Showing posts with label Poetry. Show all posts
Showing posts with label Poetry. Show all posts

Friday, July 21, 2017

সোনালি আপেল ও প্রিয়তম এবং চরিত্র, দিন ও পিতা : কৃতি ঘোষ

সোনালি আপেল ও প্রিয়তম
মানুষ চিরকাল অন্ধকূপের মধ্যে কাটাতে ভালোবাসে। এদিকে যাব না, ওদিকে যাব না – আমি বসে থাকবো শুধু। এমনটা বললে কোনও ছায়াছবির মত পথ আগলে রাখা যায় ঠিকই, কিন্তু প্রকৃত প্রকৃতিতে বাঁচা যায় না। বাঁচার কোনও অর্থ নেই মানে অর্থের বেঁচে থাকার প্রয়োজন ফুরিয়েছে। না, আমি গুলিয়ে দিচ্ছি না, প্রস্তর ভেঙে কারুর মূর্তিও তৈরি করছিনা আপাতত। এই যে সাময়িক প্রয়াস তার অর্থ আমার প্রত্যয় ঘটেছে। আমি উচ্চস্থানে বাস করছি আপাতত। এখানে কবিতার প্রয়োজন নেই, মৃত্যুর প্রয়োজন নেই। এখানে সমুদ্রের ফেনা আরেকটা অ্যাফ্রোদিতির জন্ম দিতে পারবেনা। সূর্যের দেবতা এখন অকর্মণ্য হয়ে শিস দিচ্ছে খানিক।
নদীতটে বসে কার কথা মনে পড়ে? কার ভ্রু উঁচিয়ে তাকানোয় বাষ্পীভুত হয়ে যাওয়ার ভয় থাকে বেশি? কে সেই দীন-দরিদ্র ও কবির মাধ্যমে অমর হওয়া প্রেমিক? এসো প্রেমিক, জল ভেঙে জরায়ুতে এসো। তোমাকে জন্ম দিই একবার। এখানে তরল অনুভূতিরা গাছে গাছে হেলান দিয়ে বসে থাকে। সোনালি আপেলের মত লোভ আছে বিস্তর। তবে দেখানোর শখ নেই। বালি বালি রোদ আছে। বিনে পয়সার চাবুক আছে। চাবুক কথা বললেই ছোটে। পিঠ বেয়ে সাপের মত হিসহিস করে চাবুক। দেখোনি?
সমুদ্রে যেও না আর। ওখানে সুন্দরী মাছ পড়ে আছে খুব। তোমার ভয় নেই? ভয় নেই বিকিয়ে যাবার? ভয় নেই কাবু হয়ে বসে থাকার কোনে? উৎসবের আনন্দ ভালো দীর্ঘ জীবনের চেয়ে। দীর্ঘ ভাবে পোকার খাদ্য হওয়ার চেয়ে কবর অনেক ভালো। প্রেম ও বিষাদের ক্ষমা হয় না কখনও। এদের কেবল পরিবর্তন হয় রূপ, রঙ - বাজি রেখে হেরে যাওয়ার।
এয়োরা নদীঘাটে বসে কেন? ওদের বাড়ি নেই? ওরা জানে না, তুমি ওইদিকে যাবে আমাকে ছেড়ে? সব কবিতাই প্রেমের হয় কেন? বিপ্লবেও প্রেম কেন খাদ্য হয়? আমাকে জিতিয়ে দাও খিদে, আমি উড়বো না। আমার ডানা উপহার দিয়েছি তিন প্রহরের দেবতাকে।
ওরা দেবতা বলে – ঈশ্বর বলে না। বলে না ঈশ্বরের মৃত্যু ঘটেছে – নারীর সাথে সহবাসের কারণে। ওরা বলে না ঈশ্বর কামুক ও ভিখারি। ঈশ্বরের পুত্র নেই – ওগুলো মিথ। ঈশ্বরের প্রসবযন্ত্র নেই – ওগুলো মিথ্যে। মিথ্যে আর গুজবের পার্থক্য করতে শেখো। শেখো মিথ্যেকে সত্য বানানোর নির্মম প্রক্রিয়া।
আহা দিবস! আহা কর্তব্যহীন দিবস! আমি তার সহিত সাক্ষাৎ করতে জঙ্গলে গিয়েছিলাম। সে আমাকে সোনালি আপেল দিয়েছে। বলেছে এখান থেকেই সভ্যতার শুরু। বলেছে অ্যাফ্রোদিতির মৃত্যু নেই। সে অমর ও বিনম্র। অহংকারের মাথা নেই তার। সে অ্যাফ্রোদিতির অপেক্ষা করছে। আমি সাফোকে দেখিনি, পড়েছি শুধু কিছু শব্দ ও অক্ষরের বৃত্ত। আমাকে অহংকার মুক্ত করো হে সাফো – নতুবা সে আমাকে গ্রহণ করবে না।



চরিত্র, দিন ও পিতা
চরম রাহাজানি ঘটে গ্যালো এসবের মাঝখানে
এসব বলতে, চিরদিনের আলুথালু সময়ের যাত্রা বোঝায়।
নিয়ত দৈনিক চাহিদাগুলো মিটে গেলে হঠাত করে তার দ্যাখা পাওয়া যায়।
এখানে চরিত্রের সংকট রয়েছে।
অর্থাৎ, যা বা যাকে আমি দ্যাখাতে চাইছি সে বা তার কোনও অবয়ব হয়না।
অবয়ব হওয়াটা প্রয়োজনীয় নয়। তবুও...
অলিগলি বাদ দিয়ে গম্ভীর গুহামুখে ঢুকে পড়বার মতন
তাকে চাওয়া যায় না।
চাওয়া যায় না কারণ, সে অতীব বাস্তব
বাস্তবরা দীর্ঘদিন রয়ে যায় যাপনের সাথে। তারা এদিক-ওদিক ঘুরে ফিরে বাড়ির মধ্যে ঢুকে পড়ে।
আমি বাড়ির মধ্যে ঢুকবো না।
এই প্রথম চরিত্রে আমি এলো, কারণ তার প্রবেশের পথ আপাতত উন্মুক্ত।
ফলে তাকে গুহামুখে ঢুকিয়ে নেওয়ার পরেও আমি থেকে যাবে।
আমি ঝোপঝাড় পেরিয়ে গুহামুখে তুলসী গাছ বসাবো – চেতনাকে বিছিয়ে রাখবো মোরামের পথে
মা, তোমার চোখে জল ক্যানো মা?
তুমি কি দেখতে পাওনা আমি তারাদের মধ্যে মিশে যাচ্ছি?
তারা আমিকে ছাড়া পথে হাঁটছে না।
এই যে অস্বাভাবিক সঙ্কট, আশঙ্কাকে ভেঙে গুঁড়িয়ে দিয়ে এগিয়ে গ্যালো মাঝ রাস্তা বরাবর।
আমি এসো, তোমাকে জন্মদিনের আনন্দের এক মুঠো প্রেম দেবো
আমি বসো, যাতায়াতের মাঝখানে এখানে নশ্বরতার কোনও স্থান নেই
আমি ঘুমোও – রাংতা মোড়া দিনে তোমাকে তামাকের ঠান্ডা দেবো
আমি আমি আমি
আমি গুহামুখে ঢুকে যায়
একে একে প্রবেশ করে তারা, সে ও তিনি
মঞ্চে এখন দিলদরিয়ার খিদে
তুমি জানো না রে দিন আমার,
চরিত্র কেবল শান্তির হয়
মা হয় প্রশান্তির
পিতার কোনও ঘর থাকে না
বুকের ভিতর শুয়ে পিতা গুছিয়ে ন্যায় আগামী দিনের শান্তিগুলো
পিতা তোমাকে নিয়ে জাহান্নামে যাবো
তুমি ঘিভাতের স্বপ্নে সন্তানকে ভরিয়ে দিও পিতা
চেতনা খিদের, চেতনা ঘুমের, চেতনা আগামীর, চেতনা চরিত্রের
পিতা এগিয়ে এসো –
শয়তান তোমাকে আপেল দিয়েছে – তার আস্বাদনে আমাকে জন্ম দিও প্রিয়










কৃতি ঘোষ
Kreeti Ghosh

Tuesday, July 18, 2017

ঈশ্বরের ভেজা ডানা : আকাশ গঙ্গোপাধ্যায়

ঈশ্বরের ভেজা ডানা

চেনা মেঘ, ঠাণ্ডা হয়ে যাওয়া হ্যালোজেন কফ থুতুর দাগ পেরিয়ে যখন উঠলাম কলেজস্ট্রিটের বাসে, তখন আমি সেই বাসের একমাত্র প্যাসেঞ্জার। না একটু ভুল হচ্ছে কোথাও, ছিল আরেকজন। জানলার ধারে সিট ছিল আজ, তাই বসা হল না। গোটা বাস ফাঁকা পেয়ে কিছুতেই বুঝতে পারলাম না কোথায় বসা ভালো! জয়িতা রেগে আছে হয়তো, রাগবে না ই বা কেনো। রোজই কাজ সেরে উঠে ঘুমিয়ে পড়ি রাত্তির হয়ে গেছে বলে। কথা দিই যে কথা বলব, পেরে উঠি না! এরপর অশান্তি হয় কিছুটা, প্রতিবারই হয়। তাও জানি সামনে গিয়ে দাঁড়াতে পারলে গলে যাবে ও। যায়ও প্রত্যেকবার! ও একটা সাংঘাতিক স্বপ্ন দেখে মাঝে মাঝে, কুঁকড়ে যায়। আমায় পায় না। মেয়েটা হয়তো ভুলই করছে। হাওড়ায় এর আগে কখনও প্রজাপতি দেখিনি আমি, স্টেশন চত্ত্বরে, পাক খেতে খেতে বাসে উঠে পড়েছে আমার পিছু পিছু। তারপর হারিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে। বাসটা প্রাইভেট, টুকটুক করে কচ্ছপের মতো পেরোচ্ছে ব্রীজ। আজকাল আর ভিড় ভালো লাগে না। নিতে পারি না বেশি। এত মত এত ভাব এত আদর্শ, সাধুও বলে তাই, ও নিজেও এড়িয়ে চলে ভিড়, দক্ষ হাতে, আমি শিখি, যেমন শিখি বাস খালি থাকলে ড্রাইভার কন্ডাক্টররা কীভাবে কাছের হয়ে ওঠে। আমাদের অনেক কিছুই মেলে। সেগুলো একদিকে ফেলে, না-মেলাগুলো যাপন করি প্রাণপন। হাঁটতে হাঁটতে কোথাও তো পৌঁছোবো! দু’পা এগিয়ে গেলে তো শুরুর বিন্দুও অভিমত বদলায়, দেখিনি পিছনে সেও কোনো স্বার্থ খোঁজে কি না! খুঁজলেই বা কী। কালাকার স্ট্রিটের মুখের জ্যামটা গল্পে আসে আমার, রোজই, মা বাবা কে শোনাই সময় পেলেই। শুনেছি বড়বাজার থানায় নাকি বিরাট ঘুষের লেনদেন অথচ এই মোড়ের সেই পুলিশ ভদ্রলোককে আমি পাঁচ বছর এভাবেই দেখছি, কিরকম বাবা বাবা দেখতে, ইনি কি ঘুষ নিতে পারেন? প্রজাপতিটা চমকে দিল হঠাৎ, কোলে রাখা ব্যাগের একটা কোনায় বসল ভালো করে। এখনও যায়নি ব্যাটা। কি জ্বালা! অন্য জেলায় চলে এলি যে আমার সাথে! ফোনটা শুদ্ধেন্দুদারই। আগেও করেছে দাদা কয়েকবার। রিসিভ করতে গেলেই কেটে যায় খালি। কি অদ্ভুতভাবে এবার ধরে ফেললাম ফোনটা, ‘আকাশ একটু কালিঘাট মেট্রোর সামনে আসতে পারবে?’ পারবই তো, আজ আমার আর কাজটা কী! একটু দাঁড়ান, রাস্তা ভেবে নিই কীভাবে যাব। চিতপুর রোডের কাছে এসে গিয়ার ফাঁসল বাসে ঘোঁ ঘোঁ শব্দে নড়ে বসল প্রজাপতি। আমি কিছুদিন যাবৎ সব সমস্যাই খুব সাবধানে মিটিয়ে ফেলতে পারছি, কেন জানি না... এতে কোনো ঐশ্বরিক সূত্র আমি খুঁজতে যাই না। শব্দে শব্দে উড়ে গেল প্রজাপতি, সুপ্রিয়র ফেরার রাস্তায় পরে কালিঘাট। দাঁড়েতে বলি। বলি আমি পৌঁছে যাব নিশ্চিন্ত থাক, আর অনেকদিন বাদে দেখা হচ্ছে তাই তৈরী হয়ে থাক। আমি কিন্তু আর সেরকম ফাজিল নেই আজ। আজ বেশ মেঘলা হয়েই আছি। হয়তো ছটা পনেরো বাজবে ভাই। দাঁড়াস। সুপ্রিয় দাঁড়াবে। হাসিমুখেই দাঁড়াবে। সেটা জেনেও সঙ্কোচ হয় দেরি হলেজানি না কীভাবে এরম হয়। আজ শেষ টুকরোর মোগলাইটায় যে আক্রমণ টা করলাম দুজনে, এ নেহাতই স্কুল জীবনের স্মৃতি, এরকম মেঘলা যাপনে তার কোনোই স্থান নেইকিন্তু এটা তো তুই, তুই সুপ্রিয়, তুই আমার ধেড়ে বয়েসের বন্ধু। কোনোদিন পাশাপাশি খোপে গল্প করতে করতে মুতেছি আমরা? না! তাহলে তুই কিকরে জানলি আমার এই স্মৃতি? কেন করে দেখালি সেই ঘটনা? আমায় কী পড়ে ফেলেছিস তোরা? ঈশ্বর কি ঘুমিয়ে পড়েছেন? লোভে লোভে বসে আছি বাসে। একদম মোড়ের মাথায় নেমে হাঁটব সেন্ট্রাল এভিনিউ ধরে। মেট্রোর উদ্দেশ্যে। আর ভুলে যাব কাকে কি কথা দিয়েছি, কোথায় এসে প্রজাপতি বসেছে, রাস্তা পেরোতে গিয়ে অবাঙালি মেয়েটা হঠাৎ কিরকম তাকিয়ে ফেলল আমার চোখে, ভুলে যাব সব। ওই মেয়েটা জানবে না আমি ওর বাদামি চুল দেখে জয়িতার কথা ভাবছিলাম। কনডাক্টর বুঝতেই পারবে না আমি দেখেও ছেঁড়া নোট টা নিয়ে নিয়েছি চুপচাপ। প্রজাপতি টা জানবে না আমি কত টাকার টিকিট কেটে কোথায় নামব। এইতো পারছি, আমার ঘামে ভেজা এম জি রোড, আমার সিটি কলেজ, গু লেপ্টে থাকা ফুটপাথ ছেড়ে এই তো বাঁক নিচ্ছে আমার সব কিছু। আমি কি তাহলে আমার ইচ্ছেতেই বাঁচব বাকিটাও? জামা টান করতে গিয়ে দেখলাম কাঁধে বসে আছে সে। নেমে এসেছে আমারই সাথে। জয়িতা, সাধু, সুপ্রিয়, তন্ময় বা শুদ্ধেন্দুদা কেউ পাঠায়নি ওকে। কাউকে চেনে না ও। কিংবা হয়তো চেনে। আমি জানি না কি করব এবার, ওকে কী উড়িয়ে দেব? যদি ও স্বপ্ন হয় আমার! হা ঈশ্বর বহুদিন পর তোমায় নিজের মধ্যে পাচ্ছি। উড়ে যেও না...






আকাশ গঙ্গোপাধ্যায়

Akash Gangopadhyay

Friday, July 14, 2017

তামুজ এবং আমি ~ একটি দীর্ঘ কবিতা : বেবী সাউ

তামুজ এবং আমি

অতঃপর শূন্যতা নেমে আসে
হাঁটু পেতে বসে ঈশ্বর
বকরূপী ধর্ম
নীতিবাক্য যত নিশ্চল
কোথাও প্রলয়ের ধ্বনি বেজে ওঠে
কোথাও বা পায়ের শব্দ
ভুল করে পুষে রাখি ভ্রম
ভ্রমণে উঠে আসে নিকেলের স্বর
দমবন্ধ অবস্থান

তামুজ হে! অবসর এই
শুরু করো দীর্ঘতম চিঠি
পাঠ করো,
শ্রবনের মাঝে এইটুকু সমর্পণ
দেখো, ধৈর্যহীন হয়নি মৃত বাজের আত্মা
পঙ্গুত্ব নিয়ে বসে আছে শেষ উপাখ্যান
রক্তহীন এই মাটি জুড়ে
বায়ু জুড়ে
এখনও অপেক্ষা করে দীর্ঘদিন
সমস্ত ধর্মপুরুষদের ছেড়ে জেগে উঠবে
প্রেম, কাল হীন,কামহীন, অনন্ত

এখনও লালপায়া অষ্টাদশী সবটুকু ভেঙে যাওয়া স্বপ্নে পুষে রাখে জোড়া দেওয়া কাঁচ
এখনও প্রসাধনে সেজে আছে সন্ধ্যে তারা
শৃঙ্গারে সুখী বেনারসী
শাঁখ বাজে
পাঠ করো পাঠ করো
 প্রিয় তামুজ, আমার প্রথম কৌমার্য

 দেখো ওই শহরের খাঁজ
সেখানেই যৌনপিশাচের দল
রাতভর হত্যা করেছে প্রেম
প্রেমিকার মন
ব্লাউজের হুকে ঠোঁট কেটে গেছে
সেপটিপিনে লেগে মাংসের গন্ধ
তবুও রাতভর থামে নি'কো
রাতভর উল্লাস করেছে নৃত্য
লিঙ্গ উপাসক তারা
দুধ ঘৃত জলে অবগাহন নয় শুধু
নিপুন কৌশলে শিখেছে হন্তারক পন্থা

তারপর! তারপর

ওরা ঘুমিয়েছে রোদে
শহর নেমেছে পথে
ছদ্মবেশ প্রেমহীন চোখে ফের দহন করেছে বুক
সারাদিন পরোক্ষ এক পিশাচীয় খেলা
উউফফ!
আর না, তামুজ, প্রেম আমার
একবার শুধু পাঠ করো এই দীর্ঘতম চিঠি
ভুল তোমার বানানের আঙ্গিক
ছত্রে ছত্রে সরল বালকের চাহিদা
তাতেই ভরে যাবে এ ধর্ষিত বুক
ভেঙে যাওয়া পাহাড়ের চূড়া
আবার সংশ্লেষ হবে তাতে
আবার জেগে উঠবে প্রেম
সমস্ত পুরুষকে যে মেয়ে ভেবেছে প্রতারক বলে
বিশ্বাসে আঘাত গুরুতর জখম
ফেরাও তামুজ হে, আমার প্রথম কৌমার্যের প্রেমিক

তুমি তো পুরুষ নও, লিঙ্গ ভেদে
দেখিনি কখনও
ভ্রম আমার?
এটাও ভ্রম!
সমস্ত সত্যি ভেবে নির্দ্ধিধায় তুলে দিয়েছি হাত
গোলাপের পাপড়ি ঠোঁটে এগিয়ে দিয়েছি চুম্বন
আকন্ঠ পিয়াসীর মতো পান করেছ আমার স্তন
প্রেম নয়প্রেম নয়?
সমস্তটাই ছলনা?
অন্য কোন পুরুষ ছুঁয়েছে বলে এই দেহপ্রান্ত
নশ্বর দেহ
তাতেই সব প্রেম উড়ে গেছে তোমার!
তাতেই তুমিও শেণ্য চোখ দিয়ে জরিপ করেছ বারবার
শহরের মতো!
ধিক্কার দিই কাকে!
কাকে বলি নশ্বর এই দেহভাগ ছাড়া
কোথাও ছুঁতে পারেনি নিশাচর পিশাচের দল
শলাকার মতো ওই উত্তপ্ত ক্ষুধা
উপভোগ করেছিল ওরা যখন
একমনে আমি তোমাকে চেয়ে গেছি তামুজ
ভেবেছি তোমার ওই প্রথম আলিঙ্গনের কথা
কোন পুরুষ ঢোকে নি মনে
কোন স্পর্শ ছুঁতে পারেনি ওই সতীচ্ছদের দ্বার
যা কিছু ঘটেছে ওরা চেয়েছে বলে
আমি তো তোমাকে সমর্পণ করে গেছি দিনরাত
ভেবেছি তোমার প্রথম স্পর্শ
ভেবেছি তোমার প্রথম শিহরণ
দুভাগ করে দেখো এ বুক
লেগে আছে শুধু তোমার চুম্বনের দৃশ্য

তামুজ হে, যেওনা।
চৌকাঠে দেখো ওই মৃত আত্মারা ঘোরে
আশ্রয় নেই
স্নেহ ভালোবাসা নেই
পিতা নেই
ভাই, বন্ধু, সখা
নারী অভিযোগে চিহ্নিত করেছে শহর
শুধু নারী! শুধু ভোগ্য পণ্য
নখের আঁচড়ে ভেঙে গ্যাছে প্রেম
তামুজ একবার দেখো মন
এখনও কারো স্থান নেই তাতে

ফিরে গ্যাছে, আমার প্রথম কৌমার্যের প্রেমিক
শহর ধর্ষণ করার আগে
যে প্রথম ভেঙেছিল সতীচ্ছদের দ্বার
বুঝিয়েছিল প্রেম আসলে মিশে থাকে মনে
অর্ধেক শতাংশে মনের বাস
দিনের পর দিন ভোগ করেছে
নিপলে ঘষেছে ঠোঁট
সদ্য উত্থিত শ্মশ্রু

আজ

ঘর নেই সংসারে
ভোগ আছে শুধু




বেবী সাউ

Baby Shaw

Tuesday, July 11, 2017

তন্ময় ভট্টাচার্য-এর তিনটি লেখা

একদিন

তার সঙ্গে দেখা হবে - এই ভেবে, এটুকু ভেবেই...

বাকিরা সহজে আসে, সহজেই চোখে পড়ে যায়
অমন পাতাল থেকে কী যে কষ্ট কুড়িয়ে আনার
পুড়তে পুড়তে শুধু জ্বলে থাকে বেহায়া সিঁদুর

সিঁথির কিশোরীকথা - এও ভেবে, এটুকু ভেবেও...




শেষ অবধি

কোথাও যায়নি। শুধু দেখা যাচ্ছে না বলে
তার এই ফুটে থাকা মিথ্যা - ঘোষণা দিল কে

এই যে রক্ত জমে নীল হল, ক্রমে ক্রমে
শরীরে ছড়িয়ে গেল সামান্য যমুনা থেকে

নাইতে নেমে কি সেও পা কেটে ফিরবে ঘরে
পরের কয়েকদিন হাওয়ার উদাসী প্রলোভন

মাথুরখণ্ড এলে রাধে কি বাঁচতে পারে
আয়ানে প্রদাহ বাড়ে, ইন্দ্রিয়ে মুরারীযাপন...




হুমকি

আপনাকে বলে দিচ্ছি, আর যদি কাউকে আমল
দিয়েছেন, চলে যাব অনিবার্য যেদিকে আষাঢ়

অমন ভিজতে দেখে আপনার কাতুরে বয়স
হিংসে করলে কিন্তু মানব না, বলে দিচ্ছি এই

এখনও সময় আছে, সব ত্রাণ ছাপিয়ে আমার
সীমানা ভাঙুন, জল, আমাকে মধ্যে টেনে নিন






তন্ময় ভট্টাচার্য

Tanmay Bhattacharya

Saturday, July 8, 2017

দুটি লেখা : জয়রাজ ভট্টাচার্য

দুটি লেখা
এক
আমরা সবাই একটা ঠিকঠাক চুমু খুঁজে পাবো একটা সফল মৃত্যুর সাথে। সমুদ্রের নিচে যৌনতার মত ছড়িয়ে আছে সাড়ে সাতশো চোখ, তারা জড়িয়ে ধরছে পা, ডাকছে, আমি সেদিকেই যাবো বলে আঙুল থেকে ঝেড়ে ফেললাম অন্য সব প্রলোভন। ক্রমশ ঠান্ডা বোধ হয় তোমার ভাষার সমীপে, সমস্ত উচ্ছাস মুছে ফেলে আমি তোমার নিকটজন হতে চাইছি শুধু শেষতক।



দুই
জ্যোৎস্নার মত শুভ্র আলো তার
কপাল আর চিবুক ঘিরে রেখেছে
সে স্থিতধী, গম্ভীর মন্দ্র স্বভাব,
গ্রীষ্মের সন্ধ্যায় উড়নি গায়ে চাপিয়ে
আর্তজনকে জানাচ্ছে শস্যের পূর্বাভাষ
দিগন্তে ঘনিয়েছে মেঘ, চঞ্চল পায়ে
বালিকারা একবার মাত্র আকাশের
দিকে চেয়ে গোয়ালঘরে ছুটে গেল।
গাও তমোঘ্ন মল্লার রাগে এখনই
নৃত্য হোক একমাত্র জনশ্রুতি
ঈশ্বর আমাদের মধ্যে আরো কিছুক্ষণ
বেঁচে থাক। একেবারে চলে যাওয়ার আগে।



জয়রাজ ভট্টাচার্য

Joyraj Bhattacharjee

Wednesday, July 5, 2017

কবিতাদুটো... : জ্যোতির্ময় বিশ্বাস


নীড়

তিনি লিখেছিলেন নীড়ের মতো
পাখিটির কথা কিছু বলেননি

আর পিপলি লিখে কবে আমি কেটেকুটে দিয়েছি, মুখোমুখি বসিবার সেইকালও অস্ত গেছে অথচ চোখ যে বড় মেহেরবান, যায়নি, তা বুঝতে পারিনি

সব লেনদেন ফুরায়। সমস্ত ফুরায়না জীবনে।




গজলনিঝুম

আমি শুধু ন্যায়না শরাব দিল চান্দনী গম্ ইয়াদ আর হম্ আর তুম গুলো শুনে শুনে চুপ হয়ে থাকি

মেহদী হাসান গুলাম আলিরা আলোচ্য অংশটুকু বুঝে নিয়ে...

বো আখোঁ মে কাজল, বো বালো মে গজঁরা
হাথেলি পে উসকে হীনা, মেহকি মেহকি

বাংলা লয়ে চুপ করে থাকি।।















জ্যোতির্ময় বিশ্বাস
Jyotirmoy Biswas


Monday, July 3, 2017

পোঁদ ও প্রজাপতি হে : দুটি লেখা - শুভঙ্কর দাশ

পোঁদ
পোঁদ শব্দটিকে নিতম্ব বলে
খাটো না করাই ভালো।
শুনেই দেখছি ভুরু কুঁচকে গেল আপনার।
আপনারা তো আবার উচ্চ ঘর
কংস রাজার বংশধর।
আপনাদের বংশে কেউ কোনদিন
পোঁদকে পোঁদ বলেনি।
বলেছে পেছন, পাছা, নিতম্ব, বাম
আরো অনেক কিছুই।

অথচ অজন্তা ইলোরার যাবতীয়
নয়নাভিরাম নারী মূর্তির ভারী পোঁদ দেখে
আপনারা আপনাদের ইস্থেটিক্স বাড়িয়েছেন।

আজও ক্যাট ওয়াকে ভারী পোঁদ দুলিয়ে না হাঁটলে
পয়সা পাবে না ওই বেচারা মেয়েগুলো।

আমায় যে ছেলেটা মাসাজ করতো
সে বলেছিলো শরীরের যাবতীয় নার্ভ সেন্টার পোঁদে।
অতএব পোঁদের মাসাজ জরুরি খুব।
এ কথার সঠিক বেঠিক আমার জানা নেই।
জানা নেই ছেলেটা আসলে
হোমোসেক্সুয়াল ছিল কিনা।

শুধু জানি মেদিনীপুরে
কিছু মানুষের জাত
চন্দ্রবিন্দু হারানো সেই পোঁদ।
এবং তারা অনেকেই সুশিক্ষিত
প্রফেসর, কবি ইত্যাদি।

তাদের নিশ্চয়ই আপনি
নিতম্ব জাত বলে
অপমান করবেন না।




প্রজাপতি হে
কথা দিয়ে যারা কথা রাখে না
তাদের আমার প্রজাপতির মতো
মনে হয়।
তোমার মুখের চারদিকে নেচে বেড়াচ্ছে
সব রঙ
যা এমন আলগা যে হাত দিলেই
হাতে উঠে আসে।
না বলবে না একটুও।
অথচ তারপর কোথায় হারিয়ে যাবে
সেইসব রঙ ফেলে রেখে
যেমন এসেছিল না জানিয়ে
এমনি এমনি।

এখন যেমন একজন ঘুরে বেড়াচ্ছে
এই ডাউন টাউন ঘরে।
ভাবছি অতিথি কে কী দেব?
মনে পড়ল আমার এক বন্ধু বলেছিল
দিলে ওরা চিনি গোলা জলও খায়।

ছুটে রান্না ঘরে গিয়ে দেখি
চিনি বাড়ন্ত।
আহা নেই এ কথা বলতে নেই
এ শিক্ষা তো কবেই দিয়েছিল মা আমায়।

জীবনে তো সবই বাড়ন্ত তাহলে
বেড়েই চলেছে ক্রমাগত।

ফিরে এসে দেখি চলে গেছে
রঙের উৎসব
আরো একটা নতুন নেই
যোগ করে দিয়ে।


শুভঙ্কর দাশ

Subhankar Das

Wednesday, June 28, 2017

শরণাগত : শুভ আঢ্য

শরণাগত
বাণ ই তোমার, আমি শান্তি পাই নি
অথচ তোমার থেকে দূরে আমি মদের কাছে
বসি, সুজাতা, তোমার স্তনদু'টো পাক্কা হেডলাইট
আমি অন্ধকারে যখন, রাস্তা দেখাচ্ছে
তোমার সা, লোয়ারে জমে উঠছে লেয়ার
হ্যাঁ, ওই কোমল সা'য়ের কথাই বলছি
এখন আমার বুকপকেটে খেলছে সাপ আর
সিঁড়ি ভেঙে কবে উঠবে বুকে সু................

তোমার বাণ'ই শান্তি পাই নি আমি...
অথচ তুমি কি করে কেকের ওপর আইসিং করো!
এই অন্ধকার জ্বলে ওঠে এবং আমি প্রতিটা সত্যের কাছে
হাত ও পোঁদ পাতি... তোমার স্তনদু'টো পুরো কামরাঙা
রঙ হয়ে আসে, আর তুমি কোথায় চলে যাও সু........




ওই জামবাটি তোমার হাত পিছলে যাচ্ছে
তোমার ঘুমের গোড়ায় ফিঙে
কটির তলায় ঝোপ ফি হপ্তা
আর কত সহজপাঠ্য হবো বলো!

পুরানা কিতাব, ছলকে ওঠে জাম
ইয়ে শাম রঙিলা... তোমার গোড়ালি নগ্ন হও
হাত আর বাহুমূলের ওপরে দানা দানা ঘাম। ওহ,
এই মার্কেটিং, এই গ্যালারি শো আর টি আর পি
নেমে গড়িয়ে পড়ছে জামবাটি

ফিঙের ওপর তোমার ডানা, টাআআআআআনা...
সুজাতা তোমার পায়ু বিশ ক্রোশ পথ আর পথ্য
ওখানেই তো, পিছলে যাচ্ছে ইয়ে রঙিলা শাম, ইয়ে নশা




তোমার পায়ের নীচে একটার পর অপর একটা
নতুন ধানের ক্ষেত উপচে উঠছে হাসি, লেকের ওপরে,
তুমি লজ্জা আটকে লিখছ কাহিনী মৃত্যুর

সা'য়ের ওপর বশ্যতা শিকার করছি, শান্তি নেই
তোমার ভ্রু'র ওপর ছিনে জোঁক, মাস্কারা আজ নেই
কাল উঠবেই বারকোড মেনে দাম তোমার ওপর

সেদিকে নজরানা হয়রান হচ্ছে উও মেহফিল
পায়ের ডিমে তোমার, তা দিচ্ছে বুদ্ধু, শান্তি দিচ্ছে
ডুবছ, ভাসছো, শ্যালো ওয়াটার এবং নরম শ্যালিকা
প্রতিটি সুখময় ছবির ওপরে পড়ছে একটা রক্তের ফোঁটা
তোমার পা বরাবর... রেডিওতে গানের অনুষ্ঠানে বাজছে















শুভ আঢ্য
Subha Adhya