Skip to main content

Posts

Showing posts with the label Translation



কাশ্মীর হামারে হ্যায় : অদ্বয় চৌধুরী

কাশ্মীর হামারে হ্যায়
কাঠের এই বাড়িটা আমাদের খুব পছন্দ। তার অনেক কারণ আছে। আমাদের দু’জনের পক্ষে বেশ বড় আকারের হওয়ার পাশাপাশি বাড়িটা বহু পুরনো হওয়ায় বাপঠাকুরদাদের স্মৃতি বহন করে। আমাদের ছেলেবেলার সমস্ত স্মৃতিও জড়িয়ে আছে এর সঙ্গে। বোন আর আমি এই বাড়িটায় একা একাই থাকি। বাবা, মা, কাকা, ঠাকুরদা, ঠাকুরমা আর নেই। ওরা এসে নিয়ে গেছে ওদের। আমাদের নেয়নি ওরা, কারণ আমরা তখন ছোটো ছিলাম। সেই সমস্ত স্মৃতি এই বাড়িটা ঘিরেই রয়েছে। ওদের আসা, বাবা-মা-কাকাদের চলে যাওয়া, আমাদের থেকে যাওয়া— সব। আমরা বেশ সকাল সকাল উঠে পড়ি ঘুম থেকে। তারপর ন’টার মধ্যে অল্প খেয়ে আমি বাজারে যাই বোনের বোনা শীতের পোষাক পুঁটলি বেঁধে। সারাদিন সেখানে রাস্তার ধারে পসরা সাজিয়ে সেগুলো বিক্রি করি। দুটো ম্যানিক্যিনকে— একটা ছেলে আর একটা মেয়ে— বিভিন্ন সোয়েটার বা জ্যাকেট পরিয়ে সাজিয়ে রাখি রাস্তার ধারে। লোকের চোখ পড়ে বেশি। যদিও বিক্রি খুব কমই হয় তারপরেও। আমার মতো হাজার হাজার বিক্রেতা রয়েছে ওখানে। তারপর অন্ধকার ও শীত জাঁকিয়ে পড়লে পোষাকের পুঁটলি আর দুটো ম্যানিক্যিনকে ভ্যানে চাপিয়ে বাড়ি ফিরে আসি। বাড়িটা ঝারপোঁছ করে পরিষ্কার রাখা আমার পক্ষে সম্ভব হয় ন…

নিষেধাজ্ঞা : অদ্বয় চৌধুরী

নিষেধাজ্ঞা
“আজ রাত দশটা থেকে রাজপথে পায়ে হেঁটে যাতায়াত নিষিদ্ধ।”        সেদিন সন্ধে থেকে গোটা এলাকা পোস্টারে পোস্টারে ছেয়ে গেছিল, টিভি-রেডিও সর্বত্র ঘোষণা হচ্ছিল লাগাতার। সকলেই জেনে যায় এই নিষেধাজ্ঞা। যারা অনেক রাত করে পায়ে হেঁটে বাড়ি ফেরে তারা সেদিন তাড়াতাড়ি বাড়ি ফিরে এসেছিল।

       যারা রাজপথে পায়ে হেঁটে যাতায়াত করেনা, যাদের গাড়ি আছে, তারা বেজায় খুশি হয়েছিল এই নিষেধাজ্ঞায়। রাস্তায় ভিড় কমবে, ট্রাফিক জ্যাম কমবে। গাড়ির দোকানদাররাও খুশি হয়েছিল। এবার গাড়ির বিক্রি বাড়বে। উপরমহলের তরফে বলা হয় পায়ে হেঁটে যাতায়াত করলেও যাদের বাড়িতে গাড়ি লুকিয়ে রাখা আছে, বা অন্যত্র তাদের গাড়ি বেনামে খাটছে, সেইসব লোকের লুকানো গাড়ি ধরার উদ্দেশ্যেই এই নিষেধাজ্ঞা। কিন্তু ব্যাপারটা যে তা নয় তা গাড়িওয়ালা এবং গাড়ির দোকানদাররা জানত। এই সিদ্ধান্ত মূলত এলাকার সার্বিক উন্নয়নের স্বার্থেই— সকলেই যাতে ‘গাড়িওয়ালা’ শ্রেণিতে উন্নীত হয়। যাদের গাড়ি নেই, অথবা গাড়ি কেনার কোনোভাবেই সামর্থ্য নেই, তারা এলাকা ছেড়ে চলে যাবে, অথবা না খেতে পেয়ে মারা যাবে।

       পরের দিন রাস্তা একেবারে শুনশান। হাতে গোনা কয়েকটা গাড়ি প্রচণ্ড গতিতে যাতায়াত করছ…

অনুবাদ: চারটি কবিতা - সম্বুদ্ধ ঘোষ

নস্ট্যালজিয়া আর্সেনিয় তারকোভস্কি Arsenii Tarkovsky : ‘Nostalgia’
ছেলেবেলায় একবার ভুগেছি ক্ষিদেয় আর ভয়ে। শক্ত আঁশ ছাড়িয়ে জিভ বুলিয়েছি ঠোঁটে। মনে পড়ে শীতল নোনাস্বাদ সেইসব, তবু আবার বসেছি সদরের সিঁড়িতে ওম পেতে, জ্বরের বিকারে আমি ঘুরেছি নদীমুখে বাঁশিওয়ালার সুরে; ওম পেতে সদরের সিঁড়িতে বসে আমি--
দাঁড়িয়ে রয়েছে মা, ডাকছে আমায় সাতটা ধাপ দূরে; এগিয়ে গিয়েছি, তবু সাতটা ধাপ দূরে ওই দাঁড়িয়ে রয়েছে মা, ডাকছে আমায় ওই দূর থেকে।
জ্বর নেমে এল, কলারের বোতাম খুলে শুয়ে পড়ি, আর শিঙার ভোঁ শুরু হল, আলোর চাবুক লাগল চোখের পাতায়, আর ঘোড়াদের নাদ ভেসে এল-- পাথুরে জমির 'পরে ওই উড়ে যাচ্ছে মা, ওই মিলিয়ে গেল...
এখন দেখি আপেলবীথিকার ফাঁকে শাদা ওয়ার্ড এক, আমার গলা পর্যন্ত টানা শাদা বেডশীট, শাদা ডাক্তার ঝুঁকে পড়ে, আর শাদা নার্স ডানা গোটাচ্ছে পায়ের কাছে এসে। ওরা সব র'য়ে গেল,
শুধু মা এসে ডাকল আমায় ওই দূর থেকে, আর বাতাসে মিলিয়ে গেল...



মারি স্লেইট-এর দ্য আন্তিগোনে পোয়েমস - অনুবাদ: অর্ক চট্টোপাধ্যায়

দ্য আন্তিগোনে পোয়েমস মারি স্লেইট
(১) আমার করোটির ভেতর (সব) ওই ক্ষুধার্ত বায়স-ধ্বনি আগুন অত্যাচারের ডাকে ডাকে
আমার হৃদয়ের ভেতর (শুধু) ওই শেষ কম্পন ফিসফিসে গানের মধ্যে যন্ত্রণা

আপোষ (Making Do) : ইতালো কালভিনো / অনুবাদ: অর্ক চট্টোপাধ্যায়

আপোষ (Making Do) : ইতালো কালভিনো

এক যে ছিল রাজ্য যেখানে সবই ছিল বারণ।
যেহেতু শুধু ডাঙ্গুলি খেলা বারণ ছিল না, রাজ্যের লোকজন মাঠেঘাটে একজোট হয়ে ডাঙ্গুলি খেলে সময় কাটাত।
যেহেতু নিষেধের নিয়মগুলো এক এক করে এবং বেশ জোরালো কারণসহ লাগু করা হয়েছিল সেগুলো নিয়ে কারুর মনে কোন দ্বন্দ্ব বা অভিযোগ ছিল না। সবাই সহজেই সেসব আইনে অভ্যস্ত হয়ে উঠেছিল।
এভাবেই অনেকগুলো বছর কাটলো। একদিন কনস্টেবলরা দেখল সব জিনিস নিষেধ করার আর কোন কারণ নেই। তাই তারা সংবাদ-প্রেরকদের হাতে খবর পাঠালো যে প্রজারা এখন যা ইচ্ছে তাই করতে পারেন।
দূতেরা মাঠেঘাটে যেখানে লোকেরা একজোট হত সেখানে পৌছলো।
"শোনো সবাই শোনো", তারা ঘোষণা করলো, "আজ থেকে আর কোনকিছুই বারণ নয়।"
লোকজন ডাঙ্গুলি খেলেই চললো।
"কি বুঝলে?" তারা বলতে লাগলো, "যা ইচ্ছে তাই করতে পারো সবাই।"
প্রজারা উত্তর দিলো, "বেশ তো, আমরা ডাঙ্গুলি খেলছি।"
সংবাদ-প্রেরকেরা অতীতের বহুবিচিত্র এবং বর্ণময় কর্মযজ্ঞের কথা তাদের মনে করালো; আবার তাদের জানালো যে চাইলে এখন তারা পুনরায় সেইসব করতে পারে। কিন্তু প্রজারা কর্ণপাত না করে নিজেদের মত ডাঙ্গুলি …
Like us on Facebook
Follow us on Twitter
Recommend us on Google Plus
Subscribe me on RSS