Skip to main content

Posts




তমসো মা : রঙ্গন রায়

তমসো মা কানু কহে রাই –
- কহিতে ডরাই
ধবলী চরাই মুই।
আমি রাখালিয়া
মতি কি জানিনা পিরিতি
প্রেমের পসরা তুই
এবার তবে কয়েল থেকে শুরু করা যাক। যেভাবে টেবিলের তলা থেকে পাক দিয়ে উঠছে ধোঁয়া আর মশারা তা দ্রুত এড়িয়ে পালিয়ে যেতে চাইছে। সমস্ত ঘর সিগারেট আর কয়েলের ধোঁয়ায় আবছা হয়ে আসছে। চোখ জ্বালা করছে। চশমা খুলে রেখে চোখে হাত দেওয়া হলো। লাল। দ্রত উঠে পড়লো চেয়ার সরিয়ে। প্লাস্টিক আর মেঝেতে ঘষাঘষি লেগে একটা শব্দ উঠলো। টেবিলের কোণে কিঞ্চিৎ ধাক্কা খেতে খেতে জানালা খুলে দিলো সে। একঝলক অন্ধকার লাফিয়ে ঢুকে পড়ে অভিভূত করে দিলো তাকে। টাটকা বাতাস আসছেনা। আশ্চর্য! বাইরের পৃথিবী থেকে ভেসে আসছে পেঁচার গম্ভীর অথচ ঠান্ডা একটা ডাক। থেমে থেমে। টেবিলের উপর স্তুপীকৃত বইপত্রের ভিতর একটা কম্পনের শব্দ, গোটা ঘর প্রায় কাঁপিয়ে দেবে। জানালা থেকে সরে এলো সে। অবাক বিস্ময় আর কিঞ্চিৎ ক্রোধ বা বিরক্ত মিলেমিশে মুখের এমন একটা ভাষা তৈরী হয়েছে যাকে সঠিক ভাবে খাতায় নামানো সম্ভব নয়। অন্ধকার আকাশ ঘরে ঢুকে ইতিউতি চাইছে। বইপত্র-কাগজ সরিয়ে অবশেষে পাওয়া গেলো মুঠোফোন, কিন্তু ততক্ষণে রিঙ্ কেটে গেছে। রাগের চোটে একটা বই আচমকা সে ছুড়ে রাখলো টেবিলে আর …

রাতসুখ ও যা কখনো ভাবিনি : পৌলমী গুহ

রাতসুখ
এক. পায়ের ওপর পা অথবা টায়ের ওপর টা কিংবা কোনোটিই নয়! এখন ঘিলুতে সেঁধোলাম। রাত বাড়লে জানান দেবো, যেমন করে গেঁটে বাত মনে করায় পুরনো পাপ? কবে দেখেছিলাম এক তিলফুল কার বুকের খাঁজ বেয়ে ঘামেভেজা চকচকে জোড়া পাপ। হিসেব লিখব বিছানা-বালিশে সকালে সব ভুলে যাবো!
দুই. গতরাতে আমার ঘরে আষাঢ় ছিলো। আরও পূর্বে... পূর্বে... পূর্বরাতে সেবন করলাম ফোঁটা ফোঁটা। কল্যবর্তে গোটা মেঘখানা গিলে নিলাম। আজ রাতে ঊরু বেয়ে টপটপিয়ে আষাঢ় নামবে…
তিন. মেলোডি মাহ্ সুইট! এট্টু আস্তে অল্প করে, একবারে অতটা নয়। গিলো না। গিলো না। সোনা আমার! নোওও! দাঁত নয়! ছিঁড়েকুটে যাবে। বোঝো এ প্রেম, নট্ যুদ্ধ। শোষণ নয় প্রেম, এ স্রেফ বিগলিত চোষণ!!


যা কখনো ভাবিনি আমাকে দু'এক পিস গান দিও। তাতে সুর বসিয়ে আমি নিজের বলে চালাবো। এঅব্দি যা যা বলেছ তাই করিনি অথচ করতেও পারতাম! এটা বিশ্বাস করেই মেঘ মেঘ ক্ষত ঢেকেছ। গান থেকে সুর সুর থেকে শব্দ তার পর কবিতা, সেখানে জ্বর দুধের বোতল, কলপাড়ের ঘটাং ঘটাং, সিম্ফোনি হয়ে ক্যাকোফোনি। তুমি কি ভেবেছিলে স্টেশনবাজারের সব্জিওলা আদতে এক কবি?














পৌলমী গুহ Poulami Guha

একটি ভ্রমণকাহিনী : সুপর্ণা মন্ডল

একটি ভ্রমণকাহিনী
১. ১ নম্বর ভ্রমণের শুরুতে একটি অদ্ভুত নাম চোখে পড়ে। উকিলনাড়া। অটোঅলা ঠিক ৮ মিনিট পর অটো ছাড়বে আর তুমি ছাড়বে এই সরাইখানা। দুটো ছাড়ার মানে এক হতেও পারে হয়তো বা!
২. কি যেন একটা কাজে মশগুল মেয়ে থোড়াই কেয়ার রাস্তা পেরোবে। অটোঅলা কর্কশ হর্ন, তুমি সম্বিৎ ফিরে পেলে থমকে দাঁড়াবে না। বরং নাচতে নাচতে চলে যাবে ওই পারে। তোমার প্রজাপতি নাচ দেখতে পাবে না আমার সহযাত্রীরা। ওরা কায়েতপাড়া মোড়ে নেমে গেছে। আচমকা শব্দটা ওদের জন‍্য নয়।
৩. ধুলোয় পড়ে থাকা বেওয়ারিশ রুমাল শুধু নীল রঙের বলে কি কুড়িয়ে আনা যায়? আজ অব্দি তুমি ঠিক যতগুলো রুমাল হারিয়েছো তা কোন না কোন পথের ধুলো খেয়েছে তো? আমিও ধুলো খাবার ইচ্ছায় তোমার হাত থেকে ফসকে যাই এক রকম। আর নীল রং হালকা হতে হতে আকাশি হয়ে যায়।
৪. আকাশি মিলিয়ে যেতে যেতে সাদা। ধবধবে সাদা চুল সাদা থানের উপর পড়ে আছে। কতদি-ন ধরে ওভাবে পড়েই আছে! অথচ বয়স বাড়ছে। সাদার চেয়েও বিবর্ণতর উজ্জ্বল রং আজ পৃথিবীতে।
৫. অকালপক্ব স্কুলবালিকার রিক্সাওয়ালা কেন খুনখুনে বুড়োই হয়? এ কথা জয় গোস্বামীকে শুধানোর আগেই স্টেশনে রাণাঘাট লোকাল ঢুকে পড়ে। দেখতে পাই সেই পাকা মেয়েটা মেঘবালিকার স্বরে ঝাল লজেন্স…

চাষাড়ে অস্হিকল্প / হিমশীতল মাংসমজ্জা ও গর্ত : সায়ন ঘোষ

চাষাড়ে অস্হিকল্প / হিমশীতল মাংসমজ্জা যে ছাদে আমি রোজ উঠি তার স্হাপত্য ভেঙে গড়িয়ে যাচ্ছে সূর্যের ন্যাড়া মাথা আমার পায়ের কাছে একটি কালো পিঁপড়ে ধূসর ছাইয়ের মধ্যে পথ হারিয়ে ফেলছে ধরে তার অনৈতিক পথ অবরোধে আমার মুখের ভেতর থেকে থুতুর দলাটা ঝুলছিল ক্যামন সেই সেতুর চারমিনারে আটকে পড়ে আছে চতুর শব্দের লকআউট কারখানায় শব্দপিষ্ট শ্রমিকের হাতের চেটোকে আমি বড় ভালোবাসি বাদামী পিয়াসী ত্বক খেজুর আলোয় উপবাসী মৃগরাজ তার শীলাভূত অস্তিত্বের নরকঙ্কাল কবিতার জঠরে শুকনো নৈশাহার আর আলোর অভ্যন্তরে নির্বাসিত বাতিল ছায়াগুলোই আমার পছন্দ। আমার ঘণ্টা বেজে গ্যাছে কোনো সন্দেহ নেই আজ দ্বিপ্রহর এখন চিত্রকর আমার ছাদের দেওয়ালে কতগুলি ছবি এঁকে চলে গ্যাছে ধাতুপাতে মুদ্রায় নিহিত ঋজু ও শিলমোহরে, ছায়াতাপ নক্ষত্রে, শাশ্বত ও আত্মস্থব্রহ্মজ্ঞানে - কোনো অসুস্থ নারীকে আমি আমার কোলের কেন্দ্রে রেখে শুশ্রুষায় সারিয়ে তুলবো তার বিকেন্দ্রীত শরীর আলোর ঝালিমায় উদ্বেলিত তরঙ্গ নেপথ্যে ফেলে রেখেছে মানুষের পূণর্বিকাশ ও ইন্দ্রিয়ের যথার্থ ব্যবহার আর প্রজ্ঞানযান প্রজননমালা থেকেই আমি হেঁটে চলে যাই ওয়েলিংটনে বন্ধুরা দাঁড়িয়ে আছ…

দ্বারকা : সর্বজিৎ ঘোষ

দ্বারকা
দেখলাম বিশাল এক ফ্ল্যাটবাড়ির নীচে হা হা করছে শূন্য।
বার্তা আসিল, জল বাড়ছে। সমুদ্র এগিয়ে আসবে এবার। আগাইতে গেলে অনেকটা পিছাইতে হয়। বার্তা আসিল, অজীর্ণ বালিয়াড়ি জেগে উঠেছে দিগন্তবিস্তৃত। মানুষ ছুটে ছুটে যাচ্ছে ঝিনুক কোড়াবে বলে। ঝিনুক কোড়াতে কোড়াতে অঘোরীপনা করে উঠল একদল খলখলে প্রেমিক। মৃতমাংসে ভোজ দেবে, ঝিনুকের খোলে ধার থাকে বড়জোর দেড়জনের গলার নলি কাটার মতো। অথচ ততক্ষণে মৃতদের প্রাণ পুনস্থাপিত হইবারে আসে ঝিনুকগর্ভে। গজাইতে চায় মাংসল পদ, কিছু মৃতদেহ বালিয়াড়িতে পড়ে থাকে ফিরতি সমুদ্রের আশায়। লোনাজলে মৃতদেহ দীর্ঘকাল সতেজ থাকে। লোনাজল ঢুঁড়িয়া সতেজ দ্বারকানগরী আবিষ্কারে মত্ত যাদবকুল। অখিল ভারত নলখাগড়া কোম্পানী উহাদের স্পনসর করিয়াছে। যাদবকুলের অজস্র শাখা আছে। তথাপি দোকানের গায়ে বড় বড় করে লেখা, 'আমাদের কোনো শাখা নেই।' এমত মিথ্যাচারে অবশ্য পরমায়ু বাড়ে, যেমন বাড়ে ঝিনুকের সুরুয়া খেলে। কচি কচি ঘাস কিছু এতদিন নেতিয়ে ছিল লোনাজলে, হাওয়া পেয়ে তারা বাড়িতেছে, ফনফন করিতেছে, অথচ ঘাড়ের কাছে মৃত্যু আসিয়া পড়িল যে --- ঘাসেদের সতর্ক করিয়া দিবার মতো কেহ নাই ত্রিভুবনে। যাবৎ পশুপাখি জারোয়া সেন্টিনেলিজ …

মেঘপারা মেয়ে ১১, ১২ ও ১৩ : মনোজ দে

মেঘপারা মেয়ে ১১
স্পর্শ রাখো। তবু ছোঁয়াচে হ'লে না
যে ফুল বিকেলে ফোটে উড়তে শিখেনি যে চিঠি এত অক্টোপাস। আয়োজন
কিশোর দৃষ্টির পাশে কারা যেন                 তোমার অক্ষর রেখে যায়




মেঘপারা মেয়ে ১২
অনুপস্থিত।  উদগ্রীব হয়েছ তাই
ভুলে যাওয়া নয় মুছে যাওয়া নয়
ও মেঘপারা মেয়ে অহেতুক, কতবার আর ডাকা যায়




মেঘপারা মেয়ে ১৩
কেউ আর কথা বলি না, এখন
রিসাইকেল পেপারব্যাক কভার ভেতরে সভ্যতা। পাতার রোদন ছিঁড়ে                                            আঙুলে বসাই
ও মেঘপারা মেয়ে আমরা এভাবেই পরস্পরের কবিতা লিখি


(মেঘপারা মেয়ে ১-৩) | (মেঘপারা মেয়ে ৫-৬) | (মেঘপারা মেয়ে ৭-৮) | (মেঘপারা মেয়ে ৯-১০)











তিনকাল : সুপ্রিয় মিত্র

তিনকাল ১. মাঝেমাঝে চিঠি আসে... কী বলো? কেমন আছো? চেনা বন্ধুর সাথে কথা হয়? নানাবিধ প্রশ্নের পরে শব্দের স্ফীতগাঁট শিথিল হয়ে আসে, আমাদের উত্তর ক্রমশ এ পাড়া থেকে জেলা হয়ে জেলা থেকে অন্য এক জেলার নদীর এপাড়ে এসে ওপারে আলাদা হয়ে যায়...
সাপের জিভের মতো যে রাস্তা সোজা হয়ে দুই পাশে চিরে আরও সোজা হয়ে দূরে চলে গেছে যতটুকু চোখ যায়, সেখানেও নদীভাব... ফুটপাত পৃথক হয়ে নুড়ি ধুলো চালাচালি করে, দ্বিমাত্রিক ব্রীজ হয়ে জেব্রা ক্রসিং আসে পারাপারে কথাটুকু বলে....
এসবও তো ভাগাভাগি... শব্দ, পায়ের ধুলো, কামাশ্রু, বেদনা বিপাক
ওদের কপালজুড়ে ব্যথার সড়ক খোলা থাক!

২. পাগল ছেলেটি এর কিছুই বোঝেনা প্রভু চিঠির কাগজ মুখে ঘষে নিয়ে নাক মোছে পারাপারও ভুলেছে স্বভাবে 'স্বজন' শব্দ শুনে আকাশের দিকে পাতে কান দু চোখ চেঁচিয়ে দ্যাখে পা... আমরা তো - যা গেছে তা যাক
সমস্ত ধারা ভেঙে, পাগল লোকটি এক নিরাকার পাগলিনী পাক....

৩. পত্রপাঠের শেষে তোমায় সম্বোধনে নিজেকেও ডেকে ফেলি প্রিয়... সে ভুলের ক্ষমা হউক, চিঠি পেলে উত্তর দিও, প্রভু চিঠি পেলে উত্তর দিও....










সুপ্রিয় মিত্র
Like us on Facebook
Follow us on Twitter
Recommend us on Google Plus
Subscribe me on RSS