Skip to main content

Posts

Showing posts with the label Language



তিনটি কবিতা : সায়ন্তন গোস্বামী

মানুষের কথা
মানুষের কথা বুঝতে পারছিনা।
আমার কাছে এসে বসা তোমার উচিত হবেনা।
ঘরের ভেতর হাঁটাহাঁটিগুলো পর্যন্ত জটিল হয়ে যাচ্ছে।
কী যে এক ব্যান্ডপার্টি চিন্তা টাকাপয়সার, তুমি
শুনলে জানলার বাইরে তাকিয়ে রুমাল দিয়ে
মুখ মুছে নেবে।
নভেম্বর জুড়ে ওষুধের ফর্দের ওড়াওড়ি শীত ঢেকে দিল।
সারারাত পাতা ঝরেছে। রাস্তার ছবি তুলে
কয়েক ঘন্টার সুখ, এইসব ভাবি।


শত্রুমাছ

তোমার দু'চোখে দুটি শত্রু মাছ
বহুদিন ধরে সাঁতরে বেড়াচ্ছে
নিজেকে অন্ধ করে বের করো
ওদের, রুলটানা দিস্তা কাগজে
খেলাও বহুক্ষণ, ছড়িয়ে যাক
আঁশের রুপো, ফাতনাকারুকাজ
আর লক্ষ্মী, লক্ষ্মীমন্ত মেয়ে
বলে তোমাকে সবাই আরো
একটু মেরে ফেলুক, ওই গহ্বর
চোখযুগল থেকে স্থলপদ্ম<

রুখসত : অর্ক চট্টোপাধ্যায়

রুখসত
আশির কোঠায় পৌঁছোবার পর যখন আশেপাশের অনেককিছু ফিকে হয়ে আসে, দিন-রাত গুলিয়ে যায়, তখনো দূরে ছোট ছোট কয়েকটা আলো স্পষ্ট হয়ে থাকে। কিসের আলো? তা কি আর স্পষ্ট করে বোঝা যায়? মনে হয় ঐসব স্পষ্ট অস্পষ্ট আলো মৃত্যুর কাছে এক পশলা বৃষ্টি চেয়ে হাপিত্যেশ করে বসে আছে।
--"বশির মিঞা, কি হালত বলো দেখি? বৃষ্টি তো থামছেই না। হয়ে যাচ্ছে, হয়েই যাচ্ছে।"
--"তোমরা তো আর কলকাতায় বন্যা দেখোনি, তাই বলছো। সাতের দশকের শেষের পালা। কি বারিশ কি বারিশ! আমি তখন সবে চল্লিশ পেরিয়েছি। যেদিন আকাশ জওয়াব দিয়ে দিল, তার আগের রাতে আম্মার ইন্তেকাল। এতো পানি, এতো পানি, গোর দিতে যাওয়ার উপায় নেই, ইয়া আল্লাহ!" দূরের আলোগুলো একে অপরের সঙ্গে জুড়ে গিয়ে অক্ষর তৈরী করছিল। নিরঙ্কুশ অন্তরীক্ষ। নক্ষত্রের অক্ষরমালা আলোয় আলোয় একাকার। সময় চলে গেছে আট আটখান দশকের পার।যেখানে জোড় ছিল না, সেখানেও আলো জুড়ে যাচ্ছে আর যেখানে জোড়ার কথা দেওয়া ছিল সেখানে অন্ধকার ঘিরে।
--"আম্মাকে রুখসত করলেন কি করে?"
--"ইন্তেজার। সব শেষ হয়ে যাওয়ার পরেও ইন্তেজার শেষ হয়না। বারিশ তখন নিজের এক শহর গড়েছে কলকাতায়। বুঝলে জনাব! বাড়ির ভেতর আম্ম…

কাকাতুয়া-বন ও অন্যান্য ৪ : দীপঙ্কর লাল ঝা

কাকাতুয়া-বন ও অন্যান্য ৪

এই কিছুক্ষন হলো আমি ডালভাত থেকে আলুভাত ছেড়ে উঠে বসেছি। বুক শুনে মনে হচ্ছে কোনো এক সুদূর প্রান্তে এক সিমেন্ট ফ্যাক্টরিতে রমেশ আর যোগেশ এর জিভ থেতলে গারনীশ করা হচ্ছে বাড়ি। আর ওদের বউ চুল থেকে চিমনি তুলে নিচ্ছে। টাং করে লাথি মেরে লাল্টু মাঠে দৌড়ে চলে যায়। আজকাল কে বমি লেখে? লেখে কেউ? লেখে কোন চুল্লুখোর? নিজের পেট কেউ নিজে করে মালিশ? এসব প্রশ্ন আমি তো গুপ অন্ধকারে যেতে যেতে ঈশ্বরকে করতে দেখি। বৃষ্টির কিনারা পালিশ করতে করতে যারা ভুলে গেছে জুতোর খিদে, হা করে থাকে জানালা। আপনি কেনো ওকে নিয়ে যান সবখানে, কি দোষ করেছে ও? ওরও তো ইচ্ছে করে কাজের মাসির হাত ধরে দাঁড়াতে। বলি, এইসব ছিঁড়ে যাওয়া, পিছলে যাওয়া দেখে বন্যাও তো একটু সাবধান হতে পারতো চলাফেরায়। কেউ কিছু বলছে না জন্য গাছের মাথায় চেপে বসেছেন। জানলার ধীরিমে সুকল্যাণ ঘরে বসে আঁতকে ওঠে, জিজ্ঞেস করে 'কে রে?'
উৎপল বলে "হাওয়া"। এতো সহজে কেউ কিভাবে বলতে পারে কিছু? একজন চরম যুদ্ধের রাতেও এভাবে বলেনা। সেনার  চোখ ফুটো করে আমরা গুলির নির্যাস রাখি কোটরে। আমাদের কাঠ-ঠোকরা বলবে? এই হওয়া একজন বিরাট দম্ভ রাজার মতো ঘর…

তন্নো রতি প্রচোদয়াৎ ও শাহাজাদীর মণিপদ্মে : অভিষেক রায়

তন্নো রতি প্রচোদয়াৎ
ঘাসিয়ারা কেটে নিয়ে যায় নিত্যপ্রয়োজনীয় ঘাস
পারমাণবিক বৃষ্টি পড়ছে চন্ডীদাসের স্ত্রীর ব্রা ভেদ করে
কাটাকুটি হতে হতে হতে হতে
সার পড়ে থাকছে যা মহাজীবনের
ভাললাগে সন্ধিপদ
ত্রিনয়না দেবীকে স্মাজ করা অহরহ
ও অন্য কিছুই ভাললাগে না জলপাইগুড়িতে
ব্রাহ্মমুহূর্তে নগ্ন হয়ে বসে থাকা তাবুলার ওপর
নক্ষত্রখচিত দিবায় দিবাকরের-ই পায়ের ওপর পা তুলে
পোকামাকড় উড়িয়ে দিতে দিতে
এইসব ফেস্টিভ্যালের ভেতর
আমার ভাললাগে না মধুমিতা শুকনো পাতার পাশ দিয়ে বয়ে চলেছে সবুজ
আমার দেখা হয়নি কত জন্মান্তর ধরে



শাহাজাদীর মণিপদ্মে
স্রেফ দুটি মেয়ে রেলাদ্র, তাদের সঙ্গেই কথা বলব, বেরোচ্ছে ইস্কুল থেকে
জং ধরার বড় গল্পে
প্রকৃত তাড়া খেয়ে হৃদয় বেয়ে উঠে যাচ্ছে
যে গাছে অজস্র উডপেকাই
অভিজ্ঞা ব্যাঙ্গমী শোল মাছের ঝোল রাঁধছেন
মশলায় ও দূরবীনে

তমসো মা : রঙ্গন রায়

তমসো মা কানু কহে রাই –
- কহিতে ডরাই
ধবলী চরাই মুই।
আমি রাখালিয়া
মতি কি জানিনা পিরিতি
প্রেমের পসরা তুই
এবার তবে কয়েল থেকে শুরু করা যাক। যেভাবে টেবিলের তলা থেকে পাক দিয়ে উঠছে ধোঁয়া আর মশারা তা দ্রুত এড়িয়ে পালিয়ে যেতে চাইছে। সমস্ত ঘর সিগারেট আর কয়েলের ধোঁয়ায় আবছা হয়ে আসছে। চোখ জ্বালা করছে। চশমা খুলে রেখে চোখে হাত দেওয়া হলো। লাল। দ্রত উঠে পড়লো চেয়ার সরিয়ে। প্লাস্টিক আর মেঝেতে ঘষাঘষি লেগে একটা শব্দ উঠলো। টেবিলের কোণে কিঞ্চিৎ ধাক্কা খেতে খেতে জানালা খুলে দিলো সে। একঝলক অন্ধকার লাফিয়ে ঢুকে পড়ে অভিভূত করে দিলো তাকে। টাটকা বাতাস আসছেনা। আশ্চর্য! বাইরের পৃথিবী থেকে ভেসে আসছে পেঁচার গম্ভীর অথচ ঠান্ডা একটা ডাক। থেমে থেমে। টেবিলের উপর স্তুপীকৃত বইপত্রের ভিতর একটা কম্পনের শব্দ, গোটা ঘর প্রায় কাঁপিয়ে দেবে। জানালা থেকে সরে এলো সে। অবাক বিস্ময় আর কিঞ্চিৎ ক্রোধ বা বিরক্ত মিলেমিশে মুখের এমন একটা ভাষা তৈরী হয়েছে যাকে সঠিক ভাবে খাতায় নামানো সম্ভব নয়। অন্ধকার আকাশ ঘরে ঢুকে ইতিউতি চাইছে। বইপত্র-কাগজ সরিয়ে অবশেষে পাওয়া গেলো মুঠোফোন, কিন্তু ততক্ষণে রিঙ্ কেটে গেছে। রাগের চোটে একটা বই আচমকা সে ছুড়ে রাখলো টেবিলে আর …

রাতসুখ ও যা কখনো ভাবিনি : পৌলমী গুহ

রাতসুখ
এক. পায়ের ওপর পা অথবা টায়ের ওপর টা কিংবা কোনোটিই নয়! এখন ঘিলুতে সেঁধোলাম। রাত বাড়লে জানান দেবো, যেমন করে গেঁটে বাত মনে করায় পুরনো পাপ? কবে দেখেছিলাম এক তিলফুল কার বুকের খাঁজ বেয়ে ঘামেভেজা চকচকে জোড়া পাপ। হিসেব লিখব বিছানা-বালিশে সকালে সব ভুলে যাবো!
দুই. গতরাতে আমার ঘরে আষাঢ় ছিলো। আরও পূর্বে... পূর্বে... পূর্বরাতে সেবন করলাম ফোঁটা ফোঁটা। কল্যবর্তে গোটা মেঘখানা গিলে নিলাম। আজ রাতে ঊরু বেয়ে টপটপিয়ে আষাঢ় নামবে…
তিন. মেলোডি মাহ্ সুইট! এট্টু আস্তে অল্প করে, একবারে অতটা নয়। গিলো না। গিলো না। সোনা আমার! নোওও! দাঁত নয়! ছিঁড়েকুটে যাবে। বোঝো এ প্রেম, নট্ যুদ্ধ। শোষণ নয় প্রেম, এ স্রেফ বিগলিত চোষণ!!


যা কখনো ভাবিনি আমাকে দু'এক পিস গান দিও। তাতে সুর বসিয়ে আমি নিজের বলে চালাবো। এঅব্দি যা যা বলেছ তাই করিনি অথচ করতেও পারতাম! এটা বিশ্বাস করেই মেঘ মেঘ ক্ষত ঢেকেছ। গান থেকে সুর সুর থেকে শব্দ তার পর কবিতা, সেখানে জ্বর দুধের বোতল, কলপাড়ের ঘটাং ঘটাং, সিম্ফোনি হয়ে ক্যাকোফোনি। তুমি কি ভেবেছিলে স্টেশনবাজারের সব্জিওলা আদতে এক কবি?














পৌলমী গুহ Poulami Guha

একটি ভ্রমণকাহিনী : সুপর্ণা মন্ডল

একটি ভ্রমণকাহিনী
১. ১ নম্বর ভ্রমণের শুরুতে একটি অদ্ভুত নাম চোখে পড়ে। উকিলনাড়া। অটোঅলা ঠিক ৮ মিনিট পর অটো ছাড়বে আর তুমি ছাড়বে এই সরাইখানা। দুটো ছাড়ার মানে এক হতেও পারে হয়তো বা!
২. কি যেন একটা কাজে মশগুল মেয়ে থোড়াই কেয়ার রাস্তা পেরোবে। অটোঅলা কর্কশ হর্ন, তুমি সম্বিৎ ফিরে পেলে থমকে দাঁড়াবে না। বরং নাচতে নাচতে চলে যাবে ওই পারে। তোমার প্রজাপতি নাচ দেখতে পাবে না আমার সহযাত্রীরা। ওরা কায়েতপাড়া মোড়ে নেমে গেছে। আচমকা শব্দটা ওদের জন‍্য নয়।
৩. ধুলোয় পড়ে থাকা বেওয়ারিশ রুমাল শুধু নীল রঙের বলে কি কুড়িয়ে আনা যায়? আজ অব্দি তুমি ঠিক যতগুলো রুমাল হারিয়েছো তা কোন না কোন পথের ধুলো খেয়েছে তো? আমিও ধুলো খাবার ইচ্ছায় তোমার হাত থেকে ফসকে যাই এক রকম। আর নীল রং হালকা হতে হতে আকাশি হয়ে যায়।
৪. আকাশি মিলিয়ে যেতে যেতে সাদা। ধবধবে সাদা চুল সাদা থানের উপর পড়ে আছে। কতদি-ন ধরে ওভাবে পড়েই আছে! অথচ বয়স বাড়ছে। সাদার চেয়েও বিবর্ণতর উজ্জ্বল রং আজ পৃথিবীতে।
৫. অকালপক্ব স্কুলবালিকার রিক্সাওয়ালা কেন খুনখুনে বুড়োই হয়? এ কথা জয় গোস্বামীকে শুধানোর আগেই স্টেশনে রাণাঘাট লোকাল ঢুকে পড়ে। দেখতে পাই সেই পাকা মেয়েটা মেঘবালিকার স্বরে ঝাল লজেন্স…
Like us on Facebook
Follow us on Twitter
Recommend us on Google Plus
Subscribe me on RSS