Showing posts with label Translation. Show all posts
Showing posts with label Translation. Show all posts

Saturday, November 26, 2016

নিষেধাজ্ঞা : অদ্বয় চৌধুরী

নিষেধাজ্ঞা

“আজ রাত দশটা থেকে রাজপথে পায়ে হেঁটে যাতায়াত নিষিদ্ধ।”
       সেদিন সন্ধে থেকে গোটা এলাকা পোস্টারে পোস্টারে ছেয়ে গেছিল, টিভি-রেডিও সর্বত্র ঘোষণা হচ্ছিল লাগাতার। সকলেই জেনে যায় এই নিষেধাজ্ঞা। যারা অনেক রাত করে পায়ে হেঁটে বাড়ি ফেরে তারা সেদিন তাড়াতাড়ি বাড়ি ফিরে এসেছিল।

       যারা রাজপথে পায়ে হেঁটে যাতায়াত করেনা, যাদের গাড়ি আছে, তারা বেজায় খুশি হয়েছিল এই নিষেধাজ্ঞায়। রাস্তায় ভিড় কমবে, ট্রাফিক জ্যাম কমবে। গাড়ির দোকানদাররাও খুশি হয়েছিল। এবার গাড়ির বিক্রি বাড়বে। উপরমহলের তরফে বলা হয় পায়ে হেঁটে যাতায়াত করলেও যাদের বাড়িতে গাড়ি লুকিয়ে রাখা আছে, বা অন্যত্র তাদের গাড়ি বেনামে খাটছে, সেইসব লোকের লুকানো গাড়ি ধরার উদ্দেশ্যেই এই নিষেধাজ্ঞা। কিন্তু ব্যাপারটা যে তা নয় তা গাড়িওয়ালা এবং গাড়ির দোকানদাররা জানত। এই সিদ্ধান্ত মূলত এলাকার সার্বিক উন্নয়নের স্বার্থেই— সকলেই যাতে ‘গাড়িওয়ালা’ শ্রেণিতে উন্নীত হয়। যাদের গাড়ি নেই, অথবা গাড়ি কেনার কোনোভাবেই সামর্থ্য নেই, তারা এলাকা ছেড়ে চলে যাবে, অথবা না খেতে পেয়ে মারা যাবে।

       পরের দিন রাস্তা একেবারে শুনশান। হাতে গোনা কয়েকটা গাড়ি প্রচণ্ড গতিতে যাতায়াত করছে। ফুটপাথে কোনো লোক নেই। দু-একটা বড় দোকান আর সমস্ত গাড়ির দোকান ছাড়া আর কোনো দোকান খোলেনি। কোনো নতুন গাড়িও কিন্তু রাস্তায় দেখা যায় না। না লুকিয়ে রাখা গাড়ি, না নতুন কেনা গাড়ি। আগে যেগুলো চলত সেগুলোই শুধু দেখা যায়।

Sunday, November 13, 2016

অনুবাদ: চারটি কবিতা - সম্বুদ্ধ ঘোষ


নস্ট্যালজিয়া
আর্সেনিয় তারকোভস্কি
Arsenii Tarkovsky : ‘Nostalgia’

ছেলেবেলায় একবার ভুগেছি
ক্ষিদেয় আর ভয়ে। শক্ত আঁশ ছাড়িয়ে
জিভ বুলিয়েছি ঠোঁটে। মনে পড়ে
শীতল নোনাস্বাদ সেইসব, তবু
আবার বসেছি সদরের সিঁড়িতে ওম পেতে,
জ্বরের বিকারে আমি ঘুরেছি
নদীমুখে বাঁশিওয়ালার সুরে;
ওম পেতে সদরের সিঁড়িতে বসে আমি--

দাঁড়িয়ে রয়েছে মা, ডাকছে আমায়
সাতটা ধাপ দূরে;
এগিয়ে গিয়েছি, তবু সাতটা ধাপ দূরে
ওই দাঁড়িয়ে রয়েছে মা, ডাকছে আমায়
ওই দূর থেকে।

জ্বর নেমে এল,
কলারের বোতাম খুলে শুয়ে পড়ি,
আর শিঙার ভোঁ শুরু হল,
আলোর চাবুক লাগল চোখের পাতায়,
আর ঘোড়াদের নাদ ভেসে এল--
পাথুরে জমির 'পরে ওই
উড়ে যাচ্ছে মা,
ওই মিলিয়ে গেল...

এখন দেখি আপেলবীথিকার ফাঁকে
শাদা ওয়ার্ড এক, আমার গলা পর্যন্ত
টানা শাদা বেডশীট, শাদা ডাক্তার
ঝুঁকে পড়ে, আর শাদা নার্স ডানা গোটাচ্ছে
পায়ের কাছে এসে। ওরা সব র'য়ে গেল,

শুধু মা এসে ডাকল আমায়
ওই দূর থেকে,
আর বাতাসে মিলিয়ে গেল...




Saturday, November 5, 2016

মারি স্লেইট-এর দ্য আন্তিগোনে পোয়েমস - অনুবাদ: অর্ক চট্টোপাধ্যায়

দ্য আন্তিগোনে পোয়েমস
মারি স্লেইট

(১)
আমার করোটির ভেতর (সব)
ওই ক্ষুধার্ত বায়স-ধ্বনি
আগুন
অত্যাচারের ডাকে ডাকে

আমার হৃদয়ের ভেতর (শুধু)
ওই শেষ কম্পন
ফিসফিসে গানের মধ্যে
যন্ত্রণা

Wednesday, June 1, 2016

আপোষ (Making Do) : ইতালো কালভিনো / অনুবাদ: অর্ক চট্টোপাধ্যায়

 আপোষ (Making Do) : ইতালো কালভিনো

এক যে ছিল রাজ্য যেখানে সবই ছিল বারণ।
যেহেতু শুধু ডাঙ্গুলি খেলা বারণ ছিল না, রাজ্যের লোকজন মাঠেঘাটে একজোট হয়ে ডাঙ্গুলি খেলে সময় কাটাত।
  
যেহেতু নিষেধের নিয়মগুলো এক এক করে এবং বেশ জোরালো কারণসহ লাগু করা হয়েছিল সেগুলো নিয়ে কারুর মনে কোন দ্বন্দ্ব বা অভিযোগ ছিল না। সবাই সহজেই সেসব আইনে অভ্যস্ত হয়ে উঠেছিল।
এভাবেই অনেকগুলো বছর কাটলো। একদিন কনস্টেবলরা দেখল সব জিনিস নিষেধ করার আর কোন কারণ নেই। তাই তারা সংবাদ-প্রেরকদের হাতে খবর পাঠালো যে প্রজারা এখন যা ইচ্ছে তাই করতে পারেন।
দূতেরা মাঠেঘাটে যেখানে লোকেরা একজোট হত সেখানে পৌছলো।
"শোনো সবাই শোনো", তারা ঘোষণা করলো, "আজ থেকে আর কোনকিছুই বারণ নয়।"
লোকজন ডাঙ্গুলি খেলেই চললো।
"কি বুঝলে?" তারা বলতে লাগলো, "যা ইচ্ছে তাই করতে পারো সবাই।"
প্রজারা উত্তর দিলো, "বেশ তো, আমরা ডাঙ্গুলি খেলছি।"
সংবাদ-প্রেরকেরা অতীতের বহুবিচিত্র এবং বর্ণময় কর্মযজ্ঞের কথা তাদের মনে করালো; আবার তাদের জানালো যে চাইলে এখন তারা পুনরায় সেইসব করতে পারে। কিন্তু প্রজারা কর্ণপাত না করে নিজেদের মত ডাঙ্গুলি খেলে যেতে লাগলো। রুদ্ধশ্বাসে স্ট্রোকের পর স্ট্রোক নিয়ে চললো।
তাদেরকে বোঝানোর চেষ্টা অরণ্যে রোদনের সামিল দেখে হতাশ দূতের দল কনস্টেবলদের কাছে ফেরত গিয়ে গোটা ব্যপারটা জানালো।
তারা বললো, "এই ব্যপার? বেশ তো, এক কাজ করো না, ঘোষণা করে দাও যে ডাঙ্গুলি খেলা নিষেধ।"
এই নতুন নিষেধাজ্ঞা শোনামাত্র প্রজারা রক্তাক্ত সংগ্রামের মধ্য দিয়ে দূতেদের হত্যা করলো।

তারপর এক মুহূর্ত সময় নষ্ট না করে তারা আবার ডাঙ্গুলি খেলতে লাগলো।



অনুবাদ: অর্ক চট্টোপাধ্যায়
Translation: Arka Chattopadhyay