Skip to main content

Posts

Showing posts with the label Poet



দানা দানা গ্যারাণ্টি পানিফল অথবা স্যাণ্ডউইচ নির্মাণের সহজ প্রণালী ~ নীলাব্জ চক্রবর্তী

দানা দানা গ্যারাণ্টি পানিফল অথবা স্যাণ্ডউইচ নির্মাণের সহজ প্রণালী
আবার কাঁচের গায়ে আটকে যাচ্ছে একটা অস্পষ্ট ফুটো ফুটো দিন। ক্রমশঃ শরীর হচ্ছে একরকম ব্যবহার। ফল করছে। ভেঙে যাওয়া জলেদের ঘরবাড়ি। কাট। যেসব আশ্চর্য ছুঁয়ে থাকা। বিদ্ধ হয়। রেডিও-তে প্রতিটি এফ.এম. চ্যানেলে একটাই বিজ্ঞাপন বাজতে থাকে। আসুন আসুন... দানা দানা গ্যারাণ্টি পানিফল... শুধু আমাদের প্রচার-গাড়িতেই পাবেন... যেকোনো একটি পুরনো বিকেলের পরিবর্তে নিয়ে যান ৫০০ গ্রাম দানা দানা গ্যারাণ্টি পানিফল... আর ১ কেজি পানিফলের জন্য রেখে যান বাতিল হয়ে যাওয়া যেকোনো দুটি শীতকালীন সম্পর্ক...
# * #
পুড়ছে যে অন্ধকার কার পালকে ভারী হয়ে আমি তার পায়ের পাতা অবধি ঠোঁট নামের রঙ আসছে ক্যামোফ্লেজ মাংসের ভেতর চলে যাওয়া সুর পুনরাবিষ্কার শব্দটা বরাবর ধীরে ওঠানামা করছেন একজন স্মৃতি দুজন আইসক্রীম ফোটোশপ বলতে বলতে ছবির দোকান যে দৃশ্য হেমন্ত গুঁড়ো করে ফেলল যাকে লোকে ভাষা বলে ডাকে আসলে অর্ধগোলকাকার খাঁজকাটা এক স্ফটিকবিশেষ...
# * #
ভ্রমণোত্তর একটা উঁচুনীচু ঋতু। নতুন হতে চাইছে। একে বলো পবিত্রতার কনসেপ্ট। বলো কোকা কোলা কেন আরেকটু শীতল হবে না। সারা ঘরে নড়েচড়ে শব্দরা উঠছে। রাফনেস ইনডেক্স। …

নবান্নে - দীর্ঘ কবিতা ~ অতনু সিংহ

নবান্নে
(বাংলাদেশের নয়াকৃষি আন্দোলন ও নিখিল বাংলার ভাবান্দোলনের সাধু-গুরু-রসিক ও সহযোদ্ধাদের পদারবিন্দে) ১ ধরো এই অগ্রহায়ণে ভোরবেলা একটা শালিক ব’লে গেল তুমি ফিরে এসেছো পাড়ায় আর রেললাইন উঠোনের পাশ দিয়ে শিল্পবিপ্লবের দেমাক না রেখেই ধনধান্যে আগায়েছে, ধরো আমাদের হাটবাজার জুড়ে তোমার মতো নতুন চালের সুবাস, সোনাগুড়, রূপাচিঁড়ে, দুধের মাহাত্ম্য, আহা কাত্তিক ঠাকুরের নারিকেল বাতাসে ময়ূর নেই তাই অভিমান করে তুমি ফিরে গিয়েছিলে?
অথচ রাজহংসীর পাখা কাহার বাঁশির টানে বাতাসে মিলায় লবন হাওয়ায় ঘোরে হরিণেরা গরান গাছের কাছে লুকোচুরি খেলে চোখ চারুময় রোদ্দুর, ঢেউ আসে ঢেউ ফিরে যায় বাঘিনী শরীরে তার মেখে নেয় বুনোচাঁদ এখানে কবি ও ফকির চন্দ্রাহত আকাশে তাকায়, বাঁশি বাজে সারারাত
ধরো এই রাশপূর্ণিমা আমাদের ছায়ার ভিতরে যে নধরচাঁদের খেলা নিস্তব্ধ শিশিরের মতো, জেগে আছে, সে জানে ময়ূরপ্রাসাদ আর সাতটি সমুন্দর, তেরো নদী পার ক'রে

তমিস্রা কবিতাসিরিজ ~ অর্ঘ্যদীপ রায়

তমিস্রা-১ একবুক মৃত্যুসংবাদ নিয়ে বসে আছো একটি শিরীষ ছায়ায় এভাবে সন্ধ্যে এলো যেন পুকুরপাড়ে বসে থাকা একটি কিশোরের শেষ ঢিলে সকাতর জলোচ্ছাস এলো। রান্না হবে বলে খোসা হারালো পটলচেরা ভালোবাসারা। তোমার দিনগুলি বক্ররৈখিক দৈনন্দিন ঘুমের মতো তাদের ভাগ্যে নাইটবাল্ব জোটেনা। বেখেয়ালে বসানো টিপ ছবিতে ব্লার হয়ে যাওয়া মুখ মেসবাড়ির কুঁয়োর পাশে রান্নাঘর থেকে ধোঁয়া আসে ধূলিমাখা তারজালি অপেক্ষা করে কখন বিষাদ মেখে তুমি বসে থাকো ব্যালকনিতে সাইকাস গাছের ছায়ায়। গভীর রাতে ডিটেকটিভের পাতা খোলা থাকে শিয়রে সাধারণ মেয়েটির আজন্মলালিত ঘুম আসে।

তমিস্রা-২ অনভ্যস্ত হাত যখন কর্মধারা খুঁজে নিতে চায় নতুন যখন ভরে ওঠা নদীর কথা ভালো লাগেনা একটি মরুভূমির বর্ষা দেখতে ইচ্ছে করে। যেভাবে কথার মাঝে গৌণ হয়ে ওঠে ভাষা যখন উজ্জ্বলতায় সাধারণী হয়ে ওঠে আলো কয়েকটি রেখা দিয়েছিলাম তোমাকে যা দিয়ে জুড়ে জুড়ে একটি পৃথিবী ভাবা যায়, কয়েকটি শব্দ যা আমার অক্ষরময় হারেমের বিসর্গগুলি। সমস্ত অলংকার খুলে তোমার কাছে আসি বসি ভাবি ভুলে যাওয়া পুকুরের কথা। তুমি আত্মমগ্ন হয়তো হয়তো খুচরো জমানোর কৌটোর শব্দটুকু আমি বেছে নিচ্ছি তোমার আটপৌরে দিনলিপি আমার কাছে উপন্যাস হয়ে উঠছে, তোমার ষাট-সত্তর-আশি-নব্…

কাকাতুয়া-বন ও অন্যান্য ৪ : দীপঙ্কর লাল ঝা

কাকাতুয়া-বন ও অন্যান্য ৪

এই কিছুক্ষন হলো আমি ডালভাত থেকে আলুভাত ছেড়ে উঠে বসেছি। বুক শুনে মনে হচ্ছে কোনো এক সুদূর প্রান্তে এক সিমেন্ট ফ্যাক্টরিতে রমেশ আর যোগেশ এর জিভ থেতলে গারনীশ করা হচ্ছে বাড়ি। আর ওদের বউ চুল থেকে চিমনি তুলে নিচ্ছে। টাং করে লাথি মেরে লাল্টু মাঠে দৌড়ে চলে যায়। আজকাল কে বমি লেখে? লেখে কেউ? লেখে কোন চুল্লুখোর? নিজের পেট কেউ নিজে করে মালিশ? এসব প্রশ্ন আমি তো গুপ অন্ধকারে যেতে যেতে ঈশ্বরকে করতে দেখি। বৃষ্টির কিনারা পালিশ করতে করতে যারা ভুলে গেছে জুতোর খিদে, হা করে থাকে জানালা। আপনি কেনো ওকে নিয়ে যান সবখানে, কি দোষ করেছে ও? ওরও তো ইচ্ছে করে কাজের মাসির হাত ধরে দাঁড়াতে। বলি, এইসব ছিঁড়ে যাওয়া, পিছলে যাওয়া দেখে বন্যাও তো একটু সাবধান হতে পারতো চলাফেরায়। কেউ কিছু বলছে না জন্য গাছের মাথায় চেপে বসেছেন। জানলার ধীরিমে সুকল্যাণ ঘরে বসে আঁতকে ওঠে, জিজ্ঞেস করে 'কে রে?'
উৎপল বলে "হাওয়া"। এতো সহজে কেউ কিভাবে বলতে পারে কিছু? একজন চরম যুদ্ধের রাতেও এভাবে বলেনা। সেনার  চোখ ফুটো করে আমরা গুলির নির্যাস রাখি কোটরে। আমাদের কাঠ-ঠোকরা বলবে? এই হওয়া একজন বিরাট দম্ভ রাজার মতো ঘর…

তন্নো রতি প্রচোদয়াৎ ও শাহাজাদীর মণিপদ্মে : অভিষেক রায়

তন্নো রতি প্রচোদয়াৎ
ঘাসিয়ারা কেটে নিয়ে যায় নিত্যপ্রয়োজনীয় ঘাস
পারমাণবিক বৃষ্টি পড়ছে চন্ডীদাসের স্ত্রীর ব্রা ভেদ করে
কাটাকুটি হতে হতে হতে হতে
সার পড়ে থাকছে যা মহাজীবনের
ভাললাগে সন্ধিপদ
ত্রিনয়না দেবীকে স্মাজ করা অহরহ
ও অন্য কিছুই ভাললাগে না জলপাইগুড়িতে
ব্রাহ্মমুহূর্তে নগ্ন হয়ে বসে থাকা তাবুলার ওপর
নক্ষত্রখচিত দিবায় দিবাকরের-ই পায়ের ওপর পা তুলে
পোকামাকড় উড়িয়ে দিতে দিতে
এইসব ফেস্টিভ্যালের ভেতর
আমার ভাললাগে না মধুমিতা শুকনো পাতার পাশ দিয়ে বয়ে চলেছে সবুজ
আমার দেখা হয়নি কত জন্মান্তর ধরে



শাহাজাদীর মণিপদ্মে
স্রেফ দুটি মেয়ে রেলাদ্র, তাদের সঙ্গেই কথা বলব, বেরোচ্ছে ইস্কুল থেকে
জং ধরার বড় গল্পে
প্রকৃত তাড়া খেয়ে হৃদয় বেয়ে উঠে যাচ্ছে
যে গাছে অজস্র উডপেকাই
অভিজ্ঞা ব্যাঙ্গমী শোল মাছের ঝোল রাঁধছেন
মশলায় ও দূরবীনে

একটি ভ্রমণকাহিনী : সুপর্ণা মন্ডল

একটি ভ্রমণকাহিনী
১. ১ নম্বর ভ্রমণের শুরুতে একটি অদ্ভুত নাম চোখে পড়ে। উকিলনাড়া। অটোঅলা ঠিক ৮ মিনিট পর অটো ছাড়বে আর তুমি ছাড়বে এই সরাইখানা। দুটো ছাড়ার মানে এক হতেও পারে হয়তো বা!
২. কি যেন একটা কাজে মশগুল মেয়ে থোড়াই কেয়ার রাস্তা পেরোবে। অটোঅলা কর্কশ হর্ন, তুমি সম্বিৎ ফিরে পেলে থমকে দাঁড়াবে না। বরং নাচতে নাচতে চলে যাবে ওই পারে। তোমার প্রজাপতি নাচ দেখতে পাবে না আমার সহযাত্রীরা। ওরা কায়েতপাড়া মোড়ে নেমে গেছে। আচমকা শব্দটা ওদের জন‍্য নয়।
৩. ধুলোয় পড়ে থাকা বেওয়ারিশ রুমাল শুধু নীল রঙের বলে কি কুড়িয়ে আনা যায়? আজ অব্দি তুমি ঠিক যতগুলো রুমাল হারিয়েছো তা কোন না কোন পথের ধুলো খেয়েছে তো? আমিও ধুলো খাবার ইচ্ছায় তোমার হাত থেকে ফসকে যাই এক রকম। আর নীল রং হালকা হতে হতে আকাশি হয়ে যায়।
৪. আকাশি মিলিয়ে যেতে যেতে সাদা। ধবধবে সাদা চুল সাদা থানের উপর পড়ে আছে। কতদি-ন ধরে ওভাবে পড়েই আছে! অথচ বয়স বাড়ছে। সাদার চেয়েও বিবর্ণতর উজ্জ্বল রং আজ পৃথিবীতে।
৫. অকালপক্ব স্কুলবালিকার রিক্সাওয়ালা কেন খুনখুনে বুড়োই হয়? এ কথা জয় গোস্বামীকে শুধানোর আগেই স্টেশনে রাণাঘাট লোকাল ঢুকে পড়ে। দেখতে পাই সেই পাকা মেয়েটা মেঘবালিকার স্বরে ঝাল লজেন্স…

চাষাড়ে অস্হিকল্প / হিমশীতল মাংসমজ্জা ও গর্ত : সায়ন ঘোষ

চাষাড়ে অস্হিকল্প / হিমশীতল মাংসমজ্জা যে ছাদে আমি রোজ উঠি তার স্হাপত্য ভেঙে গড়িয়ে যাচ্ছে সূর্যের ন্যাড়া মাথা আমার পায়ের কাছে একটি কালো পিঁপড়ে ধূসর ছাইয়ের মধ্যে পথ হারিয়ে ফেলছে ধরে তার অনৈতিক পথ অবরোধে আমার মুখের ভেতর থেকে থুতুর দলাটা ঝুলছিল ক্যামন সেই সেতুর চারমিনারে আটকে পড়ে আছে চতুর শব্দের লকআউট কারখানায় শব্দপিষ্ট শ্রমিকের হাতের চেটোকে আমি বড় ভালোবাসি বাদামী পিয়াসী ত্বক খেজুর আলোয় উপবাসী মৃগরাজ তার শীলাভূত অস্তিত্বের নরকঙ্কাল কবিতার জঠরে শুকনো নৈশাহার আর আলোর অভ্যন্তরে নির্বাসিত বাতিল ছায়াগুলোই আমার পছন্দ। আমার ঘণ্টা বেজে গ্যাছে কোনো সন্দেহ নেই আজ দ্বিপ্রহর এখন চিত্রকর আমার ছাদের দেওয়ালে কতগুলি ছবি এঁকে চলে গ্যাছে ধাতুপাতে মুদ্রায় নিহিত ঋজু ও শিলমোহরে, ছায়াতাপ নক্ষত্রে, শাশ্বত ও আত্মস্থব্রহ্মজ্ঞানে - কোনো অসুস্থ নারীকে আমি আমার কোলের কেন্দ্রে রেখে শুশ্রুষায় সারিয়ে তুলবো তার বিকেন্দ্রীত শরীর আলোর ঝালিমায় উদ্বেলিত তরঙ্গ নেপথ্যে ফেলে রেখেছে মানুষের পূণর্বিকাশ ও ইন্দ্রিয়ের যথার্থ ব্যবহার আর প্রজ্ঞানযান প্রজননমালা থেকেই আমি হেঁটে চলে যাই ওয়েলিংটনে বন্ধুরা দাঁড়িয়ে আছ…

মেঘপারা মেয়ে ১১, ১২ ও ১৩ : মনোজ দে

মেঘপারা মেয়ে ১১
স্পর্শ রাখো। তবু ছোঁয়াচে হ'লে না
যে ফুল বিকেলে ফোটে উড়তে শিখেনি যে চিঠি এত অক্টোপাস। আয়োজন
কিশোর দৃষ্টির পাশে কারা যেন                 তোমার অক্ষর রেখে যায়




মেঘপারা মেয়ে ১২
অনুপস্থিত।  উদগ্রীব হয়েছ তাই
ভুলে যাওয়া নয় মুছে যাওয়া নয়
ও মেঘপারা মেয়ে অহেতুক, কতবার আর ডাকা যায়




মেঘপারা মেয়ে ১৩
কেউ আর কথা বলি না, এখন
রিসাইকেল পেপারব্যাক কভার ভেতরে সভ্যতা। পাতার রোদন ছিঁড়ে                                            আঙুলে বসাই
ও মেঘপারা মেয়ে আমরা এভাবেই পরস্পরের কবিতা লিখি


(মেঘপারা মেয়ে ১-৩) | (মেঘপারা মেয়ে ৫-৬) | (মেঘপারা মেয়ে ৭-৮) | (মেঘপারা মেয়ে ৯-১০)











Like us on Facebook
Follow us on Twitter
Recommend us on Google Plus
Subscribe me on RSS