Thursday, February 16, 2017

ঋপন ফিও একটা গল্প ভেবেছে

ঋপন ফিও একটা গল্প ভেবেছে

তো এক দেশের মানুষ ভাত খেতে ভালবাসত আকাল পড়ার আগে। আকাল পড়ায় অগত্যা বাধ্য হয়ে মকাই। প্রথম প্রথম গলা দিয়ে নামতে না চাইলেও আস্তে আস্তে সয়ে গেল। তারপর এল সেই মোক্ষম দিন। খেতে বসা সন্তানের করুণ মুখের দিকে চেয়ে থাকা এক জর্জরে মা আনমনে বলে উঠল~ বালের ভাত, মকাই ঢের ভাল... আর কি, একজন একজন করে এবার সবাই গুণ গাইতে শুরু করল মকাই এর। ধীরে ধীরে দেশের মানুষ ভুলেই গেল ভাতের স্বাদ। শুধু একজন পারল না কিছুতেই। ডাইনী সন্দেহে তাকে পিটিয়ে মারার আগে অব্দি পাতে মকাই নিয়ে বসে সে শুধু ভাতের কথা ভাবত।
















ঋপন ফিও
Reepan Fio

Tuesday, February 14, 2017

কয়েকটি কুকুরের চিৎকার : সুমন মজুমদার

কয়েকটি কুকুরের চিৎকার

তীর্থ ট্রেনে বাড়ি ফিরছিল। সকালে বেরিয়েছে দুই-তিনটে জায়গা ঘুরে, বেশ অনেকগুলো তামাক খেয়ে বেশ হাবুডুবু হয়েই ট্রেনে উঠেছিল শিয়ালদা থেকে। দশটা তিরিশের বনগাঁ লোকাল, এই নামে একটা সিনেমাও হয়ে গেছে বোধহয়। এসময় ভীড় থাকার কথা নয়, বসার সিট অন্তত পাওয়া যায়, যুদ্ধ না করেই। তীর্থ সিনেমা দেখতে ভালোবাসে, তবে আজকাল বিশেষত ডিসকভারি এবং ট্রেভেল চ্যানেল-ই সে দেখে। কি সুন্দর দেখায় চায়না অথবা ইস্টার্ন এশিয়া। সবুজ ল্যান্ডস্কেপের মধ্যে সুন্দর হাসিমুখের মানুষ তাদের রঙ বেরং এর খাবার, জামাকাপড়। তীর্থ ঠিক করে রেখেছে যে সে এশিয়ার এই দেশগুলোয় একবার অন্তত যাবেই। আজকাল এমনকিছু কঠিন খরচপাতি-ও পড়েনা। দুবার কাসৌল যাবার পয়সা জমাতে পারলেই যাওয়া যায়।

তীর্থর তামাক খেয়ে নেশা হয়ে গেলে চশমাটা ভারি লাগতে থাকে, এসময় তার সন্দেহ হয় চোখের পাওয়ার কমে গেছে কিনা, অথবা তীর্থ মনে মনে ঠিক করে আগামী চশমাটা ফাইবার-এর বানাবে। কাঁচের ওজন ভারি। তীর্থর মনে হয় যেন চশমা পরে থাকার ফলে সে আশেপাশে কিচ্ছু দেখতে পাচ্ছেনা, এ সময় মাথা ভারি লাগে, চোখ অন্ধকার হয়ে আসে। তীর্থ নিজেকে সামলে ফেলে এই সময়গুলোতে। চশমা খুলে ফেলে, গভীর শ্বাস নেয়। বেশি বাড়াবাড়ি হলে চোখে জল ছেটায়। অনেকদিন আগে ডাক্তার লো-প্রেশারের কথা বলেছিল, সেটাও একবার মনে পড়ে যায়।

Sunday, February 12, 2017

মাড়ি ও দাঁতের সমাবেশ : প্রত্যুষ বন্দ্যোপাধ্যায়

মাড়ি ও দাঁতের সমাবেশ

(১)

এতো পালক এতো ছায়াগাছ কুসুমবিকার এতো সব। এর মধ্যেই ঠাঁই করে নিয়েছে আমার মৃত দাদামশায়ের জ্যান্ত খড়ম। যে সারা বাড়ি উঠোন তুলসী মঞ্চের খড়ির গন্ডি না টপকেই একা একা ঘোরে। আবার দাদামশায় পরে নিলেই চুপ। তখন বুড়ো যেদিকে যায় অতি স্থির তামসিকতায় তাঁকে ফলো করে। দাদামশায়ের মাড়ি থেকে ঝরে পড়ে গল্পমুখর লালা। উৎসমুখ খুলে যায়, আমি ও আমরা কে নিয়ে যে সুবৃহৎ  আমাদের – গোল হয়ে বসি। গল্পের ঢিমে আঁচে, গল্পেরই মৃত মাংস সেঁকা হতে থাকে। আমরা ছিটিয়ে দিই নুন উপাদান , সেইসব কলহ তীব্র লঙ্কার ঝাঁঝ। আর আয়েশে আমাদের মৃত চোখ খুলে যায় জ্যান্ত চোখ বুজে আসে।

পৃথিবীর দাদামশায়েরা আমাদের সাত ও সতেরো জলসংঘর্ষে  উদ্ভূত ফেনাময় বাথটবের কাছে নিয়ে যান। যেখানে উরু ক্যালানো মেয়েরা নাগকেশরের ব্রাশ দিয়ে যোনীগুল্ম পরিষ্কার করে। মৃত শুক্র চাকগুলি কন্ডোম কাছিম ছাল বেয়ে  বেয়ে  অনিবার্য এগিয়ে যায় নির্বাসিত ঝাঁঝরির দিকে। এইভাবে বহুবার আমাদের সুবৃহৎ জন্ম প্রতিক্রিয়া ব্যাহত  হয়েছে। নির্ধারিত প্রহরের আগেই বিসর্জনের ফেউ ডাক ককিয়ে ওঠে – মৃত জন্ম দেয় বিকলাঙ্গ ফোঁপরা করোটি।


Monday, February 6, 2017

একটি শিকারকাহিনি : সর্বজিৎ ঘোষ

একটি শিকারকাহিনি

মলয় নামের সাদা বেড়ালটিকে যখন বসে থাকতে প্রথম দ্যাখে অনিমেষতখন সে ছিল একটা অটোতে।

এখানে এসে প্রথমবারের মতো গল্পটা একটা লাল ঘরে ঢুকে যায়। লাল ঘরের আলো ছিল নরম লালআসলে লাল ঘরটা ছিল গোলাপের দুই পাঁপড়ির ভিতর গভীরে কোন এক বিন্দুতে আলম্বিত। সেই লাল ঘরের মেঝেও হওয়া উচিৎ লালকিন্তু অনিমেষ লাল মেঝের ঘর শেষ দেখেছিল তার মামাবাড়িতেদোতলার পুব দিকের ঘরটায়। সেই লাল ঘরেই মামা মামির ফুলশয্যে হয়অনিমেষ তখন বছর বারোর। মামির ছেলে মেয়ে হয়নিমামি ছিল ভীষণ মোটামামি দুপুরবেলা একা একা ভুল বকতে বকতে কখনো পড়ে যেত সেই লাল ঘরের মেঝে ফুঁড়েগোলাপের দুই পাঁপড়ির মাঝের ঘরটায় এসে পড়তোতার পর আরো আরো গভীরেঠান্ডা বেরঙ অন্ধকারে ভেসে পড়তোযেন নীচ থেকে লক্ষ লক্ষ হাত মামিকে ম্যাজিক করে হাওয়ায় ভাসিয়ে রাখছেম্যাজিশিয়ানদের হাত অল্প অল্প নড়ছেভীষণ লাল একটা কিছু ঢেউয়ের মতো লকলক করছে চারদিকে ঘিরে। মামা রাতে অফিস থেকে ফিরে মামিকে খুঁজে পেত নাচিলছাদে গিয়ে খিদে পেটে ঘুমিয়ে পড়তো। মামির পোষা দুটো বেড়াল ছিলযাদের একটা ছিল সাদার মধ্যে বাদামী ছোপছোপ। সেটা ছিল খুব রোগামানুষ হলে নিমাই বলে আওয়াজ খেতো এমন রোগাসেটা একগাদা বাচ্চা দিয়েছিল একবার। সেসব বেড়ালদের মধ্যে কারো নাম মলয় ছিল না বলেই অনিমেষের ধারণা।

Saturday, February 4, 2017

চারটি লেখা নিয়ে এসেছেন : সীমিতা মুখোপাধ্যায়

আভেমারিয়া

তোমার মা এলে
সব দুঃখ কেচে দেবে,
শুকিয়ে রাখবে তোমার ক্ষত,
আয়রন করে দেবে
তোমার এলোমেলো মুহূর্ত।

কাকিমা চলে গেলে
আমিতো মার হাতে-পায়ে
পেরেক ঠুকে দেবো আবার,

আর বলবো -
আয় রে, সখা,
দুজনে মিলে এবার
পিয়েটা মূর্তি ধরি!




আমি কিম্বা অপেক্ষা

তোমাকে দুধ ভাত;
আজকাল আমি আর অপেক্ষা
এক সাথে শপিং-এ, বিকেল হাঁটতে।

অপেক্ষার মধ্যে পটাশিয়াম সায়ানাইড
মিশিয়ে দেখেছি,
একটা নতুন ধরণের ধোঁয়া-
কেমন মহুয়া মহুয়া…

দুজনে দুটো ধারালো ছুরি হাতে,
আমি আর অপেক্ষা
পাশাপাশি শুয়ে খুনসুটি করি!

একদিন গাছের নিচে দাঁড়িয়ে প্রশ্ন করেছিলাম,
আমি মরে গেলেও কি
অপেক্ষা বেঁচে থাকবে?

এসব জিজ্ঞাসায় কিছুটা বোরাক্স মিশিয়ে
তাপ দিলে

দেখবে কেমন খই ফুটছে সোহাগে!



Thursday, February 2, 2017

ফটোগ্রাফি : শাশ্বত মুখোপাধ্যায়

ফটোগ্রাফি

ছবি তোলার জন্য ঘরের জানলাটাকে ব্যবহার করার কথা মাথায় খেলছে সকাল থেকেই। মারিন আসবে সকাল ৯ টা ৩০-এ। হ্যাঁ, মারিন এর ছবি তুলব আজ। ক্যামেরাটা নিয়ে সমুদ্রের দিকে ফোকাস করে আছি, অনেকক্ষণ। সি-বিচের চারদিকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে অনেক কিছুই কিন্তু এই নির্দিষ্ট দূরত্ব থেকেও  কিছুই তেমন চোখ টানছে না আমার। চোখ টানলেই আমার শাটার ঝটপট লাফিয়ে যায় অবজেক্টের ওপর আর অবজেক্ট কে ওনলি সাবজেক্ট হওয়া থেকে আটকে দিতে চাই প্রথমেই। সমস্ত ছবিতেই অবজেক্ট ছাড়া বাকি কিছু ব্লার করতে ভালোবাসতাম আগে, এখন এইসব থেকে বেরিয়ে আসছি। আমি কোন ছবিতেই থাকতে চাই না আর, নিজেকে আটকাতে চাওয়াও ভালো ক্যামেরায় ধরা থেকে যায়। ডোর বেল বেজে উঠেছে, মারিন একটা ডিপ ব্লু ড্রেস পড়ে এসেছে আজ। ঘরে ঢুকেই ও আমার উডেন ফিনিশের চেয়ারে গা এলিয়ে বসেছে। সমুদ্রের নীলের থেকেও বেশী নীল মারিন। ক্যামেরা নিয়ে অনেকক্ষণ নাড়াচাড়া করছি, এত কাছ থেকে, এই ঘরে, সমুদ্রের মত লাগছে মারিনকে। মারিন আমার দিকে তাকাতেই চুপ করতে বললাম। এই সময় কথাকেই আটকানো দরকার ছিল। মারিনের অন্ধকার দিকটা আমাকে অস্বস্তিতে রেখেছিল আর বেশ টানটান, রিফ্লেক্টর দিয়ে আলোকে ব্যবহার করতে শুরু করি কিন্তু কোনভাবেই মারিনকে ধরতে পারছিলাম না। এমন কোনো আলো তৈরী হচ্ছিল না যা মারিনের সাথে যায়। বিকেল অব্দি এইসব নিয়ে কেটে যায়, মারিন বিরক্ত হচ্ছিল আমার ওপর। অতিরিক্ত টাকা চাইছিল, যদিও তখনও আমি ওকে একবারও তুলে আনতে পারিনি।  

[ পুনঃশ্চ - এরপর সন্ধ্যে নাগাদ, ওর মত আলো খুঁজতে, আমি সি-বিচে যাই কিন্তু ও আমাকে আর বিশ্বাস করেনি। আলোটা ছিল খুবই নরম এটুকুই বলতে পারি। ]







শাশ্বত মুখোপাধ্যায়

Saswata Mukhopadhyay

Tuesday, January 31, 2017

দ্রিম দ্রিম-৩ | মোমরঙ : দোয়েলপাখি দাশগুপ্ত

দ্রিম দ্রিম-৩ | মোমরঙ

একটা নিরিবিলি ঘরে দাঁড়িয়ে আছি আমি। পাশের হলঘর থেকে কোলাহল আসছে। লোকজনে গমগম করছে ঘরটা। হাসির হররা... ওয়াইন গ্লাসের টুংটাং... মোমের আলো। খাবারদাবার, সুগন্ধি... দামী পোশাকের, ভেলভেটের, সুয়েডের খসখস... আমি ঘরটার দিকে মুখ করে অন্ধকারে দাঁড়িয়ে আছি। খুব কম সময়ের জন্য পাচ্ছি বাবাকে। এর মধ্যে যতটা দ্রুত গুছিয়ে নিয়ে দেখাতে হবে আমার কাজ। আমার কাছে ছাপানো কিছু কি আছে? আমি কোনও পোর্টফোলিও করেছি? আমার ক্যামেরা ভর্তি ছবি। প্রচুর ছবি। ডেভেলপ করিনি। ডার্ক রুমে ঢোকা হয়নি বহুদিন। কিন্তু আমি করছি বাবা। অনেক কাজ করছি। তুমি ব্যস্ত তাই... বাবা একবার এঘরে এলেন। উনি আমার সঙ্গে বেশি কথা বলেন না। কারওর সঙ্গেই না। বাবাকে ঘিরে আছেন প্রচুর মানুষ। আর্ট গ্যালারি, ক্রিটিক, ছাত্র অনেকে। এঁদের মাঝে আমার যাওয়ার কথা নয়।

Saturday, January 28, 2017

অমাত্রিক অমাতৃক : জয়দীপ মৈত্র

অমাত্রিক অমাতৃক

১/
এই আলো দিয়ে দেহ ঢুকেছে শরীরে। বহু আগের মৃতদেহ কখনও বাতাস হতে চেয়েছিলো। আনমনে শুনতে চেয়েছিলো ভাটিয়ালী। মাঝির পোশাকে ব্যাধি। যেভাবে অন্ধকারে হারিয়ে যায় বহুবার পরা ঈশ্বরের জামা। আমাদের বুকে ফুটো নাকি নৌকোহীন জলের চিহ্ন? হে অসুখ, হে চিরকালীন ভাঙা ঘড়ি, এই রক্তমাংস দিয়ে তুমি আমাকে খোঁজো। দশচক্রের অসীম সীমায় খুঁজতে খুঁজতে আবার ছায়া হয়ে যাও। হারিয়ে যাও আলোর আগের দেহে। ভেবো অন্ধকার নয় এই দূরত্ব আসলে মৃত নক্ষত্রের আলো।


Friday, January 27, 2017

তিনটি লেখা নিয়ে এলেন : অমিত দে

শুক্লপক্ষ
বয়েস ভাসছে ক্যানেলের জলে
আকাশ আজ অমর হলেও
তোমার উরুতে গ্রহন লেগেছে
পায়ে পায়ে কাটা ফোটেনি
কুলগাছ পাহারাদার আর ধানশিষ
বারবার কেন মাধবীলতা—
সুতোয় সুতোয় ঘুড়ি হওনি
পাশ কাটিয়ে ভেসে থাকা
ফেটে যাওয়া বেলুন
দিগন্ত খুলে দিয়েছি
অস্ত দেখতে পাচ্ছি না কেউ
জোয়ার ভাটায় মুছে যায়
         আমাদের দিনরাত



Wednesday, January 25, 2017

জ্যোতির লেখা : জ্যোতির্ময় বিশ্বাস

জ্যোতির লেখা

১|
এই জীবনে এযাবৎ একুশটি বছর তো গেলো
অক্ষরগুলি চিনেছি সেই কবে
শব্দগুলির সাথে প্রায় রোজ দেখাশোনা
শুধু বাক্যগুলি চিনে রাখতে ভুল হয়ে যায়, পারিনা


২|
একই সম্পর্কের ভিতর আমরা যাতায়াত করেছি বহুবার
ফলত পায়ের চিহ্নাদি কোনটা যে আসার কোনটা চলে যাবার
আর কোনটা ফেরার, তার কিছু ঠিক নেই

মানুষের বাড়িতে অনেক বিভেদ থাকে
ঈশ্বরের সমুদ্রতীর তাই আমাদের অনেকের বাড়ি
থেকে অনেকটা দূরে।


৩|
গাছেদের সাথে সাথে
গাছের তলারও বয়স বাড়ে
অতল বদলে ফেলে নদী

দু’জনই এ’কথাটি ঠিক বুঝে যাবো
বহুদিন পর একদিন দেখা হয় যদি।

Tuesday, January 17, 2017

কবিতা সিরিজ বা একটি কবিতা : দীপ শেখর চক্রবর্তী


এই বোকা শহর আমাকে নরম ভেজা ঠোঁটে নিরাপদ চুমু খায়, রোজ
আমি পুরনো বন্ধুদের মাতাল বেশি রাত ডাকে হয়েছি নিরাপদ
পুরনো কম্বলের ভেতর আদরে ভুলিয়েছি গলিদের প্রাক্তন প্রেমিক
আমি পুরনো ভোরেদের ঊরুতে শুয়ে নিজেকে চমৎকার প্রেমিক ভেবেছি
হটা
একটা আচমকা মোলায়েম মুখের অপেক্ষায় জটিল অসুখ বাধিয়েছি রাস্তার পাশে খোলা জানলায়, বুক চিতিয়ে -



কতটা নিরাপদ হলে মানুষ সংসার গড়ে এ প্রশ্ন আমি খোদ সংসারকেই করেছি
আগুন তো আসলে ছাই এর খুড়তুতো ভাই, আমি সূর্যের সৎ ছেলে?
তুমি মাথায় আঙুল দিয়ে খোঁজো নিরাপত্তা। এটুকুই তো চাই। তা ছাড়া বাকি সব তো পাবেই কবিতায়।
অনেক বয়স হলে বুঝবে তুমি,
এসব পালানো নয়, বরং সত্যির কাছে যাওয়া
সত্যির কাছে গ্যালে নিজেকে অন্ধ বাঁশিওয়ালার সুরে পুড়িয়ে নিতে হয়
জীবনে হয়েছ তুমি তা কেবল এক খানা নিরাপদ মোলায়েম ছাদের পাহারাদার
 
চেনা গন্ধ ছাড়া বাকি সব সয়ে নিতে হয়।


Sunday, January 15, 2017

একটি জ্বরের সিরিজ : অনন্যা বন্দ্যোপাধ্যায়

জ্বর ১

ভীষণ জ্বরের ভেতর তোমার কথা ভাবতে ভালো লাগে
গায়ে চাকা চাকা দাগ পড়ে আছে
পড়ে আছে উত্তপ্ত নাভি
কমলা ফুলের মত তুমি শুয়ে আছো পাঁজরের তীরে
আমার সমস্ত দেহে জেগে ওঠে এক অলীক আওয়াজ
প্রতিটা পরমাণু প্রাচীন থেকে প্রাচীনতায় মেলে
তারপর যা কিছু স্নেহ, হিসেবের ব্যবধান, তুমি ধার করে নিলে
দিগন্তে পৌঁছে যায় অলীক পাখা
যে ক্ষণিকের পর অবশ হয়ে যায় দেহ
রাত পার করে নাবিকেরা
আমাকে তাদের কথা বলো
এই ফাঁকে আমি আরো তোমায় ভেবেনিই
ভেবেনিই আমাদের আবছায়া কথোপকথন



Friday, January 13, 2017

আমরা একটা সিনেমা বানাবো (ভাগ দুই) : হিয়া মুখার্জী

আমরা একটা সিনেমা বানাবো
ঝিমোনো ভয়ের গল্প।
হিলস্টেশনের ক্রেশ।
কামিন বস্তির বাচ্চারা
তাদের ঘুমের মধ্যে
টুপটাপ
খসে খসে পড়ছে
ম্যাগনোলিয়ার মত।
শোনা যায়
এইসব রাতে
চৌখুপি ছাদ থেকে
গন্ধে গন্ধে
খুব সহজেই
ভূত নেমে আসে।
মোমবাতির শিখা কি
দু একবার
কেঁপে উঠলো হাওয়ায়?
রিসর্টের ঘরে
মুখোমুখি দুইজন শুধু
কোনো কথা না বলে
পুরোনো অস্বস্তি থেকে
নতুন অস্বস্তির দিকে
হেঁটে গ্যালো।



Wednesday, January 11, 2017

দীপঙ্কর ভাই আমার - শুভঙ্কর দাশ

দীপঙ্কর ভাই আমার

আমি সেলুনে একা একা গোঁফ রং করছি
আর তুই চলে গেলি।
ভাবছি কী করব ওই চুলের সফেদ
উঁকিগুলো নিয়ে?
বোকামিগুলো ঢেকে ফেলে
আরেকবার বইমেলায় বসে থাকব কি?

আর শালা তুই চলে গেলি একা একা?
মানে এবার আর দেখা হবেনা বলছিস?
চুপি চুপি ভদকা মেশানো মিনারেল ওয়াটারের বোতল
আর বেরোবেনা ব্যাগ থেকে?
লিটল ম্যাগাজিনের টেবিলে বসে
গলায় ঢালা যাবেনা খানিকটা আগুন?
আর আমি এখানে লড়ে যাচ্ছি এই বিচ্ছিরি রোগটার সাথে
একা একা রোজ রোজ।

তাই বুঝি খুব ভোরে আজ বার বার
জপের মালা স্লিপ করছিল হাতে,
কান্না পাচ্ছিল হুহু এমনি এমনি।
খুব অস্বস্তিতে কাটছিল সকালটা।
তারপর সেলুনে বসে যখন ভুলে গেছি সব
তখনি ফোনটা এল,
যেভাবে এরকম ফোনগুলো আসে
আপাত নিরীহ বেচারা টাইপের।
আর আমি সেলুনের লোকটাকে
মাঝ পথে থামিয়ে ফুটপাতে নেমে এলাম।

বাইরে চা দোকানে রোজকার মতো আড্ডা মারছে লোকজন
আর একটা পাগল ফাঁকা বোতল কুড়োচ্ছে রাস্তায়।















শুভঙ্কর দাশ

Subhankar Das

Tuesday, January 10, 2017

एक विराट ब्राह्मणवादी - Utpal Pandey

एक विराट ब्राह्मणवादी


मै हूँ एक विराट ब्राह्मणवादी
हुआ है मेरा अवतार
रोकने के लिए
इस दुनिया की बर्बादी
लक्ष्य है मेरा
जांघ व पैर से पैदा होने वालों को
उनकी सही जगह दिखाने की
ताकि महक उठे एक बार फिर
ब्राह्मणों की प्रतिभा से
हर बाग-बगीचा; हर घाटी; और हर वादी
मै हूँ एक विराट ब्राह्मणवादी

बनाया है हमने ये पूरा समाज
लिखी हैं हमने धर्म की सारी किताबें
गढ़े हैं हमने पूरे के पूरे तैंतीस करोड़ देवता
गढ़ा है हमने ये सारा का सारा हिंदुस्थान
और अब कुछ लोग आए हैं
जो करते हैं बराबरी की बात
और कर रहे हैं
हमारे इस सुंदर समाज में
ईर्ष्या व द्वेष फैलाने का प्रयास
लेकिन नही बटने दूँगा
मै ये हमारा समाज
और रोकूँगा मै
ये आने वाली बर्बादी
क्योंकि मै हूँ एक विराट ब्राह्मणवादी

Monday, January 9, 2017

তিনটি লেখা নিয়ে এলেন সুপ্রিয় চন্দ

অ্যাকোরিয়াম
নৌকোর কখনো নোঙর হয় না
জল বা এই রকম জীবন নিয়ে গভীরে ভাবাটা
নিঃসন্দেহে ডুবসাঁতারুর কাজ
'ইউরেকা' 'ইউরেকা' বলে চেঁচামেচি
এই প্রেক্ষিতে নিস্প্রয়োজন এবং খামোকা বোকামি
জল নিয়ে ভাবতে হলে পাড় নিয়ে ভাবো
স্রোত নিয়ে ভাবো
বাতাস নিয়ে ভাবতে ভাবতে, একআধঘুম শব্দ
আলটপকা ছুঁড়ে ফেলো স্থির জলে
তরঙ্গ ছড়িয়ে পড়বে চারদিকে
সময়টা সন্ধে হলে কোন কথাই নেই
অনায়াসে বজরা নিয়ে নেমে যেতে পারো

দাঁড় আর পাল আমার বহুদিনের চেনা বন্ধু
তাই আমাকেও সঙ্গে নিও প্লিজ জলসওয়ারিতে
শুরুটা তোমাকেই করতে হবে
শেষের চালটা আমার হাতে এখনো
তুমিই তো জল নিয়ে ভাববে বলেছিলে             প্রথমে
রাজ্যজয়, কূটনীতি, কলম্বাস আর তোমার অ্যাকোরিয়াম ছেড়ে
তাই আমি কোনদিন ভেসে উঠিনি
পাড়ভাঙা জলে



Wednesday, January 4, 2017

বাতিল চিঠিঃ ৭ জানুয়ারি, প্রসেনিয়াম আর্ট সেন্টার, সন্ধ্যে ৭টা

বাতিল চিঠিঃ কিছু না-পাঠানো সংবাদ


চিঠি লিখি না বহুদিন। কেন? লেখার ফুরসৎ নেই তাই। ছোট্ট ফোনের পিং বা লাইভ ভিডিও চ্যাটের সময়ে, মরচে পড়া পোস্ট-অফিসটাই তো বাতিলের খাতায়। সেখানে চিঠি পৌছবেই বা কি উপায়ে? অথচ প্রিয় মানুষের হাতের গন্ধ মাখা চিঠি, শীতের রোদ্দুর পিঠে মেখে, কথায়-ভালবাসায় ভেসে যাওয়ার মেদুরতা কি আর কিছুর সঙ্গে মেলে? তবু দ্রুত গতির পাল্লাছুট সময়ে চিঠি, হলুদ খাম আর ইনল্যান্ড লেটার হয়ে গেছে ব্রাত্য, বাতিল।




এমন কিছু না পাঠানো চিঠি, কিছু কথা আর স্মৃতি গা-মেখে নেওয়ার ভাবনা থেকে গড়ে উঠল আমাদের কাজ ‘বাতিল চিঠি’। একটি মেয়ের তার প্রেমিককে না-পাঠানো কিছু ইমেল হাতে এল। কাজ শুরু হল। অতীত আর বাস্তবকে বাধল সংবাদ। ছবির ফ্রেমে সুরের সংগত। বাকি কথা অনুষ্ঠানের জন্য তোলা থাক।




আগামি ৭ জানুয়ারি প্রসেনিয়াম আর্ট সেন্টারে ‘বাতিল চিঠি’- এর প্রথম শো। অন্তরঙ্গ থিয়েটার ফর্মের এই কাজ মিশ্র-মাধ্যমে প্রাণ পেতে চলেছে। অভিনয়ে অংকিতা মিত্র, গুলশনারা। সঙ্গীত পরিকল্পনা ও পরিবেশনা নীল সরকার। দৃশ্যসজ্জা পার্থ দাস, সাদিক হোসেন ও শমীক দাস। ফ্রেম বন্দীর ভার স্বাতী রায়ের। সামগ্রিক সহায়তায় সুজয়প্রসাদ চ্যাটার্জি। একটি ৪৫ মিনিটের প্রযোজনা। শুরু সন্ধ্যে ৭টা থেকে।


গুচ্ছ - কবিতা : তৃষা চক্রবর্তী

গুচ্ছ - কবিতা


বহুদিন পরে চায়ের গেলাস পাশাপাশি নামিয়ে রাখা হল
রাখা হল বুকের ভিতর জিভ পুড়ে যাবার মত স্বাদ
রাস্তার যেকোনো চায়ের দোকানই, ঐশ্বরিক ঐন্দ্রজালবিস্তার
বলো বিচ্ছেদ, কতদূরে তুমি, আর কতদূরে সমাধি তোমার?



তোমার অপেক্ষায় আছি বহুক্ষণ
কেউ জানে না, ওদের মিথ্যে বলেছি
যেকোনো তোমাকেই দেখলে ভাবছি পরিচিত পথ
পরিচিত জন দেখলে খুঁজছি আড়াল
ওরা কীকরে জানত, প্রতীক্ষাই সত্য মাত্র
এর বেশি আর কিছু নয়, কিছুই-

ওদের মিথ্যে বলেছি তাই।


Monday, January 2, 2017

পাঁচটি লেখা নিয়ে এলেন : দুখাই রাজ

প্রথম দিন

আহত হবার পর প্রথম মনে পড়ে — আমার ইপিল গাছটা কেমন আছে?
হয়তো আমার মৃত্যু সংবাদ তার কাছে পৌঁছে দিয়েছে করাত।
তাকে বলেছিলাম — আমার কফিনের কাঠ দেবে তুমি। যেন আটদিনে তৈরী হয় কফিন।

প্রথম দিনে — তোমাকে আহত করবে করাতকলের লোক।



বোধি

১ম দিন - অবসর নিয়েছিলাম লাগামহীন ঘোড়ার পিঠ থেকে
২য় দিন - তিন কেজি ওজনের পাথর
মাথার নিচে এবং উপরে রেখে বন্ধ করে দিয়েছিলাম কান
৩য় দিন - শুকনো পাতার নিচে বন্ধক রেখেছিলাম চোখ

আমি তিনদিন ঘুমিয়ে ছিলাম


Friday, December 9, 2016

শিকড়গাছা : দেবার্ঘ্য গোস্বামী

শিকড়গাছা

পেছনে চোখ ফেরালে ঘটনাগুলো সব সেঁধিয়ে যায় গল্পের কোটরে। অথবা গল্পগুলো আসলে উপচে পড়া ঘটনা। পেছনে চোখ ফেরালে – নিজেকে দেখি দস্তাবেজ – শূন্য – ভেসে আছি রূপকথার ধূসর খসড়ায়। যে ঘটনাগুলো ফুরিয়ে গেছে, তারা মরে যাবার আগেই শিখে নিয়েছিল নিঃশ্বাস প্রকরণ। যে ঘটনাগুলো ফুরিয়ে গেছে, তাদের আর জীবাশ্ম – হওয়া - হয়ে ওঠেনি। তাদের গায়ে গজিয়ে ওঠে গল্পগাছা। হেঁটে - ফিরে বেড়াই সেই গল্পের পাড় ধরে, খুঁজে বেড়াই কিছু হাতছুট বিস্ময়, কিছু হারিয়ে যাওয়া গন্ধ। চোখ বুজে মনে করতে চাই – ‘ঠিক কেমন দেখতে ছিল তারা?’

-১
দু পা জুড়ে ঘাস গজিয়েছে। তাতে পড়ে আছে পাখির ভাঙা ডিম। অনেক দিন ঘুমিয়েছিল এ ঘর। বহুদিন ঘুমিয়েছিলাম আমি। মানুষ ঘুমোলে – গাছেরা জেগে ওঠে। মানুষ ঘুমোলে – গৃহপালিত গাছের শিরা বেয়েও ছোটে বুনো রক্ত। এই আদিম উচ্ছ্বাসে – খুঁটে খুঁটে খুঁজছোটা কি? আসলে এও তো ছিল সেই অনাদি হার-জিতের গল্প। যদিও কবে ফুরিয়েছে জয়ের নিষ্ঠুর উত্তাপ – যদিও তার গর্বের পাঁচিল – ক্ষয়ে ক্ষয়ে আজ পথের সামিল। যদিও চেতন অবচেতন জুড়ে কোথাও নেই একফোঁটাও তার কোন যুদ্ধস্মৃতি – কিন্তু হারের গ্লানি? তা তো থেকে যায় মলাট বেঁধে। আজও তো তার প্রতিটা সন্ধি ও শান্তির সাথে নিত্য সহবাস।
       তাই ঘুম ভেঙ্গে যদি ঘরে ফেরো এতদিনে, তাহলে আর খুঁজো না বুদ্বুদ জীবনাচার। আর খুঁজো না পান-সুপুরি-দোয়াত-খাতা-শেষ টুথপেস্ট, শুকনো ঘসির  চিহ্ন – আর খুঁজো না।
       আজও তবে এ ঘরে পেতে পারো নিবিড় আশ্রয় – পেতে পারো বুনো অভ্যর্থনা। আজ যদি ফিরে আসতেই হয় – তবে আয় প্রাকৃতিক হয়ে – আয় দুপায়ে ঘাস জড়িয়ে।

। ০ ।
বাবুইয়ের জড়ো করা জোনাকির মত, খাদে জমা অন্ধকার তিলতিল তুলে এনে সে ভরায় নিজের কুঠুরি। ওলটানো মাটির হাঁড়িতে জল মাখিয়ে, তিন আঙ্গুলে – সে তুলে নেয় পেঁজা অন্ধকার। আর তারপর – বাঁশের মতন দুলে দুলে, নিজের দুহাতের ওম জাগিয়ে, গুন গুনে – সে কেবল সলতে পাকায়।
সে অন্ধকারের সলতে পাকায় – কারণ সে কখনও আলো জড়ো করেনি।
       সে অন্ধকারের সলতে পাকায় – কেননা সে বরাবর আলো ভালবেসেছে।

। ১ ।
ঝমঝমিয়ে শুকিয়ে যাওয়া ভ্রান্ত আঙ্গুল বেয়ে, একদিন নেমে যাবে গল্প–গাছা। ঘুম নদী ভাঙ্গা কাদা পা ডুবে যাবে চুপ সড়কে। অলৌকিক ভুলে বোনা অতল ছায়া, হাতড়ে হাতড়ে জেনে নেবে – নেই বৃক্ষ।
-- আজ বক-সংযম।




দেবার্ঘ্য গোস্বামী

Debarghya Goswami

Thursday, December 8, 2016

তিনটি লেখা নিয়ে এলেন : সুমন সাধু

যা কিছু সামলে রাখছি

ব্যাগে ব্যাগে রঙীন দাগগুলো পুরনো কত শুকিয়ে যাওয়া চারা গাছের গল্প বলে দিচ্ছে। অথচ ব্যাগের মধ্যে শুকিয়ে যাওয়া চরিত্ররা তো সাদা কাগজে স্ক্রিন প্লে'র মধ্যে বন্দী। ক্যামেরা-লেন্সের দিকে তাকিয়ে মনে হচ্ছে, একের পর এক চরিত্র দূষণ আর ফুরিয়ে আসা সন্ধেবেলা ছাড়া অন্য কিছুর জন্ম দিচ্ছে কই! যদি চোখ রাখো লেন্সে, যদি চোখ রাখো লেন্সের দাগে, দেখবে ট্রাম, ট্রাফিক আর সিগন্যাল ছাড়া কিছুই বলার নেই।

পাঁচমাথার মোড়টায় লাল শাড়ি পড়ে দাঁড়িয়ে থাকার সন্ধ্যে আজ। পচা পচা গন্ধ নিয়ে আঁচল লুটিয়ে ইশারার সন্ধ্যে আজ। ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা ক্যামেরা, যেকোন একটা ধরো, চোখ মেলে ধরো লেন্সে, এরপর এসো একসাথে দুজনে তলপেটের যন্ত্রণা ভোগ করি। মানুষ দেখি আর মানুষের মধ্যে চিনে নিই নিজেদের।

একটু রাত বাড়লে আমি চলে যাব। তুমি হয়ত একা পড়ে থাকবে। মাছি এসে তোমার গায়ে বসবে, গন্ধ শুঁকবে। রক্ত তোমায় চিনিয়ে দেবে রেলপথের পাশে সেই চেনা গলিটা। ফেরার পথে আমি দোকানে দোকানে ব্যাগের দাগ দেখব, হলুদ হলুদ দাগ। রোজকার মতো বাড়ি ফিরে শুকিয়ে যাওয়া চারাগাছটায় জল দেব। রোজকার মতো আমিও নিজেকে সুমন হয়ে যেতে দেখব।



Tuesday, December 6, 2016

সুখ : সুপ্রিয় কুমার রায়

সুখ

যেদিন গানের পারফরম্যান্স ভালো হয় তারপর অনেক কঠিন কাজও খুব সহজে করা যায়
সেদিন বোলপুর এ এমনি এক গানের আখড়া সেরে আমি আর আমার এক বন্ধু ঠিক করলাম আজ সারারাত রাস্তায় ঘুরবো!!! তো যাই হোক আমার বন্ধু অনেকটাই মাল খেয়েছে আমারও অদ্ভুত আবহাওয়ায় ঘুরে নেশা নেশা লেগেছে!!! ঘুরতে ঘুরতে কটা বাজে জানিনা দুটো রাস্তার মাঝ খানে এসেছি
মাঝখানে লেখা কোথায় যাবেন
ডানদিকে না বাঁদিকে?
ডানদিকে লেখা পৃথিবীর বাইরে ^
বাম দিকে লেখা পৃথিবীর ভেতরে ^
আমরা একে অপরকে দেখে
পৃথিবীর ভেতরে ঢুকে পরেছি ~~
কিছু দূর এগোতেই দেখি একটি ছেলে একটি রশির ওপর দিয়ে এক পায়ে হেঁটে হেঁটে ব্যালান্স এর খেলা দেখাচ্ছে আর বলছে আমি বিশ্বাস, হয়তো কোনো দিনও পড়বো না কিন্তু যেদিন পরবো তারপর যতই ভালো খেলা দেখাই তোমরা বলবে "এর বিশ্বাস নেই" এবং এটা হওয়াও উচিত
কিছু দূর এগোলাম শুনি
এক নেতা ভাষণ দিচ্ছে, বলছে,
দেশটা প্রেম করতে করতে গেল
না মনে পুরুষের নারীর প্রতি প্রেম আর কি! কত দেশের কাজে এরা এরজন্য হস্তক্ষেপ করতে পারেনা জানেন!!!
আমার বন্ধু আমার দিকে তাকিয়ে বলে, কি বলেরে??
এরপর
দেখি একটি গাছের নিচে এক জ্যোতিষী,
এক বেটা গিয়ে বলছে,
আমার বউ সুন্দর হবে তো?
জ্যোতিষী বলছে,
"সুন্দরী বউ স্বামীকে ভালোবাসতে পারে না নিজের সুন্দর হওয়ার অহংকারে সে মরে"
আমি বললাম এই ঠিক বলেছে!
বন্ধু কে গিয়ে বললাম
চল আমরাও কিছু জানতে চাই
এই জ্যোতিষী হাত না দেখেই অনেক কিছু বলে
আমার বন্ধু গিয়ে বললো
কাকু?
এই ছেলে ভদ্র ভাবে কথা বল আমি কাকু?
তাহলে কি বলবো কাকু
আমি জ্যোতিষী
আমার কাজের নামেই আমায় ডাক,
আমি সিনেমা বানাতে পারবো?
কি হবে সিনেমা বানিয়ে?
লোকে তো কিছু শেখে না
শুধু এন্টারটেইনমেন্ট ভাবে!!!
মানুষ শোধরায়?
না তবু...
এরপর অদ্ভুত সুন্দর একটা মেয়ে অমাদের দিকে তাকিয়ে হাসতে হাসতে চলে গেল
আমি বরাবরই সুন্দরীদের প্রতি আকর্ষিত
তাই এখান থেকে মুখ সরিয়ে
রওনা হলাম ওর পেছন পেছন
চারিদিকে যেরকম পরিবেশ, মানে কোনো লেখায় সিনেমায় বর্ণিত হয়নি সেরকম সুন্দর পরিবেশের মধ্যে দিয়ে আমি সেই সুন্দরীর পেছন পেছন একটি হাড়ির মতো ঘরে ঢুকে পড়লাম
তোমার নাম কি,
সে বললো ওরে বাংলা সিনেমা
দেখে কি মনে হয়?
আমি বললাম সুন্দরী,
ও হেসে বললো হে ওটাই, এর ভেতরে বাইরে কিছু নেই
আমি ওর ঠোঁটে কিস করলাম ,
ও বললো
আমি এটা কে কেন গ্রহণ করবো?
আমি,
"When I kiss your lip I kiss your soul"
বলে তো দিলাম
কি হবে জানিনা
কারণ এরা প্রত্যেকেই এক কাঠি ওপরে
সুন্দরী বললো,
তুমি তো এখানকারই লোক
ওখানে কি করো?
গান গাই
একটা শোনাও
"শোনো আমি না তোমায় চিনিনা
চিনতেও চাই না
এখানেই কোথাও আছো জানি
দেখতে চাই না
নামে অক্ষরে জীবনে মরণে আনতে চাইনা
সবার মতো আমার গানে তুমি থাকো চাই না
এভাবেই অমর হয়েযাও তুমি
এভাবে অমর করে যাই আমি"
আমার বন্ধু এসে বললো এই চল
বের হই
সুন্দরী প্রনাম করলো, কেন জানিনা
বেরিয়ে দেখি একটি মিছিল যাচ্ছে
স্লোগান ~ "শান্তি চাই শান্তি দাও" বাঃ ইউনিক দাবি তো
এই দাবির মিছিল এ হাঁটি
হাঁটছি এখনও হাঁটছি
মুখে কখনো কখনো মনে বলছি



সুপ্রিয় কুমার রায়

Supriya Kr. Roy