Showing posts with label Poetry. Show all posts
Showing posts with label Poetry. Show all posts

Sunday, June 25, 2017

দাঁড়ি, কমা, সেমিকোলন এবং “ভালো থেকো” [শেষ পর্ব] - বহ্নিশিখা সরকার

দাঁড়ি, কমা, সেমিকোলন এবং “ভালো থেকো”
সাগর আর ঝিনুকের মধ্যে ভালোবাসা নেই। মন্দবাসাও নেই। সাগরের ঝিনুককে ভুলে যাবার দায় নেই, আর ঝিনুকের সাগরকে মনে রাখবার অধিকার নেই। ওরা কেবল জড়িয়ে আছে। বন্ধন নেই আবার মুক্তিও নেই। সাগর ছেলেটি বড্ড কেজো, আমি জানি না যদিও কিন্তু সে এমনটা দাবি করে। ঝিনুক মেয়েটা পাগল, আমি জানি না, সে এমনটা দাবি করে। সাগর কোনও এক কর্পোরেট জঙ্গলে বন্দী আর ঝিনুকের ঠিকানা নেই কোনও।


সাগর আর ঝিনুকের কবে দেখা হয়েছিল জানি না, এই টেকনোলজির যুগেও হুজুগে ওরা চিঠি লেখে। চিঠিতে কেবল কবিতা লেখে, যেগুলো  আমার হাতে পরেছে এসে কোনও ভাবে। তাই দিয়ে দিলাম...

ঘাট ছুঁয়ে জলের গান
সাগর,
খেয়া বেয়ে যায় মেঘ-মল্লার
সারা দেয় কেউ,
কেউ দেয় না

এঁটো হাত ধুয়ে মুছতে পারা যায়
যার শাড়িতে,
তাকে ভালবেসো

অনভ্যাসে বিদ্যা হ্রাস,
শেয়ার বাজারে প্রেমের দাম কমলে
গড়িয়ে নিয়ো প্রেম,
শরীরে মেঘ ঘনিয়ে এলে
উত্তাল যৌনতায় মেতো খানিক-
ঝড়িয়ে নিয়ো বৃষ্টি
ভালোবাসা বাতিল কিউরও

আমি একে শীতকাতুরে তাতে আহাম্মক,
তাই চিঠি লিখি,
যেদিন অমল বাইরে বেরোনোর ছাড়পত্র পাবে
ঠিক সেদিন থেকে আর লিখব না।

ইতি, ঝিনুক
২৪ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৫, কলকাতা




কাঁদতে পারিনা নেহাত
সাগর,
সুযোগ দেইনি কাউকে
আমাকে কাঁদানো সহজ না।
ভান করতে করতে এমন আস্তরনে ঢেকেছি নিজেকে
এখন আরশি নগরের পড়শিকে আর
খুঁজে পাওয়া যাবে না।

কিন্তু, এবার জানি দরজা খুলে দেবার সময় হল-
জোয়ারের জলকে ঘরে ঢুকতে দেবার সময় হল।
আমার ঘরে বন্যা হলে
        পূর্ণিমার চাঁদ পরিষ্কার হয় আকাশে,
চাঁদের টানে জল বাড়ে, ঢেউ বাড়ে

নিজে ভেঙে যাবনা বলে অন্য কাউকে ভাঙলাম,
ছড়ালাম, কতকটা উড়িয়ে দিলাম।
সেই বীজ থেকে মহীরুহ,
সেখান থেকে আবার মেঘ-রোদ-জল-বৃষ্টি
একঘেয়ে সালোকসংশ্লেষ।

ইতি, ঝিনুক
২৮শে অক্টোবর, ২০১৫, কলকাতা




আরাধ্যা
ঝিনুক,
নিজেকে ভেঙেছি, গড়েছি, অনেক পালিয়েছি
তবু লতানে গাছের মতন উপচে পরেছি
নারীর বুকে এসে।
নারী বিশল্যকরণী হয়ে উপশম করে
আমার পরিবর্তনীয় রোগ

নারী শরীর তার সমস্তটুকু নিয়ে
মোমের আলোর মত আমার অপরিষ্কারটুকু
মার্জনা করে নেয়,

সে কোনও এক 'কার' দয়ায় এখনও পাগল হয়ে যাইনি,
সেই কোনও এক 'কেউ' মোজেসের মত মাঝ বরাবর
কেটেছে আমার আত্মহত্যার ইচ্ছে।

তোর কবিতায় নারী শরীরের গন্ধ আছে।

ইতি, সাগর
১লা নভেম্বর, ২০১৫, মুম্বাই




কিছু কথা না হয়
ঝিনুক,
আমি জানি কবিতাগুলো বিশেষ যত্ন করে
আমাকে কেবল ‘ঐটুকু’ কথা জানাবার জন্যে লিখিস।
কিন্তু সম্পর্কের গণ্ডীটুকু ভোলবার নয়-
এভাবে চলবার নয়, চলতে পারে না।

বড্ড ন্যাকা ন্যাকা কবিতা লিখিস-
ইচ্ছে করে তোর দুটো হাত বেঁধে দেই,
ইচ্ছে করে তোকে খুব করে অপমান করি।
তোর সামর্থ্য নেই আমাকে ভালবাসবার
আমি দাম্ভিক ভাবে তোর মুখে ছুঁড়ে মারতে পারি
সুইসাইড নোট।

এই ইট-কাঠে থাকা অভ্যাস হয়ে গেছে আমার,
রোবট হয়ে থাকতে দে।
প্রেমিকার সাথে উদ্দাম যৌনতায়
ভুলে যাচ্ছি অতীত-বর্তমান
ভুলতে দে!
তোর কবিতা থেকে ধান খেতের গন্ধ আসে,
পাখির ডানা ঝাপটানোর গন্ধ আসে,
নদীর ঢেউয়ের গন্ধ আসে...

চাই না এসব, দূরে থাক।

ইতি, সাগর
৫ই জানুয়ারি, ২০১৬, ব্যাঙ্গালোর




অবেলায় যদি
সাগর,
আমার কাছ থেকে ভালোবাসা আর কান্না ধার নিয়েছে কতজন
তোমায় দিলাম ভালো থাকার গল্প,
ভাবলে সুখে আছি?
ভাবলে হিংসে করছি?
ভাবলে পাণিপ্রার্থী?

ফ্রিজে রাখা ভালোবাসা টুকরো টুকরো করে
তুলে এনে অ্যালকোহলের সঙ্গত করি,
সুন্দর গুছিয়ে রাখা পেলব মুখশ্রীর মতন প্রেম নয়,
প্রেম এবড়ো খেবড়ো মেঠো পথ-
চলতে কষ্ট এবং শেষও নেই।

তোমাকে চাই না,
আর চিঠিও লিখবো না,
লিখতে ইচ্ছে করলে ছাতাহীন হয়ে বৃষ্টিতে ভিজব-
আর তোমার কথা মনে পড়লে
সিগারেট খেয়ে নেব।

ইতি, ঝিনুক
১২ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৬, নয়া দিল্লী















বহ্নিশিখা সরকার
Banhisekha Sarkar

Saturday, June 17, 2017

আমরা একটা সিনেমা বানাবো [তৃতীয় ভাগ] - হিয়া মুখার্জী

আমরা একটা সিনেমা বানাবো
৫।
জংগলের মধ্যে কাঠের কেবিন।
তিনজন মানুষ
খুব নিপুণভাবে
তাদের ছায়া পাল্টাপাল্টি
করে নিচ্ছে।
তিনজন মানুষ
খুব নিঁখুতভাবে
তাদের ডানা পাল্টাপাল্টি
করে নিচ্ছে।
এসবের অনেকটা দূরে
ঘুমের মধ্যে
মেরিঅ্যান
একটা হাইওয়ে দেখতে পাচ্ছে
দেখতে পাচ্ছে হাইওয়ে জুড়ে
উঁচু হয়ে থাকা
বিষন্ন মাছের স্তূপ।
আর আসন্ন বিস্ফোরণ
মাথায় রেখে
দরজার পাল্লায়
ওর মায়ের শীর্ণ আঙুল
নীলভাবে
ক্রমাগত
জ্বলে যাচ্ছে।



৬।
সাবানের বিজ্ঞাপন
তার হা হা চুল খুলে
নায়িকাকে
গিলে ফেললো ক্রমশঃ
আর
জলপাই বনের ভিতর
পতপত করতে থাকলো
নিঃঙ্গ
একটা পতাকা।
গ্যালোবার
আমরা গল্পে
তুমুল নিয়নে
ভালোবাসাবাসির কথা
বলেছিলাম।
অথচ
এবারের শীতে
নতুন করে
বলার মত
আর কিছুই নেই
বুঝে
একটা বিশাল উঁচু
সাদা দেওয়ালের
মুখোমুখি দাঁড়িয়ে
আমরা
প্রকৃত দুঃখবোধে
দপদপ করে উঠলাম।




হিয়া মুখার্জী

Hiya Mukherjee

Friday, June 16, 2017

দাঁড়ি, কমা, সেমিকোলন এবং “ভালো থেকো” [প্রথম পর্ব] - বহ্নিশিখা সরকার

দাঁড়ি, কমা, সেমিকোলন এবং “ভালো থেকো”

সাগর আর ঝিনুকের মধ্যে ভালোবাসা নেই। মন্দবাসাও নেই। সাগরের ঝিনুককে ভুলে যাবার দায় নেই, আর ঝিনুকের সাগরকে মনে রাখবার অধিকার নেই। ওরা কেবল জড়িয়ে আছে। বন্ধন নেই আবার মুক্তিও নেই। সাগর ছেলেটি বড্ড কেজো, আমি জানি না যদিও কিন্তু সে এমনটা দাবি করে। ঝিনুক মেয়েটা পাগল, আমি জানি না, সে এমনটা দাবি করে। সাগর কোনও এক কর্পোরেট জঙ্গলে বন্দী আর ঝিনুকের ঠিকানা নেই কোনও।

সাগর আর ঝিনুকের কবে দেখা হয়েছিল জানি না, এই টেকনোলজির যুগেও হুজুগে ওরা চিঠি লেখে। চিঠিতে কেবল কবিতা লেখে, যেগুলো  আমার হাতে পরেছে এসে কোনও ভাবে। তাই দিয়ে দিলাম...

পুরনো কথা
ঝিনুক,
শেষ শ্রাবণ দিন, বেলা ছিল গোধূলি।
    কণে দেখা আলোর রেশমি হিজাব ছিল, ভাগ্যিস!
     নয়ত ধরা পরে যেতো ভাষায় মোড়া রহস্য।

পাখির ডানার ভাঁজে ভাঁজে যে কথা-গান-গল্প
      আজীবন আবডালে থেকে যায়, তেমন গোপন-
ঝড়ের আগের নিস্তব্ধতায় হারিয়ে যায় যেসব কথা
      তেমনটাই আধপাগলা,

অন্ধকারের ঠোঙ্গায় মুড়ে খুব চুপি চুপি
    শেষ শ্রাবণের তেলেভাজা গন্ধ পাঠাব তোমায়
চোখ জড়ানো ঢুলুঢুলু সব পুরনো কথা

ধরা দেবেনা কেউ, কিচ্ছুটি টের পাবেনা কখন্‌
         পুরনো কথার দল তোমার স্বপ্নের
             মেঘবালিকা হয়ে উঠেছে।

ইতি, সাগর
১২ই জুলাই, ২০১৫, মুম্বাই




বারণ
 ডাকনাম ধরে ডেকো না সাগর,
          উত্তাল হয় মাটি।
কাঠ পেন্সিল ইজেল আঁচরে
          ছায়ার শিকড় কাটি।

দিগন্ত জুড়ে ‘আমি’ আমি শুধু
       যতটা ফিরিয়ে দিলে-
তার চেয়ে বেশি ছড়িয়ে দিলাম
       তোমার বুকের নীলে।
ইতি, ঝিনুক
১৪ই জুলাই, ২০১৫, কলকাতা





কেমন যেন
ঝিনুক,
তুই অযুত অক্ষ দ্রাঘিমা দূরে
তবু জানি আজ বর্ষার দিন।
তোর শরীর জড়িয়ে উঠেছে আমার দেওয়া নীল শাড়িটা
সরীসৃপের মত

বাড়িতে বুঝি খিচুরি আর ডিম ভাজা?
আচ্ছা অগোছালো দুয়েক গোছা চুল
তোর কালো টিপটার গা বেয়ে গড়িয়ে গেছে আজ?

খোলা পিঠ তোর অপেক্ষা করে আছে কি
আমার হাতের ছোঁয়া পাবার জন্য?
মিষ্টি স্বাদের লিপ বামে ভেজা ঠোঁট কি
অপেক্ষা করে আমার বেইমান ঠোঁট দুটোর?

আমার এখানে অনেক ঝড়, অনেক বৃষ্টি
রোজ ঝড়, রোজ বৃষ্টি।

ইতি, সাগর
১৫ই আগস্ট, ২০১৫, মুম্বাই




রাগ করেছি বলে
একঘেয়ে কাজে আর অকাজে ব্যস্ত থাকার
ভান করে অনেক লোক ঠকিয়ে ফিরবে
যখন বাড়ি,
মন যখন ভীষণ রকম কফির জন্য
আকুল করবে,
বেইমানের মত তখন প্রশ্ন করবে
- "ধরে রাখবি?"
মুখ ঘুরিয়ে অন্ধকারে বলব,
- "যেতে দেবো"

ইতি, ঝিনুক
১৮ই আগস্ট, ২০১৫, কলকাতা




প্রেমিকার ফোন পেলাম
ঝিনুক,
কাল প্রেমিকার সাথে কথা হল অনেকক্ষণ।
যৌন আলাপ, নগ্ন ছবি আদান প্রদান,
আরও কিছু লং ডিস্টেন্স আদিখ্যেতা।
সে ফোনই করে আর-
চিঠি কেবল তুই লিখিস।

জানি, মুখ বুজে থাকবি কিন্তু
আমি হাল ছেড়ে দিচ্ছি ধীরে ধীরে,
যেমন করে লোকে দীর্ঘশ্বাস ছাড়ে।
প্রেমিকা আমায় অনেক কিছু হতে বলে
কিন্তু আমি আর 'আমি' ছাড়া আর কিছুই
হয়ে উঠতে পারি না।

হোঁচট খাব, পরেও যাবো তবু চলা থামাবো না
ওকে যে বড্ড ভালোবাসি।
ও যে রোজ মাঝ রাতে মাথায় সিঁদুর নিয়ে
আমার স্বপ্নে আসে।
কাল রাতে রবীন্দ্রনাথের 'বাঁশীওয়ালা' পড়ছিলাম।
  
সদ্য হামাগুড়ি দিয়ে ভালবাসতে শিখছি,
আমার প্রেমিকা বহুকালের পরিব্রাজিকা।
এক ছুটে চলে যেতে ইচ্ছে করে কিন্তু
আমার যে বড্ড ঘুম পায়,
স্বপ্নে কেবল প্রেমিকাকে দেখতে ইচ্ছে করে-
আবার নতুন কোনও রকম ভাবে।

ইতি, সাগর
২০শে সেপ্টেম্বর, ২০১৫, মুম্বাই

(ক্রমশঃ)













বহ্নিশিখা সরকার
Banhisekha Sarkar

Tuesday, June 6, 2017

রোহিণীর সাথে, এই ত্রিশ বত্রিশ বছরে... : দীপ শেখর

রোহিণীর সাথে, এই ত্রিশ বত্রিশ বছরে... 





কাল রাতে লম্পট বৃষ্টিটা পড়লে বুঝলাম
প্রেমের দালালটা আবার ধরবে ধরবে করছে, টাকা চাইবে
চাঁদের জ্বর প্রায় একশো এক, জ্যোৎস্নার ঘরে বাবু নেই
আমি কাল রাতের ঐ নীল শাড়ি পড়া মেয়েটির কাছে আশ্রয় চাইবো, ডাকবো রোহিণী, বেঁচে যাবো।


ভালোবাসা নয়, ভালোবাসার আত্মারাই সবথেকে সহজে ভালোবাসে
এসব বুঝে আমি প্রেমিকের আত্মাটা নিয়ে খানিক নাড়াচাড়া করেছি কাল দুপুরে
আমার পুরনো জীবনকে এখন ট্রাঙ্ক থেকে বার করে নিয়ে আসতে হবে
হৃদয়কে বৃষ্টি ভেজানোর কোনও উপায় জানা আছে কি এ দেশের আইন-ব্যবস্থার?

Sunday, May 28, 2017

ফাঁকা বরাবর : জ্যোতির্ময় বিশ্বাস

ফাঁকা বরাবর


ক.

আমার আজকাল কিছুই অভ্যাস হচ্ছে না
শেষ হয়েছিলে তুমি

তুমি, শেষ হয়েছিলে।




খ.

যে ফাঁকায় গড়ে উঠলো ঘরবাড়ি
দেহ, পিরীতি, তুমি, তোমরা ইত্যাদি
আমি
সে তীর্থ কি ফেরৎ পাবো!

পাবোনা তো। জানি।



Tuesday, May 23, 2017

তিনটি কবিতা : শানু চৌধুরী

ভাগাড়
হেঁটে যাই পথের বুকে
ভাগাড় দেখে ফেলি চোখের পর্দায়

ময়লা স্তুপে ধ্যানস্থ শিশু
সদ্যোজাত খেলনার ভাঙা টুকরো

অস্বাস্থ্য ব্যাঞ্জো বাজবার পথে
রোজ অজানা উচ্ছিষ্টের  লড়াই

সব্জি কাটা হয় ন্যুব্জ হওয়া ঘরে
উনুনের পাশে জ্বলন্ত পেট

শকুন নেই এই শহরে
ছিনিয়ে নেওয়ার প্রতিদ্বন্দ্বী নালার ভ্রুনে

বুলডোজার লক্ষ ইতিহাস ফেলে
ইতরের দিকে ঝড়ের ইঙ্গিত রেখে যায়



ঘষা কাঁচ
এই ঘষা কাঁচের বর্ডারে
আমাদের বাষ্পের ক্লাস

ধ্রুপদী শব্দের ভিতর হারিয়ে যাই
যখন ছোটদের সিনেমা ভিজে যায়

রাস্তা, স্যাঁতসেঁতে রংরুট
সমস্ত স্বপ্নবাড়ির চুপিসার

আদর করছে শরীর বৃষ্টিকে?

কফিকাপ কতটা দূরে পড়ে আছে
কান্না ভাগাভাগির পর

জানালার  পর্দা ওড়ার নেশায়
যেটুকু নশিন


Sunday, May 21, 2017

তিনটে লেখা : দীপঙ্কর লাল ঝা

ধানচাল
ধান দেবেন, চাল দেবেন
পাখি দেবেন দু একটা
নাম দেবেন শীঘ্র
থালায় মেলে দেবেন কিচিরমিচির
আমার ঘরে বারান্দা নেই, তাই বলে গরম দেবেন না
নখের আওয়াজে বিভোর হই
এমন একটা অসুস্থতা আমারও আছে
কানের ভেতর আমরা ধীরে ধীরে ডিমে তাপ দেবো
মাথা ফুরিয়ে যাবে
আর সেদিকে অল্প অল্প করে মশার উত্তাপ নিতে নিতে
আমাদের হাড় জল হয়ে গেছে
এমন একটা মশলা কেউ এই মুহূর্তে আবিষ্কার করেনা
যাতে একটা সুস্বাদু সুপ হতে পারি,
এই নিয়ে
বালে ছাল, ছালে বাল
কসাই বলেছে, না করতে নেই
ধুকপুক ধুকপুক একটা সূর্য চাই
এসো আচার হয়ে শুয়ে পরি
টকটক নৌকায়।


Tuesday, May 16, 2017

দু'টো ও দুমুঠো - একটি সিরিজ : সুমন সাধু

দু'টো ও দুমুঠো (১)
বিপরীত আদেখলা সব জমি ছেড়ে দিচ্ছে
অবাক দূরন্ত রাস্তায় দাগ কাটছে আদর আদর মাস
আমাদের সবটুকু নিয়ে এই সা রে গা মা,
দিন শেষের ব্যথার কিনার,
যথোপযুক্ত আছে সবই।
সবই নতুন চাদরের আবেশ,
ঠাসা ঠাসা বই সব, উপসর্গহীন সাদা।
সেইখানে শব্দের মলিন জমা হয়;
আমরা বুঝি দু'টো ও দুমুঠো

আমরা এখন অবোধ শিশু
যাপন করি ধুলো।



দু'টো ও দুমুঠো (২)
এই মন্থর গতি আমাদের চিনতে শিখিয়েছে-
টানা টানা লিখে চলা সুদীর্ঘ গদ্য কলম।
সেভাবে রেখো না হাত
এভাবে মেখো না রোদ
 কবিতার হেমন্তগুচ্ছ নিয়ে এসো আমাদের ঘরে
খাদ্য শষ্য বীজ নিয়ে এসো

ঘরোয়া জ্বর বুঝে নিক কোন এক আট বছর।
অথবা আট বছর আগের একদিন
দিনান্তে বাড়ি ফিরব সবাই
অঘ্রাণের ধান ফুটবে আসমানি কোটরে

চলতি পথ ফিরতি ধুলোয়
একে অপরের পরিপূরক হচ্ছে এ যাত্রা।


Saturday, May 13, 2017

তিনটি লেখায় : সুপ্রিয় চন্দ

অবস্থান
ত্রয়োদশীতে কথা খুব অল্প।
খুব আস্তে আস্তে নিঝুম হতে হয় এসময়,
বাইরের লম্বা রাস্তায়
ধীরে ধীরে সেরে উঠছে সমস্ত চাঁদের আলো
         উলটো দিক থেকে ওষুধবদ্যিকে মনে রেখে
কয়েকটা গাছ নিজেদেরকেই বড়ো করে সাজিয়ে তুলছে

ঘটনাগুলো পড়ে থাকছে এই রাস্তাটাতেই
যেটা আমরা দেখলাম এযাবৎ
                     পাশ দিয়েই চলে গেছে সব ধোঁয়া
যে পথে রওনা হয়েছ তুমি



যেটুকু বলা যায়
অস্ত নেমে আসছে    দূরের সব বিচারে
সংশোধনী প্রস্তাবে
সায় দিচ্ছে না কেউ কেউ
ঢলে পড়ছে সূর্য ক্রমশঃ
কোনরকম পাহাড় এখনো পর্যন্ত      অনুপস্থিত
ওপর ওপর হাঁটি
ভেতরে আসি না  আমি বহুদিন
ভেতরটা ভর্তি ছিল এতকাল


Monday, May 8, 2017

চারটি কবিতা : অরিন্দম ভাদুড়ি

হিংসে
শিরশিরানি হাওয়ায় সোয়েটার খোলা শীত-
হগ মার্কেটের সামনে হরেক সামগ্রীর সওদা!
খেলনা, আমি, আবেগ...
খরিদ্দার তুই আর বসন্ত।

চেনা মোমোর দোকান শেষে গুঁড়ো দুধের কফি,
ভিখারীর আশীর্বাদে হাসিমুখ, সেলফি!

চারিদিকে ছড়িয়ে থাকা জোড়ায় জোড়ায় অভিশাপ-
‘বাজ পড়ুক এই বসন্তে’


Saturday, May 6, 2017

সত্যম ভট্টাচার্য-এর কয়েকটি কবিতা

কয়েকটি কবিতা

এক।
লোকটার কোন স্বপ্ন ছিল না। শুধু বালির পর বালি আর চড়ার পর চড়া। সবাই বলে নদী কোথায় নদী? পদচিহ্ন চলে গেছে নিরুদ্দেশের দিকে। ভাঙ্গা নাও তার...


দুই।
কিছু অচেনা পাখি এসে বসেছে জলার ধারে। কোন দেশ থেকে উড়ে তারা এসেছে জানেনা কেউ। সমস্ত সম্পর্কেরই হয়তো একটি নির্দিষ্ট গতিপথ থাকে। কে তাকে আটকাবে বলো? পুরোনো প্রেমিকার কথা ভাসছে নদীর জলে...


Thursday, April 27, 2017

পুরো – পুরী (৬-৯) : শুভ আঢ্য

পুরো – পুরী

চুরি হওয়া পার্সে লোকটাই, একটা ছুটির স্টল

সেই দিনেকানা লোকটার
সমুদ্র মানে সন্ধের ভাজামাছ আর দারু

চানে উঠে আসছে একটা জেডব্ল্যাক থ্রি কোয়ার্টার
আর হলদে টপ, মেয়েটা সাসপেন্স লেখার সময়
চুলে বালি নিয়ে পুরে দিচ্ছে পরকীয়া,
ফরেন লিকারে

তার পর যা হয়!

বন্ধের পর কথা, দাওয়ার পর খাওয়া

একটা বিবাহিত মহিলা হিতাহিত জ্ঞানশূন্য হয়ে
প্রেমের কথা ভাবছে আরেকটা
অন্তর্কলহের পর ঠাণ্ডা হওয়া চিকেনের
লেগপিস দেখতে দেখতে, চোখ হচ্ছে লোকটার
গ্রেনেড আসার সময় বিচ জুড়ে অ্যাচিভমেন্ট

ব্যর্থকাম কাঁকড়া আরেকটা
ফাইটের জন্য তৈরী হবার আগেই
বুকে লাগা যুদ্ধফুল, শান্তি পাচ্ছে



আমি দেখতে পাচ্ছি মিউট হয়ে যাওয়া
একতা পরিবার পালন করছে ছুটি
সেখানে বারমুডাগুলো ঘোরাঘুরি করছে পাড় বরাবর

একটা ঘরের বউ সবেমাত্র প্যালাজো পরে
রাস্তায় নামল হাত থেকে শাঁখা মুছে
পরস্ত্রী দেখে চোখ জন্মাচ্ছে গৃহস্থের আর
আমিষফুলে জেগে উঠছে হোটেল বিছানা

আমি দেখতে পাচ্ছি সেই বউ চান করার সময়
ভুলে যাচ্ছে মাসিকের কথা, রান্নাচড়ানো ওপেন কিচেন

আর সমুদ্র মনে করিয়ে দিচ্ছে তার বাবাও
তার মাকে নিয়ে সাতাত্তরের মার্চে
করেছিল এমনটাই


Wednesday, April 26, 2017

সেলুন এবং স্বাধীনতা দিবস - রঙ্গন রায়

সেলুন এবং স্বাধীনতা দিবস

প্রথম দৃশ্য
চোচা চলে এসে দাঁড় করালাম সাইকেল। ফাঁকা বসে আছে রামদা। রামদা কোনদিন হাতে 'রামদা' তুলে এগিয়ে এলেও ওকে মানাবে না। সবাইকে সবকিছু মানায়না। এবার প্রস্তুতিপর্ব শেষ। চেয়ারের হাতলে গদির চামড়ার ফাটল বরাবর বেরিয়ে এসেছে হলুদ রঙের স্পঞ্জ, চশমাটা খুলে বসতে গিয়েই চোখে পড়লো সেই স্পঞ্জের গায়ে লেগে আছে কিছু গুড়িগুড়ি চুল। চশমা খুললে অনেক কিছু দেখা যায় এমন একটা কথা মাথায় চিন্তা করতে করতে 'ঝুপ' করে ভুলে গেলাম আমার সাইকেল চলাকালীন মানসিক প্র্যাকটিসের কথা। কি কাটিংয়ে চুলটা কাটতে দেব। কি কাটিংয়ে চুলটা কাটতে দেব?

দ্বিতীয় দৃশ্য
অগত্যা রামদা ছিটিয়ে দিল জলের স্প্রে। তারপর চিরুনি - কাঁচি। আমার ঝরে পড়া চুলগুলোর আনুমানিক বয়স ১৩ বছর্। ১৩ তো আনলাকি বরাবর? জলের চাপে জমাট বাঁধা টুকরো টুকরো চুলের গোছা পড়ে আমার সাময়িকভাবে পাওয়া সাদা রঙের অ্যাপ্রনটা কালচে হয়ে যাচ্ছে। অনেকক্ষণ ধরে নিজেকে পর্যবেক্ষণ করার মোক্ষম সময় এই চুল কাটার দিনগুলি। চোখের তলে কালি পড়েছে, গালে একটা ব্রণ, থুতনির কাছে একটা ছোট্ট তিল, চোখের কোনে এখনো কাতর রয়ে গেছে... শেভিঙ ক্রিমের দাপটে আমার মুখটা এবার ভরে উঠলো। অত্যন্ত নিখুঁত শিল্পীর মত ব্রণ বাঁচিয়ে ক্ষুর চালাচ্ছে রামদা। হাত একটু কাঁপছে কি? ক্ষুর গলায় নেমে এলো। ফেনা গুলো হাতের চেটোয় জমিয়ে রাখছে রামদা। আবার হাত চালাচ্ছে, এত কাঁপছে যে আমার সমস্ত কিছু কেঁপে উঠছে। আর এই কাঁপুনিতে আমার করোটির সমস্ত ঘিলু কুলকুল করে মনে করিয়ে দিলো আমার ভেবে আসা চুলের কাটিং টা, কিন্তু ততক্ষণে আমার চুলের জন্মান্তর শুরু হয়ে গিয়েছে। হাতের চেটোয় জমিয়ে রাখা ফেনায় দাড়ির অংশবিশেষ লক্ষ্য করতে করতে রামদা সেটা চেঁছে রেখে দিচ্ছে একটা ক্রিমের কৌটোর মুটকিতে। ফিটকিরিতে যে কয়েকটা ছোটছোট দাড়ির কুচি তা আমার গালের স্পর্শে চিড়বিড় করে উঠলো, ঠিক তখনই সকালের স্বচ্ছ সেলুনে দ্বিতীয় কাস্টোমারের প্রবেশ।