Showing posts with label Bengali. Show all posts
Showing posts with label Bengali. Show all posts

Sunday, July 30, 2017

কাগজের নৌকা : The Story behind an Independent Film.

~কাগজের নৌকা~
The Story behind an Independent Film.

কাগজের নৌকো-র ভাবনা আসে একদিন রকের আড্ডা থেকে, আমি তখন সদ্য দিল্লীর চাকরি ছেড়ে কলকাতায়, আর শুভ্র এমবিএ পাশ করে, ব্যাঙ্গালোর থেকে ফিরে জয়েনিং ডেটের অপেক্ষায়। দুজনেরি হাত খালি, তাই পুরোনো রকের আড্ডা বেশ জমে উঠেছিল।
আমি যে সিনেমা করব, বা এটাই করতে চাই, তারও পাঁচবছর আগে, সেটা আমার আর ওর প্রায় একি সঙ্গে মাথায় ঢোকে।কয়েকটা বিদেশি ভালো শর্ট ফিল্ম দেখে, এবং দেশিয় কিছু জঘন্য কাজ দেখে। প্রথম ছবির গল্প অপেক্ষা নিয়ে, শুভ্রর ভাবনা, গল্পটা আমাকে, বলার প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই স্ক্রিপ্টটা লিখে ফেলি। কয়েকদিন ধরে, কিভাবে কি দেখানো হবে, এই নিয়ে আলোচনা চলতে থাকে, আমার আর শুভায়নের মধ্যে, প্রায় গনতান্ত্রিক পদ্ধতিতে আমাকে নির্দেশক মনোনীত করা হয়। এদিক ওদিক ফিল্মের বই জোগার করে পড়া, টেকনিক গুলো শেখা, দু রাতে এডিটিং সফটওয়্যার শিখে নেওয়া ওই সময়টাতেই। নায়িকা যোগার করে, দু মাসে পড়াশোনা ইত্যাদি ভুলে শুটিং হল প্রথম ছবির, “তুমি আসবে বলে”। তা সে ছবি আর এল না, ভিডিও কাটের সময় খুব ভরসা ছিল পরে ডাব করে নেওয়া যাবে, কিন্তু সেইটা আর হয়ে উঠল না। পাতি এক্সপিরিয়ন্স এবং স্কিলের অভাবে ছবিটা শেষ হল না। তার পরে ও উৎসাহের কমতি নেই, পরের স্ক্রিপ্ট রেডি করল শুভ্র। এবার যদিও প্রথম ভাবনাটা আমার মাথায় আসে, এক সুন্দরী মহিলার সঙ্গে তার কিছু দিন আগেই, শুভ্র সাকুল্যে কুড়ি ফিট মতন হেঁটেছিল, আর বাকি পুরোটাই খাপছাড়া আলাপ চারিতা। সেই ভাবনা নিয়েই “টোয়েন্টি ফিট অফ টুগেদার নেস”, ও গল্প লিখল, স্ক্রিন প্লে তৈরি হল। আগেরবার আমি বিস্তর ছড়িয়েছি, এবার ওই নির্দেশক।


এর মধ্যে বলে রাখা ভালো, প্রথম বার আমি সিনেমাটোগ্রাফি করিনি, ভয়, পারবনা বলে। কিন্তু সিনেমাটোগ্রাফার নায়িকার মাথা কেটে দেওয়ার কারণে (অদ্ভুত ভাবে সেই ব্যাক্তি রাজশ্রীর একটি ছবি সেই সময় তুলেছিল, সেই ছবিটাতেও মাথাকাটা), শেষ কয়েকটা দৃশ্য আমি আর দিপু ডুয়াল ক্যামেরায় তুলেছিলাম। এবার তাই আমিই করব সিনেমাটোগ্রাফি। বিনা পয়সায় সিনেমা বানানো, কিন্তু আয়োজনের কমতি নেই। বৃষ্টির দরকারে রেনমেসিন বানানো হয়েছে, অরিজিৎ, অর্ঘ্য, শুভায়ন, শোভন, ত্রিজিত এবং দীপু প্রায় সবকিছু জোগাড় করে দিত। বাল্ব দিয়ে থ্রিপয়েন্ট লাইট সেট-আপ, ঘর পরিস্কার, সেট সাজানো, থারমোকল ধরা, লাইট ধরা, সব! আজ এদের কারুর সঙ্গেই সিনেমার সম্পর্ক নেই, তবে আজ কাল যাদের কাজ করতে দেখি, এই উৎসাহ এবং ডেডিকেসন কোনটাই বিশেষ দেখিনা। আমি বা শুভ্র বারবার ধ্যারাবার সত্বেও, প্রত্যেকবার একি উৎসাহে কাজ করে গেছে। দিপুর সঙ্গে প্রচুর সময় কেটেছে ফ্রেম শেখায় একসঙ্গে, রেফেরেন্স ফ্রেম দেখা, ভোরে উঠে নিখাদ ঘন্টার পর ঘন্টা ক্যামেরা নিয়ে প্রাকটিস। মনে পরে অরিজিত একবার বিনাপয়সায় গাড়ি পর্যন্ত জোগাড় করে দিয়েছিল।

এরপরে এই সিনেমা তৈরি মুলপদ্ধতি এবং ভাবনা নিয়েই, আমার আর শুভ্রর প্রায় অনেকদিন বাক্যালাপ এবং মুখ দেখাদেখি দুই বন্ধ ছিল। এর মধ্যে দুজনেই আলাদা আলাদা কাজ রিলিজ করেছি, তা সে ঝামেলা মেটার কিছুদিনের মধ্যেই ও ব্যাঙ্গালোর আর আমি দিল্লি। তাই দুবছর আগের ওই রকের আড্ডার সময়টাতেই দাবী উঠে আসা বাধ্য যে একসঙ্গে অন্তত একটা কাজ শেষ করতেই হবে। এতদিনে আমি বেশ কিছু ডকুমেন্টারি আর অ্যাড ফিল্মএর কাজ করে ফেলেছি, আর শুভ্র সিনেমা বানানো থেকে স্বেচ্ছা নির্বাসন নিয়েছে। হুট করে একদিন প্রশ্ন করল কম্যুনিকেসন কি কি ভাবে হতে পারে, বিস্তারিত আলোচনার পর বাড়ি ফিরতেই, আমার মাথায় কাগজের নৌকোর ভাবনাটা এল। খুব তাড়াতাড়ি তথাগতর চিঠিগুলো লিখে ফেলা হয়, এবং তারপরেই নন্দিনীর। তথাগতর শুট খুব তাড়াতাড়ি চারদিনের কাজেই শেষ, রোজদিনই বৃষ্টি, কোমর জলে নদীতে নেমে শুট। তারপর কিছুদিন চলল নন্দিনীর খোঁজ। কাউকেই আমার পছন্দ হয়না, আসলে সে এমন হবে, যাকে দেখে আমি প্রথমেই থমকে যাব, আর যারা ছবিতে দেখবে, অন্তত একটু প্রেম থাকলে মনে ভাববে “মে ফারস পে সাজদা কারতা হু কুছ হোশমে কুছ বেহোশি মে”। এমন দাবি দিলে, কঠিন হয়ে, অতএব পাওয়া গেলনা নন্দিনী।
আমি শুধু ঠিক করলাম, এটা না শেষ করে, আর নিজের অন্য ফিল্মের একসেকন্ডও শুট করবনা।

(ক্রমশ)















অনির্বান সরকার

Anirban Sarkar

Monday, July 24, 2017

সখী : গুলশনারা খাতুন

সখী

দোতলার ল্যান্ডিং পেরিয়ে আড়াই তলার মুখে ফ্ল্যাটটা। এখানে  বিল্ডিংগুলোর কনস্ট্রাকশন এরকমই। এক চিলতে জমি পেলেই তা দিয়ে জিকজ্যাক করে ফ্ল্যাট তুলে আখাম্বা বাড়ি তুলেছে মালিকরা। ল্যান্ডিং-এর আলোটা মাস পেরলে সারাবে বোধহয়। ব্যাগ হাতড়ে চাবি দিয়ে ফ্ল্যাটটা খুলতেই এক নিশ্বাস অন্ধকার। মোবাইল টর্চে এখন এলইডি আলো। বছর ঘুরলেও এ ঘরের দেওয়ালগুলো চেনা লাগে না দিতির। সেবার বোন এসে ঘরে একগাদা কায়দার আলো রেখে গেছে। সুইচ টিপলে দিত নিলচে দেওয়াল ঘরে লাল-নীল-সবজে আলোর রামধনু এফেক্ট। অবশ্য এই একবুক অন্ধকারটা আজকাল গা সওয়া হয়ে গেছে দিতির। বেশি আলোতে কেমন চোখ ধাধিয়ে যায়। ব্যাগটা মেঝে ফেলে সিগারেট জ্বালতেই সামনের দেওয়াল থেকে মা যেন নাক সিটিয়ে উঠল। সেই বাড়িতে প্রথমবার সিগারেট ধরা পড়তে মায়ের মুখটা যেমন হয়েছিল, আজও সেই এক্সপ্রেশন ইনট্যাক্ট। ভাল আছ তো মা?’ দিতি মনে মনে জিজ্ঞেস করে। মা-ও যেন ছবি থেকেই মুখ ঘুরিয়ে নেয়। গেল বার বোন এসেছিল যখন, তখন বোনের মোবাইলে মায়ের হাসি-হাসি ছবি দেখে দিতির কান্না-কান্না পাচ্ছিল। দিতি আবার দেওয়ালটার দিকে তাকায়। কিরকম ঘর জোড়া সুখে স্মৃতি। দেওয়লা আলমারিটা পাশে একটা বইয়ের তাক। উল্টো দিকে দিতির খাটের পাশে একটা ল্যাপটপ আর টি-টেবল। আর নীলচে দেওয়ালে সুখের ছয়লাপ। বাবা-মায়ের কোলে ছোট্ট দিতি। ঠাম্মু পাশে দিতি আর বোন। দার্জিলিং-এ মায়ের কোলে দিতি। মা আর বাবা আগ্রায়। কেমন যেন সব পাওয়ার জগৎ। দিতি হাসে। মনে মনে ভাবে,

সে তুমি যতই মুখ ঘুরিয়ে নাও মা। এই দেখো কেমন আমি তোমাদের চোখের সামনে।
নাহ। ডাক্তার এবার দেখাতেই হবে। আজকাল বড্ড চোখে জল আসে। দিতি বিশ্বাস করে এটা চোখের সমস্যা।

Friday, July 21, 2017

সোনালি আপেল ও প্রিয়তম এবং চরিত্র, দিন ও পিতা : কৃতি ঘোষ

সোনালি আপেল ও প্রিয়তম
মানুষ চিরকাল অন্ধকূপের মধ্যে কাটাতে ভালোবাসে। এদিকে যাব না, ওদিকে যাব না – আমি বসে থাকবো শুধু। এমনটা বললে কোনও ছায়াছবির মত পথ আগলে রাখা যায় ঠিকই, কিন্তু প্রকৃত প্রকৃতিতে বাঁচা যায় না। বাঁচার কোনও অর্থ নেই মানে অর্থের বেঁচে থাকার প্রয়োজন ফুরিয়েছে। না, আমি গুলিয়ে দিচ্ছি না, প্রস্তর ভেঙে কারুর মূর্তিও তৈরি করছিনা আপাতত। এই যে সাময়িক প্রয়াস তার অর্থ আমার প্রত্যয় ঘটেছে। আমি উচ্চস্থানে বাস করছি আপাতত। এখানে কবিতার প্রয়োজন নেই, মৃত্যুর প্রয়োজন নেই। এখানে সমুদ্রের ফেনা আরেকটা অ্যাফ্রোদিতির জন্ম দিতে পারবেনা। সূর্যের দেবতা এখন অকর্মণ্য হয়ে শিস দিচ্ছে খানিক।
নদীতটে বসে কার কথা মনে পড়ে? কার ভ্রু উঁচিয়ে তাকানোয় বাষ্পীভুত হয়ে যাওয়ার ভয় থাকে বেশি? কে সেই দীন-দরিদ্র ও কবির মাধ্যমে অমর হওয়া প্রেমিক? এসো প্রেমিক, জল ভেঙে জরায়ুতে এসো। তোমাকে জন্ম দিই একবার। এখানে তরল অনুভূতিরা গাছে গাছে হেলান দিয়ে বসে থাকে। সোনালি আপেলের মত লোভ আছে বিস্তর। তবে দেখানোর শখ নেই। বালি বালি রোদ আছে। বিনে পয়সার চাবুক আছে। চাবুক কথা বললেই ছোটে। পিঠ বেয়ে সাপের মত হিসহিস করে চাবুক। দেখোনি?
সমুদ্রে যেও না আর। ওখানে সুন্দরী মাছ পড়ে আছে খুব। তোমার ভয় নেই? ভয় নেই বিকিয়ে যাবার? ভয় নেই কাবু হয়ে বসে থাকার কোনে? উৎসবের আনন্দ ভালো দীর্ঘ জীবনের চেয়ে। দীর্ঘ ভাবে পোকার খাদ্য হওয়ার চেয়ে কবর অনেক ভালো। প্রেম ও বিষাদের ক্ষমা হয় না কখনও। এদের কেবল পরিবর্তন হয় রূপ, রঙ - বাজি রেখে হেরে যাওয়ার।
এয়োরা নদীঘাটে বসে কেন? ওদের বাড়ি নেই? ওরা জানে না, তুমি ওইদিকে যাবে আমাকে ছেড়ে? সব কবিতাই প্রেমের হয় কেন? বিপ্লবেও প্রেম কেন খাদ্য হয়? আমাকে জিতিয়ে দাও খিদে, আমি উড়বো না। আমার ডানা উপহার দিয়েছি তিন প্রহরের দেবতাকে।
ওরা দেবতা বলে – ঈশ্বর বলে না। বলে না ঈশ্বরের মৃত্যু ঘটেছে – নারীর সাথে সহবাসের কারণে। ওরা বলে না ঈশ্বর কামুক ও ভিখারি। ঈশ্বরের পুত্র নেই – ওগুলো মিথ। ঈশ্বরের প্রসবযন্ত্র নেই – ওগুলো মিথ্যে। মিথ্যে আর গুজবের পার্থক্য করতে শেখো। শেখো মিথ্যেকে সত্য বানানোর নির্মম প্রক্রিয়া।
আহা দিবস! আহা কর্তব্যহীন দিবস! আমি তার সহিত সাক্ষাৎ করতে জঙ্গলে গিয়েছিলাম। সে আমাকে সোনালি আপেল দিয়েছে। বলেছে এখান থেকেই সভ্যতার শুরু। বলেছে অ্যাফ্রোদিতির মৃত্যু নেই। সে অমর ও বিনম্র। অহংকারের মাথা নেই তার। সে অ্যাফ্রোদিতির অপেক্ষা করছে। আমি সাফোকে দেখিনি, পড়েছি শুধু কিছু শব্দ ও অক্ষরের বৃত্ত। আমাকে অহংকার মুক্ত করো হে সাফো – নতুবা সে আমাকে গ্রহণ করবে না।


Tuesday, July 18, 2017

ঈশ্বরের ভেজা ডানা : আকাশ গঙ্গোপাধ্যায়

ঈশ্বরের ভেজা ডানা

চেনা মেঘ, ঠাণ্ডা হয়ে যাওয়া হ্যালোজেন কফ থুতুর দাগ পেরিয়ে যখন উঠলাম কলেজস্ট্রিটের বাসে, তখন আমি সেই বাসের একমাত্র প্যাসেঞ্জার। না একটু ভুল হচ্ছে কোথাও, ছিল আরেকজন। জানলার ধারে সিট ছিল আজ, তাই বসা হল না। গোটা বাস ফাঁকা পেয়ে কিছুতেই বুঝতে পারলাম না কোথায় বসা ভালো! জয়িতা রেগে আছে হয়তো, রাগবে না ই বা কেনো। রোজই কাজ সেরে উঠে ঘুমিয়ে পড়ি রাত্তির হয়ে গেছে বলে। কথা দিই যে কথা বলব, পেরে উঠি না! এরপর অশান্তি হয় কিছুটা, প্রতিবারই হয়। তাও জানি সামনে গিয়ে দাঁড়াতে পারলে গলে যাবে ও। যায়ও প্রত্যেকবার! ও একটা সাংঘাতিক স্বপ্ন দেখে মাঝে মাঝে, কুঁকড়ে যায়। আমায় পায় না। মেয়েটা হয়তো ভুলই করছে। হাওড়ায় এর আগে কখনও প্রজাপতি দেখিনি আমি, স্টেশন চত্ত্বরে, পাক খেতে খেতে বাসে উঠে পড়েছে আমার পিছু পিছু। তারপর হারিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে। বাসটা প্রাইভেট, টুকটুক করে কচ্ছপের মতো পেরোচ্ছে ব্রীজ। আজকাল আর ভিড় ভালো লাগে না। নিতে পারি না বেশি। এত মত এত ভাব এত আদর্শ, সাধুও বলে তাই, ও নিজেও এড়িয়ে চলে ভিড়, দক্ষ হাতে, আমি শিখি, যেমন শিখি বাস খালি থাকলে ড্রাইভার কন্ডাক্টররা কীভাবে কাছের হয়ে ওঠে। আমাদের অনেক কিছুই মেলে। সেগুলো একদিকে ফেলে, না-মেলাগুলো যাপন করি প্রাণপন। হাঁটতে হাঁটতে কোথাও তো পৌঁছোবো! দু’পা এগিয়ে গেলে তো শুরুর বিন্দুও অভিমত বদলায়, দেখিনি পিছনে সেও কোনো স্বার্থ খোঁজে কি না! খুঁজলেই বা কী। কালাকার স্ট্রিটের মুখের জ্যামটা গল্পে আসে আমার, রোজই, মা বাবা কে শোনাই সময় পেলেই। শুনেছি বড়বাজার থানায় নাকি বিরাট ঘুষের লেনদেন অথচ এই মোড়ের সেই পুলিশ ভদ্রলোককে আমি পাঁচ বছর এভাবেই দেখছি, কিরকম বাবা বাবা দেখতে, ইনি কি ঘুষ নিতে পারেন? প্রজাপতিটা চমকে দিল হঠাৎ, কোলে রাখা ব্যাগের একটা কোনায় বসল ভালো করে। এখনও যায়নি ব্যাটা। কি জ্বালা! অন্য জেলায় চলে এলি যে আমার সাথে! ফোনটা শুদ্ধেন্দুদারই। আগেও করেছে দাদা

Friday, July 14, 2017

তামুজ এবং আমি ~ একটি দীর্ঘ কবিতা : বেবী সাউ

তামুজ এবং আমি

অতঃপর শূন্যতা নেমে আসে
হাঁটু পেতে বসে ঈশ্বর
বকরূপী ধর্ম
নীতিবাক্য যত নিশ্চল
কোথাও প্রলয়ের ধ্বনি বেজে ওঠে
কোথাও বা পায়ের শব্দ
ভুল করে পুষে রাখি ভ্রম
ভ্রমণে উঠে আসে নিকেলের স্বর
দমবন্ধ অবস্থান

তামুজ হে! অবসর এই
শুরু করো দীর্ঘতম চিঠি
পাঠ করো,
শ্রবনের মাঝে এইটুকু সমর্পণ
দেখো, ধৈর্যহীন হয়নি মৃত বাজের আত্মা
পঙ্গুত্ব নিয়ে বসে আছে শেষ উপাখ্যান
রক্তহীন এই মাটি জুড়ে
বায়ু জুড়ে
এখনও অপেক্ষা করে দীর্ঘদিন
সমস্ত ধর্মপুরুষদের ছেড়ে জেগে উঠবে
প্রেম, কাল হীন,কামহীন, অনন্ত

এখনও লালপায়া অষ্টাদশী সবটুকু ভেঙে যাওয়া স্বপ্নে পুষে রাখে জোড়া দেওয়া কাঁচ
এখনও প্রসাধনে সেজে আছে সন্ধ্যে তারা
শৃঙ্গারে সুখী বেনারসী
শাঁখ বাজে
পাঠ করো পাঠ করো
 প্রিয় তামুজ, আমার প্রথম কৌমার্য

 দেখো ওই শহরের খাঁজ
সেখানেই যৌনপিশাচের দল
রাতভর হত্যা করেছে প্রেম
প্রেমিকার মন
ব্লাউজের হুকে ঠোঁট কেটে গেছে
সেপটিপিনে লেগে মাংসের গন্ধ
তবুও রাতভর থামে নি'কো
রাতভর উল্লাস করেছে নৃত্য
লিঙ্গ উপাসক তারা
দুধ ঘৃত জলে অবগাহন নয় শুধু
নিপুন কৌশলে শিখেছে হন্তারক পন্থা

তারপর! তারপর

Saturday, July 8, 2017

দুটি লেখা : জয়রাজ ভট্টাচার্য

দুটি লেখা
এক
আমরা সবাই একটা ঠিকঠাক চুমু খুঁজে পাবো একটা সফল মৃত্যুর সাথে। সমুদ্রের নিচে যৌনতার মত ছড়িয়ে আছে সাড়ে সাতশো চোখ, তারা জড়িয়ে ধরছে পা, ডাকছে, আমি সেদিকেই যাবো বলে আঙুল থেকে ঝেড়ে ফেললাম অন্য সব প্রলোভন। ক্রমশ ঠান্ডা বোধ হয় তোমার ভাষার সমীপে, সমস্ত উচ্ছাস মুছে ফেলে আমি তোমার নিকটজন হতে চাইছি শুধু শেষতক।



দুই
জ্যোৎস্নার মত শুভ্র আলো তার
কপাল আর চিবুক ঘিরে রেখেছে
সে স্থিতধী, গম্ভীর মন্দ্র স্বভাব,
গ্রীষ্মের সন্ধ্যায় উড়নি গায়ে চাপিয়ে
আর্তজনকে জানাচ্ছে শস্যের পূর্বাভাষ
দিগন্তে ঘনিয়েছে মেঘ, চঞ্চল পায়ে
বালিকারা একবার মাত্র আকাশের
দিকে চেয়ে গোয়ালঘরে ছুটে গেল।
গাও তমোঘ্ন মল্লার রাগে এখনই
নৃত্য হোক একমাত্র জনশ্রুতি
ঈশ্বর আমাদের মধ্যে আরো কিছুক্ষণ
বেঁচে থাক। একেবারে চলে যাওয়ার আগে।



জয়রাজ ভট্টাচার্য

Joyraj Bhattacharjee

Wednesday, July 5, 2017

কবিতাদুটো... : জ্যোতির্ময় বিশ্বাস


নীড়

তিনি লিখেছিলেন নীড়ের মতো
পাখিটির কথা কিছু বলেননি

আর পিপলি লিখে কবে আমি কেটেকুটে দিয়েছি, মুখোমুখি বসিবার সেইকালও অস্ত গেছে অথচ চোখ যে বড় মেহেরবান, যায়নি, তা বুঝতে পারিনি

সব লেনদেন ফুরায়। সমস্ত ফুরায়না জীবনে।




গজলনিঝুম

আমি শুধু ন্যায়না শরাব দিল চান্দনী গম্ ইয়াদ আর হম্ আর তুম গুলো শুনে শুনে চুপ হয়ে থাকি

মেহদী হাসান গুলাম আলিরা আলোচ্য অংশটুকু বুঝে নিয়ে...

বো আখোঁ মে কাজল, বো বালো মে গজঁরা
হাথেলি পে উসকে হীনা, মেহকি মেহকি

বাংলা লয়ে চুপ করে থাকি।।















জ্যোতির্ময় বিশ্বাস
Jyotirmoy Biswas


Monday, July 3, 2017

পোঁদ ও প্রজাপতি হে : দুটি লেখা - শুভঙ্কর দাশ

পোঁদ
পোঁদ শব্দটিকে নিতম্ব বলে
খাটো না করাই ভালো।
শুনেই দেখছি ভুরু কুঁচকে গেল আপনার।
আপনারা তো আবার উচ্চ ঘর
কংস রাজার বংশধর।
আপনাদের বংশে কেউ কোনদিন
পোঁদকে পোঁদ বলেনি।
বলেছে পেছন, পাছা, নিতম্ব, বাম
আরো অনেক কিছুই।

অথচ অজন্তা ইলোরার যাবতীয়
নয়নাভিরাম নারী মূর্তির ভারী পোঁদ দেখে
আপনারা আপনাদের ইস্থেটিক্স বাড়িয়েছেন।

আজও ক্যাট ওয়াকে ভারী পোঁদ দুলিয়ে না হাঁটলে
পয়সা পাবে না ওই বেচারা মেয়েগুলো।

আমায় যে ছেলেটা মাসাজ করতো
সে বলেছিলো শরীরের যাবতীয় নার্ভ সেন্টার পোঁদে।
অতএব পোঁদের মাসাজ জরুরি খুব।
এ কথার সঠিক বেঠিক আমার জানা নেই।
জানা নেই ছেলেটা আসলে
হোমোসেক্সুয়াল ছিল কিনা।

শুধু জানি মেদিনীপুরে
কিছু মানুষের জাত
চন্দ্রবিন্দু হারানো সেই পোঁদ।
এবং তারা অনেকেই সুশিক্ষিত
প্রফেসর, কবি ইত্যাদি।

তাদের নিশ্চয়ই আপনি
নিতম্ব জাত বলে
অপমান করবেন না।



Saturday, July 1, 2017

এক অন্ধকার বিষণ্ণতার বোধ: একটি দেশদ্রোহী গদ্য - অর্জুন বন্দ্যোপাধ্যায়

এক অন্ধকার বিষণ্ণতার বোধ: একটি দেশদ্রোহী গদ্য

এইসব উপজাতি [?] শুধু যে অটল সংকল্প নিয়ে নিজেদের রক্ষা করে তাই নয়, তারা শত্রুদেরও অত্যন্ত বেপরোয়া সাহসিকতা নিয়ে আক্রমণ করে। তাদের মনের এমন একটা শক্তি আছে যা বিপদের আশঙ্কা কিংবা মৃত্যুভয়ের থেকে জোরালো।
নাগা জাতি সম্বন্ধে একজন ব্রিটিশ কর্মকর্তার মন্তব্য, আনুমানিক ১৮৪০ খ্রীষ্টাব্দ 

রিশাং জেগে আছে—শীত, ১৯৫২ 
রিশাং সাখরি’র বয়স হইয়াছে। নয়-নয় করিয়াও নব্বুই তো হইবে। রিশাং যদিও বলিতে পারে না তাঁহার বয়স কত। কানে শোনে না। চোখে দেখে না। জলের নীচে তাকাইয়া দেখা জগতের মতো ঝাপসা আর ঘোলাটে তাহার জগৎ। কখনও পেচ্ছাপ-পায়খানা বিছানাতেই করিয়া ফ্যালে। শরীর ও জীবনের অসহায়ত্বের নিকট সম্পূর্ণ আত্মসমর্পণ করিয়া মল ও মূত্রের কর্দমাক্ত মাখামাখির ভিতর চুপচাপ শুইয়া থাকে। ভাষাহীন চোখে ফ্যালফ্যাল করিয়া চায়। নষ্ট মার্বেলের মতো রিশাং-এর চোখের মণি তখন যেন এই জগতের নয়, অন্য কোনও জগৎ হইতে তাহা আসিয়াছে। তবু নাতনির বকবক শুনিবার ভয়ে কখনও দেয়াল ধরিয়া ধরিয়াও যায়। একাই যায়। কাহাকেও ডাকে না। কিন্তু শৌচাগার অবধি পৌঁছাইবার পূর্বেই যাহা হইবার হইয়া যায়। তখন আর পথ চিনিয়া বিছানায় ফিরিতেও পারে না। অকুস্থলেই বসিয়া পড়ে। ঘরের ঢালু দিক দিয়া হলুদাভ প্রস্রাব বহিয়া যায়। ভয়ে ডাকিতেও পারে না। কথা বলিলে কাঁপা-কাঁপা লম্বা একটা চিকন সুর বাহির হয় গলা দিয়া। বসিলে একটা পুঁটুলির মতো গোল দলা হইয়া থাকে। মনে হয়, এখুনি গড়াইয়া পড়িয়া যাইবে। শুধু কানে যখন রেডিও গুঁজিয়া শুইয়া থাকে, অসম্ভব জ্বলজ্বল করে বৃদ্ধের চোখ। দাঁতহীন মুখের দুই মাড়ি পরস্পর চাপিয়া ধরে। ব্রিটিশের বেয়নেটে চোয়াল দুইটা ভাঙিয়া ভিতরের দিকে ঢুকিয়া গিয়াছে। গালের দুই পাশে গ্রীষ্মকালীন খরাসর্বস্ব দুইটা পুকুর যেন। তাহাদের তলদেশ বুঝি মুখের ভিতর একে-অপরের প্রান্তভূমি চুম্বন করিয়াছে। কানে কিছুই শোনে না। তবু রেডিওটা তাঁহার চাই। ফিজোর নামটা যদি একবার শুনা যায়। ১৮৭৯ খ্রীষ্টাব্দে এই রিশাং-এর প্রতিরোধ বাহিনীর কাছেই অস্ত্র নামাইয়া আত্মসমর্পণ করিয়াছিল এক রেজিমেন্ট ব্রিটিশ বাহিনী।  

ইতিহাস—বর্তমান—ভবিষ্যৎ
অদ্য যাহা ইতিহাস, একদিন তাহাই ভবিষ্যৎ ছিল। কেম্ব্রিজের ইতিহাসের এক অধ্যাপক এমনটাই বলিয়া থাকেন তাঁহার ছাত্রদের। আমরা যাহারা ‘ষত্ব ণত্ব বিধিতে সিদ্ধ’ শিক্ষিত শহুরে মানুষ তাহারা ইতিহাস ও ভবিষ্যতকে প্রস্রাবরত পুরুষের ডান ও বাম পদ সদৃশ দুই পার্শ্বে ছড়াইয়া মধ্যিখানে যথায় মূত্রত্যাগ করিতেছি, তাহার নাম দেওয়া হইয়াছে বর্তমান।

তবে একটা ইন্টারভিউ হয়ে যাক—ফেব্রুয়ারি, ১৯৫২
’৫২ সালের ১২ই ফেব্রুয়ারি, দিল্লিতে প্রচণ্ড শীতে সাংবাদিক বৈঠক করিতেছেন ঊনচল্লিশ বৎসরের ছোটোখাটো চেহারার, ফর্সা, রোগাপাতলা এক কবি ও আগুনখেকো নেতা আংগামি জাপু ফিজো। যাঁহার মুখের ডানপার্শ্ব পক্ষাঘাতজনিত কারণে বেশ খানিকটা বাঁকা। তামাম ভারতের সাংবাদিক হতবাক হইয়া শুনিতেছে তাঁহার কথা। ফিজো বলিতেছেন,
আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রাম আমরা চালিয়ে যাব। এবং একটি স্বতন্ত্র নেশনের প্রতিনিধিরূপে নেহরুর সঙ্গে আবার একদিন দেখা হবে বন্ধুত্বপূর্ণ বন্দোবস্তের জন্য।
ঝাড়খণ্ড নেতা জয়পাল সিংহ ফিজোর সম্মানে এক দ্বিপ্রাহরিক ভোজের আয়োজন করিয়াছেন। রাষ্ট্রীয় ভবনের ডাইনিং প্লেসে বিরাট ও সুদৃশ্য খাবার টেবিলে কাচের বাটি হইতে চিকেন রেজালা তুলিয়া দাঁতে কাটিতে-কাটিতে জয়পাল ফিজোকে বলিলেন,
দেখুন, ভারতকে আরও টুকরো টুকরো ক’রে নতুন পাকিস্তান বানানোয় আমাদের সম্মতি নেই। আপনি বরং স্বতন্ত্র রাষ্ট্রের দাবি না ক’রে উত্তর-পূর্বে একটা উপজাতীয় রাজ্য গঠনের জন্য সংগ্রাম করুন। যেমন আমি করছি ঝাড়খণ্ড নিয়ে।
উত্তরে কবি তাঁহাকে জানাইলেন, 
আপনারা ইতিহাস আর ভূগোলে বড্ড কাঁচা। আপনাদের অবস্থান থেকে আমরা আপনাদের নর্থ-ইস্ট। আমি এখানে একটু সংশোধন ক’রে দিচ্ছি, আমরা আপনাদের ভারত রাষ্ট্রের নর্থ-ইস্টে অবস্থিত ভারতের প্রতিবেশী রাষ্ট্র। দুই, আমরা কোনও উপজাতি নই। একটা স্বতন্ত্র জাতি। আমাদের ভাষা কোনও উপভাষা নয়। আমাদের সংস্কৃতি কোনও উপ-সংস্কৃতি নয়। আপনি বোধহয় জানেন না যে, আমরাই, নাগারাই সবচেয়ে বেশি স্বশাসিত। আপনার এইসব না-জানাগুলো দোষের নয়। আপনারা নিজেদের দেশে জাতীয় আন্দোলন করেছেন। ইংরেজদের সাথে চিঠিপত্র লেখায় আপনারা অনেকদিন ছিলেন ব্যস্ত। জানার সময় পাননি। আমাদের দেশে সত্যাগ্রহ করতে তো যাননি আপনারা। কোনও আইন অমান্য করতেও যাননি। কোনও গান্ধী টুপি পরা কংগ্রেস নেতা কখনও এইসব পাহাড়ে আসেননি। আজকে আপনারা নিজেদের দেশে ক্ষমতায় এসেছেন এবং আমাদেরকে ভারতের সাথে জুড়ে দিতে চাইছেন। বেশ তো, তবে একটা ইন্টারভিউ হয়ে যাক। আপনাকে একটা প্রশ্ন করি, বলুন তো, এই যে আমাদের এখানে আমরা নাগা, মিজো, খাসি, জয়ন্তীয়ারা একসাথে থাকি, আমাদের নামে এই নাগা-মিজো-খাসি-জয়ন্তী পাহাড়গুলোর নাম হয়েছে নাকি এই পাহাড়গুলোর নামেই আমাদের নাম? আপনি ইন্টারভিউ বোর্ডের সামনে দাঁড়িয়েছেন মিস্টার ইন্ডিয়া। বলুন? কী যোগ্যতা আছে আপনার যে আমরা আমাদের নেশন আপনাদের হাতে তুলে দেব? আমাদের মধ্যে জাতিভেদ নেই, আপনাদের আছে। আমাদের মধ্যে লিঙ্গবৈষম্য খুবই কম, আপনারা প্রগতিশীলেরা এখনও এর থেকে বেরুতে পারেননি। ভারতের মানচিত্রের সাথে আমাদের কোনও টান নেই। আপনাদের টানটা কী বলুন তো? ভারতের অন্যান্য জায়গার লোকেদের থেকে অনেক বেশি গণতান্ত্রিক আমরা। আপনাদের সভ্য মানুষদের মতো শেয়ার মার্কেটে ব’সে চেঁচামেচি করি না। 
ভোজসভা শেষে ফিজো যখন বাহির হইয়া আসিতেছেন তখন দোর্দণ্ড্যপ্রতাপ পরাক্রমশীল রাজার কোনও দূত যেরূপে তুচ্ছ বিদ্রোহীর সম্মুখীন হয় সেইরূপে জয়পাল ফিজোর সম্মুখে আসিয়া দাঁড়াইলেন। এই শীতেও জয়পালের কপালে বিন্দু বিন্দু ঘাম। ফিজো জয়পালের সেই ঘামগুলির দিকে তাকাইয়া বলিলেন,
আপনি হয়ত জানেন সাতচল্লিশ সালে আমি এসেছিলাম এখানে গান্ধীর সাথে দেখা করতে। উনি ঠিক কী বলেছিলেন আমায়, আপনার জানা উচিত। উনি বলেছিলেন, আমরা চাইলেই স্বাধীনতা ঘোষণা করতে পারি। কেউ আমাদের ভারতে যোগ দিতে বাধ্য করতে পারে না। দিল্লি যদি সৈন্য পাঠায় তাহলে তিনি নিজে নাগা পাহাড়ে এসে আমাদের সঙ্গে লড়বেন। গান্ধী এও বলেছিলেন, উনি দিল্লিকে বলবেন, একজন নাগাকেও গুলি করবার আগে তারা যেন গান্ধীকে গুলি করে।      
গাড়িতে উঠিয়া আবার নামিয়া আসিলেন ফিজো। পাদানিতে ডান পা রাখিয়া জয়পালকে হাতের ইশারায় ডাকিলেন। জয়পাল নিকটে আসিলে ফিজো বলিলেন,
আমি ফিরে গিয়ে আপনাকে ইন্টারভিউয়ের রেজাল্ট পাঠিয়ে দেব।

শুধু হাড় আর হাড়—অক্টোবর, ’৫২
ফিজো অরণ্যাবৃত পর্বতে ফিরিয়া গেলেন। নাগা ন্যাশনাল কাউন্সিল খোনোমা গ্রামের আংগামি নাগাদের লইয়া গ্রামে গ্রামে গড়িয়া তুলিল গৃহরক্ষী দল। ঊনিশ শতকের শেষার্ধে এই গ্রামের লোকেরাই রহস্যময় কুয়াশার ভিতর জাগিয়া উঠা পাহাড়ের চুড়ায় শ্বেত সমুদ্রের দ্বীপে আর অরণ্যাবৃত পর্বতমালায় আংগামি রিশাং সাখরির নেতৃত্বে রুখিয়াছিল হানাদার ব্রিটিশ সৈন্যকে। এইবারে আরও একটা যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত হইল এই গ্রাম। ঊনিশ শতকের সেই বিপ্লবীদের সন্তান-সন্ততিরাই রাত্রি জাগিয়া পোস্টার লিখিল। ‘স্বাধীনতা চাই এখন, স্বাধীনতা চাই অনন্তকাল’। ‘এটাই আমাদের প্রাণের কথা, এটাই হবে আমাদের মরণকালেরও কথা’। অসমের রাজ্যপাল আকবর হায়দারির সচিব নাগা নেশন পত্রিকায় আন্দোলনকে ব্যঙ্গ করিয়া লিখিলেন এক কুকুরের গল্প। যাহার মুখে ছিল এক টুকরা হাড়। ফিজো বলিলেন, শুধু হাড় আর হাড়। ওর কি ধারণা আমরা কুকুর? অক্টোবরে দিল্লিকে ফিজো পাঠাইলেন তাঁহার চরমপত্র। তাহাতে লিখিলেন,
এমন একটা জিনিসও নেই যাতে ভারতীয় আর নাগাদের মধ্যে মিল আছে। ভারতীয়দের দেখা মাত্র আমাদের মনে এক অন্ধকার বিষণ্ণতার বোধ জেগে ওঠে।  

Wednesday, June 28, 2017

শরণাগত : শুভ আঢ্য

শরণাগত
বাণ ই তোমার, আমি শান্তি পাই নি
অথচ তোমার থেকে দূরে আমি মদের কাছে
বসি, সুজাতা, তোমার স্তনদু'টো পাক্কা হেডলাইট
আমি অন্ধকারে যখন, রাস্তা দেখাচ্ছে
তোমার সা, লোয়ারে জমে উঠছে লেয়ার
হ্যাঁ, ওই কোমল সা'য়ের কথাই বলছি
এখন আমার বুকপকেটে খেলছে সাপ আর
সিঁড়ি ভেঙে কবে উঠবে বুকে সু................

তোমার বাণ'ই শান্তি পাই নি আমি...
অথচ তুমি কি করে কেকের ওপর আইসিং করো!
এই অন্ধকার জ্বলে ওঠে এবং আমি প্রতিটা সত্যের কাছে
হাত ও পোঁদ পাতি... তোমার স্তনদু'টো পুরো কামরাঙা
রঙ হয়ে আসে, আর তুমি কোথায় চলে যাও সু........



Sunday, June 25, 2017

দাঁড়ি, কমা, সেমিকোলন এবং “ভালো থেকো” [শেষ পর্ব] - বহ্নিশিখা সরকার

দাঁড়ি, কমা, সেমিকোলন এবং “ভালো থেকো”
সাগর আর ঝিনুকের মধ্যে ভালোবাসা নেই। মন্দবাসাও নেই। সাগরের ঝিনুককে ভুলে যাবার দায় নেই, আর ঝিনুকের সাগরকে মনে রাখবার অধিকার নেই। ওরা কেবল জড়িয়ে আছে। বন্ধন নেই আবার মুক্তিও নেই। সাগর ছেলেটি বড্ড কেজো, আমি জানি না যদিও কিন্তু সে এমনটা দাবি করে। ঝিনুক মেয়েটা পাগল, আমি জানি না, সে এমনটা দাবি করে। সাগর কোনও এক কর্পোরেট জঙ্গলে বন্দী আর ঝিনুকের ঠিকানা নেই কোনও।


সাগর আর ঝিনুকের কবে দেখা হয়েছিল জানি না, এই টেকনোলজির যুগেও হুজুগে ওরা চিঠি লেখে। চিঠিতে কেবল কবিতা লেখে, যেগুলো  আমার হাতে পরেছে এসে কোনও ভাবে। তাই দিয়ে দিলাম...

ঘাট ছুঁয়ে জলের গান
সাগর,
খেয়া বেয়ে যায় মেঘ-মল্লার
সারা দেয় কেউ,
কেউ দেয় না

এঁটো হাত ধুয়ে মুছতে পারা যায়
যার শাড়িতে,
তাকে ভালবেসো

অনভ্যাসে বিদ্যা হ্রাস,
শেয়ার বাজারে প্রেমের দাম কমলে
গড়িয়ে নিয়ো প্রেম,
শরীরে মেঘ ঘনিয়ে এলে
উত্তাল যৌনতায় মেতো খানিক-
ঝড়িয়ে নিয়ো বৃষ্টি
ভালোবাসা বাতিল কিউরও

আমি একে শীতকাতুরে তাতে আহাম্মক,
তাই চিঠি লিখি,
যেদিন অমল বাইরে বেরোনোর ছাড়পত্র পাবে
ঠিক সেদিন থেকে আর লিখব না।

ইতি, ঝিনুক
২৪ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৫, কলকাতা


Thursday, June 22, 2017

তিনটি কবিতা : সুপর্ণা মন্ডল

পান্ডুলিপি
ভুল করে ঠিক লেখা হয়ে যায়
আবার ঠিক করতে গিয়ে ভুল।
ঠিকটাকে ভুল আর
ভুলটাকে ঠিক করতে গিয়ে দেখি
পান্ডুলিপি ইতিমধ‍্যে জমা পড়ে গেছে।


Monday, June 19, 2017

অনন্ত এবং আমি, আমি এবং অনন্ত : রঙ্গন রায়

অনন্ত এবং আমি, আমি এবং অনন্ত

একটা নাটকে আমায় 'অনন্ত' নামে একটি চরিত্র দেওয়া হয়েছিল। আমি কিছুতেই চরিত্রে ঢুকতে পারছিলামনা। রিহার্সালে কথা শুনতে হত - 'তোমার দ্বারা কিস্যু হবেনা।' তারপর যেদিন আমি অনন্তের ভিতর ঢুকলাম অনন্ত আমার ভিতর ঢুকে বসলো। আর সে নড়তে চায়না। আমি এবার বের হতে চাইলাম। পারলাম না। পাগলের মত আয়নার সামনে দাপাদাপি করে অনন্তকে টেনে হিঁচড়ে বের করতে করতে রেডিয়ামের মুখোশ পড়ে বেরিয়ে আসলো অনন্ত – ওর চোখ আমার মত, নাক আমার মত, কান আমার মত, সবই আমার মত। আমি আয়নায় তাকালাম – আমার মুখটা ধীরে ধীরে মুখোশ হয়ে যাচ্ছে। অনন্ত বেরিয়ে এলো, আমার মুখটাকে নিয়ে অনন্ত চলে গেলো। তখন থেকেই আমি আমার আসল মুখটা খুঁজে চলেছি… সদর গার্লসের নীলসাদা পোশাকের বালিকাদের দেখি – ওরা আমায় দেখে সভয়ে নাক সিঁটকে সরে যায়। আমি করলার উপত্যকায় দোলনা ব্রীজের নিচে শুয়ে থাকি, সূর্যের দিকে আমার শরীর উন্মুক্ত থাকে…

আমার বড় বড় চুল দাড়িতে আটকে থাকে নাটকের প্রপস্… মুখোশটা খুলতে পারছিনা বলেই আমায় কেউ কোন নাটকের দলে নিচ্ছে না। আমি গ্রীনরুমে ফিরে যেতে চাই, আয়নার পাশে বাল্ব-মেকআপ কিঞ্চিৎ বুক দুরুদুরু… নাহ্, মাথার ভেতর সব গন্ডগোল হয়ে যাচ্ছে। আমার সমস্ত শরীর মানুষের মাংস দিয়ে তৈরী, নীল রঙের লুঙ্গিটা খসে পড়লেই আদিম পোশাক পড়ে দাঁড়িয়ে থাকবো ট্রাফিক সিগন্যালে… আমার ঠোঁট অনেকদিন সিগারেটের ছোঁয়া পায়নি, কিন্তু মুখোশ সিগারেট খাচ্ছে দেখলে অনেকে লজ্জা পেতে পারে - অনেকে ভয় পেতে পারে - অনেকে অস্বস্তি বোধ করতে পারে... সবার চিন্তা আমার মাথায় এসে জট পাকাচ্ছে কেন?

সাবধান!  দেশপ্রিয় পার্ক আসছে। ট্রামলাইন থেকে ছড়িয়ে পড়তে পারে স্বাধীনতা।

Friday, June 16, 2017

দাঁড়ি, কমা, সেমিকোলন এবং “ভালো থেকো” [প্রথম পর্ব] - বহ্নিশিখা সরকার

দাঁড়ি, কমা, সেমিকোলন এবং “ভালো থেকো”

সাগর আর ঝিনুকের মধ্যে ভালোবাসা নেই। মন্দবাসাও নেই। সাগরের ঝিনুককে ভুলে যাবার দায় নেই, আর ঝিনুকের সাগরকে মনে রাখবার অধিকার নেই। ওরা কেবল জড়িয়ে আছে। বন্ধন নেই আবার মুক্তিও নেই। সাগর ছেলেটি বড্ড কেজো, আমি জানি না যদিও কিন্তু সে এমনটা দাবি করে। ঝিনুক মেয়েটা পাগল, আমি জানি না, সে এমনটা দাবি করে। সাগর কোনও এক কর্পোরেট জঙ্গলে বন্দী আর ঝিনুকের ঠিকানা নেই কোনও।

সাগর আর ঝিনুকের কবে দেখা হয়েছিল জানি না, এই টেকনোলজির যুগেও হুজুগে ওরা চিঠি লেখে। চিঠিতে কেবল কবিতা লেখে, যেগুলো  আমার হাতে পরেছে এসে কোনও ভাবে। তাই দিয়ে দিলাম...

পুরনো কথা
ঝিনুক,
শেষ শ্রাবণ দিন, বেলা ছিল গোধূলি।
    কণে দেখা আলোর রেশমি হিজাব ছিল, ভাগ্যিস!
     নয়ত ধরা পরে যেতো ভাষায় মোড়া রহস্য।

পাখির ডানার ভাঁজে ভাঁজে যে কথা-গান-গল্প
      আজীবন আবডালে থেকে যায়, তেমন গোপন-
ঝড়ের আগের নিস্তব্ধতায় হারিয়ে যায় যেসব কথা
      তেমনটাই আধপাগলা,

অন্ধকারের ঠোঙ্গায় মুড়ে খুব চুপি চুপি
    শেষ শ্রাবণের তেলেভাজা গন্ধ পাঠাব তোমায়
চোখ জড়ানো ঢুলুঢুলু সব পুরনো কথা

ধরা দেবেনা কেউ, কিচ্ছুটি টের পাবেনা কখন্‌
         পুরনো কথার দল তোমার স্বপ্নের
             মেঘবালিকা হয়ে উঠেছে।

ইতি, সাগর
১২ই জুলাই, ২০১৫, মুম্বাই



Sunday, June 11, 2017

ভালু : ডাকনামে সমুদ্র

 ভালু

আমরা সবাই জড়ো হয়েছিলাম একটা সর্ষেক্ষেতে। আসলে আগের বছর এখানে সর্ষেচাষ হয়েছিলো। তারপর একবছর আর কিছুই হয়নি। তাও নামটা থেকেই গেছে। আম্মু আর দিভাইকে পাচ্ছিলাম না। ওদের নাকি জঙ্গলের দিকে নিয়ে গেছে। রশিদ এর প্যান্টের দড়িটে খুলে যাচ্ছে। ওর আম্মুকেও নিয়ে গেছে। রশিদ কাঁদছিলো বোকার মত। আব্বু তো বল্লো, একটু বাদেই আম্মু আর দিভাই চলে আসবে। রশিদের আম্মুও। আজ সাত নম্বর রোজা। আব্বুর রোজা ভেঙে গেছে। একবার খারাপ কথা বলেছে আব্বু। বাড়িতে খারাপ কথা বলে না আব্বু। রশিদের এর বাবার মত মাকে মারেও না। রশিদ একবার রাতে ওর আব্বু আম্মু কে কিসব করতে দেখেছিলো। আমার আব্বু আম্মু কেন ওসব করে না? আমি কেন দেখতে পাই না? আম্মুরা এখনো ফিরছে না জঙ্গল থেকে। ওদিক থেকে পচা পচা গন্ধ আসছে। কুকুর পচলে যেমন গন্ধ আসে। আম্মুরা জঙ্গলে কি করছে? ইসস। ওদের সাথে গেলে ভালো হতো। রশিদ আর আমি একবার লুকিয়ে জঙ্গলে গেছিলাম। তারপর আর যাওয়া হয়নি। ওই জঙ্গলে এখন কিরকম সব লোক থাকে। আব্বু বলে, ওরা জওয়ান। ওদের বন্দুক থাকে। রশিদ একবার ওদের কাছে বন্দুক চেয়েছিলো। একটা লোক বলেছিলো, আগে তোর আম্মি কে নিয়ে আয়। রশিদের আম্মি সেদিন রশিদকে খুব মেরেছিলো। কি হতো একবার গিয়ে বললে? বেশ মজা হতো।

আম্মুরা ফিরে এসেছে। সবাই খুব কাঁদছে। ইসস আম্মির গলায় কেমন কালশিটে। আম্মু কাঁদছে। রশিদের মা পেট চেপে মাটিতে শুয়ে। সবাই এসেছে, দিভাই খালি আসে নি। আব্বু ওই লোকগুলোর কাছে গিয়ে কিসব বলছে। ওরা হাসছে। দিভাই কি জঙ্গলে হারিয়ে গেছে? ভালু আছে নাকি ওই জঙ্গলে। দিভাই কে কি ভালু...

দিভাই এর সাথে সাহিন ভাইয়ের শাদি হওয়ার কথা ছিল। দিভাই ছাড়া গ্রামের সবাই ফিরে এসেছে। জঙ্গলের দিক থেকে খুব পচা পচা গন্ধ আসছে। অনেকগুলো কুকুর একসাথে মরে গেলে যেমন গন্ধ আসে আর কি... দিভাই এর একটা ভালু আছে। সাহিন ভাই দিয়েছিলো। লাল রঙের। সেটা জড়িয়ে আজ ঘুমালে নিশ্চয় দিভাই মারবে না।
















ডাকনামে সমুদ্র
Ocean in the name

Thursday, June 8, 2017

পানশালার মনোলগ : অর্ক চট্টোপাধ্যায়

পানশালার মনোলগ

দুপুরের পানশালা। চড়া রোদ বাইরে। মদের থেকেও বেশি রোদের জন্য ভেতরে ঢুকলো হিমাংশু। উইকএন্ডের দুপুর।পানশালায় ভাঁটা। ফাউন্টেন থেকে একটা বিয়ার নিয়ে কোণের ফাঁকা সিঙ্গল টেবিলে গিয়ে বসলো। নীথর শহরতলীর দুপুরে ভেতর-বাইরে এক হয়ে রয়েছে। একদিকের দেওয়াল-টিভিতে ক্রিকেট—অ্যাশেজ সিরিজ, আর অন্যদিকে হর্স রেস ঘিরে কয়েকজন বৃদ্ধের জটলা। অদূরের টেবিলে দুটি মেয়ে কথা বলতে বলতে বিয়ারে চুমুক দিচ্ছে। হিমাংশুর দিকে পিঠ করে যে মেয়েটি বসে আছে তার মুখ দেখতে না পেলেও বাঁ পায়ের হাঁটু অব্দি উঠে আসা কালো চকচকে লং-বুট হাতের সাথে তাল ঠুকে ওঠানামা করছে, কখনো হাঁটুর ঠিক নিচে, কখনো আবার গোড়ালির কাছাকাছি ভাঁজ হয়ে যাচ্ছে। হিমাংশু স্পষ্ট শুনতে পাচ্ছে, কিম্বা দেখতে। মেয়েটির সব কথা তার লং-বুটের সরব ভাঁজগুলোর ভেতর থেকে বেরিয়ে আসছে। কথাগুলো বুজে আসছে ভাঁজ-শব্দে। হিমাংশু বিয়ারে চুমুক দিতে দিতে টেবিলে রাখা সিডনী মর্নিং হেরাল্ডে চোখ দিলো। সংবাদ-শব্দ সরব হয়ে উঠতে লাগলো। মগজে তার দৃশ্যের মৌচাক।
গোটা কাগজ জুড়ে ইউরোপের রিফিউজি ক্রাইসিস নিয়ে রিপোর্ট। সিরিয়া এবং মধ্য প্রাচ্যের নানা দেশ থেকে কাতারে কাতারে লোক জার্মানীতে ঢুকছে। তাদের হাসি-কান্নায় ভাঙা মুখ, কোলে বাচ্চা, খুলে রাখা জুমড চটি জোড়ার ছবি। টার্কির ৩ বছরের আয়্লানের বালিতে গুঁজে থাকা নীথর মুখ। এই ছবিটা শেষ দু-তিনদিন ধরে অনবরত সোশাল মিডিয়ায় ট্রল করছে, দেখেছে হিমাংশু। না, সে শেয়ার করেনি, কোথাও বেঁধেছে, কোথায়, কি, তা ঠিক করে বলা মুশকিল। ফেসবুক টুইটারের এই অবাধ মৃত্যু-মৃত্যু খেলায় এবং জ্ঞান আর নৈতিকতার লড়াইয়ে সচরাচর ঢুকতে ইচ্ছে করে না ওর। পছন্দগুলো ‘লাইক’ হয়ে গেছে, সারাদিন আকাশ থেকে খসে খসে পড়ছে। টার্কির ৩ বছরের শিশু মৃত্যুর বোট থেকে ফটোগ্রাফের আগ্রাসী দৃষ্টির বোটে উঠে সোশাল মিডিয়ার দেওয়ালে দেওয়ালে অনুকম্পা আর বাণীবাণ হয়ে উঠেছে। আয়্লান কি ভাবছে এই সব ট্রলিং নিয়ে? সমুদ্রে কি ট্রলার চলছে এখনো? তার বাবা কি এখনো মরে যাবার কথা বলছেন ইন্টারভিউয়ে? হিমাংশু পাতা উল্টে এগিয়ে চলে। শেষ ক'দিন ধরে অস্ট্রেলিয়ান মিডিয়া তোলপাড় রিফিউজি ইনটেক নিয়ে। 
বর্তমান সরকার লিবারালদের। বছরখানেক ধরেই টনি অ্যাবটের তথাকথিত 'বোট পলিসি' নিয়ে বিতর্ক তুঙ্গে।

Tuesday, June 6, 2017

রোহিণীর সাথে, এই ত্রিশ বত্রিশ বছরে... : দীপ শেখর

রোহিণীর সাথে, এই ত্রিশ বত্রিশ বছরে... 





কাল রাতে লম্পট বৃষ্টিটা পড়লে বুঝলাম
প্রেমের দালালটা আবার ধরবে ধরবে করছে, টাকা চাইবে
চাঁদের জ্বর প্রায় একশো এক, জ্যোৎস্নার ঘরে বাবু নেই
আমি কাল রাতের ঐ নীল শাড়ি পড়া মেয়েটির কাছে আশ্রয় চাইবো, ডাকবো রোহিণী, বেঁচে যাবো।


ভালোবাসা নয়, ভালোবাসার আত্মারাই সবথেকে সহজে ভালোবাসে
এসব বুঝে আমি প্রেমিকের আত্মাটা নিয়ে খানিক নাড়াচাড়া করেছি কাল দুপুরে
আমার পুরনো জীবনকে এখন ট্রাঙ্ক থেকে বার করে নিয়ে আসতে হবে
হৃদয়কে বৃষ্টি ভেজানোর কোনও উপায় জানা আছে কি এ দেশের আইন-ব্যবস্থার?

Saturday, June 3, 2017

মিলিয়ন ডলার নাইটমেয়ার : অদ্বয় চৌধুরী

মিলিয়ন ডলার নাইটমেয়ার

—     চোখ মেলতেই ঝলসানো আলো। চোখ ধাঁধানো। সামনে একটা ভেজানো দরজা। সামান্য এক চিলতে ফাঁক আছে। সেই ফাঁক গলে বেরিয়ে আসছে ওই ঝলসানো আলো। উজ্জ্বল হলুদ। মাঝেমাঝে গেরুয়া ছোপ। দরজার ওপারে একটা বড় ঘর। তার চারিদিকে গনগনে আগুন। তবে তা স্পর্শ করে না আমায়। কিন্তু গরম আঁচ ছুঁয়ে যায়। ঘাম ঝরে। জ্বালা করে— শরীর, চোখ। চোখ দিয়ে জল ঝরে। উপরে, ঘরের ছাদ থেকে, ঝুলছে অসংখ্য মৃতদেহ। মানুষের। মাথা নীচের দিকে, পা উপরে। গোটা শরীরটাই দলা পাকিয়ে ছোট হয়ে গেছে আগুনে পুড়ে। বডিগুলো সবকটাই আগুনে ঝলসানো। বিভৎস চেহারা। কালচে লাল রং। সাদা রঙের এক ডাইনিং টেবিল, নীচে, ঘরের ঠিক মাঝখানে। ঘরের সেই আগুনে-আলো উধাও হয়ে যায়, হঠাৎ। বদলে, সাদা ঝকঝকে আলো ভরিয়ে দেয় ঘর। ভাসিয়ে দেয়। ঘরের উত্তাপও উধাও। বরফ-ঠাণ্ডা স্রোত নেমে যায় শিরদাঁড়া বেয়ে। আমি বসে আছি সেই টেবিলটার এক মাথায়। আমার সামনে একপ্লেট ঝলসানো মাংস। তন্দুরি। আমি ওই কালচে লাল মাংসপিণ্ড খেতে লাগি, ধিরে ধিরে। সেই লম্বা টেবিলের উলটো প্রান্তে একটি অবয়ব ফুটে ওঠে হঠাৎ। আবছা। তারপর ক্রমশ স্পষ্ট হয়ে ওঠে। এক যুবক। স্যুট-টাই পড়া। চোখে চশমা। নিখুঁতভাবে দাড়ি কামানো। স্মার্ট চেহারা। ছেলেটি মাথা নাড়ে আস্তে আস্তে। মনে হয় আমার এই তন্দুরি খাওয়া, তার স্বাদ উপভোগ করা— সবই ও দেখেছে। ঠিক বোঝা যায় না। তখনই সে কথা বলে ওঠে।
—     সো, মিস্টার সিংহানিয়া, এই পার্টিকুলার নাইটমেয়ারটি রেকার করে আপনার ঘুমের মধ্যে? বারবার? প্রতি উইকে তিনবার থেকে ছ’ বার?

সিংহানিয়া বয়স্ক মানুষ। ষাট পেরিয়েছে। ভারী চেহারা। হাত-পা ছেড়ে, চেয়ারে গা এলিয়ে বসে আছে। বরফখণ্ডের মতো ফ্যাকাসে, শুষ্ক, কঠিন মুখচোখ। খানিক ক্লান্তির ছাপ আছে তাতে। টেবিলে রাখা ড্রিঙ্কস-এর গ্লাসের গায়ে ঘরের চিলড্ টেম্পারেচারের ছোঁয়া লেগে রয়েছে। সাদা ভাপ ধরেছে। সামনে বসে থাকা ধোপদুরস্ত ছেলেটা তার থেকে অনেক ছোটো। সিংহানিয়া ভালো করে মাপতে থাকে ছেলেটাকে। তার ছোটো ছোটো কুতকুতে চোখে। এবং তার কথার উত্তর দিতে থাকে। বরফের মতোই ঠাণ্ডা গলায়।
—     ইয়েস, দিস ইজ ইট।
ছেলেটি তার দু হাতের থাবার মধ্যে একটা মোটা ফোল্ডার ধরে রেখেছে। টেবিলের উপরে। সেই ফোল্ডারটা খোলে। ভালো করে দেখে খানিকক্ষণ; উলটে পালটে। ফোল্ডারটা খোলাই থাকে।
—     ডক্টর মুখার্জী রিপোর্ট পাঠিয়েছেন আমাদের অফিসে। আপনি লাস্ট থার্টি থ্রি ইয়ার মোর অর লেস এই স্বপ্নটি— আই মিন, এই দুঃস্বপ্নটি দেখছেন। ফার্স্ট টাইম দেখেন ইন দ্য ইয়ার এইটি ফোর। তারপর আবার বছর দুয়েক বাদে। নাইনটি এইট থেকে আরও একটু ফ্রিক্যোয়েন্ট। বছরে একবার-দুবার। লাস্ট সেভেন অ্যান্ড হাফ ইয়ার রেকারিং পিরিয়ডটা অ্যালার্মিংলি রাইজ করেছে।
চোখদুটো আরও কুঁচকে ছোটো হয়ে যায় সিংহানিয়ার। একটু নড়ে বসে সে। সবকিছু মনে করার চেষ্টা করে বোধহয়। খানিক পরে ঘাড় নেড়ে সায় দেয়।
—     ইয়েস, টু থাউজ্যান্ড নাইন থেকে আই অ্যাম আন্ডার মেডিকেশন। আন্ডার ডক্টর মুখার্জী। তাতে কিছুটা ফল পেয়েছি। সাময়িক। কিন্তু, কিয়োরড হইনি। আসলে, আমার বিজনেস আর এই নাইটমেয়ারটি এক সঙ্গেই বেড়ে উঠেছে।