Jyotirmoy Shishu

Jyotirmoy Shishu

Wednesday, January 25, 2017

জ্যোতির লেখা : জ্যোতির্ময় বিশ্বাস

জ্যোতির লেখা

১|
এই জীবনে এযাবৎ একুশটি বছর তো গেলো
অক্ষরগুলি চিনেছি সেই কবে
শব্দগুলির সাথে প্রায় রোজ দেখাশোনা
শুধু বাক্যগুলি চিনে রাখতে ভুল হয়ে যায়, পারিনা


২|
একই সম্পর্কের ভিতর আমরা যাতায়াত করেছি বহুবার
ফলত পায়ের চিহ্নাদি কোনটা যে আসার কোনটা চলে যাবার
আর কোনটা ফেরার, তার কিছু ঠিক নেই

মানুষের বাড়িতে অনেক বিভেদ থাকে
ঈশ্বরের সমুদ্রতীর তাই আমাদের অনেকের বাড়ি
থেকে অনেকটা দূরে।


৩|
গাছেদের সাথে সাথে
গাছের তলারও বয়স বাড়ে
অতল বদলে ফেলে নদী

দু’জনই এ’কথাটি ঠিক বুঝে যাবো
বহুদিন পর একদিন দেখা হয় যদি।

Tuesday, January 17, 2017

কবিতা সিরিজ বা একটি কবিতা : দীপ শেখর চক্রবর্তী


এই বোকা শহর আমাকে নরম ভেজা ঠোঁটে নিরাপদ চুমু খায়, রোজ
আমি পুরনো বন্ধুদের মাতাল বেশি রাত ডাকে হয়েছি নিরাপদ
পুরনো কম্বলের ভেতর আদরে ভুলিয়েছি গলিদের প্রাক্তন প্রেমিক
আমি পুরনো ভোরেদের ঊরুতে শুয়ে নিজেকে চমৎকার প্রেমিক ভেবেছি
হটা
একটা আচমকা মোলায়েম মুখের অপেক্ষায় জটিল অসুখ বাধিয়েছি রাস্তার পাশে খোলা জানলায়, বুক চিতিয়ে -



কতটা নিরাপদ হলে মানুষ সংসার গড়ে এ প্রশ্ন আমি খোদ সংসারকেই করেছি
আগুন তো আসলে ছাই এর খুড়তুতো ভাই, আমি সূর্যের সৎ ছেলে?
তুমি মাথায় আঙুল দিয়ে খোঁজো নিরাপত্তা। এটুকুই তো চাই। তা ছাড়া বাকি সব তো পাবেই কবিতায়।
অনেক বয়স হলে বুঝবে তুমি,
এসব পালানো নয়, বরং সত্যির কাছে যাওয়া
সত্যির কাছে গ্যালে নিজেকে অন্ধ বাঁশিওয়ালার সুরে পুড়িয়ে নিতে হয়
জীবনে হয়েছ তুমি তা কেবল এক খানা নিরাপদ মোলায়েম ছাদের পাহারাদার
 
চেনা গন্ধ ছাড়া বাকি সব সয়ে নিতে হয়।


Sunday, January 15, 2017

একটি জ্বরের সিরিজ : অনন্যা বন্দ্যোপাধ্যায়

জ্বর ১

ভীষণ জ্বরের ভেতর তোমার কথা ভাবতে ভালো লাগে
গায়ে চাকা চাকা দাগ পড়ে আছে
পড়ে আছে উত্তপ্ত নাভি
কমলা ফুলের মত তুমি শুয়ে আছো পাঁজরের তীরে
আমার সমস্ত দেহে জেগে ওঠে এক অলীক আওয়াজ
প্রতিটা পরমাণু প্রাচীন থেকে প্রাচীনতায় মেলে
তারপর যা কিছু স্নেহ, হিসেবের ব্যবধান, তুমি ধার করে নিলে
দিগন্তে পৌঁছে যায় অলীক পাখা
যে ক্ষণিকের পর অবশ হয়ে যায় দেহ
রাত পার করে নাবিকেরা
আমাকে তাদের কথা বলো
এই ফাঁকে আমি আরো তোমায় ভেবেনিই
ভেবেনিই আমাদের আবছায়া কথোপকথন



Friday, January 13, 2017

আমরা একটা সিনেমা বানাবো (ভাগ দুই) : হিয়া মুখার্জী

আমরা একটা সিনেমা বানাবো
ঝিমোনো ভয়ের গল্প।
হিলস্টেশনের ক্রেশ।
কামিন বস্তির বাচ্চারা
তাদের ঘুমের মধ্যে
টুপটাপ
খসে খসে পড়ছে
ম্যাগনোলিয়ার মত।
শোনা যায়
এইসব রাতে
চৌখুপি ছাদ থেকে
গন্ধে গন্ধে
খুব সহজেই
ভূত নেমে আসে।
মোমবাতির শিখা কি
দু একবার
কেঁপে উঠলো হাওয়ায়?
রিসর্টের ঘরে
মুখোমুখি দুইজন শুধু
কোনো কথা না বলে
পুরোনো অস্বস্তি থেকে
নতুন অস্বস্তির দিকে
হেঁটে গ্যালো।



Wednesday, January 11, 2017

দীপঙ্কর ভাই আমার - শুভঙ্কর দাশ

দীপঙ্কর ভাই আমার

আমি সেলুনে একা একা গোঁফ রং করছি
আর তুই চলে গেলি।
ভাবছি কী করব ওই চুলের সফেদ
উঁকিগুলো নিয়ে?
বোকামিগুলো ঢেকে ফেলে
আরেকবার বইমেলায় বসে থাকব কি?

আর শালা তুই চলে গেলি একা একা?
মানে এবার আর দেখা হবেনা বলছিস?
চুপি চুপি ভদকা মেশানো মিনারেল ওয়াটারের বোতল
আর বেরোবেনা ব্যাগ থেকে?
লিটল ম্যাগাজিনের টেবিলে বসে
গলায় ঢালা যাবেনা খানিকটা আগুন?
আর আমি এখানে লড়ে যাচ্ছি এই বিচ্ছিরি রোগটার সাথে
একা একা রোজ রোজ।

তাই বুঝি খুব ভোরে আজ বার বার
জপের মালা স্লিপ করছিল হাতে,
কান্না পাচ্ছিল হুহু এমনি এমনি।
খুব অস্বস্তিতে কাটছিল সকালটা।
তারপর সেলুনে বসে যখন ভুলে গেছি সব
তখনি ফোনটা এল,
যেভাবে এরকম ফোনগুলো আসে
আপাত নিরীহ বেচারা টাইপের।
আর আমি সেলুনের লোকটাকে
মাঝ পথে থামিয়ে ফুটপাতে নেমে এলাম।

বাইরে চা দোকানে রোজকার মতো আড্ডা মারছে লোকজন
আর একটা পাগল ফাঁকা বোতল কুড়োচ্ছে রাস্তায়।















শুভঙ্কর দাশ

Subhankar Das

Tuesday, January 10, 2017

एक विराट ब्राह्मणवादी - Utpal Pandey

एक विराट ब्राह्मणवादी


मै हूँ एक विराट ब्राह्मणवादी
हुआ है मेरा अवतार
रोकने के लिए
इस दुनिया की बर्बादी
लक्ष्य है मेरा
जांघ व पैर से पैदा होने वालों को
उनकी सही जगह दिखाने की
ताकि महक उठे एक बार फिर
ब्राह्मणों की प्रतिभा से
हर बाग-बगीचा; हर घाटी; और हर वादी
मै हूँ एक विराट ब्राह्मणवादी

बनाया है हमने ये पूरा समाज
लिखी हैं हमने धर्म की सारी किताबें
गढ़े हैं हमने पूरे के पूरे तैंतीस करोड़ देवता
गढ़ा है हमने ये सारा का सारा हिंदुस्थान
और अब कुछ लोग आए हैं
जो करते हैं बराबरी की बात
और कर रहे हैं
हमारे इस सुंदर समाज में
ईर्ष्या व द्वेष फैलाने का प्रयास
लेकिन नही बटने दूँगा
मै ये हमारा समाज
और रोकूँगा मै
ये आने वाली बर्बादी
क्योंकि मै हूँ एक विराट ब्राह्मणवादी

Monday, January 9, 2017

তিনটি লেখা নিয়ে এলেন সুপ্রিয় চন্দ

অ্যাকোরিয়াম
নৌকোর কখনো নোঙর হয় না
জল বা এই রকম জীবন নিয়ে গভীরে ভাবাটা
নিঃসন্দেহে ডুবসাঁতারুর কাজ
'ইউরেকা' 'ইউরেকা' বলে চেঁচামেচি
এই প্রেক্ষিতে নিস্প্রয়োজন এবং খামোকা বোকামি
জল নিয়ে ভাবতে হলে পাড় নিয়ে ভাবো
স্রোত নিয়ে ভাবো
বাতাস নিয়ে ভাবতে ভাবতে, একআধঘুম শব্দ
আলটপকা ছুঁড়ে ফেলো স্থির জলে
তরঙ্গ ছড়িয়ে পড়বে চারদিকে
সময়টা সন্ধে হলে কোন কথাই নেই
অনায়াসে বজরা নিয়ে নেমে যেতে পারো

দাঁড় আর পাল আমার বহুদিনের চেনা বন্ধু
তাই আমাকেও সঙ্গে নিও প্লিজ জলসওয়ারিতে
শুরুটা তোমাকেই করতে হবে
শেষের চালটা আমার হাতে এখনো
তুমিই তো জল নিয়ে ভাববে বলেছিলে             প্রথমে
রাজ্যজয়, কূটনীতি, কলম্বাস আর তোমার অ্যাকোরিয়াম ছেড়ে
তাই আমি কোনদিন ভেসে উঠিনি
পাড়ভাঙা জলে



Wednesday, January 4, 2017

বাতিল চিঠিঃ ৭ জানুয়ারি, প্রসেনিয়াম আর্ট সেন্টার, সন্ধ্যে ৭টা

বাতিল চিঠিঃ কিছু না-পাঠানো সংবাদ


চিঠি লিখি না বহুদিন। কেন? লেখার ফুরসৎ নেই তাই। ছোট্ট ফোনের পিং বা লাইভ ভিডিও চ্যাটের সময়ে, মরচে পড়া পোস্ট-অফিসটাই তো বাতিলের খাতায়। সেখানে চিঠি পৌছবেই বা কি উপায়ে? অথচ প্রিয় মানুষের হাতের গন্ধ মাখা চিঠি, শীতের রোদ্দুর পিঠে মেখে, কথায়-ভালবাসায় ভেসে যাওয়ার মেদুরতা কি আর কিছুর সঙ্গে মেলে? তবু দ্রুত গতির পাল্লাছুট সময়ে চিঠি, হলুদ খাম আর ইনল্যান্ড লেটার হয়ে গেছে ব্রাত্য, বাতিল।




এমন কিছু না পাঠানো চিঠি, কিছু কথা আর স্মৃতি গা-মেখে নেওয়ার ভাবনা থেকে গড়ে উঠল আমাদের কাজ ‘বাতিল চিঠি’। একটি মেয়ের তার প্রেমিককে না-পাঠানো কিছু ইমেল হাতে এল। কাজ শুরু হল। অতীত আর বাস্তবকে বাধল সংবাদ। ছবির ফ্রেমে সুরের সংগত। বাকি কথা অনুষ্ঠানের জন্য তোলা থাক।




আগামি ৭ জানুয়ারি প্রসেনিয়াম আর্ট সেন্টারে ‘বাতিল চিঠি’- এর প্রথম শো। অন্তরঙ্গ থিয়েটার ফর্মের এই কাজ মিশ্র-মাধ্যমে প্রাণ পেতে চলেছে। অভিনয়ে অংকিতা মিত্র, গুলশনারা। সঙ্গীত পরিকল্পনা ও পরিবেশনা নীল সরকার। দৃশ্যসজ্জা পার্থ দাস, সাদিক হোসেন ও শমীক দাস। ফ্রেম বন্দীর ভার স্বাতী রায়ের। সামগ্রিক সহায়তায় সুজয়প্রসাদ চ্যাটার্জি। একটি ৪৫ মিনিটের প্রযোজনা। শুরু সন্ধ্যে ৭টা থেকে।


গুচ্ছ - কবিতা : তৃষা চক্রবর্তী

গুচ্ছ - কবিতা


বহুদিন পরে চায়ের গেলাস পাশাপাশি নামিয়ে রাখা হল
রাখা হল বুকের ভিতর জিভ পুড়ে যাবার মত স্বাদ
রাস্তার যেকোনো চায়ের দোকানই, ঐশ্বরিক ঐন্দ্রজালবিস্তার
বলো বিচ্ছেদ, কতদূরে তুমি, আর কতদূরে সমাধি তোমার?



তোমার অপেক্ষায় আছি বহুক্ষণ
কেউ জানে না, ওদের মিথ্যে বলেছি
যেকোনো তোমাকেই দেখলে ভাবছি পরিচিত পথ
পরিচিত জন দেখলে খুঁজছি আড়াল
ওরা কীকরে জানত, প্রতীক্ষাই সত্য মাত্র
এর বেশি আর কিছু নয়, কিছুই-

ওদের মিথ্যে বলেছি তাই।


Monday, January 2, 2017

পাঁচটি লেখা নিয়ে এলেন : দুখাই রাজ

প্রথম দিন

আহত হবার পর প্রথম মনে পড়ে — আমার ইপিল গাছটা কেমন আছে?
হয়তো আমার মৃত্যু সংবাদ তার কাছে পৌঁছে দিয়েছে করাত।
তাকে বলেছিলাম — আমার কফিনের কাঠ দেবে তুমি। যেন আটদিনে তৈরী হয় কফিন।

প্রথম দিনে — তোমাকে আহত করবে করাতকলের লোক।



বোধি

১ম দিন - অবসর নিয়েছিলাম লাগামহীন ঘোড়ার পিঠ থেকে
২য় দিন - তিন কেজি ওজনের পাথর
মাথার নিচে এবং উপরে রেখে বন্ধ করে দিয়েছিলাম কান
৩য় দিন - শুকনো পাতার নিচে বন্ধক রেখেছিলাম চোখ

আমি তিনদিন ঘুমিয়ে ছিলাম


Friday, December 9, 2016

শিকড়গাছা : দেবার্ঘ্য গোস্বামী

শিকড়গাছা

পেছনে চোখ ফেরালে ঘটনাগুলো সব সেঁধিয়ে যায় গল্পের কোটরে। অথবা গল্পগুলো আসলে উপচে পড়া ঘটনা। পেছনে চোখ ফেরালে – নিজেকে দেখি দস্তাবেজ – শূন্য – ভেসে আছি রূপকথার ধূসর খসড়ায়। যে ঘটনাগুলো ফুরিয়ে গেছে, তারা মরে যাবার আগেই শিখে নিয়েছিল নিঃশ্বাস প্রকরণ। যে ঘটনাগুলো ফুরিয়ে গেছে, তাদের আর জীবাশ্ম – হওয়া - হয়ে ওঠেনি। তাদের গায়ে গজিয়ে ওঠে গল্পগাছা। হেঁটে - ফিরে বেড়াই সেই গল্পের পাড় ধরে, খুঁজে বেড়াই কিছু হাতছুট বিস্ময়, কিছু হারিয়ে যাওয়া গন্ধ। চোখ বুজে মনে করতে চাই – ‘ঠিক কেমন দেখতে ছিল তারা?’

-১
দু পা জুড়ে ঘাস গজিয়েছে। তাতে পড়ে আছে পাখির ভাঙা ডিম। অনেক দিন ঘুমিয়েছিল এ ঘর। বহুদিন ঘুমিয়েছিলাম আমি। মানুষ ঘুমোলে – গাছেরা জেগে ওঠে। মানুষ ঘুমোলে – গৃহপালিত গাছের শিরা বেয়েও ছোটে বুনো রক্ত। এই আদিম উচ্ছ্বাসে – খুঁটে খুঁটে খুঁজছোটা কি? আসলে এও তো ছিল সেই অনাদি হার-জিতের গল্প। যদিও কবে ফুরিয়েছে জয়ের নিষ্ঠুর উত্তাপ – যদিও তার গর্বের পাঁচিল – ক্ষয়ে ক্ষয়ে আজ পথের সামিল। যদিও চেতন অবচেতন জুড়ে কোথাও নেই একফোঁটাও তার কোন যুদ্ধস্মৃতি – কিন্তু হারের গ্লানি? তা তো থেকে যায় মলাট বেঁধে। আজও তো তার প্রতিটা সন্ধি ও শান্তির সাথে নিত্য সহবাস।
       তাই ঘুম ভেঙ্গে যদি ঘরে ফেরো এতদিনে, তাহলে আর খুঁজো না বুদ্বুদ জীবনাচার। আর খুঁজো না পান-সুপুরি-দোয়াত-খাতা-শেষ টুথপেস্ট, শুকনো ঘসির  চিহ্ন – আর খুঁজো না।
       আজও তবে এ ঘরে পেতে পারো নিবিড় আশ্রয় – পেতে পারো বুনো অভ্যর্থনা। আজ যদি ফিরে আসতেই হয় – তবে আয় প্রাকৃতিক হয়ে – আয় দুপায়ে ঘাস জড়িয়ে।

। ০ ।
বাবুইয়ের জড়ো করা জোনাকির মত, খাদে জমা অন্ধকার তিলতিল তুলে এনে সে ভরায় নিজের কুঠুরি। ওলটানো মাটির হাঁড়িতে জল মাখিয়ে, তিন আঙ্গুলে – সে তুলে নেয় পেঁজা অন্ধকার। আর তারপর – বাঁশের মতন দুলে দুলে, নিজের দুহাতের ওম জাগিয়ে, গুন গুনে – সে কেবল সলতে পাকায়।
সে অন্ধকারের সলতে পাকায় – কারণ সে কখনও আলো জড়ো করেনি।
       সে অন্ধকারের সলতে পাকায় – কেননা সে বরাবর আলো ভালবেসেছে।

। ১ ।
ঝমঝমিয়ে শুকিয়ে যাওয়া ভ্রান্ত আঙ্গুল বেয়ে, একদিন নেমে যাবে গল্প–গাছা। ঘুম নদী ভাঙ্গা কাদা পা ডুবে যাবে চুপ সড়কে। অলৌকিক ভুলে বোনা অতল ছায়া, হাতড়ে হাতড়ে জেনে নেবে – নেই বৃক্ষ।
-- আজ বক-সংযম।




দেবার্ঘ্য গোস্বামী

Debarghya Goswami

Thursday, December 8, 2016

তিনটি লেখা নিয়ে এলেন : সুমন সাধু

যা কিছু সামলে রাখছি

ব্যাগে ব্যাগে রঙীন দাগগুলো পুরনো কত শুকিয়ে যাওয়া চারা গাছের গল্প বলে দিচ্ছে। অথচ ব্যাগের মধ্যে শুকিয়ে যাওয়া চরিত্ররা তো সাদা কাগজে স্ক্রিন প্লে'র মধ্যে বন্দী। ক্যামেরা-লেন্সের দিকে তাকিয়ে মনে হচ্ছে, একের পর এক চরিত্র দূষণ আর ফুরিয়ে আসা সন্ধেবেলা ছাড়া অন্য কিছুর জন্ম দিচ্ছে কই! যদি চোখ রাখো লেন্সে, যদি চোখ রাখো লেন্সের দাগে, দেখবে ট্রাম, ট্রাফিক আর সিগন্যাল ছাড়া কিছুই বলার নেই।

পাঁচমাথার মোড়টায় লাল শাড়ি পড়ে দাঁড়িয়ে থাকার সন্ধ্যে আজ। পচা পচা গন্ধ নিয়ে আঁচল লুটিয়ে ইশারার সন্ধ্যে আজ। ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা ক্যামেরা, যেকোন একটা ধরো, চোখ মেলে ধরো লেন্সে, এরপর এসো একসাথে দুজনে তলপেটের যন্ত্রণা ভোগ করি। মানুষ দেখি আর মানুষের মধ্যে চিনে নিই নিজেদের।

একটু রাত বাড়লে আমি চলে যাব। তুমি হয়ত একা পড়ে থাকবে। মাছি এসে তোমার গায়ে বসবে, গন্ধ শুঁকবে। রক্ত তোমায় চিনিয়ে দেবে রেলপথের পাশে সেই চেনা গলিটা। ফেরার পথে আমি দোকানে দোকানে ব্যাগের দাগ দেখব, হলুদ হলুদ দাগ। রোজকার মতো বাড়ি ফিরে শুকিয়ে যাওয়া চারাগাছটায় জল দেব। রোজকার মতো আমিও নিজেকে সুমন হয়ে যেতে দেখব।



Tuesday, December 6, 2016

সুখ : সুপ্রিয় কুমার রায়

সুখ

যেদিন গানের পারফরম্যান্স ভালো হয় তারপর অনেক কঠিন কাজও খুব সহজে করা যায়
সেদিন বোলপুর এ এমনি এক গানের আখড়া সেরে আমি আর আমার এক বন্ধু ঠিক করলাম আজ সারারাত রাস্তায় ঘুরবো!!! তো যাই হোক আমার বন্ধু অনেকটাই মাল খেয়েছে আমারও অদ্ভুত আবহাওয়ায় ঘুরে নেশা নেশা লেগেছে!!! ঘুরতে ঘুরতে কটা বাজে জানিনা দুটো রাস্তার মাঝ খানে এসেছি
মাঝখানে লেখা কোথায় যাবেন
ডানদিকে না বাঁদিকে?
ডানদিকে লেখা পৃথিবীর বাইরে ^
বাম দিকে লেখা পৃথিবীর ভেতরে ^
আমরা একে অপরকে দেখে
পৃথিবীর ভেতরে ঢুকে পরেছি ~~
কিছু দূর এগোতেই দেখি একটি ছেলে একটি রশির ওপর দিয়ে এক পায়ে হেঁটে হেঁটে ব্যালান্স এর খেলা দেখাচ্ছে আর বলছে আমি বিশ্বাস, হয়তো কোনো দিনও পড়বো না কিন্তু যেদিন পরবো তারপর যতই ভালো খেলা দেখাই তোমরা বলবে "এর বিশ্বাস নেই" এবং এটা হওয়াও উচিত
কিছু দূর এগোলাম শুনি
এক নেতা ভাষণ দিচ্ছে, বলছে,
দেশটা প্রেম করতে করতে গেল
না মনে পুরুষের নারীর প্রতি প্রেম আর কি! কত দেশের কাজে এরা এরজন্য হস্তক্ষেপ করতে পারেনা জানেন!!!
আমার বন্ধু আমার দিকে তাকিয়ে বলে, কি বলেরে??
এরপর
দেখি একটি গাছের নিচে এক জ্যোতিষী,
এক বেটা গিয়ে বলছে,
আমার বউ সুন্দর হবে তো?
জ্যোতিষী বলছে,
"সুন্দরী বউ স্বামীকে ভালোবাসতে পারে না নিজের সুন্দর হওয়ার অহংকারে সে মরে"
আমি বললাম এই ঠিক বলেছে!
বন্ধু কে গিয়ে বললাম
চল আমরাও কিছু জানতে চাই
এই জ্যোতিষী হাত না দেখেই অনেক কিছু বলে
আমার বন্ধু গিয়ে বললো
কাকু?
এই ছেলে ভদ্র ভাবে কথা বল আমি কাকু?
তাহলে কি বলবো কাকু
আমি জ্যোতিষী
আমার কাজের নামেই আমায় ডাক,
আমি সিনেমা বানাতে পারবো?
কি হবে সিনেমা বানিয়ে?
লোকে তো কিছু শেখে না
শুধু এন্টারটেইনমেন্ট ভাবে!!!
মানুষ শোধরায়?
না তবু...
এরপর অদ্ভুত সুন্দর একটা মেয়ে অমাদের দিকে তাকিয়ে হাসতে হাসতে চলে গেল
আমি বরাবরই সুন্দরীদের প্রতি আকর্ষিত
তাই এখান থেকে মুখ সরিয়ে
রওনা হলাম ওর পেছন পেছন
চারিদিকে যেরকম পরিবেশ, মানে কোনো লেখায় সিনেমায় বর্ণিত হয়নি সেরকম সুন্দর পরিবেশের মধ্যে দিয়ে আমি সেই সুন্দরীর পেছন পেছন একটি হাড়ির মতো ঘরে ঢুকে পড়লাম
তোমার নাম কি,
সে বললো ওরে বাংলা সিনেমা
দেখে কি মনে হয়?
আমি বললাম সুন্দরী,
ও হেসে বললো হে ওটাই, এর ভেতরে বাইরে কিছু নেই
আমি ওর ঠোঁটে কিস করলাম ,
ও বললো
আমি এটা কে কেন গ্রহণ করবো?
আমি,
"When I kiss your lip I kiss your soul"
বলে তো দিলাম
কি হবে জানিনা
কারণ এরা প্রত্যেকেই এক কাঠি ওপরে
সুন্দরী বললো,
তুমি তো এখানকারই লোক
ওখানে কি করো?
গান গাই
একটা শোনাও
"শোনো আমি না তোমায় চিনিনা
চিনতেও চাই না
এখানেই কোথাও আছো জানি
দেখতে চাই না
নামে অক্ষরে জীবনে মরণে আনতে চাইনা
সবার মতো আমার গানে তুমি থাকো চাই না
এভাবেই অমর হয়েযাও তুমি
এভাবে অমর করে যাই আমি"
আমার বন্ধু এসে বললো এই চল
বের হই
সুন্দরী প্রনাম করলো, কেন জানিনা
বেরিয়ে দেখি একটি মিছিল যাচ্ছে
স্লোগান ~ "শান্তি চাই শান্তি দাও" বাঃ ইউনিক দাবি তো
এই দাবির মিছিল এ হাঁটি
হাঁটছি এখনও হাঁটছি
মুখে কখনো কখনো মনে বলছি



সুপ্রিয় কুমার রায়

Supriya Kr. Roy

Sunday, December 4, 2016

বাংলা কবিতার প্রসঙ্গে, দলীয় আদর্শ আর একটি বিনীত প্রশ্ন : চান্দ্রেয়ী দে

বাংলা কবিতার প্রসঙ্গে, দলীয় আদর্শ আর একটি বিনীত প্রশ্ন

আজ। অর্থাৎ কাল বা পরশু নয়। একমাস আগের বা একমাস পরের কোনো দিন নয়। এই আজ সময়টা আজকের সময়েই একমাত্র অস্তিত্ববান। কিন্তু, আজ-এর মধ্যে আছে গতকালের ছায়া-র শীতলতা, গতকালের রোদের তাপ, আর আছে আগামীকালের আলোছায়া কে অনুভবের রসদ। আজ এর মধ্যেই আছে গতকাল নেওয়া শপথ, আছে আগামীকালের রুটম্যাপ - পথ চলার দিশা, পাথেয়। তাই আজ, বস্তুত কাল বা পরশু থেকে আমূল বিচ্ছিন্ন, আপাদমাথা যোগাযোগহীন নয়।

দল। ‘দ’ আর ‘ল’-এর একটিমাত্র বিশেষ বিন্যাসেই ‘দল’ শব্দটি তৈরি হয়। একটিমাত্র বিশেষ বিন্যাসেই তৈরি হয় এর ভাবটিও। সময় ও পরিপার্শ্ব অনুযায়ী তার ভাবনা ও তার প্রকাশ বদলে যেতে পারে। কিন্তু শপথ আর পাথেয় আমূল পরিবর্তনশীল হতে পারেনা। পারে, যদি সেই দল, দলের ব্যক্তিবর্গ, সময়ের দাবী মেনে নিয়ে, প্রয়োজনীয়ের অভাব বোধ ক’রে অন্য কোনো বিন্যাসে বিন্যস্ত হয়ে ওঠে, হয়ে ওঠে অন্য কোনো দল। দল যদি আধার হয়, তার আধেয় এক বা একাধিক ব্যক্তি। এখন, স্থান, কাল অনুযায়ী পাত্র তার অবস্থান পরিবর্তন করতে পারে, এমনকি আমূল পরিবর্তনও এক্ষেত্রে সম্ভব। কিন্তু, কোনো দলের পরিপ্রেক্ষিতে ব্যক্তির ব্যক্তিগত অবস্থানের চেয়েও বেশী গুরুত্বপূর্ণ তাদের পারস্পরিক অবস্থান। কোনো দলের সদস্য-ব্যক্তিবর্গের পারস্পরিক অবস্থান সম্পূর্ণ পরিবর্তিত হয়ে গেলে, সেই দলেরও সম্পূর্ণ পরিবর্তন অর্থাৎ অন্য কোনো দল হয়ে ওঠা স্বসিদ্ধ।

নাম। একটি বিশেষ স্থানিক-কালিক-সাংস্কৃতিক পরিমন্ডলে কোনো নাম, যেকোনো নাম কোনো বস্তুর সনাক্তকরণে ব্যবহৃত হয়, যদিও নামের গঠনের সঙ্গে বস্তুর অস্তিত্বের যোগাযোগ সম্পূর্ণ কাল্পনিক। সনাক্তকরণের, পারস্পরিক সংযোগের (কমিউনিকেশনের) প্রয়োজনীয়তা স্বীকার করে নিলে, কোনো একটি নামের মাধ্যমে কোনো বিশেষ বস্তু তথা কোনো বিশেষ ধর্ম এবং বৈশিষ্ট্য প্রকাশিত হয়। এখন, ‘দল’ এর প্রসঙ্গে, কোনো দল এর নামের সঙ্গেই যুক্ত হয়ে যায় দলটির অস্তিত্ব অর্থাৎ তার দলীয় আদর্শ এবং সেই অনুযায়ী সম্ভাব্য কর্মপদ্ধতি। সেই কারণেই দলীয় অবস্থানের পরিবর্তনের সঙ্গে যেমন জড়িয়ে থাকে দলের পরিবর্তন, তেমনই তার সঙ্গে সঙ্গে নামেরও পরিবর্তন। দলভাবনা এমনকি দলভাবনার সার্বিক যৌথতা পরিবর্তিত হয়ে গেলে স্বতঃসিদ্ধভাবেই তার সনাক্তকরণ বৈশিষ্ট্য যায় বদলে, আর তা স্বীকৃতি পায় নাম-এর বদলের মধ্য দিয়ে। কেউ কেউ মনে করতে পারেন পরিবর্তনশীলতাই যেহেতু প্রকৃতি-র নিয়ম, তাই পরিবর্তনশীলতা স্বয়ং কোনো দলের দলীয় আদর্শ হতে পারে। অমোঘ পরিবর্তনশীলতার সামনে বদলে যেতে পারে স্থান-কাল, বদলে যেতে পারে ব্যক্তিক পরিস্থিতি, এমনকি বদলাতে পারে যৌথ অবস্থান। কিন্তু এই সার্বিক পরিবর্তনের জলপ্রপাত নাম-কেও ধুয়ে নিয়ে যাবে না কি? যদি পরিবর্তনশীলতাই ধারণ করতে হয়, নামবাচক ক্ষেত্রটিই বা ব্রাত্য থেকে যাবে কেন? তা কি কোনো ‘লিগ্যাসি’-র তাগিদে? কোনো ‘নস্টালজিয়া’র তাগিদে? অথবা কোনো ‘ব্রান্ডিং’ এর তাগিদে? কেননা সনাক্তকরণ বৈশিষ্ট্য যদি বদলে যায়, সনাক্তকরণের উপচার ‘নাম’ অপরিবর্তিত থাকবে কি করে? যে অতীত বর্তমানে ‘অতীত’, শুধু নামে তাকে বহন করব কেন? কাল আমি কি ছিলাম তা আজ বহন করবে কে, যদি সার্বিক পরিবর্তনে বদলে যায় এই ‘আমি’টাই? অন্তত অংশত। আমার অংশের বদলও আমাকে আর আমি রাখে না। গঙ্গায় যে তিনডুব দিল, সে তিন জন, একজন নয়। যে গঙ্গায় সে ডুব দিলো, তাও তিনটি গঙ্গা। একটি নয়।

ছড়িয়ে থাকা পরিচ্ছেদগুলোর মালা গাঁথতে গাঁথতে বলি, বাংলা কবিতার প্রথম দশকে দেখছি এক সর্বব্যাপী তাড়াহুড়া- কে কোথায় ছিল, কে কোথায় আছে, কেউ শূণ্য কেউ নব্বই কেউ বা অন্য কোন দশক থেকে – সময়ের পথে ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়া আমরা, আমরা যারা যৌথতা নিয়ে রূপকথা বেঁচেছি, যৌথতা নিয়ে স্বপ্ন দেখেছি, জীবন কেটেছি ছিঁড়েছি যৌথতার অভিমানে, তারা, আমরা টুকরো হয়ে যাওয়া সেই যৌথতার দোহাই দিয়ে, সেই যৌথতার কাল্পনিক দায় নিয়ে, সেই যৌথতার নাম ভাঁড়িয়ে প্রকাশ করতে চাইছি ‘অন্য’ এক যৌথতাকে, ‘অন্য’ এক ব্যক্তিক অস্তিত্ব-কে। মরা যৌথতা কে ‘আ’মরা করতে চাইছি। কেন??

বাংলা কবিতার পাঠক, লেখক, বিপ্লবী, আর বাংলা কবিতার আমরা-র পায়ে এই আমার বিনীত প্রশ্ন, এই আমার জিজ্ঞাসু আকুতি...


চান্দ্রেয়ী দে
Chandrayee Dey

Saturday, December 3, 2016

সাতটি টবিতা : দিদার মালেকী

লটকন যেভাবে ফল হয়ে ওঠে

নিউ মার্কেটের সামনাসামনি
দাঁড়িয়ে আছি আপনাআপনি
দেখি ফল হয়ে উঠছে লটকন

ছাতা মাথায় মেয়েটিও একলা
ফোনে বলছে 'তো কী দ্যাখলা'
হাতে ধরা ফোতা হওয়া পপকর্ন

অন্যজনের বেশর ঝুলছে নাকে
ভ্রুর ভঙ্গিতে কারে যেন ডাকে
আমায় ডাকছে থোকা লটকন

মানুষ ফল হয়ে ওঠে বাজারে
চিনতে পারে কে আর কারে?
কোথায় ফলেছিলে হে লটকন?



Friday, December 2, 2016

অপুর সংসারের লেখা : রঙ্গন রায়, পূজা নন্দী ও অদ্রিজা পাল

অপুর সংসারের লেখা


অনেকক্ষন হাঁটার পর বসতে ইচ্ছে করতেই পারে তা বলে... ডিভাইডার? ভাবছি কি লেখা যায় করলার ধারে, ল্যাম্পপোস্ট এর আলো ছিল শুধু আর আমরা... বাওয়ালিলেখাই যেতো এভাবে চুল ছাড়া রাতের সাথে তবে বেইমানি হয়ে যাবে... আমরা একটা শব্দ শুনছি। তুমি কি শুনতে পাচ্ছো? না না করলার হাওয়ার কথা বলবো না গো, এ কুলকুল শব্দও নয়। বরং অনেকদিন পর দেখা কচুপাতার ফাঁকে যে জোনাকি বসে আছে তার ডানার শব্দ। আমি কি ভুল শুনছি? নাহ! এ হতে পারেনা, তুমি কি আমায় জোনাকির আলোটুকু এনে দিতে পারবে?... দেখাটা বাড়াতে পারছি না। আটকে গেছে কোন অজানা বেড়া জালে... করলা শান্ত, ঝড় তো আমাদের মাঝে কিন্তু কিসের? রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা এক যুগল ঠিক যেন তোমার ছোঁয়া পেলাম... এই ছোঁয়া পেয়েই নির্ঘাৎ রবীন্দ্রনাথ গেয়েছিলেন "একটুকু ছোঁয়া লাগে একটুকু কথা শুনি", এভাবেই কত কত কথা কত তুমি বারবার প্রিয় হয়ে উঠতে জানো... তোমার এপার ওপার সবটাই যেন তোলপা, আমার ভাঙন যেন কিছুতেই ছুঁতে পারেনি তোমায়… সবটাই কেন তুমি পর্যন্ত এসে থেমে যায়? তোমার বাইরে বেড়োতে চাইলে হাঁপিয়ে ওঠে এই ব্রীজ এই রাস্তা পুরনো স্কুল - পুরনো স্মৃতি। আমাদের গল্প তোমার থেকে শুরু হয় আর তুমি পর্যন্ত এসে থেমে যায়... কখনো একটু পৃথিবী হারিয়ে যাবে আমার মস্তিষ্কে, কখনো তুমি আরো বাঁশি বাজিয়ে উঠতে পারো। হে তুমি, তোমার কি কোন তুমি নেই?... কিছু পুরনো গন্ধ মনে পড়ে গেলো, স্কুলের ঘন্টা আর তোমার সাইকেলের চাকার ছন্দ মন্দ ছিলনা বইকি, আবারো থমকে গেলাম তোমায়, তুমি কে?... তোমায় খুঁজতে খুঁজতে একদিন নিজেকেই হারিয়ে ফেলবো বোধহয়, শব্দের ফাঁকে একদিন গলে গিয়ে মুছে দিতে চাইবো সমস্ত অন্ধকার, দেখবে আমি কেমন হারিয়ে যেতে পারি অন্ধকারের নাগপাশে, এই যে স্ট্রীট লাইট গুলো আলো দেবে বলে দাঁড়িয়ে আছে তাদের দেওয়া বোধহয় কোনদিন ফুরোবে না... আমরা তো রাস্তার বাইরে বসে, এটা কি টাইমলাইন না ট্রাম লাইন? গুলিয়ে ফেললে চলবেনা এ জলশহরে, দৃশ্যত অন্ধকার আর ধ্রুবতারা সন্ধিক্ষণে তুমি চুল খুলে হেঁটে গেলে একা, এখনো গন্ধ ছড়িয়ে আছে বিলাসবহুল শ্যাম্পু, এত রাত্রেও...

রঙ্গন রায় (Rangan Roy)
পূজা নন্দী (Puja Nandi)
অদ্রিজা পাল (Adrija Paul)

Thursday, December 1, 2016

A few moments. Captured. : Rik Rudra Mandal

A few moments. Captured. 

ছবি সাজিয়ে সাজিয়ে গল্প বানাবো, এমন কোনো ভাবনা আমার মাথায় কখনো আসেনা। প্রতি ছবির মধ্যে থেকেই গল্পের খোঁজ করি। প্রত্যেক ছবি একটি অনাবিল গল্পের সন্ধান দেয়। সময়ের ভাবনার উপর দিয়ে যা বয়ে যায়, তাই ছবির আধার হয় ও আকার ধারণ করে। ছবিগুলো বাছাই করার সময়’, গল্পের রৈখিকতা বজায় রেখেছি।
মানব-মানবী সম্পর্কটা, ধ্রুবপদ বেঁধে দেওয়ার মতন। চরিত্রগুলো পাল্টে যায়ে। হয়তো বদলে বদলে যায় ডাকনামগুলো। অথচ উড্ডীন কোনো ড্রোন থেকে দেখলে চরিত্রের ছায়াগুলি চেনা এক বহুভুজ রচনা করে যায়। এই আজানুলম্বিত প্রজেকশনের অপরিবর্তনীয়তা অথবা আমৃত্যু কোনো অবাধ্য তরঙ্গের টানাপোড়েনের ইতিহাস । দেওয়ালের আঁকা, ত্রিপল এ আঁকা, মেঝেতে আঁকা, ছায়া-প্রছায়া, জড়-জীব,সর্বোপরি মানব-মানবী মিলে এই ছবিগুলির শুরু থেকে শেষ রেখেছি। কোনো মিলনান্তক ছায়াবাজি অথবা বিয়োগান্তক সাপসিঁড়ির ভেতর দিয়ে বইতে থাকা একটি আবহমান প্রলম্বিত চেতনার কথা বলতে চেয়েছি।