Showing posts with label Story. Show all posts
Showing posts with label Story. Show all posts

Tuesday, March 14, 2017

একটি শিকারকাহিনি-র শেষ পর্ব : সর্বজিৎ ঘোষ

একটি শিকারকাহিনি-শেষ পর্ব

কল্কিকথা
প্রথম প্রথম সারাদিন একটা ঘরে নিজেকে আটকে রেখেছে অনিমেষ। আশ্চর্য হয়ে সে অনুভব করেছে, ক্রমশ খিদের ভাব চলে যাচ্ছে তার, চলে যাচ্ছে ঘুম। এমনকি আগুনে তার হাত পুড়ছে না, খোলা তারে হাত দিলে ঝটকা খাচ্ছে না। তার কুঁচকিতে যে প্রচুর চুলকানির দাগড়া দাগড়া ছোপ ছিল, রক্ত গড়াতো আর ইস্কুলে সাদা প্যান্টে সেই দাগ দেখে হেসেছিল আর চাঁটি মেরেছিল ক্লাস ফাইভের কিছু নিষ্পাপ শিশু, সেসব চুলকে আর তার আরাম হয় না। ঘড়ি ধরে একবার দম আটকে রেখেছিল, তিনশো ছাপান্ন ঘন্টা বাহান্ন মিনিট উনতিরিশ সেকেন্ড পর একঘেয়ে লাগায় বিরক্ত হয়ে দম নিতে শুরু করে আবার। এসবের মধ্যে কাজের কথা একটাই, ঘুম না হলেও ঘুম তার পাচ্ছিলই, পেয়েই চলেছিল। যাবতীয় সময় তার কেবল ঘুম পেতে থেকেছে, কিংবা এই গোটাটা, এই যাবতীয় ঘর-ঘুম-আগুন-নিঃশ্বাস সবই এক ঘুমের মধ্যে ভাবতে থাকা যে এবারেরটা অন্তত স্বপ্ন নয়, এইতো যা হচ্ছে সত্যিই হচ্ছে, এরকমই তো হয়...
কেবল এই ঘুম পাওয়ার বিরক্তিতেই বাইরে এসেছিল অনিমেষ। সময়ের হিসেব ছেড়ে দেওয়ার পর থেকে, তার কেবল মনে পড়ে নিজেকে সে শুয়ে থাকতে দেখেছে, প্রবল ঘুমে চোখ বুজে আসতে দেখেছে, অথচ ঘুমোতে দেখেনি। এখানেই মনে পড়ে, সে যেন কীভাবে নিজেকে দেখে চলেছে, যেন একটু দূরে দাঁড়িয়ে, ছোলাভাজা চিবোতে চিবোতে তার মনে হচ্ছে নিজেকে দেখে গাড়ল ও প্রতিভাবান, নিজেকে শুয়োরের বাচ্চা বলে সে গাল দিচ্ছে এবং ভাবছে এই শটটা খানিক অল্প চিপ করে মারতে হতো, কিংবা গাল দেওয়াও আসলে তার ভান, তার আদতে কিছুই যায় আসে না। সুতরাং প্রবল ঘুমের তাড়নায় অনিমেষ মনে করতে পারেনি, সে কীভাবে ভাসতে শিখেছিল বাতাসে, মনে করবার কথাই মনে পড়েনি তার। কেবল বাইরে এসে অনিমেষের মনে হয়েছিল, খানিক সর্ষের তেল পেলে চোখে ডলে দেখতে পারে সে, যদি ঘুম পাওয়া থেমে যায়।
সুতরাং সেসময়ে সারা পৃথিবীর কাজ চলেছিল একেবারেই নিজের নিজের তালে, যা যা চলা থামিয়েছিল সেও কেবল তখন তাদের থামার কথা ছিল বলেই। এককথায়, সবই পূর্বনির্ধারিত বলে অনিমেষ ভেবেছিল, এবং তার ভাবনা দিয়েই এরপর থেকে সব প্যাঁচ খেলা হবে। অনিমেষ ঘুমচোখে চলে গিয়েছিল বাসস্ট্যান্ডে, আর বাসে উঠে খেয়াল করেছিল এখানে সর্ষের তেল পাওয়া যায় না এবং এখানে বড় ভিড়। 'ঘুম পাচ্ছে', একঘেয়ে গলায় সে বলেছিল। কেউ তার কথা শোনেনি, বরং পাশের মেয়েটি তার দিকে কড়া চোখে তাকিয়েছিল, ঢুলন্ত অনিমেষ তার গায়ে ঢলে পড়েছিল বলে। ঠিক সেইমুহূর্তে অনিমেষ প্রথম রাগতে দ্যাখে নিজেকে। এমনিতেই তার মনে হতো এতদিন ধরে, রাস্তায় যে কোনো পাঁচজন মানুষকে চড় মারলে ষষ্ঠজন তোমায় যেচে এসে পাঁচটাকা দিয়ে যাবে, এভাবে কত রাত সে কেবল ব্যথার হাতে বোরোলিন লাগিয়ে কাটিয়েছে, আর সেসব রাগ তার মাথায় চড়ে গেল মেয়েটিকে কড়া চোখে তাকাতে দেখে। অনিমেষ ভীষণ জোরে চকাস শব্দে মেয়েটির ঠোঁটে চুমু খায়, দুহাতে মেয়েটির মাথা চেপে ধরে, এবং আরেকটি চুমু খাওয়ার আগে যখন মেয়েটি মোচড়ামুচড়ি করছে আর বাসের লোকেরা চকিত হয়ে মজা দেখছে, অনিমেষ বলে, এক্ষুণি চাইলে দুচোখে আঙুল ঢুকিয়ে দিতাম, কিংবা ন্যাংটো করলে তো দেখব সেই এক বিচ্ছিরি দলা দলা মাংস, অতএব জামা পরিয়েই যে চুমু খাচ্ছি এতে খুশি হও মেয়ে। এখন, এতসব কথা অনিমেষ মুখে উচ্চারণ করেনি, বাসের মানুষ তাকে প্রচণ্ড হইহট্টগোলে ঢেকে ফেলছিল বলে তার বিরক্ত লাগতে শুরু করে, সে লহমায় দেখতে পায় ইঞ্জিনের উপর মলয় নামের সাদা বেড়ালটি, এবং অনিমেষ উচ্চারণ করে

Saturday, March 4, 2017

মনোলগ : ০৬/০১/২০১৭ - রঙ্গন রায়

মনোলগ : ০৬/০১/২০১৭

"এবং আরো কিছু ভুল করবার জন্য আমাকে আরো কিছুকাল থেকে যেতে হবে!"
-      রতন দাশ

আমি নিজের মত এঁকে নিতে পারবো। ভুল হলে হবে। তবুও তো নিজের মতো। অদ্রিজার আঁকা পোর্ট্রটে আমি শুধু পার্টিকুলার কোন এক জনের মুখের সমস্ত রেখা লক্ষ্য করতে পারবো, কিন্তু নিজের মত নয়। যেভাবে অদ্রিজা দেখাবে ওভাবেই দেখতে বাধ্য। আমি নিজের মত দেখতে চাইছি, হয়তো আমার ইচ্ছা হলো পুজার দীর্ঘ চুল বাঁধার ছবিটাতে চুলগুলো এলোমেলো হোক - ঘাড় ও গলার পাশ দিয়ে নেমে আসুক বা ভেজা চুল পাতলা পিঠে ভারী ভাবে লেপ্টে আছে - চোখের পাতায় তিরতির করছে বৃষ্টির জলনাহ্! এসব আমাকেই আঁকতে হবে। কেউ আমায় সন্তুষ্ট করতে পারলোনা, সম্ভব নয়। ইজেল, ক্যানভাস ভেঙেচুরে এইসব আঁকিবুকি অনিবার্য ভাবে আমারই জন্য

এই সেদিনও আমি 'কালাশনিকভ'এর মানে জানতামনা। যখন জানলাম তখন থেকেই মাথার ভিতর শুধু একটাই ধুন "কালাশনিকভ - কালাশনিকভ"... কি যে এক অদ্ভুত ধূন জানিনা। এরকম হয়। অনেকেরই হয়তো হয়। আমারও আগে হয়েছে। অথচ দ্যাখো AK 47 আমি বাঁটুল দি গ্রেট থেকেই শুনে আসছি। কালাশনিকভ কে আমি আমার মত করে কিছু একটা ভেবে নিয়েছিলাম। সেটাও এখন মনে পড়ছেনা।

Tuesday, February 28, 2017

“Everything I told you before is a lie” - একটি দেবীপক্ষের Travelogue : রাজর্ষি মজুমদার

“Everything I told you before is a lie” - একটি দেবীপক্ষের Travelogue


যে মেয়েটি কাফকা অন দ্য শোর পড়ছিল সে ধানবাদে নেমে গেছে আমাদের কামরার প্রত্যেকের ব্যক্তিগত চাউনিগুলো আমি ঢুকিয়ে রাখছি একটা বাক্সে চিন্তা হচ্ছে জামাকাপড়ের জন্যআশ্বিন শেষের ভরা একটা রোদ এখন রেলের জানালায়। এই আলো, এই জানালা, নীল রঙ মাখানো হাত সব রেলের। একটা একটা করে দৃশ্যকল্প, একটা একটা করে কথা সরে যাচ্ছে , সরে যাচ্ছে আমার Dissertation শুখা মাঠ, ছিরিছাঁদহীন বাড়ি ঘর দোর পেরোতে পেরোতে প্রশ্ন জাগছেএরা কি সমকামকে স্বীকৃতি দেবে?

একটু পরে সূর্যাস্ত দেখব – কোডারমার ধাপে ধাপে নেমে আসা জঙ্গল, ধূসর পাথুরে খাদের ওপর জেগে থাকা বৌদ্ধ বিহারের ছবি তুলে রাখতেই হবে আমায়। এসব ছবি কাজে লাগবে লেখার সময়, দিন এগারো পরে এ বিকেল পড়ে আসার ঘটনা নিয়ে লিখতে বসে।
মাঝে মাঝে স্বপ্ন আর সিনেমা ছাড়া লেখাতেও আমরা সময়কে সম্প্রসারিত করতে পারি বোধ হয়? এই পারাটা আসলে পাঠকনির্ভর। স্বপ্ন আমরাই তৈরী করি , আমরা সিনেমাও তৈরী করতে পারি। কিন্তু পাঠক ছাড়া বোধহয় লেখা তৈরী হয়না।  
এই যেমন এ লেখা লিখতে লিখে আমার কাছে সময় অনেকগুলি অস্তিত্ব হয়ে ঘোরাফেরা করছে। হয়ত পাঠক বেছে নেবেন তার মধ্যে একটা – লেখাটার একটা নতুন সময় তৈরী করবেন তিনি। এসব ভাবতে লিখতে একটা ফ্লেক ধরাচ্ছি আমি, ধোঁওয়াটুকু ছাড়ছি দশদিন আগের সময়ে  – যেখানে আমি আদিত্য আর শ্রীরাগ টিনের টেবিলটার ওপর পা তুলে দিয়ে সিগারেট টানছি চেয়ারগুলো পেছনের দিকে ঝুঁকে গেছে, বাইরে একটা পাতাও নড়ছেনা এমন গরম। আদিত্য ওর Dissertation এর কাজটা নিয়ে বলছিল – cinema তে  time and space এর ব্যবহার স্বভাবতই আমার কথায় তারকোভস্কি চলে এলেন ... তার ওই হালকা নীল টোনের আকাশে মিশে যাওয়া জনারের ক্ষেত , বেড়ার ওপর সিগারেট ফুঁকতে থাকা মারিয়াকে নিয়েজঙ্গলের সেই গাছগুলোর জ্যামিতি বা বরফের ওপর ডাঁই করে রাখা কাঠের ভিস্যুয়াল থেকে একটা পাপিয়ার ডাক ছুটে চলে এল নদীতীরে। সেখানে নগ্ন প্যাগান মেয়েটি চোখ দিয়ে প্রশ্ন ছুড়ে দিচ্ছে – “ What sin? Tonight is for lovemaking; is love a sin? ”  
তাকে নিয়ে আমার আজ নদীতে যাবার কথা  

সিগারেটটা ঘুরছিল টেবিলের চারদিকে – হাতে হাতে। ঠিক এইসময়ই আমার মুখের কথা কেড়ে নিয়ে শ্রীরাগ বলে ওঠে – “ He was a magician. By his works he just said all the Soviet montage movement filmmakers that – “You guys just … just fuck of! Film is not all about theories, technicality, cutting. It’s about playing with time and space.”

Thursday, February 16, 2017

ঋপন ফিও একটা গল্প ভেবেছে

ঋপন ফিও একটা গল্প ভেবেছে

তো এক দেশের মানুষ ভাত খেতে ভালবাসত আকাল পড়ার আগে। আকাল পড়ায় অগত্যা বাধ্য হয়ে মকাই। প্রথম প্রথম গলা দিয়ে নামতে না চাইলেও আস্তে আস্তে সয়ে গেল। তারপর এল সেই মোক্ষম দিন। খেতে বসা সন্তানের করুণ মুখের দিকে চেয়ে থাকা এক জর্জরে মা আনমনে বলে উঠল~ বালের ভাত, মকাই ঢের ভাল... আর কি, একজন একজন করে এবার সবাই গুণ গাইতে শুরু করল মকাই এর। ধীরে ধীরে দেশের মানুষ ভুলেই গেল ভাতের স্বাদ। শুধু একজন পারল না কিছুতেই। ডাইনী সন্দেহে তাকে পিটিয়ে মারার আগে অব্দি পাতে মকাই নিয়ে বসে সে শুধু ভাতের কথা ভাবত।
















ঋপন ফিও
Reepan Fio

Tuesday, February 14, 2017

কয়েকটি কুকুরের চিৎকার : সুমন মজুমদার

কয়েকটি কুকুরের চিৎকার

তীর্থ ট্রেনে বাড়ি ফিরছিল। সকালে বেরিয়েছে দুই-তিনটে জায়গা ঘুরে, বেশ অনেকগুলো তামাক খেয়ে বেশ হাবুডুবু হয়েই ট্রেনে উঠেছিল শিয়ালদা থেকে। দশটা তিরিশের বনগাঁ লোকাল, এই নামে একটা সিনেমাও হয়ে গেছে বোধহয়। এসময় ভীড় থাকার কথা নয়, বসার সিট অন্তত পাওয়া যায়, যুদ্ধ না করেই। তীর্থ সিনেমা দেখতে ভালোবাসে, তবে আজকাল বিশেষত ডিসকভারি এবং ট্রেভেল চ্যানেল-ই সে দেখে। কি সুন্দর দেখায় চায়না অথবা ইস্টার্ন এশিয়া। সবুজ ল্যান্ডস্কেপের মধ্যে সুন্দর হাসিমুখের মানুষ তাদের রঙ বেরং এর খাবার, জামাকাপড়। তীর্থ ঠিক করে রেখেছে যে সে এশিয়ার এই দেশগুলোয় একবার অন্তত যাবেই। আজকাল এমনকিছু কঠিন খরচপাতি-ও পড়েনা। দুবার কাসৌল যাবার পয়সা জমাতে পারলেই যাওয়া যায়।

তীর্থর তামাক খেয়ে নেশা হয়ে গেলে চশমাটা ভারি লাগতে থাকে, এসময় তার সন্দেহ হয় চোখের পাওয়ার কমে গেছে কিনা, অথবা তীর্থ মনে মনে ঠিক করে আগামী চশমাটা ফাইবার-এর বানাবে। কাঁচের ওজন ভারি। তীর্থর মনে হয় যেন চশমা পরে থাকার ফলে সে আশেপাশে কিচ্ছু দেখতে পাচ্ছেনা, এ সময় মাথা ভারি লাগে, চোখ অন্ধকার হয়ে আসে। তীর্থ নিজেকে সামলে ফেলে এই সময়গুলোতে। চশমা খুলে ফেলে, গভীর শ্বাস নেয়। বেশি বাড়াবাড়ি হলে চোখে জল ছেটায়। অনেকদিন আগে ডাক্তার লো-প্রেশারের কথা বলেছিল, সেটাও একবার মনে পড়ে যায়।

Monday, February 6, 2017

একটি শিকারকাহিনি : সর্বজিৎ ঘোষ

একটি শিকারকাহিনি

মলয় নামের সাদা বেড়ালটিকে যখন বসে থাকতে প্রথম দ্যাখে অনিমেষতখন সে ছিল একটা অটোতে।

এখানে এসে প্রথমবারের মতো গল্পটা একটা লাল ঘরে ঢুকে যায়। লাল ঘরের আলো ছিল নরম লালআসলে লাল ঘরটা ছিল গোলাপের দুই পাঁপড়ির ভিতর গভীরে কোন এক বিন্দুতে আলম্বিত। সেই লাল ঘরের মেঝেও হওয়া উচিৎ লালকিন্তু অনিমেষ লাল মেঝের ঘর শেষ দেখেছিল তার মামাবাড়িতেদোতলার পুব দিকের ঘরটায়। সেই লাল ঘরেই মামা মামির ফুলশয্যে হয়অনিমেষ তখন বছর বারোর। মামির ছেলে মেয়ে হয়নিমামি ছিল ভীষণ মোটামামি দুপুরবেলা একা একা ভুল বকতে বকতে কখনো পড়ে যেত সেই লাল ঘরের মেঝে ফুঁড়েগোলাপের দুই পাঁপড়ির মাঝের ঘরটায় এসে পড়তোতার পর আরো আরো গভীরেঠান্ডা বেরঙ অন্ধকারে ভেসে পড়তোযেন নীচ থেকে লক্ষ লক্ষ হাত মামিকে ম্যাজিক করে হাওয়ায় ভাসিয়ে রাখছেম্যাজিশিয়ানদের হাত অল্প অল্প নড়ছেভীষণ লাল একটা কিছু ঢেউয়ের মতো লকলক করছে চারদিকে ঘিরে। মামা রাতে অফিস থেকে ফিরে মামিকে খুঁজে পেত নাচিলছাদে গিয়ে খিদে পেটে ঘুমিয়ে পড়তো। মামির পোষা দুটো বেড়াল ছিলযাদের একটা ছিল সাদার মধ্যে বাদামী ছোপছোপ। সেটা ছিল খুব রোগামানুষ হলে নিমাই বলে আওয়াজ খেতো এমন রোগাসেটা একগাদা বাচ্চা দিয়েছিল একবার। সেসব বেড়ালদের মধ্যে কারো নাম মলয় ছিল না বলেই অনিমেষের ধারণা।

Wednesday, November 30, 2016

হরকরাকে লেখা চিঠি : সর্বজিৎ ঘোষ

হরকরাকে লেখা চিঠি

রাস্তা পেরোতে গিয়ে শ্যামলালের হঠাৎ মনে হল, তাকে নিয়ে কেউ কোনোদিন কবিতা লিখবে না। অথচ ছোট্টো সবুজ বিন্দুজীব যে মানুষটি দপদপ করে বলতে থাকে আর কতক্ষণ, সে ক্রমশ এগিয়ে যাচ্ছিলো লালে। শ্যামলালের মনে হল সে তাকে বলছে, ওহে শ্যামলাল, এই যে কুড়ি লক্ষ ত্রিশ হাজার পাঁচশো সাতাশিতম বার তুমি সফলভাবে রাস্তা পেরোলে, এবং প্রত্যেক মৌলিক সংখ্যকবারে পেরোতে গিয়ে যে তুমি গাড়ি চাপা পড়তে পড়তে বেঁচে যাও, (আহা সে বাঁচা তুমি জানবে না; অঙ্কে কাঁচা)... শ্যামলাল শুনতে পেলোনা বাকিটা। হয়তো সে বলতো শ্যামলাল জানে না রাস্তা পেরিয়ে আসলে সে কোথায় যাচ্ছে, বা রাস্তা সে আদৌ পেরোতে পেরেছে কিনা, যেভাবে শ্যামলাল জানে না এখন সে কোথা থেকে ফিরছে। শ্যামলালের মনে হয়েছিল সে বেরচ্ছে তার ইউনিভার্সিটি থেকে, শেষ ক্লাস ফাঁকি দিয়ে সে খুঁজতে গিয়েছিল এক জলে ভেজা দাঁড়কাক, যে আসলে ভেজার ভান করে পালক ঝাড়ছিল। কিন্তু, এও তো সমানভাবে সত্যি, শ্যামলাল যে রাস্তা পেরোচ্ছিল তার এপারে ছিল প্রাচীন লাল এক সরকারি অফিস, যার লিফটের দড়ি দিয়ে খুব ভালো ফাঁসি হয়, শ্যামলাল ভেবেছিল। যেমন শ্যামলাল এও জেনেছিল, নীলদর্পণ নাটকে এক কুখ্যাত চাবুকের নাম শ্যামলাল এবং তার নিজের কোমরে ছিল প্রাগৈতিহাসিক এক দাদ, যে দাদ তার মনের সব কথা বুঝতো বিনা ভাষায়।

রাস্তায় অন্ধকার হয়ে আসছিল, ভেজা ছিল রাস্তা, অথবা তীব্র দুপুরের মরীচিকায় রাস্তা হয়ে উঠেছিল সবুজ কোনো শস্যক্ষেত। শ্যামলাল বিড়ি ধরিয়েছিল একটি, এবং তার মনে পড়েছিল কবিতার কথা। শ্যামলাল তো জানতো, মহাপ্রলয়ের সময়ে নৌকায় যে পাঁচটি কবিতা নিয়ে উঠতে পারবে শ্যামলী, তার মধ্যে শেষতম কবিতাটি স্বয়ং শ্যামলালের। যদিও সেই কবিতাটি শ্যামলাল এখনো লিখে উঠতে পারেনি, কারণ শ্যামলীকে এখনো সে চেনে না, চিনলেই জিজ্ঞেস করে নেবে সে কেমন কবিতা শ্যামলীর পছন্দ, কিংবা কবিতার বদলে শ্যামলী চায় কিনা একফালি ছায়া ও রোদ্দুরঘাস জমি। অথচ, শ্যামলাল ভাবে, কেউ তাকে নিয়ে কবিতা লিখবে না কোনোদিন। আজকের এই ট্রাফিক সিগনালে শ্যামলালের তো দাঁড়ানোর কথা ছিল না; যেভাবে হিজড়েরা শাড়ি তুলে অন্ধকার দেখানোর ভয় দেখিয়ে টাকা নেয়, শ্যামলাল যেন দাঁড়াচ্ছে গিয়ে প্রতিটি সিগনালে, এভাবেই চেয়ে যাচ্ছে একটা আস্ত কবিতা। শ্যামলালের মনে হয়েছিল আজ পর্যন্ত সে যা যা লিখেছে সব একেকটি গর্ভস্রাব, কারণ শ্যামলাল জানত মহাপ্রলয়ের সময় কোনো নৌকা পাওয়া যাবে না শেষ পর্যন্ত। শ্যামলীকে সে একবারই দেখেছিল, বর্ধমান থেকে ফেরার পথে কর্ড লাইনে, ট্রেনের দরজায় বারমুখো হয়ে দাঁড়িয়ে, একহাতে হাতল ধরা, চুলগুলো খোলা ছিল এবং হাওয়ায় একে একে উড়ে যাচ্ছিলো, শ্যামলী ক্রমশ ন্যাড়া হয়ে যাচ্ছিল আর রোদ্দুর আরো উজ্জ্বল হয়ে উঠছিল। অথচ, আজ এখনো শ্যামলালের বাস এলো না, কবিতার মতো সে যদি স্থির বুঝতে পারতো বাস আর আসবে না, বাস কোনো ছন্দকাটা তালকাটা শব্দ, এবং অপেক্ষা বিষয়টা আসলে মাথাব্যথার মতো আদুরে... শ্যামলাল মন দিয়ে বাসস্ট্যান্ডে সাঁটানো 'গোপনে মদ ছাড়ান' বিজ্ঞাপন পড়ছিল এবং ভাবছিল, সে কি কোনোদিন মাতাল হয়নি, সে কি চায়নি ঝাল ঝাল লংকাকুচি মাখা ছোলাসেদ্ধ এবং খোঁয়ারি-ভাঙানো লেবুর জল, তাহলে কেন তাকে নিয়ে একটা, অন্তত একটা বিজ্ঞাপনও লেখা হল না এতদিনে!


Saturday, November 26, 2016

নিষেধাজ্ঞা : অদ্বয় চৌধুরী

নিষেধাজ্ঞা

“আজ রাত দশটা থেকে রাজপথে পায়ে হেঁটে যাতায়াত নিষিদ্ধ।”
       সেদিন সন্ধে থেকে গোটা এলাকা পোস্টারে পোস্টারে ছেয়ে গেছিল, টিভি-রেডিও সর্বত্র ঘোষণা হচ্ছিল লাগাতার। সকলেই জেনে যায় এই নিষেধাজ্ঞা। যারা অনেক রাত করে পায়ে হেঁটে বাড়ি ফেরে তারা সেদিন তাড়াতাড়ি বাড়ি ফিরে এসেছিল।

       যারা রাজপথে পায়ে হেঁটে যাতায়াত করেনা, যাদের গাড়ি আছে, তারা বেজায় খুশি হয়েছিল এই নিষেধাজ্ঞায়। রাস্তায় ভিড় কমবে, ট্রাফিক জ্যাম কমবে। গাড়ির দোকানদাররাও খুশি হয়েছিল। এবার গাড়ির বিক্রি বাড়বে। উপরমহলের তরফে বলা হয় পায়ে হেঁটে যাতায়াত করলেও যাদের বাড়িতে গাড়ি লুকিয়ে রাখা আছে, বা অন্যত্র তাদের গাড়ি বেনামে খাটছে, সেইসব লোকের লুকানো গাড়ি ধরার উদ্দেশ্যেই এই নিষেধাজ্ঞা। কিন্তু ব্যাপারটা যে তা নয় তা গাড়িওয়ালা এবং গাড়ির দোকানদাররা জানত। এই সিদ্ধান্ত মূলত এলাকার সার্বিক উন্নয়নের স্বার্থেই— সকলেই যাতে ‘গাড়িওয়ালা’ শ্রেণিতে উন্নীত হয়। যাদের গাড়ি নেই, অথবা গাড়ি কেনার কোনোভাবেই সামর্থ্য নেই, তারা এলাকা ছেড়ে চলে যাবে, অথবা না খেতে পেয়ে মারা যাবে।

       পরের দিন রাস্তা একেবারে শুনশান। হাতে গোনা কয়েকটা গাড়ি প্রচণ্ড গতিতে যাতায়াত করছে। ফুটপাথে কোনো লোক নেই। দু-একটা বড় দোকান আর সমস্ত গাড়ির দোকান ছাড়া আর কোনো দোকান খোলেনি। কোনো নতুন গাড়িও কিন্তু রাস্তায় দেখা যায় না। না লুকিয়ে রাখা গাড়ি, না নতুন কেনা গাড়ি। আগে যেগুলো চলত সেগুলোই শুধু দেখা যায়।

Tuesday, November 15, 2016

এখন আমার খুব কান্না পাচ্ছে : তৃষা চক্রবর্তী

এখন আমার খুব কান্না পাচ্ছে

এখন আমার খুব কান্না পাচ্ছে। অথচ কান্না ঠিক কেমন হয় আমি মনে করতে পারছি না, ঠিক কীই বা মনে করতে চাইছি, কান্নার স্বাদ, কেমন দেখতে হয়, অথবা এমন কোনো বিশেষ গন্ধ যা দিয়ে পৃথক হওয়া যায়। মাঝে মাঝে তো এমনই মনে হয়, কেবল পৃথক হবার জন্যই আমরা গন্ধ ব্যবহার করি। নিশ্চয় তোমার মনে আছে ময়দানে একটা বিকেল অন্তত আমরা একসাথে কাটিয়েছিলাম - খুবই সাহিত্যপন্থী হয়ে পড়ছি আমরা আজকাল, নয়ত হঠাৎ সকাল আর বিকেলের আলোকে আমাদের এক মনে হবে কেন, আর সেই আলো পৃথক করতে কেনই বা খোঁজা হবে ক্লান্তির পার্থক্যরেখা। তোমার কি মনে আছে, পৃথকত্ব আমায় খুবই আনন্দ দিয়েছিলো? পৃথকত্ব, পৃথকত্বই কি, অথবা পৃথকত্বের আবিষ্কার। যেকোনো বিকেলই এভাবে আমায় তোমার কাছে পৌঁছে দিতে পারে না। অথচ, আজ পৌঁছেছি। এমনই সে যাতায়াত, তুমি বিমূঢ় জিগেস করছ কেন এসেছি। এখুনি যদি বলি, তোমার ঘরের জানলাটা দিয়ে আজ অদ্ভুত বিকেল দেখা যাচ্ছিলো।  তোমার কাছে অনেক ভিড় ছিলো।  আমি তাই বিকেল দেখতে গেছিলাম। মনে পড়ল ময়দানে একটি মেয়ের কাছে খুব সুগন্ধ পেয়েছিলে, আমি কি খুব রেগে গেছিলাম অথবা নীরব মন্তব্য করেছিলাম ফাঁকা ময়দানে এরা গন্ধ মেখে ঘোরে কেন, গন্ধ ভিড়ের, একার নয়। পৃথক হতে হতেও পৃথক হবার টাল সামলাতে না পেরে মেয়েটি কি আলতো ঢলে পড়েছিল তোমার গায়ে? আর তুমি তাকিয়ে ছিলে খুব মোলায়েম?

Friday, November 4, 2016

না পৃথিবীর দূরত্ব : দেবাদৃতা বসু

না পৃথিবীর দূরত্ব

একটা ড্রিমের ভেতরবসে আছি লুকিয়েএরপর সকাল হবে। সময়কনার চলাচলকে কেন্দ্র ক’রে ক্যাপ্টেন হুকের জাহাজ সামান্য দুলতেই শোনা যাচ্ছে ব্যাপারীদের বিভিন্ন আওয়াজের দুর্যোগ কাঠের পাটাতনটা ফুরোলেই বাজার একটাকাঠের দরজার তলায় যতটুকু ফাঁক, তার আন্দাজে শরীরটা বড়ওই ফাঁকটুকুই আপাতত সম্বল - গন্তব্য, পরিত্রাণ এবং কোলাহলমুখরকোথাও একটা নিষিদ্ধ ঘড়ি টিক টিক করছে আর আমি ভাবছি কি ক’রে লুকিয়ে থাকা যায় আরও কিছুক্ষণ। কেউ যেন দেখতে না পায় আমাকে। অথচ এরকমভাবে ভোর হতো এক একটা স্বপ্নের খোঁজে। মূলত শীতকাল - লেপের তলাটা সুবিধা মত সাজিয়ে নিতাম। এমনভাবে একটা সিমুলেশান, যেন বাইরের পৃথিবীর সাথে যোগসূত্রগুলো বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। রান্নাঘর থেকে আসা বাসন ও জলের বিনিময়ে যে আওয়াজ - মনে হতো পাইরেটদের হর্ন আর হর্নবিলের ডানার ঝটপটঅনেকটা এপার জুড়ে এই ল্যান্ডমাসপ্যানের সাম্রাজ্যে কেউ বড় হয় না কখনো, একমাত্র টিঙ্কার বেল ছাড়াএত রঙ আর এত গন্ধ, পথ হারানোর ম্যাজিকটাই কবিতা হয়ে ওঠেওই যে বেসামাল একটা বৃহৎ ডিনার টেবিল, ভরে উঠছে কাল্পনিক খাবারে আর তার পাশেই একটা পৃথিবী, যার সমস্ত হ্রদ এবার আয়না হবে। পৃথিবীর প্রথম আয়নগুলোর জন্ম এখানেঘড়ির কাঁটাগুলো ঘুরতেই থাকে, টান পড়ে ঋতুচক্রে, শুধু বয়স বাড়ে না। অন্ধকার হলে টিঙ্কার বেল ডাকে, “lost boys, lost boys, dinner is served”
প্রকাণ্ড ওই সিমুলেশানের ভেতর থাকতে অভ্যস্ত হয়ে তখন মনে হত এক দস্তানার কথা। ক্রমশ বড় হয়ে উঠছে তার গহ্বর এবং বাড়ছে সংসারের সদস্য। আমি ভাবতাম যদি ওদের মত ওদের সাথে থাকা যায়। আর আমার শীতের লেপ, কম্বল, বালিশ মিশে যেত ওই প্ররোচনায়বাড়ির সবাই ঘুমিয়ে পরলেই টর্চ জ্বেলে দেখতাম কেউ কোথাও আছে কিনা। বরং টর্চটা নিভিয়ে দিলেই দেখা যেত ওদের বেড়ে ওঠা, সংসার, ওদের ড্রামা - কমেডি, ট্র্যাজেডিব্ল্যাক হোলের ইভেন্ট হরাইজনের মত সহজ ও অদৃশ্য। তখন ভাবতাম সকাল হবে। অহেতুক আর যেতে হবে না স্কুলে। ঘুম চোখে লেপটা সরালেই দেখা যাবে ওই বাগান, অতিকায় জলাশয় আর ছোট ছোট র‍্যাবিট হোল। একটা এমন জায়গার কথা লেখা হবে যেখানে প্রতিদিন শহর এসে মিশে যেতে থাকে সমুদ্রের ধারে লুকিয়ে রাখা ঝর্ণার জলে। মানুষ তো এভাবেই অমরত্বের কথা শিখেছে, তার ধান, গম, আস্তাবল, হাতি, ঘোড়া, ফসল ফেলে রেখে বারবার ফিরে গেছে অরন্যে ।
জরায়ুর ভেতর নড়াচড়া করছে শব্দরা। বিটস এবং পিসেস সমেত পৃথিবীর সমস্ত শব্দ,  কোল মাইন, পরিত্যক্ত জাহাজ ঘাট, নোনা হাওয়ার গন্ধ, ঈষৎ আর্দ্র অনর্গল বেড়িয়ে পড়ছে ফ্যালোপিয়ান টিউব বেয়ে। এদের ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে থাকাগুলো নিয়ে সভ্যতা হবে। শুধু নির্মাণ নয়, সারি দিয়ে অগুনতি পিরামিড হয়ে উঠবে এলিয়েন স্পেসশিপের ল্যান্ডিং প্যাড। কখন সময়কে ফাঁকি দিয়ে লেখা হবে ইতিহাস। এইভাবেই সময়কে ফাঁকি দেওয়ার নিয়মে ফিরে যাওয়াগুলো থেকে যায়। রিডিং ল্যাম্প থেকে মাথা তুললেই দেখা যেত অসংখ্য ভাষার কাটাকুটি খেলা। জানলার বাইরে আরও একটা রেইনি ডে বদলে দিচ্ছে লিখে রাখা ইতিহাস আর ইতিমধ্যে সমস্ত ঘড়ি কখন যেন সব আমার হয়ে গেছে।

Sunday, October 9, 2016

ছিন্নমূলঃ গুলশনারা খাতুন

ছিন্নমূল

বিড়ির আগুন পড়ে পড়ে টি-শার্টময় ইতিউতি ফুটো। দূর থেকে দেখলে মনে হবে, ইঁদুরে, আরশোলায় কেটেছে। অবশ্য এসব নিয়ে রিজুর ন্যাকামিও ছিল না কোনওদিন, আর মনখারাপ তো নয়ই। এমনিতে আঁতেল-ছাপ জামাপত্তর। হলদে টি-শার্টে কয়েক লাইন সুমন চেয়ে আছে। অথবা গেলবার পৃথ্বীর এনে দেওয়া বাংলাদেশের জামাটাও আদর করেই গায়ে চড়ায়। বুকে-পেটে বিড়ির ফুটো নিয়ে রিজুকে ভিখিরি-কাটিং না দেখালেও, ব্যর্থ কবির জম্পেশ লুক দেয়। রিজু যদিও কবিতা লেখেনি কখনও। উঁহু, একবার, ক্লাস সেভেন, যা নাকি হেভেন, তখন লিখেছিল। হিন্দি ক্লাসের সাবরি মিসকে দেখে। ‘সাবরি মিসের বিশাল বুক/ তাকিয়ে থাকতে বিশাল সুখ/ বুকের মাঝে খাঁজ/ হরেক রকম সাজ’। প্রিন্সিপ্যাল আর বাবার  যৌথ ক্যাল-সহ ক্লাসের হারামি পাবলিকের অকথ্য প্যাঁক মিলিয়ে, হেভেন সেভেন হেল হয়ে গেছিল। তারপর তো টিসি। ইংরাজি মিডিয়ম থেকে সোজা তীর্থপতি। তারপর আর ৩০ বছর কবিতা লেখেনি রিজু। রাদার, কিছুই করেনি। ছবিও আঁকেনি, তবলা শেখেনি, গীটার বাজায়নি, কলেজে লিটল ম্যাগ করেনি। অ্যাস্ট্রো ফিজিক্স পড়ার চোরা বাসনা লুকিয়ে রাখতে রাখতে ছোড়দাদুর চিলছাদের ঘরে মাঝেমধ্যে নানা যন্ত্রপাতি বানিয়ে তারা-টারা দেখত। সে রিজুর গুপ্তরোগ। লোকাল ট্রেনে ডিকে লোধের অ্যাড দেখে নিজের মত নাম নিয়ে নিয়েছে। গুপ্তরোগের চিকিৎসা নেই। কাজকম্ম কিছু জুটলে-মুটলে ওই রাত-বিরতে জয়েণ্টে শেষ টান দিয়ে হয়তো আকাশের গায়ে কান পাতা। রিজু নিজেকে আজকাল মেঘ-টেঘ ভাবে। ফুটো হয়ে বৃষ্টি পড়ে। ফুটো জামা চুইয়ে যেমন ঘাম।

Wednesday, September 21, 2016

খেজুরে লেখা : রঙ্গন রায়

খেজুরে লেখা

"খেতে পারি কিন্তু কেন খাবো" এই স্লোগান তুলে কেউ কেউ যদি আমরন অনশনে বসে পড়ে তবে সে বিষয়ে আমাদের কিছু বলবার নেই। পানু শেষ হয়ে গেলে যেমন চটি গল্পে কাজ চালিয়ে দিতে পারি সেই দৃষ্টি তে তোমার দিকে তাকাতে পারিনা বলেই তুমি আমার মন খারাপ করে দিতে জানো। আমি আন্দোলন টান্দোলন করিনা কোনদিন। সেরম ভাবনা বারবার বিপ্লবের কথা মনে পড়ায়। এই যেমন এই লেখাটাই ধরা যাক, মানে কথা "লিখবো লিখবো করছি কিন্তু লিখতে পারছিনা" গোছের এক জগাখিচুড়ির জন্ম দিচ্ছে। তো খেঁজুরে আলাপ ব্যাতিরেকে এবার যদি 'ফেবুর' দেওয়ালে একটা গরম গরম স্ট্যাটাস জুড়ি তো বেশ হয়। রস বোধ কে দুরে ঠেলে কট্টর ভাবে যদি লিখে দিই, "অনেক হয়েছে ধর্মনিরপেক্ষতা, এবার একটু হিন্দু রাষ্ট্র হওয়া যাক।" তবে প্রথমেই তথাকথিত হিন্দুরা চরম খিস্তি খেউর শুনিয়ে আমাকে আনফ্রেন্ড করবেন। মুসলিম দের তুলনায় লক্ষণীয় ভাবে হিন্দুরা আমাকে দুষবে শিবসেনার খোঁচড় বা আর.এস.এস এর চ্যালা বলে। আহাহা "আমি কোন পথে যে চলি কোন কথা যে বলি" -  কিছুই বলবার নেই বলেই এতকথা শুনিয়ে দিচ্ছি, তাহলে ভাবুন তো বলবার থাকলে কি কেলেঙ্কারিই না বেঁধে যেতো!!!
আবার এই কথাটাও আমি ভেবে পাইনি যে কেউ কেউ বলছেন "অর্থই অনর্থের মূল" আবার কেউবা "একমাত্র অর্থেরই অর্থ রয়েছে বাকি সব অর্থ হীন" নাকি রামকৃষ্ণ দেবের বাঙ্গাল সংস্করণ টাই মেনে নেবো "ট্যাহা মাটি মাটি ট্যাহা।" 'নাহ! সত্য সেলুকাস কি বিচিত্র এই দেশ'!

Sunday, September 18, 2016

গুলশনারা খাতুন : ব্যবহারিক চিত্রনাট্য

ব্যবহারিক চিত্রনাট্য

টিস্যু পেপারের বাণ্ডিলটা মা লুকিয়ে রাখবেই। সূর্য বহুবার চুরি করে পড়ার টেবলের ড্রয়ারে রাখে। মা ঠিক ফাঁক বুঝে বের করে নেবে। ধুত্তেরি। আবার সেই খবরের কাগজ দিয়ে মোছো। কী  যে খড়খড় করে। নাহ। পাওয়া গেছে। বাবার কেস ডায়েরির পাতা ছিঁড়ে অন্তত চাদরটা পরিষ্কার করে দেওয়া যাক। উম্মম, অ্যাই অ্যাই হয়ে গেছে। সূর্য মাঝেমধ্যে ভাবে ইজাকুলেশনের পর স্পার্ম জমিয়ে বোতলে পুরে রাখবে। তারপর শক্ত হয়ে গেলে চিনি ছড়িয়ে বাবাকে খেতে দেবে। নে বাল। তোর পয়সাই খাই, তোর মুখেই মুতি। না মানে, ওই আর কি। এখন শালা লালবাজারের কেস ডায়েরি লেখার পাতায় ল্যাটপ্যাট করছে মাল। রুম্পিদি থাকলে ওটাই চেটে চেটে খেত। বাবার কথা ভেবে হেব্বি হাসি পায় সূর্যর। বুড়ো ভাম, ঠিক করে দাঁড়ায় না। ধরে এনেছে ডবকা মাগি। সূর্যরই লাভ। দিনে রুম্পি, আর রাতে মা। হিহি। বেচারা সূর্যর বাবা।

সূর্যদের বাড়িটা একদম ঈশাণ কোন ঘেঁষে বানানো। দাদাই নাকি কোন এক ফ্রেঞ্চ আর্কিটেক্টকে দিয়ে বানিয়েছিল সাধ করে। বুড়ো শেষ বয়সে বীর্য মাথায় উঠে মরে গেছিল। মরার আগে অবধি রান্নার কাজের লোকের সঙ্গে ফস্টিনস্টি। বুড়োর হাত-পা বাতে অকেজো ছিল নাকি। মালতীদি দিনে রান্নাঘরে খুন্তি নাড়ত আর রাতে বুড়োকে নেড়েচেড়ে দিত। জানলার কার্নিশে বসে সূর্য ভাবে, কী চোদনখোর ফ্যামিলি শালা আমার। হ্যাঁ? সব সব কটা শালা এক সে বড় কর এক হারামি। সূর্য মাঝেমধ্যে ভাবে, বড় হয়ে  যখন নভেলটা ফাইনালি লিখে ফেলবে, তখন কোনটা রাখবে, আর কোনটা বাদ দেবে। সব ভুলভাল। যেমন সূর্য নিজেই কি বিশাল একটা ভুলভাল। জন্ম থেকে বড় হওয়া, সব ভুলচুক। আরও একটু ছোটবেলায় সূর্য যখন কথা বলতে শেখেনি, তখন থেকে শিখে গেছিল সে ভুলভাল। নানা, সূর্যর ছোটবেলা মানে খুব বেশি ছোটবেলা নয়। পাশের বাড়ির জিকো, তাতাই, পিকুরা যখন খই ফোটাচ্ছে, তখনও সূর্য ভ্যাবলার মতো তাকিয়ে থাকত। বু-বু করে কিসব যেন বলে ফেলার চেষ্টা করেই বুঝত, নাহ হচ্ছে না। বাবা রাতে বাড়ি ফিরে মা-কে খিস্তাতো।

Monday, August 29, 2016

মৈনাক পাল'এর - প্রেম এসেছিল নিঃশব্দ চরণে

প্রেম এসেছিল নিঃশব্দ চরণে

        নিসর্গে রাখা আছে জমদগ্নির হাড়। মানে, নিসর্গ বলতে যদি ওই জাহ্ণব্যোবলকোনা প্রাবৃটপ্রেয়স ছাদটিকেই বোঝায়। এহেন হ্যালোজেনময় আরবান ছাদে বসে বৈনতেয়র মাথায় এই পংক্তিটিই কেটে বসলো।
       আচ্ছা, মা যে বলে ছাদের সুরকির নীচে সত্যিই জমদগ্নির হাড় আছে। হতেও পারে। নাহলে অতটা উঠোন জুড়ে অ্যাপার্টমেন্টের তেরশো স্কোয়ার ফুট কেউ ছেড়ে দেয়, স্রেফ একশো কম দিয়েছে বলে; হেসেছিল অর্জুন মেরহোত্রা, সে জানতো এরা লড়বে না। বৈনতেয়র তখন ক্লাস ইলেভেন। বাবা লাইব্রেরি ঘরে ঢুকে গেল। না, সে তখনো জমদগ্নির হাড় খুঁজে পায় নি।
       আলসের পাড়ে ডেকচেয়ারে বসে বেমালুম হেসে উঠলো বিনু। গ্র্যাজুয়েশনের পরপরেই বোধের সাথে সাথে তার আর একটা অনূভুতি জন্মেছে – সারভ্যাইকাল স্পন্ডাইলোসিস। সেটাকে মাঝে মাঝে ডানা ওঠার ব্যথা বলে মনে হয় তার। আক্কেল দাঁত উঠলে চোয়ালে ব্যথা করে না - সেরকম।
       কিন্তু ব্যথা সেরে যাবার আগে জমদগ্নির হাড় খুঁজে পাওয়া চাই। মা বলে না। খালি বলে - মাঝছাদের বেদীতে উঠবি না গোরু, তোর তো ঘুড়ি ওড়ানোর সময় পা মনে থাকে না। বলার সময় মায়ের মুখটা কেমন বেগুনী হয়ে যায়। রান্নাশেষে মুখে দিয়ে হলুদ বেশি লাগলে যতটা বেগুনী হয়, তার চেয়েও বেগুনী। বৈনতেয় তখন ঠিক মা কে বুঝতে পারে না। মা যেন তার কাছ থেকে গুটিয়ে কুঁকড়ে ছাদের অন্যপারে চলে যায়। ওই সময়টা বিনুর বড় ইচ্ছে হয় মাকে জড়িয়ে ধরতে, গলায় যেন সেই হাড়টা আটকে যায়।

Tuesday, August 16, 2016

পৃথা রায় চৌধুরী'র - আবর্ত


আবর্ত                                 

জেলের উঁচু দেওয়ালের বাইরে ঠাঠা রোদে দাঁড়িয়ে থাকার মধ্যে পাশ দিয়ে অল্পবয়েসি ছেলেছোকরাদের বারবার ঘুরে তাকানো, এপাশ ওপাশের বাড়ির মধ্যে বাটি চালাচালির মাঝে, “এ মেয়েটার বাড়ি কোথায় গো?” ক ঘণ্টা হলো মাঝে মাঝে মোবাইলে চোখ রেখে বুঝে নেওয়া এখান থেকে শ্যেনদৃষ্টিতে দেখতে থাকা তার বৈধ সম্পর্কেরা ফিরে গেল কি না তারা ফিরলে, তবেই তার একঝলক দেখা হবার সুযোগ, দোষী নির্দোষ চেনে না সে, শুধু জানে গরাদের ওপারে তার ভোর কয়েক মিনিটের... তারপর আবার সপ্তাহব্যাপী রাত টানা পনেরো দিন হলো তার চোখ বিনিদ্র; হিংসে করে সে আকাশকে কেমন একটানা মেঘের অজুহাতে কেঁদে চলেছে! চোখ রাঙাবার, গায়ে কালি দেবার কেউ নেই তার গোঙানোও অপরাধ তার বৈধ সবের প্রতি সমস্ত কর্তব্য সেরে এই যে ভোর না হতেই ছুটে আসা, এ জানলে ছি ছি করবে না বুঝি কেউ? ছি ছি করুক পরোয়া নেই, কিন্তু পুড়তে থাকা সেই ছোটবেলার সজনে গাছটা আর দেখতে চায় না সে যখন ককিয়ে উঠেছিলো, গাছটাকে মেরো না তোমরা, জ্যেঠিমা গাল টিপে বলেছিলো, শুঁয়ো পোকা ছেয়ে ফেলেছে, ওর পুড়ে যাওয়াই মঙ্গল... 

না পুড়ে গেলে যে পাপ উড়ে উড়ে আশেপাশের সবার ঘরদোর ছেয়ে ফেলবে! পাপ, বৈকি! কি হবে, সবাই যখন জানবে, তার সিঁথিতে দুজন এঁকেছে রক্তের আলপথ?

তিন ঘণ্টা হতে চললো, এরা ফেরত যায় না কেন? মাথা ঘুরছে তার রোদে তাকাতে পারে না আর সামনে ভ্যানওয়ালার পাশে উঠে বসে কিছুক্ষণ অবশেষে... অবশেষে... ছুট ছুট ছুট... নাম অ্যানাউন্স করছে ওরাভরসা আছে?”

আছে
বাড়ি থেকে ওরা এসেছিলো
জানি, ওদের দেখেই আমি বেরিয়ে গেছিলাম, পাশের রাস্তায় ছিলাম দাঁড়িয়ে...”
এই টানা তিন ঘণ্টা তুমি...!!!!!!”
ভালো আছো তুমি?”
নিজের বরকে দেখতে এসেছো, এভাবে অপেক্ষা তাই, তাই না বিবি?
কথা দিচ্ছি সামনের সপ্তাহে বাইরে তোমার সামনে দাঁড়াবো” 

Saturday, August 13, 2016

ইস্কুল এবং টুকিটাকি বেড়ে ওঠা : কিশোরী নাম নিয়ে লিখতে চাওয়া একটি মেয়ে

ইস্কুল এবং টুকিটাকি বেড়ে ওঠা
লাল্লা লাল্লা লোরী, দুধ কি কটোরি..."
এই গানটা আমার ছোটবেলায় শোনা নয়। বেশ বড় অবস্থাতেই গানটা শুনেছিলাম কোনো একটা নাটকে। আমার বয়স এখন পঁচিশ। এই পঁচিশটা বছর চোখ কান বন্ধ করে বেশ কাটিয়ে দিয়েছি। এখনো যে খুব চোখ খুলতে ইচ্ছে করে এমনটাও নয়। তবে মাঝে মাঝে কিছু কিছু 'পাল্টে যাওয়া' চোখে পড়ে যায়।
আজ সকালে আমি বাবার সাথে বাবার ইস্কুল যাচ্ছিলাম। এই স্কুলে আমিও একসময় পড়েছি। পাঁচ বছর। না। তবু আমার স্কুল নয়। বাড়ি, স্কুল, কলেজ, পাড়া, প্রেমিক, বন্ধু এদের আমি কোনোদিনই খুব জোর গলায় নিজের বলে দাবী করিনা। ব্যাপারটা বাবা মা এর ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য তবে কিছু বায়োলজিক্যাল প্রমাণ এর চোটে মুখ খুলিনা এই বিষয়ে।

আমাদের বাড়ি পেরোলেই ছিল রবি সাহুর বাড়ি। জঙ্গলের মতো বিশাল জায়গা, এখানে আগে বিস্কুট ফুল ফুটতো। মধ্যিখানে একটা বাড়ি। দুএকবার ঢুকেছিলাম। বেশ অন্ধকার। গা ছমছমে। রবিকাকু ছোটবেলায় আমার মুখোশধারী দৈত্য ছিলো। আর ওর ঘরের ছাদ থেকে ঝুলে থাকতো একগাদা প্লাস্টিকের টিয়াপাখি, লাল পালক লাগানো। আমার ধারণা ছিল রবিকাকু নির্ঘাত আমার মতো বাচ্চাদের ধরে টিয়াপাখি বানিয়ে ঝুলিয়ে রাখে। রবিকাকুর সেই বাড়ি আজ বন্ধ। দরজার সামনে গরুর গাড়ির লোহার চাকা রাখা।

Friday, June 3, 2016

দ্রিম দ্রিম - দোয়েলপাখি দাশগুপ্ত



দ্রিম দ্রিম

একসাথে কলেজে পড়ি আমরা। ­কী পড়ি জানি না। বয়স এক রকমই আছে। কমেনি। একটা ক্লাসে সবাইকে ফাইল করে দাঁড়াতে বলা হয়েছে। রোজ এরমই বলা হয়। পরপর দাঁড়িয়ে সবাই। আমি ভীষণ হাসি-ঠাট্টা করছি, ডালিয়া আর অমৃতার সঙ্গে। হাসতে হাসতে খেয়াল থাকছে না স্যার দেখছেন কিনা। স্যার বয়স্ক মানুষ। ধুতি আর শার্ট পরে ক্লান্ত চেহারায় বসে আছেন চেয়ারে। নানা গুঞ্জন চলছে। ওঁর শরীর হয়তো ভাল নেই। হার্টের সমস্যা থাকতে পারে কিছু। চারতলার ওপরে ক্লাস। এতোটা সিঁড়ি ভেঙে টিচার্স রুম থেকে আসতে নিশ্চই কষ্ট হয়েছে। আমাকে ডাকলেন। বললেন,‘এখানে কান ধরে দাঁড়াও’। আমি একটা আঙুল তুলে ‘একটুসখানি’ জাতীয় একটা মুদ্রা করে কাঁচুমাচু মুখে বললাম, ‘স্যার একটা সুযোগ পাওয়া যাবে?’ বললাম, যথাসম্ভব নিচু আওয়াজ করে, যাতে ক্যালরম্যালর পেরিয়ে কেউ শুনতে না পায়। উনি বললেন, ‘সুযোগ কী  পাওয়া যায়?’ আমি বললাম, ‘দশ বছর পর আমার বন্ধু অমৃতা এসছে! একসাথে ক্লাস করছি আমরা। তাই একটু ক্যারেড অ্যাওয়ে হয়ে গেছিলাম’শুনে বললেন, ‘কী শিখলে তাহলে?’ বুঝলাম একটু আগে যে সিনেমার ক্লিপটা দেখানো হয়েছিল, সেটার কথা বলছেন। আমি ভাবলাম, ওটায় তো দেখছিলাম, গোটা সিনেমার শেষে ভিক্টর ব্যানার্জী বন্ধুদের থেকে মন সরিয়ে বলে, ‘আসলে ওই ওখানে... ওই সেখানে... উঁচু উঁচু মেঘেরা...’ অর্থাৎ মনকে রাখতে হবে তুচ্ছ মানুষিক জগতের উর্ধ্বে! আমি ভাবলাম, এটা কী আত্মপ্রকাশ? তারপর মনে পড়ল, ও না না। এটাই তো “সীমাবদ্ধ”! এবং ভাবলাম সিনেমার নামটা তাহলে এই কারণেই রাখা হয়েছে? “কোং লিমিটেড” আসলে মানসিক সীমার দৈন্য? এবং দেখলাম স্যার আমায় ছেড়েও দিলেন... বা র‍্যাদার আমার দিকে আর মন থাকল না ওঁর। ততোক্ষণে ক্লাস শেষ হয়ে গেছে। আমার মন খারাপ হয়ে গেল। আমি ওয়াশরুমে গেলাম। বাকি ক্লাস ততোক্ষণে বেরিয়ে অন্য বিল্ডিঙে চলে গেছে। বসে আছ ফাঁকা ক্লাসে শুধু তুমি। ছাইরঙা টিশার্ট আর না কামানো দাড়ি নিয়ে। একলা। আমি ফ্রেশ হতে গেছি, কারণ জামাটাও পাল্টাতে হবে। বাড়ির জামা পরেই চলে এসেছি ক্লাসে বুঝিইনি সেকথা! একটা আধ-ভাঙ্গা মতো বাথরুম। অনেকগুলো পার্টিশন। একটার সামনে একটা কুমীরের ফসিল জাতীয় কী পড়ে আছে! সেটা কাঠের কোনও ভাস্কর্য নাকি সত্যিই ফসিল বুঝতে পারছি না। একটা টয়লেটে ঢুকে পড়ে তারের ওপর একে একে জামাগুলো মেলতে থাকি। এক এক করে পরতে থাকি। এবং এটা খুব মন দিয়ে করি। কারণ বুঝেছি যে এই কাজগুলো করতে বেশ বেগ পেতে হচ্ছে। কোনও বোতাম আটকাতে পারছি না। জামা পরে বাইরে এসে দেখি একটা আধো অন্ধকার মতো ভাঙাচোরা ঘরে, পর্দা টানা, খাট পাতা। সেখানে খাটের ওপর আমার ব্যাগ রাখা। মোবাইলও। আমার মন ভার হয়ে আছে। আমি জড়ো করে নিচ্ছি নিজেকে একে একে। উঁকি দিয়ে বাইরে দেখছি, আর একটা ছোট ঘড়িয়ালের মতো কুমীর। কখন চুপিসাড়ে এসছে। বুঝতে পারছি, কোনও একটা ওপেনিং দিয়ে গঙ্গার সঙ্গে কানেক্টেড এই কলেজ বিল্ডিংটা। যেখান থেকে বুঝতে না পেরে এরা এভাবে চলে আসে। আর তারপর এই পরিত্যক্ত, স্যাঁতসেতে, অন্ধকার, শ্যাওলা ধরা বাথরুমের কাছে পড়ে থেকে থেকে, খাবার না পেয়ে, গরমের বা পুজোর ছুটির ভ্যাকেশনে আন-নোটিস্‌ড থেকে এক সময়ে মরে ফসিল হয়ে যায়।
বাইরে থেকে একটা আওয়াজ আসছে। একটা মৃদু চাপড়। অরুণাভ ডাকছে আমাকে। ও-ও ক্লাসে যায়নি তার মানে এতোক্ষণ। আমি দেখছি আমার মোবাইলেও ওর মিস্‌ড কল। ছবি সমেত জেগে আছে। মোবাইলটা নিশ্চুপ ছিল। আমি বাইরে বেরোই। ও বলে, এই ক্লাসটা আর করবে না। রেস্ট-রুমে যাচ্ছে। আমি বেরিয়ে এসে দেখি তুমি তখনও বসে। আমি জানি তুমি আমার জন্যেই বসে আছ এতোক্ষণ। কিন্তু বুঝতে পারি, তোমাকে ডাকা যাবে না। তোমার ওই দেহভঙ্গিমাটিই বলে দিচ্ছে সে-কথা। পরের ক্লাসটা এন্টোমলজির। আমি বারান্দা পেরিয়ে যেতে যেতে দেখি, গোটা ক্লাস উপচে পড়েছে। তুমি ক্লাসে ঢুকে গেছকাউকেই চেন না প্রায়। কিন্তু আজ একদম মরিয়া। ক্লাস করবেইকোথাও বসবে না কারওর সাথে। তাকাবে না কারওর দিকেবারান্দাতেও চেয়ার পেতে চার্ট হাতে বসে আছে ছেলেমেয়েরা। আমি পাশ দিয়ে যেতে যেতে দেখি, একটি মেয়ে পেনসিল দিয়ে দাগ দিচ্ছে একটা পোকার থোরাসিক একটা লোবে। সেটাকে নাকি অ্যামানাটা বলে। স্যার এগিয়ে আসছেন তার সাথে কথা বলবেন বলে। সে সম্ভবত এই অ্যামানাটা নিয়ে শরদিন্দুর কোনও একটা গল্পের রেফারেন্স দিয়েছিল, যেটা স্যার বুঝতে পারেননি। এবং সেটাই তিনি ঈষৎ লজ্জার সাথে বলছেন, যে, তাঁর তো সাহিত্য তেমন পড়া নেই। আমি ঘাড় ঘুরিয়ে দেখে নিই তোমাকে একবার চকিতে। দেখি তুমি আমারই দিকে ফিরে আমার চোখের দিকে না তাকিয়ে কী একটা স্লাইড দেখছ... সম্ভবত অ্যামানাটার কোনও একটা হিস্টলজিকাল স্লাইড। আমি বুঝি, তোমার সঙ্গে চোখাচোখি হওয়ার নয়। দ্রুত করিডোর পেরিয়ে যাই।

দোয়েলপাখি দাশগুপ্ত
Doyelpakhi Dasgupta


কর্ণ কৌরব সংবাদ — অবতার সংস্করণ — হোমোফ্লেবার্ড — একটি বাজে প্রগল্প



হে রাম, হে কৌরব আমি ভক্ত তুমি ভগবান। হে কৌরব তুমি অবতার,  আমি আত্মসম্মান ভুলে এক আত্মসমর্পিত প্রাণ,  আমার ভক্তি কে স্বীকৃতি দেও শুধু। একমাত্র কৃষ্ণ পুরুষ,  আর সকলেই নারী। সকলেই সখী হলে তবে পুরুষভক্তে ও নারীত্ব আরোপ হয়,  ফলে উভলিঙ্গ হয় যাহা তত্ত্বতঃ জানা যায়। পুরুষের ভজনা করে বৈদান্তিক পুরুষই। নারীর তো বেদে অধিকারই নেই। পুরুষই পুরুষের ধ্যান করে,  পুরুষ বলে একমাত্র পুরুষই সত্য,  প্রকৃতি নারী মিথ্যা অর্থে নারী ছেড়ে পুরুষ কামনা করে বেড়ায় অতিপুরুষকে,  তবে অবতার ভক্তে যেকোন সম্পর্কে দেখি প্রচ্ছন্ন সমকামই। এবং মহাকাব্যে ভুরিভুরি,  সৃষ্টি তত্ত্বে উভলিঙ্গ উদাহরণ উভয়তই। ঈশ্বর স্বইচ্ছাময় হয়ে ইচ্ছাময়ী জগৎ সৃষ্টি যখন করলেন আনন্দ আস্বাদন হেতু তখন সে আনন্দ আত্মমিথুনান্দ ছাড়া কি বা বলব?  আত্মক্লীব মিথুন না যৌন লিঙ্গাতীত অচিন মিথুন, আলেক কাম?  আদি পুরুষের দেহ হতেই পুরুষের জন্ম – তো পুরুষে পুরুষ শরীর মিলে যায়, ছিল – আলাদা হয় – তবে বিষ্ময়ে আমার জাগতে নেই। যতই হোক ভক্তপুরুষ বড় রেয়ার, শালা তাদের লিঙ্গ হতে যোনি গন্ধ যেতেই চায় না –  তবে একবার ভক্ত হলে রাধা হলে চৈতন্য হলে সে বিকট রুক্ষ আত্মনিগ্রহে যায়্, ব্রহ্মচর্যে নারীহীন ট্যাবুময় –  কেন এমন করে?  যাবতীয় যৌনশক্তি কে পুরুষ ভজনেই নিয়োগিত করার বাসনায় চৈতন্যাচ্ছন্নতা হয়,  সে পুরুষ শুধু উদাস পুরুষের সঙ্গ চায়, পুরুষ পুরুষে পুরুষে ঢেকে যায়।

- কৌরব, আমি ও আমার লিঙ্গ বড্ড ইমোশানাল ফুল, বড় সেন্সেটিভ। বড় স্পর্শকাতর,  অস্বাভাবিক কমরোধযুক্ত,  ঘন্টায় যেমন বাধ্যত ৬০ টি একক তেমনি বাধ্যত ওর নিত্যসেবা,  না দিলে তার বড়ো সাপোকেশন হয়,  বড্ড তার ছোঁয়াছুঁয়ি বাই, বড্ড তার খালি ক্ষরণ করা চাই...!  এবং জলের বোতল, কল, টি পট ইত্যাদি যা যা থেকে লিঙ্গ শারীরিক ক্ষরণ হয় তা তা নারী ব্যবহার করছে দেখলে আমার লিঙ্গ বড্ড ইমোশানাল বড্ড সেন্সেটিভ হয়ে যায়। যথা যথা নেত্র পড়ে তথা তথা লিঙ্গ স্ফূরে, তথা তথাই কৌরব as a পুরুষোত্তম স্ফূরে স্ফূরে ওঠে...

        মাঝে মাঝে লিঙ্গ অন্ড চেপে জঙ্ঘার ভিতর ঢুকিয়ে দিয়ে নারী যৌনাঙ্গ সুলভ এক ফিল আনি নিম্নদেশে। সেখানে হাত বোলাই যেন যোনি নিয়েই খেলছি। পুরুষের আর কি   আছে,  তার খেলার সঙ্গী ওই তো এক,  সাত রাজার বউ এক লিঙ্গ। স্বমিথুন করি। করে বীর্য ঊরুতে ফেলি। দেখি তার মুক্তাসম শ্বেতত্ত্ব –  হোয়াইটনিং ফিলোজফি। পারদ,  জল,  বীর্যে ষড় বলের এক বল (সারফেস টেনশন) ধর্ম তা দেখি, বীর্য কে দেখতে থাকলে  –  কি ভাবে সে ঘনত্ব হারিয়ে তরল হয়ে ওঠে ক্রমশঃ যত ঠান্ডা হতে থাকে  –  ধর্মের বিপরীত এই নিয়মে টেনশন কমে,  রিলিজেই রিলিজড্‌ হয়ে কিছু বাস্তবোপযোগী উপদেশ দিয়ে যায় বীর্য বেড়িয়ে এসে দর্শন দিলে সিদ্ধাবস্থাই বলা হোক তাকে। ক্রমে বীর্য জঙ্ঘা,  অন্ডে, লিঙ্গের কেশবনেও বক্ষাকাশে মাখামাখি করে আপন নিষ্ঠ হয়ে যাত্রাপালার শিব সেজে শবাসনে আলুনি শুয়ে থাকি ওই। আমি ভরপেট ভাত খেতে পাই বা পাই না এই দেহা মৃত ঘৃত আমি জানোয়ার শাস্ত্রানুযায়ী প্রেইজ করি। স্বমিথুনের অধিকার জলপানের মতোই স্বচ্ছন্দ স্বাভাবিক।



কর্ণ বলে  –  কে কৌরবকে ভালোবাসে ?

কর্ণই উত্তর করে – আমি কর্ণ।

- কে কৌরবকে ভালোবাসে?

- আমি কর্ণ।

- কে কৌরবকে ভালোবাসে?

- আমি কর্ণ।



ও রাতজাগানিয়া, তোমায় গান শোনাবো...



        সেলফ হিপনোসিস স্বমিথুন যেন ন্যায়া কুছ করনে কো মিলা!  স্বমিথুনে পুরুষ ভাবনা ধীরে ধীরে যা বোঝা যায় চলে আসবে কর্ণে, পুরুষের porn আর ভালগার লাগবেনা। স্বমিথুন করে। বক্ষা কাশ, জঙ্গল শরীর,  উদরসাগরে প্রাকৃতিক ধাতু বৃষ্টি কাদা কাদা করে দিলে আদিম আদিম ব্যঞ্জন হয়। তবে স্নানাগারে যাই। মৃতের শহরের স্নানাগার মনে হয় কাজের পর এই উঠে যাওয়ার প্রবল প্রযত্ন। ক্রমশঃ চুল ভেজে,  বালী হয়;  গ্রীবায় জল আসে, সুগ্রীব হয়; কন্ঠায় আসে নীল কন্ঠ হয়; হনুতে হনুমান হয়, বক্ষ ভেজে সাহারায় হড়কার স্নেহ, উদর ভেজে,  আদ্যা হয়; নাভি সীতা হয়; জঙ্ঘা জঙ্ঘুমুনি,  পুরুষের নিতম্ব সৌন্দর্য নিয়ে একটা উপন্যাস হয়ে যাক – শরীর বেয়ে নদী বয়ে যায়, নাড়ীর টানে এ শরীর সদা শব হয়। পুরুষ স্নান করে সঙ্গোমত্তর – ভেজে সাতমহলা, ভেজে হাতি, ঘোড়া, মকর, সর্প; ভেজে ব্রক্ষ্মা ইন্দ্র রুদ্র;  চাঁদ পুরুষের শরীরে বয় গঙ্গা,  যমুনা,  ওঁ সরস্বতী তম প্রসিদ  – চার সমুদ্রের জল বয়ে যায় নসন সমে, ত্বকে ত্বকে ধান ধান লোম লোম ক্ষেত। এ শস্যক্ষেত্রে তবে সেচ হয় পুরুষের স্নানে – সোনা সোনা ধানের খামার। শীত এসে নষ্ট করে দিয়ে গেলে পরবর্তী গ্রীষ্মে যা যা ধান,  যা যা নদী,  যা যা দেব দেবী সব তাড়িয়ে গো মুখ আবারো নেমে আসে সাগর সঙ্গমে — এই ভাবে জলের মতো অধিকারে সরস্বতী শুকিয়ে যায়; মরা জলঢোঁড়া,  পাঁকাল মাছের শব পড়ে রয় নদীখাতের কাদায় – পুরুষ আবারো বর্ষার লোভে তাপমোচী পর্ব শেষে ফিরে যায় স্নানাগারে  – এ হতভাগ্য পুনঃপৌনিক – ফের তবে যেমন একটা দিনের ২৪টাই ভাগ একক এমন স্বভাববৈকল্যে জাতক্যাবলা কর্ণে তবে অবতারবাদ ধারণা আবিষ্কৃত হয়...

        কৌরবের স্বভাবে সর্বদাই এক মাধুর্য ছিলো। বলা চলে সহিষ্ণুতা, বলা ভালো কর্ণ বহু বড়ো সেয়ানা দেখেছি, কিন্তু সম্পর্ক সংরক্ষণ ও পরিচর্যায় কৌরবসুলভ সেয়ানত্ত্ব আর দেখিনি। কৌরবের মানুষ বিচার ও বন্ধু নির্বাচনের নিজস্ব মানদণ্ডটি বোধ হয় নিঠুর বাস্তব থেকে খানিক আলাদা ছিল। তারই খানিক আঁচ ও অনেক তোল্লাই পেয়ে কর্ণের সর্বাপেক্ষা বিশ্বাসভাজন হয়ে ওঠে স্বচ্ছভাবমূর্তির কৌরব। বস্তুত কি, এতে বন্ধুত্ব কখনোই ছিল না, ছিল না সমানতা, কাঙাল সুদামার দারিদ্র্য ভঞ্জনার্থেই অবতার। কৌরবের অন্ধ ফলোয়ার হয়ে ওঠে কর্ণ। লোকে বলে কর্ণ কৌরবের প্রেমিকা। কর্ণ হাসে, যত হাসা যায় তত হাসে! বেনামে এক সমকামসংখ্যার নাম ভাঁড়িয়ে লেখে কর্ণ কৌরবেরই হোমো ফ্লোবার্ড গল্প! শুধু একবার, একটু রেকগনিশন তার ভক্তির, তার অবতারের থেকে পাওয়ার জন্য প্রেম বলে যে যুগে যুগে তোমার লাগি আছে জেগে। হ্যাঁ অন্য কারোর চোখে কৌরব হয়তো অবতার নয় বটে তবু মুঝে তেরি বহুত জরুরত হ্যায়। এবং কর্ণের সমকামেচ্ছা অবতারস্বীকৃত হলে তার ভক্তি গৌরব তবে অমরত্ব পেয়ে যায়। ধায় যেন মোর সকল ভালোবাসা, প্রভু তোমার পানে, প্রভু তোমার পানে। যাবতীয় যৌনাবেগ, যাবতীয় অতিরিক্ত ইমোশানাল ইম্পালস্‌, সুইসাইডাল ইম্পালস ফ্লো করে দেওয়ার জন্য এক আধার লাগে, তাকেই কর্ণ কৌরব অবতাররূপে পায় ধ্যানেতে জানিয়া!

        কৌরব পরবর্তীকালে সীমাহীন জলরাশি পরিবেষ্টিত নির্জন দ্বীপের আইসোলেটেড আনঅ্যাডালটারেটেড সৌন্দর্য্যরূপে কর্ণের মনে চিত্রার্পিত সিংহাসন পেয়ে থাকলো কারণ বাস্তবিকই বিচ্ছিন্নই তারা। কর্ণ শোনে কর্ণজিতের বন্ধুবিচ্ছেদবিরহ নাকি কৌরবকে বিষদংশন করে। ওহো, এতো অবতারের ছোট্টবেলার দুষ্টুমি। কর্ণ শোনে কিন্তু বোঝে না সে মিষ্টি মিষ্টি আবেগ কৌরব কিন্ডারগার্ডেনের রুবিক্সকিউবের ধাঁধাতেই ফেলে রেখে এসেছে। চৈতন্য ফেলে দেয় মানুষ, পুরোনো সিদ্ধান্ত বাসাংসি জীর্ণানি বোধে, ফেলে নতুন করে আপোষ করে নব বুদ্ধিতে স্থিত হয়। আর হদ্দ বোকার মতো বসে থাকে কর্ণ চেতনা – হাজার হাজার বছর ধরে স্থিতিশীল ভারতীয় গ্রামীন সমাজ ও জঁর হওয়া ভারতীয় দর্শনের মতো অপরিবর্তনীয় অভিযোজনহীন টিকে থাকে। বদলে যায় সময়, শরীরের বয়স বাড়ে, সবাই একে একে উঠে পড়ে দুনিয়াদারির গোল গোল গোলএ, টয় ছেড়ে লোকাল ট্রেনে স্ট্রাগল ফর অস্তিত্বে যোগ দ্যায় – শুধু কর্ণ রয়ে যায় স্থির, স্থিতিশীল, ধর্মের প্রতিক্রিয়াশীলতার মতো আঁকড়ে ধরে থাকে আয়নায় নিজের প্রতিচ্ছবি-বয়সের সঙ্গে মুখ পাল্টায় তবু আয়না ঠিক চিনে নেয় প্রতিবার ১৮ তে আটকা পুবার্টির কর্ণ ইনোসেন্টমুখ – আর সব পাল্টায়, শহর, ডানলপ, উন্নয়ন, অর্থনীতি – আয়না শুধু এই শূন্যের শিম্পাঞ্জিকে প্রতিবার অব্যর্থ ভাবে চিনে নিতে পারে।

        ভক্তির যোলো আনা পেতে কৃষ্ণ গোয়ালার গোহত্যা করলো, গো ছেড়ে যাতে গৌরাঙ্গে তার পূর্ণ সময় কাটে। অথচ কর্মবাদ কর্মফল আমি লেখক মানেনা। বস্তুত আধারনিরপেক্ষ কর্মফল বাস্তবে হয় না। ৩ কোটি টাকা তছরুপ করে ২০ বছর বেইলে থেকে কলার তুলে বেড়াচ্ছে আর ৩০০ টাকা চুরি করতে গিয়ে গনপিটুনিতে মরছে! পূর্ব পূর্ব কর্মের কথা বললে আদি একটা সময় তো ছিল যখন কর্ম শুরু হয়, সৃষ্টির আদিতে কি কারণ ছিল যার ফলে ইচ্ছা উৎপন্ন হল? এই ইচ্ছা, ত্রিগুণের সাম্যাবস্থা ভাঙাও তো কার্য, তবে তার কারণ কি? আর ধ্বংসের পূর্ব মুহুর্তে রেপ করলে ধংসের পর তার ফল কিভাবে প্রাপ্ত হবে? সুতরাং সৃষ্টি নেই, ধ্বংস নেই, কর্মফল ও আত্মা নেই, এই আত্মা যে নেই তাহাই আমি তত্ত্বতঃ জানি। অন্ততঃ মানুষ খুন করে পয়সা কামাই নি আমি ,অথচ আত্মহত্যাপ্রবণতায় বাধ্য করতে মানুষের ঐকান্তিক প্রচেষ্টা, তাতে তাদের অমোঘ উল্লাস, বীভৎস মজা লোটা ভুলিনা, ভুলতে ভুলে থাকতে পারিনা। অথচ কোনকালেই i was not a doer, আমি কেবল ভাবতেই পারি। তবে খারাপ যা ভেবেছি তার ফল ভোগ করবো আর সৎচিন্তাগুলো আমাকে মোক্ষ দিল কই? চেতনের স্বভাব শুধুই পরাধীনতা, সুরক্ষিত থাকার বাসনা, শিশু হয়ে থেকে আপনমনে মুক্তানন্দে ক্রীড়া করে যাওয়ার ইচ্ছা – পরনির্ভরতাই তবে পিতৃস্থানীয় অবতারবাদ এনেছে। এই যে অবতার সে অবচেতনের ও সমাজধর্মের পলিটিক্সে জাত এক concept, অবতারবাদ একপলিটিক্স!

        এই উদাসীন পুরুষ ঈশ্বর কৌরবই যে একদা কর্ণকে নির্মূল করবে, হাতছানি দিয়ে শেষে ফেলে দেবে হিরণ্যগর্ভে, এ আবহ সৃজন ও লালন বহুপূর্বে পরিকল্পনা ছিল হয়তোবা। এবং কৌরবকে পেয়ে কর্ণের লাভেয়ারি প্রতিক্রিয়া ও অনেক পূর্ব অ্যাজামশানই ছিল হয়তো। অব আয়া হ্যায় ঊট পেরকে নীচে!

        যেদিন তারা বিহারীর বাড়ি অষ্ট সখা নগ্ন হয়েছিল – আটটি লিঙ্গ পরস্পরকে সাতটি করে লিঙ্গ মুখচুম্বন দিয়েছিল – যেদিন পুরুষের লিঙ্গ মালিকানা বন্ধু বাদে লয় হয়ে গিয়েছিল – বারংবার অষ্টলিঙ্গ একত্রে ঠেকিয়ে চিয়ার্স ও চিল্ড বিয়ার বিহার হয়েছিল যবে – সেদিনও কৌরব নগ্ন হয়নি, এমনকি শার্ট পর্যন্ত খোলেনি সে – কি জ্বালা ঘেন্না হয়েছিল সেদিন কৌরবের প্রতি কর্ণের – সেদিনের সমবেত বীর্যোৎসব শেষের শূন্য হাহাকার যৌন অ্যাকাডেমি পাইয়ে দিয়েছিল কর্ণমনে কৌরবকে – তাকে নিবৃত্তি মিথ, উদাসীন নিরাকার ব্রহ্মণ্যদেবে পরিণত করলো কর্ণ মন আর প্রেমে পড়ে গেল আনকনশাসে এ কামপুরুষের।

        যে উদ্দাম উচ্ছ্বল ব্রাইট অতীতেই কর্ণ আজো বেঁচে আছে, প্রবল হাঁপানিতে যা ইনহেলার মরু পানি, এ প্রসঙ্গ যদি কদাপি কেউ তোলে, কদাচ কেউ তোলে না – কিন্তু মা এ আঁধারে তোমায় কেমনে ভুলে রব – কৌরবের সঙ্গে দেখায় মন মদালসা হয়ে পুনরায় কর্ণের অঙ্গে অঙ্গে বাজে সাক্সোফোন, মাধুর্যের ম্যান্ডোলিন বেজে ওঠে ওই, রক্ততারল্য বেড়ে মাথায় হ্যামার করে কারণ কর্ণ ইক্যুয়েশন শুধু ১৮ তেই ভ্যালিড, সন্ততার শর্ত ১৮ তেই তাকে সন্ত করে রেখেছে।

        পুরুষকে দেখে স্বাভাবিক পুরুষের কদাপি কি রেতঃপাত হয়? হয়েছে? মহাকাব্যে দেখি শুধু পুরুষ আর পুরুষ, শুধু পৌরুষতন্ত্র, পিতার অনুশাসন, ঘেন্না ধরে যায়। রামায়ণ মহাভারত পড়তে গেলে তবে শুধু পুরুষসঙ্গই করে যেতে হয় একঘেয়ে। শুধু বক্তব্যে নয় - ফর্ম, স্ট্রাকচারেও ভক্ত ভগবান মহাকাব্যে সমকামী এসেন্স। গোটা মহাকাব্য জুড়ে দেখি পুরুষের যাবতীয় ক্ষরণেই গর্ভাধান ক্ষমতা বা বীজত্ব বর্তমান। ব্রহ্মর অশ্রু থেকে যে বালী সুগ্রীবের পিতার জন্ম তারই চুল (বাল) ও গ্রীবায় ইন্দ্র ও সূর্যের বীর্য পড়ে বালী সুগ্রীবের জন্ম। প্রজননক্ষম জরায়ু ও অন্ড-উভয় ময় উভলিঙ্গ দ্বৈতসত্ত্বাই তবে তাদের পিতা। এক সমকামের সন্তান হতে সমকামে উৎপন্ন সন্তান! ঘাম থেকে, গাছ থেকে, ভূমি থেকে, কলস থেকে, পরমান্ন থেকে সন্তান উৎপন্ন হয়। পশুকামও রয়েছে। হনুমানের বীর্য ভক্ষণ করে মকর হতে মকরধ্বজ! পুরুষ মাত্রেই যৌন অমোঘাচার, তার প্রেম মৃত্যু ঘৃণা ভয় তার ভালো তার মন্দ সবই যৌনতা, তাহার আন্ধার তার আলো শুধু ঢাকঢাক গুড়গুড়ের আড়ালে শুধু যৌন ভালো, যৌন ভালো। এত পুরুষ হওয়া তোমার আমার সয় না কৌরব!

        কর্ণ কৌরব সাক্ষাৎ হয়, যদি তাকে মিলন বলো, রাখাল ছেলের সঙ্গে ধেনু, কর্ণ তবে কৌরবরচিত কিছু কোটেবল কোটস্‌ আওড়ায়। মেহফিলে রঙ আসে। প্রসঙ্গত স্বাভাবিকভাবেই এসে পড়ে তাদের আল্লা উপনিষদ প্রকাশের প্রাথমিক দিনগুলোতে সংগঠন নিয়ে কাজিয়াও কর্ণকে পত্রিকার আদার গ্রুপের দেওয়া অবিচ্যুয়ারির সম্মান। কৌরবের মুখে এমন অচিন্ত্যনীয় ট্রিবিউট পাওয়ার কথা শুনে একেবারে হতভম্ব ও যারপরনাই আমোদিত হয়ে উঠে কর্ণের কৌরবের প্রতি কৃতজ্ঞতা আরো বেড়ে যায়। চতুর্থ পেগ শেষ হয় ব্রডওয়েতে, যেখানে কর্ণ কৌরবের আসা মেট্রোয় ‘হঠাৎ দেখা’ হয়ে এবং যে সাক্ষাতে কর্ণ তার অতীত সাপেক্ষে বর্তমানের কন্ঠা বের হওয়া ক্ষয়াটে শরীর ও কালচে হয়ে আসা মুখ লোকাতে পারেনি এবং কৌরবও তার পুরাতন এই ইনোসেন্সওয়ালা নির্মল অঞ্জনীয় সহজ রোম্যান্টিক বন্ধুটির জন্য অহৈতুকী ভালোবাসার খাতিরে ইতিহাসের দাম দিতে আজ অকৃপণ হবে এমতই স্থির করে। ইঁদুরের মতো চঞ্চলতায় গর্ভ থেকে বেরিয়ে আসা কর্ণমন – অ্যালিস আর বারবারা এই নাম্নী দুটি অপরিচিতা নারীর মধ্যে কাউকে বেছে নিতে বললে যে সে বলেছিল –  অফকোর্স অ্যালিস ইজ দ্য ওয়ান্ডার গার্ল, তার অবতারপ্রেমের অত্যাচারে অমন মেহফিলেও অস্বস্তি আসে সাগর দুভাগ করে দেওয়ার সক্ষমতা থেকেও মুক্তি চায় হয়তো কখনো অবতার, একেবারে বয় নেক্সট ডোর হওয়ার আকাঙ্ক্ষা কি তারও হয় না!



পঞ্চম পেগ শেষ হয়ে এলে কর্ন কৌরবকে বলে

-  এখনো ব্যাচেলার?

চিকেন পকড়ায় মন দিয়ে কৌরব বলেছিল

-হ্যাঁ...

-এহেন এলিজিবল ব্যাচেলার, শুনতাম তো তোর লেখার মেয়েরা অসম্ভব ফ্যান। কি হলো তাদের! তাদের মধ্যে কেউ প্রোপোজ করলো না!!

-না! ওরকম আলেফ লায়লায় হয়...



        এভাবেই নতুন করে কর্ণে লেখার ইচ্ছা মাথা চাড়া দেয়। এবং এই ইচ্ছা তার কান ঘেঁষে নয়, ঘষে ছিঁড়ে নিয়েছিল। কর্ণে creativity is his deadliest enemy বুক, পেট, মাথা সব বিগড়িয়ে যায়, টাকা গয়না সব বিকিয়ে ফতুর হয়ে যায়, তবু লেখা, তবু লেখা। লেখার জন্য মদ আর মদ খেলে লেখা। সব ভেসে যায় তবু লেখার নেশা, সমাজ সংসার মিছে হয়, জীবনের কলরব থেকে ক্রমে সরে যেতে যেতে আর সে কত পিছিয়ে কত স্থবির আর কত ফসিল হবে! শিম্পাঞ্জি ও মানুষের কোন নব্য মিসিং লিঙ্ক সে চলমান ফসিল হয়ে ফ্যা ফ্যা করে ঘুরে বেড়ায়। কৌরবের থেকে যত অ্যাভয়েডেন্স পেতে থাকে, রেকগনিশন না পেয়ে পেয়ে ততই কর্ণপ্রেমাবেগ মাত্রাছাড়া হয়ে ওঠে, এভাবে একদিন কর্ণমান সে কৌরব অবতার রূপে আবিষ্কৃত হয়...

        কর্ণের স্বাভাবিক হীনমন্যতাই তাকে দিয়ে দ্রৌপদীকে বেশ্যা বলায়। কারণ দ্রৌপদীর প্রতি বিকৃত কামফিভারে আজীবন ভুগেছে কর্ণ স্বয়ংবরে সূতপুত্র বলে দ্রৌপদীর প্রত্যাখ্যান না পেলে দ্রৌপদীতে কর্ণের পূর্ণ হক। পরে সূতপুত্রী তৃণাকেই সে বেছে নেয়। মেয়েটি গঞ্জের ও পিত্রালয় অতি দরিদ্র বলেই এযাবৎ বিবাহটি টিকে আছে। পাগলের করোটির মত শূন্য এ সংসার।

        অর্জুন কৃষ্ণকে দেখলে দ্রৌপদী সুভদ্রা ভুলে ছুটে যায়, চুম্বন প্রাবল্যে দেহে উষ্ণতা আনে। কৃষ্ণার্জুন পরস্পর বডি ম্যাসাজ করে, একে অন্যের শরীরে পা তুলে বসে থাকে... অর্জুন তো বৃহন্নলীয় বাইসেক্সুয়ালই আর কৃষ্ণ তো প্রকৃতিরমণ, প্রকৃতিময়। কৌরব কে যৌন উপহার দিতে চাওয়া কর্ণ তার দ্বারা চিরকাল শুধুই ব্যবহৃত হতে হতে কি এমন পেলো যাতে এমত আত্মসম্মান, ধর্ম ও স্ত্রী সত্ব উৎসর্গ করলো? I dont bother who is God, who is Brahmin, who is atman, i dont bother Veda or Buddha, I praise Kaurav, he is avatar to me. He is my own avatar - আমি, কেবল আমার আত্মসমর্পণই তাকে আমার, একান্ত আমার অবতার বানিয়েছে। সে অবতার আমি ভক্ত বলে তাই। আমি যদি মরি, ও হরসুন্দরী, দুর্গা নাম তো আর কেউ লবেনা। যেই হও, সু পুরুষ হয়ে আমার ঈশ্বর হও হে...!!!

কর্ণের দৈনন্দিন জীবন ওই, কুঁড়েমির পাঠশালা সে দু সপ্তাহে অন্তত একবার অতিরিক্ত অফিসকামাই দিয়ে জমিয়ে বসে বৃদ্ধসন্ন্যাসীর পীঠে — ওল্ড মঙ্ক পাঁইটে রামকিঙ্কর সে নিজের পাকযন্ত্র ফুঁসলিয়ে তোলে —আর চিরকাল অ্যাসিডের কারখানা সে উপর্যুপরি বমি করে যায় – তারপর আরো একপেগ বানায় – কিন্তু গলা দিয়ে নামতে পারেনা বলে পরে থাকে গ্লাসের তলানি – ঘরে ‘বার’ সুলভ এক আঘ্রাণ ছড়িয়ে পড়ে – কখন না জানি উদোম শরীরে কোনমতে জাঙিয়া এঁটে ঘুমিয়ে পড়ে -

        যখন মানসিক ভাবে পোদমারা যায় তখন শরীর ও সেই ভাবে রিঅ্যাক্ট করে। আমার অভিজ্ঞতা বলে বুড়োরা যত ভালো পোদমারতে পারে তার তুলনায় যুবকেরা একেবারে এলেবেলে, ঘ্যানঘ্যানে ন্যাকা। বুড়োরা তো মস্তিষ্ক দিয়ে যৌনতা করে, গোটা মাথাটাই হোলে ঢুকিয়ে দ্যায়! কর্ণের ঘনঘন পায়খানা পায়, গিয়ে হয়না, মা কালী খালি শিড়শিড়ানি, চাপ চাপ ভাব। anal এর স্পর্শকাতরতা খুব বেড়ে যায়। যখন মানসিক ভাবে ধর্ষিত হয় পুরুষ তখন অস্বাভাবিক সব অস্বাভাবিক হয়, এই মনে হয় কোইন্সিডেন্স এই মনে হয় অমোঘ যুক্তি শৃঙ্খল – পুরুষের সুঠাম লিঙ্গ দেখলে বা পুরুষ পাশে শুলে এক চরম ধর্ষণ ভয়, প্রবল অ্যানাল ফিলিং হয়। গুহ্যদ্বারে মানস সংবেদন হয়। এ প্রকৃতপক্ষে পোদমারা যাওয়ারই নামান্তর। যখন তখন বেগ আসে, বসলে হয়না, বসা অবস্থায় বড় হওয়া ফুটোয় অদ্ভুত সেনসিটিভিটি! তখন কল্পনায় আসে ডিলডো! যা এতবার হয়েছে, এবার আত্মপায়ু মিথুন করে দেখতে চায় কেমন লাগে! যা এতবার মানসে ঘটেছে যে যাবতীয় ভয় রেজিস্টেন্স বিতৃষ্ণা অতিক্রম করে তবে তাতেই হাল্কা হাল্কা আনন্দ পেতে থাকে! এ এক বিয়ন্ড প্লেজার প্রিন্সিপাল! যখন এক অবতার বানিয়েছি তখন নিজেই নিজের জন্য বেছে নিয়েছি অসীম যন্ত্রণা, বিরহে অবহেলায় বেদনার্ত হতে হতে মেসোকিস্ট হয়ে তবে আনন্দই অনুভূত হয়। সকল অবতার তত্ত্বেই হতে হয়। তারপর যখন অবতার কষ্ট দিতে দিতে আর সুখ পায়না, যখন আমি সম্পূর্ণত সমর্পিত – তখন সে খেলতে আসে সমব্যথী – মুক্তি দিতে বাধ্য হয়, সমবেদনা জানায়, সমব্যথী analy হয়ে ওঠে তবে সেও – analyse করেছে কর্ণ – অবতার কবে তোমারও ডিলডো লাগবে জানিও -

        কর্ণের বিবাহিত জীবন অতি দুর্বিষহ — তৃণার গায়ে হাতসে বিশেষ তোলেনা, যদিও মদ্যপ অবস্থায় তৃণাসঙ্গমে যথেষ্ট আপত্তি করে বলে খানিকটা ধর্ষকামই হয়ে ওঠে সে। গজমাংসে পুষ্ট শরীর ভোগ করতে দিতে বাধ্য থাকলেও তৃণা চুম্বনে যথেষ্ট নিরাসক্ত থাকে। এ প্যাসিভিটিতে মাতাল কর্ণের রাগ হয় —ক্রোধ কখনও মুডের উপর নির্ভর করে প্রবল হয়ে উঠলে তৃণার লোয়ার লিপ কামড়ে ধরে সে রক্ত বের করে দ্যায়। সেই নোনতা স্বাদ তার পুরুষত্ব কে অতি উত্তম স্তোক ও সম্মোহন দেয়। সে ধীরে ধীরে অবশ হয়ে আসে।

        এ হেন উত্তেজক মুহুর্ত যদিও কচ্চিৎ কদাচিতই আসে। বিবাহিত জীবনে নারীদেহ বড়ই সুলভ ও এখন রমণ অপেক্ষা হস্তরমণই বেশী তৃপ্তিদেয়। বিবাহের শারীরভাষ্য আবার বয়ঃসন্ধিতেই ফিরে যেতে চায়, বিবাহে love আর কিছুই থাকেনা, পুরোটাই লোকশান মনে হয় তবে। আত্মমিথুনই আমার প্রথম প্রেম, আর তারপর প্রস্রাব প্রকৃত পক্ষেই তাই গৌন যৌন সুখ। মাস্টারবেশনের সেকেন্ডারি, আফটার প্লিজার। তাড়িয়ে তাড়িয়ে উপভোগের বিষয়। বিবাহ পূর্বে এত অল্প সময়ের মধ্যেই পুনঃপৌনিকতার তৃণাদেহ কর্ণে যথেষ্ট উদ্বেগ ঘটায়। এখনো তো পরে আছে দীর্ঘবরষ মাস। বিবাহের আগে অকল্পনীয় এবাস্তব অভিজ্ঞতা কর্ণকে যুগপৎ হতাশ ও বিষ্ময়াবিষ্ট করে। এভাবেইতো টিকে আছে অর্বুদ বিবাহ, কার্স অফ সিসিফাস হয়ে, সিফিলিসের থেকে বেটার, এই যা। মুক্তি দেয় শুধু কল্পনা প্রতিভার স্বমৈথুন এবং যারা নিয়মিত তা করে তাদের শারীর বৃত্তিয় ভাবেই ঘন ঘন প্রস্রাব ও পায়! পেয়ে শেষে চাপতে না পেরে জ্যোতি বসুর পোস্টারে মূত্রপাতের মতো আস্পর্ধার কথা তাদের কল্পনায় আসে এবং এ যাবৎ সেই কল্পনা অপরাধের শাস্তি বলে যা ভাবা হচ্ছিল তার বাস্তব কারণ আবিষ্কৃত হয় – মিথুন ও প্রস্রাব তাই প্লিজারের ফাউ – পরস্পর সংযুক্ত ও সুখ প্রদায়ী!

        এক্ষণে কর্ণ কৌরব রিইউনিয়ানে ছয় পেগ শেষ হলে সে তাকে তৃণার কাছে নিয়ে যেতে চায়।



-না থাক, পরে একদিন যাব।

চিরকালীন কৌরবীয় পলায়ন বৃত্তিতে বিক্ষুদ্ধ হয়ে ওঠে সে।

-না, না, আমি কোনকথা শুনব না। আরে মদ্যপান করার পরেই তো নারী কে আরও সুন্দর লাগে, অভিসার নান্দনিক হয়। দু একটা চুমু ও খেতে পারিস। যেমন সুনীল সদ্যবিবাহিতা সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়ের স্ত্রী রীণাকে বিনা আলাপেই চিঠিতে লিখেছিল।



চকিতে অজানক তার মাথায় প্লে করে তৃণার নিরাবরণ দেহ ও কৌরবসঙ্গ তাতে সংশ্লেষিত হয়ে মেশে। এ চিত্রকল্প থ্রিসামের। যে দেহ একক ভোগে ভোগে এখন শিথিল আলুনি অনুভব দেয়, তার থেকে উত্তরণ ও অভিনবত্ব আনয়ন করে নব্য রূপে আবিষ্কার করতে চায় তৃণাকে ও তৃণার সঙ্গে সম্পর্ক সঙ্গম কে। এ ট্যাবু সেক্সপিডিশনে অন্য মাত্রা এনে দিতে পারে, শুধু দৈহিক ও পাহাড় ছাড়াও মানসিক ট্রেকিং করা যায়, ডাঁটা চোবানোর থোড় বড়ি একঘেয়েমি মনই মন থেকে সরিয়ে দিতে পারে। তৃণার দেহের উলঙ্গ খুঁটিনাটির বর্ণনা দেয় যেন ভোগ্যপণ্য বেচতে হবে কোন সেলসগার্ল! নাভিও যোনির মাঝা মাঝি জন্মদাগটি অতি চমৎকার সেক্সসিম্বল – আর কৌরব মন কতটা লাইট আর কতটা এনলাইটেন্ড ভাবে একে নিতে হবে তার অঙ্ক কষে চলে ওই!

        যেমন লক্ষণ সুমিত্রা ত্যাগ করে চোদ্দবছর বনবাস পর্ব জুড়ে ব্রহ্মচারী, ভরত যেমত অযোধ্যারাজ প্রাচুর্যে ত্যাগ করে চীর অজিন জটাধারী আশ্রমিক, হনুমান যেমত কঠোর ব্রহ্মচর্য ব্রতে মগ্ন সেল্ফহিপনোসিস, সুগ্রীব যেমত চিরকালীন তারা লিপ্সা ত্যাগ করে যুদ্ধে নিরত... – দেখি যাহা রাম হ্যায় উহা কাম নেহি – রামের স্তাবক গণ সকলেই নারীসঙ্গত্যাগী কৃচ্ছসাধনত, আত্মনিমগ্ন আত্মনিপীড়ক – অবতারে যার যা কর্ম তা সকলই ব্রহ্মচর্যে, বৈরাগ্যে, ত্যাগে। কামরহিতং। নারী স্বাভাবিক কাম ছেড়ে পুরুষের একমাত্র কামনা অবতারপুরুষ। তার এতটুকু সহানুভূতি কৃপার জন্য কতই না মরণপণ। ট্যাক্সির চাকাঘুরতে থাকে, কৌরবের আজন্ম কঠিন ইমেজ কনশাস সংযমী চরিত্রটি তার দাসানুদাসের নিজস্ব নারী বিষয়ে কি খানিক উৎসুক্যবোধ করে? বুঝে নিতে চায় তৃণা সম্ভাবনা যে আশ্চর্যজনক ভাবে কর্ণনামক পুরুষের নারী দুর্ভাগ্যজনকভাবেও হয়তোবা এ ঘটনার কি যবনিকা হয় ও তৎপরবর্তী দাম্পত্য সম্পর্ক কল্পনা করে চুপ করে ট্যাক্সিতে বসে থাকে। চাকা ক্রমশঃ ছুটতে থাকে উত্তর কলকাতা শহরতলির দিকে। কর্ণ খ্যা খ্যা করে হাসে, হেউ হেউ করে বিকট অসভ্য ঢেকুর তোলে। তার মাথা নাই কারণ বুদ্ধিও ঈশ্বরেরই। তার তো শুধু মাত্র ভক্তিসম্বল, এবং অবতারকে দেওয়ার মতো এতদাপেক্ষা বড় ভক্তিপ্রমাণ ও প্রণামী তার জানা নেই।

প্রভূত লজ্জার আমাদের এ হতভাগ্য সভ্যতায় পর্ণফিল্মেও একটি করে গল্প লাগে। অনেক অ্যাবর‌্যাকাড্যাবরার সঙ্গে চরম অসংলগ্নতা এ গল্পে স্পষ্ট অথবা পাঠক বলে কোন বস্তুর কথা সম্পূর্ণ উপেক্ষা করে এ গল্প নিজেকে সুকুমার রায়ের ‘বাজেগল্প’ করে তুলতে চায় প্রাণপাতি। কার্যকারণহীন, সেল্ফকনট্রাডিকটারি, অন্ধবিন্দুময়, ঘটনাহীন অসম্ভব একঘেয়ে ‘বাজেগল্প’ই এ লেখার ইন্সপিরেশন, আমি ও ভ্রম/ ত্রুটিসংশোধন রূপটীকা লিখতে পারি এ গল্পের, তা বোঝাই যাচ্ছে, কিন্তু সুকুমার ভুলগুলো দেখিয়ে না দিলে গল্পটা ‘বাজে’ আর হতেই পারতনা! গগনকুসুমখপুষ্পী উল্টোপাল্টা বকাই, ঘটনাহীনতাই এ গল্পের ফর্ম, মোটিভ, স্ট্রাকচার। সুকুমারের অর্থে নয়, বাস্তবিকই গল্পটা বাজেই। আর এত সম্ভাবনার মধ্যে কোনরকমই পরিণতি পেলনা শুধু একই কথা বলে গেল ঘুরিয়ে ফিরিয়ে, একি জ্বালাতন মনোটোনাস!

        তবুও শেষে বলি কিছু শেষ কথা। কর্ণের তবু নারীসঙ্গ ছিল, যতই দুর্ভাগা হোক, তাকে, গল্পের নায়ককে, ন্যালাখ্যাপাটা কে অন্তত এটুকু সৌভাগ্য দিয়েছিলাম। সে ব্যাটা নিজেই ল্যালল্যাল করে নালঝড়ানো কৌরব করে করে তাও হারালো হেলায়। তবু তার ভরসা আছে – না চাহিলে যারে পাওয়া যায়/ তেয়াগিলে আসে হাতে/ দিবসে সে ধন হারিয়েছে/ পাবে আঁধার রাতে। লেখকের অত সৌভাগ্য নেই। একটিও বান্ধবী তার কেউ কোথাও নেই। মোবাইলে একজনও নারীর নাম্বার সেভ করা নেই। তার নারী হীনতা, এই মাইল মাইল শুখা তৃষ্ণা তার তাকে কি বাধ্যতঃ সমকামিতার দিকে ঠেলে দেয়? বেঁচে থাকতে গেলে সমাজে তো অন্ততঃ একটু কমিউনিকেট করতে হয়, দুটো বা তিনটে কথা জেনে বা না জেনে, তাতেও কেবল পুরুষেই নির্ভর করতে হয়। তারও লিবিডো আছে, নিরুপায় হয়ে রিলিজড করতে হয় পুরুষেই –একক জানালায় বসে মহাকাল পুরুষসুলভ নিঃসঙ্গ নারীহীন দারুচিনি দ্বীপে কল্পনা প্রতিভা আর কত কত দেবে? আর পুরুষ আধিক্যে নারী চলে যায় লেসবিয়ান মোডে? যদি কর্ণ কৌরব তৃণায় থ্রিসাম হতো তবে কি কর্ণ ও কৌরবের শরীর ও পরস্পর মিলে যেতনা! ঔঁ ঔঁ শান্তি শান্তি পেত তবে কর্ণভক্তি। সুগ্রীব যখন তারা রুমা বা যখন রাবণ বোধে তার অন্দরমহলের স্ত্রীরা পরস্পরকে আলিঙ্গন করে শুয়ে থাকে তখনও কি প্রমীলাদের শরীর শরীরে মিশে যায় না? তবুওবলি‘গে’সিনঅপেক্ষালেসবিয়ানঅনেকনান্দনিক।নারীরসমকামঅনেকসহজ, নারী তে নারীতে কদাপি গভীর সখীত্ব হয়না, একবার হলে তবে তা লেসবিয়ানের মতোই অনুবাদ আর অবতারের বিষয় আশয়ে নারী তো স্বভাবসিদ্ধা! তার ও বিরাটপুরুষের যোগ যে স্বভাবকাম! তাই নারী নারী কামসিদ্ধ, পুরুষ পুরুষে শুধুই ঘর্ষন হয়, বিকর্ষণ হয়, ফালতু নষ্ট হয়ে যায় অধ্যাত্ম অথচ নারী কি পুরুষে কি নারীতে কি পতিত্বে সখীত্বে লাগি লাগি লগন, কি স্বচ্ছন্দ্য স্বাভাবিক স্বভাবসিদ্ধা ভাবো তো! তখন বারংবার লেখকও তার যাবতীয় একা, মদ্যপ, উন্মাদ প্রায় নায়কেরা; লেখকেরই প্রতিফলন তার গল্পের নায়কেরা নিজের পুরুষত্বকে ধিক্কার দেয়। অক্ষম করো কি খোজা, সহস্র বছরের একাকী পৌরুষত্ব থেকে মুক্তি দাও। তবেই মোক্ষলাভ হয়েছে বলে ধরে নেব অবতার। নারী হলে, যতই কুরূপা হোক, তার নির্বাচন আছে প্রত্যাখ্যান আছে তার চাহিদা জোগানের সৌন্দর্য বাজার রয়েছে জানি। তাই নারী atleast এমত ‘বাজেগল্প’ লেখেনা। এই জন্মেই যদি হায় একাধারে বাবা ও মা হওয়া যেত!

        তোমাকে ব্রহ্ম বলি, ক্রমে সোহহং প্র্যাকটিশ করে করে ব্রহ্মস্বয়ং হই, সর্বক্ষমতাসম্পন্ন ব্রহ্মরূপে নিজেকে দাবি করি তোমাকে আদ্যাশক্তি বলি, ক্রমে তপস্যার শেষে হই প্রকৃতি রমণ। নিজেকে প্রাকৃতিকে উন্নীত করি। তোমাকে আমি আমারই স্বার্থে স্বদন্ত ঈশ্বর বানাই, অবতারত্ব আরোপ করি সে তো নিজেকেই নিজে ভক্তি করবো বলে, ভক্তের অহংকারে উন্মাদ হব বলে তবে ক্ষ্যাপা খুঁজে ফেরে মানবে ঈশ্বর।

        এক ছিল – বিভক্ত হল – আবার মিলে যাওয়ার কামনা লয়ে ফেরে ব্যর্থ আমরণ!

        যাহা রাম তাহাই কাম, যাহা শাস্ত্র তাহাই রমণ!

জ্ঞান ভক্তি কর্ম – সত্ত্ব তম রজঃ – দশেন্দ্রিয়, মন চিত্ত বুদ্ধি অহংকার – ধর্ম অর্থ কাম – সাংখ্য তন্ত্র তর্ক – ছয় রিপু পঞ্চ ভূত যা যা পাও তাই দিয়ে তাকে লুটে নাও। তাকে ভাবতে বাধ্য করাও আমিও সে দুইদেহ এক আত্মা।

        রাধার মত বলো তুমিও আমি উভয়েই এক বুড়ি চাঁদ দেখছি, তাই মিলে যাচ্ছে আমাদের নয়নযুগল, তুমি আর আমি এই পৃথিবীতেই বর্তমান আছি একই সময়ে, তাহাই কেবলানন্দ, সহজ বিরহে বেঁচে আছি।

        ধে ধে ধে রঙ্গ ভঙ্গ/বাজে অঙ্গ সঙ্গ মৃদঙ্গ/ গাইছে ছন্দ ভকত বৃন্দ/    আরতি তোমার – শুভ শুভ, শিব শিব আরতি তোমার। শ্রী চরণে শ্রী কৃষ্ণায় অর্পণ মস্তু।

ওঠ ছুঁড়ি তোর বিয়ে!

And they lived happily ever after ও এরকম অসংখ্য মাল্টি পল ওপেন এন্ডিংয়েরা...

 অর্ঘ্য দত্ত বক্‌সী
Argha Datta Bakshi