Showing posts with label Cinema. Show all posts
Showing posts with label Cinema. Show all posts

Saturday, August 5, 2017

কাগজের নৌকা : The Story behind an Independent Film (Part 2)

~কাগজের নৌকা~
The Story behind an Independent Film.

…তারপর কেটে গেছে বছর দেড়েক। এর মধ্যে কাজের সূত্রে প্রায় রোজ দিনই কাটত নতুন মানুষ এবং জায়গার অন্বেষণে। ওই এক এক করে অডিশন নিয়ে বা ছবি দেখে যে নন্দিনী পাওয়া যাবে না তত দিনে বুঝে গেছি। “মে ফারস পে সাজদা কারাতা…” – ওরকম এমনি এমনি হয় না। নতুন একটাও ফিল্ম শুট করিনি, তবে পুরনো ভাবনা চিন্তাগুলো মাথাচারা দিয়ে উঠছিল মাঝে মধ্যেই। এর মধ্যেই একাদশ শ্রেণী তে আলাপ এক বান্ধবীর সঙ্গে দেখা- রাজশ্রী। প্রথম দিন দেখেই, হুট করে একটা উরদু শব্দ মাথায় এসেছিল- আকিদাত। ওই নিয়ে একটা সিনেমা করার কথা ছিল, তাই ব্যাপারটা থেকে যায় আমার মধ্যে। প্রেমে পড়লাম কি? না সে প্রসঙ্গ এখানে থাক, তা অন্য যায়গায় লেখা হছে, আগামী কোন ছবি তে নিশ্চয়ই দেখা যাবে, এই লেখাটায় ওটা ঢুকিয়ে, কেন নির্দেশক পেস্ট্রির প্যাকেট হাতে , অভিনেত্রীর অফিসের সামনে দাড়িয়ে থাকে, সে কথা থাক। তবে ওই আকিদাতের রেফেরেন্সটা প্রয়োজনীয়। বার বার আলাপের ফলে, ওকে দেখে, ওই ভাবটা যে যেকোনো প্রেমিকের মধ্যে আসবে, সে বিষয় সন্দেহ কাটছিল। শুধু আমি ভাবলেই তো হল না, সবার মানশপটে তা না এলে, সিনেমার প্রয়োজনীয়তা থাকে না। ওর সব ছবি দেখে খানিকটা সংশয় হল, একটা ছবিতেও ওরকম লাগছে না, অথচ আমি যখনি ওর সাইড ফেসটা ৭০ ডিগ্রিতে দেখি, ওকে নন্দিনীই লাগে। সুতরাং আনুরোধ, এবং মুখের ওপর না। দু বছরের অপেক্ষার বাদে পেয়েছি, রণে ভঙ্গ দেওয়ার প্রশ্নই আসে না। আমার করুণ মুখ এবং পাগলামির ব্যাপ্তি দেখেই বোধহয় অবশেষে রাজি হলেন। অগত্যা শুট সুরু, কিন্তু বেশ ধীর গতিতে।
আগের লেখাতেই লিখেছিলাম, সেই আগেকার মত নিঃস্বার্থ বন্ধুর আশা এখন আর করি না শুটের সময়। তবে পৃথিবী বড়ই অদ্ভুত, মাত্র দু তিন ঘন্টার আলাপে, রাজশ্রীর দুই বন্ধু মুমুল এবং সঞ্জয় দা, তাদের বাড়িতে নন্দিনীর অন্তঃদৃশ্য শুট করার অনুমতি দিল। এই অন্তপুরটা না পেলে নন্দিনীর চিত্রগ্রহণের ছন্দই বাঁধা পড়ত না। ক্যামারার মোশনের সঙ্গে রাজশ্রী থেকে বিছুরিত নন্দিনীর আলো আঁধারের মোশনের ছন্দ না মিললে, সম্বভই নয়। বহু নিঃস্বার্থ নাম এই সিনেমাটার সঙ্গে আস্তে আস্তে জুড়ে গেছে- অর্ণব, সায়ন, রোহিত, মুমুল, সঞ্জয় দা এবং স্নেহা। তথাকথিত প্রফিট বা লাভ্যংস ছাড়া যে মানুষ এখন পাগলামো সহ্য করে, আর সেই সহনশীলতার ফলে তৈরি হয় অজস্র কাগজের নৌকো- সত্যি মানুষে বিশ্বাস হারানো পাপ।


বেনারস পর্ব
নন্দিনীকে আমি প্রথম থেকেই তথাগতর থেকে দূরে ঠেলেতে চাইছিলাম, যাতে সংশয়টা দৃঢ় হয়, বেনারস নামটা তাই মাথার মধ্যে মাঝে মধ্যেই ঘুরত। হুট করে, এক ভোরবেলায় রাজশ্রী নিজেই যখন শহরটার নাম নিল, ঠিক দু সেকন্ড-এ ঠিক করি বেনারসে শুট করব। নো বাজেট ইন্ডি ফিল্ম, কম মাইনের চাকরি নিয়ে দুটো শহরে শুট করা দুঃসাহসই বটে, কিন্তু রাজশ্রী পাশে থাকায় সে দুঃসাহস নিতে দু’বার ভাবতে হয়নি। তোর জোর করে বেনারসের টিকিট কাটা, থাকার যায়গা বন্দবস্ত ইত্যাদি করে, স্লিপার কোচে চলল আমাদের শুটিং টিম- আমি, রাজশ্রী আর স্নেহা।
অমন মৃত্যু উপতক্যায় পৌঁছেই আমি খানিকটা থমকে গেছিলাম। শুট তো হবে, কিন্তু বেনারসের নিজের যা গুণ, সেসব সব গুণ আমার সিনেমার মধ্যে এসে পড়লেই বিপদ। ওত ক্ষমতা নেই যে ওই আদি অকৃত্তিম শহরের আত্মা কে ফিল্ম বন্দি করে নিয়ে ফিরব। তাও, নদীর এপার, অপার, নৌকোয় সব নিয়ে শুরু হল শুটিং। এমনিতে আমি পাব্লিক স্পেসে শুট করে অভ্যস্ত, তাই অই ভিড়ে এমনিতেই সাবলীল। অবাক করার মত সাবলীলতা আমার সঙ্গী দুজনের। এক জন নির্দ্বিধায়ে একটার পর একটা শট দিয়ে চলেছে, আরেক জন, বৃষ্টি পড়লে ক্যামেরায় ওপর ছাতা ধরা থেকে শুরু করে কাগজের নৌকো পর্যন্ত বানানো -সবেতেই আছেন। নতুন লোকেশানে, এত কম সময় এতটা শুট করে ফেলা সম্ভব হয়েছিল , ওদের জন্যেই। আমাকে ক্যামেরা ছাড়া অন্য কোনোদিকে মন দিতে হয়নি। দ্রুত গতিতে মাত্র চারটে শিডিউলে শেষ চিত্রগ্রহণ পর্ব।
পুরো দু বছর শুটিং জুড়ে অজস্র মুহূর্ত এসেছে যা নিয়ে লিখলে, অবশ্যই “ শুটিঙের গল্প” তৈরি হয়ে যাবে। কিন্তু সে সব লিখলাম না, কারণ এই ফিল্ম করে ঐগুলোই প্রাপ্তি। প্রিয় বন্ধুর সঙ্গে শুরু করে, শেষ করতে করতে আরেকজন প্রিয় বন্ধু খুঁজে পাওয়ার অদ্ভুত এই সমাপতন টাই বিশেষ হয় থাকবে। তবে শেষ করার আগে, কিছু জরুরী কথা বলে রাখা দরকার। ইন্ডিপেন্ডেন্ট ফিল্ম বানাতে যেরকম প্রচুর উৎসাহ, আত্মবিশ্বাস এবং স্বপ্নের প্রয়োজন, তেমনি প্রয়োজন যুক্তিবাদী রাজনীতি, প্রাকটিস এবং স্কিলের। এই স্কিল প্রপনেন্টটা যত দিন না শান দেওয়া হচ্ছে, সে যতই পাসের মুমূর্ষু মানুষকে বাঁচিয়ে রাখার ইচ্ছা বা স্বপ্নে থাক, শল্য চিকিৎসা না জানলে, মৃত্যু অবধারিত। আর এই পতন ব্যাক্তিগত নয়, তা প্রভাব পারিপার্শ্বিক-এ পড়তে বাধ্য। মিডিয়ামটার রাজনীতি এবং প্রযুক্তি যদি পরিস্কার না হয়, তাহলে যাদের জন্যে করা, অর্থাৎ মানুষ, তারাও এটাকে হাস্যস্পদ ভাববে। মানুষ সাড়া না দিলে, বুঝতে হবে, গন্ডগলটা আমাদেরই। আর এই স্বেচ্ছা মৃত্যুর ফাঁদে, আমারই আস্তে আস্তে মিলিয়ে যাব।
বেঁচে থাকার কথাতেই লেখা শেষ করি, তথাগত আর নন্দিনীর কাগজের নৌকোর চিঠি একে ওপরের কাছে পৌঁছেছে কি না, তা নিয়ে সত্যি সংশয় হতে পারে, তবে আমার বিশ্বাস, সব চিঠিই এক দিন না একদিন ঠিক পৌঁছোয়, শেষ অবধি, তাই তার প্রত্যুত্তরের আশায় মানুষ বাঁচে, ভালোবাসা বাঁচে। আরও একটা ছবি তৈরি হয়...

(ক্রমশ)















অনির্বান সরকার

Anirban Sarkar

Sunday, July 30, 2017

কাগজের নৌকা : The Story behind an Independent Film.

~কাগজের নৌকা~
The Story behind an Independent Film.

কাগজের নৌকো-র ভাবনা আসে একদিন রকের আড্ডা থেকে, আমি তখন সদ্য দিল্লীর চাকরি ছেড়ে কলকাতায়, আর শুভ্র এমবিএ পাশ করে, ব্যাঙ্গালোর থেকে ফিরে জয়েনিং ডেটের অপেক্ষায়। দুজনেরি হাত খালি, তাই পুরোনো রকের আড্ডা বেশ জমে উঠেছিল।
আমি যে সিনেমা করব, বা এটাই করতে চাই, তারও পাঁচবছর আগে, সেটা আমার আর ওর প্রায় একি সঙ্গে মাথায় ঢোকে।কয়েকটা বিদেশি ভালো শর্ট ফিল্ম দেখে, এবং দেশিয় কিছু জঘন্য কাজ দেখে। প্রথম ছবির গল্প অপেক্ষা নিয়ে, শুভ্রর ভাবনা, গল্পটা আমাকে, বলার প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই স্ক্রিপ্টটা লিখে ফেলি। কয়েকদিন ধরে, কিভাবে কি দেখানো হবে, এই নিয়ে আলোচনা চলতে থাকে, আমার আর শুভায়নের মধ্যে, প্রায় গনতান্ত্রিক পদ্ধতিতে আমাকে নির্দেশক মনোনীত করা হয়। এদিক ওদিক ফিল্মের বই জোগার করে পড়া, টেকনিক গুলো শেখা, দু রাতে এডিটিং সফটওয়্যার শিখে নেওয়া ওই সময়টাতেই। নায়িকা যোগার করে, দু মাসে পড়াশোনা ইত্যাদি ভুলে শুটিং হল প্রথম ছবির, “তুমি আসবে বলে”। তা সে ছবি আর এল না, ভিডিও কাটের সময় খুব ভরসা ছিল পরে ডাব করে নেওয়া যাবে, কিন্তু সেইটা আর হয়ে উঠল না। পাতি এক্সপিরিয়ন্স এবং স্কিলের অভাবে ছবিটা শেষ হল না। তার পরে ও উৎসাহের কমতি নেই, পরের স্ক্রিপ্ট রেডি করল শুভ্র। এবার যদিও প্রথম ভাবনাটা আমার মাথায় আসে, এক সুন্দরী মহিলার সঙ্গে তার কিছু দিন আগেই, শুভ্র সাকুল্যে কুড়ি ফিট মতন হেঁটেছিল, আর বাকি পুরোটাই খাপছাড়া আলাপ চারিতা। সেই ভাবনা নিয়েই “টোয়েন্টি ফিট অফ টুগেদার নেস”, ও গল্প লিখল, স্ক্রিন প্লে তৈরি হল। আগেরবার আমি বিস্তর ছড়িয়েছি, এবার ওই নির্দেশক।


এর মধ্যে বলে রাখা ভালো, প্রথম বার আমি সিনেমাটোগ্রাফি করিনি, ভয়, পারবনা বলে। কিন্তু সিনেমাটোগ্রাফার নায়িকার মাথা কেটে দেওয়ার কারণে (অদ্ভুত ভাবে সেই ব্যাক্তি রাজশ্রীর একটি ছবি সেই সময় তুলেছিল, সেই ছবিটাতেও মাথাকাটা), শেষ কয়েকটা দৃশ্য আমি আর দিপু ডুয়াল ক্যামেরায় তুলেছিলাম। এবার তাই আমিই করব সিনেমাটোগ্রাফি। বিনা পয়সায় সিনেমা বানানো, কিন্তু আয়োজনের কমতি নেই। বৃষ্টির দরকারে রেনমেসিন বানানো হয়েছে, অরিজিৎ, অর্ঘ্য, শুভায়ন, শোভন, ত্রিজিত এবং দীপু প্রায় সবকিছু জোগাড় করে দিত। বাল্ব দিয়ে থ্রিপয়েন্ট লাইট সেট-আপ, ঘর পরিস্কার, সেট সাজানো, থারমোকল ধরা, লাইট ধরা, সব! আজ এদের কারুর সঙ্গেই সিনেমার সম্পর্ক নেই, তবে আজ কাল যাদের কাজ করতে দেখি, এই উৎসাহ এবং ডেডিকেসন কোনটাই বিশেষ দেখিনা। আমি বা শুভ্র বারবার ধ্যারাবার সত্বেও, প্রত্যেকবার একি উৎসাহে কাজ করে গেছে। দিপুর সঙ্গে প্রচুর সময় কেটেছে ফ্রেম শেখায় একসঙ্গে, রেফেরেন্স ফ্রেম দেখা, ভোরে উঠে নিখাদ ঘন্টার পর ঘন্টা ক্যামেরা নিয়ে প্রাকটিস। মনে পরে অরিজিত একবার বিনাপয়সায় গাড়ি পর্যন্ত জোগাড় করে দিয়েছিল।

এরপরে এই সিনেমা তৈরি মুলপদ্ধতি এবং ভাবনা নিয়েই, আমার আর শুভ্রর প্রায় অনেকদিন বাক্যালাপ এবং মুখ দেখাদেখি দুই বন্ধ ছিল। এর মধ্যে দুজনেই আলাদা আলাদা কাজ রিলিজ করেছি, তা সে ঝামেলা মেটার কিছুদিনের মধ্যেই ও ব্যাঙ্গালোর আর আমি দিল্লি। তাই দুবছর আগের ওই রকের আড্ডার সময়টাতেই দাবী উঠে আসা বাধ্য যে একসঙ্গে অন্তত একটা কাজ শেষ করতেই হবে। এতদিনে আমি বেশ কিছু ডকুমেন্টারি আর অ্যাড ফিল্মএর কাজ করে ফেলেছি, আর শুভ্র সিনেমা বানানো থেকে স্বেচ্ছা নির্বাসন নিয়েছে। হুট করে একদিন প্রশ্ন করল কম্যুনিকেসন কি কি ভাবে হতে পারে, বিস্তারিত আলোচনার পর বাড়ি ফিরতেই, আমার মাথায় কাগজের নৌকোর ভাবনাটা এল। খুব তাড়াতাড়ি তথাগতর চিঠিগুলো লিখে ফেলা হয়, এবং তারপরেই নন্দিনীর। তথাগতর শুট খুব তাড়াতাড়ি চারদিনের কাজেই শেষ, রোজদিনই বৃষ্টি, কোমর জলে নদীতে নেমে শুট। তারপর কিছুদিন চলল নন্দিনীর খোঁজ। কাউকেই আমার পছন্দ হয়না, আসলে সে এমন হবে, যাকে দেখে আমি প্রথমেই থমকে যাব, আর যারা ছবিতে দেখবে, অন্তত একটু প্রেম থাকলে মনে ভাববে “মে ফারস পে সাজদা কারতা হু কুছ হোশমে কুছ বেহোশি মে”। এমন দাবি দিলে, কঠিন হয়ে, অতএব পাওয়া গেলনা নন্দিনী।
আমি শুধু ঠিক করলাম, এটা না শেষ করে, আর নিজের অন্য ফিল্মের একসেকন্ডও শুট করবনা।

(ক্রমশ)















অনির্বান সরকার

Anirban Sarkar

Tuesday, February 28, 2017

“Everything I told you before is a lie” - একটি দেবীপক্ষের Travelogue : রাজর্ষি মজুমদার

“Everything I told you before is a lie” - একটি দেবীপক্ষের Travelogue


যে মেয়েটি কাফকা অন দ্য শোর পড়ছিল সে ধানবাদে নেমে গেছে আমাদের কামরার প্রত্যেকের ব্যক্তিগত চাউনিগুলো আমি ঢুকিয়ে রাখছি একটা বাক্সে চিন্তা হচ্ছে জামাকাপড়ের জন্যআশ্বিন শেষের ভরা একটা রোদ এখন রেলের জানালায়। এই আলো, এই জানালা, নীল রঙ মাখানো হাত সব রেলের। একটা একটা করে দৃশ্যকল্প, একটা একটা করে কথা সরে যাচ্ছে , সরে যাচ্ছে আমার Dissertation শুখা মাঠ, ছিরিছাঁদহীন বাড়ি ঘর দোর পেরোতে পেরোতে প্রশ্ন জাগছেএরা কি সমকামকে স্বীকৃতি দেবে?

একটু পরে সূর্যাস্ত দেখব – কোডারমার ধাপে ধাপে নেমে আসা জঙ্গল, ধূসর পাথুরে খাদের ওপর জেগে থাকা বৌদ্ধ বিহারের ছবি তুলে রাখতেই হবে আমায়। এসব ছবি কাজে লাগবে লেখার সময়, দিন এগারো পরে এ বিকেল পড়ে আসার ঘটনা নিয়ে লিখতে বসে।
মাঝে মাঝে স্বপ্ন আর সিনেমা ছাড়া লেখাতেও আমরা সময়কে সম্প্রসারিত করতে পারি বোধ হয়? এই পারাটা আসলে পাঠকনির্ভর। স্বপ্ন আমরাই তৈরী করি , আমরা সিনেমাও তৈরী করতে পারি। কিন্তু পাঠক ছাড়া বোধহয় লেখা তৈরী হয়না।  
এই যেমন এ লেখা লিখতে লিখে আমার কাছে সময় অনেকগুলি অস্তিত্ব হয়ে ঘোরাফেরা করছে। হয়ত পাঠক বেছে নেবেন তার মধ্যে একটা – লেখাটার একটা নতুন সময় তৈরী করবেন তিনি। এসব ভাবতে লিখতে একটা ফ্লেক ধরাচ্ছি আমি, ধোঁওয়াটুকু ছাড়ছি দশদিন আগের সময়ে  – যেখানে আমি আদিত্য আর শ্রীরাগ টিনের টেবিলটার ওপর পা তুলে দিয়ে সিগারেট টানছি চেয়ারগুলো পেছনের দিকে ঝুঁকে গেছে, বাইরে একটা পাতাও নড়ছেনা এমন গরম। আদিত্য ওর Dissertation এর কাজটা নিয়ে বলছিল – cinema তে  time and space এর ব্যবহার স্বভাবতই আমার কথায় তারকোভস্কি চলে এলেন ... তার ওই হালকা নীল টোনের আকাশে মিশে যাওয়া জনারের ক্ষেত , বেড়ার ওপর সিগারেট ফুঁকতে থাকা মারিয়াকে নিয়েজঙ্গলের সেই গাছগুলোর জ্যামিতি বা বরফের ওপর ডাঁই করে রাখা কাঠের ভিস্যুয়াল থেকে একটা পাপিয়ার ডাক ছুটে চলে এল নদীতীরে। সেখানে নগ্ন প্যাগান মেয়েটি চোখ দিয়ে প্রশ্ন ছুড়ে দিচ্ছে – “ What sin? Tonight is for lovemaking; is love a sin? ”  
তাকে নিয়ে আমার আজ নদীতে যাবার কথা  

সিগারেটটা ঘুরছিল টেবিলের চারদিকে – হাতে হাতে। ঠিক এইসময়ই আমার মুখের কথা কেড়ে নিয়ে শ্রীরাগ বলে ওঠে – “ He was a magician. By his works he just said all the Soviet montage movement filmmakers that – “You guys just … just fuck of! Film is not all about theories, technicality, cutting. It’s about playing with time and space.”

Thursday, August 18, 2016

The Making of 'Fading Clouds' : রঙিন মেঘের গান - ৩

‘Fading Clouds’

একটি ইন্ডি-ফিল্মের গল্প


ঙিন মেঘের গানঃ ৩

ফেডিং ক্লাউডস সিনেমাটির নেপথ্যে এমন অনেক মানুষ জড়িয়ে আছেন যাদের নিস্বার্থ পরিশ্রম ছাড়া এ ছবি সম্ভব হতনা। যেমন অনকুর। অনকুরের সাথে আমার আলাপ বহুবছর আগে। কিন্তু আবার নতুন করে বন্ধুত্ত্ব হল ফেডিং ক্লাউডস এর এক বছর আগে। আমি তখন পাই -এর সাথে ইন্সটলেশন আর্ট বোঝার চেষ্টা করি, এবং পাই একটি পার্ফর্মেন্স আর্ট ফেস্টিভ্যাল করে kipaf সেটি অরগানাইজে সাহায্য করি। ততদিনে আমি বুঝে গেছি যে, খুচরো ফ্রিলান্স করে খরচপাতি বেশ দিব্য চলে যাচ্ছে, কিন্তু কোনও ভবিতব্য দেখছি না। আমি ঠিক করলাম যেভাবেই হোক একটা সিনেমা বানাতে হবে, প্রোডিউসারের জন্য অপেক্ষার কোনও মানে হয়না। কোনও প্রোডিউসার একদিন সকালে ঘুম ভেংে আমাকে ফোন করে এক কোটি টাকা দেবেন না। অনকুরের সাথে এইসব আলোচনা চলছিল, তারপর ২০১৫র ভ্যালেন্টাইন্স ডে, অনকুর আমাকে বলল যে ওর পরিচিত এক ভদ্রলোক ইন্ডিপেন্ডেন্ট ছবি নিয়ে উতসাহী তার সাথে দেখা করার জন্য। সেইমতো আমি আর অনকুর সাউথ সিটিতে গেলাম সৌম্য দার সংে দেখা করতে। সেদিন সাউথ সিটি জুড়ে নবযুগলদের সেলফির হিডিক। খিল্লি করে আমি আর অনকুরও একটা সেলফি তুলে পোস্ট দিলাম। সৌম্যদার সাথে মিটিং হল, সৌম্যদা উতসাহিত করলেন প্রচুর।

Monday, August 15, 2016

The Making of 'Fading Clouds' : রঙিন মেঘের গান - ২

‘Fading Clouds’

একটি ইন্ডি-ফিল্মের গল্প



রঙিন মেঘের গান - ২

পাসিং শব্দটির বাংলা প্রতিশব্দ কি আমি জানিনা। ইংরাজিতে পাসিং ক্রাউড বলে একটা শব্দ আছে, সিনেমাতেও আছে, ধরুন নায়ক নায়িকা রাস্তায় একটি দৃশ্য, সেখানে তাদের পিছনে আউট অফ ফোকাসে হেটে যাবেন পাসিং ক্রাউড।

রাস্তাঘাটেও রাস্তা দিয়ে হেটে যাওয়া অগুন্তি মানুষের মদ্ধে ভাল করে দেখলে এমন কিছু মুহুর্ত দেখা যায় যা সিনেমার চেয়েও দামী। লেখা বা সিনেমা চিরকাল এই অলক্ষে ভীড়ে মিশে থাকা মানুষের জীবনযাপন থেকেই উপাদান নিয়ে এসেছে। তাই একজন লোকের নামের চেয়ে, সে কিভাবে ভাত খায় কিংবা বাসে গুতোয় তা আমার কাছে অনেক বেশি গুরুত্ত্বপুর্ণ।

ফেডিং ক্লাউডস নামটি ঠিক করা গেল, এর আগে নাম ঠিক করেছিলাম পাসিং ক্লাউডস। আমাদের জীবনে এমন অনেক চরিত্র থাকে, যারা আসে, আবার চলেও যায়, শুধু রেখে যায় কিছু স্মৃতি। এমনই কিছু চরিত্রের দেখা হওয়া আবার নিজেদের পথে মিলিয়ে যাওয়ার গল্প নিয়েই এই ছবি। তারপর মনে হল এই চরিত্ররা শুধু চলে যায় এমনটাও নয়, ক্রমে ঝাপসা হয়ে আসে আমাদের জীবন থেকে। নাম ঠিক হল ফেডিং ক্লাউডস। যারা যেন এসেছিল একদিন ঝাপসা হয়ে যাবে বলেই।