কোনোরকমে কাঠের পাল্লাগুলো ঠেকনা দিয়ে রাখা আছে। তাও ফাঁক গলে ভিতরে ঢুকে আসা যায়। নেহাত এটা বাড়ির পিছন দিক, এবং এর ঠিক পরেই পপলার গাছের ঘন জঙ্গল শুরু হয়ে গেছে বলে এদিকে লোকেরা আসে না। কিন্তু কেউ এলেই দেখতে পাবে ভাঙা দরজাটা। তারা ভিতরে ঢুকে এলে আমাদের কিচ্ছু করার নেই। তবে বসার ঘর থেকে কলঘরে যাওয়ার মাঝে একটা দরজা আছে। সেটা দুর্বল হলেও আস্ত আছে।
বসার ঘরের মধ্যে দিয়েই উপরে ওঠার সিঁড়ি। ফায়ার প্লেসের পাশ দিয়ে। সিঁড়ি দিয়ে উঠেই ডান দিকে, নীচের কলঘরের ঠিক মাথায়, স্নানঘর। এই স্নানঘরের পিছনে একটা দরজা আছে যেটা থেকে একটা মই লাগানো আছে নীচ পর্যন্ত। ওই মই দিয়ে নামলেই পপলার গাছের ঘন জঙ্গল। এই মইটা আজ অবধি ব্যবহার হতে দেখিনি আমি। সিঁড়ি দিয়ে উঠে সামনেই পাশাপাশি দুটো ঘর। আমরা দুজনে থাকি তাতে। আমাদের ঘরগুলো ছোটো, কিন্তু ভালো। সবথেকে ভালো হল ছাদের কয়েকটা ফুটো। বসার ঘরের দেওয়ালের বুলেটের গর্তের মতোই। এই ফুটোগুলো দিয়ে দিনের বেলা রোদ পড়ে মেঝেতে। মনে হয় স্পটলাইট ফেলছে ওরা আমাদের খুঁজতে। আর রাতের বেলা তারা দেখা যায়। মনে হয় অন্ধকারে ওরা যেন ওই ফুটোগুলোতে চোখ রেখে আমাদের দেখছে।
সেদিন রাতের কথা স্পষ্ট মনে আছে আমার। সেদিন খুব ঠাণ্ডা পড়েছিল। রাতে বরফ পড়বে নিশ্চিৎ। ডিনার হয়ে গেছে। বসার ঘরে বোন বসে বসে একটা মাফলার বুনছে। কালো-গোলাপি চেক-চেক। আমি অনেক দিন বাদে ট্রানজিস্টার শোনার চেষ্টা করছিলাম। প্রায় এক যুগ বাদে। এর আগে কবে শুনেছি মনেই পড়ে না। হয়তো কোনোদিন শুনিইনি। হাতে ট্রানজিস্টারটা নিয়ে চ্যানেল ধরার চেষ্টা করছিলাম। এখানে শুধু একটা চ্যানেলই আসে, বাকি সব বন্ধ। কিন্তু কিছুতেই ধরতে পারছিলাম না। খুব শীত করছিল আমার। শোয়ার আগে আর একবার নুন চা খাবো ভেবে ট্রানজিস্টারটা নিয়েই রান্নাঘরে যাচ্ছি। বসার ঘর আর রান্নাঘরের মাঝের দরজাটার কাছে যেতেই অনেকগুলো ভারী বুটের শব্দ ভেসে এল। সঙ্গে কিছু কথা, তবে অস্পষ্ট, হিসহিসে। বোনও শুনতে পেয়েছে শব্দগুলো। ও লাফ দিয়ে আমার পাশে এসে দাঁড়ায়।
—     দাদা, শুনতে পাচ্ছিস?
—     হ্যাঁ।
—     কলঘরের দরজাটা দিয়ে ঢুকেছে?
—     তাই হবে হয়তো।
—     ওরা তাহলে এসেই গেল?
—     হ্যাঁ।
—     এবার কি হবে আমাদের?
বোনের প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার আগেই ওই অদৃশ্য স্বরগুলো আরও খানিক স্পষ্ট হয়ে ওঠে। মনে হয় আরও কাছে চলে এসেছে। আমি বোনকে খানিক ধাক্কা মেরে সরিয়ে রান্নাঘর আর বসার ঘরের মাঝের দরজাটা সজোরে বন্ধ করে দিই এপাশ থেকে। আমার এই বেমক্কা নড়াচড়ায় হাত থেকে ট্রানজিস্টারটা পড়ে গিয়ে বন্ধ হয়ে যায়। আমার ধাক্কায় বোনের হাত থেকে উলের গোলাদুটোও পড়ে গিয়ে গড়িয়ে রান্নাঘরের দিকে চলে যায় এবং সেই অবস্থাতেই দরজাটা বন্ধ করে দিই আমি। ওই গোলাদুটো আর কোনোদিন পাওয়া যাবে না। ওগুলোও চলে গেল। আমাদের রান্নাঘর আর কলঘর ওরা দখল করে নিল।
রান্নাঘর আর কলঘরে যাওয়া বন্ধ হয়ে গেল আমাদের। উপরে একটা কলঘর আছে, অসুবিধে নেই। কিন্তু রান্নাঘরটা ওদের দখলে চলে গিয়ে খুব মুশকিল হয়ে গেছে। উপরেই ঘরের মধ্যে একটা ছোটো স্টোভ জ্বেলে কোনোরকমে খানিক রান্না করা হয়। কিন্তু তাতে তো আর লাভাসা বা শীরমাল বানানো যায় না! কিন্তু কিছুই করার নেই আমাদের। ওদিকে ট্রানজিস্টারটা সেদিন পড়ে গিয়ে খারাপ হয়ে গেছে। আর চলছে না। রান্নাঘরের ওদিক থেকে আর কোনো শব্দও অবশ্য কানে আসেনি এর মধ্যে। ওরা আমাদের বাড়ির পিছনের দিকটা দখল করেই মনে হয় ক্ষান্ত দিলো। অবশ্য বলা যায় না। কবে আবার অন্য কি করে বসে! সেই ভয়ে রাতে আমি আর ঘুমাতে পারি না। ইদানীং শোয়ার ঘরের ছাদের ফুঁটোগুলো দিয়ে তারা দেখা গেলে আমি শিউরে উঠি। ঘরের মধ্যে থাকতে পারি না। সিঁড়ির সামনেটায় পায়চারি করি। পাশের ঘরে বোন ঘুমায়। ঘুমালে ওর নাকে এক অদ্ভুত শোঁ শোঁ শব্দ হয়। ছোটোবেলা থেকেই ওর সর্দির ধাত। আমার অসহ্য লাগে ওই শব্দ। কোনো নিষ্প্রাণ বস্তু থেকে ভেসে আসা কোনো শব্দই আমি সহ্য করতে পারি না। সে বন্দুক হোক বা ট্রানজিস্টার। এমনকি ঘুমন্ত মানুষের নাক ডাকাও। ঘুমন্ত মানুষও তো প্রাণহীনই বটে! আমিও এই শব্দ শুনতেই পেতাম না যদি আমি ঘুমোতাম এখন। জেগে আছি, বেঁচে আছি, তাই শুনতে পাচ্ছি। বেশিক্ষণ কোনো নিষ্প্রাণ বস্তু থেকে বেরনো শব্দ শুনলে মনে হয় আমিও প্রাণহীন হয়ে পড়ছি। ঠিক যেন ম্যানিক্যিন— অবিকল মানুষের মতো দেখতে, অথচ প্রাণহীন।
সেদিনও রাতে একইভাবে আমি পায়চারি করছিলাম সিঁড়ির সামনেটায়। বোনের ঘর থেকে অদ্ভুত শোঁ শোঁ শব্দ বেরোচ্ছিল। কি মনে হল ট্রানজিস্টারটা চালু করলাম। সেদিনই ওটা সারিয়ে এনেছি বাজার থেকে। সবে সেই একমাত্র যে চ্যানেলটা আসে সেটা ধরতে যাব, এর মধ্যেই সেই ভারী বুটের শব্দ শোনা যায় আবার। সেইদিনের মতো। অনেকগুলো বুট। এবং হিসহিস করে বলতে থাকা অস্পষ্ট কিছু কথা। এবারে কিন্তু রান্নাঘর থেকে আসছে না সেই শব্দ। নীচের বসার ঘর থেকে আসছে। তার মানে ওরা আমাদের বাড়ির সামনের দিকটাও দখল করে নিয়েছে! এবার যেকোনো মুহূর্তে উপরে উঠে আসবে সিঁড়ি দিয়ে! আমাদের কাছে চলে আসবে! হাতে এক মুহূর্তও সময় নেই। এক ঝটকায় ট্রানজিস্টারটা ফেলে দিই। ওটা গড়িয়ে গিয়ে পড়ে সিঁড়িতে। সেই অবস্থাতেই চলতে থাকে। আমি এক ধাক্কায় বোনের ঘরের দরজা খুলে ঘুমন্ত ম্যানিক্যিনের মতো নিষ্প্রাণ বোনকে কাঁধে তুলে নিয়ে উপরের কলঘরের পিছনের দরজাটা খুলে মই বেয়ে নামতে থাকি নীচে, পিছনের পপলার জঙ্গলের দিকটায়। দূরে, সিঁড়ি থেকে তখনও অস্পষ্ট কথা ভেসে আসছে, আর ভেসে আসছে বুটের শব্দ। ওরা উঠে আসছে উপরে আমাদের এলাকা দখল করবে বলে। গোটা বাড়িটাই দখল করবে বলে। আমি যখন থামি ওরা তখন আমাদের বাড়ির মধ্যে, আর আমরা আমাদের বাড়ির বাইরে— জঙ্গলে। এই জঙ্গলের মধ্যে সাধারণত কেউ আসে না। কেউ আমাদের খুঁজে পাবে না। কিন্তু তখনও নিস্তব্ধ রাতে দূর থেকে শব্দ ভেসে আসে— ভারী বুটের আর হিসহিসে কথার। বন্দুকের শব্দও কি ভেসে আসে দূর থেকে? আমাদের দখল হয়ে যাওয়া বাড়ি থেকে? বুঝে উঠতে পারি না আর। ওই সমস্ত শব্দে আমার মনে হতে থাকে আমি যেন সাড় হারিয়ে ফেলছি। ক্রমশ প্রাণহীন হয়ে পড়ছি। পপলার গাছের পাতায় ঢাকা পড়ে যাওয়ায় এখানে আর আকাশ দেখা যায় না। কেউ আর এখানে আমাদের উপর নজর রাখতে পারে না। কেউ দেখতে পায় না।
কেউ যদি কোনোদিন ওই পুরনো, দখল হারিয়ে ফেলা বাড়িটার পিছনের ঘন পপলার জঙ্গলে যায়, দেখতে পাবে দুটো ম্যানিক্যিন উপুড় হয়ে পড়ে আছে মাটিতে— একটা ছেলের আর একটা মেয়ের— আর তাদের পায়ে নয়, একেবারে পিঠের বাঁ দিকে দুটো ফুঁটো যা থেকে কালো শক্ত হয়ে বসে যাওয়া কিছু একটা তরল পদার্থ গড়িয়ে পড়েছিল কোনো এক কালে।

[‘কাশ্মীর হামারে হ্যায়’ গল্পটির মাধ্যমে হুলিও কোর্তাসার-এর ‘হাউস টেকেন ওভার’ গল্পটিকে ‘দখল’ করা হয়েছে। গল্পটির কাঠামো, অনুপ্রেরণা সবকিছুই হল কোর্তাসার-এর। মূল গল্পটির বিনির্মাণের পরে বাকি যদি কিছু পরে থাকে তা আমার। – লেখক]


অদ্বয় চৌধুরী

Adway Chowdhury

Saturday, May 13, 2017

তিনটি লেখায় : সুপ্রিয় চন্দ

অবস্থান
ত্রয়োদশীতে কথা খুব অল্প।
খুব আস্তে আস্তে নিঝুম হতে হয় এসময়,
বাইরের লম্বা রাস্তায়
ধীরে ধীরে সেরে উঠছে সমস্ত চাঁদের আলো
         উলটো দিক থেকে ওষুধবদ্যিকে মনে রেখে
কয়েকটা গাছ নিজেদেরকেই বড়ো করে সাজিয়ে তুলছে

ঘটনাগুলো পড়ে থাকছে এই রাস্তাটাতেই
যেটা আমরা দেখলাম এযাবৎ
                     পাশ দিয়েই চলে গেছে সব ধোঁয়া
যে পথে রওনা হয়েছ তুমি



যেটুকু বলা যায়
অস্ত নেমে আসছে    দূরের সব বিচারে
সংশোধনী প্রস্তাবে
সায় দিচ্ছে না কেউ কেউ
ঢলে পড়ছে সূর্য ক্রমশঃ
কোনরকম পাহাড় এখনো পর্যন্ত      অনুপস্থিত
ওপর ওপর হাঁটি
ভেতরে আসি না  আমি বহুদিন
ভেতরটা ভর্তি ছিল এতকাল



যেটুকু রয়ে গেল
গোধূলি পার করে ভিজিয়ে নিচ্ছো চুল
কবেকার কোলকাতার মতো --
নতুন হয়ে পড়ছো বারবার
নিশ্বাস এর যতটুকু দেখা যায়.   আচমকায়
ততটুকুই রং হয়ে গড়িয়ে পড়ে পোশাকে
শীতকাল শেষ হয়
গণনার ভয়ে তারারা নামিয়ে নিয়েছে আবডাল
জন্মদিন আর ঘুমিয়ে ওঠার মাঝে
যেভাবে সময় থাকে      হাসিখুশি
সেভাবেই থেকো চিরকাল












সুপ্রিয় চন্দ

Supriya Chanda

Monday, May 8, 2017

চারটি কবিতা : অরিন্দম ভাদুড়ি

হিংসে
শিরশিরানি হাওয়ায় সোয়েটার খোলা শীত-
হগ মার্কেটের সামনে হরেক সামগ্রীর সওদা!
খেলনা, আমি, আবেগ...
খরিদ্দার তুই আর বসন্ত।

চেনা মোমোর দোকান শেষে গুঁড়ো দুধের কফি,
ভিখারীর আশীর্বাদে হাসিমুখ, সেলফি!

চারিদিকে ছড়িয়ে থাকা জোড়ায় জোড়ায় অভিশাপ-
‘বাজ পড়ুক এই বসন্তে’


Saturday, May 6, 2017

সত্যম ভট্টাচার্য-এর কয়েকটি কবিতা

কয়েকটি কবিতা

এক।
লোকটার কোন স্বপ্ন ছিল না। শুধু বালির পর বালি আর চড়ার পর চড়া। সবাই বলে নদী কোথায় নদী? পদচিহ্ন চলে গেছে নিরুদ্দেশের দিকে। ভাঙ্গা নাও তার...


দুই।
কিছু অচেনা পাখি এসে বসেছে জলার ধারে। কোন দেশ থেকে উড়ে তারা এসেছে জানেনা কেউ। সমস্ত সম্পর্কেরই হয়তো একটি নির্দিষ্ট গতিপথ থাকে। কে তাকে আটকাবে বলো? পুরোনো প্রেমিকার কথা ভাসছে নদীর জলে...


Thursday, April 27, 2017

পুরো – পুরী (৬-৯) : শুভ আঢ্য

পুরো – পুরী

চুরি হওয়া পার্সে লোকটাই, একটা ছুটির স্টল

সেই দিনেকানা লোকটার
সমুদ্র মানে সন্ধের ভাজামাছ আর দারু

চানে উঠে আসছে একটা জেডব্ল্যাক থ্রি কোয়ার্টার
আর হলদে টপ, মেয়েটা সাসপেন্স লেখার সময়
চুলে বালি নিয়ে পুরে দিচ্ছে পরকীয়া,
ফরেন লিকারে

তার পর যা হয়!

বন্ধের পর কথা, দাওয়ার পর খাওয়া

একটা বিবাহিত মহিলা হিতাহিত জ্ঞানশূন্য হয়ে
প্রেমের কথা ভাবছে আরেকটা
অন্তর্কলহের পর ঠাণ্ডা হওয়া চিকেনের
লেগপিস দেখতে দেখতে, চোখ হচ্ছে লোকটার
গ্রেনেড আসার সময় বিচ জুড়ে অ্যাচিভমেন্ট

ব্যর্থকাম কাঁকড়া আরেকটা
ফাইটের জন্য তৈরী হবার আগেই
বুকে লাগা যুদ্ধফুল, শান্তি পাচ্ছে



আমি দেখতে পাচ্ছি মিউট হয়ে যাওয়া
একতা পরিবার পালন করছে ছুটি
সেখানে বারমুডাগুলো ঘোরাঘুরি করছে পাড় বরাবর

একটা ঘরের বউ সবেমাত্র প্যালাজো পরে
রাস্তায় নামল হাত থেকে শাঁখা মুছে
পরস্ত্রী দেখে চোখ জন্মাচ্ছে গৃহস্থের আর
আমিষফুলে জেগে উঠছে হোটেল বিছানা

আমি দেখতে পাচ্ছি সেই বউ চান করার সময়
ভুলে যাচ্ছে মাসিকের কথা, রান্নাচড়ানো ওপেন কিচেন

আর সমুদ্র মনে করিয়ে দিচ্ছে তার বাবাও
তার মাকে নিয়ে সাতাত্তরের মার্চে
করেছিল এমনটাই


Wednesday, April 26, 2017

সেলুন এবং স্বাধীনতা দিবস - রঙ্গন রায়

সেলুন এবং স্বাধীনতা দিবস

প্রথম দৃশ্য
চোচা চলে এসে দাঁড় করালাম সাইকেল। ফাঁকা বসে আছে রামদা। রামদা কোনদিন হাতে 'রামদা' তুলে এগিয়ে এলেও ওকে মানাবে না। সবাইকে সবকিছু মানায়না। এবার প্রস্তুতিপর্ব শেষ। চেয়ারের হাতলে গদির চামড়ার ফাটল বরাবর বেরিয়ে এসেছে হলুদ রঙের স্পঞ্জ, চশমাটা খুলে বসতে গিয়েই চোখে পড়লো সেই স্পঞ্জের গায়ে লেগে আছে কিছু গুড়িগুড়ি চুল। চশমা খুললে অনেক কিছু দেখা যায় এমন একটা কথা মাথায় চিন্তা করতে করতে 'ঝুপ' করে ভুলে গেলাম আমার সাইকেল চলাকালীন মানসিক প্র্যাকটিসের কথা। কি কাটিংয়ে চুলটা কাটতে দেব। কি কাটিংয়ে চুলটা কাটতে দেব?

দ্বিতীয় দৃশ্য
অগত্যা রামদা ছিটিয়ে দিল জলের স্প্রে। তারপর চিরুনি - কাঁচি। আমার ঝরে পড়া চুলগুলোর আনুমানিক বয়স ১৩ বছর্। ১৩ তো আনলাকি বরাবর? জলের চাপে জমাট বাঁধা টুকরো টুকরো চুলের গোছা পড়ে আমার সাময়িকভাবে পাওয়া সাদা রঙের অ্যাপ্রনটা কালচে হয়ে যাচ্ছে। অনেকক্ষণ ধরে নিজেকে পর্যবেক্ষণ করার মোক্ষম সময় এই চুল কাটার দিনগুলি। চোখের তলে কালি পড়েছে, গালে একটা ব্রণ, থুতনির কাছে একটা ছোট্ট তিল, চোখের কোনে এখনো কাতর রয়ে গেছে... শেভিঙ ক্রিমের দাপটে আমার মুখটা এবার ভরে উঠলো। অত্যন্ত নিখুঁত শিল্পীর মত ব্রণ বাঁচিয়ে ক্ষুর চালাচ্ছে রামদা। হাত একটু কাঁপছে কি? ক্ষুর গলায় নেমে এলো। ফেনা গুলো হাতের চেটোয় জমিয়ে রাখছে রামদা। আবার হাত চালাচ্ছে, এত কাঁপছে যে আমার সমস্ত কিছু কেঁপে উঠছে। আর এই কাঁপুনিতে আমার করোটির সমস্ত ঘিলু কুলকুল করে মনে করিয়ে দিলো আমার ভেবে আসা চুলের কাটিং টা, কিন্তু ততক্ষণে আমার চুলের জন্মান্তর শুরু হয়ে গিয়েছে। হাতের চেটোয় জমিয়ে রাখা ফেনায় দাড়ির অংশবিশেষ লক্ষ্য করতে করতে রামদা সেটা চেঁছে রেখে দিচ্ছে একটা ক্রিমের কৌটোর মুটকিতে। ফিটকিরিতে যে কয়েকটা ছোটছোট দাড়ির কুচি তা আমার গালের স্পর্শে চিড়বিড় করে উঠলো, ঠিক তখনই সকালের স্বচ্ছ সেলুনে দ্বিতীয় কাস্টোমারের প্রবেশ।

Saturday, April 22, 2017

তুসা কথক-এর কিছু ভাবনা

তুসা কথক-এর কিছু ভাবনা

তোমার ভেতর থেকে চুরি যাচ্ছে আলোকপ্রাপ্তির রোদ,
বিকেল ভ্রমণে তোমার সম্ভ্রান্ত মগজ বেচে দিচ্ছে ধূর্ত বনিকেরা।

হে মানুষ,
হে পুরাকীর্তির চুরি যাওয়া ইট,
স্বপ্নের অপভ্রংশ, মায়াময় ভ্রান্তি,
কিশোরের মৈথুন শেষের অনুশোচনা,
হে পাপ, হে শাপ,
হে আদমের নিরাশ উপাসনা,
তোমারে অভিশাপ —
তুমি বুড়িগঙ্গার মতো কিংবদন্তী হও,
তোমার জীর্ণ শরীরে ছড়িয়ে পড়ুক অসুখের আরাধনা।

আমি তোমাকে ঘৃণা করি,
শিষ দেই, হেসে ফেলি,
হে শুয়োরের অপ্রকাশিত ক্রোধ,
কিংবদন্তীর ভারবাহী গাধা,
তুমি মরে যাও —
পৃথিবীর হৃদপিণ্ডে ক্রুশবিদ্ধ হয়ে থাকো তুমি অনন্ত বছর।

তোমার হৃদয় পৃথিবীর মাণচিত্রের মতো টুকরো টুকরো হয়ে গেছে,
পাকস্থলী হজম করে নিয়েছে তোমার অনাগত সন্তান,
তুমি বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছো —
মানুষের থেকে তুমি বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছো,
তোমার জন্য প্রেম নয়,
তোমার জন্য মাতৃস্নেহ নয়,
অভিশাপ —
তুমি প্রেমিকার ঋতুস্রাবের মতো আটকে পড়ো সময়ের সুড়ঙ্গে,
তুমি ব্যর্থবীর্যের মতো শুকিয়ে যাও মহাশূন্যের মলাট থেকে মলাটে।

হে মানুষ,
হে বিপর্যয়ের কক্ষপথে আটকে পড়া প্রেতাত্মা,
বহিষ্কৃতের বিলাপ, অপলাপ, সন্তাপ
গোলকধাঁধার নির্জনতম সত্তা।

হে স্বর্গ থেকে নির্বাসিত যুদ্ধবন্দী
হে ক্ষুধার্ত, হে পাকস্থলী,
কোন সভ্যতাই নির্মান করনি তুমি,
গল্পের বুণন ছাড়া —
নারীর স্বপ্নকে গর্ভবতী করা ছাড়া,
ধ্বংস ছাড়া — মৃত্যু ছাড়া,
আর কোন পরিণতি নেই তোমার,
এবার তুমি হারিয়ে যাও
নীল নদের গর্ভের ভেতর লীন হয়ে যাও,
মহাপ্লাবনে তোমার জাহাজ গিলে নিক রূপকথার মাছেরা।

হে মানুষ, হে তুসা,
তোমার ভেতর থেকে চুরি যাচ্ছে আলোকপ্রাপ্তির রোদ,
বিকেল ভ্রমণে তোমার সম্ভ্রান্ত মগজ বেচে দিচ্ছে ধূর্ত বনিকেরা।

পহেলা বৈশাখ/ ১৪২৪
















তুসা কথক
Tusa

Wednesday, April 19, 2017

দুটি লেখা নিয়ে এসেছেন : নীলাব্জ চক্রবর্তী

স্বীকৃতি
সংবেদনশীলতা নামের একটা বাক্সের ভেতর বসে আমরা লক্ষ করছি দিন কীভাবে ছোট হয়ে আসছে। হাতে ধরে রাখা চ্যাপ্টা, চৌকো, ধাতব খণ্ডটা, যার নাম সময়, গলে পড়ছে বাঁকানো লরেল পাতার ফাঁকে ফাঁকে। স্বীকৃতি শব্দটার গায়ে কিছু শীত জমে থাকছে এভাবে। নীল ভাঙতে ভাঙতে দীর্ঘ বাক্য হয়ে যাচ্ছে কেউ। এরকম দিনে নিষ্ঠুরতা পেয়ে বসে। চেইন রিঅ্যাকশন। জটিলতার মধ্যে ওইটুকুই সিমেট্রি রেখে দেওয়া হয়েছে। ফলে, মরশুম জুড়ে দ্রুত হয় এক-একটা অক্ষর। বালিশে চাপা পড়ে থাকলো যে দুপুর, তার স্পর্ধা, একটা রঙ হয়ে। জল সরে যাওয়া লবণপ্রণালীর কথা ভাবো। মনে তার যেটুকু রেখেছো মাংসক্ষেতের ভেতর কুচো কুচো কবিতাভাবনা রেখেছো...



আপনার কবিতাকে জীবাণুমুক্ত রাখুন
এখন দ্বিধা বলতে টানেলের ভেতর যেটুকু রোদ। অন্য কারো ডুয়াল সিমে আপনার বেলা পড়ে আসছে কোথাও। পছন্দ করছে বুনো পাথরের গায়ে পার্পল ছোপ ধরতে থাকা কম্যুনিকেশন। পছন্দ করছে আলগা যৌনতা। ভাষার সবটায় তখন কাঁচ ছড়ানো। স্থিতির ভেতর খুব ছুটতে ছুটতে ভাবছি প্রাপ্তি শব্দটার মানেটা ঠিক কী। লক্ষ করুন, কেমন ফুলে উঠছে রাস্তাটার গ্রীষ্মকালীন নাম। আপনার কবিতাকে জীবাণুমুক্ত রাখুন। ভাবুন, উদ্ভিন্ন একটি বিশেষ অঞ্চলের নাম। তার ছোটবড়ো ছায়ারা শব্দ করে ‘তদনুরূপ, তদনুরূপ’। এভাবে স্তনকে দুপুর লিখি আর খুলে রাখি স্নায়ুদের জলপথ। সিনট্যাক্স ছিঁড়ে ফ্যালাও আরেকটা সিনট্যাক্স…













নীলাব্জ চক্রবর্তী

Nilabja Chakrabarti

Monday, April 17, 2017

বাপি গাইন-এর : দু এক পশলা চিন্তাসূত্র

দু এক পশলা চিন্তাসূত্র


কতরকম বিষই তো এই দেহ গ্রহন করেছে
এই একটুকরো মেঘ আর কতটাই বা মরুভূমি নেবে


অনিশ্চিত এই জীবনের একমাত্র নিশ্চয়তা মৃত্যু। এমন এক বিশ্বস্ত বুক, এমন এক আলিঙ্গন যা একমুহুর্তের জন্যও স্পর্শ ত্যাগ করবে না। এই চরিত্রকেই আমরা খুঁজি প্রেমিকার ভেতরে, প্রেমিকের ভেতরে অর্থাৎ আমরা তোমার ভেতরে মৃত্যুকে খুঁজি প্রতিমুহুর্তে, জীবন খুঁজি না কখনও।


অর্ধমৃত ফুল দিয়ে ঘর সাজাবার আগে, আমি চাই ফুলগুলো গাছেই শুকিয়ে যাক। অন্ধকার হয়ে আছে এমন অনেক গাছ দেখেছি দিনের বেলায়। যেন কেউ শুভেচ্ছা অনুবাদ করতে পারেনি আর শুধু শুধু সাদা পৃষ্ঠা নষ্ট করে গেছে।
তোমাকে ভালোবাসা বোঝাতে গিয়ে তাই গাছ ছাড়া আর কোনো প্রতিনিধি পাইনা। হাঁটাপথে সে বহুদিন থেকে তোমাকে মুগ্ধ করেছে। এতো এতো মুগ্ধতা সামলাতে না পেরে তুমি তার ছোটো একটা হাত ভেঙে টেবিলে রেখেছ। টেবিলের ওপর হাতভর্তি ফুল, মৃত্যুর দিকে দৌড়ে যাওয়া ফুল। ঘর আলো হয়ে আছে, পবিত্র এক গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে মৃত্যুর শরীর থেকে তোমার স্নায়ু পর্যন্ত। তুমি এককাপ চা নিয়ে এই সৌন্দর্য্য সহ্য করছো বিকেলের আলোয়। ওদিকে যার গেছে তার বেদনা ফোঁটা ফোঁটা ঝরে পড়ছে রাস্তার ধুলোয়। এইপথে কাল আবার তুমি টিউশনে যাবে আর দেখবে ভাঙা ডালের পাশে এখনও অনেক ডাল। এখনও যথেষ্ট ফুল। তোমার মুগ্ধতা আগের মতোই তোমাকে মৃত্যুর প্রতি অন্ধ করে রেখেছে।

Saturday, April 15, 2017

দ্রিম দ্রিম ৪ | ম্যাগনোলিয়া, রেড ওয়াইন অ্যান্ড চীজ : দোয়েলপাখি দাশগুপ্ত

দ্রিম দ্রিম ৪ ম্যাগনোলিয়া, রেড ওয়াইন অ্যান্ড চীজ
আস্তাবলের দিকটা না। ম্যাগনোলিয়া ছিল এদিকটায়। গ্লেনারিজ, কেভেন্টারস ছাড়িয়ে আরও একটু এগিয়ে বাঁ দিকে। জামাকাপড়... ডেনিম জ্যাকেট, জেগিংস-এর দোকান... সেগুলো পেরিয়ে কুংগা যাওয়ার রাস্তাটায়। সাদা সবুজ লাল মেশানো কাঠের বাড়ি। ছবির বইয়ের মতো জানালা। আইভিলতাও ঝোলে বোধ হয়। আমি আইভি দেখিনি যদিও কখনও। নীচে ডানদিকে বাজারে নেমে যাওয়ার সিঁড়ি। হিল কার্ট রোডের দিকে। আমি ঠেলেঠুলে একটা সরু গলির মধ্যে দিয়ে উঠতে থাকি। ম্যাগনোলিয়া একবার দেখে আসা দরকার। সরু গলি। কিন্তু অন্ধকার নয়। ওপর দিকের বাড়িগুলোর টিনের চাল আর কার্নিসের ফাঁকফোকর দিয়ে আলো আসছে অনেক। দুপাশে লোক দাঁড়িয়ে। কেউ বিরক্ত করছে না। যে যার মতো ব্যস্ত। সিগারেট খাচ্ছে। গল্প করছে। ওয়াই ওয়াই খাচ্ছে। পাশ দিয়ে সরিয়ে সরিয়ে এগোতে হচ্ছে। ম্যাগনোলিয়ার সামনে এসে পড়লাম।
এটা তো বেশ বড় একটা হামাম! হোটেল ভেবে এদিকে বুক করে ফেলল মৈত্রেয়। ওই তো... জাপানি বাড়ির মতো, চাল দিয়ে ধোঁয়া বেরোচ্ছে অল্প। ‘স্পিরিটেড অ্যাওয়ে’-র বাড়িটার মতো। আমি ভেতরে ঢুকি। ঘন বোতল সবুজ অন্ধকার। তার মাঝখান থেকে চাপা রক্তের মতো লাল রঙের দেওয়াল দেখা যাচ্ছে। বাষ্পে আধো-অদেখা হয়ে আছে গোটাটা। কাচের দরজা খুলে ঢুকতে ঢুকতে টের পাই আমার হাইট কমে গেছে।আমি একটা উঁচু-হিল জুতো পরে। আমার গায়ে একটাসাদা শার্ট আর গ্রে রঙের পেন্সিল স্কার্ট

Monday, April 10, 2017

আবার দুই মেঘপারা মেয়ে : মনোজ দে

মেঘপারা মেয়ে ৯

যে সমস্ত শব্দ
উচ্চারিত হল না তোমার পাশে

ইমেজের ভেতর অথচ       সাবলীল
ঘর হয়। মেঘ হয়। ঋতু হয়

ও মেঘপারা মেয়ে
টেলিফোন বলতে বলতে
যারা জন্ম ন্যায়
সমস্তটাই ব্রথেল?



Saturday, April 8, 2017

জোকারের বালের যুগ্যি নয় ওরা : পুরন্দর ভাট

জোকারের বালের যুগ্যি নয় ওরা

বাঁকুড়া মিমস পেজটা বোধয় ফেসবুক বন্ধ করে দেবে। এই পেজটি বহুবার বিতর্কে জড়িয়েছে। পিডোফিলিয়া নিয়ে একবার বিতর্কে পড়েছিল, বর্ণবিদ্বেষী, নারীবিদ্বেষী পোস্ট করে বিতর্কে জড়িয়েছে, এবার ক্যান্সার পেশেন্টদের কেমোথেরাপির ফলে টাক পড়ে যাওয়া নিয়ে রসিকতা করে বিতর্কে জড়িয়েছে। বহু লোকে রিপোর্ট করেছেন পেজ। সিগনেচার ক্যাম্পেন হয়েছে পেজটাকে সরাবার জন্যে। অনেকেই এমন বলছেন যে যাঁরা ওই পেজটাকে লাইক করেছে তারা যদি আনলাইক না করে তাহলে আনফ্রেন্ড করে দেবে। অর্থাৎ এই রামনবমী আর ভোঁতা তলোয়ার নিয়ে লম্ফ ঝম্পর বাজারেও খানিকটা ফুটেজ খেয়েছে পেজটা। এবার আসা যাক বিতর্কর প্রসঙ্গে।

প্রথমেই যেটা পরিষ্কার করে দেওয়া দরকার যে "ইয়ার্কি মারবার একটা লিমিট আছে, ক্যান্সার পেশেন্ট নিয়ে ইয়ার্কি বা মেয়েদের মাসিক হওয়া নিয়ে ইয়ার্কি মারা প্রচন্ড ইনসেন্সিটিভ" - এই যুক্তির একটা অংশ সঠিক কিন্তু অন্য অংশটা গরুর গোবর। সঠিক হলো "ইনসেন্সিটিভি" আর গোবর হলো "লিমিট আছে।" লিমিট যদি টানেন সেটা কোথায় টানবেন? কেউ ক্যান্সার পেশেন্ট নিয়ে ইয়ার্কি মারাকে লিমিট অতিক্রম করা বলবেন আর কেউ বলবেন গরুকে নিয়ে ইয়ার্কি মারা হলো লিমিট। একটা লিমিট টানাকে সমর্থন করলেই অন্য লিমিটের বিরোধিতা করবেন কী ভাবে? তাই এই লিমিট টানার ব্যাপারটা হলো গোবরের মতো। বিশ্বের সব কিছু নিয়ে ইয়ার্কি মারতেই পারে কেউ, আমি তার প্রতিবাদ করবো, কিন্তু তার জন্য তাকে জেলে পুরে দেবো বা তার বলার বা লেখার অধিকার কেড়ে নেবো না। লিমিট টানতে থাকলে পেহেলাজ নিহালনিকে বরং একবার রোজ সকালে প্রণাম করে নেওয়া দরকার। একটা লিমিট ভালো আর অন্যটা ভালো নয় এটা আপনি কোনো ভাবেই স্বাধীনতার যুক্তি মেনে প্রমাণ করতে পারবেন না। আমি বলছি না যে সব লিমিট সমান, আমি বলছি না যে গায়ের রঙের জন্য কাউকে নিয়ে ইয়ার্কি মারা আর ডোনাল্ড ট্রাম্পকে নিয়ে ইয়ার্কি মারা এক, আমি বলছি না যে একটায় লিমিট টানলে আরেকটাতেও টানতে হবে। কিন্তু একটা করা যাবে আর অন্যটা করা যাবে না এই তর্ক করতে গেলে আপনাকে বাইরে থেকে কিছু যুক্তি আমদানি করতে হবে, স্বাধীনতার পক্ষে উদারবাদ যে যুক্তিগুলো দেয় সেগুলো দিয়ে প্রমাণ করতে পারবেন না। বাইরে থেকে মানে শুধু বাকস্বাধীনতার উদারবাদী ব্যাখ্যায়  আটকে না থেকে, ইতিহাস, অর্থনীতি ইত্যাদির প্রেক্ষাপট টেনে এনে তবে যুক্তি সাজাতে হবে। গডেলস ইনকমপ্লিটনেস থিওরেমের মতো বিষয়টা।  সেই কাজটা কিন্তু বেশ কঠিন, এবং সেটা করতে গেলেই অনেক "ক্যান্সার নিয়ে ইয়ার্কি মারা উচিত না" অবস্থানের সমর্থককে কিন্তু হারাতে হতে পারে কারণ নতুন যুক্তিমালার অনেক কিছু তাদের আবার পছন্দ হবে না। কিন্তু তার আগে একটা মৌলিক বিষয় নিয়ে ভাবা দরকার। সেটা হলো ইয়ার্কি বা মজা বা জোক ব্যাপারটা কি?

Thursday, April 6, 2017

কাঞ্চনজঙ্ঘার ছায়া : শোভন ভট্টাচার্য

কাঞ্চনজঙ্ঘার ছায়া

তুষার বাহিত হাওয়া
এখন শাসন করছে রাত্তিরের ম্যাল।
সমস্ত টুরিস্ট প্রায় ফিরে গেছে হোটেলের ঘরে।
লামা সাধুদের মতো জেগে আছে সারিবদ্ধ পাইন।
কাছে দূরে উঁচুনিচু সমস্ত পাহাড়
প্রাণের প্রদীপ যত জ্বেলেছিল মোহিনী সন্ধ্যায়
একে একে নিভে আসছে সব।
দার্জিলিং ম্যালও তার বাণিজ্যিক বাহু
গুটিয়ে নির্বাণ মন্ত্রে ধ্যানস্থ এখন।

#
ব্রিটিশের ভূত আছে এই দার্জিলিং-এ;
‘কাঞ্চনজঙ্ঘা’-র ছবি বিশ্বাসসুলভ বাঙালিরা
এখনও সপরিবার ছেলেমেয়েজামাইশ্যালক
সমেত প্রতিবছর এখানে আসেন।
থাকেন ব্রিটিশ-ধাঁচে বানানো বাংলোয়।
খাদের রেলিং-ঘেরা সবুজ লবিতে টি-টেবিল
তাদের মহৎ-জন্ম-যাপনের সেরা অবকাশ।

#
আর আসেন নিতান্তই মধ্যবিত্ত শ্রেণি।
সারাদিন এই ম্যাল তাদের কেনাকাটায়, ক্যাচোরম্যাচোরে
চেনা যায়না পাহাড়ের কোনও শীর্ষ ব’লে।

#
আমি নিজে এর আগে দু’বার
দার্জিলিং জেলার সবচেয়ে
উঁচু যে পাহাড়ে থাকে মানুষ, সেখানে
পাঁচদিনের পায়ে হাঁটা পথ ঘুরে ফেরার সময়
শহরে নেমেছিলাম।
কেভেন্টার্সে কফি, গ্লেনারিজে ব্রেকফাস্ট
খেয়েও আমার মন ভরেনি ততটা।
মায়ের চাদর আর বাবার জাম্পার
কিনে ফিরে গেছি অসহায়।
কিন্তু আমি সতত নিশ্চিত
এবারে যে সৌভাগ্যের অধিকার নিয়ে আমি এখানে এসেছি
কাঞ্চনজঙ্ঘার মুখ না দেখতে পাওয়ার গ্লানি তুচ্ছ তার চেয়ে।
কেননা এবার বউ-মেয়ে
ছাড়াও সফর-সঙ্গী বাবা-মা আমার;
যে বাবা-মা ইতিপূর্বে হিমালয় পাহাড় দেখেনি কোনও দিন;
আজ আমি তাদের এক কৃতার্থ সন্তান।
কাজেই এ শুধু একটা ভ্রমণকাহিনিমাত্র নয়;
এ এক প্রেমিক, পিতা, পুত্রজন্ম সিদ্ধির বিষয়।

Tuesday, April 4, 2017

সোনালি আপেল ও প্রিয়তম : কৃতি ঘোষ

সোনালি আপেল ও প্রিয়তম

মানুষ চিরকাল অন্ধকূপের মধ্যে কাটাতে ভালোবাসে। এদিকে যাব না, ওদিকে যাব না - আমি বসে থাকবো শুধু। এমনটা বললে কোও ছায়াছবির মত পথ আগলে রাখা যায় ঠিকই, কিন্তু প্রকৃত প্রকৃতিতে বাঁচা যায় না। বাঁচার কোনও অর্থ নেই মানে অর্থের বেঁচে থাকার প্রয়োজন ফুরিয়েছে। না, আমি গুলিয়ে দিচ্ছি না, প্রস্তর ভেঙে কারুর মূর্তিও তৈরি করছিনা আপাতত। এই যে সাময়িক প্রয়াস – তার অর্থ আমার প্রত্যয় ঘটেছেআমি উচ্চস্থানে বাস করছি আপাততএখানে কবিতার প্রয়োজন নেই, মৃত্যুর প্রয়োজন নেই। এখানে সমুদ্রের ফেনা আরেকটা অ্যাফ্রোদিতির জন্ম দিতে পারবেনা। সূর্যের দেবতা এখন অকর্মণ্য হয়ে শিস দিচ্ছে খানিক।

নদীতটে বসে কার কথা মনে পড়ে? কার ভ্রু উঁচিয়ে তাকানোয় বাষ্পীভূত হয়ে যাওয়ার ভয় থাকে বেশি? কে সেই দীন-দরিদ্র ও কবির মাধ্যমে অমর হওয়া প্রেমিক? এসো প্রেমিক, জল ভেঙে জরায়ুতে এসো। তোমাকে জন্ম দিই একবার। এখানে তরল অনুভূতিরা গাছে গাছে হেলান দিয়ে বসে থাকে। সোনালি আপেলের মত লোভ আছে বিস্তর। তবে দেখানোর শখ নেই। বালি বালি রোদ আছে। বিনে পয়সার চাবুক আছে। চাবুক কথা বললেই ছোটে। পিঠ বেয়ে সাপের মত হিসহিস করে চাবুক। দেখোনি?