Showing posts with label New Age Poet. Show all posts
Showing posts with label New Age Poet. Show all posts

Friday, July 21, 2017

সোনালি আপেল ও প্রিয়তম এবং চরিত্র, দিন ও পিতা : কৃতি ঘোষ

সোনালি আপেল ও প্রিয়তম
মানুষ চিরকাল অন্ধকূপের মধ্যে কাটাতে ভালোবাসে। এদিকে যাব না, ওদিকে যাব না – আমি বসে থাকবো শুধু। এমনটা বললে কোনও ছায়াছবির মত পথ আগলে রাখা যায় ঠিকই, কিন্তু প্রকৃত প্রকৃতিতে বাঁচা যায় না। বাঁচার কোনও অর্থ নেই মানে অর্থের বেঁচে থাকার প্রয়োজন ফুরিয়েছে। না, আমি গুলিয়ে দিচ্ছি না, প্রস্তর ভেঙে কারুর মূর্তিও তৈরি করছিনা আপাতত। এই যে সাময়িক প্রয়াস তার অর্থ আমার প্রত্যয় ঘটেছে। আমি উচ্চস্থানে বাস করছি আপাতত। এখানে কবিতার প্রয়োজন নেই, মৃত্যুর প্রয়োজন নেই। এখানে সমুদ্রের ফেনা আরেকটা অ্যাফ্রোদিতির জন্ম দিতে পারবেনা। সূর্যের দেবতা এখন অকর্মণ্য হয়ে শিস দিচ্ছে খানিক।
নদীতটে বসে কার কথা মনে পড়ে? কার ভ্রু উঁচিয়ে তাকানোয় বাষ্পীভুত হয়ে যাওয়ার ভয় থাকে বেশি? কে সেই দীন-দরিদ্র ও কবির মাধ্যমে অমর হওয়া প্রেমিক? এসো প্রেমিক, জল ভেঙে জরায়ুতে এসো। তোমাকে জন্ম দিই একবার। এখানে তরল অনুভূতিরা গাছে গাছে হেলান দিয়ে বসে থাকে। সোনালি আপেলের মত লোভ আছে বিস্তর। তবে দেখানোর শখ নেই। বালি বালি রোদ আছে। বিনে পয়সার চাবুক আছে। চাবুক কথা বললেই ছোটে। পিঠ বেয়ে সাপের মত হিসহিস করে চাবুক। দেখোনি?
সমুদ্রে যেও না আর। ওখানে সুন্দরী মাছ পড়ে আছে খুব। তোমার ভয় নেই? ভয় নেই বিকিয়ে যাবার? ভয় নেই কাবু হয়ে বসে থাকার কোনে? উৎসবের আনন্দ ভালো দীর্ঘ জীবনের চেয়ে। দীর্ঘ ভাবে পোকার খাদ্য হওয়ার চেয়ে কবর অনেক ভালো। প্রেম ও বিষাদের ক্ষমা হয় না কখনও। এদের কেবল পরিবর্তন হয় রূপ, রঙ - বাজি রেখে হেরে যাওয়ার।
এয়োরা নদীঘাটে বসে কেন? ওদের বাড়ি নেই? ওরা জানে না, তুমি ওইদিকে যাবে আমাকে ছেড়ে? সব কবিতাই প্রেমের হয় কেন? বিপ্লবেও প্রেম কেন খাদ্য হয়? আমাকে জিতিয়ে দাও খিদে, আমি উড়বো না। আমার ডানা উপহার দিয়েছি তিন প্রহরের দেবতাকে।
ওরা দেবতা বলে – ঈশ্বর বলে না। বলে না ঈশ্বরের মৃত্যু ঘটেছে – নারীর সাথে সহবাসের কারণে। ওরা বলে না ঈশ্বর কামুক ও ভিখারি। ঈশ্বরের পুত্র নেই – ওগুলো মিথ। ঈশ্বরের প্রসবযন্ত্র নেই – ওগুলো মিথ্যে। মিথ্যে আর গুজবের পার্থক্য করতে শেখো। শেখো মিথ্যেকে সত্য বানানোর নির্মম প্রক্রিয়া।
আহা দিবস! আহা কর্তব্যহীন দিবস! আমি তার সহিত সাক্ষাৎ করতে জঙ্গলে গিয়েছিলাম। সে আমাকে সোনালি আপেল দিয়েছে। বলেছে এখান থেকেই সভ্যতার শুরু। বলেছে অ্যাফ্রোদিতির মৃত্যু নেই। সে অমর ও বিনম্র। অহংকারের মাথা নেই তার। সে অ্যাফ্রোদিতির অপেক্ষা করছে। আমি সাফোকে দেখিনি, পড়েছি শুধু কিছু শব্দ ও অক্ষরের বৃত্ত। আমাকে অহংকার মুক্ত করো হে সাফো – নতুবা সে আমাকে গ্রহণ করবে না।


Tuesday, July 18, 2017

ঈশ্বরের ভেজা ডানা : আকাশ গঙ্গোপাধ্যায়

ঈশ্বরের ভেজা ডানা

চেনা মেঘ, ঠাণ্ডা হয়ে যাওয়া হ্যালোজেন কফ থুতুর দাগ পেরিয়ে যখন উঠলাম কলেজস্ট্রিটের বাসে, তখন আমি সেই বাসের একমাত্র প্যাসেঞ্জার। না একটু ভুল হচ্ছে কোথাও, ছিল আরেকজন। জানলার ধারে সিট ছিল আজ, তাই বসা হল না। গোটা বাস ফাঁকা পেয়ে কিছুতেই বুঝতে পারলাম না কোথায় বসা ভালো! জয়িতা রেগে আছে হয়তো, রাগবে না ই বা কেনো। রোজই কাজ সেরে উঠে ঘুমিয়ে পড়ি রাত্তির হয়ে গেছে বলে। কথা দিই যে কথা বলব, পেরে উঠি না! এরপর অশান্তি হয় কিছুটা, প্রতিবারই হয়। তাও জানি সামনে গিয়ে দাঁড়াতে পারলে গলে যাবে ও। যায়ও প্রত্যেকবার! ও একটা সাংঘাতিক স্বপ্ন দেখে মাঝে মাঝে, কুঁকড়ে যায়। আমায় পায় না। মেয়েটা হয়তো ভুলই করছে। হাওড়ায় এর আগে কখনও প্রজাপতি দেখিনি আমি, স্টেশন চত্ত্বরে, পাক খেতে খেতে বাসে উঠে পড়েছে আমার পিছু পিছু। তারপর হারিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে। বাসটা প্রাইভেট, টুকটুক করে কচ্ছপের মতো পেরোচ্ছে ব্রীজ। আজকাল আর ভিড় ভালো লাগে না। নিতে পারি না বেশি। এত মত এত ভাব এত আদর্শ, সাধুও বলে তাই, ও নিজেও এড়িয়ে চলে ভিড়, দক্ষ হাতে, আমি শিখি, যেমন শিখি বাস খালি থাকলে ড্রাইভার কন্ডাক্টররা কীভাবে কাছের হয়ে ওঠে। আমাদের অনেক কিছুই মেলে। সেগুলো একদিকে ফেলে, না-মেলাগুলো যাপন করি প্রাণপন। হাঁটতে হাঁটতে কোথাও তো পৌঁছোবো! দু’পা এগিয়ে গেলে তো শুরুর বিন্দুও অভিমত বদলায়, দেখিনি পিছনে সেও কোনো স্বার্থ খোঁজে কি না! খুঁজলেই বা কী। কালাকার স্ট্রিটের মুখের জ্যামটা গল্পে আসে আমার, রোজই, মা বাবা কে শোনাই সময় পেলেই। শুনেছি বড়বাজার থানায় নাকি বিরাট ঘুষের লেনদেন অথচ এই মোড়ের সেই পুলিশ ভদ্রলোককে আমি পাঁচ বছর এভাবেই দেখছি, কিরকম বাবা বাবা দেখতে, ইনি কি ঘুষ নিতে পারেন? প্রজাপতিটা চমকে দিল হঠাৎ, কোলে রাখা ব্যাগের একটা কোনায় বসল ভালো করে। এখনও যায়নি ব্যাটা। কি জ্বালা! অন্য জেলায় চলে এলি যে আমার সাথে! ফোনটা শুদ্ধেন্দুদারই। আগেও করেছে দাদা

Friday, July 14, 2017

তামুজ এবং আমি ~ একটি দীর্ঘ কবিতা : বেবী সাউ

তামুজ এবং আমি

অতঃপর শূন্যতা নেমে আসে
হাঁটু পেতে বসে ঈশ্বর
বকরূপী ধর্ম
নীতিবাক্য যত নিশ্চল
কোথাও প্রলয়ের ধ্বনি বেজে ওঠে
কোথাও বা পায়ের শব্দ
ভুল করে পুষে রাখি ভ্রম
ভ্রমণে উঠে আসে নিকেলের স্বর
দমবন্ধ অবস্থান

তামুজ হে! অবসর এই
শুরু করো দীর্ঘতম চিঠি
পাঠ করো,
শ্রবনের মাঝে এইটুকু সমর্পণ
দেখো, ধৈর্যহীন হয়নি মৃত বাজের আত্মা
পঙ্গুত্ব নিয়ে বসে আছে শেষ উপাখ্যান
রক্তহীন এই মাটি জুড়ে
বায়ু জুড়ে
এখনও অপেক্ষা করে দীর্ঘদিন
সমস্ত ধর্মপুরুষদের ছেড়ে জেগে উঠবে
প্রেম, কাল হীন,কামহীন, অনন্ত

এখনও লালপায়া অষ্টাদশী সবটুকু ভেঙে যাওয়া স্বপ্নে পুষে রাখে জোড়া দেওয়া কাঁচ
এখনও প্রসাধনে সেজে আছে সন্ধ্যে তারা
শৃঙ্গারে সুখী বেনারসী
শাঁখ বাজে
পাঠ করো পাঠ করো
 প্রিয় তামুজ, আমার প্রথম কৌমার্য

 দেখো ওই শহরের খাঁজ
সেখানেই যৌনপিশাচের দল
রাতভর হত্যা করেছে প্রেম
প্রেমিকার মন
ব্লাউজের হুকে ঠোঁট কেটে গেছে
সেপটিপিনে লেগে মাংসের গন্ধ
তবুও রাতভর থামে নি'কো
রাতভর উল্লাস করেছে নৃত্য
লিঙ্গ উপাসক তারা
দুধ ঘৃত জলে অবগাহন নয় শুধু
নিপুন কৌশলে শিখেছে হন্তারক পন্থা

তারপর! তারপর

Tuesday, July 11, 2017

তন্ময় ভট্টাচার্য-এর তিনটি লেখা

একদিন

তার সঙ্গে দেখা হবে - এই ভেবে, এটুকু ভেবেই...

বাকিরা সহজে আসে, সহজেই চোখে পড়ে যায়
অমন পাতাল থেকে কী যে কষ্ট কুড়িয়ে আনার
পুড়তে পুড়তে শুধু জ্বলে থাকে বেহায়া সিঁদুর

সিঁথির কিশোরীকথা - এও ভেবে, এটুকু ভেবেও...




শেষ অবধি

কোথাও যায়নি। শুধু দেখা যাচ্ছে না বলে
তার এই ফুটে থাকা মিথ্যা - ঘোষণা দিল কে

এই যে রক্ত জমে নীল হল, ক্রমে ক্রমে
শরীরে ছড়িয়ে গেল সামান্য যমুনা থেকে

নাইতে নেমে কি সেও পা কেটে ফিরবে ঘরে
পরের কয়েকদিন হাওয়ার উদাসী প্রলোভন

মাথুরখণ্ড এলে রাধে কি বাঁচতে পারে
আয়ানে প্রদাহ বাড়ে, ইন্দ্রিয়ে মুরারীযাপন...


Wednesday, July 5, 2017

কবিতাদুটো... : জ্যোতির্ময় বিশ্বাস


নীড়

তিনি লিখেছিলেন নীড়ের মতো
পাখিটির কথা কিছু বলেননি

আর পিপলি লিখে কবে আমি কেটেকুটে দিয়েছি, মুখোমুখি বসিবার সেইকালও অস্ত গেছে অথচ চোখ যে বড় মেহেরবান, যায়নি, তা বুঝতে পারিনি

সব লেনদেন ফুরায়। সমস্ত ফুরায়না জীবনে।




গজলনিঝুম

আমি শুধু ন্যায়না শরাব দিল চান্দনী গম্ ইয়াদ আর হম্ আর তুম গুলো শুনে শুনে চুপ হয়ে থাকি

মেহদী হাসান গুলাম আলিরা আলোচ্য অংশটুকু বুঝে নিয়ে...

বো আখোঁ মে কাজল, বো বালো মে গজঁরা
হাথেলি পে উসকে হীনা, মেহকি মেহকি

বাংলা লয়ে চুপ করে থাকি।।















জ্যোতির্ময় বিশ্বাস
Jyotirmoy Biswas


Monday, July 3, 2017

পোঁদ ও প্রজাপতি হে : দুটি লেখা - শুভঙ্কর দাশ

পোঁদ
পোঁদ শব্দটিকে নিতম্ব বলে
খাটো না করাই ভালো।
শুনেই দেখছি ভুরু কুঁচকে গেল আপনার।
আপনারা তো আবার উচ্চ ঘর
কংস রাজার বংশধর।
আপনাদের বংশে কেউ কোনদিন
পোঁদকে পোঁদ বলেনি।
বলেছে পেছন, পাছা, নিতম্ব, বাম
আরো অনেক কিছুই।

অথচ অজন্তা ইলোরার যাবতীয়
নয়নাভিরাম নারী মূর্তির ভারী পোঁদ দেখে
আপনারা আপনাদের ইস্থেটিক্স বাড়িয়েছেন।

আজও ক্যাট ওয়াকে ভারী পোঁদ দুলিয়ে না হাঁটলে
পয়সা পাবে না ওই বেচারা মেয়েগুলো।

আমায় যে ছেলেটা মাসাজ করতো
সে বলেছিলো শরীরের যাবতীয় নার্ভ সেন্টার পোঁদে।
অতএব পোঁদের মাসাজ জরুরি খুব।
এ কথার সঠিক বেঠিক আমার জানা নেই।
জানা নেই ছেলেটা আসলে
হোমোসেক্সুয়াল ছিল কিনা।

শুধু জানি মেদিনীপুরে
কিছু মানুষের জাত
চন্দ্রবিন্দু হারানো সেই পোঁদ।
এবং তারা অনেকেই সুশিক্ষিত
প্রফেসর, কবি ইত্যাদি।

তাদের নিশ্চয়ই আপনি
নিতম্ব জাত বলে
অপমান করবেন না।



Saturday, July 1, 2017

এক অন্ধকার বিষণ্ণতার বোধ: একটি দেশদ্রোহী গদ্য - অর্জুন বন্দ্যোপাধ্যায়

এক অন্ধকার বিষণ্ণতার বোধ: একটি দেশদ্রোহী গদ্য

এইসব উপজাতি [?] শুধু যে অটল সংকল্প নিয়ে নিজেদের রক্ষা করে তাই নয়, তারা শত্রুদেরও অত্যন্ত বেপরোয়া সাহসিকতা নিয়ে আক্রমণ করে। তাদের মনের এমন একটা শক্তি আছে যা বিপদের আশঙ্কা কিংবা মৃত্যুভয়ের থেকে জোরালো।
নাগা জাতি সম্বন্ধে একজন ব্রিটিশ কর্মকর্তার মন্তব্য, আনুমানিক ১৮৪০ খ্রীষ্টাব্দ 

রিশাং জেগে আছে—শীত, ১৯৫২ 
রিশাং সাখরি’র বয়স হইয়াছে। নয়-নয় করিয়াও নব্বুই তো হইবে। রিশাং যদিও বলিতে পারে না তাঁহার বয়স কত। কানে শোনে না। চোখে দেখে না। জলের নীচে তাকাইয়া দেখা জগতের মতো ঝাপসা আর ঘোলাটে তাহার জগৎ। কখনও পেচ্ছাপ-পায়খানা বিছানাতেই করিয়া ফ্যালে। শরীর ও জীবনের অসহায়ত্বের নিকট সম্পূর্ণ আত্মসমর্পণ করিয়া মল ও মূত্রের কর্দমাক্ত মাখামাখির ভিতর চুপচাপ শুইয়া থাকে। ভাষাহীন চোখে ফ্যালফ্যাল করিয়া চায়। নষ্ট মার্বেলের মতো রিশাং-এর চোখের মণি তখন যেন এই জগতের নয়, অন্য কোনও জগৎ হইতে তাহা আসিয়াছে। তবু নাতনির বকবক শুনিবার ভয়ে কখনও দেয়াল ধরিয়া ধরিয়াও যায়। একাই যায়। কাহাকেও ডাকে না। কিন্তু শৌচাগার অবধি পৌঁছাইবার পূর্বেই যাহা হইবার হইয়া যায়। তখন আর পথ চিনিয়া বিছানায় ফিরিতেও পারে না। অকুস্থলেই বসিয়া পড়ে। ঘরের ঢালু দিক দিয়া হলুদাভ প্রস্রাব বহিয়া যায়। ভয়ে ডাকিতেও পারে না। কথা বলিলে কাঁপা-কাঁপা লম্বা একটা চিকন সুর বাহির হয় গলা দিয়া। বসিলে একটা পুঁটুলির মতো গোল দলা হইয়া থাকে। মনে হয়, এখুনি গড়াইয়া পড়িয়া যাইবে। শুধু কানে যখন রেডিও গুঁজিয়া শুইয়া থাকে, অসম্ভব জ্বলজ্বল করে বৃদ্ধের চোখ। দাঁতহীন মুখের দুই মাড়ি পরস্পর চাপিয়া ধরে। ব্রিটিশের বেয়নেটে চোয়াল দুইটা ভাঙিয়া ভিতরের দিকে ঢুকিয়া গিয়াছে। গালের দুই পাশে গ্রীষ্মকালীন খরাসর্বস্ব দুইটা পুকুর যেন। তাহাদের তলদেশ বুঝি মুখের ভিতর একে-অপরের প্রান্তভূমি চুম্বন করিয়াছে। কানে কিছুই শোনে না। তবু রেডিওটা তাঁহার চাই। ফিজোর নামটা যদি একবার শুনা যায়। ১৮৭৯ খ্রীষ্টাব্দে এই রিশাং-এর প্রতিরোধ বাহিনীর কাছেই অস্ত্র নামাইয়া আত্মসমর্পণ করিয়াছিল এক রেজিমেন্ট ব্রিটিশ বাহিনী।  

ইতিহাস—বর্তমান—ভবিষ্যৎ
অদ্য যাহা ইতিহাস, একদিন তাহাই ভবিষ্যৎ ছিল। কেম্ব্রিজের ইতিহাসের এক অধ্যাপক এমনটাই বলিয়া থাকেন তাঁহার ছাত্রদের। আমরা যাহারা ‘ষত্ব ণত্ব বিধিতে সিদ্ধ’ শিক্ষিত শহুরে মানুষ তাহারা ইতিহাস ও ভবিষ্যতকে প্রস্রাবরত পুরুষের ডান ও বাম পদ সদৃশ দুই পার্শ্বে ছড়াইয়া মধ্যিখানে যথায় মূত্রত্যাগ করিতেছি, তাহার নাম দেওয়া হইয়াছে বর্তমান।

তবে একটা ইন্টারভিউ হয়ে যাক—ফেব্রুয়ারি, ১৯৫২
’৫২ সালের ১২ই ফেব্রুয়ারি, দিল্লিতে প্রচণ্ড শীতে সাংবাদিক বৈঠক করিতেছেন ঊনচল্লিশ বৎসরের ছোটোখাটো চেহারার, ফর্সা, রোগাপাতলা এক কবি ও আগুনখেকো নেতা আংগামি জাপু ফিজো। যাঁহার মুখের ডানপার্শ্ব পক্ষাঘাতজনিত কারণে বেশ খানিকটা বাঁকা। তামাম ভারতের সাংবাদিক হতবাক হইয়া শুনিতেছে তাঁহার কথা। ফিজো বলিতেছেন,
আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রাম আমরা চালিয়ে যাব। এবং একটি স্বতন্ত্র নেশনের প্রতিনিধিরূপে নেহরুর সঙ্গে আবার একদিন দেখা হবে বন্ধুত্বপূর্ণ বন্দোবস্তের জন্য।
ঝাড়খণ্ড নেতা জয়পাল সিংহ ফিজোর সম্মানে এক দ্বিপ্রাহরিক ভোজের আয়োজন করিয়াছেন। রাষ্ট্রীয় ভবনের ডাইনিং প্লেসে বিরাট ও সুদৃশ্য খাবার টেবিলে কাচের বাটি হইতে চিকেন রেজালা তুলিয়া দাঁতে কাটিতে-কাটিতে জয়পাল ফিজোকে বলিলেন,
দেখুন, ভারতকে আরও টুকরো টুকরো ক’রে নতুন পাকিস্তান বানানোয় আমাদের সম্মতি নেই। আপনি বরং স্বতন্ত্র রাষ্ট্রের দাবি না ক’রে উত্তর-পূর্বে একটা উপজাতীয় রাজ্য গঠনের জন্য সংগ্রাম করুন। যেমন আমি করছি ঝাড়খণ্ড নিয়ে।
উত্তরে কবি তাঁহাকে জানাইলেন, 
আপনারা ইতিহাস আর ভূগোলে বড্ড কাঁচা। আপনাদের অবস্থান থেকে আমরা আপনাদের নর্থ-ইস্ট। আমি এখানে একটু সংশোধন ক’রে দিচ্ছি, আমরা আপনাদের ভারত রাষ্ট্রের নর্থ-ইস্টে অবস্থিত ভারতের প্রতিবেশী রাষ্ট্র। দুই, আমরা কোনও উপজাতি নই। একটা স্বতন্ত্র জাতি। আমাদের ভাষা কোনও উপভাষা নয়। আমাদের সংস্কৃতি কোনও উপ-সংস্কৃতি নয়। আপনি বোধহয় জানেন না যে, আমরাই, নাগারাই সবচেয়ে বেশি স্বশাসিত। আপনার এইসব না-জানাগুলো দোষের নয়। আপনারা নিজেদের দেশে জাতীয় আন্দোলন করেছেন। ইংরেজদের সাথে চিঠিপত্র লেখায় আপনারা অনেকদিন ছিলেন ব্যস্ত। জানার সময় পাননি। আমাদের দেশে সত্যাগ্রহ করতে তো যাননি আপনারা। কোনও আইন অমান্য করতেও যাননি। কোনও গান্ধী টুপি পরা কংগ্রেস নেতা কখনও এইসব পাহাড়ে আসেননি। আজকে আপনারা নিজেদের দেশে ক্ষমতায় এসেছেন এবং আমাদেরকে ভারতের সাথে জুড়ে দিতে চাইছেন। বেশ তো, তবে একটা ইন্টারভিউ হয়ে যাক। আপনাকে একটা প্রশ্ন করি, বলুন তো, এই যে আমাদের এখানে আমরা নাগা, মিজো, খাসি, জয়ন্তীয়ারা একসাথে থাকি, আমাদের নামে এই নাগা-মিজো-খাসি-জয়ন্তী পাহাড়গুলোর নাম হয়েছে নাকি এই পাহাড়গুলোর নামেই আমাদের নাম? আপনি ইন্টারভিউ বোর্ডের সামনে দাঁড়িয়েছেন মিস্টার ইন্ডিয়া। বলুন? কী যোগ্যতা আছে আপনার যে আমরা আমাদের নেশন আপনাদের হাতে তুলে দেব? আমাদের মধ্যে জাতিভেদ নেই, আপনাদের আছে। আমাদের মধ্যে লিঙ্গবৈষম্য খুবই কম, আপনারা প্রগতিশীলেরা এখনও এর থেকে বেরুতে পারেননি। ভারতের মানচিত্রের সাথে আমাদের কোনও টান নেই। আপনাদের টানটা কী বলুন তো? ভারতের অন্যান্য জায়গার লোকেদের থেকে অনেক বেশি গণতান্ত্রিক আমরা। আপনাদের সভ্য মানুষদের মতো শেয়ার মার্কেটে ব’সে চেঁচামেচি করি না। 
ভোজসভা শেষে ফিজো যখন বাহির হইয়া আসিতেছেন তখন দোর্দণ্ড্যপ্রতাপ পরাক্রমশীল রাজার কোনও দূত যেরূপে তুচ্ছ বিদ্রোহীর সম্মুখীন হয় সেইরূপে জয়পাল ফিজোর সম্মুখে আসিয়া দাঁড়াইলেন। এই শীতেও জয়পালের কপালে বিন্দু বিন্দু ঘাম। ফিজো জয়পালের সেই ঘামগুলির দিকে তাকাইয়া বলিলেন,
আপনি হয়ত জানেন সাতচল্লিশ সালে আমি এসেছিলাম এখানে গান্ধীর সাথে দেখা করতে। উনি ঠিক কী বলেছিলেন আমায়, আপনার জানা উচিত। উনি বলেছিলেন, আমরা চাইলেই স্বাধীনতা ঘোষণা করতে পারি। কেউ আমাদের ভারতে যোগ দিতে বাধ্য করতে পারে না। দিল্লি যদি সৈন্য পাঠায় তাহলে তিনি নিজে নাগা পাহাড়ে এসে আমাদের সঙ্গে লড়বেন। গান্ধী এও বলেছিলেন, উনি দিল্লিকে বলবেন, একজন নাগাকেও গুলি করবার আগে তারা যেন গান্ধীকে গুলি করে।      
গাড়িতে উঠিয়া আবার নামিয়া আসিলেন ফিজো। পাদানিতে ডান পা রাখিয়া জয়পালকে হাতের ইশারায় ডাকিলেন। জয়পাল নিকটে আসিলে ফিজো বলিলেন,
আমি ফিরে গিয়ে আপনাকে ইন্টারভিউয়ের রেজাল্ট পাঠিয়ে দেব।

শুধু হাড় আর হাড়—অক্টোবর, ’৫২
ফিজো অরণ্যাবৃত পর্বতে ফিরিয়া গেলেন। নাগা ন্যাশনাল কাউন্সিল খোনোমা গ্রামের আংগামি নাগাদের লইয়া গ্রামে গ্রামে গড়িয়া তুলিল গৃহরক্ষী দল। ঊনিশ শতকের শেষার্ধে এই গ্রামের লোকেরাই রহস্যময় কুয়াশার ভিতর জাগিয়া উঠা পাহাড়ের চুড়ায় শ্বেত সমুদ্রের দ্বীপে আর অরণ্যাবৃত পর্বতমালায় আংগামি রিশাং সাখরির নেতৃত্বে রুখিয়াছিল হানাদার ব্রিটিশ সৈন্যকে। এইবারে আরও একটা যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত হইল এই গ্রাম। ঊনিশ শতকের সেই বিপ্লবীদের সন্তান-সন্ততিরাই রাত্রি জাগিয়া পোস্টার লিখিল। ‘স্বাধীনতা চাই এখন, স্বাধীনতা চাই অনন্তকাল’। ‘এটাই আমাদের প্রাণের কথা, এটাই হবে আমাদের মরণকালেরও কথা’। অসমের রাজ্যপাল আকবর হায়দারির সচিব নাগা নেশন পত্রিকায় আন্দোলনকে ব্যঙ্গ করিয়া লিখিলেন এক কুকুরের গল্প। যাহার মুখে ছিল এক টুকরা হাড়। ফিজো বলিলেন, শুধু হাড় আর হাড়। ওর কি ধারণা আমরা কুকুর? অক্টোবরে দিল্লিকে ফিজো পাঠাইলেন তাঁহার চরমপত্র। তাহাতে লিখিলেন,
এমন একটা জিনিসও নেই যাতে ভারতীয় আর নাগাদের মধ্যে মিল আছে। ভারতীয়দের দেখা মাত্র আমাদের মনে এক অন্ধকার বিষণ্ণতার বোধ জেগে ওঠে।  

Wednesday, June 28, 2017

শরণাগত : শুভ আঢ্য

শরণাগত
বাণ ই তোমার, আমি শান্তি পাই নি
অথচ তোমার থেকে দূরে আমি মদের কাছে
বসি, সুজাতা, তোমার স্তনদু'টো পাক্কা হেডলাইট
আমি অন্ধকারে যখন, রাস্তা দেখাচ্ছে
তোমার সা, লোয়ারে জমে উঠছে লেয়ার
হ্যাঁ, ওই কোমল সা'য়ের কথাই বলছি
এখন আমার বুকপকেটে খেলছে সাপ আর
সিঁড়ি ভেঙে কবে উঠবে বুকে সু................

তোমার বাণ'ই শান্তি পাই নি আমি...
অথচ তুমি কি করে কেকের ওপর আইসিং করো!
এই অন্ধকার জ্বলে ওঠে এবং আমি প্রতিটা সত্যের কাছে
হাত ও পোঁদ পাতি... তোমার স্তনদু'টো পুরো কামরাঙা
রঙ হয়ে আসে, আর তুমি কোথায় চলে যাও সু........



Sunday, June 25, 2017

দাঁড়ি, কমা, সেমিকোলন এবং “ভালো থেকো” [শেষ পর্ব] - বহ্নিশিখা সরকার

দাঁড়ি, কমা, সেমিকোলন এবং “ভালো থেকো”
সাগর আর ঝিনুকের মধ্যে ভালোবাসা নেই। মন্দবাসাও নেই। সাগরের ঝিনুককে ভুলে যাবার দায় নেই, আর ঝিনুকের সাগরকে মনে রাখবার অধিকার নেই। ওরা কেবল জড়িয়ে আছে। বন্ধন নেই আবার মুক্তিও নেই। সাগর ছেলেটি বড্ড কেজো, আমি জানি না যদিও কিন্তু সে এমনটা দাবি করে। ঝিনুক মেয়েটা পাগল, আমি জানি না, সে এমনটা দাবি করে। সাগর কোনও এক কর্পোরেট জঙ্গলে বন্দী আর ঝিনুকের ঠিকানা নেই কোনও।


সাগর আর ঝিনুকের কবে দেখা হয়েছিল জানি না, এই টেকনোলজির যুগেও হুজুগে ওরা চিঠি লেখে। চিঠিতে কেবল কবিতা লেখে, যেগুলো  আমার হাতে পরেছে এসে কোনও ভাবে। তাই দিয়ে দিলাম...

ঘাট ছুঁয়ে জলের গান
সাগর,
খেয়া বেয়ে যায় মেঘ-মল্লার
সারা দেয় কেউ,
কেউ দেয় না

এঁটো হাত ধুয়ে মুছতে পারা যায়
যার শাড়িতে,
তাকে ভালবেসো

অনভ্যাসে বিদ্যা হ্রাস,
শেয়ার বাজারে প্রেমের দাম কমলে
গড়িয়ে নিয়ো প্রেম,
শরীরে মেঘ ঘনিয়ে এলে
উত্তাল যৌনতায় মেতো খানিক-
ঝড়িয়ে নিয়ো বৃষ্টি
ভালোবাসা বাতিল কিউরও

আমি একে শীতকাতুরে তাতে আহাম্মক,
তাই চিঠি লিখি,
যেদিন অমল বাইরে বেরোনোর ছাড়পত্র পাবে
ঠিক সেদিন থেকে আর লিখব না।

ইতি, ঝিনুক
২৪ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৫, কলকাতা


Thursday, June 22, 2017

তিনটি কবিতা : সুপর্ণা মন্ডল

পান্ডুলিপি
ভুল করে ঠিক লেখা হয়ে যায়
আবার ঠিক করতে গিয়ে ভুল।
ঠিকটাকে ভুল আর
ভুলটাকে ঠিক করতে গিয়ে দেখি
পান্ডুলিপি ইতিমধ‍্যে জমা পড়ে গেছে।


Saturday, June 17, 2017

আমরা একটা সিনেমা বানাবো [তৃতীয় ভাগ] - হিয়া মুখার্জী

আমরা একটা সিনেমা বানাবো
৫।
জংগলের মধ্যে কাঠের কেবিন।
তিনজন মানুষ
খুব নিপুণভাবে
তাদের ছায়া পাল্টাপাল্টি
করে নিচ্ছে।
তিনজন মানুষ
খুব নিঁখুতভাবে
তাদের ডানা পাল্টাপাল্টি
করে নিচ্ছে।
এসবের অনেকটা দূরে
ঘুমের মধ্যে
মেরিঅ্যান
একটা হাইওয়ে দেখতে পাচ্ছে
দেখতে পাচ্ছে হাইওয়ে জুড়ে
উঁচু হয়ে থাকা
বিষন্ন মাছের স্তূপ।
আর আসন্ন বিস্ফোরণ
মাথায় রেখে
দরজার পাল্লায়
ওর মায়ের শীর্ণ আঙুল
নীলভাবে
ক্রমাগত
জ্বলে যাচ্ছে।


Friday, June 16, 2017

দাঁড়ি, কমা, সেমিকোলন এবং “ভালো থেকো” [প্রথম পর্ব] - বহ্নিশিখা সরকার

দাঁড়ি, কমা, সেমিকোলন এবং “ভালো থেকো”

সাগর আর ঝিনুকের মধ্যে ভালোবাসা নেই। মন্দবাসাও নেই। সাগরের ঝিনুককে ভুলে যাবার দায় নেই, আর ঝিনুকের সাগরকে মনে রাখবার অধিকার নেই। ওরা কেবল জড়িয়ে আছে। বন্ধন নেই আবার মুক্তিও নেই। সাগর ছেলেটি বড্ড কেজো, আমি জানি না যদিও কিন্তু সে এমনটা দাবি করে। ঝিনুক মেয়েটা পাগল, আমি জানি না, সে এমনটা দাবি করে। সাগর কোনও এক কর্পোরেট জঙ্গলে বন্দী আর ঝিনুকের ঠিকানা নেই কোনও।

সাগর আর ঝিনুকের কবে দেখা হয়েছিল জানি না, এই টেকনোলজির যুগেও হুজুগে ওরা চিঠি লেখে। চিঠিতে কেবল কবিতা লেখে, যেগুলো  আমার হাতে পরেছে এসে কোনও ভাবে। তাই দিয়ে দিলাম...

পুরনো কথা
ঝিনুক,
শেষ শ্রাবণ দিন, বেলা ছিল গোধূলি।
    কণে দেখা আলোর রেশমি হিজাব ছিল, ভাগ্যিস!
     নয়ত ধরা পরে যেতো ভাষায় মোড়া রহস্য।

পাখির ডানার ভাঁজে ভাঁজে যে কথা-গান-গল্প
      আজীবন আবডালে থেকে যায়, তেমন গোপন-
ঝড়ের আগের নিস্তব্ধতায় হারিয়ে যায় যেসব কথা
      তেমনটাই আধপাগলা,

অন্ধকারের ঠোঙ্গায় মুড়ে খুব চুপি চুপি
    শেষ শ্রাবণের তেলেভাজা গন্ধ পাঠাব তোমায়
চোখ জড়ানো ঢুলুঢুলু সব পুরনো কথা

ধরা দেবেনা কেউ, কিচ্ছুটি টের পাবেনা কখন্‌
         পুরনো কথার দল তোমার স্বপ্নের
             মেঘবালিকা হয়ে উঠেছে।

ইতি, সাগর
১২ই জুলাই, ২০১৫, মুম্বাই



Tuesday, June 6, 2017

রোহিণীর সাথে, এই ত্রিশ বত্রিশ বছরে... : দীপ শেখর

রোহিণীর সাথে, এই ত্রিশ বত্রিশ বছরে... 





কাল রাতে লম্পট বৃষ্টিটা পড়লে বুঝলাম
প্রেমের দালালটা আবার ধরবে ধরবে করছে, টাকা চাইবে
চাঁদের জ্বর প্রায় একশো এক, জ্যোৎস্নার ঘরে বাবু নেই
আমি কাল রাতের ঐ নীল শাড়ি পড়া মেয়েটির কাছে আশ্রয় চাইবো, ডাকবো রোহিণী, বেঁচে যাবো।


ভালোবাসা নয়, ভালোবাসার আত্মারাই সবথেকে সহজে ভালোবাসে
এসব বুঝে আমি প্রেমিকের আত্মাটা নিয়ে খানিক নাড়াচাড়া করেছি কাল দুপুরে
আমার পুরনো জীবনকে এখন ট্রাঙ্ক থেকে বার করে নিয়ে আসতে হবে
হৃদয়কে বৃষ্টি ভেজানোর কোনও উপায় জানা আছে কি এ দেশের আইন-ব্যবস্থার?

Wednesday, May 31, 2017

Kashmir: Rebel with a Cause - Arjun Bandyopadhyay

Kashmir: Rebel with a Cause
Why and how are people making the choice to join the movement? 

The self-representations of Kashmiri people who are creating their destinies; they freely (?) make the choice to militarize their bodies and transform their identities. Kashmiri fighters are the most visible agents of social change in redefining the self-identity. Given the everyday violence of war in Kashmir, Kashmiri people are making radical choices in the struggle for survival. People living in these extreme conditions realize that survival in war is not fully congruent with the notions of survival in peace. In the context of peace, it is difficult to understand that to survive and live with dignity amidst the crisis of war may require one’s participation in the very same violence that destroyed one’s sense of dignity and integrity. Violence is a means of survival as well as a means of communicating resistance and the integrity of a struggle for self determination to the Indian army. The cultural and physical landscape of war provides amongst the most felicitous spaces for the rise of resistance and struggle. The Kashmiri struggle is embedded in such a landscape of war. It is important to acknowledge people’s participation in Kashmir, rather than dismissing the people as shaped by false consciousness while they attempt to forward a movement within a nationalist struggle. In examining the expressions of violence in the contests between the military powers of the state and resistant Kashmiri nationalist movement, Kashmir is urging us to look into the processes — ‘a distinctive set of beliefs and structures’. When the own political expressions of the people have been suppressed, all the peaceful means of protest have been attacked. What other way is there to change things? The only way left is to pick up the stones and fight for a better life.  People are making the choice to transform their identities, militarize their bodies, and participate in the front lines of battle. Their choices are not easy. When they join the movement, they must discipline their minds and their bodies in preparation for war. They are resolved to the understanding that their intimate relationships with their families are forever transformed; that they will not have access to them, that the likelihood of death is more real than that of survival in war, and that their experiences are forever radically transformed in their own eyes and in the eyes of their community. To this extent, there is little evidence of a duped mind or a false consciousness in the choices that they make to join the struggle. This kind of death, this kind of violence is not in vain because new generations are emerging to continue the struggle. It is not a senseless death, but rather one endowed with purpose, with vision, with integrity, and with the determination that freedom in the territories of the Kashmir will be realized. My intent here is not to romanticize the violence or valorise people’s sacrifice. Rather, I am suggesting that we need to understand the self-representations of people in the Kashmir, how they choose to become active in the violence of war, and how they choose to participate in a movement that is committed to the violence of armed struggle. The material reality of everyday violence is one that hundreds of Kashmiri face each day in Kashmir. The Indian army’s searches and ‘clearing’ operations to weed out the insurgent presence of the Kashmiri struggler continue to result in the disappearances and deaths of Kashmiri women and men. In this context, people are making the choice to transform themselves and their identities from the norms of traditional civil society to the norms of violence and war. Popular assumptions about the brainwashing and conscription of people to act as fodder for the movement, not only reveal a bias that is partially shaped by stereotypes, but also reveal a gap in understanding the choices that Kashmiri people are making.

















Arjun Bandyopadhyay 

Sunday, May 28, 2017

ফাঁকা বরাবর : জ্যোতির্ময় বিশ্বাস

ফাঁকা বরাবর


ক.

আমার আজকাল কিছুই অভ্যাস হচ্ছে না
শেষ হয়েছিলে তুমি

তুমি, শেষ হয়েছিলে।




খ.

যে ফাঁকায় গড়ে উঠলো ঘরবাড়ি
দেহ, পিরীতি, তুমি, তোমরা ইত্যাদি
আমি
সে তীর্থ কি ফেরৎ পাবো!

পাবোনা তো। জানি।



Tuesday, May 23, 2017

তিনটি কবিতা : শানু চৌধুরী

ভাগাড়
হেঁটে যাই পথের বুকে
ভাগাড় দেখে ফেলি চোখের পর্দায়

ময়লা স্তুপে ধ্যানস্থ শিশু
সদ্যোজাত খেলনার ভাঙা টুকরো

অস্বাস্থ্য ব্যাঞ্জো বাজবার পথে
রোজ অজানা উচ্ছিষ্টের  লড়াই

সব্জি কাটা হয় ন্যুব্জ হওয়া ঘরে
উনুনের পাশে জ্বলন্ত পেট

শকুন নেই এই শহরে
ছিনিয়ে নেওয়ার প্রতিদ্বন্দ্বী নালার ভ্রুনে

বুলডোজার লক্ষ ইতিহাস ফেলে
ইতরের দিকে ঝড়ের ইঙ্গিত রেখে যায়



ঘষা কাঁচ
এই ঘষা কাঁচের বর্ডারে
আমাদের বাষ্পের ক্লাস

ধ্রুপদী শব্দের ভিতর হারিয়ে যাই
যখন ছোটদের সিনেমা ভিজে যায়

রাস্তা, স্যাঁতসেঁতে রংরুট
সমস্ত স্বপ্নবাড়ির চুপিসার

আদর করছে শরীর বৃষ্টিকে?

কফিকাপ কতটা দূরে পড়ে আছে
কান্না ভাগাভাগির পর

জানালার  পর্দা ওড়ার নেশায়
যেটুকু নশিন


Sunday, May 21, 2017

তিনটে লেখা : দীপঙ্কর লাল ঝা

ধানচাল
ধান দেবেন, চাল দেবেন
পাখি দেবেন দু একটা
নাম দেবেন শীঘ্র
থালায় মেলে দেবেন কিচিরমিচির
আমার ঘরে বারান্দা নেই, তাই বলে গরম দেবেন না
নখের আওয়াজে বিভোর হই
এমন একটা অসুস্থতা আমারও আছে
কানের ভেতর আমরা ধীরে ধীরে ডিমে তাপ দেবো
মাথা ফুরিয়ে যাবে
আর সেদিকে অল্প অল্প করে মশার উত্তাপ নিতে নিতে
আমাদের হাড় জল হয়ে গেছে
এমন একটা মশলা কেউ এই মুহূর্তে আবিষ্কার করেনা
যাতে একটা সুস্বাদু সুপ হতে পারি,
এই নিয়ে
বালে ছাল, ছালে বাল
কসাই বলেছে, না করতে নেই
ধুকপুক ধুকপুক একটা সূর্য চাই
এসো আচার হয়ে শুয়ে পরি
টকটক নৌকায়।


Tuesday, May 16, 2017

দু'টো ও দুমুঠো - একটি সিরিজ : সুমন সাধু

দু'টো ও দুমুঠো (১)
বিপরীত আদেখলা সব জমি ছেড়ে দিচ্ছে
অবাক দূরন্ত রাস্তায় দাগ কাটছে আদর আদর মাস
আমাদের সবটুকু নিয়ে এই সা রে গা মা,
দিন শেষের ব্যথার কিনার,
যথোপযুক্ত আছে সবই।
সবই নতুন চাদরের আবেশ,
ঠাসা ঠাসা বই সব, উপসর্গহীন সাদা।
সেইখানে শব্দের মলিন জমা হয়;
আমরা বুঝি দু'টো ও দুমুঠো

আমরা এখন অবোধ শিশু
যাপন করি ধুলো।



দু'টো ও দুমুঠো (২)
এই মন্থর গতি আমাদের চিনতে শিখিয়েছে-
টানা টানা লিখে চলা সুদীর্ঘ গদ্য কলম।
সেভাবে রেখো না হাত
এভাবে মেখো না রোদ
 কবিতার হেমন্তগুচ্ছ নিয়ে এসো আমাদের ঘরে
খাদ্য শষ্য বীজ নিয়ে এসো

ঘরোয়া জ্বর বুঝে নিক কোন এক আট বছর।
অথবা আট বছর আগের একদিন
দিনান্তে বাড়ি ফিরব সবাই
অঘ্রাণের ধান ফুটবে আসমানি কোটরে

চলতি পথ ফিরতি ধুলোয়
একে অপরের পরিপূরক হচ্ছে এ যাত্রা।