Showing posts with label Text. Show all posts
Showing posts with label Text. Show all posts

Tuesday, March 14, 2017

একটি শিকারকাহিনি-র শেষ পর্ব : সর্বজিৎ ঘোষ

একটি শিকারকাহিনি-শেষ পর্ব

কল্কিকথা
প্রথম প্রথম সারাদিন একটা ঘরে নিজেকে আটকে রেখেছে অনিমেষ। আশ্চর্য হয়ে সে অনুভব করেছে, ক্রমশ খিদের ভাব চলে যাচ্ছে তার, চলে যাচ্ছে ঘুম। এমনকি আগুনে তার হাত পুড়ছে না, খোলা তারে হাত দিলে ঝটকা খাচ্ছে না। তার কুঁচকিতে যে প্রচুর চুলকানির দাগড়া দাগড়া ছোপ ছিল, রক্ত গড়াতো আর ইস্কুলে সাদা প্যান্টে সেই দাগ দেখে হেসেছিল আর চাঁটি মেরেছিল ক্লাস ফাইভের কিছু নিষ্পাপ শিশু, সেসব চুলকে আর তার আরাম হয় না। ঘড়ি ধরে একবার দম আটকে রেখেছিল, তিনশো ছাপান্ন ঘন্টা বাহান্ন মিনিট উনতিরিশ সেকেন্ড পর একঘেয়ে লাগায় বিরক্ত হয়ে দম নিতে শুরু করে আবার। এসবের মধ্যে কাজের কথা একটাই, ঘুম না হলেও ঘুম তার পাচ্ছিলই, পেয়েই চলেছিল। যাবতীয় সময় তার কেবল ঘুম পেতে থেকেছে, কিংবা এই গোটাটা, এই যাবতীয় ঘর-ঘুম-আগুন-নিঃশ্বাস সবই এক ঘুমের মধ্যে ভাবতে থাকা যে এবারেরটা অন্তত স্বপ্ন নয়, এইতো যা হচ্ছে সত্যিই হচ্ছে, এরকমই তো হয়...
কেবল এই ঘুম পাওয়ার বিরক্তিতেই বাইরে এসেছিল অনিমেষ। সময়ের হিসেব ছেড়ে দেওয়ার পর থেকে, তার কেবল মনে পড়ে নিজেকে সে শুয়ে থাকতে দেখেছে, প্রবল ঘুমে চোখ বুজে আসতে দেখেছে, অথচ ঘুমোতে দেখেনি। এখানেই মনে পড়ে, সে যেন কীভাবে নিজেকে দেখে চলেছে, যেন একটু দূরে দাঁড়িয়ে, ছোলাভাজা চিবোতে চিবোতে তার মনে হচ্ছে নিজেকে দেখে গাড়ল ও প্রতিভাবান, নিজেকে শুয়োরের বাচ্চা বলে সে গাল দিচ্ছে এবং ভাবছে এই শটটা খানিক অল্প চিপ করে মারতে হতো, কিংবা গাল দেওয়াও আসলে তার ভান, তার আদতে কিছুই যায় আসে না। সুতরাং প্রবল ঘুমের তাড়নায় অনিমেষ মনে করতে পারেনি, সে কীভাবে ভাসতে শিখেছিল বাতাসে, মনে করবার কথাই মনে পড়েনি তার। কেবল বাইরে এসে অনিমেষের মনে হয়েছিল, খানিক সর্ষের তেল পেলে চোখে ডলে দেখতে পারে সে, যদি ঘুম পাওয়া থেমে যায়।
সুতরাং সেসময়ে সারা পৃথিবীর কাজ চলেছিল একেবারেই নিজের নিজের তালে, যা যা চলা থামিয়েছিল সেও কেবল তখন তাদের থামার কথা ছিল বলেই। এককথায়, সবই পূর্বনির্ধারিত বলে অনিমেষ ভেবেছিল, এবং তার ভাবনা দিয়েই এরপর থেকে সব প্যাঁচ খেলা হবে। অনিমেষ ঘুমচোখে চলে গিয়েছিল বাসস্ট্যান্ডে, আর বাসে উঠে খেয়াল করেছিল এখানে সর্ষের তেল পাওয়া যায় না এবং এখানে বড় ভিড়। 'ঘুম পাচ্ছে', একঘেয়ে গলায় সে বলেছিল। কেউ তার কথা শোনেনি, বরং পাশের মেয়েটি তার দিকে কড়া চোখে তাকিয়েছিল, ঢুলন্ত অনিমেষ তার গায়ে ঢলে পড়েছিল বলে। ঠিক সেইমুহূর্তে অনিমেষ প্রথম রাগতে দ্যাখে নিজেকে। এমনিতেই তার মনে হতো এতদিন ধরে, রাস্তায় যে কোনো পাঁচজন মানুষকে চড় মারলে ষষ্ঠজন তোমায় যেচে এসে পাঁচটাকা দিয়ে যাবে, এভাবে কত রাত সে কেবল ব্যথার হাতে বোরোলিন লাগিয়ে কাটিয়েছে, আর সেসব রাগ তার মাথায় চড়ে গেল মেয়েটিকে কড়া চোখে তাকাতে দেখে। অনিমেষ ভীষণ জোরে চকাস শব্দে মেয়েটির ঠোঁটে চুমু খায়, দুহাতে মেয়েটির মাথা চেপে ধরে, এবং আরেকটি চুমু খাওয়ার আগে যখন মেয়েটি মোচড়ামুচড়ি করছে আর বাসের লোকেরা চকিত হয়ে মজা দেখছে, অনিমেষ বলে, এক্ষুণি চাইলে দুচোখে আঙুল ঢুকিয়ে দিতাম, কিংবা ন্যাংটো করলে তো দেখব সেই এক বিচ্ছিরি দলা দলা মাংস, অতএব জামা পরিয়েই যে চুমু খাচ্ছি এতে খুশি হও মেয়ে। এখন, এতসব কথা অনিমেষ মুখে উচ্চারণ করেনি, বাসের মানুষ তাকে প্রচণ্ড হইহট্টগোলে ঢেকে ফেলছিল বলে তার বিরক্ত লাগতে শুরু করে, সে লহমায় দেখতে পায় ইঞ্জিনের উপর মলয় নামের সাদা বেড়ালটি, এবং অনিমেষ উচ্চারণ করে

Saturday, March 4, 2017

মনোলগ : ০৬/০১/২০১৭ - রঙ্গন রায়

মনোলগ : ০৬/০১/২০১৭

"এবং আরো কিছু ভুল করবার জন্য আমাকে আরো কিছুকাল থেকে যেতে হবে!"
-      রতন দাশ

আমি নিজের মত এঁকে নিতে পারবো। ভুল হলে হবে। তবুও তো নিজের মতো। অদ্রিজার আঁকা পোর্ট্রটে আমি শুধু পার্টিকুলার কোন এক জনের মুখের সমস্ত রেখা লক্ষ্য করতে পারবো, কিন্তু নিজের মত নয়। যেভাবে অদ্রিজা দেখাবে ওভাবেই দেখতে বাধ্য। আমি নিজের মত দেখতে চাইছি, হয়তো আমার ইচ্ছা হলো পুজার দীর্ঘ চুল বাঁধার ছবিটাতে চুলগুলো এলোমেলো হোক - ঘাড় ও গলার পাশ দিয়ে নেমে আসুক বা ভেজা চুল পাতলা পিঠে ভারী ভাবে লেপ্টে আছে - চোখের পাতায় তিরতির করছে বৃষ্টির জলনাহ্! এসব আমাকেই আঁকতে হবে। কেউ আমায় সন্তুষ্ট করতে পারলোনা, সম্ভব নয়। ইজেল, ক্যানভাস ভেঙেচুরে এইসব আঁকিবুকি অনিবার্য ভাবে আমারই জন্য

এই সেদিনও আমি 'কালাশনিকভ'এর মানে জানতামনা। যখন জানলাম তখন থেকেই মাথার ভিতর শুধু একটাই ধুন "কালাশনিকভ - কালাশনিকভ"... কি যে এক অদ্ভুত ধূন জানিনা। এরকম হয়। অনেকেরই হয়তো হয়। আমারও আগে হয়েছে। অথচ দ্যাখো AK 47 আমি বাঁটুল দি গ্রেট থেকেই শুনে আসছি। কালাশনিকভ কে আমি আমার মত করে কিছু একটা ভেবে নিয়েছিলাম। সেটাও এখন মনে পড়ছেনা।

Tuesday, February 28, 2017

“Everything I told you before is a lie” - একটি দেবীপক্ষের Travelogue : রাজর্ষি মজুমদার

“Everything I told you before is a lie” - একটি দেবীপক্ষের Travelogue


যে মেয়েটি কাফকা অন দ্য শোর পড়ছিল সে ধানবাদে নেমে গেছে আমাদের কামরার প্রত্যেকের ব্যক্তিগত চাউনিগুলো আমি ঢুকিয়ে রাখছি একটা বাক্সে চিন্তা হচ্ছে জামাকাপড়ের জন্যআশ্বিন শেষের ভরা একটা রোদ এখন রেলের জানালায়। এই আলো, এই জানালা, নীল রঙ মাখানো হাত সব রেলের। একটা একটা করে দৃশ্যকল্প, একটা একটা করে কথা সরে যাচ্ছে , সরে যাচ্ছে আমার Dissertation শুখা মাঠ, ছিরিছাঁদহীন বাড়ি ঘর দোর পেরোতে পেরোতে প্রশ্ন জাগছেএরা কি সমকামকে স্বীকৃতি দেবে?

একটু পরে সূর্যাস্ত দেখব – কোডারমার ধাপে ধাপে নেমে আসা জঙ্গল, ধূসর পাথুরে খাদের ওপর জেগে থাকা বৌদ্ধ বিহারের ছবি তুলে রাখতেই হবে আমায়। এসব ছবি কাজে লাগবে লেখার সময়, দিন এগারো পরে এ বিকেল পড়ে আসার ঘটনা নিয়ে লিখতে বসে।
মাঝে মাঝে স্বপ্ন আর সিনেমা ছাড়া লেখাতেও আমরা সময়কে সম্প্রসারিত করতে পারি বোধ হয়? এই পারাটা আসলে পাঠকনির্ভর। স্বপ্ন আমরাই তৈরী করি , আমরা সিনেমাও তৈরী করতে পারি। কিন্তু পাঠক ছাড়া বোধহয় লেখা তৈরী হয়না।  
এই যেমন এ লেখা লিখতে লিখে আমার কাছে সময় অনেকগুলি অস্তিত্ব হয়ে ঘোরাফেরা করছে। হয়ত পাঠক বেছে নেবেন তার মধ্যে একটা – লেখাটার একটা নতুন সময় তৈরী করবেন তিনি। এসব ভাবতে লিখতে একটা ফ্লেক ধরাচ্ছি আমি, ধোঁওয়াটুকু ছাড়ছি দশদিন আগের সময়ে  – যেখানে আমি আদিত্য আর শ্রীরাগ টিনের টেবিলটার ওপর পা তুলে দিয়ে সিগারেট টানছি চেয়ারগুলো পেছনের দিকে ঝুঁকে গেছে, বাইরে একটা পাতাও নড়ছেনা এমন গরম। আদিত্য ওর Dissertation এর কাজটা নিয়ে বলছিল – cinema তে  time and space এর ব্যবহার স্বভাবতই আমার কথায় তারকোভস্কি চলে এলেন ... তার ওই হালকা নীল টোনের আকাশে মিশে যাওয়া জনারের ক্ষেত , বেড়ার ওপর সিগারেট ফুঁকতে থাকা মারিয়াকে নিয়েজঙ্গলের সেই গাছগুলোর জ্যামিতি বা বরফের ওপর ডাঁই করে রাখা কাঠের ভিস্যুয়াল থেকে একটা পাপিয়ার ডাক ছুটে চলে এল নদীতীরে। সেখানে নগ্ন প্যাগান মেয়েটি চোখ দিয়ে প্রশ্ন ছুড়ে দিচ্ছে – “ What sin? Tonight is for lovemaking; is love a sin? ”  
তাকে নিয়ে আমার আজ নদীতে যাবার কথা  

সিগারেটটা ঘুরছিল টেবিলের চারদিকে – হাতে হাতে। ঠিক এইসময়ই আমার মুখের কথা কেড়ে নিয়ে শ্রীরাগ বলে ওঠে – “ He was a magician. By his works he just said all the Soviet montage movement filmmakers that – “You guys just … just fuck of! Film is not all about theories, technicality, cutting. It’s about playing with time and space.”

Thursday, February 16, 2017

ঋপন ফিও একটা গল্প ভেবেছে

ঋপন ফিও একটা গল্প ভেবেছে

তো এক দেশের মানুষ ভাত খেতে ভালবাসত আকাল পড়ার আগে। আকাল পড়ায় অগত্যা বাধ্য হয়ে মকাই। প্রথম প্রথম গলা দিয়ে নামতে না চাইলেও আস্তে আস্তে সয়ে গেল। তারপর এল সেই মোক্ষম দিন। খেতে বসা সন্তানের করুণ মুখের দিকে চেয়ে থাকা এক জর্জরে মা আনমনে বলে উঠল~ বালের ভাত, মকাই ঢের ভাল... আর কি, একজন একজন করে এবার সবাই গুণ গাইতে শুরু করল মকাই এর। ধীরে ধীরে দেশের মানুষ ভুলেই গেল ভাতের স্বাদ। শুধু একজন পারল না কিছুতেই। ডাইনী সন্দেহে তাকে পিটিয়ে মারার আগে অব্দি পাতে মকাই নিয়ে বসে সে শুধু ভাতের কথা ভাবত।
















ঋপন ফিও
Reepan Fio

Tuesday, February 14, 2017

কয়েকটি কুকুরের চিৎকার : সুমন মজুমদার

কয়েকটি কুকুরের চিৎকার

তীর্থ ট্রেনে বাড়ি ফিরছিল। সকালে বেরিয়েছে দুই-তিনটে জায়গা ঘুরে, বেশ অনেকগুলো তামাক খেয়ে বেশ হাবুডুবু হয়েই ট্রেনে উঠেছিল শিয়ালদা থেকে। দশটা তিরিশের বনগাঁ লোকাল, এই নামে একটা সিনেমাও হয়ে গেছে বোধহয়। এসময় ভীড় থাকার কথা নয়, বসার সিট অন্তত পাওয়া যায়, যুদ্ধ না করেই। তীর্থ সিনেমা দেখতে ভালোবাসে, তবে আজকাল বিশেষত ডিসকভারি এবং ট্রেভেল চ্যানেল-ই সে দেখে। কি সুন্দর দেখায় চায়না অথবা ইস্টার্ন এশিয়া। সবুজ ল্যান্ডস্কেপের মধ্যে সুন্দর হাসিমুখের মানুষ তাদের রঙ বেরং এর খাবার, জামাকাপড়। তীর্থ ঠিক করে রেখেছে যে সে এশিয়ার এই দেশগুলোয় একবার অন্তত যাবেই। আজকাল এমনকিছু কঠিন খরচপাতি-ও পড়েনা। দুবার কাসৌল যাবার পয়সা জমাতে পারলেই যাওয়া যায়।

তীর্থর তামাক খেয়ে নেশা হয়ে গেলে চশমাটা ভারি লাগতে থাকে, এসময় তার সন্দেহ হয় চোখের পাওয়ার কমে গেছে কিনা, অথবা তীর্থ মনে মনে ঠিক করে আগামী চশমাটা ফাইবার-এর বানাবে। কাঁচের ওজন ভারি। তীর্থর মনে হয় যেন চশমা পরে থাকার ফলে সে আশেপাশে কিচ্ছু দেখতে পাচ্ছেনা, এ সময় মাথা ভারি লাগে, চোখ অন্ধকার হয়ে আসে। তীর্থ নিজেকে সামলে ফেলে এই সময়গুলোতে। চশমা খুলে ফেলে, গভীর শ্বাস নেয়। বেশি বাড়াবাড়ি হলে চোখে জল ছেটায়। অনেকদিন আগে ডাক্তার লো-প্রেশারের কথা বলেছিল, সেটাও একবার মনে পড়ে যায়।

Monday, February 6, 2017

একটি শিকারকাহিনি : সর্বজিৎ ঘোষ

একটি শিকারকাহিনি

মলয় নামের সাদা বেড়ালটিকে যখন বসে থাকতে প্রথম দ্যাখে অনিমেষতখন সে ছিল একটা অটোতে।

এখানে এসে প্রথমবারের মতো গল্পটা একটা লাল ঘরে ঢুকে যায়। লাল ঘরের আলো ছিল নরম লালআসলে লাল ঘরটা ছিল গোলাপের দুই পাঁপড়ির ভিতর গভীরে কোন এক বিন্দুতে আলম্বিত। সেই লাল ঘরের মেঝেও হওয়া উচিৎ লালকিন্তু অনিমেষ লাল মেঝের ঘর শেষ দেখেছিল তার মামাবাড়িতেদোতলার পুব দিকের ঘরটায়। সেই লাল ঘরেই মামা মামির ফুলশয্যে হয়অনিমেষ তখন বছর বারোর। মামির ছেলে মেয়ে হয়নিমামি ছিল ভীষণ মোটামামি দুপুরবেলা একা একা ভুল বকতে বকতে কখনো পড়ে যেত সেই লাল ঘরের মেঝে ফুঁড়েগোলাপের দুই পাঁপড়ির মাঝের ঘরটায় এসে পড়তোতার পর আরো আরো গভীরেঠান্ডা বেরঙ অন্ধকারে ভেসে পড়তোযেন নীচ থেকে লক্ষ লক্ষ হাত মামিকে ম্যাজিক করে হাওয়ায় ভাসিয়ে রাখছেম্যাজিশিয়ানদের হাত অল্প অল্প নড়ছেভীষণ লাল একটা কিছু ঢেউয়ের মতো লকলক করছে চারদিকে ঘিরে। মামা রাতে অফিস থেকে ফিরে মামিকে খুঁজে পেত নাচিলছাদে গিয়ে খিদে পেটে ঘুমিয়ে পড়তো। মামির পোষা দুটো বেড়াল ছিলযাদের একটা ছিল সাদার মধ্যে বাদামী ছোপছোপ। সেটা ছিল খুব রোগামানুষ হলে নিমাই বলে আওয়াজ খেতো এমন রোগাসেটা একগাদা বাচ্চা দিয়েছিল একবার। সেসব বেড়ালদের মধ্যে কারো নাম মলয় ছিল না বলেই অনিমেষের ধারণা।

Tuesday, January 31, 2017

দ্রিম দ্রিম-৩ | মোমরঙ : দোয়েলপাখি দাশগুপ্ত

দ্রিম দ্রিম-৩ | মোমরঙ

একটা নিরিবিলি ঘরে দাঁড়িয়ে আছি আমি। পাশের হলঘর থেকে কোলাহল আসছে। লোকজনে গমগম করছে ঘরটা। হাসির হররা... ওয়াইন গ্লাসের টুংটাং... মোমের আলো। খাবারদাবার, সুগন্ধি... দামী পোশাকের, ভেলভেটের, সুয়েডের খসখস... আমি ঘরটার দিকে মুখ করে অন্ধকারে দাঁড়িয়ে আছি। খুব কম সময়ের জন্য পাচ্ছি বাবাকে। এর মধ্যে যতটা দ্রুত গুছিয়ে নিয়ে দেখাতে হবে আমার কাজ। আমার কাছে ছাপানো কিছু কি আছে? আমি কোনও পোর্টফোলিও করেছি? আমার ক্যামেরা ভর্তি ছবি। প্রচুর ছবি। ডেভেলপ করিনি। ডার্ক রুমে ঢোকা হয়নি বহুদিন। কিন্তু আমি করছি বাবা। অনেক কাজ করছি। তুমি ব্যস্ত তাই... বাবা একবার এঘরে এলেন। উনি আমার সঙ্গে বেশি কথা বলেন না। কারওর সঙ্গেই না। বাবাকে ঘিরে আছেন প্রচুর মানুষ। আর্ট গ্যালারি, ক্রিটিক, ছাত্র অনেকে। এঁদের মাঝে আমার যাওয়ার কথা নয়।

Sunday, December 4, 2016

বাংলা কবিতার প্রসঙ্গে, দলীয় আদর্শ আর একটি বিনীত প্রশ্ন : চান্দ্রেয়ী দে

বাংলা কবিতার প্রসঙ্গে, দলীয় আদর্শ আর একটি বিনীত প্রশ্ন

আজ। অর্থাৎ কাল বা পরশু নয়। একমাস আগের বা একমাস পরের কোনো দিন নয়। এই আজ সময়টা আজকের সময়েই একমাত্র অস্তিত্ববান। কিন্তু, আজ-এর মধ্যে আছে গতকালের ছায়া-র শীতলতা, গতকালের রোদের তাপ, আর আছে আগামীকালের আলোছায়া কে অনুভবের রসদ। আজ এর মধ্যেই আছে গতকাল নেওয়া শপথ, আছে আগামীকালের রুটম্যাপ - পথ চলার দিশা, পাথেয়। তাই আজ, বস্তুত কাল বা পরশু থেকে আমূল বিচ্ছিন্ন, আপাদমাথা যোগাযোগহীন নয়।

দল। ‘দ’ আর ‘ল’-এর একটিমাত্র বিশেষ বিন্যাসেই ‘দল’ শব্দটি তৈরি হয়। একটিমাত্র বিশেষ বিন্যাসেই তৈরি হয় এর ভাবটিও। সময় ও পরিপার্শ্ব অনুযায়ী তার ভাবনা ও তার প্রকাশ বদলে যেতে পারে। কিন্তু শপথ আর পাথেয় আমূল পরিবর্তনশীল হতে পারেনা। পারে, যদি সেই দল, দলের ব্যক্তিবর্গ, সময়ের দাবী মেনে নিয়ে, প্রয়োজনীয়ের অভাব বোধ ক’রে অন্য কোনো বিন্যাসে বিন্যস্ত হয়ে ওঠে, হয়ে ওঠে অন্য কোনো দল। দল যদি আধার হয়, তার আধেয় এক বা একাধিক ব্যক্তি। এখন, স্থান, কাল অনুযায়ী পাত্র তার অবস্থান পরিবর্তন করতে পারে, এমনকি আমূল পরিবর্তনও এক্ষেত্রে সম্ভব। কিন্তু, কোনো দলের পরিপ্রেক্ষিতে ব্যক্তির ব্যক্তিগত অবস্থানের চেয়েও বেশী গুরুত্বপূর্ণ তাদের পারস্পরিক অবস্থান। কোনো দলের সদস্য-ব্যক্তিবর্গের পারস্পরিক অবস্থান সম্পূর্ণ পরিবর্তিত হয়ে গেলে, সেই দলেরও সম্পূর্ণ পরিবর্তন অর্থাৎ অন্য কোনো দল হয়ে ওঠা স্বসিদ্ধ।

নাম। একটি বিশেষ স্থানিক-কালিক-সাংস্কৃতিক পরিমন্ডলে কোনো নাম, যেকোনো নাম কোনো বস্তুর সনাক্তকরণে ব্যবহৃত হয়, যদিও নামের গঠনের সঙ্গে বস্তুর অস্তিত্বের যোগাযোগ সম্পূর্ণ কাল্পনিক। সনাক্তকরণের, পারস্পরিক সংযোগের (কমিউনিকেশনের) প্রয়োজনীয়তা স্বীকার করে নিলে, কোনো একটি নামের মাধ্যমে কোনো বিশেষ বস্তু তথা কোনো বিশেষ ধর্ম এবং বৈশিষ্ট্য প্রকাশিত হয়। এখন, ‘দল’ এর প্রসঙ্গে, কোনো দল এর নামের সঙ্গেই যুক্ত হয়ে যায় দলটির অস্তিত্ব অর্থাৎ তার দলীয় আদর্শ এবং সেই অনুযায়ী সম্ভাব্য কর্মপদ্ধতি। সেই কারণেই দলীয় অবস্থানের পরিবর্তনের সঙ্গে যেমন জড়িয়ে থাকে দলের পরিবর্তন, তেমনই তার সঙ্গে সঙ্গে নামেরও পরিবর্তন। দলভাবনা এমনকি দলভাবনার সার্বিক যৌথতা পরিবর্তিত হয়ে গেলে স্বতঃসিদ্ধভাবেই তার সনাক্তকরণ বৈশিষ্ট্য যায় বদলে, আর তা স্বীকৃতি পায় নাম-এর বদলের মধ্য দিয়ে। কেউ কেউ মনে করতে পারেন পরিবর্তনশীলতাই যেহেতু প্রকৃতি-র নিয়ম, তাই পরিবর্তনশীলতা স্বয়ং কোনো দলের দলীয় আদর্শ হতে পারে। অমোঘ পরিবর্তনশীলতার সামনে বদলে যেতে পারে স্থান-কাল, বদলে যেতে পারে ব্যক্তিক পরিস্থিতি, এমনকি বদলাতে পারে যৌথ অবস্থান। কিন্তু এই সার্বিক পরিবর্তনের জলপ্রপাত নাম-কেও ধুয়ে নিয়ে যাবে না কি? যদি পরিবর্তনশীলতাই ধারণ করতে হয়, নামবাচক ক্ষেত্রটিই বা ব্রাত্য থেকে যাবে কেন? তা কি কোনো ‘লিগ্যাসি’-র তাগিদে? কোনো ‘নস্টালজিয়া’র তাগিদে? অথবা কোনো ‘ব্রান্ডিং’ এর তাগিদে? কেননা সনাক্তকরণ বৈশিষ্ট্য যদি বদলে যায়, সনাক্তকরণের উপচার ‘নাম’ অপরিবর্তিত থাকবে কি করে? যে অতীত বর্তমানে ‘অতীত’, শুধু নামে তাকে বহন করব কেন? কাল আমি কি ছিলাম তা আজ বহন করবে কে, যদি সার্বিক পরিবর্তনে বদলে যায় এই ‘আমি’টাই? অন্তত অংশত। আমার অংশের বদলও আমাকে আর আমি রাখে না। গঙ্গায় যে তিনডুব দিল, সে তিন জন, একজন নয়। যে গঙ্গায় সে ডুব দিলো, তাও তিনটি গঙ্গা। একটি নয়।

ছড়িয়ে থাকা পরিচ্ছেদগুলোর মালা গাঁথতে গাঁথতে বলি, বাংলা কবিতার প্রথম দশকে দেখছি এক সর্বব্যাপী তাড়াহুড়া- কে কোথায় ছিল, কে কোথায় আছে, কেউ শূণ্য কেউ নব্বই কেউ বা অন্য কোন দশক থেকে – সময়ের পথে ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়া আমরা, আমরা যারা যৌথতা নিয়ে রূপকথা বেঁচেছি, যৌথতা নিয়ে স্বপ্ন দেখেছি, জীবন কেটেছি ছিঁড়েছি যৌথতার অভিমানে, তারা, আমরা টুকরো হয়ে যাওয়া সেই যৌথতার দোহাই দিয়ে, সেই যৌথতার কাল্পনিক দায় নিয়ে, সেই যৌথতার নাম ভাঁড়িয়ে প্রকাশ করতে চাইছি ‘অন্য’ এক যৌথতাকে, ‘অন্য’ এক ব্যক্তিক অস্তিত্ব-কে। মরা যৌথতা কে ‘আ’মরা করতে চাইছি। কেন??

বাংলা কবিতার পাঠক, লেখক, বিপ্লবী, আর বাংলা কবিতার আমরা-র পায়ে এই আমার বিনীত প্রশ্ন, এই আমার জিজ্ঞাসু আকুতি...


চান্দ্রেয়ী দে
Chandrayee Dey

Wednesday, November 30, 2016

হরকরাকে লেখা চিঠি : সর্বজিৎ ঘোষ

হরকরাকে লেখা চিঠি

রাস্তা পেরোতে গিয়ে শ্যামলালের হঠাৎ মনে হল, তাকে নিয়ে কেউ কোনোদিন কবিতা লিখবে না। অথচ ছোট্টো সবুজ বিন্দুজীব যে মানুষটি দপদপ করে বলতে থাকে আর কতক্ষণ, সে ক্রমশ এগিয়ে যাচ্ছিলো লালে। শ্যামলালের মনে হল সে তাকে বলছে, ওহে শ্যামলাল, এই যে কুড়ি লক্ষ ত্রিশ হাজার পাঁচশো সাতাশিতম বার তুমি সফলভাবে রাস্তা পেরোলে, এবং প্রত্যেক মৌলিক সংখ্যকবারে পেরোতে গিয়ে যে তুমি গাড়ি চাপা পড়তে পড়তে বেঁচে যাও, (আহা সে বাঁচা তুমি জানবে না; অঙ্কে কাঁচা)... শ্যামলাল শুনতে পেলোনা বাকিটা। হয়তো সে বলতো শ্যামলাল জানে না রাস্তা পেরিয়ে আসলে সে কোথায় যাচ্ছে, বা রাস্তা সে আদৌ পেরোতে পেরেছে কিনা, যেভাবে শ্যামলাল জানে না এখন সে কোথা থেকে ফিরছে। শ্যামলালের মনে হয়েছিল সে বেরচ্ছে তার ইউনিভার্সিটি থেকে, শেষ ক্লাস ফাঁকি দিয়ে সে খুঁজতে গিয়েছিল এক জলে ভেজা দাঁড়কাক, যে আসলে ভেজার ভান করে পালক ঝাড়ছিল। কিন্তু, এও তো সমানভাবে সত্যি, শ্যামলাল যে রাস্তা পেরোচ্ছিল তার এপারে ছিল প্রাচীন লাল এক সরকারি অফিস, যার লিফটের দড়ি দিয়ে খুব ভালো ফাঁসি হয়, শ্যামলাল ভেবেছিল। যেমন শ্যামলাল এও জেনেছিল, নীলদর্পণ নাটকে এক কুখ্যাত চাবুকের নাম শ্যামলাল এবং তার নিজের কোমরে ছিল প্রাগৈতিহাসিক এক দাদ, যে দাদ তার মনের সব কথা বুঝতো বিনা ভাষায়।

রাস্তায় অন্ধকার হয়ে আসছিল, ভেজা ছিল রাস্তা, অথবা তীব্র দুপুরের মরীচিকায় রাস্তা হয়ে উঠেছিল সবুজ কোনো শস্যক্ষেত। শ্যামলাল বিড়ি ধরিয়েছিল একটি, এবং তার মনে পড়েছিল কবিতার কথা। শ্যামলাল তো জানতো, মহাপ্রলয়ের সময়ে নৌকায় যে পাঁচটি কবিতা নিয়ে উঠতে পারবে শ্যামলী, তার মধ্যে শেষতম কবিতাটি স্বয়ং শ্যামলালের। যদিও সেই কবিতাটি শ্যামলাল এখনো লিখে উঠতে পারেনি, কারণ শ্যামলীকে এখনো সে চেনে না, চিনলেই জিজ্ঞেস করে নেবে সে কেমন কবিতা শ্যামলীর পছন্দ, কিংবা কবিতার বদলে শ্যামলী চায় কিনা একফালি ছায়া ও রোদ্দুরঘাস জমি। অথচ, শ্যামলাল ভাবে, কেউ তাকে নিয়ে কবিতা লিখবে না কোনোদিন। আজকের এই ট্রাফিক সিগনালে শ্যামলালের তো দাঁড়ানোর কথা ছিল না; যেভাবে হিজড়েরা শাড়ি তুলে অন্ধকার দেখানোর ভয় দেখিয়ে টাকা নেয়, শ্যামলাল যেন দাঁড়াচ্ছে গিয়ে প্রতিটি সিগনালে, এভাবেই চেয়ে যাচ্ছে একটা আস্ত কবিতা। শ্যামলালের মনে হয়েছিল আজ পর্যন্ত সে যা যা লিখেছে সব একেকটি গর্ভস্রাব, কারণ শ্যামলাল জানত মহাপ্রলয়ের সময় কোনো নৌকা পাওয়া যাবে না শেষ পর্যন্ত। শ্যামলীকে সে একবারই দেখেছিল, বর্ধমান থেকে ফেরার পথে কর্ড লাইনে, ট্রেনের দরজায় বারমুখো হয়ে দাঁড়িয়ে, একহাতে হাতল ধরা, চুলগুলো খোলা ছিল এবং হাওয়ায় একে একে উড়ে যাচ্ছিলো, শ্যামলী ক্রমশ ন্যাড়া হয়ে যাচ্ছিল আর রোদ্দুর আরো উজ্জ্বল হয়ে উঠছিল। অথচ, আজ এখনো শ্যামলালের বাস এলো না, কবিতার মতো সে যদি স্থির বুঝতে পারতো বাস আর আসবে না, বাস কোনো ছন্দকাটা তালকাটা শব্দ, এবং অপেক্ষা বিষয়টা আসলে মাথাব্যথার মতো আদুরে... শ্যামলাল মন দিয়ে বাসস্ট্যান্ডে সাঁটানো 'গোপনে মদ ছাড়ান' বিজ্ঞাপন পড়ছিল এবং ভাবছিল, সে কি কোনোদিন মাতাল হয়নি, সে কি চায়নি ঝাল ঝাল লংকাকুচি মাখা ছোলাসেদ্ধ এবং খোঁয়ারি-ভাঙানো লেবুর জল, তাহলে কেন তাকে নিয়ে একটা, অন্তত একটা বিজ্ঞাপনও লেখা হল না এতদিনে!


Tuesday, November 29, 2016

কয়েকটি সময়কে ধরলেন : শাহেদ আনোয়ার

১৯ডিসেম্বর ১৫। ১১:৫৪টা রাত।

দুয়েকদিন ধরে মনে হচ্ছে আমি প্রেমে পড়ছি, ইদানিং কলেজ থেকে আশার সময় একটা মেয়ের সাথে ক্রস হচ্ছে। ব্যাপারটা প্রথম প্রথম আমলে না নিলেও এখন নিচ্ছি। বুঝতে পারছি না কেন এমন হচ্ছে। আমি কি আবার সর্বনাশের দিকে পা বাড়াচ্ছি? মেয়েটিকে দেখার জন্য সন্ধ্যায় নিয়মিত বের হই, আমার বাসার রাস্তা দিয়ে যায়। সাথে বান্ধবি থাকে। প্রতিদিন দেখতে পাই না বলে প্রচন্ড রাগ হয়।

আমি এখনো জানিনা মেয়েটি আমার জুনিয়র নাকি সিনিয়র। ধ্যাএএত, এটা মোটেই ঠিক হচ্ছে না। ঠিক একই ভাবে আমি ক্লাস এইটে পড়ার সময় টেনের এক আপুর প্রেমে পড়ছিলাম। তার মাশুল এখনো দিতে হচ্ছে। আমি কি আবার নতুন মাশুলের কর গুনছি? মনে হআমার উচিৎ শিক্ষা হয়নি, আরও কঠিন একটা শিক্ষা হওয়া দরকার।

কাল রাতে বেশিক্ষণ পড়তে হয়েছে। ঘুমালাম দেরি করে। অসহ্য মাথাব্যথা নিয়ে ঘুমাতে হল। বেশিক্ষণ হয়নি, ঘুমের মধ্যে কে যেন ডাকছিল, সকাল হয়েছে বোধহয়। নাহ, আরেকটু ঘুমাতে হবে। কম্বল দিয়ে মাথা জড়িয়ে নিলাম, কোন শব্দ যেন না শুনি।

কিছুক্ষণ পর আবার কে যেন ডাকছে নিম্নস্বরে। 'এই, এই আরেকটু সরে ঘুমাও না, আমি ঘুমাতে পারছিনা তো, এদিকে আমি খাট থেকে পরে যাচ্ছি, আর তুমি পুরো খাট দখল করে আছ।' আমি একটু সরে শুলাম, যেন এটাই স্বাভাবিক। 'এই, আর কতোক্ষণ ঘুমাবে, আজ না তোমার পরীক্ষা?
  - উফ্‌…!!!
  - মাথাব্যাথা করছে কি, চুল টেনে দেব?

ও হাত বাড়িয়ে চুল টেনে দিচ্ছে। আমি অতল ঘুমে তলিয়ে গেলাম।

ব্যপারটা বাড়াবাড়ি হয়ে যাচ্ছে কিন্তু, বিশ্রীরকমের। নিজেকে বোঝাতে পারছিনা। আমি তাকাব না তাকাব না করেও তাকাই। বেশিক্ষণ তাকাতে পারি না লজ্জায়। ভয়ও হয় - যদি ব্যাপারটা বুঝে ফেলে, নইলে চোখের ভাষা পড়তে কষ্ট হত না। আমার এতদিনের যুক্তিবাদী মনটা কোন যুক্তিই মানছে না। ভেতর থেকে সুনীল বলে ওঠে, ভালবাসার পাশেই একটা অসুখ শুয়ে আছে। আমি বলি, না সুনীল,  ওটা অসুখ নয়, ওটা প্রেম ওটা ভালোবাসা, নীরাকে তুমি যেটা বলো



Saturday, November 26, 2016

নিষেধাজ্ঞা : অদ্বয় চৌধুরী

নিষেধাজ্ঞা

“আজ রাত দশটা থেকে রাজপথে পায়ে হেঁটে যাতায়াত নিষিদ্ধ।”
       সেদিন সন্ধে থেকে গোটা এলাকা পোস্টারে পোস্টারে ছেয়ে গেছিল, টিভি-রেডিও সর্বত্র ঘোষণা হচ্ছিল লাগাতার। সকলেই জেনে যায় এই নিষেধাজ্ঞা। যারা অনেক রাত করে পায়ে হেঁটে বাড়ি ফেরে তারা সেদিন তাড়াতাড়ি বাড়ি ফিরে এসেছিল।

       যারা রাজপথে পায়ে হেঁটে যাতায়াত করেনা, যাদের গাড়ি আছে, তারা বেজায় খুশি হয়েছিল এই নিষেধাজ্ঞায়। রাস্তায় ভিড় কমবে, ট্রাফিক জ্যাম কমবে। গাড়ির দোকানদাররাও খুশি হয়েছিল। এবার গাড়ির বিক্রি বাড়বে। উপরমহলের তরফে বলা হয় পায়ে হেঁটে যাতায়াত করলেও যাদের বাড়িতে গাড়ি লুকিয়ে রাখা আছে, বা অন্যত্র তাদের গাড়ি বেনামে খাটছে, সেইসব লোকের লুকানো গাড়ি ধরার উদ্দেশ্যেই এই নিষেধাজ্ঞা। কিন্তু ব্যাপারটা যে তা নয় তা গাড়িওয়ালা এবং গাড়ির দোকানদাররা জানত। এই সিদ্ধান্ত মূলত এলাকার সার্বিক উন্নয়নের স্বার্থেই— সকলেই যাতে ‘গাড়িওয়ালা’ শ্রেণিতে উন্নীত হয়। যাদের গাড়ি নেই, অথবা গাড়ি কেনার কোনোভাবেই সামর্থ্য নেই, তারা এলাকা ছেড়ে চলে যাবে, অথবা না খেতে পেয়ে মারা যাবে।

       পরের দিন রাস্তা একেবারে শুনশান। হাতে গোনা কয়েকটা গাড়ি প্রচণ্ড গতিতে যাতায়াত করছে। ফুটপাথে কোনো লোক নেই। দু-একটা বড় দোকান আর সমস্ত গাড়ির দোকান ছাড়া আর কোনো দোকান খোলেনি। কোনো নতুন গাড়িও কিন্তু রাস্তায় দেখা যায় না। না লুকিয়ে রাখা গাড়ি, না নতুন কেনা গাড়ি। আগে যেগুলো চলত সেগুলোই শুধু দেখা যায়।

Friday, November 18, 2016

AlterEgo ও Introspection 1 - দুটি গদ্য : রূপসা কুন্ডু

AlterEgo

অনিন্দ্যসুন্দর বসেছিল, বসে বসে দেখছিল ভাতের সশপ্যান উপুড় করলে ফ্যান কিভাবে গড়িয়ে গড়িয়ে পড়ে। ফুটপাথ এর ধারে হোটেল, ফুটপাথে রান্না, ফুটপাথে ধোয়া মোছা আর ফুটপাথ থেকে দুই ফুট উঁচু কাঠের বেঞ্চ এ পরিবেশন। এই মুহূর্তে মধুর বউ উপুড় হয়ে ভাতের মাড় গালছিল; আর অনিন্দ্যসুন্দর সেটাই দেখছিল হাঁ করে। বেশ খানিকটা জায়গা জুড়ে ছড়িয়ে যাওয়া মাড়...

একটা লোক তাড়াহুড়ো করে হেঁটে যেতে গিয়ে ছপাত করে সেটা মাড়িয়ে দিতেই ফুটপাথ এর উপর ফ্যান এর প্রবাহমানতা থেকে লাফিয়ে উঠে ত্রাহি ত্রাহি রব করে উঠল খিদে। প্রচণ্ড খিদে নিয়েই অনিন্দ্যসুন্দর এখানে এসেছিল; তারপর খিদের মুখে কয়েক কাপ চা আর উপর্যুপরি সিগারেট এর মলম পড়াতে খানিক্ষন কিছু বোঝা যায়নি। সে একটু জোরেই হাঁক দিল এবার - 'কিরে মধু; খেতে টেতে দিবি তো নাকি!' আর মধুও তার স্বভাব সুলভ ভঙ্গিতে এক খদ্দের এর পয়সা মেটাতে মেটাতে অন্য হাতটা তুলে আর খানিকটা সময় চেয়ে নিল অনিন্দ্যসুন্দরের থেকে। এমন রোজই হয়। খাবারটা এক্ষুনি এসে পড়লে আর তারপর গোগ্রাসে খেয়ে ফেল্লেও যে খিদে মিটবে না, তার এই গোপন খবর যেনে গ্যাছে মধু। কিকরে জানলো তা নিয়ে অনিন্দ্যসুন্দর আর মাথা ঘামায়নি। মধু তার হাতটা রোখকে ভঙ্গিতে তোলে। কড়া, রুক্ষ, হলুদের দাগ অলা হাত। পাঁচটা আঙুলকে পাঁচ মিনিট সময় ভেবে প্রথমবার ভুল করেছিল অনিন্দ্যসুন্দর। মাঝে মাঝে খিদেয় মাথা ঝিম ঝিম করলে ওই তালুর মধ্যে অনন্তকালের হাঁড়িতে মোটা চালের অফুরন্ত ভাণ্ডার দেখতে পাওয়া যায়।
অনিন্দ্যসুন্দর মধুর দোকানে প্রায় রোজকার খদ্দের। রুটি, ভাত, মাংসের ঝোল ইত্যাদির সাথে চাও পাওয়া যায়। কোন কোন দিন দোকানে বসেই সন্ধ্যেটা কাটিয়ে খেয়ে দেয়ে ঘরে যায় সে। মধুর বউ হেসে হেসে কথা বলে, জিজ্ঞেস করে - বাড়ি কবে যাবেন?
অনিন্দ্যসুন্দর এর বয়েস পঁয়ত্রিশ। শ্যামবর্ণ, হাল্কা দাড়ি গোঁফ, রোগা। আলাদা আলাদা করে কিছু বলা না গেলেও তাকে সুন্দর দেখতে। সুন্দরের থেকেও বলা ভালো অন্যরকম। আলগা, একটু মেয়েলি - বলে অফিসের সহকর্মীরা। কিন্তু ঠিক ওই জন্যেই চোখ যায় ওর দিকে। মহিলারা নিজেদের মধ্যে বলাবলি করে অনিন্দ্যসুন্দর এর স্ত্রী বা প্রেমিকা ভাগ্যবান। বলে দীর্ঘশ্বাস ফেলে ছোট্ট করে।
অনিন্দ্যসুন্দরকে দেখলেই তার পিছনে একটি মহিলাকে কল্পনা করা যায়। নাকফুল আর ঈষৎ বড় চশমা পরা এক সুখি মহিলা তার ঠিক পেছনে দাঁড়িয়ে থাকে ছায়ার মত। মাঝে মাঝে তার শাড়ির রঙ বদলে যায়। অথচ অনিন্দ্যসুন্দর একা, সম্পূর্ণ একা এবং অভুক্ত...



Wednesday, November 16, 2016

গোপনে কবিতা ছাড়ান : কৃষ্ণগহ্বর

গোপনে কবিতা ছাড়ান

OLX এ কবিতা বিক্রি করলে নাকি ভালো টাকা পাওয়া যায়! আমার কবিতার কোন দাম নির্ধারণ হয়নি। যা পাবো তাতেই বেচে দেবো। এরপর একদিন একটা লোক চলে এলো, কবিতা কিনে নিলো। টাকা পেলাম। আমি ও জোকার মানে আমার দ্বিতীয় চরিত্র খুব খুশি। তারপর কিছুদিন কাটলো - খবর পেলাম একটা লোক নতুন কবি হয়েছে, তার কবিতায় নাকি আমার সিগ্নেচার, সুপ্রিমকোর্ট রায় দিলো - এত দিন নাকি আমিই ওনার কবিতা চুরি করে নিজের নামে চালিয়েছিলাম। বলুন ধর্মাবতার, আমি গরু খাইনি শুয়োর খাইনি - কবিতা লিখেই বিচার পেয়ে গেলাম। তারপর দেখা গেলো জোকারের মাথার মধ্যে রোদ পড়েছে মাথার ছায়ায় ঢেকে যাচ্ছে আমার ধড়... কেউ যেন কানে কানে বলে গেলো 

'গোপনে কবিতা ছাড়ান', এরপর থেকে প্রায়ই এরকম স্বপ্ন

"গোপনে কবিতা ছাড়ান।
আপনি কি কবিতা লেখেন? যার জন্য সমাজ কি আপনাকে কবি না বলে "কোবি" বলে খিস্তি করে? তাহলে চলে আসুন আমাদের এখানে। আমরা অত্যন্ত যত্নের সাথে কবিতা ছাড়িয়ে দি। মনে রাখবেন এই চিকিৎসার কোন সাইডএফেক্ট নেই।"

সত্যিই এরপর থেকে প্রায়ই এরকম স্বপ্ন। হাত - পা - মাথাওয়ালা স্বপ্ন, ভীষণ লোডশেডিং হওয়া স্বপ্ন - আমার শরীরে সূর্যের এফেক্ট সাইড হয়ে যেতে লাগলো। একটু ফিসফাস, একটু যৌনতা, একটু তছরূপী... অ্যাসাইলাম গুলো ভারী ভরপুর হয়ে উঠছে, দুপুরে যেসব হরিতকী পাতা ছড়ানো রাস্তা - স্লিভলেস মেয়েদের বগলের চুল - ক্লিভেজ... রিফিলের মত খালি হয়ে আসছে মাথা, রিলিফ ফান্ড গুলো জোকার কে তুলে নিয়ে গেছে হঠাৎ! এভাবে বাঁচা যায় বলুন?

জোকার হারিয়ে গেলো, নভেম্বর চলে এলো। এখন সময় বিপ্লবকে কবিতার মোড়কে পুরে ডায়েরি তে ফেলে রাখবার। চেল্লামেল্লি করবো না, কবিতা লিখবো না, স্বপ্নও দেখবো না আর শুধু রোদ্দুর দেখবো, রোদ্দুর বেয়ে লেনিনের 'হাসমুখ' আমার জানালায় এসে পড়বে, আমি কার্ল মার্ক্সের সাথে লকআউট চাবাগানের পথে হাঁটবো। 






   কৃষ্ণগহ্বর

The Blackest Hole

Tuesday, November 15, 2016

এখন আমার খুব কান্না পাচ্ছে : তৃষা চক্রবর্তী

এখন আমার খুব কান্না পাচ্ছে

এখন আমার খুব কান্না পাচ্ছে। অথচ কান্না ঠিক কেমন হয় আমি মনে করতে পারছি না, ঠিক কীই বা মনে করতে চাইছি, কান্নার স্বাদ, কেমন দেখতে হয়, অথবা এমন কোনো বিশেষ গন্ধ যা দিয়ে পৃথক হওয়া যায়। মাঝে মাঝে তো এমনই মনে হয়, কেবল পৃথক হবার জন্যই আমরা গন্ধ ব্যবহার করি। নিশ্চয় তোমার মনে আছে ময়দানে একটা বিকেল অন্তত আমরা একসাথে কাটিয়েছিলাম - খুবই সাহিত্যপন্থী হয়ে পড়ছি আমরা আজকাল, নয়ত হঠাৎ সকাল আর বিকেলের আলোকে আমাদের এক মনে হবে কেন, আর সেই আলো পৃথক করতে কেনই বা খোঁজা হবে ক্লান্তির পার্থক্যরেখা। তোমার কি মনে আছে, পৃথকত্ব আমায় খুবই আনন্দ দিয়েছিলো? পৃথকত্ব, পৃথকত্বই কি, অথবা পৃথকত্বের আবিষ্কার। যেকোনো বিকেলই এভাবে আমায় তোমার কাছে পৌঁছে দিতে পারে না। অথচ, আজ পৌঁছেছি। এমনই সে যাতায়াত, তুমি বিমূঢ় জিগেস করছ কেন এসেছি। এখুনি যদি বলি, তোমার ঘরের জানলাটা দিয়ে আজ অদ্ভুত বিকেল দেখা যাচ্ছিলো।  তোমার কাছে অনেক ভিড় ছিলো।  আমি তাই বিকেল দেখতে গেছিলাম। মনে পড়ল ময়দানে একটি মেয়ের কাছে খুব সুগন্ধ পেয়েছিলে, আমি কি খুব রেগে গেছিলাম অথবা নীরব মন্তব্য করেছিলাম ফাঁকা ময়দানে এরা গন্ধ মেখে ঘোরে কেন, গন্ধ ভিড়ের, একার নয়। পৃথক হতে হতেও পৃথক হবার টাল সামলাতে না পেরে মেয়েটি কি আলতো ঢলে পড়েছিল তোমার গায়ে? আর তুমি তাকিয়ে ছিলে খুব মোলায়েম?

Wednesday, November 9, 2016

ভারতীয় ৫০০ ও ১০০০ টাকার নোট নিষিদ্ধকরণ প্রসঙ্গে অতনু সিংহ যা ভাবছেন...

কালো টাকার পাওয়ার হাউজকে আড়াল করতে এবং মানুষের অর্থনৈতিক স্বাধীনতা খর্ব করতেই ৫০০ ও হাজার টাকার নোট নিষিদ্ধ করেছে মোদীয় ভারত রাষ্ট্র, যা একটি ফ্যাসিবাদী পদক্ষেপ


মোদীভাই যা করেন, সেই ক্রিয়ায় দেশভক্তির দৈবভাবের গঙ্গাজল ছিটিয়ে দ্যান। আর জয় জগন্নাথ হ্যাঁ হ্যাঁ করা পাব্লিক গঙ্গা ফড়িং-এর মত মোদীয় কর্মসূচীর পিছন পিছন উড়তে থাকে। গণমানসে দেশভক্তি বা রাষ্ট্রীয় ইমোশনের আফিম মোদীর এক সাংস্কৃতিক অস্ত্র। এবং এই অস্ত্রকেই ভারতীয় অর্থনীতিতে ফ্যাসিবাদ কায়েম করার ক্ষেত্রে প্রয়োগ করেছে মোদী।
এই অস্ত্র কী রকম?

১। কালো টাকার লেনদেন থামিয়ে দেশের অর্থনীতিকে শুদ্ধ ধারায় নিয়ে যাওয়া এবং দেশের আর্থিক শ্রী বৃদ্ধি ফিরিয়ে আনা

২। টেরর ফিন্যান্স বা সন্ত্রাস লগ্নিতে আক্রমণ শানিয়ে সন্ত্রাসবাদীদের আর্থিক মেরুদণ্ডে আঘাত।

লক্ষ্যনীয়, এই দুটি ক্ষেত্রেই 'দেশভক্তি' বা রাষ্ট্রবাদের লজিকেই আবর্তিত হয়েছে মোদী ও তার সাঙ্গপাঙ্গরা। আর তাতেই একাংশের আফিম খেকো অন্ধজন 'জ্বি হুজুর' রবে মোদীয় ফতোয়াকে স্বাগত জানাচ্ছে। ৫০০ ও হাজার টাকার নোট মাত্র ২-৩ ঘন্টার মধ্যে নিষিদ্ধ করার সরকারি তথা রাষ্ট্রীয় ফতোয়াকে স্বাগত জানানো হচ্ছে।

Friday, November 4, 2016

না পৃথিবীর দূরত্ব : দেবাদৃতা বসু

না পৃথিবীর দূরত্ব

একটা ড্রিমের ভেতরবসে আছি লুকিয়েএরপর সকাল হবে। সময়কনার চলাচলকে কেন্দ্র ক’রে ক্যাপ্টেন হুকের জাহাজ সামান্য দুলতেই শোনা যাচ্ছে ব্যাপারীদের বিভিন্ন আওয়াজের দুর্যোগ কাঠের পাটাতনটা ফুরোলেই বাজার একটাকাঠের দরজার তলায় যতটুকু ফাঁক, তার আন্দাজে শরীরটা বড়ওই ফাঁকটুকুই আপাতত সম্বল - গন্তব্য, পরিত্রাণ এবং কোলাহলমুখরকোথাও একটা নিষিদ্ধ ঘড়ি টিক টিক করছে আর আমি ভাবছি কি ক’রে লুকিয়ে থাকা যায় আরও কিছুক্ষণ। কেউ যেন দেখতে না পায় আমাকে। অথচ এরকমভাবে ভোর হতো এক একটা স্বপ্নের খোঁজে। মূলত শীতকাল - লেপের তলাটা সুবিধা মত সাজিয়ে নিতাম। এমনভাবে একটা সিমুলেশান, যেন বাইরের পৃথিবীর সাথে যোগসূত্রগুলো বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। রান্নাঘর থেকে আসা বাসন ও জলের বিনিময়ে যে আওয়াজ - মনে হতো পাইরেটদের হর্ন আর হর্নবিলের ডানার ঝটপটঅনেকটা এপার জুড়ে এই ল্যান্ডমাসপ্যানের সাম্রাজ্যে কেউ বড় হয় না কখনো, একমাত্র টিঙ্কার বেল ছাড়াএত রঙ আর এত গন্ধ, পথ হারানোর ম্যাজিকটাই কবিতা হয়ে ওঠেওই যে বেসামাল একটা বৃহৎ ডিনার টেবিল, ভরে উঠছে কাল্পনিক খাবারে আর তার পাশেই একটা পৃথিবী, যার সমস্ত হ্রদ এবার আয়না হবে। পৃথিবীর প্রথম আয়নগুলোর জন্ম এখানেঘড়ির কাঁটাগুলো ঘুরতেই থাকে, টান পড়ে ঋতুচক্রে, শুধু বয়স বাড়ে না। অন্ধকার হলে টিঙ্কার বেল ডাকে, “lost boys, lost boys, dinner is served”
প্রকাণ্ড ওই সিমুলেশানের ভেতর থাকতে অভ্যস্ত হয়ে তখন মনে হত এক দস্তানার কথা। ক্রমশ বড় হয়ে উঠছে তার গহ্বর এবং বাড়ছে সংসারের সদস্য। আমি ভাবতাম যদি ওদের মত ওদের সাথে থাকা যায়। আর আমার শীতের লেপ, কম্বল, বালিশ মিশে যেত ওই প্ররোচনায়বাড়ির সবাই ঘুমিয়ে পরলেই টর্চ জ্বেলে দেখতাম কেউ কোথাও আছে কিনা। বরং টর্চটা নিভিয়ে দিলেই দেখা যেত ওদের বেড়ে ওঠা, সংসার, ওদের ড্রামা - কমেডি, ট্র্যাজেডিব্ল্যাক হোলের ইভেন্ট হরাইজনের মত সহজ ও অদৃশ্য। তখন ভাবতাম সকাল হবে। অহেতুক আর যেতে হবে না স্কুলে। ঘুম চোখে লেপটা সরালেই দেখা যাবে ওই বাগান, অতিকায় জলাশয় আর ছোট ছোট র‍্যাবিট হোল। একটা এমন জায়গার কথা লেখা হবে যেখানে প্রতিদিন শহর এসে মিশে যেতে থাকে সমুদ্রের ধারে লুকিয়ে রাখা ঝর্ণার জলে। মানুষ তো এভাবেই অমরত্বের কথা শিখেছে, তার ধান, গম, আস্তাবল, হাতি, ঘোড়া, ফসল ফেলে রেখে বারবার ফিরে গেছে অরন্যে ।
জরায়ুর ভেতর নড়াচড়া করছে শব্দরা। বিটস এবং পিসেস সমেত পৃথিবীর সমস্ত শব্দ,  কোল মাইন, পরিত্যক্ত জাহাজ ঘাট, নোনা হাওয়ার গন্ধ, ঈষৎ আর্দ্র অনর্গল বেড়িয়ে পড়ছে ফ্যালোপিয়ান টিউব বেয়ে। এদের ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে থাকাগুলো নিয়ে সভ্যতা হবে। শুধু নির্মাণ নয়, সারি দিয়ে অগুনতি পিরামিড হয়ে উঠবে এলিয়েন স্পেসশিপের ল্যান্ডিং প্যাড। কখন সময়কে ফাঁকি দিয়ে লেখা হবে ইতিহাস। এইভাবেই সময়কে ফাঁকি দেওয়ার নিয়মে ফিরে যাওয়াগুলো থেকে যায়। রিডিং ল্যাম্প থেকে মাথা তুললেই দেখা যেত অসংখ্য ভাষার কাটাকুটি খেলা। জানলার বাইরে আরও একটা রেইনি ডে বদলে দিচ্ছে লিখে রাখা ইতিহাস আর ইতিমধ্যে সমস্ত ঘড়ি কখন যেন সব আমার হয়ে গেছে।

Tuesday, November 1, 2016

Nemesis : প্রিয়ক মিত্র

Nemesis

-          আপনি লেখেন কেন?
-          অপরাধবোধ।
-          পার্ডন মি।
-         অপরাধবোধ... ঢাকার জন্য লিখি, সরি, ভুল বললাম, চেপে রাখার জন্য... মানে অপরাধবোধ চেপে রাখার জন্য লিখি।
-          কিসের অপরাধবোধ?
-          এই প্রশ্নটা... এটা একটু ব্যক্তিগত।
-         আমার সামনে আপনার কোন কিছুই ব্যক্তিগত নয় । সেটা আমি আপনাকে আগেও বলেছি। আমার প্রতিটি প্রশ্নের উত্তর আমি পাব এটা এক্সপেক্ট করেই আমি আপনাকে প্রশ্নগুলো করছি।
-          (দীর্ঘশ্বাস) এটা... এটার উত্তর যদি আমি না দি?
-    সেক্ষেত্রে আপনাকে হেল্প করাটা আমার পক্ষে আরও ডিফিকাল্ট হয়ে যাবে। আপনার প্রবলেমটা এতটাই ইনটেন্স যে সবরকম ইনফরমেশন আমার প্রয়োজন। নইলে আমি প্রবলেমটা সল্ভ করার কোন ক্লু-
-          একটু জল দেবেন?
-          না।
-          কেন?
-          কারন আপনার গলা শুকিয়ে যায়নি, আপনি অ্যাভয়েড করার চেষ্টা করছেন।
-          কি?
-          আমার প্রশ্নটা।
-          অ্যাভয়েড... হ্যাঁ, অ্যাভয়েড করাটাই আমার অপরাধ।
-          কাকে?
-          হ্যাঁ?
-          কাকে অ্যাভয়েড... মানে কি অ্যাভয়েড করেছেন?
-          ইঁদুর।
-          হ্যাঁ?
-          হ্যাঁ। ইঁদুর, আরশোলা, টিকটিকি, মাকড়সা, পিঁপড়ে সব, সব অ্যাভয়েড করেছি।
-          হুমম। এটা ক্ল্যারিফাই করা আপনার পক্ষে পসিবল কি?
-          আমি... আমি... আমার বিষ চাই...
-          দেখুন, এটা তো কোনও এক্সপ্ল্যানেশন নয় , এটা কনক্লুশন। এনিওয়ে, আপনি উত্তর দিয়ে দিয়েছেন। যতদূর মনে হচ্ছে আমাকেই প্রশ্ন করে করে উত্তরে পৌঁছতে হবে।
-          বিষটার নাম জিঙ্ক ফসফাইড।
-          ইঁদুরের বিষ? আপনার ক্রাইসিসটা এক্স্যাক্টলি...
-      আমি... আমার ক্রাইসিসটা হল... আমি... আলমারির তলায় ঢুকতে পারছি না। যদি না ঢুকতে পারি ... তাহলে আমায় জিঙ্ক ফসফাইড খেতে হবে। আমি... আচ্ছা আপনি টক্সিকোলজি জানেন?

Thursday, October 27, 2016

ধারাবাহিক পর্ব তিন - পুরুষ-নারী কেলেঙ্কারিঃ অধীশা সরকার

পুরুষ – নারী কেলেঙ্কারী
তিন

**************

হয়ে ওঠার কথা

একজন নারী নারী হয়ে জন্মায় না, সে নারী হয়ে ওঠে। মানে কি এই কথাটার? মানে হল, এই ধরুন চার-পাঁচ বছর বয়েস পর্য্যন্ত যে কোনো বাচ্চা বাচ্চাই। তার যৌনাঙ্গ যে প্রকৃতিরই হোক না কেন। ‘স্বাভাবিক’ বা ‘সাধারণ’ নিয়মে, এটাই। কিন্তু তারপর সেই বাচ্চাটিকে সমাজ মনে করিয়ে দিতে থাকে যে তার জেন্ডার কি। সে নারী, না পুরুষ। এক্ষেত্রে একটা কথা যোগ করা ভালো। একজন পুরুষও কিন্তু পুরুষ হয়ে জন্মায় না। সেও হয়ে ওঠে। সিমোন ডি ব্যুভিওর থেকে শুরু করে যে আনুক্রমিক দেখা, তাতে আমরা নারীর ‘other’ হয়ে ওঠার প্রসেসটার দিকেই তাকাই বেশী। সেটা গুরুত্বপূর্ণ বলেই। কিন্তু পুরুষের ‘central’ হয়ে ওঠাও একটা সামাজিক স্ট্রাকচারের অন্তর্গত প্রসেস। পুরুষতান্ত্রিকতার শিকড় বুঝতে গেলে এবং নারীবাদের কন্টেক্সট বুঝতে গেলে সেদিকে তাকানোটাও প্রয়োজন।


Monday, October 24, 2016

যে শুরুগুলো গল্প হয়ে যেতে পারত : রঙ্গন রায়

যে শুরুগুলো গল্প হয়ে যেতে পারত

সবাই বের হচ্ছে। সবাই ঢুকছে। রজত ঢুকছেনা। দাঁড়িয়ে আছে। অনেক্ষন। সে কোথায় যাবে? এমন কোন জায়গা আছে যেখানে সে তার দিনের কয়েকটা মূহুর্ত সুন্দর ভাবে কাটাতে পারে? নাহ! হঠাৎ দূরে মিছিল দেখা গেলো একটা। সিপিএম বন্ধ ডেকেছে। রজত দিশেহারা হয়ে পড়ছে। ভীড়ের স্রোতে মিশে যাওয়া যেতে পারে - এইসব ভাবতে ভাবতে তার মাথায় ভয়ানক ব্যথা শুরু হলো। অজস্র শুয়োপোকা তার দিকে যেন অগ্রসর হচ্ছে। বাবা শুয়োপোকা কে ছ্যাঙা বলে।

বিক্রমের মন ভালো নেই। বিক্রমের কিচ্ছু ভাল্লাগছে না। কেউ তাকে বুঝছেনা। সে কোথায় যাবে? মাথাটা পাগল পাগল, ওহ্!

Thursday, October 20, 2016

মায়া : কৃতি ঘোষ

মায়া

স্থান, স্থানু, জঙ্গা
তিন-মালা ভেদ করে ঋতু চলে আসবে সাবলীল পদ্ধতিতে
যতটা সাবলীল হলে তুমি প্রথমবার চিৎকার করবে না ভয় পেয়ে
যতটা সাবলীল হলে প্রতি মাসে নিজের হাতে পরিস্কার করতে পারবে অপরিপক্ক ভ্রূণ

-      এসব দুটাকা-তিনটাকার কথা বলে কি আর রাজ্যজয়ের স্বপ্ন দ্যাখা যায় ঈশ্বর? রাজ্যজয় বোঝ? কোন গ্রামের সবটা পাকাধানে মই দিয়ে দাও, কোনও গ্রামের সব কুমারী মেয়েকে সঙ্গমের সময় ফিসফিসিয়ে বলো তোমাদের আর দ্যাখা হবে না কখনও, হ্যাঁ- তারপর- তারপর সিংহাসনে বসলেই না তা সঠিক অর্থে রাজ্যজয়!