Showing posts with label Poetry. Show all posts
Showing posts with label Poetry. Show all posts

Thursday, April 27, 2017

পুরো – পুরী (৬-৯) : শুভ আঢ্য

পুরো – পুরী

চুরি হওয়া পার্সে লোকটাই, একটা ছুটির স্টল

সেই দিনেকানা লোকটার
সমুদ্র মানে সন্ধের ভাজামাছ আর দারু

চানে উঠে আসছে একটা জেডব্ল্যাক থ্রি কোয়ার্টার
আর হলদে টপ, মেয়েটা সাসপেন্স লেখার সময়
চুলে বালি নিয়ে পুরে দিচ্ছে পরকীয়া,
ফরেন লিকারে

তার পর যা হয়!

বন্ধের পর কথা, দাওয়ার পর খাওয়া

একটা বিবাহিত মহিলা হিতাহিত জ্ঞানশূন্য হয়ে
প্রেমের কথা ভাবছে আরেকটা
অন্তর্কলহের পর ঠাণ্ডা হওয়া চিকেনের
লেগপিস দেখতে দেখতে, চোখ হচ্ছে লোকটার
গ্রেনেড আসার সময় বিচ জুড়ে অ্যাচিভমেন্ট

ব্যর্থকাম কাঁকড়া আরেকটা
ফাইটের জন্য তৈরী হবার আগেই
বুকে লাগা যুদ্ধফুল, শান্তি পাচ্ছে



আমি দেখতে পাচ্ছি মিউট হয়ে যাওয়া
একতা পরিবার পালন করছে ছুটি
সেখানে বারমুডাগুলো ঘোরাঘুরি করছে পাড় বরাবর

একটা ঘরের বউ সবেমাত্র প্যালাজো পরে
রাস্তায় নামল হাত থেকে শাঁখা মুছে
পরস্ত্রী দেখে চোখ জন্মাচ্ছে গৃহস্থের আর
আমিষফুলে জেগে উঠছে হোটেল বিছানা

আমি দেখতে পাচ্ছি সেই বউ চান করার সময়
ভুলে যাচ্ছে মাসিকের কথা, রান্নাচড়ানো ওপেন কিচেন

আর সমুদ্র মনে করিয়ে দিচ্ছে তার বাবাও
তার মাকে নিয়ে সাতাত্তরের মার্চে
করেছিল এমনটাই



যখন আকুতি আসে
ফিরে যাওয়া একটা রাতের ট্রেনলাইন
নিয়ে যায় অসহনীয় খিদেয়

একটা মুখ আটকানো বোতামঘর থেকে
ঝরে পড়ছে দরদিয়া দিল

বখশিসের সময় পরিষ্কার হওয়া মন
তুমি কি করে টাঙাবে জলের দাগ দেওয়ালে
ও পুরী! তুমি সিঁড়িভেঙে কেমন ওঠো হোটেলের ঘরে
কি করে কুমারী রাখো এ সমুদ্র!

চটি ভেসে যাওয়ার পর সমুদ্রে জোয়ার আসে
জোয়ারের পর সমুদ্রে চটি ভেসে যায়, হলুদ ভেসে যায়
পনিটেলও

এমন করেই খিদের পর তাকানো তেষ্টার কারুবাসনা
শেখায় পিপাসার পর একটা অগস্ত্য মুনিও
জ্বরে পড়ে খুব



ঘোড়ায় টানা একটা জলযান
ঠুলিতে জমানো
সমুদ্র থেকে এগিয়ে আসছে জল
আর আইসক্রিমওলা।

পুরীর চুমু থেকে বেইজ্জত নিষ্ক্রমণ
একটা ঘোড়াকে তার মালিকের ঘর ভুলিয়ে ছাড়ল
তোমার রাইডিঙের পর উতলা হল ঘোড়াটা।

মুখ থেকে লাল বেরিয়ে আসছে
লাল থেকে বেরিয়ে আসছে মুখ

নাল ক্ষইয়ে ছুটে যাও, ঘর বাঁধো
নয়তো মাঝসমুদ্রে নিয়ে যাও ঘোড়াটাকে
















শুভ আঢ্য

Subha Adhya

Wednesday, April 26, 2017

সেলুন এবং স্বাধীনতা দিবস - রঙ্গন রায়

সেলুন এবং স্বাধীনতা দিবস

প্রথম দৃশ্য
চোচা চলে এসে দাঁড় করালাম সাইকেল। ফাঁকা বসে আছে রামদা। রামদা কোনদিন হাতে 'রামদা' তুলে এগিয়ে এলেও ওকে মানাবে না। সবাইকে সবকিছু মানায়না। এবার প্রস্তুতিপর্ব শেষ। চেয়ারের হাতলে গদির চামড়ার ফাটল বরাবর বেরিয়ে এসেছে হলুদ রঙের স্পঞ্জ, চশমাটা খুলে বসতে গিয়েই চোখে পড়লো সেই স্পঞ্জের গায়ে লেগে আছে কিছু গুড়িগুড়ি চুল। চশমা খুললে অনেক কিছু দেখা যায় এমন একটা কথা মাথায় চিন্তা করতে করতে 'ঝুপ' করে ভুলে গেলাম আমার সাইকেল চলাকালীন মানসিক প্র্যাকটিসের কথা। কি কাটিংয়ে চুলটা কাটতে দেব। কি কাটিংয়ে চুলটা কাটতে দেব?

দ্বিতীয় দৃশ্য
অগত্যা রামদা ছিটিয়ে দিল জলের স্প্রে। তারপর চিরুনি - কাঁচি। আমার ঝরে পড়া চুলগুলোর আনুমানিক বয়স ১৩ বছর্। ১৩ তো আনলাকি বরাবর? জলের চাপে জমাট বাঁধা টুকরো টুকরো চুলের গোছা পড়ে আমার সাময়িকভাবে পাওয়া সাদা রঙের অ্যাপ্রনটা কালচে হয়ে যাচ্ছে। অনেকক্ষণ ধরে নিজেকে পর্যবেক্ষণ করার মোক্ষম সময় এই চুল কাটার দিনগুলি। চোখের তলে কালি পড়েছে, গালে একটা ব্রণ, থুতনির কাছে একটা ছোট্ট তিল, চোখের কোনে এখনো কাতর রয়ে গেছে... শেভিঙ ক্রিমের দাপটে আমার মুখটা এবার ভরে উঠলো। অত্যন্ত নিখুঁত শিল্পীর মত ব্রণ বাঁচিয়ে ক্ষুর চালাচ্ছে রামদা। হাত একটু কাঁপছে কি? ক্ষুর গলায় নেমে এলো। ফেনা গুলো হাতের চেটোয় জমিয়ে রাখছে রামদা। আবার হাত চালাচ্ছে, এত কাঁপছে যে আমার সমস্ত কিছু কেঁপে উঠছে। আর এই কাঁপুনিতে আমার করোটির সমস্ত ঘিলু কুলকুল করে মনে করিয়ে দিলো আমার ভেবে আসা চুলের কাটিং টা, কিন্তু ততক্ষণে আমার চুলের জন্মান্তর শুরু হয়ে গিয়েছে। হাতের চেটোয় জমিয়ে রাখা ফেনায় দাড়ির অংশবিশেষ লক্ষ্য করতে করতে রামদা সেটা চেঁছে রেখে দিচ্ছে একটা ক্রিমের কৌটোর মুটকিতে। ফিটকিরিতে যে কয়েকটা ছোটছোট দাড়ির কুচি তা আমার গালের স্পর্শে চিড়বিড় করে উঠলো, ঠিক তখনই সকালের স্বচ্ছ সেলুনে দ্বিতীয় কাস্টোমারের প্রবেশ।

তৃতীয় দৃশ্য
- কিরে রাম, আজ তো ১৫ই আগস্ট! আজও দোকান খোলা রেখেছিস?
- কি করবো শ্যামদা, গতকালই বিষ্যুদবার গেছে। আর কত লস্ করব?
আমি ততক্ষণে আমার নতুন ধরনের মাথা এবং মুখ নিয়ে আয়নায় ব্যাস্ত। নিজের পতিত পুরাতন বয়স্ক চুলদাড়ি গুলো দেখতে দেখতে বলে বসলাম - 'স্বাধীনতার বয়স হয়ে গেছে।'
- তা যা বলেছো যদু, স্বাধীনতা কে এবার বৃদ্ধাশ্রমে রেখে আসতে হবে।' রামদা ও শ্যামদা উভয়েই হেসে উঠলো এই নতুন মজাকে। আমার ততক্ষণে চোখ চলে গেছে পরামানিক সমিতির একটি বিশেষ তালিকায়, যেটি সেলুনের দরজায় টাঙানো, এতক্ষণ চোখ পড়েনি (চশমা খুলে রাখার দরুনও হতে পারে) - তাতে চুলের কিকি কাটিং করতে কিকি খরচাপাতি তা সবিস্তারে লেখা। বি:দ্র: এর স্থানে "শর্তাবলী প্রযোজ্য হইবে ১৫ই আগস্ট হইতে"

চতুর্থ দৃশ্য
আমি ততক্ষণে আমার নতুন রকমের উর্বর বা অনুর্বর মাথায় হাত রেখেছি। রাম ও শ্যামকে ত্যাগ করিয়া আমায় মধুর খোঁজে বেরোতে হবে

  













রঙ্গন রায়
Rangan Roy

Saturday, April 22, 2017

তুসা কথক-এর কিছু ভাবনা

তুসা কথক-এর কিছু ভাবনা

তোমার ভেতর থেকে চুরি যাচ্ছে আলোকপ্রাপ্তির রোদ,
বিকেল ভ্রমণে তোমার সম্ভ্রান্ত মগজ বেচে দিচ্ছে ধূর্ত বনিকেরা।

হে মানুষ,
হে পুরাকীর্তির চুরি যাওয়া ইট,
স্বপ্নের অপভ্রংশ, মায়াময় ভ্রান্তি,
কিশোরের মৈথুন শেষের অনুশোচনা,
হে পাপ, হে শাপ,
হে আদমের নিরাশ উপাসনা,
তোমারে অভিশাপ —
তুমি বুড়িগঙ্গার মতো কিংবদন্তী হও,
তোমার জীর্ণ শরীরে ছড়িয়ে পড়ুক অসুখের আরাধনা।

আমি তোমাকে ঘৃণা করি,
শিষ দেই, হেসে ফেলি,
হে শুয়োরের অপ্রকাশিত ক্রোধ,
কিংবদন্তীর ভারবাহী গাধা,
তুমি মরে যাও —
পৃথিবীর হৃদপিণ্ডে ক্রুশবিদ্ধ হয়ে থাকো তুমি অনন্ত বছর।

তোমার হৃদয় পৃথিবীর মাণচিত্রের মতো টুকরো টুকরো হয়ে গেছে,
পাকস্থলী হজম করে নিয়েছে তোমার অনাগত সন্তান,
তুমি বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছো —
মানুষের থেকে তুমি বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছো,
তোমার জন্য প্রেম নয়,
তোমার জন্য মাতৃস্নেহ নয়,
অভিশাপ —
তুমি প্রেমিকার ঋতুস্রাবের মতো আটকে পড়ো সময়ের সুড়ঙ্গে,
তুমি ব্যর্থবীর্যের মতো শুকিয়ে যাও মহাশূন্যের মলাট থেকে মলাটে।

হে মানুষ,
হে বিপর্যয়ের কক্ষপথে আটকে পড়া প্রেতাত্মা,
বহিষ্কৃতের বিলাপ, অপলাপ, সন্তাপ
গোলকধাঁধার নির্জনতম সত্তা।

হে স্বর্গ থেকে নির্বাসিত যুদ্ধবন্দী
হে ক্ষুধার্ত, হে পাকস্থলী,
কোন সভ্যতাই নির্মান করনি তুমি,
গল্পের বুণন ছাড়া —
নারীর স্বপ্নকে গর্ভবতী করা ছাড়া,
ধ্বংস ছাড়া — মৃত্যু ছাড়া,
আর কোন পরিণতি নেই তোমার,
এবার তুমি হারিয়ে যাও
নীল নদের গর্ভের ভেতর লীন হয়ে যাও,
মহাপ্লাবনে তোমার জাহাজ গিলে নিক রূপকথার মাছেরা।

হে মানুষ, হে তুসা,
তোমার ভেতর থেকে চুরি যাচ্ছে আলোকপ্রাপ্তির রোদ,
বিকেল ভ্রমণে তোমার সম্ভ্রান্ত মগজ বেচে দিচ্ছে ধূর্ত বনিকেরা।

পহেলা বৈশাখ/ ১৪২৪
















তুসা কথক
Tusa

Wednesday, April 19, 2017

দুটি লেখা নিয়ে এসেছেন : নীলাব্জ চক্রবর্তী

স্বীকৃতি
সংবেদনশীলতা নামের একটা বাক্সের ভেতর বসে আমরা লক্ষ করছি দিন কীভাবে ছোট হয়ে আসছে। হাতে ধরে রাখা চ্যাপ্টা, চৌকো, ধাতব খণ্ডটা, যার নাম সময়, গলে পড়ছে বাঁকানো লরেল পাতার ফাঁকে ফাঁকে। স্বীকৃতি শব্দটার গায়ে কিছু শীত জমে থাকছে এভাবে। নীল ভাঙতে ভাঙতে দীর্ঘ বাক্য হয়ে যাচ্ছে কেউ। এরকম দিনে নিষ্ঠুরতা পেয়ে বসে। চেইন রিঅ্যাকশন। জটিলতার মধ্যে ওইটুকুই সিমেট্রি রেখে দেওয়া হয়েছে। ফলে, মরশুম জুড়ে দ্রুত হয় এক-একটা অক্ষর। বালিশে চাপা পড়ে থাকলো যে দুপুর, তার স্পর্ধা, একটা রঙ হয়ে। জল সরে যাওয়া লবণপ্রণালীর কথা ভাবো। মনে তার যেটুকু রেখেছো মাংসক্ষেতের ভেতর কুচো কুচো কবিতাভাবনা রেখেছো...



আপনার কবিতাকে জীবাণুমুক্ত রাখুন
এখন দ্বিধা বলতে টানেলের ভেতর যেটুকু রোদ। অন্য কারো ডুয়াল সিমে আপনার বেলা পড়ে আসছে কোথাও। পছন্দ করছে বুনো পাথরের গায়ে পার্পল ছোপ ধরতে থাকা কম্যুনিকেশন। পছন্দ করছে আলগা যৌনতা। ভাষার সবটায় তখন কাঁচ ছড়ানো। স্থিতির ভেতর খুব ছুটতে ছুটতে ভাবছি প্রাপ্তি শব্দটার মানেটা ঠিক কী। লক্ষ করুন, কেমন ফুলে উঠছে রাস্তাটার গ্রীষ্মকালীন নাম। আপনার কবিতাকে জীবাণুমুক্ত রাখুন। ভাবুন, উদ্ভিন্ন একটি বিশেষ অঞ্চলের নাম। তার ছোটবড়ো ছায়ারা শব্দ করে ‘তদনুরূপ, তদনুরূপ’। এভাবে স্তনকে দুপুর লিখি আর খুলে রাখি স্নায়ুদের জলপথ। সিনট্যাক্স ছিঁড়ে ফ্যালাও আরেকটা সিনট্যাক্স…













নীলাব্জ চক্রবর্তী

Nilabja Chakrabarti

Monday, April 17, 2017

বাপি গাইন-এর : দু এক পশলা চিন্তাসূত্র

দু এক পশলা চিন্তাসূত্র


কতরকম বিষই তো এই দেহ গ্রহন করেছে
এই একটুকরো মেঘ আর কতটাই বা মরুভূমি নেবে


অনিশ্চিত এই জীবনের একমাত্র নিশ্চয়তা মৃত্যু। এমন এক বিশ্বস্ত বুক, এমন এক আলিঙ্গন যা একমুহুর্তের জন্যও স্পর্শ ত্যাগ করবে না। এই চরিত্রকেই আমরা খুঁজি প্রেমিকার ভেতরে, প্রেমিকের ভেতরে অর্থাৎ আমরা তোমার ভেতরে মৃত্যুকে খুঁজি প্রতিমুহুর্তে, জীবন খুঁজি না কখনও।


অর্ধমৃত ফুল দিয়ে ঘর সাজাবার আগে, আমি চাই ফুলগুলো গাছেই শুকিয়ে যাক। অন্ধকার হয়ে আছে এমন অনেক গাছ দেখেছি দিনের বেলায়। যেন কেউ শুভেচ্ছা অনুবাদ করতে পারেনি আর শুধু শুধু সাদা পৃষ্ঠা নষ্ট করে গেছে।
তোমাকে ভালোবাসা বোঝাতে গিয়ে তাই গাছ ছাড়া আর কোনো প্রতিনিধি পাইনা। হাঁটাপথে সে বহুদিন থেকে তোমাকে মুগ্ধ করেছে। এতো এতো মুগ্ধতা সামলাতে না পেরে তুমি তার ছোটো একটা হাত ভেঙে টেবিলে রেখেছ। টেবিলের ওপর হাতভর্তি ফুল, মৃত্যুর দিকে দৌড়ে যাওয়া ফুল। ঘর আলো হয়ে আছে, পবিত্র এক গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে মৃত্যুর শরীর থেকে তোমার স্নায়ু পর্যন্ত। তুমি এককাপ চা নিয়ে এই সৌন্দর্য্য সহ্য করছো বিকেলের আলোয়। ওদিকে যার গেছে তার বেদনা ফোঁটা ফোঁটা ঝরে পড়ছে রাস্তার ধুলোয়। এইপথে কাল আবার তুমি টিউশনে যাবে আর দেখবে ভাঙা ডালের পাশে এখনও অনেক ডাল। এখনও যথেষ্ট ফুল। তোমার মুগ্ধতা আগের মতোই তোমাকে মৃত্যুর প্রতি অন্ধ করে রেখেছে।

Wednesday, April 12, 2017

দুটি কবিতায় : রিংকু কর্মকার চৌধুরী

বিচ্ছেদ

বিচ্ছেদ চেয়েছিলাম শুধুই
পিছুটানহীন দিনে।

এগিয়ে গিয়েছি সামনে।

অনুপস্থিতির খাতায় নতুন করে
নাম তুলে দিয়ে

তারপর,

আমরা যে যার মত ফিরে গেছি
অন্ধকারাচ্ছন্ন।




Monday, April 10, 2017

আবার দুই মেঘপারা মেয়ে : মনোজ দে

মেঘপারা মেয়ে ৯

যে সমস্ত শব্দ
উচ্চারিত হল না তোমার পাশে

ইমেজের ভেতর অথচ       সাবলীল
ঘর হয়। মেঘ হয়। ঋতু হয়

ও মেঘপারা মেয়ে
টেলিফোন বলতে বলতে
যারা জন্ম ন্যায়
সমস্তটাই ব্রথেল?



Thursday, April 6, 2017

কাঞ্চনজঙ্ঘার ছায়া : শোভন ভট্টাচার্য

কাঞ্চনজঙ্ঘার ছায়া

তুষার বাহিত হাওয়া
এখন শাসন করছে রাত্তিরের ম্যাল।
সমস্ত টুরিস্ট প্রায় ফিরে গেছে হোটেলের ঘরে।
লামা সাধুদের মতো জেগে আছে সারিবদ্ধ পাইন।
কাছে দূরে উঁচুনিচু সমস্ত পাহাড়
প্রাণের প্রদীপ যত জ্বেলেছিল মোহিনী সন্ধ্যায়
একে একে নিভে আসছে সব।
দার্জিলিং ম্যালও তার বাণিজ্যিক বাহু
গুটিয়ে নির্বাণ মন্ত্রে ধ্যানস্থ এখন।

#
ব্রিটিশের ভূত আছে এই দার্জিলিং-এ;
‘কাঞ্চনজঙ্ঘা’-র ছবি বিশ্বাসসুলভ বাঙালিরা
এখনও সপরিবার ছেলেমেয়েজামাইশ্যালক
সমেত প্রতিবছর এখানে আসেন।
থাকেন ব্রিটিশ-ধাঁচে বানানো বাংলোয়।
খাদের রেলিং-ঘেরা সবুজ লবিতে টি-টেবিল
তাদের মহৎ-জন্ম-যাপনের সেরা অবকাশ।

#
আর আসেন নিতান্তই মধ্যবিত্ত শ্রেণি।
সারাদিন এই ম্যাল তাদের কেনাকাটায়, ক্যাচোরম্যাচোরে
চেনা যায়না পাহাড়ের কোনও শীর্ষ ব’লে।

#
আমি নিজে এর আগে দু’বার
দার্জিলিং জেলার সবচেয়ে
উঁচু যে পাহাড়ে থাকে মানুষ, সেখানে
পাঁচদিনের পায়ে হাঁটা পথ ঘুরে ফেরার সময়
শহরে নেমেছিলাম।
কেভেন্টার্সে কফি, গ্লেনারিজে ব্রেকফাস্ট
খেয়েও আমার মন ভরেনি ততটা।
মায়ের চাদর আর বাবার জাম্পার
কিনে ফিরে গেছি অসহায়।
কিন্তু আমি সতত নিশ্চিত
এবারে যে সৌভাগ্যের অধিকার নিয়ে আমি এখানে এসেছি
কাঞ্চনজঙ্ঘার মুখ না দেখতে পাওয়ার গ্লানি তুচ্ছ তার চেয়ে।
কেননা এবার বউ-মেয়ে
ছাড়াও সফর-সঙ্গী বাবা-মা আমার;
যে বাবা-মা ইতিপূর্বে হিমালয় পাহাড় দেখেনি কোনও দিন;
আজ আমি তাদের এক কৃতার্থ সন্তান।
কাজেই এ শুধু একটা ভ্রমণকাহিনিমাত্র নয়;
এ এক প্রেমিক, পিতা, পুত্রজন্ম সিদ্ধির বিষয়।

Thursday, March 30, 2017

ফাগুন হে : বেবী সাউ

ফাগুন হে

.
আমার শূন্য অন্ধকারে তোমার বারবার প্রলম্বিত পায়ের শব্দ বেজে ওঠে। নদীর দিকে হাত বাড়াই; বিস্তারিত রোদে ভরে আছে জল, কুসুমিত বন। বনের অসংখ্য গন্ধে গতরাতের মৃতদেহ। আত্মশুদ্ধি কী একেই বলে তথাগত? একে বলে বিরহের কারুকাজ? ছেড়ে আসা পলাশের ফুল সকাল সকাল নাইতে যাচ্ছে রোদের জলে। আলনার পুরোনো আসবাব ভাবছে এই তোয়ালে ঘিরে তৈরী হোক জন্ম মরণ। এইসব কাঠ জন্ম, পার্কের চেয়ার, ডিমনার লেক ছাড়িয়ে একমাত্র সত্য হচ্ছে গোচারণের মাঠ। নক্ষত্র ফুল হে! একটি নামে ঢাকা থাক অজস্র স্মৃতি, মনের দু'চারটে বিভ্রম।


.
সমস্ত দোষারোপ ঘিরে এ বসন্তোৎসব। এতো এতো পালকের ভ্রম, ঝরে যাওয়া পাপড়ির বিশ্বাস – হিসেবের খাতাতে শূন্য পড়ে অধিক। জমে ওঠে গতকালের শীত। স্থির তামসিকতায় তোমার সাধনা গৃহ পরিপূর্ণ হয়ে ওঠে। পাঁচ আঙুলে ঘোরে গ্রহের ভাগ্য – ঘুরতেই থাকে। ছায়াগাছ ঘিরে তোমার প্রদক্ষিণ – দেখো, মৃত সাপেরা বমি করছে চন্দনের গন্ধে অকালে।

Sunday, March 26, 2017

দুটি লেখা নিয়ে এসেছেন : সুমন সাধু

 কাল, কালের গর্ভ

তাকে খুঁজেছি আরামকেদারার ছাদে। খুঁজেছি আরামে বেশ। দশকনামার ফাল্গুনে আঁজলা ভরে স্নান দিয়েছি কয়েক। আমি কি ভুলেছি হিংস্র স্তাবকতা! ভুলেছি কি শিশুমঙ্গল ঘ্রাণ! জীবদ্দশায় আমরা পেলাম শক্তি, ঊর্দ্ধে গাইলেন রামপ্রসাদ।

বিশ্বাসের আঁকাপথে তর্ক করছি রোজ। সংক্ষেপে কথোপকথন সারি। শাড়ি গায়ে রোজ আলতার আলতো ছাপ দেখে ভেবে নিই জোয়ার এল বুঝি। হারতে থাকা তর্কের নিম্নে এসে মধ্যভাগ খুঁজি। একপাশে থেকে যান আবিষ্কর্তা, সন্তান স্নেহে ঘুমোন ভারতচন্দ্র।

নদীর মতোন একটা নদী উপহার দেব বলে কেন্দ্রের ওংকার জুড়ে ঘেমে উঠি। ত্রিলোককর্তা ছদ্দবেশে বেশ আসা যাওয়া করেন। ঘামজলে দুটো নৌকো ছাড়ি। একান্তে উঠে আসে কঠোপণিষদ স্তোত্র। স্তোত্রের আবহ জুড়ে শাঁখ বাজিয়ে প্রমাণ করি নদীর মতো তীব্র হওয়া একটা বিশ্বাস। বিশ্বাসের সীমান্তে এসে নারদ রূপে মজা পাই, আড়ালে নীলকণ্ঠ মুচকি হাসেন।


Tuesday, March 21, 2017

সিরিজ কবিতা: পুরাধুনিক ডট কম এবং... : অভিজিৎ পাল

সিরিজ কবিতা: পুরাধুনিক ডট কম এবং...

১.
অনেক দিনের পর ফিরে আসি। জটিল আবর্তগুলো আবার মুখ টিপে হাসে। আজানুলম্বিত উদাত্ত প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ভেঙে দেওয়ার আনন্দময় বিষাদে সেজে ওঠে ক্যানভাস। রঙ মাখি। রঙ মাখাই। ভালোবাসার লাল রঙ। ধূমল বাতাসে ভেসে আসে স্মৃতি অনেক। আমার ব্যর্থতা হতাশা নৈরাশ্য আসছে এবার। অধ্যাপনার কাজের মধ্যে ডুবে মরতে মরতে জীবনবাদী একটা গল্প লিখতে ইচ্ছে করছে। নিজের গল্প। একান্ত। আত্মসম্পর্কের আত্মজীবনী নয়। আকাশ ছুঁয়ে বাঁচতে চাইছি এবার। নিজের মতো করে। স্বপ্নভঙ্গ হলে জানাবো সবই একদিন অমোঘ ভবিতব্য বলে পুরাধুনিক পাঠের সিলেবাসে লেখা ছিল। সমস্ত জৈবলিপির পাঠোদ্ধার আমার পক্ষে এখনও সম্ভব হয়ে ওঠেনি...



২.
ভুল শব্দের মতো কথা বলছেন মহামান্য। ক্ষমতাহীনের মতো চুপ করে মেনে নিচ্ছি দ্বিচারীব্রত। আমার মানসপটে জেগে উঠছে ব্রহ্মবাদ। আমি পাঠ নিচ্ছি। একে একে জেগে উঠছে সম্পর্কের মুখগুলো। আমি বিষাদ আঁকছি। আমার জন্য অপেক্ষা করছে একটা সুবৃহৎ আমি। দৈব ভাষ্যমতে জটিল অদ্বৈতপাঠে ঋদ্ধ হতে হতে সেজে উঠছে দাগ। অম্লমধুর প্রেমের রতিবিলাস শুধু তোমাকেই দেখিয়ে বলে দিচ্ছে। সার্বিক কামানুভব চুষে খাওয়া যেতে পারে মেকানিক্যাল আঙ্গিকে। আমার মানসলোকে হেঁটে আসছেন তিনি। জানু পেতে বসছি। শুনেছি এভাবেই তাঁর কাছে বসতে হয়। ভ্রান্তিপথ হারিয়ে যাচ্ছে ক্রমশ। কাঙ্খিত শুচিতা পবিত্রতা অর্জন করতে শিখছি মাতৃত্বে। মানের মিথ্যে ভোরাই অন্ধকার কেটে আসছে বারবার...


Thursday, March 16, 2017

ভালোবাসা (দশ দু গুনে কুড়ি) : দীপ শেখর

ভালোবাসা (দশ দু গুনে কুড়ি)

রবিবার ইস্কুল গাছের তলায় বসে থাকে একা যে
জানোনি দেখে তাকে কতদিন তুমি ভালো থেকেছিলে

আমার ভেতর বালক কে না ভালবাসলে কেবল পুরুষ নিয়ে কি করবে?বালিকা তোমাকে ভালোবাসি

আমার ইশকুল জামা আজও যায় তোমার কাছে। আমি তাকে আটকাতে পারি নি...

Saturday, March 11, 2017

সায়ন ঘোষ-এর কিছু লেখা

সেখানে সকলেরই একটা কম্বলের প্রয়োজন ছিল। নিদ্রাজরিত দূষিত চোখে তারা পরস্পরের দিকে তাকিয়ে হাসছিল। একজনের একটি রূপোলি দাঁত রয়েছে লক্ষ্য করা যায়। এবং কিছু শিশির কারপেন্টারের ছায়ায় জলের দ্রাঘিমায় হুবহু দ্রিদিম একঘেয়ে করে তুলেছিল বাড়িটাকে। সেখানকার ঘর, আসবাব, প্রাণ কৌটোবন্দী অবস্থায় শব্দের কড়া নাড়া; কারা য্যানো গুঁড়িয়ে ফেলেছিল তাদের শৈশব। নিজস্ব খনিজ মুঠোয় করে নিয়ে গঙ্গায় অস্হি বিসর্জন এবং সূর্যদেবতার কাছে প্রার্থনা। সকলেরই প্রয়োজন ছিল এখান থেকে বেড়িয়ে আসার। মুক্ত উপত্যকায় চড়ে ব্যাড়ানোর অধিকার সকলেরই ছিল। কেউ কেউ চেয়েছিল, কেউ চায়নি। জীবনকে বিভিন্ন রূপে আবিষ্কার করতে করতে কেউ কেউ পাগল হয়ে গিয়েছিল। কেউ এখনও আবিষ্কারের পদ্ধতি নিয়ে গবেষণারত। সন্ধ্যের শাঁখ এবং ঘন্টাধ্বনি বাতাসে মিশে যেতে যেতে অলস দ্রাঘিমায় আমরা এখন একটু ঘুমিয়ে নিচ্ছি ধোঁয়ার বিছানায়।

-      ৬নভেম্বর,২০১৬



ফোলিয়েশন

ঝড়ো অভদ্রতা শরীরের মধ্যে ছুড়ি কাটার কারবার রেশম সমন্বয়ে তৈরী বস্তুর ছেদ, রূপক, গতি, তড়িত্ বিচ্যুতির লোমশ স্ক্যান্ডাল পরিপূর্ণতার ঐশানী সন্ধ্যেতে পাক খাওয়া বিকট পাগনেশাস্ তার ঝিল্লীর অন্তস্হলে চুক্তি ও করমর্দন প্রতিলিপির বৃহত্ পাঠাগারে পাঠরত তরুণীর ঘাগড়ার তলায় আমার শ্রেষ্ঠ পান্ডুলিপি জমা পড়ে গ্যাছে হৃদয়ের তার যন্ত্রবাদক ঐশ্বর্যায় নিপুণ কাঠামো নির্ভর ইন্দ্রিয়প্রসর উচ্চ দ্রাঘিমায় ক্ষমাপ্রার্থী ঈশ্বরীর কণ্ঠে হিন্দিতে কিশোর কুমার
অতএব এগুলি সম্ভাবনার পাকদন্ডী এবং রাশিফল বিষয়ক দাঁড় যা এককভাবে দন্ডায়মান প্রণালীতন্ময় ও কিছু গঠনমূলক ধৈর্যবিচ্যুতি।



Thursday, March 9, 2017

ঈশ্বরের জননতন্ত্রী, বিদেশি শব্দ এবং একটা রক্তখেকো ন্যাপলা : ডাকনামে সমুদ্র

ঈশ্বরের জননতন্ত্রী, বিদেশি শব্দ এবং একটা রক্তখেকো ন্যাপলা

১।
এই বিশ্বাস হয় -
ঈশ্বর আছেন কণায় কণায়
আমাদের ক্লাস সিক্সের ব্যাকরণ বই
সমস্ত সিগারেট কাউন্টার
ভুখা পেট
অফ্রিকা
জলবায়ু
নিভন্ত উনুন
তীব্র বর্ণবিদ্বেষ
অমৃতা গগণের টোলে
ভেনিসের জল। ইরাকের যুদ্ধ। সংবিধান। ছাপাখানা। জিরো জিরো সেভেন। ভ্লাদিমি পুতিন। হীনস্কন্ধ সময়।
এমনকি টুম্পা চাকির প্রথম খাওয়া ধর্ষণেও



২।
“shouting ‘oh god!' at bed isn't equivalent to a prayer"

ক. হরেকৃষ্ণ বলতো একটি উত্তর কোলকাতার টিঁয়া

খ. তিনি ছেলের নাম রেখেছিলেন শ্যাম। শ্যাম চোদ্দবছর বয়সে বাথরুমের ফুটো দিয়ে ভিজে মাকে দেখে হাত মেরেছিলো।

গ. প্রত্যুষা ঋতুমতী হয়েও ঠাকুর ছুঁয়ে ফেলেছে

ঈশ্বর আমার বিশ্বাস পুড়ছে
ওদিকে দৃশ্য তখনও কালো। পর্দা ওঠে নি। আমরা হাত চালান করে দিয়েছি পবিত্র বুকে বুকে। ঘেঁটেছি।


Tuesday, March 7, 2017

পলাতক : সায়ক দত্ত

পলাতক

১.
আকস্মিক চাঁদ ধোয়া জলে কবিতা লিখতে বসে
মালকানগিরিতে আম্বানিরা ফুলদানি সাজালো।
এপাশে, ওপাশে-
পাপোষে, ধপাসে-
আমরা বরং শব্দ সাজাই।

টিলার ওপর মৃতদেহগুলো আসিমোভের নিয়ম মানে না-
মরা ম্যাপলগাছের নস্টালজিয়ায় যেমন গোপালঠাকুর নেই।
ডানে, বামে-
পাঁচমাথায়, আওয়ামে-
চার ওয়াক্ত ফ্যানের গন্ধ বরং ছড়াক।



Monday, February 20, 2017

অক্ষর পদাবলী : সুমন সাধু

অক্ষর পদাবলী

১)
"
বিজয় নাম বেলাতে ভাদর মাসে।
নিশি আন্ধকার ঘন বারি বরিষে।।"

আমরা দু'জন এক এবং অন্ধ-কার। যেভাবে লিপিকরের মুঠোয় গোটা জানালা অবশিষ্ট পড়ে আছে। তবে জানালা নিয়ে বিশেষ চিন্তিত নই আমরা, আমরা জানি একেকটা ইচ্ছের গায়ে ধুলো লেগে আছে। বেশ আনন্দ করেই উপভোগ করি সেই ধুলো, কিছুটা যৌনসুখ পাই। এ ভরা ভাদ্রে তুমি কাশমেঘ হয়ে ঝরে পড়ছ। পড়শিরা বৃষ্টি ভেবে প্রতিদিন ভুল ভাবছে যাকে। কিছুটা সংশোধন আর বিশ্বাসের জন্ম পার করে এই তো আমাদের ডুবসাঁতার।


২)
"
নীল কুটিল ঘন মৃদু দীর্ঘ কেশ।
তাত ময়ূরের পুছ দিল সুবেশ।।"

মফস্বলে সন্ধে নামতে দেখি রোজ। সন্ধের গা ঘেঁষে বান্ধবীমহল রোজ আমায় পুড়তে দ্যাখে। আমরা সেই পোড়া গন্ধ মেখে নিছক আতর বেশে ফ্ল্যাটের দরজায় হানা দিই। আমি তখন মহান হই, আমরা তখন চুল বাঁধার স্বপ্ন দেখি। খোঁপায় খোঁপায় একটা যুগ শেষ হয়ে আসে।

Saturday, February 18, 2017

জন্মান্তর ও দুপাশের জঙ্গল থেকে : তৃষা চক্রবর্তী

জন্মান্তর
পিসেমশায় পাগল ছিল। মরে গেলে, ওরা বলেছিল - আজ থেকে আর তো কেউ পাগল বলতে পারবে না। মরে গেল একজন পাগল। আমার পিসেমশাই, একজন পরিচয়। বাড়ির সামনে বাতাবী লেবুর গাছে ফুল এলে, পিসির কাছে টাকা ধার করে বিড়ি কিনতে যেত পিশেমশাই। বুকে গলায় কাশির দমক তুলে তুলে কেবলই বিড়ি খেত। আর মন দিয়ে শুনত, পিসি বলছে 'মর মিনসে, মরণ হয় না তোর'! সেই পিসে মরে যেতে খুব করে কেঁদেছিল পিসি। কেবলই বলেছিল, আমায় ছেড়ে কোথায় গেলে গো?

বুঝিনি, কোন সে শব্দ যাতে কান্নার শ্বাসাঘাত পড়ছে প্রলম্বিত হয়ে? কখনো মনে হয়েছে "আমায়", কখনো "কোথায়"।


Sunday, February 12, 2017

মাড়ি ও দাঁতের সমাবেশ : প্রত্যুষ বন্দ্যোপাধ্যায়

মাড়ি ও দাঁতের সমাবেশ

(১)

এতো পালক এতো ছায়াগাছ কুসুমবিকার এতো সব। এর মধ্যেই ঠাঁই করে নিয়েছে আমার মৃত দাদামশায়ের জ্যান্ত খড়ম। যে সারা বাড়ি উঠোন তুলসী মঞ্চের খড়ির গন্ডি না টপকেই একা একা ঘোরে। আবার দাদামশায় পরে নিলেই চুপ। তখন বুড়ো যেদিকে যায় অতি স্থির তামসিকতায় তাঁকে ফলো করে। দাদামশায়ের মাড়ি থেকে ঝরে পড়ে গল্পমুখর লালা। উৎসমুখ খুলে যায়, আমি ও আমরা কে নিয়ে যে সুবৃহৎ  আমাদের – গোল হয়ে বসি। গল্পের ঢিমে আঁচে, গল্পেরই মৃত মাংস সেঁকা হতে থাকে। আমরা ছিটিয়ে দিই নুন উপাদান , সেইসব কলহ তীব্র লঙ্কার ঝাঁঝ। আর আয়েশে আমাদের মৃত চোখ খুলে যায় জ্যান্ত চোখ বুজে আসে।

পৃথিবীর দাদামশায়েরা আমাদের সাত ও সতেরো জলসংঘর্ষে  উদ্ভূত ফেনাময় বাথটবের কাছে নিয়ে যান। যেখানে উরু ক্যালানো মেয়েরা নাগকেশরের ব্রাশ দিয়ে যোনীগুল্ম পরিষ্কার করে। মৃত শুক্র চাকগুলি কন্ডোম কাছিম ছাল বেয়ে  বেয়ে  অনিবার্য এগিয়ে যায় নির্বাসিত ঝাঁঝরির দিকে। এইভাবে বহুবার আমাদের সুবৃহৎ জন্ম প্রতিক্রিয়া ব্যাহত  হয়েছে। নির্ধারিত প্রহরের আগেই বিসর্জনের ফেউ ডাক ককিয়ে ওঠে – মৃত জন্ম দেয় বিকলাঙ্গ ফোঁপরা করোটি।


Saturday, February 4, 2017

চারটি লেখা নিয়ে এসেছেন : সীমিতা মুখোপাধ্যায়

আভেমারিয়া

তোমার মা এলে
সব দুঃখ কেচে দেবে,
শুকিয়ে রাখবে তোমার ক্ষত,
আয়রন করে দেবে
তোমার এলোমেলো মুহূর্ত।

কাকিমা চলে গেলে
আমিতো মার হাতে-পায়ে
পেরেক ঠুকে দেবো আবার,

আর বলবো -
আয় রে, সখা,
দুজনে মিলে এবার
পিয়েটা মূর্তি ধরি!




আমি কিম্বা অপেক্ষা

তোমাকে দুধ ভাত;
আজকাল আমি আর অপেক্ষা
এক সাথে শপিং-এ, বিকেল হাঁটতে।

অপেক্ষার মধ্যে পটাশিয়াম সায়ানাইড
মিশিয়ে দেখেছি,
একটা নতুন ধরণের ধোঁয়া-
কেমন মহুয়া মহুয়া…

দুজনে দুটো ধারালো ছুরি হাতে,
আমি আর অপেক্ষা
পাশাপাশি শুয়ে খুনসুটি করি!

একদিন গাছের নিচে দাঁড়িয়ে প্রশ্ন করেছিলাম,
আমি মরে গেলেও কি
অপেক্ষা বেঁচে থাকবে?

এসব জিজ্ঞাসায় কিছুটা বোরাক্স মিশিয়ে
তাপ দিলে

দেখবে কেমন খই ফুটছে সোহাগে!



Thursday, February 2, 2017

ফটোগ্রাফি : শাশ্বত মুখোপাধ্যায়

ফটোগ্রাফি

ছবি তোলার জন্য ঘরের জানলাটাকে ব্যবহার করার কথা মাথায় খেলছে সকাল থেকেই। মারিন আসবে সকাল ৯ টা ৩০-এ। হ্যাঁ, মারিন এর ছবি তুলব আজ। ক্যামেরাটা নিয়ে সমুদ্রের দিকে ফোকাস করে আছি, অনেকক্ষণ। সি-বিচের চারদিকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে অনেক কিছুই কিন্তু এই নির্দিষ্ট দূরত্ব থেকেও  কিছুই তেমন চোখ টানছে না আমার। চোখ টানলেই আমার শাটার ঝটপট লাফিয়ে যায় অবজেক্টের ওপর আর অবজেক্ট কে ওনলি সাবজেক্ট হওয়া থেকে আটকে দিতে চাই প্রথমেই। সমস্ত ছবিতেই অবজেক্ট ছাড়া বাকি কিছু ব্লার করতে ভালোবাসতাম আগে, এখন এইসব থেকে বেরিয়ে আসছি। আমি কোন ছবিতেই থাকতে চাই না আর, নিজেকে আটকাতে চাওয়াও ভালো ক্যামেরায় ধরা থেকে যায়। ডোর বেল বেজে উঠেছে, মারিন একটা ডিপ ব্লু ড্রেস পড়ে এসেছে আজ। ঘরে ঢুকেই ও আমার উডেন ফিনিশের চেয়ারে গা এলিয়ে বসেছে। সমুদ্রের নীলের থেকেও বেশী নীল মারিন। ক্যামেরা নিয়ে অনেকক্ষণ নাড়াচাড়া করছি, এত কাছ থেকে, এই ঘরে, সমুদ্রের মত লাগছে মারিনকে। মারিন আমার দিকে তাকাতেই চুপ করতে বললাম। এই সময় কথাকেই আটকানো দরকার ছিল। মারিনের অন্ধকার দিকটা আমাকে অস্বস্তিতে রেখেছিল আর বেশ টানটান, রিফ্লেক্টর দিয়ে আলোকে ব্যবহার করতে শুরু করি কিন্তু কোনভাবেই মারিনকে ধরতে পারছিলাম না। এমন কোনো আলো তৈরী হচ্ছিল না যা মারিনের সাথে যায়। বিকেল অব্দি এইসব নিয়ে কেটে যায়, মারিন বিরক্ত হচ্ছিল আমার ওপর। অতিরিক্ত টাকা চাইছিল, যদিও তখনও আমি ওকে একবারও তুলে আনতে পারিনি।  

[ পুনঃশ্চ - এরপর সন্ধ্যে নাগাদ, ওর মত আলো খুঁজতে, আমি সি-বিচে যাই কিন্তু ও আমাকে আর বিশ্বাস করেনি। আলোটা ছিল খুবই নরম এটুকুই বলতে পারি। ]







শাশ্বত মুখোপাধ্যায়

Saswata Mukhopadhyay