Showing posts with label Culture. Show all posts
Showing posts with label Culture. Show all posts

Saturday, July 8, 2017

দুটি লেখা : জয়রাজ ভট্টাচার্য

দুটি লেখা
এক
আমরা সবাই একটা ঠিকঠাক চুমু খুঁজে পাবো একটা সফল মৃত্যুর সাথে। সমুদ্রের নিচে যৌনতার মত ছড়িয়ে আছে সাড়ে সাতশো চোখ, তারা জড়িয়ে ধরছে পা, ডাকছে, আমি সেদিকেই যাবো বলে আঙুল থেকে ঝেড়ে ফেললাম অন্য সব প্রলোভন। ক্রমশ ঠান্ডা বোধ হয় তোমার ভাষার সমীপে, সমস্ত উচ্ছাস মুছে ফেলে আমি তোমার নিকটজন হতে চাইছি শুধু শেষতক।



দুই
জ্যোৎস্নার মত শুভ্র আলো তার
কপাল আর চিবুক ঘিরে রেখেছে
সে স্থিতধী, গম্ভীর মন্দ্র স্বভাব,
গ্রীষ্মের সন্ধ্যায় উড়নি গায়ে চাপিয়ে
আর্তজনকে জানাচ্ছে শস্যের পূর্বাভাষ
দিগন্তে ঘনিয়েছে মেঘ, চঞ্চল পায়ে
বালিকারা একবার মাত্র আকাশের
দিকে চেয়ে গোয়ালঘরে ছুটে গেল।
গাও তমোঘ্ন মল্লার রাগে এখনই
নৃত্য হোক একমাত্র জনশ্রুতি
ঈশ্বর আমাদের মধ্যে আরো কিছুক্ষণ
বেঁচে থাক। একেবারে চলে যাওয়ার আগে।



জয়রাজ ভট্টাচার্য

Joyraj Bhattacharjee

Monday, July 3, 2017

পোঁদ ও প্রজাপতি হে : দুটি লেখা - শুভঙ্কর দাশ

পোঁদ
পোঁদ শব্দটিকে নিতম্ব বলে
খাটো না করাই ভালো।
শুনেই দেখছি ভুরু কুঁচকে গেল আপনার।
আপনারা তো আবার উচ্চ ঘর
কংস রাজার বংশধর।
আপনাদের বংশে কেউ কোনদিন
পোঁদকে পোঁদ বলেনি।
বলেছে পেছন, পাছা, নিতম্ব, বাম
আরো অনেক কিছুই।

অথচ অজন্তা ইলোরার যাবতীয়
নয়নাভিরাম নারী মূর্তির ভারী পোঁদ দেখে
আপনারা আপনাদের ইস্থেটিক্স বাড়িয়েছেন।

আজও ক্যাট ওয়াকে ভারী পোঁদ দুলিয়ে না হাঁটলে
পয়সা পাবে না ওই বেচারা মেয়েগুলো।

আমায় যে ছেলেটা মাসাজ করতো
সে বলেছিলো শরীরের যাবতীয় নার্ভ সেন্টার পোঁদে।
অতএব পোঁদের মাসাজ জরুরি খুব।
এ কথার সঠিক বেঠিক আমার জানা নেই।
জানা নেই ছেলেটা আসলে
হোমোসেক্সুয়াল ছিল কিনা।

শুধু জানি মেদিনীপুরে
কিছু মানুষের জাত
চন্দ্রবিন্দু হারানো সেই পোঁদ।
এবং তারা অনেকেই সুশিক্ষিত
প্রফেসর, কবি ইত্যাদি।

তাদের নিশ্চয়ই আপনি
নিতম্ব জাত বলে
অপমান করবেন না।



Saturday, July 1, 2017

এক অন্ধকার বিষণ্ণতার বোধ: একটি দেশদ্রোহী গদ্য - অর্জুন বন্দ্যোপাধ্যায়

এক অন্ধকার বিষণ্ণতার বোধ: একটি দেশদ্রোহী গদ্য

এইসব উপজাতি [?] শুধু যে অটল সংকল্প নিয়ে নিজেদের রক্ষা করে তাই নয়, তারা শত্রুদেরও অত্যন্ত বেপরোয়া সাহসিকতা নিয়ে আক্রমণ করে। তাদের মনের এমন একটা শক্তি আছে যা বিপদের আশঙ্কা কিংবা মৃত্যুভয়ের থেকে জোরালো।
নাগা জাতি সম্বন্ধে একজন ব্রিটিশ কর্মকর্তার মন্তব্য, আনুমানিক ১৮৪০ খ্রীষ্টাব্দ 

রিশাং জেগে আছে—শীত, ১৯৫২ 
রিশাং সাখরি’র বয়স হইয়াছে। নয়-নয় করিয়াও নব্বুই তো হইবে। রিশাং যদিও বলিতে পারে না তাঁহার বয়স কত। কানে শোনে না। চোখে দেখে না। জলের নীচে তাকাইয়া দেখা জগতের মতো ঝাপসা আর ঘোলাটে তাহার জগৎ। কখনও পেচ্ছাপ-পায়খানা বিছানাতেই করিয়া ফ্যালে। শরীর ও জীবনের অসহায়ত্বের নিকট সম্পূর্ণ আত্মসমর্পণ করিয়া মল ও মূত্রের কর্দমাক্ত মাখামাখির ভিতর চুপচাপ শুইয়া থাকে। ভাষাহীন চোখে ফ্যালফ্যাল করিয়া চায়। নষ্ট মার্বেলের মতো রিশাং-এর চোখের মণি তখন যেন এই জগতের নয়, অন্য কোনও জগৎ হইতে তাহা আসিয়াছে। তবু নাতনির বকবক শুনিবার ভয়ে কখনও দেয়াল ধরিয়া ধরিয়াও যায়। একাই যায়। কাহাকেও ডাকে না। কিন্তু শৌচাগার অবধি পৌঁছাইবার পূর্বেই যাহা হইবার হইয়া যায়। তখন আর পথ চিনিয়া বিছানায় ফিরিতেও পারে না। অকুস্থলেই বসিয়া পড়ে। ঘরের ঢালু দিক দিয়া হলুদাভ প্রস্রাব বহিয়া যায়। ভয়ে ডাকিতেও পারে না। কথা বলিলে কাঁপা-কাঁপা লম্বা একটা চিকন সুর বাহির হয় গলা দিয়া। বসিলে একটা পুঁটুলির মতো গোল দলা হইয়া থাকে। মনে হয়, এখুনি গড়াইয়া পড়িয়া যাইবে। শুধু কানে যখন রেডিও গুঁজিয়া শুইয়া থাকে, অসম্ভব জ্বলজ্বল করে বৃদ্ধের চোখ। দাঁতহীন মুখের দুই মাড়ি পরস্পর চাপিয়া ধরে। ব্রিটিশের বেয়নেটে চোয়াল দুইটা ভাঙিয়া ভিতরের দিকে ঢুকিয়া গিয়াছে। গালের দুই পাশে গ্রীষ্মকালীন খরাসর্বস্ব দুইটা পুকুর যেন। তাহাদের তলদেশ বুঝি মুখের ভিতর একে-অপরের প্রান্তভূমি চুম্বন করিয়াছে। কানে কিছুই শোনে না। তবু রেডিওটা তাঁহার চাই। ফিজোর নামটা যদি একবার শুনা যায়। ১৮৭৯ খ্রীষ্টাব্দে এই রিশাং-এর প্রতিরোধ বাহিনীর কাছেই অস্ত্র নামাইয়া আত্মসমর্পণ করিয়াছিল এক রেজিমেন্ট ব্রিটিশ বাহিনী।  

ইতিহাস—বর্তমান—ভবিষ্যৎ
অদ্য যাহা ইতিহাস, একদিন তাহাই ভবিষ্যৎ ছিল। কেম্ব্রিজের ইতিহাসের এক অধ্যাপক এমনটাই বলিয়া থাকেন তাঁহার ছাত্রদের। আমরা যাহারা ‘ষত্ব ণত্ব বিধিতে সিদ্ধ’ শিক্ষিত শহুরে মানুষ তাহারা ইতিহাস ও ভবিষ্যতকে প্রস্রাবরত পুরুষের ডান ও বাম পদ সদৃশ দুই পার্শ্বে ছড়াইয়া মধ্যিখানে যথায় মূত্রত্যাগ করিতেছি, তাহার নাম দেওয়া হইয়াছে বর্তমান।

তবে একটা ইন্টারভিউ হয়ে যাক—ফেব্রুয়ারি, ১৯৫২
’৫২ সালের ১২ই ফেব্রুয়ারি, দিল্লিতে প্রচণ্ড শীতে সাংবাদিক বৈঠক করিতেছেন ঊনচল্লিশ বৎসরের ছোটোখাটো চেহারার, ফর্সা, রোগাপাতলা এক কবি ও আগুনখেকো নেতা আংগামি জাপু ফিজো। যাঁহার মুখের ডানপার্শ্ব পক্ষাঘাতজনিত কারণে বেশ খানিকটা বাঁকা। তামাম ভারতের সাংবাদিক হতবাক হইয়া শুনিতেছে তাঁহার কথা। ফিজো বলিতেছেন,
আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রাম আমরা চালিয়ে যাব। এবং একটি স্বতন্ত্র নেশনের প্রতিনিধিরূপে নেহরুর সঙ্গে আবার একদিন দেখা হবে বন্ধুত্বপূর্ণ বন্দোবস্তের জন্য।
ঝাড়খণ্ড নেতা জয়পাল সিংহ ফিজোর সম্মানে এক দ্বিপ্রাহরিক ভোজের আয়োজন করিয়াছেন। রাষ্ট্রীয় ভবনের ডাইনিং প্লেসে বিরাট ও সুদৃশ্য খাবার টেবিলে কাচের বাটি হইতে চিকেন রেজালা তুলিয়া দাঁতে কাটিতে-কাটিতে জয়পাল ফিজোকে বলিলেন,
দেখুন, ভারতকে আরও টুকরো টুকরো ক’রে নতুন পাকিস্তান বানানোয় আমাদের সম্মতি নেই। আপনি বরং স্বতন্ত্র রাষ্ট্রের দাবি না ক’রে উত্তর-পূর্বে একটা উপজাতীয় রাজ্য গঠনের জন্য সংগ্রাম করুন। যেমন আমি করছি ঝাড়খণ্ড নিয়ে।
উত্তরে কবি তাঁহাকে জানাইলেন, 
আপনারা ইতিহাস আর ভূগোলে বড্ড কাঁচা। আপনাদের অবস্থান থেকে আমরা আপনাদের নর্থ-ইস্ট। আমি এখানে একটু সংশোধন ক’রে দিচ্ছি, আমরা আপনাদের ভারত রাষ্ট্রের নর্থ-ইস্টে অবস্থিত ভারতের প্রতিবেশী রাষ্ট্র। দুই, আমরা কোনও উপজাতি নই। একটা স্বতন্ত্র জাতি। আমাদের ভাষা কোনও উপভাষা নয়। আমাদের সংস্কৃতি কোনও উপ-সংস্কৃতি নয়। আপনি বোধহয় জানেন না যে, আমরাই, নাগারাই সবচেয়ে বেশি স্বশাসিত। আপনার এইসব না-জানাগুলো দোষের নয়। আপনারা নিজেদের দেশে জাতীয় আন্দোলন করেছেন। ইংরেজদের সাথে চিঠিপত্র লেখায় আপনারা অনেকদিন ছিলেন ব্যস্ত। জানার সময় পাননি। আমাদের দেশে সত্যাগ্রহ করতে তো যাননি আপনারা। কোনও আইন অমান্য করতেও যাননি। কোনও গান্ধী টুপি পরা কংগ্রেস নেতা কখনও এইসব পাহাড়ে আসেননি। আজকে আপনারা নিজেদের দেশে ক্ষমতায় এসেছেন এবং আমাদেরকে ভারতের সাথে জুড়ে দিতে চাইছেন। বেশ তো, তবে একটা ইন্টারভিউ হয়ে যাক। আপনাকে একটা প্রশ্ন করি, বলুন তো, এই যে আমাদের এখানে আমরা নাগা, মিজো, খাসি, জয়ন্তীয়ারা একসাথে থাকি, আমাদের নামে এই নাগা-মিজো-খাসি-জয়ন্তী পাহাড়গুলোর নাম হয়েছে নাকি এই পাহাড়গুলোর নামেই আমাদের নাম? আপনি ইন্টারভিউ বোর্ডের সামনে দাঁড়িয়েছেন মিস্টার ইন্ডিয়া। বলুন? কী যোগ্যতা আছে আপনার যে আমরা আমাদের নেশন আপনাদের হাতে তুলে দেব? আমাদের মধ্যে জাতিভেদ নেই, আপনাদের আছে। আমাদের মধ্যে লিঙ্গবৈষম্য খুবই কম, আপনারা প্রগতিশীলেরা এখনও এর থেকে বেরুতে পারেননি। ভারতের মানচিত্রের সাথে আমাদের কোনও টান নেই। আপনাদের টানটা কী বলুন তো? ভারতের অন্যান্য জায়গার লোকেদের থেকে অনেক বেশি গণতান্ত্রিক আমরা। আপনাদের সভ্য মানুষদের মতো শেয়ার মার্কেটে ব’সে চেঁচামেচি করি না। 
ভোজসভা শেষে ফিজো যখন বাহির হইয়া আসিতেছেন তখন দোর্দণ্ড্যপ্রতাপ পরাক্রমশীল রাজার কোনও দূত যেরূপে তুচ্ছ বিদ্রোহীর সম্মুখীন হয় সেইরূপে জয়পাল ফিজোর সম্মুখে আসিয়া দাঁড়াইলেন। এই শীতেও জয়পালের কপালে বিন্দু বিন্দু ঘাম। ফিজো জয়পালের সেই ঘামগুলির দিকে তাকাইয়া বলিলেন,
আপনি হয়ত জানেন সাতচল্লিশ সালে আমি এসেছিলাম এখানে গান্ধীর সাথে দেখা করতে। উনি ঠিক কী বলেছিলেন আমায়, আপনার জানা উচিত। উনি বলেছিলেন, আমরা চাইলেই স্বাধীনতা ঘোষণা করতে পারি। কেউ আমাদের ভারতে যোগ দিতে বাধ্য করতে পারে না। দিল্লি যদি সৈন্য পাঠায় তাহলে তিনি নিজে নাগা পাহাড়ে এসে আমাদের সঙ্গে লড়বেন। গান্ধী এও বলেছিলেন, উনি দিল্লিকে বলবেন, একজন নাগাকেও গুলি করবার আগে তারা যেন গান্ধীকে গুলি করে।      
গাড়িতে উঠিয়া আবার নামিয়া আসিলেন ফিজো। পাদানিতে ডান পা রাখিয়া জয়পালকে হাতের ইশারায় ডাকিলেন। জয়পাল নিকটে আসিলে ফিজো বলিলেন,
আমি ফিরে গিয়ে আপনাকে ইন্টারভিউয়ের রেজাল্ট পাঠিয়ে দেব।

শুধু হাড় আর হাড়—অক্টোবর, ’৫২
ফিজো অরণ্যাবৃত পর্বতে ফিরিয়া গেলেন। নাগা ন্যাশনাল কাউন্সিল খোনোমা গ্রামের আংগামি নাগাদের লইয়া গ্রামে গ্রামে গড়িয়া তুলিল গৃহরক্ষী দল। ঊনিশ শতকের শেষার্ধে এই গ্রামের লোকেরাই রহস্যময় কুয়াশার ভিতর জাগিয়া উঠা পাহাড়ের চুড়ায় শ্বেত সমুদ্রের দ্বীপে আর অরণ্যাবৃত পর্বতমালায় আংগামি রিশাং সাখরির নেতৃত্বে রুখিয়াছিল হানাদার ব্রিটিশ সৈন্যকে। এইবারে আরও একটা যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত হইল এই গ্রাম। ঊনিশ শতকের সেই বিপ্লবীদের সন্তান-সন্ততিরাই রাত্রি জাগিয়া পোস্টার লিখিল। ‘স্বাধীনতা চাই এখন, স্বাধীনতা চাই অনন্তকাল’। ‘এটাই আমাদের প্রাণের কথা, এটাই হবে আমাদের মরণকালেরও কথা’। অসমের রাজ্যপাল আকবর হায়দারির সচিব নাগা নেশন পত্রিকায় আন্দোলনকে ব্যঙ্গ করিয়া লিখিলেন এক কুকুরের গল্প। যাহার মুখে ছিল এক টুকরা হাড়। ফিজো বলিলেন, শুধু হাড় আর হাড়। ওর কি ধারণা আমরা কুকুর? অক্টোবরে দিল্লিকে ফিজো পাঠাইলেন তাঁহার চরমপত্র। তাহাতে লিখিলেন,
এমন একটা জিনিসও নেই যাতে ভারতীয় আর নাগাদের মধ্যে মিল আছে। ভারতীয়দের দেখা মাত্র আমাদের মনে এক অন্ধকার বিষণ্ণতার বোধ জেগে ওঠে।  

Thursday, June 8, 2017

পানশালার মনোলগ : অর্ক চট্টোপাধ্যায়

পানশালার মনোলগ

দুপুরের পানশালা। চড়া রোদ বাইরে। মদের থেকেও বেশি রোদের জন্য ভেতরে ঢুকলো হিমাংশু। উইকএন্ডের দুপুর।পানশালায় ভাঁটা। ফাউন্টেন থেকে একটা বিয়ার নিয়ে কোণের ফাঁকা সিঙ্গল টেবিলে গিয়ে বসলো। নীথর শহরতলীর দুপুরে ভেতর-বাইরে এক হয়ে রয়েছে। একদিকের দেওয়াল-টিভিতে ক্রিকেট—অ্যাশেজ সিরিজ, আর অন্যদিকে হর্স রেস ঘিরে কয়েকজন বৃদ্ধের জটলা। অদূরের টেবিলে দুটি মেয়ে কথা বলতে বলতে বিয়ারে চুমুক দিচ্ছে। হিমাংশুর দিকে পিঠ করে যে মেয়েটি বসে আছে তার মুখ দেখতে না পেলেও বাঁ পায়ের হাঁটু অব্দি উঠে আসা কালো চকচকে লং-বুট হাতের সাথে তাল ঠুকে ওঠানামা করছে, কখনো হাঁটুর ঠিক নিচে, কখনো আবার গোড়ালির কাছাকাছি ভাঁজ হয়ে যাচ্ছে। হিমাংশু স্পষ্ট শুনতে পাচ্ছে, কিম্বা দেখতে। মেয়েটির সব কথা তার লং-বুটের সরব ভাঁজগুলোর ভেতর থেকে বেরিয়ে আসছে। কথাগুলো বুজে আসছে ভাঁজ-শব্দে। হিমাংশু বিয়ারে চুমুক দিতে দিতে টেবিলে রাখা সিডনী মর্নিং হেরাল্ডে চোখ দিলো। সংবাদ-শব্দ সরব হয়ে উঠতে লাগলো। মগজে তার দৃশ্যের মৌচাক।
গোটা কাগজ জুড়ে ইউরোপের রিফিউজি ক্রাইসিস নিয়ে রিপোর্ট। সিরিয়া এবং মধ্য প্রাচ্যের নানা দেশ থেকে কাতারে কাতারে লোক জার্মানীতে ঢুকছে। তাদের হাসি-কান্নায় ভাঙা মুখ, কোলে বাচ্চা, খুলে রাখা জুমড চটি জোড়ার ছবি। টার্কির ৩ বছরের আয়্লানের বালিতে গুঁজে থাকা নীথর মুখ। এই ছবিটা শেষ দু-তিনদিন ধরে অনবরত সোশাল মিডিয়ায় ট্রল করছে, দেখেছে হিমাংশু। না, সে শেয়ার করেনি, কোথাও বেঁধেছে, কোথায়, কি, তা ঠিক করে বলা মুশকিল। ফেসবুক টুইটারের এই অবাধ মৃত্যু-মৃত্যু খেলায় এবং জ্ঞান আর নৈতিকতার লড়াইয়ে সচরাচর ঢুকতে ইচ্ছে করে না ওর। পছন্দগুলো ‘লাইক’ হয়ে গেছে, সারাদিন আকাশ থেকে খসে খসে পড়ছে। টার্কির ৩ বছরের শিশু মৃত্যুর বোট থেকে ফটোগ্রাফের আগ্রাসী দৃষ্টির বোটে উঠে সোশাল মিডিয়ার দেওয়ালে দেওয়ালে অনুকম্পা আর বাণীবাণ হয়ে উঠেছে। আয়্লান কি ভাবছে এই সব ট্রলিং নিয়ে? সমুদ্রে কি ট্রলার চলছে এখনো? তার বাবা কি এখনো মরে যাবার কথা বলছেন ইন্টারভিউয়ে? হিমাংশু পাতা উল্টে এগিয়ে চলে। শেষ ক'দিন ধরে অস্ট্রেলিয়ান মিডিয়া তোলপাড় রিফিউজি ইনটেক নিয়ে। 
বর্তমান সরকার লিবারালদের। বছরখানেক ধরেই টনি অ্যাবটের তথাকথিত 'বোট পলিসি' নিয়ে বিতর্ক তুঙ্গে।

Wednesday, May 31, 2017

Kashmir: Rebel with a Cause - Arjun Bandyopadhyay

Kashmir: Rebel with a Cause
Why and how are people making the choice to join the movement? 

The self-representations of Kashmiri people who are creating their destinies; they freely (?) make the choice to militarize their bodies and transform their identities. Kashmiri fighters are the most visible agents of social change in redefining the self-identity. Given the everyday violence of war in Kashmir, Kashmiri people are making radical choices in the struggle for survival. People living in these extreme conditions realize that survival in war is not fully congruent with the notions of survival in peace. In the context of peace, it is difficult to understand that to survive and live with dignity amidst the crisis of war may require one’s participation in the very same violence that destroyed one’s sense of dignity and integrity. Violence is a means of survival as well as a means of communicating resistance and the integrity of a struggle for self determination to the Indian army. The cultural and physical landscape of war provides amongst the most felicitous spaces for the rise of resistance and struggle. The Kashmiri struggle is embedded in such a landscape of war. It is important to acknowledge people’s participation in Kashmir, rather than dismissing the people as shaped by false consciousness while they attempt to forward a movement within a nationalist struggle. In examining the expressions of violence in the contests between the military powers of the state and resistant Kashmiri nationalist movement, Kashmir is urging us to look into the processes — ‘a distinctive set of beliefs and structures’. When the own political expressions of the people have been suppressed, all the peaceful means of protest have been attacked. What other way is there to change things? The only way left is to pick up the stones and fight for a better life.  People are making the choice to transform their identities, militarize their bodies, and participate in the front lines of battle. Their choices are not easy. When they join the movement, they must discipline their minds and their bodies in preparation for war. They are resolved to the understanding that their intimate relationships with their families are forever transformed; that they will not have access to them, that the likelihood of death is more real than that of survival in war, and that their experiences are forever radically transformed in their own eyes and in the eyes of their community. To this extent, there is little evidence of a duped mind or a false consciousness in the choices that they make to join the struggle. This kind of death, this kind of violence is not in vain because new generations are emerging to continue the struggle. It is not a senseless death, but rather one endowed with purpose, with vision, with integrity, and with the determination that freedom in the territories of the Kashmir will be realized. My intent here is not to romanticize the violence or valorise people’s sacrifice. Rather, I am suggesting that we need to understand the self-representations of people in the Kashmir, how they choose to become active in the violence of war, and how they choose to participate in a movement that is committed to the violence of armed struggle. The material reality of everyday violence is one that hundreds of Kashmiri face each day in Kashmir. The Indian army’s searches and ‘clearing’ operations to weed out the insurgent presence of the Kashmiri struggler continue to result in the disappearances and deaths of Kashmiri women and men. In this context, people are making the choice to transform themselves and their identities from the norms of traditional civil society to the norms of violence and war. Popular assumptions about the brainwashing and conscription of people to act as fodder for the movement, not only reveal a bias that is partially shaped by stereotypes, but also reveal a gap in understanding the choices that Kashmiri people are making.

















Arjun Bandyopadhyay 

নারী বিদ্বেষ আর তার ভাষা : পুরন্দর ভাট

নারী বিদ্বেষ আর তার ভাষা

সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় নারী বিদ্বেষ নিয়ে একটি ফেসবুক বিতর্কে অংশ নিই এবং সেই বিতর্কে যা যা কথা আর বলা হয়ে ওঠেনি সেগুলো এক জায়গায় করে বলে রাখতে পারলে ভালো হয় - এই মনে করে এই লেখার অবতারণা।
প্রথমেই বলি যে আমি নারীবাদী নই কারণ নারীবাদের পক্ষে বা বিপক্ষে মতামত রাখার মতো যথেষ্ট লেখাপড়া আমার নেই। অনেকেরই ভুলভাল ধারণা আছে যে মহিলা এবং পুরুষকে সমান অধিকারের দাবিদার মনে করা মানেই তা নারীবাদ। এটা একেবারেই নয়, সেরকম হলে তাকে মানবতাবাদ বললেই হয় কারণ মানবতাবাদ সকল মানুষকে সমান অধিকার দেওয়ার কথা বলে, লিঙ্গ নির্বিশেষে। নারীবাদ সমাজে মহিলাদের সমান অধিকার দেওয়ার কথাই বলে তবে তাদের মতবাদ অনুযায়ী সমস্ত অধিকারের লড়াইয়ের কেন্দ্রবিন্দুতে নারী অধিকারের প্রশ্ন থাকা উচিত কারণ নারীর বঞ্চনা মানবসভ্যতার সবচেয়ে আদিম বঞ্চনা। হরেক রকমের নারীবাদ আছে, এমন কি রক্ষণশীল নারীবাদ, ক্রিশ্চান নারীবাদ, ইসলামী নারীবাদ প্রভৃতিও আছে। এসবের কোনটা ঢপ আর কোনটা ঠিকঠাক তাই নিয়ে যথেষ্ট পড়াশুনো না থাকার দরুন কোনো কথা বলা সমীচীন হবে না। তবে সুবিধের বিষয় হলো যে নারী বিদ্বেষ নিয়ে মতামত রাখতে গেলে নারীবাদী হওয়া বা নারীবাদ নিয়ে পড়াশুনো থাকার খুব একটা প্রয়োজন নেই, তা ছাড়াই বক্তব্য রাখা যায়।

Wednesday, April 19, 2017

দুটি লেখা নিয়ে এসেছেন : নীলাব্জ চক্রবর্তী

স্বীকৃতি
সংবেদনশীলতা নামের একটা বাক্সের ভেতর বসে আমরা লক্ষ করছি দিন কীভাবে ছোট হয়ে আসছে। হাতে ধরে রাখা চ্যাপ্টা, চৌকো, ধাতব খণ্ডটা, যার নাম সময়, গলে পড়ছে বাঁকানো লরেল পাতার ফাঁকে ফাঁকে। স্বীকৃতি শব্দটার গায়ে কিছু শীত জমে থাকছে এভাবে। নীল ভাঙতে ভাঙতে দীর্ঘ বাক্য হয়ে যাচ্ছে কেউ। এরকম দিনে নিষ্ঠুরতা পেয়ে বসে। চেইন রিঅ্যাকশন। জটিলতার মধ্যে ওইটুকুই সিমেট্রি রেখে দেওয়া হয়েছে। ফলে, মরশুম জুড়ে দ্রুত হয় এক-একটা অক্ষর। বালিশে চাপা পড়ে থাকলো যে দুপুর, তার স্পর্ধা, একটা রঙ হয়ে। জল সরে যাওয়া লবণপ্রণালীর কথা ভাবো। মনে তার যেটুকু রেখেছো মাংসক্ষেতের ভেতর কুচো কুচো কবিতাভাবনা রেখেছো...



আপনার কবিতাকে জীবাণুমুক্ত রাখুন
এখন দ্বিধা বলতে টানেলের ভেতর যেটুকু রোদ। অন্য কারো ডুয়াল সিমে আপনার বেলা পড়ে আসছে কোথাও। পছন্দ করছে বুনো পাথরের গায়ে পার্পল ছোপ ধরতে থাকা কম্যুনিকেশন। পছন্দ করছে আলগা যৌনতা। ভাষার সবটায় তখন কাঁচ ছড়ানো। স্থিতির ভেতর খুব ছুটতে ছুটতে ভাবছি প্রাপ্তি শব্দটার মানেটা ঠিক কী। লক্ষ করুন, কেমন ফুলে উঠছে রাস্তাটার গ্রীষ্মকালীন নাম। আপনার কবিতাকে জীবাণুমুক্ত রাখুন। ভাবুন, উদ্ভিন্ন একটি বিশেষ অঞ্চলের নাম। তার ছোটবড়ো ছায়ারা শব্দ করে ‘তদনুরূপ, তদনুরূপ’। এভাবে স্তনকে দুপুর লিখি আর খুলে রাখি স্নায়ুদের জলপথ। সিনট্যাক্স ছিঁড়ে ফ্যালাও আরেকটা সিনট্যাক্স…













নীলাব্জ চক্রবর্তী

Nilabja Chakrabarti

Saturday, April 15, 2017

দ্রিম দ্রিম ৪ | ম্যাগনোলিয়া, রেড ওয়াইন অ্যান্ড চীজ : দোয়েলপাখি দাশগুপ্ত

দ্রিম দ্রিম ৪ ম্যাগনোলিয়া, রেড ওয়াইন অ্যান্ড চীজ
আস্তাবলের দিকটা না। ম্যাগনোলিয়া ছিল এদিকটায়। গ্লেনারিজ, কেভেন্টারস ছাড়িয়ে আরও একটু এগিয়ে বাঁ দিকে। জামাকাপড়... ডেনিম জ্যাকেট, জেগিংস-এর দোকান... সেগুলো পেরিয়ে কুংগা যাওয়ার রাস্তাটায়। সাদা সবুজ লাল মেশানো কাঠের বাড়ি। ছবির বইয়ের মতো জানালা। আইভিলতাও ঝোলে বোধ হয়। আমি আইভি দেখিনি যদিও কখনও। নীচে ডানদিকে বাজারে নেমে যাওয়ার সিঁড়ি। হিল কার্ট রোডের দিকে। আমি ঠেলেঠুলে একটা সরু গলির মধ্যে দিয়ে উঠতে থাকি। ম্যাগনোলিয়া একবার দেখে আসা দরকার। সরু গলি। কিন্তু অন্ধকার নয়। ওপর দিকের বাড়িগুলোর টিনের চাল আর কার্নিসের ফাঁকফোকর দিয়ে আলো আসছে অনেক। দুপাশে লোক দাঁড়িয়ে। কেউ বিরক্ত করছে না। যে যার মতো ব্যস্ত। সিগারেট খাচ্ছে। গল্প করছে। ওয়াই ওয়াই খাচ্ছে। পাশ দিয়ে সরিয়ে সরিয়ে এগোতে হচ্ছে। ম্যাগনোলিয়ার সামনে এসে পড়লাম।
এটা তো বেশ বড় একটা হামাম! হোটেল ভেবে এদিকে বুক করে ফেলল মৈত্রেয়। ওই তো... জাপানি বাড়ির মতো, চাল দিয়ে ধোঁয়া বেরোচ্ছে অল্প। ‘স্পিরিটেড অ্যাওয়ে’-র বাড়িটার মতো। আমি ভেতরে ঢুকি। ঘন বোতল সবুজ অন্ধকার। তার মাঝখান থেকে চাপা রক্তের মতো লাল রঙের দেওয়াল দেখা যাচ্ছে। বাষ্পে আধো-অদেখা হয়ে আছে গোটাটা। কাচের দরজা খুলে ঢুকতে ঢুকতে টের পাই আমার হাইট কমে গেছে।আমি একটা উঁচু-হিল জুতো পরে। আমার গায়ে একটাসাদা শার্ট আর গ্রে রঙের পেন্সিল স্কার্ট

Saturday, April 8, 2017

জোকারের বালের যুগ্যি নয় ওরা : পুরন্দর ভাট

জোকারের বালের যুগ্যি নয় ওরা

বাঁকুড়া মিমস পেজটা বোধয় ফেসবুক বন্ধ করে দেবে। এই পেজটি বহুবার বিতর্কে জড়িয়েছে। পিডোফিলিয়া নিয়ে একবার বিতর্কে পড়েছিল, বর্ণবিদ্বেষী, নারীবিদ্বেষী পোস্ট করে বিতর্কে জড়িয়েছে, এবার ক্যান্সার পেশেন্টদের কেমোথেরাপির ফলে টাক পড়ে যাওয়া নিয়ে রসিকতা করে বিতর্কে জড়িয়েছে। বহু লোকে রিপোর্ট করেছেন পেজ। সিগনেচার ক্যাম্পেন হয়েছে পেজটাকে সরাবার জন্যে। অনেকেই এমন বলছেন যে যাঁরা ওই পেজটাকে লাইক করেছে তারা যদি আনলাইক না করে তাহলে আনফ্রেন্ড করে দেবে। অর্থাৎ এই রামনবমী আর ভোঁতা তলোয়ার নিয়ে লম্ফ ঝম্পর বাজারেও খানিকটা ফুটেজ খেয়েছে পেজটা। এবার আসা যাক বিতর্কর প্রসঙ্গে।

প্রথমেই যেটা পরিষ্কার করে দেওয়া দরকার যে "ইয়ার্কি মারবার একটা লিমিট আছে, ক্যান্সার পেশেন্ট নিয়ে ইয়ার্কি বা মেয়েদের মাসিক হওয়া নিয়ে ইয়ার্কি মারা প্রচন্ড ইনসেন্সিটিভ" - এই যুক্তির একটা অংশ সঠিক কিন্তু অন্য অংশটা গরুর গোবর। সঠিক হলো "ইনসেন্সিটিভি" আর গোবর হলো "লিমিট আছে।" লিমিট যদি টানেন সেটা কোথায় টানবেন? কেউ ক্যান্সার পেশেন্ট নিয়ে ইয়ার্কি মারাকে লিমিট অতিক্রম করা বলবেন আর কেউ বলবেন গরুকে নিয়ে ইয়ার্কি মারা হলো লিমিট। একটা লিমিট টানাকে সমর্থন করলেই অন্য লিমিটের বিরোধিতা করবেন কী ভাবে? তাই এই লিমিট টানার ব্যাপারটা হলো গোবরের মতো। বিশ্বের সব কিছু নিয়ে ইয়ার্কি মারতেই পারে কেউ, আমি তার প্রতিবাদ করবো, কিন্তু তার জন্য তাকে জেলে পুরে দেবো বা তার বলার বা লেখার অধিকার কেড়ে নেবো না। লিমিট টানতে থাকলে পেহেলাজ নিহালনিকে বরং একবার রোজ সকালে প্রণাম করে নেওয়া দরকার। একটা লিমিট ভালো আর অন্যটা ভালো নয় এটা আপনি কোনো ভাবেই স্বাধীনতার যুক্তি মেনে প্রমাণ করতে পারবেন না। আমি বলছি না যে সব লিমিট সমান, আমি বলছি না যে গায়ের রঙের জন্য কাউকে নিয়ে ইয়ার্কি মারা আর ডোনাল্ড ট্রাম্পকে নিয়ে ইয়ার্কি মারা এক, আমি বলছি না যে একটায় লিমিট টানলে আরেকটাতেও টানতে হবে। কিন্তু একটা করা যাবে আর অন্যটা করা যাবে না এই তর্ক করতে গেলে আপনাকে বাইরে থেকে কিছু যুক্তি আমদানি করতে হবে, স্বাধীনতার পক্ষে উদারবাদ যে যুক্তিগুলো দেয় সেগুলো দিয়ে প্রমাণ করতে পারবেন না। বাইরে থেকে মানে শুধু বাকস্বাধীনতার উদারবাদী ব্যাখ্যায়  আটকে না থেকে, ইতিহাস, অর্থনীতি ইত্যাদির প্রেক্ষাপট টেনে এনে তবে যুক্তি সাজাতে হবে। গডেলস ইনকমপ্লিটনেস থিওরেমের মতো বিষয়টা।  সেই কাজটা কিন্তু বেশ কঠিন, এবং সেটা করতে গেলেই অনেক "ক্যান্সার নিয়ে ইয়ার্কি মারা উচিত না" অবস্থানের সমর্থককে কিন্তু হারাতে হতে পারে কারণ নতুন যুক্তিমালার অনেক কিছু তাদের আবার পছন্দ হবে না। কিন্তু তার আগে একটা মৌলিক বিষয় নিয়ে ভাবা দরকার। সেটা হলো ইয়ার্কি বা মজা বা জোক ব্যাপারটা কি?

Thursday, April 6, 2017

কাঞ্চনজঙ্ঘার ছায়া : শোভন ভট্টাচার্য

কাঞ্চনজঙ্ঘার ছায়া

তুষার বাহিত হাওয়া
এখন শাসন করছে রাত্তিরের ম্যাল।
সমস্ত টুরিস্ট প্রায় ফিরে গেছে হোটেলের ঘরে।
লামা সাধুদের মতো জেগে আছে সারিবদ্ধ পাইন।
কাছে দূরে উঁচুনিচু সমস্ত পাহাড়
প্রাণের প্রদীপ যত জ্বেলেছিল মোহিনী সন্ধ্যায়
একে একে নিভে আসছে সব।
দার্জিলিং ম্যালও তার বাণিজ্যিক বাহু
গুটিয়ে নির্বাণ মন্ত্রে ধ্যানস্থ এখন।

#
ব্রিটিশের ভূত আছে এই দার্জিলিং-এ;
‘কাঞ্চনজঙ্ঘা’-র ছবি বিশ্বাসসুলভ বাঙালিরা
এখনও সপরিবার ছেলেমেয়েজামাইশ্যালক
সমেত প্রতিবছর এখানে আসেন।
থাকেন ব্রিটিশ-ধাঁচে বানানো বাংলোয়।
খাদের রেলিং-ঘেরা সবুজ লবিতে টি-টেবিল
তাদের মহৎ-জন্ম-যাপনের সেরা অবকাশ।

#
আর আসেন নিতান্তই মধ্যবিত্ত শ্রেণি।
সারাদিন এই ম্যাল তাদের কেনাকাটায়, ক্যাচোরম্যাচোরে
চেনা যায়না পাহাড়ের কোনও শীর্ষ ব’লে।

#
আমি নিজে এর আগে দু’বার
দার্জিলিং জেলার সবচেয়ে
উঁচু যে পাহাড়ে থাকে মানুষ, সেখানে
পাঁচদিনের পায়ে হাঁটা পথ ঘুরে ফেরার সময়
শহরে নেমেছিলাম।
কেভেন্টার্সে কফি, গ্লেনারিজে ব্রেকফাস্ট
খেয়েও আমার মন ভরেনি ততটা।
মায়ের চাদর আর বাবার জাম্পার
কিনে ফিরে গেছি অসহায়।
কিন্তু আমি সতত নিশ্চিত
এবারে যে সৌভাগ্যের অধিকার নিয়ে আমি এখানে এসেছি
কাঞ্চনজঙ্ঘার মুখ না দেখতে পাওয়ার গ্লানি তুচ্ছ তার চেয়ে।
কেননা এবার বউ-মেয়ে
ছাড়াও সফর-সঙ্গী বাবা-মা আমার;
যে বাবা-মা ইতিপূর্বে হিমালয় পাহাড় দেখেনি কোনও দিন;
আজ আমি তাদের এক কৃতার্থ সন্তান।
কাজেই এ শুধু একটা ভ্রমণকাহিনিমাত্র নয়;
এ এক প্রেমিক, পিতা, পুত্রজন্ম সিদ্ধির বিষয়।

Thursday, March 30, 2017

Menstruation Cycle - কলিকাতার প্রমিতসার্কেল হইতে আমি অতনু কইতাছি




কলিকাতার প্রমিতসার্কেল হইতে আমি অতনু কইতাছি

সুশীলপর্ব, ১
মাঝে মধ্যে আমিও সুশীল হইতে চাই! আর তাই কিছু হিসেব পাশ কাটাইয়া যাওনের লগে আরাম পাই, ভাবিতে থাকি এই বুঝি ছুছিল হইলাম গো... চ লিখি না ছ লিখি... চ'-এ চো*:P ছ-এ ছমাছম ছম্মা ছমাছম ছম্মা, চু অথবা ছু, চিল অথবা ছিল, চু-চিল, ছু-ছিল! দীর্ঘ কোনো ই-কারের প্রয়োজন নাই, চুচিল বা ছুছিলেই হইবেক ম্যান।তারপর চুচিলের পত্রপত্রিকা ছুছিলের 'আজ রাতে তমুক চ্যানলে মাড়াইবো লাইভ' ইত্যাদি, তারপর অমুক আকাদেমির তমুক তামাক... বাবুরাম সাপুড়ে চুচিল তুই কোথা যাস বাপুরে, আয় বাওয়া দেখে যা, দুইখান তাস রেখে যা... ট্রাম্পকেও চোখে ধাঁধা লাগায়ে চুচিলগণ ওভার ট্রামের কার্ড খেলেন গো... তো আমিও মাঝে মধ্যে সুশীল হইতে চাহি...

পূর্ণসাধু প্রমিতের সুশীল হইতে চাই... কিন্তু আমার তো ব্যকরণবিধি ঠিক নাই, না-প্রমিত না-আঞ্চলিক, না-ঘটি না-বাঙাল, না-মোহনা না-পার্বত্য, না-জংলা না-মালভূম – কিছুই ঠিক নাই... গুরুচণ্ডালীর বাপেরে মা ইত্যাদি কেস হয়... তারপর ম্যানুফ্যাকচারড কনসেন্ট চুদায়ে মানে নিউজটিউজ লিখে কখনো রামপ্রসাদ কখনো দুদ্দু শাহ গাহিতে গাহিতে বাসের জানালার ধারে সুশীল নগর দেখতে দেইখতে বাস থিকান নামি, তারপর টোটো ধরি, বাসায় ফিরি... মুখে চাট্টকিছু দিয়া ফেইসবুকে বসি, দেখি  সুশীল মামা দ্যায় হামা... এরপর সুশীল নয় বরং খ্যাপাচোদা, এমন পদকর্তা, পদাবলীকার, কথকঠাকুর, ফিলোজফার, কবিএমন সকল পাখীমানুষদের মাথাখারাপ লেখা নিয়ে বসে থাকি, মাঝে মধ্যে প্রেমিকা বা প্রেয়সী-সুন্দরীদের লগে কথা হয়, প্রেমিকাও মাঝে মধ্যে কোথায় যে যায়েন, তা ভাইবা ডুব ডুব সাগরে আমার মন, প্রেমেরমানুষ কোথায় হারায় নাকি রয়েই যায়... বাসাতেও আমারে পুঁছে না কেউ...

তাই বাস থিকা নেমে একখান টিকিট কেটে লই এক্সপ্রেসের জেনারেল কামরায়, মুখ কালো ক'রে রবিন্দরের আশ্রমে যাই... রবিন্দর কইতাছি, কেননা সেদিন দেখি হিন্দিভাষীদের আর হিন্দুত্বের ধ্বজা উড়িতেছে আশ্রম থিকা অনতি দূরে...তারও আগে দিদির তোরণ, দিদির তোরণের পর ত্রিকোণ লাল পতাকা, যাহার বর্ডার সোনালী জরিতে, মাঝে হনুমান জ্বিউ…

Tuesday, March 28, 2017

পৃথা রায় চৌধুরী-র : শরীরী-অ

শরীরী-অ

সকাল হতে না হতেই গায়ে পড়া শুরু। সারাদিন বিরমহীন ফস্টিনস্টি চলবে। চলবেই, সূর্যের তেজের সাথে ছায়া ছায়া গাছেদের ঢলানিগিরি শুরু। বাছবিচার নেই, রাস্তা, ছেঁড়াফাটা বুড়ি, কালুয়া কুত্তা, অলকাদির পুকুরঘাটে খোলা পায়ের গোছ। এসব সবাই দেখে না।

দত্তবাড়ির খড়খড়ির ফাঁক কাকের চোখে মিশে থাকে। সামনের নতুন ফ্ল্যাটে নতুন চারা। সন্ধানী চোখ ধারে খুঁজে নেয় ধারবাকি খাতার মাসকাবারি। মাসেরা হাত ধরাধরি করে খাতায় বসে পেট চালাবার ইজারা দেয়।

সরকারী ইস্কুলে মেয়েরা শাড়ী, মেয়েরা ক্লাস এইট, মেয়েরা শাড়ির সাথে জুতো মোজা হনহন। মেয়েগুলো রোগারোগা পালক। পালক কুড়োবার নেশায় চিত্তরঞ্জন বয়েজের সেকেলে গেঁয়ো গেঁয়ো নামের মিছিল।

কলার তোলা, শার্টের গোঁজ খোলা সাইকেলদের কাছে চাইনিজ ঝলকানি রিংটোন। রবার্ট ব্রুসেরা গলি গলি, তস্য গলি।

সেতুর নাম বিকেল চারটে। টিউশান পড়ার নাম, আমি রানি তুই রাজা, আব তো আজা। ফুচকা নয় চুড়মুড়। এবার চারটে নম্বরের জন্য ফেল করেছি... তাতে কি, সময়ের নাম পরের বার।

সন্ধে নামতে ছায়াগাছেদের ঢলাঢলি শেষ। শহুরে ফ্ল্যাটে শাঁখ বাজে না। পাড়ায় পাড়ায় বাবা লক্ষ্মীদের ফেরা।

বিলিতির দোকান আশকারায় ভরা। আগামীকাল কি ড্রাই ডে? তেড়ে বৃষ্টি এলো, আর সিনেমা সিনেমা খুপরিগুলোয় পাঁকাল মাছেদের ভিড় জমে গেল। এখানের রাস্তায় হাম্বারা হাঁটে না। পয়সা খোলাম হয়ে উড়ে আসছে। পাঁকের গন্ধে মাতোয়ারা নিশিগন্ধা।

Friday, March 24, 2017

চারটি লেখা নিয়ে এলেন : সীমিতা মুখোপাধ্যায়

আমার প্রথম কবিতার বই

আমার প্রথম কবিতার বইটি হয়ত এখনও
তোমার ঘরে

চুপচাপ লক্ষ্য রাখছে তোমার পালতোলা যাপনচিত্রে,
মিলিয়ে নিচ্ছে সরলের বেজন্মা নিয়ম-কানুন,
তোমার সময়নদী বয়ে যাচ্ছে অন্যখাতে...

তুমি খেয়াল করছো না

আমার বইটি, একদিন দেখো, ধুলো ঝেড়ে উঠে পড়বে ঠিক;
ভোরবেলা তোমায় ঘুম থেকে তুলে বলবে - চলি!

আমি ওর কাছ থেকে শুনে নেবো তোমার 
গুহাজীবনের আদিম রহস্য,
তারপর ইতিহাসের পাতা থেকে ছিঁড়ে নেবো
পৌরাণিক কিছু প্রতিশোধ -

কিছু খুদকুঁড়ো ভালোবাসার লোভ,
আদরের মতো মিষ্টি কিছু শব্দবন্ধ...

বন্ধু, ভালো থেকো!



একটি অস্থির বিড়াল

ওইযে বেড়াল,
সারাদিন এবাড়ি, ওবাড়ি, সেবাড়ি;
তোমরা দেখছো -
মাছের কাঁটা, খাম - খেয়াল, নি:শব্দ চলাফেরা...

আসলে বিড়ালটির তিনদিকে তিনটি ভূখন্ড
আরসে থাকে মধ্যবর্তী কোনও এক না-মানুষের রাজ্যে,
যে কোনও সীমান্তে তার প্রবেশ অবাধ!

অথচ, একটা রিফিউজি বেড়াল ষোলো আনা জানে,
'
বিতাড়িত' শব্দের আসল মানে...



Tuesday, March 21, 2017

সিরিজ কবিতা: পুরাধুনিক ডট কম এবং... : অভিজিৎ পাল

সিরিজ কবিতা: পুরাধুনিক ডট কম এবং...

১.
অনেক দিনের পর ফিরে আসি। জটিল আবর্তগুলো আবার মুখ টিপে হাসে। আজানুলম্বিত উদাত্ত প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ভেঙে দেওয়ার আনন্দময় বিষাদে সেজে ওঠে ক্যানভাস। রঙ মাখি। রঙ মাখাই। ভালোবাসার লাল রঙ। ধূমল বাতাসে ভেসে আসে স্মৃতি অনেক। আমার ব্যর্থতা হতাশা নৈরাশ্য আসছে এবার। অধ্যাপনার কাজের মধ্যে ডুবে মরতে মরতে জীবনবাদী একটা গল্প লিখতে ইচ্ছে করছে। নিজের গল্প। একান্ত। আত্মসম্পর্কের আত্মজীবনী নয়। আকাশ ছুঁয়ে বাঁচতে চাইছি এবার। নিজের মতো করে। স্বপ্নভঙ্গ হলে জানাবো সবই একদিন অমোঘ ভবিতব্য বলে পুরাধুনিক পাঠের সিলেবাসে লেখা ছিল। সমস্ত জৈবলিপির পাঠোদ্ধার আমার পক্ষে এখনও সম্ভব হয়ে ওঠেনি...



২.
ভুল শব্দের মতো কথা বলছেন মহামান্য। ক্ষমতাহীনের মতো চুপ করে মেনে নিচ্ছি দ্বিচারীব্রত। আমার মানসপটে জেগে উঠছে ব্রহ্মবাদ। আমি পাঠ নিচ্ছি। একে একে জেগে উঠছে সম্পর্কের মুখগুলো। আমি বিষাদ আঁকছি। আমার জন্য অপেক্ষা করছে একটা সুবৃহৎ আমি। দৈব ভাষ্যমতে জটিল অদ্বৈতপাঠে ঋদ্ধ হতে হতে সেজে উঠছে দাগ। অম্লমধুর প্রেমের রতিবিলাস শুধু তোমাকেই দেখিয়ে বলে দিচ্ছে। সার্বিক কামানুভব চুষে খাওয়া যেতে পারে মেকানিক্যাল আঙ্গিকে। আমার মানসলোকে হেঁটে আসছেন তিনি। জানু পেতে বসছি। শুনেছি এভাবেই তাঁর কাছে বসতে হয়। ভ্রান্তিপথ হারিয়ে যাচ্ছে ক্রমশ। কাঙ্খিত শুচিতা পবিত্রতা অর্জন করতে শিখছি মাতৃত্বে। মানের মিথ্যে ভোরাই অন্ধকার কেটে আসছে বারবার...


Tuesday, March 14, 2017

একটি শিকারকাহিনি-র শেষ পর্ব : সর্বজিৎ ঘোষ

একটি শিকারকাহিনি-শেষ পর্ব

কল্কিকথা
প্রথম প্রথম সারাদিন একটা ঘরে নিজেকে আটকে রেখেছে অনিমেষ। আশ্চর্য হয়ে সে অনুভব করেছে, ক্রমশ খিদের ভাব চলে যাচ্ছে তার, চলে যাচ্ছে ঘুম। এমনকি আগুনে তার হাত পুড়ছে না, খোলা তারে হাত দিলে ঝটকা খাচ্ছে না। তার কুঁচকিতে যে প্রচুর চুলকানির দাগড়া দাগড়া ছোপ ছিল, রক্ত গড়াতো আর ইস্কুলে সাদা প্যান্টে সেই দাগ দেখে হেসেছিল আর চাঁটি মেরেছিল ক্লাস ফাইভের কিছু নিষ্পাপ শিশু, সেসব চুলকে আর তার আরাম হয় না। ঘড়ি ধরে একবার দম আটকে রেখেছিল, তিনশো ছাপান্ন ঘন্টা বাহান্ন মিনিট উনতিরিশ সেকেন্ড পর একঘেয়ে লাগায় বিরক্ত হয়ে দম নিতে শুরু করে আবার। এসবের মধ্যে কাজের কথা একটাই, ঘুম না হলেও ঘুম তার পাচ্ছিলই, পেয়েই চলেছিল। যাবতীয় সময় তার কেবল ঘুম পেতে থেকেছে, কিংবা এই গোটাটা, এই যাবতীয় ঘর-ঘুম-আগুন-নিঃশ্বাস সবই এক ঘুমের মধ্যে ভাবতে থাকা যে এবারেরটা অন্তত স্বপ্ন নয়, এইতো যা হচ্ছে সত্যিই হচ্ছে, এরকমই তো হয়...
কেবল এই ঘুম পাওয়ার বিরক্তিতেই বাইরে এসেছিল অনিমেষ। সময়ের হিসেব ছেড়ে দেওয়ার পর থেকে, তার কেবল মনে পড়ে নিজেকে সে শুয়ে থাকতে দেখেছে, প্রবল ঘুমে চোখ বুজে আসতে দেখেছে, অথচ ঘুমোতে দেখেনি। এখানেই মনে পড়ে, সে যেন কীভাবে নিজেকে দেখে চলেছে, যেন একটু দূরে দাঁড়িয়ে, ছোলাভাজা চিবোতে চিবোতে তার মনে হচ্ছে নিজেকে দেখে গাড়ল ও প্রতিভাবান, নিজেকে শুয়োরের বাচ্চা বলে সে গাল দিচ্ছে এবং ভাবছে এই শটটা খানিক অল্প চিপ করে মারতে হতো, কিংবা গাল দেওয়াও আসলে তার ভান, তার আদতে কিছুই যায় আসে না। সুতরাং প্রবল ঘুমের তাড়নায় অনিমেষ মনে করতে পারেনি, সে কীভাবে ভাসতে শিখেছিল বাতাসে, মনে করবার কথাই মনে পড়েনি তার। কেবল বাইরে এসে অনিমেষের মনে হয়েছিল, খানিক সর্ষের তেল পেলে চোখে ডলে দেখতে পারে সে, যদি ঘুম পাওয়া থেমে যায়।
সুতরাং সেসময়ে সারা পৃথিবীর কাজ চলেছিল একেবারেই নিজের নিজের তালে, যা যা চলা থামিয়েছিল সেও কেবল তখন তাদের থামার কথা ছিল বলেই। এককথায়, সবই পূর্বনির্ধারিত বলে অনিমেষ ভেবেছিল, এবং তার ভাবনা দিয়েই এরপর থেকে সব প্যাঁচ খেলা হবে। অনিমেষ ঘুমচোখে চলে গিয়েছিল বাসস্ট্যান্ডে, আর বাসে উঠে খেয়াল করেছিল এখানে সর্ষের তেল পাওয়া যায় না এবং এখানে বড় ভিড়। 'ঘুম পাচ্ছে', একঘেয়ে গলায় সে বলেছিল। কেউ তার কথা শোনেনি, বরং পাশের মেয়েটি তার দিকে কড়া চোখে তাকিয়েছিল, ঢুলন্ত অনিমেষ তার গায়ে ঢলে পড়েছিল বলে। ঠিক সেইমুহূর্তে অনিমেষ প্রথম রাগতে দ্যাখে নিজেকে। এমনিতেই তার মনে হতো এতদিন ধরে, রাস্তায় যে কোনো পাঁচজন মানুষকে চড় মারলে ষষ্ঠজন তোমায় যেচে এসে পাঁচটাকা দিয়ে যাবে, এভাবে কত রাত সে কেবল ব্যথার হাতে বোরোলিন লাগিয়ে কাটিয়েছে, আর সেসব রাগ তার মাথায় চড়ে গেল মেয়েটিকে কড়া চোখে তাকাতে দেখে। অনিমেষ ভীষণ জোরে চকাস শব্দে মেয়েটির ঠোঁটে চুমু খায়, দুহাতে মেয়েটির মাথা চেপে ধরে, এবং আরেকটি চুমু খাওয়ার আগে যখন মেয়েটি মোচড়ামুচড়ি করছে আর বাসের লোকেরা চকিত হয়ে মজা দেখছে, অনিমেষ বলে, এক্ষুণি চাইলে দুচোখে আঙুল ঢুকিয়ে দিতাম, কিংবা ন্যাংটো করলে তো দেখব সেই এক বিচ্ছিরি দলা দলা মাংস, অতএব জামা পরিয়েই যে চুমু খাচ্ছি এতে খুশি হও মেয়ে। এখন, এতসব কথা অনিমেষ মুখে উচ্চারণ করেনি, বাসের মানুষ তাকে প্রচণ্ড হইহট্টগোলে ঢেকে ফেলছিল বলে তার বিরক্ত লাগতে শুরু করে, সে লহমায় দেখতে পায় ইঞ্জিনের উপর মলয় নামের সাদা বেড়ালটি, এবং অনিমেষ উচ্চারণ করে

Thursday, March 9, 2017

ঈশ্বরের জননতন্ত্রী, বিদেশি শব্দ এবং একটা রক্তখেকো ন্যাপলা : ডাকনামে সমুদ্র

ঈশ্বরের জননতন্ত্রী, বিদেশি শব্দ এবং একটা রক্তখেকো ন্যাপলা

১।
এই বিশ্বাস হয় -
ঈশ্বর আছেন কণায় কণায়
আমাদের ক্লাস সিক্সের ব্যাকরণ বই
সমস্ত সিগারেট কাউন্টার
ভুখা পেট
অফ্রিকা
জলবায়ু
নিভন্ত উনুন
তীব্র বর্ণবিদ্বেষ
অমৃতা গগণের টোলে
ভেনিসের জল। ইরাকের যুদ্ধ। সংবিধান। ছাপাখানা। জিরো জিরো সেভেন। ভ্লাদিমি পুতিন। হীনস্কন্ধ সময়।
এমনকি টুম্পা চাকির প্রথম খাওয়া ধর্ষণেও



২।
“shouting ‘oh god!' at bed isn't equivalent to a prayer"

ক. হরেকৃষ্ণ বলতো একটি উত্তর কোলকাতার টিঁয়া

খ. তিনি ছেলের নাম রেখেছিলেন শ্যাম। শ্যাম চোদ্দবছর বয়সে বাথরুমের ফুটো দিয়ে ভিজে মাকে দেখে হাত মেরেছিলো।

গ. প্রত্যুষা ঋতুমতী হয়েও ঠাকুর ছুঁয়ে ফেলেছে

ঈশ্বর আমার বিশ্বাস পুড়ছে
ওদিকে দৃশ্য তখনও কালো। পর্দা ওঠে নি। আমরা হাত চালান করে দিয়েছি পবিত্র বুকে বুকে। ঘেঁটেছি।


Tuesday, February 28, 2017

“Everything I told you before is a lie” - একটি দেবীপক্ষের Travelogue : রাজর্ষি মজুমদার

“Everything I told you before is a lie” - একটি দেবীপক্ষের Travelogue


যে মেয়েটি কাফকা অন দ্য শোর পড়ছিল সে ধানবাদে নেমে গেছে আমাদের কামরার প্রত্যেকের ব্যক্তিগত চাউনিগুলো আমি ঢুকিয়ে রাখছি একটা বাক্সে চিন্তা হচ্ছে জামাকাপড়ের জন্যআশ্বিন শেষের ভরা একটা রোদ এখন রেলের জানালায়। এই আলো, এই জানালা, নীল রঙ মাখানো হাত সব রেলের। একটা একটা করে দৃশ্যকল্প, একটা একটা করে কথা সরে যাচ্ছে , সরে যাচ্ছে আমার Dissertation শুখা মাঠ, ছিরিছাঁদহীন বাড়ি ঘর দোর পেরোতে পেরোতে প্রশ্ন জাগছেএরা কি সমকামকে স্বীকৃতি দেবে?

একটু পরে সূর্যাস্ত দেখব – কোডারমার ধাপে ধাপে নেমে আসা জঙ্গল, ধূসর পাথুরে খাদের ওপর জেগে থাকা বৌদ্ধ বিহারের ছবি তুলে রাখতেই হবে আমায়। এসব ছবি কাজে লাগবে লেখার সময়, দিন এগারো পরে এ বিকেল পড়ে আসার ঘটনা নিয়ে লিখতে বসে।
মাঝে মাঝে স্বপ্ন আর সিনেমা ছাড়া লেখাতেও আমরা সময়কে সম্প্রসারিত করতে পারি বোধ হয়? এই পারাটা আসলে পাঠকনির্ভর। স্বপ্ন আমরাই তৈরী করি , আমরা সিনেমাও তৈরী করতে পারি। কিন্তু পাঠক ছাড়া বোধহয় লেখা তৈরী হয়না।  
এই যেমন এ লেখা লিখতে লিখে আমার কাছে সময় অনেকগুলি অস্তিত্ব হয়ে ঘোরাফেরা করছে। হয়ত পাঠক বেছে নেবেন তার মধ্যে একটা – লেখাটার একটা নতুন সময় তৈরী করবেন তিনি। এসব ভাবতে লিখতে একটা ফ্লেক ধরাচ্ছি আমি, ধোঁওয়াটুকু ছাড়ছি দশদিন আগের সময়ে  – যেখানে আমি আদিত্য আর শ্রীরাগ টিনের টেবিলটার ওপর পা তুলে দিয়ে সিগারেট টানছি চেয়ারগুলো পেছনের দিকে ঝুঁকে গেছে, বাইরে একটা পাতাও নড়ছেনা এমন গরম। আদিত্য ওর Dissertation এর কাজটা নিয়ে বলছিল – cinema তে  time and space এর ব্যবহার স্বভাবতই আমার কথায় তারকোভস্কি চলে এলেন ... তার ওই হালকা নীল টোনের আকাশে মিশে যাওয়া জনারের ক্ষেত , বেড়ার ওপর সিগারেট ফুঁকতে থাকা মারিয়াকে নিয়েজঙ্গলের সেই গাছগুলোর জ্যামিতি বা বরফের ওপর ডাঁই করে রাখা কাঠের ভিস্যুয়াল থেকে একটা পাপিয়ার ডাক ছুটে চলে এল নদীতীরে। সেখানে নগ্ন প্যাগান মেয়েটি চোখ দিয়ে প্রশ্ন ছুড়ে দিচ্ছে – “ What sin? Tonight is for lovemaking; is love a sin? ”  
তাকে নিয়ে আমার আজ নদীতে যাবার কথা  

সিগারেটটা ঘুরছিল টেবিলের চারদিকে – হাতে হাতে। ঠিক এইসময়ই আমার মুখের কথা কেড়ে নিয়ে শ্রীরাগ বলে ওঠে – “ He was a magician. By his works he just said all the Soviet montage movement filmmakers that – “You guys just … just fuck of! Film is not all about theories, technicality, cutting. It’s about playing with time and space.”

Thursday, February 16, 2017

ঋপন ফিও একটা গল্প ভেবেছে

ঋপন ফিও একটা গল্প ভেবেছে

তো এক দেশের মানুষ ভাত খেতে ভালবাসত আকাল পড়ার আগে। আকাল পড়ায় অগত্যা বাধ্য হয়ে মকাই। প্রথম প্রথম গলা দিয়ে নামতে না চাইলেও আস্তে আস্তে সয়ে গেল। তারপর এল সেই মোক্ষম দিন। খেতে বসা সন্তানের করুণ মুখের দিকে চেয়ে থাকা এক জর্জরে মা আনমনে বলে উঠল~ বালের ভাত, মকাই ঢের ভাল... আর কি, একজন একজন করে এবার সবাই গুণ গাইতে শুরু করল মকাই এর। ধীরে ধীরে দেশের মানুষ ভুলেই গেল ভাতের স্বাদ। শুধু একজন পারল না কিছুতেই। ডাইনী সন্দেহে তাকে পিটিয়ে মারার আগে অব্দি পাতে মকাই নিয়ে বসে সে শুধু ভাতের কথা ভাবত।
















ঋপন ফিও
Reepan Fio

Tuesday, January 31, 2017

দ্রিম দ্রিম-৩ | মোমরঙ : দোয়েলপাখি দাশগুপ্ত

দ্রিম দ্রিম-৩ | মোমরঙ

একটা নিরিবিলি ঘরে দাঁড়িয়ে আছি আমি। পাশের হলঘর থেকে কোলাহল আসছে। লোকজনে গমগম করছে ঘরটা। হাসির হররা... ওয়াইন গ্লাসের টুংটাং... মোমের আলো। খাবারদাবার, সুগন্ধি... দামী পোশাকের, ভেলভেটের, সুয়েডের খসখস... আমি ঘরটার দিকে মুখ করে অন্ধকারে দাঁড়িয়ে আছি। খুব কম সময়ের জন্য পাচ্ছি বাবাকে। এর মধ্যে যতটা দ্রুত গুছিয়ে নিয়ে দেখাতে হবে আমার কাজ। আমার কাছে ছাপানো কিছু কি আছে? আমি কোনও পোর্টফোলিও করেছি? আমার ক্যামেরা ভর্তি ছবি। প্রচুর ছবি। ডেভেলপ করিনি। ডার্ক রুমে ঢোকা হয়নি বহুদিন। কিন্তু আমি করছি বাবা। অনেক কাজ করছি। তুমি ব্যস্ত তাই... বাবা একবার এঘরে এলেন। উনি আমার সঙ্গে বেশি কথা বলেন না। কারওর সঙ্গেই না। বাবাকে ঘিরে আছেন প্রচুর মানুষ। আর্ট গ্যালারি, ক্রিটিক, ছাত্র অনেকে। এঁদের মাঝে আমার যাওয়ার কথা নয়।