Showing posts with label Literature. Show all posts
Showing posts with label Literature. Show all posts

Tuesday, March 14, 2017

একটি শিকারকাহিনি-র শেষ পর্ব : সর্বজিৎ ঘোষ

একটি শিকারকাহিনি-শেষ পর্ব

কল্কিকথা
প্রথম প্রথম সারাদিন একটা ঘরে নিজেকে আটকে রেখেছে অনিমেষ। আশ্চর্য হয়ে সে অনুভব করেছে, ক্রমশ খিদের ভাব চলে যাচ্ছে তার, চলে যাচ্ছে ঘুম। এমনকি আগুনে তার হাত পুড়ছে না, খোলা তারে হাত দিলে ঝটকা খাচ্ছে না। তার কুঁচকিতে যে প্রচুর চুলকানির দাগড়া দাগড়া ছোপ ছিল, রক্ত গড়াতো আর ইস্কুলে সাদা প্যান্টে সেই দাগ দেখে হেসেছিল আর চাঁটি মেরেছিল ক্লাস ফাইভের কিছু নিষ্পাপ শিশু, সেসব চুলকে আর তার আরাম হয় না। ঘড়ি ধরে একবার দম আটকে রেখেছিল, তিনশো ছাপান্ন ঘন্টা বাহান্ন মিনিট উনতিরিশ সেকেন্ড পর একঘেয়ে লাগায় বিরক্ত হয়ে দম নিতে শুরু করে আবার। এসবের মধ্যে কাজের কথা একটাই, ঘুম না হলেও ঘুম তার পাচ্ছিলই, পেয়েই চলেছিল। যাবতীয় সময় তার কেবল ঘুম পেতে থেকেছে, কিংবা এই গোটাটা, এই যাবতীয় ঘর-ঘুম-আগুন-নিঃশ্বাস সবই এক ঘুমের মধ্যে ভাবতে থাকা যে এবারেরটা অন্তত স্বপ্ন নয়, এইতো যা হচ্ছে সত্যিই হচ্ছে, এরকমই তো হয়...
কেবল এই ঘুম পাওয়ার বিরক্তিতেই বাইরে এসেছিল অনিমেষ। সময়ের হিসেব ছেড়ে দেওয়ার পর থেকে, তার কেবল মনে পড়ে নিজেকে সে শুয়ে থাকতে দেখেছে, প্রবল ঘুমে চোখ বুজে আসতে দেখেছে, অথচ ঘুমোতে দেখেনি। এখানেই মনে পড়ে, সে যেন কীভাবে নিজেকে দেখে চলেছে, যেন একটু দূরে দাঁড়িয়ে, ছোলাভাজা চিবোতে চিবোতে তার মনে হচ্ছে নিজেকে দেখে গাড়ল ও প্রতিভাবান, নিজেকে শুয়োরের বাচ্চা বলে সে গাল দিচ্ছে এবং ভাবছে এই শটটা খানিক অল্প চিপ করে মারতে হতো, কিংবা গাল দেওয়াও আসলে তার ভান, তার আদতে কিছুই যায় আসে না। সুতরাং প্রবল ঘুমের তাড়নায় অনিমেষ মনে করতে পারেনি, সে কীভাবে ভাসতে শিখেছিল বাতাসে, মনে করবার কথাই মনে পড়েনি তার। কেবল বাইরে এসে অনিমেষের মনে হয়েছিল, খানিক সর্ষের তেল পেলে চোখে ডলে দেখতে পারে সে, যদি ঘুম পাওয়া থেমে যায়।
সুতরাং সেসময়ে সারা পৃথিবীর কাজ চলেছিল একেবারেই নিজের নিজের তালে, যা যা চলা থামিয়েছিল সেও কেবল তখন তাদের থামার কথা ছিল বলেই। এককথায়, সবই পূর্বনির্ধারিত বলে অনিমেষ ভেবেছিল, এবং তার ভাবনা দিয়েই এরপর থেকে সব প্যাঁচ খেলা হবে। অনিমেষ ঘুমচোখে চলে গিয়েছিল বাসস্ট্যান্ডে, আর বাসে উঠে খেয়াল করেছিল এখানে সর্ষের তেল পাওয়া যায় না এবং এখানে বড় ভিড়। 'ঘুম পাচ্ছে', একঘেয়ে গলায় সে বলেছিল। কেউ তার কথা শোনেনি, বরং পাশের মেয়েটি তার দিকে কড়া চোখে তাকিয়েছিল, ঢুলন্ত অনিমেষ তার গায়ে ঢলে পড়েছিল বলে। ঠিক সেইমুহূর্তে অনিমেষ প্রথম রাগতে দ্যাখে নিজেকে। এমনিতেই তার মনে হতো এতদিন ধরে, রাস্তায় যে কোনো পাঁচজন মানুষকে চড় মারলে ষষ্ঠজন তোমায় যেচে এসে পাঁচটাকা দিয়ে যাবে, এভাবে কত রাত সে কেবল ব্যথার হাতে বোরোলিন লাগিয়ে কাটিয়েছে, আর সেসব রাগ তার মাথায় চড়ে গেল মেয়েটিকে কড়া চোখে তাকাতে দেখে। অনিমেষ ভীষণ জোরে চকাস শব্দে মেয়েটির ঠোঁটে চুমু খায়, দুহাতে মেয়েটির মাথা চেপে ধরে, এবং আরেকটি চুমু খাওয়ার আগে যখন মেয়েটি মোচড়ামুচড়ি করছে আর বাসের লোকেরা চকিত হয়ে মজা দেখছে, অনিমেষ বলে, এক্ষুণি চাইলে দুচোখে আঙুল ঢুকিয়ে দিতাম, কিংবা ন্যাংটো করলে তো দেখব সেই এক বিচ্ছিরি দলা দলা মাংস, অতএব জামা পরিয়েই যে চুমু খাচ্ছি এতে খুশি হও মেয়ে। এখন, এতসব কথা অনিমেষ মুখে উচ্চারণ করেনি, বাসের মানুষ তাকে প্রচণ্ড হইহট্টগোলে ঢেকে ফেলছিল বলে তার বিরক্ত লাগতে শুরু করে, সে লহমায় দেখতে পায় ইঞ্জিনের উপর মলয় নামের সাদা বেড়ালটি, এবং অনিমেষ উচ্চারণ করে

Saturday, March 11, 2017

সায়ন ঘোষ-এর কিছু লেখা

সেখানে সকলেরই একটা কম্বলের প্রয়োজন ছিল। নিদ্রাজরিত দূষিত চোখে তারা পরস্পরের দিকে তাকিয়ে হাসছিল। একজনের একটি রূপোলি দাঁত রয়েছে লক্ষ্য করা যায়। এবং কিছু শিশির কারপেন্টারের ছায়ায় জলের দ্রাঘিমায় হুবহু দ্রিদিম একঘেয়ে করে তুলেছিল বাড়িটাকে। সেখানকার ঘর, আসবাব, প্রাণ কৌটোবন্দী অবস্থায় শব্দের কড়া নাড়া; কারা য্যানো গুঁড়িয়ে ফেলেছিল তাদের শৈশব। নিজস্ব খনিজ মুঠোয় করে নিয়ে গঙ্গায় অস্হি বিসর্জন এবং সূর্যদেবতার কাছে প্রার্থনা। সকলেরই প্রয়োজন ছিল এখান থেকে বেড়িয়ে আসার। মুক্ত উপত্যকায় চড়ে ব্যাড়ানোর অধিকার সকলেরই ছিল। কেউ কেউ চেয়েছিল, কেউ চায়নি। জীবনকে বিভিন্ন রূপে আবিষ্কার করতে করতে কেউ কেউ পাগল হয়ে গিয়েছিল। কেউ এখনও আবিষ্কারের পদ্ধতি নিয়ে গবেষণারত। সন্ধ্যের শাঁখ এবং ঘন্টাধ্বনি বাতাসে মিশে যেতে যেতে অলস দ্রাঘিমায় আমরা এখন একটু ঘুমিয়ে নিচ্ছি ধোঁয়ার বিছানায়।

-      ৬নভেম্বর,২০১৬



ফোলিয়েশন

ঝড়ো অভদ্রতা শরীরের মধ্যে ছুড়ি কাটার কারবার রেশম সমন্বয়ে তৈরী বস্তুর ছেদ, রূপক, গতি, তড়িত্ বিচ্যুতির লোমশ স্ক্যান্ডাল পরিপূর্ণতার ঐশানী সন্ধ্যেতে পাক খাওয়া বিকট পাগনেশাস্ তার ঝিল্লীর অন্তস্হলে চুক্তি ও করমর্দন প্রতিলিপির বৃহত্ পাঠাগারে পাঠরত তরুণীর ঘাগড়ার তলায় আমার শ্রেষ্ঠ পান্ডুলিপি জমা পড়ে গ্যাছে হৃদয়ের তার যন্ত্রবাদক ঐশ্বর্যায় নিপুণ কাঠামো নির্ভর ইন্দ্রিয়প্রসর উচ্চ দ্রাঘিমায় ক্ষমাপ্রার্থী ঈশ্বরীর কণ্ঠে হিন্দিতে কিশোর কুমার
অতএব এগুলি সম্ভাবনার পাকদন্ডী এবং রাশিফল বিষয়ক দাঁড় যা এককভাবে দন্ডায়মান প্রণালীতন্ময় ও কিছু গঠনমূলক ধৈর্যবিচ্যুতি।



Monday, February 20, 2017

অক্ষর পদাবলী : সুমন সাধু

অক্ষর পদাবলী

১)
"
বিজয় নাম বেলাতে ভাদর মাসে।
নিশি আন্ধকার ঘন বারি বরিষে।।"

আমরা দু'জন এক এবং অন্ধ-কার। যেভাবে লিপিকরের মুঠোয় গোটা জানালা অবশিষ্ট পড়ে আছে। তবে জানালা নিয়ে বিশেষ চিন্তিত নই আমরা, আমরা জানি একেকটা ইচ্ছের গায়ে ধুলো লেগে আছে। বেশ আনন্দ করেই উপভোগ করি সেই ধুলো, কিছুটা যৌনসুখ পাই। এ ভরা ভাদ্রে তুমি কাশমেঘ হয়ে ঝরে পড়ছ। পড়শিরা বৃষ্টি ভেবে প্রতিদিন ভুল ভাবছে যাকে। কিছুটা সংশোধন আর বিশ্বাসের জন্ম পার করে এই তো আমাদের ডুবসাঁতার।


২)
"
নীল কুটিল ঘন মৃদু দীর্ঘ কেশ।
তাত ময়ূরের পুছ দিল সুবেশ।।"

মফস্বলে সন্ধে নামতে দেখি রোজ। সন্ধের গা ঘেঁষে বান্ধবীমহল রোজ আমায় পুড়তে দ্যাখে। আমরা সেই পোড়া গন্ধ মেখে নিছক আতর বেশে ফ্ল্যাটের দরজায় হানা দিই। আমি তখন মহান হই, আমরা তখন চুল বাঁধার স্বপ্ন দেখি। খোঁপায় খোঁপায় একটা যুগ শেষ হয়ে আসে।

Saturday, February 18, 2017

জন্মান্তর ও দুপাশের জঙ্গল থেকে : তৃষা চক্রবর্তী

জন্মান্তর
পিসেমশায় পাগল ছিল। মরে গেলে, ওরা বলেছিল - আজ থেকে আর তো কেউ পাগল বলতে পারবে না। মরে গেল একজন পাগল। আমার পিসেমশাই, একজন পরিচয়। বাড়ির সামনে বাতাবী লেবুর গাছে ফুল এলে, পিসির কাছে টাকা ধার করে বিড়ি কিনতে যেত পিশেমশাই। বুকে গলায় কাশির দমক তুলে তুলে কেবলই বিড়ি খেত। আর মন দিয়ে শুনত, পিসি বলছে 'মর মিনসে, মরণ হয় না তোর'! সেই পিসে মরে যেতে খুব করে কেঁদেছিল পিসি। কেবলই বলেছিল, আমায় ছেড়ে কোথায় গেলে গো?

বুঝিনি, কোন সে শব্দ যাতে কান্নার শ্বাসাঘাত পড়ছে প্রলম্বিত হয়ে? কখনো মনে হয়েছে "আমায়", কখনো "কোথায়"।


Thursday, February 16, 2017

ঋপন ফিও একটা গল্প ভেবেছে

ঋপন ফিও একটা গল্প ভেবেছে

তো এক দেশের মানুষ ভাত খেতে ভালবাসত আকাল পড়ার আগে। আকাল পড়ায় অগত্যা বাধ্য হয়ে মকাই। প্রথম প্রথম গলা দিয়ে নামতে না চাইলেও আস্তে আস্তে সয়ে গেল। তারপর এল সেই মোক্ষম দিন। খেতে বসা সন্তানের করুণ মুখের দিকে চেয়ে থাকা এক জর্জরে মা আনমনে বলে উঠল~ বালের ভাত, মকাই ঢের ভাল... আর কি, একজন একজন করে এবার সবাই গুণ গাইতে শুরু করল মকাই এর। ধীরে ধীরে দেশের মানুষ ভুলেই গেল ভাতের স্বাদ। শুধু একজন পারল না কিছুতেই। ডাইনী সন্দেহে তাকে পিটিয়ে মারার আগে অব্দি পাতে মকাই নিয়ে বসে সে শুধু ভাতের কথা ভাবত।
















ঋপন ফিও
Reepan Fio

Sunday, February 12, 2017

মাড়ি ও দাঁতের সমাবেশ : প্রত্যুষ বন্দ্যোপাধ্যায়

মাড়ি ও দাঁতের সমাবেশ

(১)

এতো পালক এতো ছায়াগাছ কুসুমবিকার এতো সব। এর মধ্যেই ঠাঁই করে নিয়েছে আমার মৃত দাদামশায়ের জ্যান্ত খড়ম। যে সারা বাড়ি উঠোন তুলসী মঞ্চের খড়ির গন্ডি না টপকেই একা একা ঘোরে। আবার দাদামশায় পরে নিলেই চুপ। তখন বুড়ো যেদিকে যায় অতি স্থির তামসিকতায় তাঁকে ফলো করে। দাদামশায়ের মাড়ি থেকে ঝরে পড়ে গল্পমুখর লালা। উৎসমুখ খুলে যায়, আমি ও আমরা কে নিয়ে যে সুবৃহৎ  আমাদের – গোল হয়ে বসি। গল্পের ঢিমে আঁচে, গল্পেরই মৃত মাংস সেঁকা হতে থাকে। আমরা ছিটিয়ে দিই নুন উপাদান , সেইসব কলহ তীব্র লঙ্কার ঝাঁঝ। আর আয়েশে আমাদের মৃত চোখ খুলে যায় জ্যান্ত চোখ বুজে আসে।

পৃথিবীর দাদামশায়েরা আমাদের সাত ও সতেরো জলসংঘর্ষে  উদ্ভূত ফেনাময় বাথটবের কাছে নিয়ে যান। যেখানে উরু ক্যালানো মেয়েরা নাগকেশরের ব্রাশ দিয়ে যোনীগুল্ম পরিষ্কার করে। মৃত শুক্র চাকগুলি কন্ডোম কাছিম ছাল বেয়ে  বেয়ে  অনিবার্য এগিয়ে যায় নির্বাসিত ঝাঁঝরির দিকে। এইভাবে বহুবার আমাদের সুবৃহৎ জন্ম প্রতিক্রিয়া ব্যাহত  হয়েছে। নির্ধারিত প্রহরের আগেই বিসর্জনের ফেউ ডাক ককিয়ে ওঠে – মৃত জন্ম দেয় বিকলাঙ্গ ফোঁপরা করোটি।


Saturday, February 4, 2017

চারটি লেখা নিয়ে এসেছেন : সীমিতা মুখোপাধ্যায়

আভেমারিয়া

তোমার মা এলে
সব দুঃখ কেচে দেবে,
শুকিয়ে রাখবে তোমার ক্ষত,
আয়রন করে দেবে
তোমার এলোমেলো মুহূর্ত।

কাকিমা চলে গেলে
আমিতো মার হাতে-পায়ে
পেরেক ঠুকে দেবো আবার,

আর বলবো -
আয় রে, সখা,
দুজনে মিলে এবার
পিয়েটা মূর্তি ধরি!




আমি কিম্বা অপেক্ষা

তোমাকে দুধ ভাত;
আজকাল আমি আর অপেক্ষা
এক সাথে শপিং-এ, বিকেল হাঁটতে।

অপেক্ষার মধ্যে পটাশিয়াম সায়ানাইড
মিশিয়ে দেখেছি,
একটা নতুন ধরণের ধোঁয়া-
কেমন মহুয়া মহুয়া…

দুজনে দুটো ধারালো ছুরি হাতে,
আমি আর অপেক্ষা
পাশাপাশি শুয়ে খুনসুটি করি!

একদিন গাছের নিচে দাঁড়িয়ে প্রশ্ন করেছিলাম,
আমি মরে গেলেও কি
অপেক্ষা বেঁচে থাকবে?

এসব জিজ্ঞাসায় কিছুটা বোরাক্স মিশিয়ে
তাপ দিলে

দেখবে কেমন খই ফুটছে সোহাগে!



Sunday, January 15, 2017

একটি জ্বরের সিরিজ : অনন্যা বন্দ্যোপাধ্যায়

জ্বর ১

ভীষণ জ্বরের ভেতর তোমার কথা ভাবতে ভালো লাগে
গায়ে চাকা চাকা দাগ পড়ে আছে
পড়ে আছে উত্তপ্ত নাভি
কমলা ফুলের মত তুমি শুয়ে আছো পাঁজরের তীরে
আমার সমস্ত দেহে জেগে ওঠে এক অলীক আওয়াজ
প্রতিটা পরমাণু প্রাচীন থেকে প্রাচীনতায় মেলে
তারপর যা কিছু স্নেহ, হিসেবের ব্যবধান, তুমি ধার করে নিলে
দিগন্তে পৌঁছে যায় অলীক পাখা
যে ক্ষণিকের পর অবশ হয়ে যায় দেহ
রাত পার করে নাবিকেরা
আমাকে তাদের কথা বলো
এই ফাঁকে আমি আরো তোমায় ভেবেনিই
ভেবেনিই আমাদের আবছায়া কথোপকথন



Friday, January 13, 2017

আমরা একটা সিনেমা বানাবো (ভাগ দুই) : হিয়া মুখার্জী

আমরা একটা সিনেমা বানাবো
ঝিমোনো ভয়ের গল্প।
হিলস্টেশনের ক্রেশ।
কামিন বস্তির বাচ্চারা
তাদের ঘুমের মধ্যে
টুপটাপ
খসে খসে পড়ছে
ম্যাগনোলিয়ার মত।
শোনা যায়
এইসব রাতে
চৌখুপি ছাদ থেকে
গন্ধে গন্ধে
খুব সহজেই
ভূত নেমে আসে।
মোমবাতির শিখা কি
দু একবার
কেঁপে উঠলো হাওয়ায়?
রিসর্টের ঘরে
মুখোমুখি দুইজন শুধু
কোনো কথা না বলে
পুরোনো অস্বস্তি থেকে
নতুন অস্বস্তির দিকে
হেঁটে গ্যালো।



Monday, January 9, 2017

তিনটি লেখা নিয়ে এলেন সুপ্রিয় চন্দ

অ্যাকোরিয়াম
নৌকোর কখনো নোঙর হয় না
জল বা এই রকম জীবন নিয়ে গভীরে ভাবাটা
নিঃসন্দেহে ডুবসাঁতারুর কাজ
'ইউরেকা' 'ইউরেকা' বলে চেঁচামেচি
এই প্রেক্ষিতে নিস্প্রয়োজন এবং খামোকা বোকামি
জল নিয়ে ভাবতে হলে পাড় নিয়ে ভাবো
স্রোত নিয়ে ভাবো
বাতাস নিয়ে ভাবতে ভাবতে, একআধঘুম শব্দ
আলটপকা ছুঁড়ে ফেলো স্থির জলে
তরঙ্গ ছড়িয়ে পড়বে চারদিকে
সময়টা সন্ধে হলে কোন কথাই নেই
অনায়াসে বজরা নিয়ে নেমে যেতে পারো

দাঁড় আর পাল আমার বহুদিনের চেনা বন্ধু
তাই আমাকেও সঙ্গে নিও প্লিজ জলসওয়ারিতে
শুরুটা তোমাকেই করতে হবে
শেষের চালটা আমার হাতে এখনো
তুমিই তো জল নিয়ে ভাববে বলেছিলে             প্রথমে
রাজ্যজয়, কূটনীতি, কলম্বাস আর তোমার অ্যাকোরিয়াম ছেড়ে
তাই আমি কোনদিন ভেসে উঠিনি
পাড়ভাঙা জলে



Wednesday, January 4, 2017

গুচ্ছ - কবিতা : তৃষা চক্রবর্তী

গুচ্ছ - কবিতা


বহুদিন পরে চায়ের গেলাস পাশাপাশি নামিয়ে রাখা হল
রাখা হল বুকের ভিতর জিভ পুড়ে যাবার মত স্বাদ
রাস্তার যেকোনো চায়ের দোকানই, ঐশ্বরিক ঐন্দ্রজালবিস্তার
বলো বিচ্ছেদ, কতদূরে তুমি, আর কতদূরে সমাধি তোমার?



তোমার অপেক্ষায় আছি বহুক্ষণ
কেউ জানে না, ওদের মিথ্যে বলেছি
যেকোনো তোমাকেই দেখলে ভাবছি পরিচিত পথ
পরিচিত জন দেখলে খুঁজছি আড়াল
ওরা কীকরে জানত, প্রতীক্ষাই সত্য মাত্র
এর বেশি আর কিছু নয়, কিছুই-

ওদের মিথ্যে বলেছি তাই।


Monday, January 2, 2017

পাঁচটি লেখা নিয়ে এলেন : দুখাই রাজ

প্রথম দিন

আহত হবার পর প্রথম মনে পড়ে — আমার ইপিল গাছটা কেমন আছে?
হয়তো আমার মৃত্যু সংবাদ তার কাছে পৌঁছে দিয়েছে করাত।
তাকে বলেছিলাম — আমার কফিনের কাঠ দেবে তুমি। যেন আটদিনে তৈরী হয় কফিন।

প্রথম দিনে — তোমাকে আহত করবে করাতকলের লোক।



বোধি

১ম দিন - অবসর নিয়েছিলাম লাগামহীন ঘোড়ার পিঠ থেকে
২য় দিন - তিন কেজি ওজনের পাথর
মাথার নিচে এবং উপরে রেখে বন্ধ করে দিয়েছিলাম কান
৩য় দিন - শুকনো পাতার নিচে বন্ধক রেখেছিলাম চোখ

আমি তিনদিন ঘুমিয়ে ছিলাম


Thursday, December 8, 2016

তিনটি লেখা নিয়ে এলেন : সুমন সাধু

যা কিছু সামলে রাখছি

ব্যাগে ব্যাগে রঙীন দাগগুলো পুরনো কত শুকিয়ে যাওয়া চারা গাছের গল্প বলে দিচ্ছে। অথচ ব্যাগের মধ্যে শুকিয়ে যাওয়া চরিত্ররা তো সাদা কাগজে স্ক্রিন প্লে'র মধ্যে বন্দী। ক্যামেরা-লেন্সের দিকে তাকিয়ে মনে হচ্ছে, একের পর এক চরিত্র দূষণ আর ফুরিয়ে আসা সন্ধেবেলা ছাড়া অন্য কিছুর জন্ম দিচ্ছে কই! যদি চোখ রাখো লেন্সে, যদি চোখ রাখো লেন্সের দাগে, দেখবে ট্রাম, ট্রাফিক আর সিগন্যাল ছাড়া কিছুই বলার নেই।

পাঁচমাথার মোড়টায় লাল শাড়ি পড়ে দাঁড়িয়ে থাকার সন্ধ্যে আজ। পচা পচা গন্ধ নিয়ে আঁচল লুটিয়ে ইশারার সন্ধ্যে আজ। ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা ক্যামেরা, যেকোন একটা ধরো, চোখ মেলে ধরো লেন্সে, এরপর এসো একসাথে দুজনে তলপেটের যন্ত্রণা ভোগ করি। মানুষ দেখি আর মানুষের মধ্যে চিনে নিই নিজেদের।

একটু রাত বাড়লে আমি চলে যাব। তুমি হয়ত একা পড়ে থাকবে। মাছি এসে তোমার গায়ে বসবে, গন্ধ শুঁকবে। রক্ত তোমায় চিনিয়ে দেবে রেলপথের পাশে সেই চেনা গলিটা। ফেরার পথে আমি দোকানে দোকানে ব্যাগের দাগ দেখব, হলুদ হলুদ দাগ। রোজকার মতো বাড়ি ফিরে শুকিয়ে যাওয়া চারাগাছটায় জল দেব। রোজকার মতো আমিও নিজেকে সুমন হয়ে যেতে দেখব।



Tuesday, December 6, 2016

সুখ : সুপ্রিয় কুমার রায়

সুখ

যেদিন গানের পারফরম্যান্স ভালো হয় তারপর অনেক কঠিন কাজও খুব সহজে করা যায়
সেদিন বোলপুর এ এমনি এক গানের আখড়া সেরে আমি আর আমার এক বন্ধু ঠিক করলাম আজ সারারাত রাস্তায় ঘুরবো!!! তো যাই হোক আমার বন্ধু অনেকটাই মাল খেয়েছে আমারও অদ্ভুত আবহাওয়ায় ঘুরে নেশা নেশা লেগেছে!!! ঘুরতে ঘুরতে কটা বাজে জানিনা দুটো রাস্তার মাঝ খানে এসেছি
মাঝখানে লেখা কোথায় যাবেন
ডানদিকে না বাঁদিকে?
ডানদিকে লেখা পৃথিবীর বাইরে ^
বাম দিকে লেখা পৃথিবীর ভেতরে ^
আমরা একে অপরকে দেখে
পৃথিবীর ভেতরে ঢুকে পরেছি ~~
কিছু দূর এগোতেই দেখি একটি ছেলে একটি রশির ওপর দিয়ে এক পায়ে হেঁটে হেঁটে ব্যালান্স এর খেলা দেখাচ্ছে আর বলছে আমি বিশ্বাস, হয়তো কোনো দিনও পড়বো না কিন্তু যেদিন পরবো তারপর যতই ভালো খেলা দেখাই তোমরা বলবে "এর বিশ্বাস নেই" এবং এটা হওয়াও উচিত
কিছু দূর এগোলাম শুনি
এক নেতা ভাষণ দিচ্ছে, বলছে,
দেশটা প্রেম করতে করতে গেল
না মনে পুরুষের নারীর প্রতি প্রেম আর কি! কত দেশের কাজে এরা এরজন্য হস্তক্ষেপ করতে পারেনা জানেন!!!
আমার বন্ধু আমার দিকে তাকিয়ে বলে, কি বলেরে??
এরপর
দেখি একটি গাছের নিচে এক জ্যোতিষী,
এক বেটা গিয়ে বলছে,
আমার বউ সুন্দর হবে তো?
জ্যোতিষী বলছে,
"সুন্দরী বউ স্বামীকে ভালোবাসতে পারে না নিজের সুন্দর হওয়ার অহংকারে সে মরে"
আমি বললাম এই ঠিক বলেছে!
বন্ধু কে গিয়ে বললাম
চল আমরাও কিছু জানতে চাই
এই জ্যোতিষী হাত না দেখেই অনেক কিছু বলে
আমার বন্ধু গিয়ে বললো
কাকু?
এই ছেলে ভদ্র ভাবে কথা বল আমি কাকু?
তাহলে কি বলবো কাকু
আমি জ্যোতিষী
আমার কাজের নামেই আমায় ডাক,
আমি সিনেমা বানাতে পারবো?
কি হবে সিনেমা বানিয়ে?
লোকে তো কিছু শেখে না
শুধু এন্টারটেইনমেন্ট ভাবে!!!
মানুষ শোধরায়?
না তবু...
এরপর অদ্ভুত সুন্দর একটা মেয়ে অমাদের দিকে তাকিয়ে হাসতে হাসতে চলে গেল
আমি বরাবরই সুন্দরীদের প্রতি আকর্ষিত
তাই এখান থেকে মুখ সরিয়ে
রওনা হলাম ওর পেছন পেছন
চারিদিকে যেরকম পরিবেশ, মানে কোনো লেখায় সিনেমায় বর্ণিত হয়নি সেরকম সুন্দর পরিবেশের মধ্যে দিয়ে আমি সেই সুন্দরীর পেছন পেছন একটি হাড়ির মতো ঘরে ঢুকে পড়লাম
তোমার নাম কি,
সে বললো ওরে বাংলা সিনেমা
দেখে কি মনে হয়?
আমি বললাম সুন্দরী,
ও হেসে বললো হে ওটাই, এর ভেতরে বাইরে কিছু নেই
আমি ওর ঠোঁটে কিস করলাম ,
ও বললো
আমি এটা কে কেন গ্রহণ করবো?
আমি,
"When I kiss your lip I kiss your soul"
বলে তো দিলাম
কি হবে জানিনা
কারণ এরা প্রত্যেকেই এক কাঠি ওপরে
সুন্দরী বললো,
তুমি তো এখানকারই লোক
ওখানে কি করো?
গান গাই
একটা শোনাও
"শোনো আমি না তোমায় চিনিনা
চিনতেও চাই না
এখানেই কোথাও আছো জানি
দেখতে চাই না
নামে অক্ষরে জীবনে মরণে আনতে চাইনা
সবার মতো আমার গানে তুমি থাকো চাই না
এভাবেই অমর হয়েযাও তুমি
এভাবে অমর করে যাই আমি"
আমার বন্ধু এসে বললো এই চল
বের হই
সুন্দরী প্রনাম করলো, কেন জানিনা
বেরিয়ে দেখি একটি মিছিল যাচ্ছে
স্লোগান ~ "শান্তি চাই শান্তি দাও" বাঃ ইউনিক দাবি তো
এই দাবির মিছিল এ হাঁটি
হাঁটছি এখনও হাঁটছি
মুখে কখনো কখনো মনে বলছি



সুপ্রিয় কুমার রায়

Supriya Kr. Roy

Sunday, December 4, 2016

বাংলা কবিতার প্রসঙ্গে, দলীয় আদর্শ আর একটি বিনীত প্রশ্ন : চান্দ্রেয়ী দে

বাংলা কবিতার প্রসঙ্গে, দলীয় আদর্শ আর একটি বিনীত প্রশ্ন

আজ। অর্থাৎ কাল বা পরশু নয়। একমাস আগের বা একমাস পরের কোনো দিন নয়। এই আজ সময়টা আজকের সময়েই একমাত্র অস্তিত্ববান। কিন্তু, আজ-এর মধ্যে আছে গতকালের ছায়া-র শীতলতা, গতকালের রোদের তাপ, আর আছে আগামীকালের আলোছায়া কে অনুভবের রসদ। আজ এর মধ্যেই আছে গতকাল নেওয়া শপথ, আছে আগামীকালের রুটম্যাপ - পথ চলার দিশা, পাথেয়। তাই আজ, বস্তুত কাল বা পরশু থেকে আমূল বিচ্ছিন্ন, আপাদমাথা যোগাযোগহীন নয়।

দল। ‘দ’ আর ‘ল’-এর একটিমাত্র বিশেষ বিন্যাসেই ‘দল’ শব্দটি তৈরি হয়। একটিমাত্র বিশেষ বিন্যাসেই তৈরি হয় এর ভাবটিও। সময় ও পরিপার্শ্ব অনুযায়ী তার ভাবনা ও তার প্রকাশ বদলে যেতে পারে। কিন্তু শপথ আর পাথেয় আমূল পরিবর্তনশীল হতে পারেনা। পারে, যদি সেই দল, দলের ব্যক্তিবর্গ, সময়ের দাবী মেনে নিয়ে, প্রয়োজনীয়ের অভাব বোধ ক’রে অন্য কোনো বিন্যাসে বিন্যস্ত হয়ে ওঠে, হয়ে ওঠে অন্য কোনো দল। দল যদি আধার হয়, তার আধেয় এক বা একাধিক ব্যক্তি। এখন, স্থান, কাল অনুযায়ী পাত্র তার অবস্থান পরিবর্তন করতে পারে, এমনকি আমূল পরিবর্তনও এক্ষেত্রে সম্ভব। কিন্তু, কোনো দলের পরিপ্রেক্ষিতে ব্যক্তির ব্যক্তিগত অবস্থানের চেয়েও বেশী গুরুত্বপূর্ণ তাদের পারস্পরিক অবস্থান। কোনো দলের সদস্য-ব্যক্তিবর্গের পারস্পরিক অবস্থান সম্পূর্ণ পরিবর্তিত হয়ে গেলে, সেই দলেরও সম্পূর্ণ পরিবর্তন অর্থাৎ অন্য কোনো দল হয়ে ওঠা স্বসিদ্ধ।

নাম। একটি বিশেষ স্থানিক-কালিক-সাংস্কৃতিক পরিমন্ডলে কোনো নাম, যেকোনো নাম কোনো বস্তুর সনাক্তকরণে ব্যবহৃত হয়, যদিও নামের গঠনের সঙ্গে বস্তুর অস্তিত্বের যোগাযোগ সম্পূর্ণ কাল্পনিক। সনাক্তকরণের, পারস্পরিক সংযোগের (কমিউনিকেশনের) প্রয়োজনীয়তা স্বীকার করে নিলে, কোনো একটি নামের মাধ্যমে কোনো বিশেষ বস্তু তথা কোনো বিশেষ ধর্ম এবং বৈশিষ্ট্য প্রকাশিত হয়। এখন, ‘দল’ এর প্রসঙ্গে, কোনো দল এর নামের সঙ্গেই যুক্ত হয়ে যায় দলটির অস্তিত্ব অর্থাৎ তার দলীয় আদর্শ এবং সেই অনুযায়ী সম্ভাব্য কর্মপদ্ধতি। সেই কারণেই দলীয় অবস্থানের পরিবর্তনের সঙ্গে যেমন জড়িয়ে থাকে দলের পরিবর্তন, তেমনই তার সঙ্গে সঙ্গে নামেরও পরিবর্তন। দলভাবনা এমনকি দলভাবনার সার্বিক যৌথতা পরিবর্তিত হয়ে গেলে স্বতঃসিদ্ধভাবেই তার সনাক্তকরণ বৈশিষ্ট্য যায় বদলে, আর তা স্বীকৃতি পায় নাম-এর বদলের মধ্য দিয়ে। কেউ কেউ মনে করতে পারেন পরিবর্তনশীলতাই যেহেতু প্রকৃতি-র নিয়ম, তাই পরিবর্তনশীলতা স্বয়ং কোনো দলের দলীয় আদর্শ হতে পারে। অমোঘ পরিবর্তনশীলতার সামনে বদলে যেতে পারে স্থান-কাল, বদলে যেতে পারে ব্যক্তিক পরিস্থিতি, এমনকি বদলাতে পারে যৌথ অবস্থান। কিন্তু এই সার্বিক পরিবর্তনের জলপ্রপাত নাম-কেও ধুয়ে নিয়ে যাবে না কি? যদি পরিবর্তনশীলতাই ধারণ করতে হয়, নামবাচক ক্ষেত্রটিই বা ব্রাত্য থেকে যাবে কেন? তা কি কোনো ‘লিগ্যাসি’-র তাগিদে? কোনো ‘নস্টালজিয়া’র তাগিদে? অথবা কোনো ‘ব্রান্ডিং’ এর তাগিদে? কেননা সনাক্তকরণ বৈশিষ্ট্য যদি বদলে যায়, সনাক্তকরণের উপচার ‘নাম’ অপরিবর্তিত থাকবে কি করে? যে অতীত বর্তমানে ‘অতীত’, শুধু নামে তাকে বহন করব কেন? কাল আমি কি ছিলাম তা আজ বহন করবে কে, যদি সার্বিক পরিবর্তনে বদলে যায় এই ‘আমি’টাই? অন্তত অংশত। আমার অংশের বদলও আমাকে আর আমি রাখে না। গঙ্গায় যে তিনডুব দিল, সে তিন জন, একজন নয়। যে গঙ্গায় সে ডুব দিলো, তাও তিনটি গঙ্গা। একটি নয়।

ছড়িয়ে থাকা পরিচ্ছেদগুলোর মালা গাঁথতে গাঁথতে বলি, বাংলা কবিতার প্রথম দশকে দেখছি এক সর্বব্যাপী তাড়াহুড়া- কে কোথায় ছিল, কে কোথায় আছে, কেউ শূণ্য কেউ নব্বই কেউ বা অন্য কোন দশক থেকে – সময়ের পথে ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়া আমরা, আমরা যারা যৌথতা নিয়ে রূপকথা বেঁচেছি, যৌথতা নিয়ে স্বপ্ন দেখেছি, জীবন কেটেছি ছিঁড়েছি যৌথতার অভিমানে, তারা, আমরা টুকরো হয়ে যাওয়া সেই যৌথতার দোহাই দিয়ে, সেই যৌথতার কাল্পনিক দায় নিয়ে, সেই যৌথতার নাম ভাঁড়িয়ে প্রকাশ করতে চাইছি ‘অন্য’ এক যৌথতাকে, ‘অন্য’ এক ব্যক্তিক অস্তিত্ব-কে। মরা যৌথতা কে ‘আ’মরা করতে চাইছি। কেন??

বাংলা কবিতার পাঠক, লেখক, বিপ্লবী, আর বাংলা কবিতার আমরা-র পায়ে এই আমার বিনীত প্রশ্ন, এই আমার জিজ্ঞাসু আকুতি...


চান্দ্রেয়ী দে
Chandrayee Dey

Saturday, December 3, 2016

সাতটি টবিতা : দিদার মালেকী

লটকন যেভাবে ফল হয়ে ওঠে

নিউ মার্কেটের সামনাসামনি
দাঁড়িয়ে আছি আপনাআপনি
দেখি ফল হয়ে উঠছে লটকন

ছাতা মাথায় মেয়েটিও একলা
ফোনে বলছে 'তো কী দ্যাখলা'
হাতে ধরা ফোতা হওয়া পপকর্ন

অন্যজনের বেশর ঝুলছে নাকে
ভ্রুর ভঙ্গিতে কারে যেন ডাকে
আমায় ডাকছে থোকা লটকন

মানুষ ফল হয়ে ওঠে বাজারে
চিনতে পারে কে আর কারে?
কোথায় ফলেছিলে হে লটকন?



Friday, December 2, 2016

অপুর সংসারের লেখা : রঙ্গন রায়, পূজা নন্দী ও অদ্রিজা পাল

অপুর সংসারের লেখা


অনেকক্ষন হাঁটার পর বসতে ইচ্ছে করতেই পারে তা বলে... ডিভাইডার? ভাবছি কি লেখা যায় করলার ধারে, ল্যাম্পপোস্ট এর আলো ছিল শুধু আর আমরা... বাওয়ালিলেখাই যেতো এভাবে চুল ছাড়া রাতের সাথে তবে বেইমানি হয়ে যাবে... আমরা একটা শব্দ শুনছি। তুমি কি শুনতে পাচ্ছো? না না করলার হাওয়ার কথা বলবো না গো, এ কুলকুল শব্দও নয়। বরং অনেকদিন পর দেখা কচুপাতার ফাঁকে যে জোনাকি বসে আছে তার ডানার শব্দ। আমি কি ভুল শুনছি? নাহ! এ হতে পারেনা, তুমি কি আমায় জোনাকির আলোটুকু এনে দিতে পারবে?... দেখাটা বাড়াতে পারছি না। আটকে গেছে কোন অজানা বেড়া জালে... করলা শান্ত, ঝড় তো আমাদের মাঝে কিন্তু কিসের? রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা এক যুগল ঠিক যেন তোমার ছোঁয়া পেলাম... এই ছোঁয়া পেয়েই নির্ঘাৎ রবীন্দ্রনাথ গেয়েছিলেন "একটুকু ছোঁয়া লাগে একটুকু কথা শুনি", এভাবেই কত কত কথা কত তুমি বারবার প্রিয় হয়ে উঠতে জানো... তোমার এপার ওপার সবটাই যেন তোলপা, আমার ভাঙন যেন কিছুতেই ছুঁতে পারেনি তোমায়… সবটাই কেন তুমি পর্যন্ত এসে থেমে যায়? তোমার বাইরে বেড়োতে চাইলে হাঁপিয়ে ওঠে এই ব্রীজ এই রাস্তা পুরনো স্কুল - পুরনো স্মৃতি। আমাদের গল্প তোমার থেকে শুরু হয় আর তুমি পর্যন্ত এসে থেমে যায়... কখনো একটু পৃথিবী হারিয়ে যাবে আমার মস্তিষ্কে, কখনো তুমি আরো বাঁশি বাজিয়ে উঠতে পারো। হে তুমি, তোমার কি কোন তুমি নেই?... কিছু পুরনো গন্ধ মনে পড়ে গেলো, স্কুলের ঘন্টা আর তোমার সাইকেলের চাকার ছন্দ মন্দ ছিলনা বইকি, আবারো থমকে গেলাম তোমায়, তুমি কে?... তোমায় খুঁজতে খুঁজতে একদিন নিজেকেই হারিয়ে ফেলবো বোধহয়, শব্দের ফাঁকে একদিন গলে গিয়ে মুছে দিতে চাইবো সমস্ত অন্ধকার, দেখবে আমি কেমন হারিয়ে যেতে পারি অন্ধকারের নাগপাশে, এই যে স্ট্রীট লাইট গুলো আলো দেবে বলে দাঁড়িয়ে আছে তাদের দেওয়া বোধহয় কোনদিন ফুরোবে না... আমরা তো রাস্তার বাইরে বসে, এটা কি টাইমলাইন না ট্রাম লাইন? গুলিয়ে ফেললে চলবেনা এ জলশহরে, দৃশ্যত অন্ধকার আর ধ্রুবতারা সন্ধিক্ষণে তুমি চুল খুলে হেঁটে গেলে একা, এখনো গন্ধ ছড়িয়ে আছে বিলাসবহুল শ্যাম্পু, এত রাত্রেও...

রঙ্গন রায় (Rangan Roy)
পূজা নন্দী (Puja Nandi)
অদ্রিজা পাল (Adrija Paul)

Wednesday, November 30, 2016

হরকরাকে লেখা চিঠি : সর্বজিৎ ঘোষ

হরকরাকে লেখা চিঠি

রাস্তা পেরোতে গিয়ে শ্যামলালের হঠাৎ মনে হল, তাকে নিয়ে কেউ কোনোদিন কবিতা লিখবে না। অথচ ছোট্টো সবুজ বিন্দুজীব যে মানুষটি দপদপ করে বলতে থাকে আর কতক্ষণ, সে ক্রমশ এগিয়ে যাচ্ছিলো লালে। শ্যামলালের মনে হল সে তাকে বলছে, ওহে শ্যামলাল, এই যে কুড়ি লক্ষ ত্রিশ হাজার পাঁচশো সাতাশিতম বার তুমি সফলভাবে রাস্তা পেরোলে, এবং প্রত্যেক মৌলিক সংখ্যকবারে পেরোতে গিয়ে যে তুমি গাড়ি চাপা পড়তে পড়তে বেঁচে যাও, (আহা সে বাঁচা তুমি জানবে না; অঙ্কে কাঁচা)... শ্যামলাল শুনতে পেলোনা বাকিটা। হয়তো সে বলতো শ্যামলাল জানে না রাস্তা পেরিয়ে আসলে সে কোথায় যাচ্ছে, বা রাস্তা সে আদৌ পেরোতে পেরেছে কিনা, যেভাবে শ্যামলাল জানে না এখন সে কোথা থেকে ফিরছে। শ্যামলালের মনে হয়েছিল সে বেরচ্ছে তার ইউনিভার্সিটি থেকে, শেষ ক্লাস ফাঁকি দিয়ে সে খুঁজতে গিয়েছিল এক জলে ভেজা দাঁড়কাক, যে আসলে ভেজার ভান করে পালক ঝাড়ছিল। কিন্তু, এও তো সমানভাবে সত্যি, শ্যামলাল যে রাস্তা পেরোচ্ছিল তার এপারে ছিল প্রাচীন লাল এক সরকারি অফিস, যার লিফটের দড়ি দিয়ে খুব ভালো ফাঁসি হয়, শ্যামলাল ভেবেছিল। যেমন শ্যামলাল এও জেনেছিল, নীলদর্পণ নাটকে এক কুখ্যাত চাবুকের নাম শ্যামলাল এবং তার নিজের কোমরে ছিল প্রাগৈতিহাসিক এক দাদ, যে দাদ তার মনের সব কথা বুঝতো বিনা ভাষায়।

রাস্তায় অন্ধকার হয়ে আসছিল, ভেজা ছিল রাস্তা, অথবা তীব্র দুপুরের মরীচিকায় রাস্তা হয়ে উঠেছিল সবুজ কোনো শস্যক্ষেত। শ্যামলাল বিড়ি ধরিয়েছিল একটি, এবং তার মনে পড়েছিল কবিতার কথা। শ্যামলাল তো জানতো, মহাপ্রলয়ের সময়ে নৌকায় যে পাঁচটি কবিতা নিয়ে উঠতে পারবে শ্যামলী, তার মধ্যে শেষতম কবিতাটি স্বয়ং শ্যামলালের। যদিও সেই কবিতাটি শ্যামলাল এখনো লিখে উঠতে পারেনি, কারণ শ্যামলীকে এখনো সে চেনে না, চিনলেই জিজ্ঞেস করে নেবে সে কেমন কবিতা শ্যামলীর পছন্দ, কিংবা কবিতার বদলে শ্যামলী চায় কিনা একফালি ছায়া ও রোদ্দুরঘাস জমি। অথচ, শ্যামলাল ভাবে, কেউ তাকে নিয়ে কবিতা লিখবে না কোনোদিন। আজকের এই ট্রাফিক সিগনালে শ্যামলালের তো দাঁড়ানোর কথা ছিল না; যেভাবে হিজড়েরা শাড়ি তুলে অন্ধকার দেখানোর ভয় দেখিয়ে টাকা নেয়, শ্যামলাল যেন দাঁড়াচ্ছে গিয়ে প্রতিটি সিগনালে, এভাবেই চেয়ে যাচ্ছে একটা আস্ত কবিতা। শ্যামলালের মনে হয়েছিল আজ পর্যন্ত সে যা যা লিখেছে সব একেকটি গর্ভস্রাব, কারণ শ্যামলাল জানত মহাপ্রলয়ের সময় কোনো নৌকা পাওয়া যাবে না শেষ পর্যন্ত। শ্যামলীকে সে একবারই দেখেছিল, বর্ধমান থেকে ফেরার পথে কর্ড লাইনে, ট্রেনের দরজায় বারমুখো হয়ে দাঁড়িয়ে, একহাতে হাতল ধরা, চুলগুলো খোলা ছিল এবং হাওয়ায় একে একে উড়ে যাচ্ছিলো, শ্যামলী ক্রমশ ন্যাড়া হয়ে যাচ্ছিল আর রোদ্দুর আরো উজ্জ্বল হয়ে উঠছিল। অথচ, আজ এখনো শ্যামলালের বাস এলো না, কবিতার মতো সে যদি স্থির বুঝতে পারতো বাস আর আসবে না, বাস কোনো ছন্দকাটা তালকাটা শব্দ, এবং অপেক্ষা বিষয়টা আসলে মাথাব্যথার মতো আদুরে... শ্যামলাল মন দিয়ে বাসস্ট্যান্ডে সাঁটানো 'গোপনে মদ ছাড়ান' বিজ্ঞাপন পড়ছিল এবং ভাবছিল, সে কি কোনোদিন মাতাল হয়নি, সে কি চায়নি ঝাল ঝাল লংকাকুচি মাখা ছোলাসেদ্ধ এবং খোঁয়ারি-ভাঙানো লেবুর জল, তাহলে কেন তাকে নিয়ে একটা, অন্তত একটা বিজ্ঞাপনও লেখা হল না এতদিনে!


Saturday, November 26, 2016

নিষেধাজ্ঞা : অদ্বয় চৌধুরী

নিষেধাজ্ঞা

“আজ রাত দশটা থেকে রাজপথে পায়ে হেঁটে যাতায়াত নিষিদ্ধ।”
       সেদিন সন্ধে থেকে গোটা এলাকা পোস্টারে পোস্টারে ছেয়ে গেছিল, টিভি-রেডিও সর্বত্র ঘোষণা হচ্ছিল লাগাতার। সকলেই জেনে যায় এই নিষেধাজ্ঞা। যারা অনেক রাত করে পায়ে হেঁটে বাড়ি ফেরে তারা সেদিন তাড়াতাড়ি বাড়ি ফিরে এসেছিল।

       যারা রাজপথে পায়ে হেঁটে যাতায়াত করেনা, যাদের গাড়ি আছে, তারা বেজায় খুশি হয়েছিল এই নিষেধাজ্ঞায়। রাস্তায় ভিড় কমবে, ট্রাফিক জ্যাম কমবে। গাড়ির দোকানদাররাও খুশি হয়েছিল। এবার গাড়ির বিক্রি বাড়বে। উপরমহলের তরফে বলা হয় পায়ে হেঁটে যাতায়াত করলেও যাদের বাড়িতে গাড়ি লুকিয়ে রাখা আছে, বা অন্যত্র তাদের গাড়ি বেনামে খাটছে, সেইসব লোকের লুকানো গাড়ি ধরার উদ্দেশ্যেই এই নিষেধাজ্ঞা। কিন্তু ব্যাপারটা যে তা নয় তা গাড়িওয়ালা এবং গাড়ির দোকানদাররা জানত। এই সিদ্ধান্ত মূলত এলাকার সার্বিক উন্নয়নের স্বার্থেই— সকলেই যাতে ‘গাড়িওয়ালা’ শ্রেণিতে উন্নীত হয়। যাদের গাড়ি নেই, অথবা গাড়ি কেনার কোনোভাবেই সামর্থ্য নেই, তারা এলাকা ছেড়ে চলে যাবে, অথবা না খেতে পেয়ে মারা যাবে।

       পরের দিন রাস্তা একেবারে শুনশান। হাতে গোনা কয়েকটা গাড়ি প্রচণ্ড গতিতে যাতায়াত করছে। ফুটপাথে কোনো লোক নেই। দু-একটা বড় দোকান আর সমস্ত গাড়ির দোকান ছাড়া আর কোনো দোকান খোলেনি। কোনো নতুন গাড়িও কিন্তু রাস্তায় দেখা যায় না। না লুকিয়ে রাখা গাড়ি, না নতুন কেনা গাড়ি। আগে যেগুলো চলত সেগুলোই শুধু দেখা যায়।

Wednesday, November 23, 2016

চতুশ্চত্বারিংশৎ থেকে একপঞ্চাশৎ চর্যাগীতিকোষবৃত্তি : অভিজিৎ পাল

চতুশ্চত্বারিংশৎ চর্যাগীতিকোষবৃত্তি

কঙ্কণপাদের কাছে বসে ধর্মতত্ত্বের কথা শুনি। অপার্থিব জ্ঞানালোকে সমস্ত শূন্যে শূন্য মিশে যায়। একে একে জেগে ওঠে সর্ব ধর্মমত। একটি সমন্বয়বাদী চিন্তাচেতনার আবহ জমে ওঠে। এক হয়ে ওঠে মতভেদের দল। চতুঃক্ষণ বুঝে স্থিতধী হই। বহু সাধনায় মধ্যমায় জাগে বোধিজ্ঞান। হৃদয় সংবেদী হয়ে আসে নান্দনিক বিন্দুনাদ। শুদ্ধ আত্মজ্ঞান উন্মোচিত হতে থাকে। আমার দৈনিক যাপনের প্রভেদমূলক প্রহেলিকা নষ্ট হয়ে আসে। সন্ধান করে ফিরে আমার মর্ত আগমনের পুরাধুনিক পূর্বসূত্র। সব শেষ হলে ক্ষয় ধরে সংবৃত চিত্তে। কঙ্কণপাদের ঘন ঘন ঝংকারে ভ্রান্তবিষয়ক কোলাহল চূর্ণ হয়ে আসে। আলোর গন্ধে ভরে ওঠে সমস্ত ক্যানভাস..



পঞ্চচত্বারিংশৎ চর্যাগীতিকোষবৃত্তি

দেহতত্ত্বের ইতিবৃত্ত শুনি। কাহ্নপাদ মল্লারী রাগ শোনান। আমার শরীরের পঞ্চেন্দ্রিয় দিয়ে জন্মে ওঠে গাছের শাখা। মনতরু ঢেকে যায় অজস্র পাতায়। ফলে। গন্ধে। ভীত হই। পুনরপি ভয় জাগে। একের পর এক কুঠারের আঘাত বসাই। ক্ষতের দাগ জমে ওঠে ধীরোদাত্ত ঢঙে। শুভাশুভ জলসেচে পুনঃ জন্ম সাজাই। মৃত্যু সাজাই। পুনশ্চ আঘাত করি। নিগূঢ় ছেদনজ্ঞান অধরা রয়ে যায়। মূঢ় সংসারের যাপনের বুঁদ হয়ে ওঠে আমার আজানুলম্বিত তাপদের কথকতা। শিকড় উপড়ে ফেলি। মুছে ফেলি পার্থিব শিকড়ের টান। আকাশ ছুঁয়ে বাঁচতে চাই। শূন্যবাদের সহজিয়া শব্দমঞ্জরী ধ্বনিত হতে থাকে...