Showing posts with label Culture. Show all posts
Showing posts with label Culture. Show all posts

Friday, March 24, 2017

চারটি লেখা নিয়ে এলেন : সীমিতা মুখোপাধ্যায়

আমার প্রথম কবিতার বই

আমার প্রথম কবিতার বইটি হয়ত এখনও
তোমার ঘরে

চুপচাপ লক্ষ্য রাখছে তোমার পালতোলা যাপনচিত্রে,
মিলিয়ে নিচ্ছে সরলের বেজন্মা নিয়ম-কানুন,
তোমার সময়নদী বয়ে যাচ্ছে অন্যখাতে...

তুমি খেয়াল করছো না

আমার বইটি, একদিন দেখো, ধুলো ঝেড়ে উঠে পড়বে ঠিক;
ভোরবেলা তোমায় ঘুম থেকে তুলে বলবে - চলি!

আমি ওর কাছ থেকে শুনে নেবো তোমার 
গুহাজীবনের আদিম রহস্য,
তারপর ইতিহাসের পাতা থেকে ছিঁড়ে নেবো
পৌরাণিক কিছু প্রতিশোধ -

কিছু খুদকুঁড়ো ভালোবাসার লোভ,
আদরের মতো মিষ্টি কিছু শব্দবন্ধ...

বন্ধু, ভালো থেকো!



একটি অস্থির বিড়াল

ওইযে বেড়াল,
সারাদিন এবাড়ি, ওবাড়ি, সেবাড়ি;
তোমরা দেখছো -
মাছের কাঁটা, খাম - খেয়াল, নি:শব্দ চলাফেরা...

আসলে বিড়ালটির তিনদিকে তিনটি ভূখন্ড
আরসে থাকে মধ্যবর্তী কোনও এক না-মানুষের রাজ্যে,
যে কোনও সীমান্তে তার প্রবেশ অবাধ!

অথচ, একটা রিফিউজি বেড়াল ষোলো আনা জানে,
'
বিতাড়িত' শব্দের আসল মানে...



Tuesday, March 21, 2017

সিরিজ কবিতা: পুরাধুনিক ডট কম এবং... : অভিজিৎ পাল

সিরিজ কবিতা: পুরাধুনিক ডট কম এবং...

১.
অনেক দিনের পর ফিরে আসি। জটিল আবর্তগুলো আবার মুখ টিপে হাসে। আজানুলম্বিত উদাত্ত প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ভেঙে দেওয়ার আনন্দময় বিষাদে সেজে ওঠে ক্যানভাস। রঙ মাখি। রঙ মাখাই। ভালোবাসার লাল রঙ। ধূমল বাতাসে ভেসে আসে স্মৃতি অনেক। আমার ব্যর্থতা হতাশা নৈরাশ্য আসছে এবার। অধ্যাপনার কাজের মধ্যে ডুবে মরতে মরতে জীবনবাদী একটা গল্প লিখতে ইচ্ছে করছে। নিজের গল্প। একান্ত। আত্মসম্পর্কের আত্মজীবনী নয়। আকাশ ছুঁয়ে বাঁচতে চাইছি এবার। নিজের মতো করে। স্বপ্নভঙ্গ হলে জানাবো সবই একদিন অমোঘ ভবিতব্য বলে পুরাধুনিক পাঠের সিলেবাসে লেখা ছিল। সমস্ত জৈবলিপির পাঠোদ্ধার আমার পক্ষে এখনও সম্ভব হয়ে ওঠেনি...



২.
ভুল শব্দের মতো কথা বলছেন মহামান্য। ক্ষমতাহীনের মতো চুপ করে মেনে নিচ্ছি দ্বিচারীব্রত। আমার মানসপটে জেগে উঠছে ব্রহ্মবাদ। আমি পাঠ নিচ্ছি। একে একে জেগে উঠছে সম্পর্কের মুখগুলো। আমি বিষাদ আঁকছি। আমার জন্য অপেক্ষা করছে একটা সুবৃহৎ আমি। দৈব ভাষ্যমতে জটিল অদ্বৈতপাঠে ঋদ্ধ হতে হতে সেজে উঠছে দাগ। অম্লমধুর প্রেমের রতিবিলাস শুধু তোমাকেই দেখিয়ে বলে দিচ্ছে। সার্বিক কামানুভব চুষে খাওয়া যেতে পারে মেকানিক্যাল আঙ্গিকে। আমার মানসলোকে হেঁটে আসছেন তিনি। জানু পেতে বসছি। শুনেছি এভাবেই তাঁর কাছে বসতে হয়। ভ্রান্তিপথ হারিয়ে যাচ্ছে ক্রমশ। কাঙ্খিত শুচিতা পবিত্রতা অর্জন করতে শিখছি মাতৃত্বে। মানের মিথ্যে ভোরাই অন্ধকার কেটে আসছে বারবার...


Tuesday, March 14, 2017

একটি শিকারকাহিনি-র শেষ পর্ব : সর্বজিৎ ঘোষ

একটি শিকারকাহিনি-শেষ পর্ব

কল্কিকথা
প্রথম প্রথম সারাদিন একটা ঘরে নিজেকে আটকে রেখেছে অনিমেষ। আশ্চর্য হয়ে সে অনুভব করেছে, ক্রমশ খিদের ভাব চলে যাচ্ছে তার, চলে যাচ্ছে ঘুম। এমনকি আগুনে তার হাত পুড়ছে না, খোলা তারে হাত দিলে ঝটকা খাচ্ছে না। তার কুঁচকিতে যে প্রচুর চুলকানির দাগড়া দাগড়া ছোপ ছিল, রক্ত গড়াতো আর ইস্কুলে সাদা প্যান্টে সেই দাগ দেখে হেসেছিল আর চাঁটি মেরেছিল ক্লাস ফাইভের কিছু নিষ্পাপ শিশু, সেসব চুলকে আর তার আরাম হয় না। ঘড়ি ধরে একবার দম আটকে রেখেছিল, তিনশো ছাপান্ন ঘন্টা বাহান্ন মিনিট উনতিরিশ সেকেন্ড পর একঘেয়ে লাগায় বিরক্ত হয়ে দম নিতে শুরু করে আবার। এসবের মধ্যে কাজের কথা একটাই, ঘুম না হলেও ঘুম তার পাচ্ছিলই, পেয়েই চলেছিল। যাবতীয় সময় তার কেবল ঘুম পেতে থেকেছে, কিংবা এই গোটাটা, এই যাবতীয় ঘর-ঘুম-আগুন-নিঃশ্বাস সবই এক ঘুমের মধ্যে ভাবতে থাকা যে এবারেরটা অন্তত স্বপ্ন নয়, এইতো যা হচ্ছে সত্যিই হচ্ছে, এরকমই তো হয়...
কেবল এই ঘুম পাওয়ার বিরক্তিতেই বাইরে এসেছিল অনিমেষ। সময়ের হিসেব ছেড়ে দেওয়ার পর থেকে, তার কেবল মনে পড়ে নিজেকে সে শুয়ে থাকতে দেখেছে, প্রবল ঘুমে চোখ বুজে আসতে দেখেছে, অথচ ঘুমোতে দেখেনি। এখানেই মনে পড়ে, সে যেন কীভাবে নিজেকে দেখে চলেছে, যেন একটু দূরে দাঁড়িয়ে, ছোলাভাজা চিবোতে চিবোতে তার মনে হচ্ছে নিজেকে দেখে গাড়ল ও প্রতিভাবান, নিজেকে শুয়োরের বাচ্চা বলে সে গাল দিচ্ছে এবং ভাবছে এই শটটা খানিক অল্প চিপ করে মারতে হতো, কিংবা গাল দেওয়াও আসলে তার ভান, তার আদতে কিছুই যায় আসে না। সুতরাং প্রবল ঘুমের তাড়নায় অনিমেষ মনে করতে পারেনি, সে কীভাবে ভাসতে শিখেছিল বাতাসে, মনে করবার কথাই মনে পড়েনি তার। কেবল বাইরে এসে অনিমেষের মনে হয়েছিল, খানিক সর্ষের তেল পেলে চোখে ডলে দেখতে পারে সে, যদি ঘুম পাওয়া থেমে যায়।
সুতরাং সেসময়ে সারা পৃথিবীর কাজ চলেছিল একেবারেই নিজের নিজের তালে, যা যা চলা থামিয়েছিল সেও কেবল তখন তাদের থামার কথা ছিল বলেই। এককথায়, সবই পূর্বনির্ধারিত বলে অনিমেষ ভেবেছিল, এবং তার ভাবনা দিয়েই এরপর থেকে সব প্যাঁচ খেলা হবে। অনিমেষ ঘুমচোখে চলে গিয়েছিল বাসস্ট্যান্ডে, আর বাসে উঠে খেয়াল করেছিল এখানে সর্ষের তেল পাওয়া যায় না এবং এখানে বড় ভিড়। 'ঘুম পাচ্ছে', একঘেয়ে গলায় সে বলেছিল। কেউ তার কথা শোনেনি, বরং পাশের মেয়েটি তার দিকে কড়া চোখে তাকিয়েছিল, ঢুলন্ত অনিমেষ তার গায়ে ঢলে পড়েছিল বলে। ঠিক সেইমুহূর্তে অনিমেষ প্রথম রাগতে দ্যাখে নিজেকে। এমনিতেই তার মনে হতো এতদিন ধরে, রাস্তায় যে কোনো পাঁচজন মানুষকে চড় মারলে ষষ্ঠজন তোমায় যেচে এসে পাঁচটাকা দিয়ে যাবে, এভাবে কত রাত সে কেবল ব্যথার হাতে বোরোলিন লাগিয়ে কাটিয়েছে, আর সেসব রাগ তার মাথায় চড়ে গেল মেয়েটিকে কড়া চোখে তাকাতে দেখে। অনিমেষ ভীষণ জোরে চকাস শব্দে মেয়েটির ঠোঁটে চুমু খায়, দুহাতে মেয়েটির মাথা চেপে ধরে, এবং আরেকটি চুমু খাওয়ার আগে যখন মেয়েটি মোচড়ামুচড়ি করছে আর বাসের লোকেরা চকিত হয়ে মজা দেখছে, অনিমেষ বলে, এক্ষুণি চাইলে দুচোখে আঙুল ঢুকিয়ে দিতাম, কিংবা ন্যাংটো করলে তো দেখব সেই এক বিচ্ছিরি দলা দলা মাংস, অতএব জামা পরিয়েই যে চুমু খাচ্ছি এতে খুশি হও মেয়ে। এখন, এতসব কথা অনিমেষ মুখে উচ্চারণ করেনি, বাসের মানুষ তাকে প্রচণ্ড হইহট্টগোলে ঢেকে ফেলছিল বলে তার বিরক্ত লাগতে শুরু করে, সে লহমায় দেখতে পায় ইঞ্জিনের উপর মলয় নামের সাদা বেড়ালটি, এবং অনিমেষ উচ্চারণ করে

Thursday, March 9, 2017

ঈশ্বরের জননতন্ত্রী, বিদেশি শব্দ এবং একটা রক্তখেকো ন্যাপলা : ডাকনামে সমুদ্র

ঈশ্বরের জননতন্ত্রী, বিদেশি শব্দ এবং একটা রক্তখেকো ন্যাপলা

১।
এই বিশ্বাস হয় -
ঈশ্বর আছেন কণায় কণায়
আমাদের ক্লাস সিক্সের ব্যাকরণ বই
সমস্ত সিগারেট কাউন্টার
ভুখা পেট
অফ্রিকা
জলবায়ু
নিভন্ত উনুন
তীব্র বর্ণবিদ্বেষ
অমৃতা গগণের টোলে
ভেনিসের জল। ইরাকের যুদ্ধ। সংবিধান। ছাপাখানা। জিরো জিরো সেভেন। ভ্লাদিমি পুতিন। হীনস্কন্ধ সময়।
এমনকি টুম্পা চাকির প্রথম খাওয়া ধর্ষণেও



২।
“shouting ‘oh god!' at bed isn't equivalent to a prayer"

ক. হরেকৃষ্ণ বলতো একটি উত্তর কোলকাতার টিঁয়া

খ. তিনি ছেলের নাম রেখেছিলেন শ্যাম। শ্যাম চোদ্দবছর বয়সে বাথরুমের ফুটো দিয়ে ভিজে মাকে দেখে হাত মেরেছিলো।

গ. প্রত্যুষা ঋতুমতী হয়েও ঠাকুর ছুঁয়ে ফেলেছে

ঈশ্বর আমার বিশ্বাস পুড়ছে
ওদিকে দৃশ্য তখনও কালো। পর্দা ওঠে নি। আমরা হাত চালান করে দিয়েছি পবিত্র বুকে বুকে। ঘেঁটেছি।


Tuesday, February 28, 2017

“Everything I told you before is a lie” - একটি দেবীপক্ষের Travelogue : রাজর্ষি মজুমদার

“Everything I told you before is a lie” - একটি দেবীপক্ষের Travelogue


যে মেয়েটি কাফকা অন দ্য শোর পড়ছিল সে ধানবাদে নেমে গেছে আমাদের কামরার প্রত্যেকের ব্যক্তিগত চাউনিগুলো আমি ঢুকিয়ে রাখছি একটা বাক্সে চিন্তা হচ্ছে জামাকাপড়ের জন্যআশ্বিন শেষের ভরা একটা রোদ এখন রেলের জানালায়। এই আলো, এই জানালা, নীল রঙ মাখানো হাত সব রেলের। একটা একটা করে দৃশ্যকল্প, একটা একটা করে কথা সরে যাচ্ছে , সরে যাচ্ছে আমার Dissertation শুখা মাঠ, ছিরিছাঁদহীন বাড়ি ঘর দোর পেরোতে পেরোতে প্রশ্ন জাগছেএরা কি সমকামকে স্বীকৃতি দেবে?

একটু পরে সূর্যাস্ত দেখব – কোডারমার ধাপে ধাপে নেমে আসা জঙ্গল, ধূসর পাথুরে খাদের ওপর জেগে থাকা বৌদ্ধ বিহারের ছবি তুলে রাখতেই হবে আমায়। এসব ছবি কাজে লাগবে লেখার সময়, দিন এগারো পরে এ বিকেল পড়ে আসার ঘটনা নিয়ে লিখতে বসে।
মাঝে মাঝে স্বপ্ন আর সিনেমা ছাড়া লেখাতেও আমরা সময়কে সম্প্রসারিত করতে পারি বোধ হয়? এই পারাটা আসলে পাঠকনির্ভর। স্বপ্ন আমরাই তৈরী করি , আমরা সিনেমাও তৈরী করতে পারি। কিন্তু পাঠক ছাড়া বোধহয় লেখা তৈরী হয়না।  
এই যেমন এ লেখা লিখতে লিখে আমার কাছে সময় অনেকগুলি অস্তিত্ব হয়ে ঘোরাফেরা করছে। হয়ত পাঠক বেছে নেবেন তার মধ্যে একটা – লেখাটার একটা নতুন সময় তৈরী করবেন তিনি। এসব ভাবতে লিখতে একটা ফ্লেক ধরাচ্ছি আমি, ধোঁওয়াটুকু ছাড়ছি দশদিন আগের সময়ে  – যেখানে আমি আদিত্য আর শ্রীরাগ টিনের টেবিলটার ওপর পা তুলে দিয়ে সিগারেট টানছি চেয়ারগুলো পেছনের দিকে ঝুঁকে গেছে, বাইরে একটা পাতাও নড়ছেনা এমন গরম। আদিত্য ওর Dissertation এর কাজটা নিয়ে বলছিল – cinema তে  time and space এর ব্যবহার স্বভাবতই আমার কথায় তারকোভস্কি চলে এলেন ... তার ওই হালকা নীল টোনের আকাশে মিশে যাওয়া জনারের ক্ষেত , বেড়ার ওপর সিগারেট ফুঁকতে থাকা মারিয়াকে নিয়েজঙ্গলের সেই গাছগুলোর জ্যামিতি বা বরফের ওপর ডাঁই করে রাখা কাঠের ভিস্যুয়াল থেকে একটা পাপিয়ার ডাক ছুটে চলে এল নদীতীরে। সেখানে নগ্ন প্যাগান মেয়েটি চোখ দিয়ে প্রশ্ন ছুড়ে দিচ্ছে – “ What sin? Tonight is for lovemaking; is love a sin? ”  
তাকে নিয়ে আমার আজ নদীতে যাবার কথা  

সিগারেটটা ঘুরছিল টেবিলের চারদিকে – হাতে হাতে। ঠিক এইসময়ই আমার মুখের কথা কেড়ে নিয়ে শ্রীরাগ বলে ওঠে – “ He was a magician. By his works he just said all the Soviet montage movement filmmakers that – “You guys just … just fuck of! Film is not all about theories, technicality, cutting. It’s about playing with time and space.”

Thursday, February 16, 2017

ঋপন ফিও একটা গল্প ভেবেছে

ঋপন ফিও একটা গল্প ভেবেছে

তো এক দেশের মানুষ ভাত খেতে ভালবাসত আকাল পড়ার আগে। আকাল পড়ায় অগত্যা বাধ্য হয়ে মকাই। প্রথম প্রথম গলা দিয়ে নামতে না চাইলেও আস্তে আস্তে সয়ে গেল। তারপর এল সেই মোক্ষম দিন। খেতে বসা সন্তানের করুণ মুখের দিকে চেয়ে থাকা এক জর্জরে মা আনমনে বলে উঠল~ বালের ভাত, মকাই ঢের ভাল... আর কি, একজন একজন করে এবার সবাই গুণ গাইতে শুরু করল মকাই এর। ধীরে ধীরে দেশের মানুষ ভুলেই গেল ভাতের স্বাদ। শুধু একজন পারল না কিছুতেই। ডাইনী সন্দেহে তাকে পিটিয়ে মারার আগে অব্দি পাতে মকাই নিয়ে বসে সে শুধু ভাতের কথা ভাবত।
















ঋপন ফিও
Reepan Fio

Tuesday, January 31, 2017

দ্রিম দ্রিম-৩ | মোমরঙ : দোয়েলপাখি দাশগুপ্ত

দ্রিম দ্রিম-৩ | মোমরঙ

একটা নিরিবিলি ঘরে দাঁড়িয়ে আছি আমি। পাশের হলঘর থেকে কোলাহল আসছে। লোকজনে গমগম করছে ঘরটা। হাসির হররা... ওয়াইন গ্লাসের টুংটাং... মোমের আলো। খাবারদাবার, সুগন্ধি... দামী পোশাকের, ভেলভেটের, সুয়েডের খসখস... আমি ঘরটার দিকে মুখ করে অন্ধকারে দাঁড়িয়ে আছি। খুব কম সময়ের জন্য পাচ্ছি বাবাকে। এর মধ্যে যতটা দ্রুত গুছিয়ে নিয়ে দেখাতে হবে আমার কাজ। আমার কাছে ছাপানো কিছু কি আছে? আমি কোনও পোর্টফোলিও করেছি? আমার ক্যামেরা ভর্তি ছবি। প্রচুর ছবি। ডেভেলপ করিনি। ডার্ক রুমে ঢোকা হয়নি বহুদিন। কিন্তু আমি করছি বাবা। অনেক কাজ করছি। তুমি ব্যস্ত তাই... বাবা একবার এঘরে এলেন। উনি আমার সঙ্গে বেশি কথা বলেন না। কারওর সঙ্গেই না। বাবাকে ঘিরে আছেন প্রচুর মানুষ। আর্ট গ্যালারি, ক্রিটিক, ছাত্র অনেকে। এঁদের মাঝে আমার যাওয়ার কথা নয়।

Friday, January 13, 2017

আমরা একটা সিনেমা বানাবো (ভাগ দুই) : হিয়া মুখার্জী

আমরা একটা সিনেমা বানাবো
ঝিমোনো ভয়ের গল্প।
হিলস্টেশনের ক্রেশ।
কামিন বস্তির বাচ্চারা
তাদের ঘুমের মধ্যে
টুপটাপ
খসে খসে পড়ছে
ম্যাগনোলিয়ার মত।
শোনা যায়
এইসব রাতে
চৌখুপি ছাদ থেকে
গন্ধে গন্ধে
খুব সহজেই
ভূত নেমে আসে।
মোমবাতির শিখা কি
দু একবার
কেঁপে উঠলো হাওয়ায়?
রিসর্টের ঘরে
মুখোমুখি দুইজন শুধু
কোনো কথা না বলে
পুরোনো অস্বস্তি থেকে
নতুন অস্বস্তির দিকে
হেঁটে গ্যালো।



Tuesday, January 10, 2017

एक विराट ब्राह्मणवादी - Utpal Pandey

एक विराट ब्राह्मणवादी


मै हूँ एक विराट ब्राह्मणवादी
हुआ है मेरा अवतार
रोकने के लिए
इस दुनिया की बर्बादी
लक्ष्य है मेरा
जांघ व पैर से पैदा होने वालों को
उनकी सही जगह दिखाने की
ताकि महक उठे एक बार फिर
ब्राह्मणों की प्रतिभा से
हर बाग-बगीचा; हर घाटी; और हर वादी
मै हूँ एक विराट ब्राह्मणवादी

बनाया है हमने ये पूरा समाज
लिखी हैं हमने धर्म की सारी किताबें
गढ़े हैं हमने पूरे के पूरे तैंतीस करोड़ देवता
गढ़ा है हमने ये सारा का सारा हिंदुस्थान
और अब कुछ लोग आए हैं
जो करते हैं बराबरी की बात
और कर रहे हैं
हमारे इस सुंदर समाज में
ईर्ष्या व द्वेष फैलाने का प्रयास
लेकिन नही बटने दूँगा
मै ये हमारा समाज
और रोकूँगा मै
ये आने वाली बर्बादी
क्योंकि मै हूँ एक विराट ब्राह्मणवादी

Wednesday, January 4, 2017

বাতিল চিঠিঃ ৭ জানুয়ারি, প্রসেনিয়াম আর্ট সেন্টার, সন্ধ্যে ৭টা

বাতিল চিঠিঃ কিছু না-পাঠানো সংবাদ


চিঠি লিখি না বহুদিন। কেন? লেখার ফুরসৎ নেই তাই। ছোট্ট ফোনের পিং বা লাইভ ভিডিও চ্যাটের সময়ে, মরচে পড়া পোস্ট-অফিসটাই তো বাতিলের খাতায়। সেখানে চিঠি পৌছবেই বা কি উপায়ে? অথচ প্রিয় মানুষের হাতের গন্ধ মাখা চিঠি, শীতের রোদ্দুর পিঠে মেখে, কথায়-ভালবাসায় ভেসে যাওয়ার মেদুরতা কি আর কিছুর সঙ্গে মেলে? তবু দ্রুত গতির পাল্লাছুট সময়ে চিঠি, হলুদ খাম আর ইনল্যান্ড লেটার হয়ে গেছে ব্রাত্য, বাতিল।




এমন কিছু না পাঠানো চিঠি, কিছু কথা আর স্মৃতি গা-মেখে নেওয়ার ভাবনা থেকে গড়ে উঠল আমাদের কাজ ‘বাতিল চিঠি’। একটি মেয়ের তার প্রেমিককে না-পাঠানো কিছু ইমেল হাতে এল। কাজ শুরু হল। অতীত আর বাস্তবকে বাধল সংবাদ। ছবির ফ্রেমে সুরের সংগত। বাকি কথা অনুষ্ঠানের জন্য তোলা থাক।




আগামি ৭ জানুয়ারি প্রসেনিয়াম আর্ট সেন্টারে ‘বাতিল চিঠি’- এর প্রথম শো। অন্তরঙ্গ থিয়েটার ফর্মের এই কাজ মিশ্র-মাধ্যমে প্রাণ পেতে চলেছে। অভিনয়ে অংকিতা মিত্র, গুলশনারা। সঙ্গীত পরিকল্পনা ও পরিবেশনা নীল সরকার। দৃশ্যসজ্জা পার্থ দাস, সাদিক হোসেন ও শমীক দাস। ফ্রেম বন্দীর ভার স্বাতী রায়ের। সামগ্রিক সহায়তায় সুজয়প্রসাদ চ্যাটার্জি। একটি ৪৫ মিনিটের প্রযোজনা। শুরু সন্ধ্যে ৭টা থেকে।


Sunday, December 4, 2016

বাংলা কবিতার প্রসঙ্গে, দলীয় আদর্শ আর একটি বিনীত প্রশ্ন : চান্দ্রেয়ী দে

বাংলা কবিতার প্রসঙ্গে, দলীয় আদর্শ আর একটি বিনীত প্রশ্ন

আজ। অর্থাৎ কাল বা পরশু নয়। একমাস আগের বা একমাস পরের কোনো দিন নয়। এই আজ সময়টা আজকের সময়েই একমাত্র অস্তিত্ববান। কিন্তু, আজ-এর মধ্যে আছে গতকালের ছায়া-র শীতলতা, গতকালের রোদের তাপ, আর আছে আগামীকালের আলোছায়া কে অনুভবের রসদ। আজ এর মধ্যেই আছে গতকাল নেওয়া শপথ, আছে আগামীকালের রুটম্যাপ - পথ চলার দিশা, পাথেয়। তাই আজ, বস্তুত কাল বা পরশু থেকে আমূল বিচ্ছিন্ন, আপাদমাথা যোগাযোগহীন নয়।

দল। ‘দ’ আর ‘ল’-এর একটিমাত্র বিশেষ বিন্যাসেই ‘দল’ শব্দটি তৈরি হয়। একটিমাত্র বিশেষ বিন্যাসেই তৈরি হয় এর ভাবটিও। সময় ও পরিপার্শ্ব অনুযায়ী তার ভাবনা ও তার প্রকাশ বদলে যেতে পারে। কিন্তু শপথ আর পাথেয় আমূল পরিবর্তনশীল হতে পারেনা। পারে, যদি সেই দল, দলের ব্যক্তিবর্গ, সময়ের দাবী মেনে নিয়ে, প্রয়োজনীয়ের অভাব বোধ ক’রে অন্য কোনো বিন্যাসে বিন্যস্ত হয়ে ওঠে, হয়ে ওঠে অন্য কোনো দল। দল যদি আধার হয়, তার আধেয় এক বা একাধিক ব্যক্তি। এখন, স্থান, কাল অনুযায়ী পাত্র তার অবস্থান পরিবর্তন করতে পারে, এমনকি আমূল পরিবর্তনও এক্ষেত্রে সম্ভব। কিন্তু, কোনো দলের পরিপ্রেক্ষিতে ব্যক্তির ব্যক্তিগত অবস্থানের চেয়েও বেশী গুরুত্বপূর্ণ তাদের পারস্পরিক অবস্থান। কোনো দলের সদস্য-ব্যক্তিবর্গের পারস্পরিক অবস্থান সম্পূর্ণ পরিবর্তিত হয়ে গেলে, সেই দলেরও সম্পূর্ণ পরিবর্তন অর্থাৎ অন্য কোনো দল হয়ে ওঠা স্বসিদ্ধ।

নাম। একটি বিশেষ স্থানিক-কালিক-সাংস্কৃতিক পরিমন্ডলে কোনো নাম, যেকোনো নাম কোনো বস্তুর সনাক্তকরণে ব্যবহৃত হয়, যদিও নামের গঠনের সঙ্গে বস্তুর অস্তিত্বের যোগাযোগ সম্পূর্ণ কাল্পনিক। সনাক্তকরণের, পারস্পরিক সংযোগের (কমিউনিকেশনের) প্রয়োজনীয়তা স্বীকার করে নিলে, কোনো একটি নামের মাধ্যমে কোনো বিশেষ বস্তু তথা কোনো বিশেষ ধর্ম এবং বৈশিষ্ট্য প্রকাশিত হয়। এখন, ‘দল’ এর প্রসঙ্গে, কোনো দল এর নামের সঙ্গেই যুক্ত হয়ে যায় দলটির অস্তিত্ব অর্থাৎ তার দলীয় আদর্শ এবং সেই অনুযায়ী সম্ভাব্য কর্মপদ্ধতি। সেই কারণেই দলীয় অবস্থানের পরিবর্তনের সঙ্গে যেমন জড়িয়ে থাকে দলের পরিবর্তন, তেমনই তার সঙ্গে সঙ্গে নামেরও পরিবর্তন। দলভাবনা এমনকি দলভাবনার সার্বিক যৌথতা পরিবর্তিত হয়ে গেলে স্বতঃসিদ্ধভাবেই তার সনাক্তকরণ বৈশিষ্ট্য যায় বদলে, আর তা স্বীকৃতি পায় নাম-এর বদলের মধ্য দিয়ে। কেউ কেউ মনে করতে পারেন পরিবর্তনশীলতাই যেহেতু প্রকৃতি-র নিয়ম, তাই পরিবর্তনশীলতা স্বয়ং কোনো দলের দলীয় আদর্শ হতে পারে। অমোঘ পরিবর্তনশীলতার সামনে বদলে যেতে পারে স্থান-কাল, বদলে যেতে পারে ব্যক্তিক পরিস্থিতি, এমনকি বদলাতে পারে যৌথ অবস্থান। কিন্তু এই সার্বিক পরিবর্তনের জলপ্রপাত নাম-কেও ধুয়ে নিয়ে যাবে না কি? যদি পরিবর্তনশীলতাই ধারণ করতে হয়, নামবাচক ক্ষেত্রটিই বা ব্রাত্য থেকে যাবে কেন? তা কি কোনো ‘লিগ্যাসি’-র তাগিদে? কোনো ‘নস্টালজিয়া’র তাগিদে? অথবা কোনো ‘ব্রান্ডিং’ এর তাগিদে? কেননা সনাক্তকরণ বৈশিষ্ট্য যদি বদলে যায়, সনাক্তকরণের উপচার ‘নাম’ অপরিবর্তিত থাকবে কি করে? যে অতীত বর্তমানে ‘অতীত’, শুধু নামে তাকে বহন করব কেন? কাল আমি কি ছিলাম তা আজ বহন করবে কে, যদি সার্বিক পরিবর্তনে বদলে যায় এই ‘আমি’টাই? অন্তত অংশত। আমার অংশের বদলও আমাকে আর আমি রাখে না। গঙ্গায় যে তিনডুব দিল, সে তিন জন, একজন নয়। যে গঙ্গায় সে ডুব দিলো, তাও তিনটি গঙ্গা। একটি নয়।

ছড়িয়ে থাকা পরিচ্ছেদগুলোর মালা গাঁথতে গাঁথতে বলি, বাংলা কবিতার প্রথম দশকে দেখছি এক সর্বব্যাপী তাড়াহুড়া- কে কোথায় ছিল, কে কোথায় আছে, কেউ শূণ্য কেউ নব্বই কেউ বা অন্য কোন দশক থেকে – সময়ের পথে ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়া আমরা, আমরা যারা যৌথতা নিয়ে রূপকথা বেঁচেছি, যৌথতা নিয়ে স্বপ্ন দেখেছি, জীবন কেটেছি ছিঁড়েছি যৌথতার অভিমানে, তারা, আমরা টুকরো হয়ে যাওয়া সেই যৌথতার দোহাই দিয়ে, সেই যৌথতার কাল্পনিক দায় নিয়ে, সেই যৌথতার নাম ভাঁড়িয়ে প্রকাশ করতে চাইছি ‘অন্য’ এক যৌথতাকে, ‘অন্য’ এক ব্যক্তিক অস্তিত্ব-কে। মরা যৌথতা কে ‘আ’মরা করতে চাইছি। কেন??

বাংলা কবিতার পাঠক, লেখক, বিপ্লবী, আর বাংলা কবিতার আমরা-র পায়ে এই আমার বিনীত প্রশ্ন, এই আমার জিজ্ঞাসু আকুতি...


চান্দ্রেয়ী দে
Chandrayee Dey

Saturday, December 3, 2016

সাতটি টবিতা : দিদার মালেকী

লটকন যেভাবে ফল হয়ে ওঠে

নিউ মার্কেটের সামনাসামনি
দাঁড়িয়ে আছি আপনাআপনি
দেখি ফল হয়ে উঠছে লটকন

ছাতা মাথায় মেয়েটিও একলা
ফোনে বলছে 'তো কী দ্যাখলা'
হাতে ধরা ফোতা হওয়া পপকর্ন

অন্যজনের বেশর ঝুলছে নাকে
ভ্রুর ভঙ্গিতে কারে যেন ডাকে
আমায় ডাকছে থোকা লটকন

মানুষ ফল হয়ে ওঠে বাজারে
চিনতে পারে কে আর কারে?
কোথায় ফলেছিলে হে লটকন?



Tuesday, November 29, 2016

কয়েকটি সময়কে ধরলেন : শাহেদ আনোয়ার

১৯ডিসেম্বর ১৫। ১১:৫৪টা রাত।

দুয়েকদিন ধরে মনে হচ্ছে আমি প্রেমে পড়ছি, ইদানিং কলেজ থেকে আশার সময় একটা মেয়ের সাথে ক্রস হচ্ছে। ব্যাপারটা প্রথম প্রথম আমলে না নিলেও এখন নিচ্ছি। বুঝতে পারছি না কেন এমন হচ্ছে। আমি কি আবার সর্বনাশের দিকে পা বাড়াচ্ছি? মেয়েটিকে দেখার জন্য সন্ধ্যায় নিয়মিত বের হই, আমার বাসার রাস্তা দিয়ে যায়। সাথে বান্ধবি থাকে। প্রতিদিন দেখতে পাই না বলে প্রচন্ড রাগ হয়।

আমি এখনো জানিনা মেয়েটি আমার জুনিয়র নাকি সিনিয়র। ধ্যাএএত, এটা মোটেই ঠিক হচ্ছে না। ঠিক একই ভাবে আমি ক্লাস এইটে পড়ার সময় টেনের এক আপুর প্রেমে পড়ছিলাম। তার মাশুল এখনো দিতে হচ্ছে। আমি কি আবার নতুন মাশুলের কর গুনছি? মনে হআমার উচিৎ শিক্ষা হয়নি, আরও কঠিন একটা শিক্ষা হওয়া দরকার।

কাল রাতে বেশিক্ষণ পড়তে হয়েছে। ঘুমালাম দেরি করে। অসহ্য মাথাব্যথা নিয়ে ঘুমাতে হল। বেশিক্ষণ হয়নি, ঘুমের মধ্যে কে যেন ডাকছিল, সকাল হয়েছে বোধহয়। নাহ, আরেকটু ঘুমাতে হবে। কম্বল দিয়ে মাথা জড়িয়ে নিলাম, কোন শব্দ যেন না শুনি।

কিছুক্ষণ পর আবার কে যেন ডাকছে নিম্নস্বরে। 'এই, এই আরেকটু সরে ঘুমাও না, আমি ঘুমাতে পারছিনা তো, এদিকে আমি খাট থেকে পরে যাচ্ছি, আর তুমি পুরো খাট দখল করে আছ।' আমি একটু সরে শুলাম, যেন এটাই স্বাভাবিক। 'এই, আর কতোক্ষণ ঘুমাবে, আজ না তোমার পরীক্ষা?
  - উফ্‌…!!!
  - মাথাব্যাথা করছে কি, চুল টেনে দেব?

ও হাত বাড়িয়ে চুল টেনে দিচ্ছে। আমি অতল ঘুমে তলিয়ে গেলাম।

ব্যপারটা বাড়াবাড়ি হয়ে যাচ্ছে কিন্তু, বিশ্রীরকমের। নিজেকে বোঝাতে পারছিনা। আমি তাকাব না তাকাব না করেও তাকাই। বেশিক্ষণ তাকাতে পারি না লজ্জায়। ভয়ও হয় - যদি ব্যাপারটা বুঝে ফেলে, নইলে চোখের ভাষা পড়তে কষ্ট হত না। আমার এতদিনের যুক্তিবাদী মনটা কোন যুক্তিই মানছে না। ভেতর থেকে সুনীল বলে ওঠে, ভালবাসার পাশেই একটা অসুখ শুয়ে আছে। আমি বলি, না সুনীল,  ওটা অসুখ নয়, ওটা প্রেম ওটা ভালোবাসা, নীরাকে তুমি যেটা বলো



Monday, November 28, 2016

পাঁচটি লেখা নিয়ে এলেন : অরুণিমা চৌধুরী

প্রেম

খুব ইচ্ছে করে তোমার কথাগুলো কুড়োই
কথায় কথায় ফেলাছড়া কবিতাগুলো যত্ন করে গুছিয়ে তুলি
ইচ্ছে করে ডেকে বলি তোমার শব্দগুলো আমাকে দাও
আমার বেডসাইড টেবলঘড়ির পাশে সাজিয়ে রাখবো
ঘুমভাঙা মাঝরাতে ওরা আমাকে দেখবে
দেখবে ফোলাফোলা গাল,লাল চোখে কেমন জেগে আছি

অযত্নে কপালে এসে পড়া চুল আরো একটু ঘেঁটে
ইচ্ছে করে একফুঁয়ে নিভিয়ে দিই জ্বলন্ত সিগারেট
ও কেন এতোবার তোমার ঠোঁট ছোঁবে

তোমার পেন ফোল্ডার, কম্পিউটার...
কতো কাছে থাকে..কতো সহজে ছুঁয়ে দেয় আঙুল
খুব হিংসে হয়

আজকাল খুব ইচ্ছে করে ডেকে বলি
শুনছো!  নিষিদ্ধ ইচ্ছেগুলো এভাবেই খুব জ্বালায় আমায়
২০১৫




Wednesday, November 23, 2016

চতুশ্চত্বারিংশৎ থেকে একপঞ্চাশৎ চর্যাগীতিকোষবৃত্তি : অভিজিৎ পাল

চতুশ্চত্বারিংশৎ চর্যাগীতিকোষবৃত্তি

কঙ্কণপাদের কাছে বসে ধর্মতত্ত্বের কথা শুনি। অপার্থিব জ্ঞানালোকে সমস্ত শূন্যে শূন্য মিশে যায়। একে একে জেগে ওঠে সর্ব ধর্মমত। একটি সমন্বয়বাদী চিন্তাচেতনার আবহ জমে ওঠে। এক হয়ে ওঠে মতভেদের দল। চতুঃক্ষণ বুঝে স্থিতধী হই। বহু সাধনায় মধ্যমায় জাগে বোধিজ্ঞান। হৃদয় সংবেদী হয়ে আসে নান্দনিক বিন্দুনাদ। শুদ্ধ আত্মজ্ঞান উন্মোচিত হতে থাকে। আমার দৈনিক যাপনের প্রভেদমূলক প্রহেলিকা নষ্ট হয়ে আসে। সন্ধান করে ফিরে আমার মর্ত আগমনের পুরাধুনিক পূর্বসূত্র। সব শেষ হলে ক্ষয় ধরে সংবৃত চিত্তে। কঙ্কণপাদের ঘন ঘন ঝংকারে ভ্রান্তবিষয়ক কোলাহল চূর্ণ হয়ে আসে। আলোর গন্ধে ভরে ওঠে সমস্ত ক্যানভাস..



পঞ্চচত্বারিংশৎ চর্যাগীতিকোষবৃত্তি

দেহতত্ত্বের ইতিবৃত্ত শুনি। কাহ্নপাদ মল্লারী রাগ শোনান। আমার শরীরের পঞ্চেন্দ্রিয় দিয়ে জন্মে ওঠে গাছের শাখা। মনতরু ঢেকে যায় অজস্র পাতায়। ফলে। গন্ধে। ভীত হই। পুনরপি ভয় জাগে। একের পর এক কুঠারের আঘাত বসাই। ক্ষতের দাগ জমে ওঠে ধীরোদাত্ত ঢঙে। শুভাশুভ জলসেচে পুনঃ জন্ম সাজাই। মৃত্যু সাজাই। পুনশ্চ আঘাত করি। নিগূঢ় ছেদনজ্ঞান অধরা রয়ে যায়। মূঢ় সংসারের যাপনের বুঁদ হয়ে ওঠে আমার আজানুলম্বিত তাপদের কথকতা। শিকড় উপড়ে ফেলি। মুছে ফেলি পার্থিব শিকড়ের টান। আকাশ ছুঁয়ে বাঁচতে চাই। শূন্যবাদের সহজিয়া শব্দমঞ্জরী ধ্বনিত হতে থাকে...


Tuesday, November 22, 2016

উত্তম থেকে মধ্যম পুরুষ: সুমনের গানে রাজনীতি আর ভালবাসার কামনাপাঠ - অর্ক চট্টোপাধ্যায়

উত্তম থেকে মধ্যম পুরুষ: সুমনের গানে রাজনীতি আর ভালবাসার কামনাপাঠ

সুমন চট্টোপাধ্যায় থেকে কবীর সুমন – সময়ের অনুক্রমে দুদশক পর ওঁকে নিয়ে লিখতে বসে প্রত্যেকবারের মত এবারও বাধ সাধছে দূরত্বহীনতা, বাধ সাধছে আমার বেড়ে ওঠার লতায় পাতায় ওঁর গানের সরব এবং অরব উপস্থিতি। আর যা বাধ সাধছে তা হলো আমার সাঙ্গীতিক প্রশিক্ষণের অভাব। আমি সাহিত্য এবং দর্শনের ছাত্র; তাই এই লেখার শুরুতেই আমার সাঙ্গীতিক অপারগতা স্বীকার করে নিয়ে সুমনের গানের এক বিষয়ভিত্তিক এবং সাহিত্য ও দর্শন লালিত আলোচানা করার চেষ্টা করব। চেষ্টা করব কারণ লিখতে তো হবেই। লেখার যে দায় আছে আমাদের। আমাদের সময়ের অন্ধকারে সুমনের যদি অহর্নিশ গান বানানোর দায় থাকে তবে আমার তথা আমাদের দায় হলো সেই সময়ের শরিক হয়ে সুমনের গানকে প্রতি-প্রতর্কের আলোয় তুলে ধরা। সুমনের গানের অভিসন্ধি এমন এক প্রতর্ক যা তার প্রত্যুত্তরে আরো প্রতর্ক, আরো অভিসন্ধি দাবি করে। এভাবেই তাঁর গান রাজনৈতিক সংলাপ তৈরী করে। সুমন নিজেই লিখেছেন 'দেখাতে পারিনি আমি কোনো উপমায়/ যে আমিকে তুমি তার সময়ে দেখোনি'। সুমনের উত্তরকালে আমরা কি সুমনের সমসময়ের এই আমি'কে তুলে ধরতে পারবো? উত্তরকালের কাছে সমকাল নিজেই অতীত! সে কি বুঝে নিতে পারে আমির জটিল চলন, তার বর্তমান থেকে তার অতীতে যা নির্মাণ করে তার ভবিষ্যৎ। হয়ত তখন আর সমকাল সেখানে এসে একা চ্যাপলিন হয়ে বসবে না, হয়ত তখন আমরা এক অন্য সুমনকে পাবো, এই সুমনকে নয়। সেই কারণেও বর্তমানের এই ঘটমানতার কাছে আমার বা আমাদের দায় থেকে যায়: সুমনকে নিয়ে প্রতর্ক নির্মাণের দায়।

Saturday, November 19, 2016

প্রাণের ইস্কুলে : স্বদেশ মিশ্র

প্রাণের ইস্কুলে

আমার যে স্থিতিসত্ত্বা, ঘন হয়ে আসে
দূরের পরিধি এসে ঘিরে ধরে আমার আমিকে
আমাকে আচ্ছন্ন করে, ধীরে ধীরে সবই স্থিত হয়,
সমস্ত তরঙ্গের আকার এসে নিরাকারে জড়োসড়ো হয়
মাটিতে আকাশ ধরে, খেলা, জল, ঘর, ধুলো বালি
কেমন গোধূম আসে, সহজতা প্রাণের ইস্কুলে, অন্ধকার
ঠিক নেমে আসে, অনেকটা আলোর পরকালে
যাকে বলো কিছু নয়, তাই থাকে সকল আমি তে
হাঁটে চলে ঘোরে ফেরে, হাটে ও বাজারে গিয়ে, কথা বলে

চুপ করে থাকে যারা ডুব দিয়ে থাকে, আমিরও গভীরে গিয়ে
আমি মারে, টুকরো টুকরো করে লাশ টেনে আনে, টেনে এনে
শ্মশানে পোড়ায়,

তোমার ইস্কুলে তুমি চুল কেটে জুতো মোজা পড়ে,
বিচিত্র পোশাক পড়ে গায়ে, যেইভাবে শিখেছিলে তোমার তুমিটা
শিখেছিলে 'সুশীলতা' তন্‌খা কামাতে গেলে লাগে...
তুমি কি বুঝবে এত? আলো জল হাওয়া ধুলো বালি ?


স্বদেশ মিশ্র

Swadesh Misra

Friday, November 18, 2016

AlterEgo ও Introspection 1 - দুটি গদ্য : রূপসা কুন্ডু

AlterEgo

অনিন্দ্যসুন্দর বসেছিল, বসে বসে দেখছিল ভাতের সশপ্যান উপুড় করলে ফ্যান কিভাবে গড়িয়ে গড়িয়ে পড়ে। ফুটপাথ এর ধারে হোটেল, ফুটপাথে রান্না, ফুটপাথে ধোয়া মোছা আর ফুটপাথ থেকে দুই ফুট উঁচু কাঠের বেঞ্চ এ পরিবেশন। এই মুহূর্তে মধুর বউ উপুড় হয়ে ভাতের মাড় গালছিল; আর অনিন্দ্যসুন্দর সেটাই দেখছিল হাঁ করে। বেশ খানিকটা জায়গা জুড়ে ছড়িয়ে যাওয়া মাড়...

একটা লোক তাড়াহুড়ো করে হেঁটে যেতে গিয়ে ছপাত করে সেটা মাড়িয়ে দিতেই ফুটপাথ এর উপর ফ্যান এর প্রবাহমানতা থেকে লাফিয়ে উঠে ত্রাহি ত্রাহি রব করে উঠল খিদে। প্রচণ্ড খিদে নিয়েই অনিন্দ্যসুন্দর এখানে এসেছিল; তারপর খিদের মুখে কয়েক কাপ চা আর উপর্যুপরি সিগারেট এর মলম পড়াতে খানিক্ষন কিছু বোঝা যায়নি। সে একটু জোরেই হাঁক দিল এবার - 'কিরে মধু; খেতে টেতে দিবি তো নাকি!' আর মধুও তার স্বভাব সুলভ ভঙ্গিতে এক খদ্দের এর পয়সা মেটাতে মেটাতে অন্য হাতটা তুলে আর খানিকটা সময় চেয়ে নিল অনিন্দ্যসুন্দরের থেকে। এমন রোজই হয়। খাবারটা এক্ষুনি এসে পড়লে আর তারপর গোগ্রাসে খেয়ে ফেল্লেও যে খিদে মিটবে না, তার এই গোপন খবর যেনে গ্যাছে মধু। কিকরে জানলো তা নিয়ে অনিন্দ্যসুন্দর আর মাথা ঘামায়নি। মধু তার হাতটা রোখকে ভঙ্গিতে তোলে। কড়া, রুক্ষ, হলুদের দাগ অলা হাত। পাঁচটা আঙুলকে পাঁচ মিনিট সময় ভেবে প্রথমবার ভুল করেছিল অনিন্দ্যসুন্দর। মাঝে মাঝে খিদেয় মাথা ঝিম ঝিম করলে ওই তালুর মধ্যে অনন্তকালের হাঁড়িতে মোটা চালের অফুরন্ত ভাণ্ডার দেখতে পাওয়া যায়।
অনিন্দ্যসুন্দর মধুর দোকানে প্রায় রোজকার খদ্দের। রুটি, ভাত, মাংসের ঝোল ইত্যাদির সাথে চাও পাওয়া যায়। কোন কোন দিন দোকানে বসেই সন্ধ্যেটা কাটিয়ে খেয়ে দেয়ে ঘরে যায় সে। মধুর বউ হেসে হেসে কথা বলে, জিজ্ঞেস করে - বাড়ি কবে যাবেন?
অনিন্দ্যসুন্দর এর বয়েস পঁয়ত্রিশ। শ্যামবর্ণ, হাল্কা দাড়ি গোঁফ, রোগা। আলাদা আলাদা করে কিছু বলা না গেলেও তাকে সুন্দর দেখতে। সুন্দরের থেকেও বলা ভালো অন্যরকম। আলগা, একটু মেয়েলি - বলে অফিসের সহকর্মীরা। কিন্তু ঠিক ওই জন্যেই চোখ যায় ওর দিকে। মহিলারা নিজেদের মধ্যে বলাবলি করে অনিন্দ্যসুন্দর এর স্ত্রী বা প্রেমিকা ভাগ্যবান। বলে দীর্ঘশ্বাস ফেলে ছোট্ট করে।
অনিন্দ্যসুন্দরকে দেখলেই তার পিছনে একটি মহিলাকে কল্পনা করা যায়। নাকফুল আর ঈষৎ বড় চশমা পরা এক সুখি মহিলা তার ঠিক পেছনে দাঁড়িয়ে থাকে ছায়ার মত। মাঝে মাঝে তার শাড়ির রঙ বদলে যায়। অথচ অনিন্দ্যসুন্দর একা, সম্পূর্ণ একা এবং অভুক্ত...



Wednesday, November 16, 2016

গোপনে কবিতা ছাড়ান : কৃষ্ণগহ্বর

গোপনে কবিতা ছাড়ান

OLX এ কবিতা বিক্রি করলে নাকি ভালো টাকা পাওয়া যায়! আমার কবিতার কোন দাম নির্ধারণ হয়নি। যা পাবো তাতেই বেচে দেবো। এরপর একদিন একটা লোক চলে এলো, কবিতা কিনে নিলো। টাকা পেলাম। আমি ও জোকার মানে আমার দ্বিতীয় চরিত্র খুব খুশি। তারপর কিছুদিন কাটলো - খবর পেলাম একটা লোক নতুন কবি হয়েছে, তার কবিতায় নাকি আমার সিগ্নেচার, সুপ্রিমকোর্ট রায় দিলো - এত দিন নাকি আমিই ওনার কবিতা চুরি করে নিজের নামে চালিয়েছিলাম। বলুন ধর্মাবতার, আমি গরু খাইনি শুয়োর খাইনি - কবিতা লিখেই বিচার পেয়ে গেলাম। তারপর দেখা গেলো জোকারের মাথার মধ্যে রোদ পড়েছে মাথার ছায়ায় ঢেকে যাচ্ছে আমার ধড়... কেউ যেন কানে কানে বলে গেলো 

'গোপনে কবিতা ছাড়ান', এরপর থেকে প্রায়ই এরকম স্বপ্ন

"গোপনে কবিতা ছাড়ান।
আপনি কি কবিতা লেখেন? যার জন্য সমাজ কি আপনাকে কবি না বলে "কোবি" বলে খিস্তি করে? তাহলে চলে আসুন আমাদের এখানে। আমরা অত্যন্ত যত্নের সাথে কবিতা ছাড়িয়ে দি। মনে রাখবেন এই চিকিৎসার কোন সাইডএফেক্ট নেই।"

সত্যিই এরপর থেকে প্রায়ই এরকম স্বপ্ন। হাত - পা - মাথাওয়ালা স্বপ্ন, ভীষণ লোডশেডিং হওয়া স্বপ্ন - আমার শরীরে সূর্যের এফেক্ট সাইড হয়ে যেতে লাগলো। একটু ফিসফাস, একটু যৌনতা, একটু তছরূপী... অ্যাসাইলাম গুলো ভারী ভরপুর হয়ে উঠছে, দুপুরে যেসব হরিতকী পাতা ছড়ানো রাস্তা - স্লিভলেস মেয়েদের বগলের চুল - ক্লিভেজ... রিফিলের মত খালি হয়ে আসছে মাথা, রিলিফ ফান্ড গুলো জোকার কে তুলে নিয়ে গেছে হঠাৎ! এভাবে বাঁচা যায় বলুন?

জোকার হারিয়ে গেলো, নভেম্বর চলে এলো। এখন সময় বিপ্লবকে কবিতার মোড়কে পুরে ডায়েরি তে ফেলে রাখবার। চেল্লামেল্লি করবো না, কবিতা লিখবো না, স্বপ্নও দেখবো না আর শুধু রোদ্দুর দেখবো, রোদ্দুর বেয়ে লেনিনের 'হাসমুখ' আমার জানালায় এসে পড়বে, আমি কার্ল মার্ক্সের সাথে লকআউট চাবাগানের পথে হাঁটবো। 






   কৃষ্ণগহ্বর

The Blackest Hole